1 of 3

002.112

হাঁ, যে ব্যক্তি নিজেকে আল্লাহর উদ্দেশ্যে সমর্পন করেছে এবং সে সৎকর্মশীলও বটে তার জন্য তার পালনকর্তার কাছে পুরস্কার বয়েছে। তাদের ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।
Yes, but whoever submits his face (himself) to Allâh (i.e. follows Allâh’s Religion of Islâmic Monotheism) and he is a Muhsin (good-doer i.e. performs good deeds totally for Allâh’s sake only without any show off or to gain praise or fame, etc., and in accordance with the Sunnah of Allâh’s Messenger Muhammad Peace be upon him ) then his reward is with his Lord (Allâh), on such shall be no fear, nor shall they grieve. [See Tafsir Ibn Kathîr, Vol.1, Page 154].

بَلَى مَنْ أَسْلَمَ وَجْهَهُ لِلّهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ فَلَهُ أَجْرُهُ عِندَ رَبِّهِ وَلاَ خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلاَ هُمْ يَحْزَنُونَ
Bala man aslama wajhahu lillahi wahuwa muhsinun falahu ajruhu AAinda rabbihi wala khawfun AAalayhim wala hum yahzanoona

YUSUFALI: Nay,-whoever submits His whole self to Allah and is a doer of good,- He will get his reward with his Lord; on such shall be no fear, nor shall they grieve.
PICKTHAL: Nay, but whosoever surrendereth his purpose to Allah while doing good, his reward is with his Lord; and there shall no fear come upon them neither shall they grieve.
SHAKIR: Yes! whoever submits himself entirely to Allah and he is the doer of good (to others) he has his reward from his Lord, and there is no fear for him nor shall he grieve.
KHALIFA: Indeed, those who submit themselves absolutely to GOD alone, while leading a righteous life, will receive their recompense from their Lord; they have nothing to fear, nor will they grieve.

১১১। এবং তারা বলে, ‘ইহুদী অথবা খৃষ্টান ব্যতীত আর কেউ বেহেশ্‌তে প্রবেশ করবে না”। এটা তাদের [মিথ্যা] আশা। বল, ‘যদি তোমরা সত্যবাদী হও, তবে প্রমাণ দাও।’

১১২। পক্ষান্তরে, যে কেউ পরিপূর্ণভাবে আল্লাহ্‌র নিকট আত্মসমর্পন করে ১১৪, এবং ভালো কাজ করে, সে এর পুরষ্কার তার প্রভুর নিকট পাবে; তাদের কোন ভয় নাই, তারা দুঃখিতও হবে না; ১১৫।

১১৪। এখানে ‘ওয়াজহা’ আরবী শব্দটির অর্থ হচ্চে মুখমণ্ডল। কিন্তু তর্জমা করা হয়েছে ‘আত্ম’ কথাটির দ্বারা। এখানে আল্লাহ্‌ বলেছেন, যে ব্যক্তি স্বীয় মাথা আল্লাহ্‌র দিকে নত করে দেয় অর্থাৎ আত্মসমর্পন করে বা বিশ্বাস ও কাজকর্মে আনুগত্য অবলম্বন করে এবং তৎসঙ্গে [শুধু বাহ্যিক আচার অনুষ্ঠানই নয়, আন্তরিকভাবে] সৎ কর্ম করে, সে তার আনুগত্যের প্রতিদান প্রতিপালকের কাছে পাবে।

আলোচ্য আয়াতসমূহে আল্লাহ্‌ তায়ালা ইহুদী ও খৃষ্টানদের পারস্পরিক মত বিরোধ উল্লেখ করে তাদের নিবুর্দ্ধিতা ও মত বিরোধের কুফল বর্ণনা করেছেন। অতঃপর সত্য উদঘাটন করেছেন। এ ঘটনায় মুসলমানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হেদায়েত (পথ নির্দেশ) নিহিত আছে।

খৃষ্টান ও ইহুদী উভয় সম্প্রদায়ই ধর্মের প্রকৃত সত্যকে উপক্ষো করে ধর্মের নাম ভিত্তিক জাতীয়তা গড়ে তুলেছিল। তারা প্রত্যেকেই স্ব-জাতিকে জান্নাত ও আল্লাহ্‌র প্রিয় পাত্র বলে দাবী করতো এবং তারা ব্যতীত জগতের সমস্ত জাতিকে জাহান্নামী ও পথভ্রষ্ট বলে বিশ্বাস করতো। আল্লাহ্‌ তায়ালা উভয় সম্প্রদায়কে তাদের মূর্খতা সম্বন্ধে মন্তব্য করেছেন যে, এরা উভয় সম্প্রদায়ই জান্নাতে যাওয়ার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে উদাসীন। তারা শুধু ধর্মের নামভিত্তিক জাতীয়তার অনুসরণ করে। বস্তুতঃ ইহুদী, খৃষ্টান ও ইসলাম যে কোনও ধর্মেরই প্রাণকেন্দ্র হচ্ছে দুটি বিষয়।

ক) বান্দা মনে প্রাণে নিজেকে আল্লাহ্‌র ইচ্ছার কাছে সমর্পন করবে। তাঁর আনুগত্যকেই স্বীয় মত ও পথ বলে মনে করবে। এ উদ্দেশ্যটি যে ধর্মে অর্জিত হয় তাই প্রকৃত ধর্ম। ধর্মের প্রকৃত স্বরূপকে পেছনে ফেলে ইহুদী অথবা খৃষ্টান অথবা ইসলাম জাতীয়তাবাদের ধ্বজা উত্তোলন করা ধর্ম সম্পর্কে অজ্ঞতারই পরিচায়ক।

খ) দ্বিতীয় বিষয় হচ্ছে সৎকর্ম। পারলৌকিক মুক্তি ও জান্নাতে প্রবেশের জন্য শুধু আনুগত্যের সংকল্পই যথেষ্ট নয় বরং সৎকর্মেরও প্রয়োজন। আল্লাহ্‌র কাছে ইহুদী, খৃষ্টান ও মুসলমানের কোনও মূল্য নাই। গ্রহণীয় বিষয় হচ্ছে ঈমান ও সৎকর্ম। সৎকর্ম কি? যে কাজ আল্লাহ্‌র সৃষ্টির মঙ্গলের জন্য আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে করা হয় তাই-ই সৎকর্ম। কুরআনের বহু স্থানে সমাজ ও জাতির মঙ্গলের জন্য কাজ করার নির্দেশ দান করা হয়েছে। এই জাতীয় কাজই হচ্ছে সৎকাজ।
যে কেউ উপরোক্ত মৌলিক বিষয়াদির মধ্য থেকে যে কোনও একটি ছেড়ে দেয়, অতঃপর শুধুমাত্র নাম ভিত্তিক জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে নিজেকে জান্নাতের ইজারাদার মনে করে নেয়; সে আত্মপ্রবঞ্চনা বৈ আর কিছুই করে না। আসল সত্যের সাথে এর কোনও সম্পর্ক নাই। এসব নামের উপর ভরসা করে কেউ আল্লাহ্‌র নিকটবর্তী ও মকবুল হতে পারবে না। যে পর্যন্ত না তার মধ্যে ঈমান ও সৎ কর্ম থাকে। সুতরাং এ দাবী যেনো কেউ না করে যে আমরা পুরুষানুক্রমে মুসলমান। প্রত্যেক অফিস ও রেজিস্টারে আমাদের নাম মুসলমানদের কোটায় লিপিবদ্ধ এবং আমরা মুখেও নিজেদের মুসলমান বলি, সুতরাং সকল পুরস্কারের যোগ্য হকদার আমরাই। তাহলে ইহুদী ও আমাদের মধ্যে পার্থক্য খুব কমই থাকবে। দুনিয়া জুড়ে মুসলমানদের অবনতি ও অস্থিরতার মূল কারণ আমাদের এখানেই খুঁজে দেখতে হবে। আমাদের ঈমান মৌখিক। এর সাথে আন্তরিকতার সম্পর্ক কম। অর্থাৎ আমরা আন্তরিকভাবে আল্লাহ্‌র হুকুম মান্য করি না। যেমন-আমরা মিথ্যার বেসাতি করি, মানুষকে ঠকাতে দ্বিধাবোধ করি না, অন্যায়-অবিচার, অসত্য আজ আমাদের জীবনের সামাজিক ব্যাধি। অন্যায় আইন আজ আমরা সমাজ জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে স্বীকার করে চলছি। এগুলি হচ্ছে আল্লাহ্‌র আইন অমান্য করা। আল্লাহ্‌র আইনকে অস্বীকার করার অর্থ হচ্ছে, মৌখিকভাবে নিজেকে মুসলমান দাবী করলেও অন্তরে আল্লাহ্‌কে অস্বীকার করা। সে নিজের প্রতি নিজে বিশ্বস্ত নয় এটা মুনাফিকীরই নামান্তর।

দ্বিতীয়তঃ তাঁর সৃষ্টির সেবা করা। এ ব্যাপারে মুসলমানেরা কতটুকু অগ্রগামী তা বিবেচ্য। আমরা কতটুকু আন্তরিক সমাজের মঙ্গলের জন্য, সৎ কাজে আমরা কতটুকু উৎসর্গীকৃত। উপরিউক্ত আলোচনা থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, দ্বীনের ব্যাপারে মুসলিম সমাজ আজ খুব একটা আন্তরিক নয়। এখানেই দুনিয়া জুড়ে মুসলমানদের এত অস্থিরতা ও অবনতির কারণ। মুসলমানদের অবনতি ও অস্থিরতা অপরপক্ষে খৃষ্টান ও ইহুদীদের উন্নতির ও প্রশান্তির মূল বিষয় উপরে বর্ণিত হলো। এতে প্রতীয়মান হয় যে জগতে আমাদের দারিদ্র, পরমুখাপেক্ষিতা, বিপদ-আপদ ও সংকট ইসলামের মূল ধারা থেকে বিচ্যুতির কারণে। যারাই এই মূলধারা বা ধর্মের মূল অন্তর্নিহিত নৈতিক গুণাবলী অর্জন করেছে তারা ইহুদী বা খৃষ্টান যেই হোক না কেন তাদের উপরে আল্লাহ্‌র রহমত বর্ষিত হয়। আলোচ্য আয়াত থেকে একথা সুস্পষ্ট হয়ে যায় যে, ঈমান ও সৎকর্ম পূর্ণরূপে অবলম্বন না করলে শুধু বংশগতভাবে ইসলামের নাম ব্যবহারের দ্বারা কোনও শুভ ফল আশা করা যায় না [২ :৬২] দেখুন।

১১৫। ‘তাদের কোনও ভয় নাই এবং তারা দুঃখিতও হবে না।’-এই লাইনটি এই সূরায় এবং কুরআনের বহু জায়গাতে এসেছে। যেমন-[২, ৩৮, ৬২, ১১২, ২৬২, ২৭৪ এবং ২৭৭]এ। কুরআন নাজেল হয়েছে কবিতার ছন্দে। এর ভাষা, ছন্দ, বর্ণনার মাধুর্যে অতুলনীয়। এই লাইনটি বার বার ব্যবহৃত হয়েছে সঙ্গীতের মত। যেমন-সঙ্গীতের একটি লাইন ‘সোমের’ সৃষ্টি করে ঠিক সেরূপ। এছাড়াও এ দ্বারা লাইনটির গূঢ় অর্থের গুরুত্বের প্রতিও ইঙ্গিত করা হয়েছে।