1 of 3

042.040

আর মন্দের প্রতিফল তো অনুরূপ মন্দই। যে ক্ষমা করে ও আপোষ করে তার পুরস্কার আল্লাহর কাছে রয়েছে; নিশ্চয় তিনি অত্যাচারীদেরকে পছন্দ করেন নাই।
The recompense for an evil is an evil like thereof, but whoever forgives and makes reconciliation, his reward is due from Allâh. Verily, He likes not the Zâlimûn (oppressors, polytheists, and wrong-doers, etc.).

وَجَزَاء سَيِّئَةٍ سَيِّئَةٌ مِّثْلُهَا فَمَنْ عَفَا وَأَصْلَحَ فَأَجْرُهُ عَلَى اللَّهِ إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الظَّالِمِينَ
Wajazao sayyi-atin sayyi-atun mithluha faman AAafa waaslaha faajruhu AAala Allahi innahu la yuhibbu alththalimeena

YUSUFALI: The recompense for an injury is an injury equal thereto (in degree): but if a person forgives and makes reconciliation, his reward is due from Allah: for (Allah) loveth not those who do wrong.
PICKTHAL: The guerdon of an ill-deed is an ill the like thereof. But whosoever pardoneth and amendeth, his wage is the affair of Allah. Lo! He loveth not wrong-doers.
SHAKIR: And the recompense of evil is punishment like it, but whoever forgives and amends, he shall have his reward from Allah; surely He does not love the unjust.
KHALIFA: Although the just requital for an injustice is an equivalent retribution, those who pardon and maintain righteousness are rewarded by GOD. He does not love the unjust.

৪০। ক্ষতির বিনিময় সম পরিমাণ ক্ষতি ৪৫৮১। কিন্তু যদি কেউ ক্ষমা করে দেয় এবং আপোষ -নিষ্পত্তি করে, তার জন্য পুরষ্কার রয়েছে আল্লাহ্‌র নিকট ৪৫৮২। যারা পাপ করে আল্লাহ্‌ তাদের পছন্দ করেন না ৪৫৮৩।

৪৫৮১। যদি কেউ ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত অন্যায়ের প্রতিবিধানের জন্য প্রতিশোধ গ্রহণ করে তবে তা হতে হবে আল্লাহ্‌র আইনের সীমারেখার মধ্যে।আইন যতটুকু অনুমোদন করে ততটুকুই প্রতিশোধ সে গ্রহণ করতে পারে। এক্ষেত্রে আল্লাহ্‌র আইন হচ্ছে , ” ক্ষতির বিনিময়ে সম পরিমাণ ক্ষতি ” – তোমার যতটুকু আর্থিক ও শারীরিক ক্ষতি কেউ করে , তুমি ঠিক ততটুকু ক্ষতিই তার কর। এটা প্রকৃতপক্ষে চতুর্থ গুণের ব্যাখ্যা ও বিবরণ। চতুর্থ গুণটি ছিলো যে, তারা শত্রুকে ক্ষমা করে। কিন্তু বিশেষ বিশেষ পরিস্থিতিতে ক্ষমা করলে অত্যাচার আরও বেড়ে যায়। তখন প্রতিরোধের মাধ্যমে প্রতিশোধ গ্রহণই উত্তম পন্থা। আয়াতে এই বিধান বর্ণিত হয়েছে যে, কোথাও প্রতিশোধ গ্রহণ শ্রেয় বিবেচিত হলে সেখানে সাম্যের সীমা লঙ্ঘন না করার প্রতি লক্ষ্য রাখা গুরুত্বপূর্ণ। সীমা লংঘিত হলে তা অত্যাচারে পর্যবসিত হবে। এই সীমারেখার ফলে প্রতিশোধকাঙ্খী ব্যক্তির বা গোষ্ঠির প্রতিশোধের আকাঙ্খা উদগ্র রূপ ধারণ করতে পারে না। আল্লাহ্‌র বিধানের উদ্দেশ্য প্রতিশোধ স্পৃহার পরিতৃপ্তি নয় , বরং অত্যাচারীকে সংশোধন করার সুযোগ সৃষ্টি করা এবং বিবাদ বিসংবাদের অবসান ঘটানো। দেখুন আয়াত [ ৪১ : ৩৪ ] এবং [ ২৩ : ৯৬ ] আয়াতে যদিও সমান সমান প্রতিশোধের অনুমতি দেয়া হয়েছে কিন্তু এ কথাও বলা হয়েছে যে, যে ব্যক্তি ক্ষমা করে এবং আপোষ নিষ্পত্তি করে তার পুরষ্কার আল্লাহ্‌র দায়িত্ব। এতে বলা হয়েছে যে, ক্ষমা করাই উত্তম। যে ক্ষেত্রে ক্ষমা করার ফলে অত্যাচারীর ধৃষ্টতা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, সেক্ষেত্রে প্রতিশোধ নেয়াই উত্তম। ক্ষমা করা তখনই উত্তম, যখন অত্যাচারী ব্যক্তি অনুতপ্ত হয় এবং তার পক্ষ থেকে অত্যাচার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে না। অবস্থাভেদে ক্ষমা ও প্রতিশোধ দুটোই উত্তম পন্থা। তবে সর্বাপেক্ষা উত্তম পন্থা হচ্ছে নৈতিকভাবে অত্যাচারীর মানসিক পরিবর্তন ঘটানো, যাতে সে অনুতপ্ত হয়, ফলে ঘৃণা বন্ধুত্বে রূপান্তরিত হয় যা করা সম্ভব শুধুমাত্র ক্ষমা ও ভালোবাসার মাধ্যমে। সে ক্ষেত্রে ক্ষমাকারীর ক্ষতিপূরণ বা পুরষ্কার যাই বলা হোক না কেন, হবে বহুগুণ। কারণ এর ফলে তারা আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি লাভে ধন্য হবে।

যে মতবাদ খৃষ্টানদের মধ্যে চালু আছে যে, ” এক গালে চড় খেলে অন্য গাল বাড়িয়ে দাও” – ক্ষমার এই বাড়াবাড়িমূলক দৃষ্টান্ত ইসলাম গ্রহণ করে না। এই ক্ষমার দৃষ্টান্ত অন্যায়কারীদের অনুতপ্ত হওয়ার পরিবর্তে আরও অন্যায় করার প্রবণতা বৃদ্ধি করবে। এ ব্যবস্থা হতে পারে কাপুরুষদের জন্য অথবা এ ব্যবস্থা তারাই প্রচার করেছে যারা মোনাফেক এবং এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়ে তাদের দাস বানানোর চক্রান্ত বিশেষ। কারণ বাইবেলের চারটি আনুশাসনিক উপদেশ বইয়ের দুটির মধ্যে এই উপদেশ পাওয়া যায় [ MaH. v. 39, and Luke .vi. 29 ]। বাইবেলের বহু অংশ সময়ের ব্যবধানে বিকৃত হয়ে গেছে। সুতারাং এ কথা বিশ্বাস করার কোনও যুক্তি সঙ্গতকারণ নাই যে, যীশুখৃষ্ট এই মতবাদ প্রচার করেছেন।

৪৫৮২। মানব জীবনের সর্বোচ্চ উদ্দেশ্য হচ্ছে আল্লাহ্‌কে ভালোবাসা ও আল্লাহ্‌র ভালোবাসা লাভ করা। আল্লাহ্‌র সৃষ্টিকে ভালোবাসার মাধ্যমেই আল্লাহ্‌কে ভালোবাসা যায়। কারণ আল্লাহ্‌ নিরাকার। কিন্তু আল্লাহ্‌র অস্তিত্ব তাঁর সৃষ্টির মাঝে বর্তমান। আল্লাহ্‌র কল্যাণকর হস্ত সর্ব সৃষ্টিকে ঘিরে থাকে। যে আল্লাহ্‌র সৃষ্টিকে ভালোবাসে প্রকারান্তে সে আল্লাহকেই ভালোবাসে। কারণ আল্লাহ্‌ জালিমদের পছন্দ করেন না। যে আল্লাহ্‌র অনুমোদন ও ভালোবাসা অর্জন করতে পারে , তাঁর জীবনে চাওয়া পাওয়ার কিছু থাকে না। পৃথিবীর সর্বোচ্চ মূল্যবান পুরষ্কার আল্লাহ্‌র ভালোবাসা ও অনুমোদন লাভকারী ব্যক্তির নিকট তুচ্ছ ; কারণ আল্লাহ্‌র নূর তাঁর সর্ব সত্তাকে পরিব্যপ্ত করে রাখে। যার তৃপ্তি ও সুখ শান্তি অতুলনীয়।

৪৫৮৩। আল্লাহ্‌ অত্যাচারী জালিমদের পছন্দ করেন না। সুতারাং ক্ষমতা থাকা সত্বেও আমরা যদি অন্যায়কারীকে বাধা দান করে অন্যায়ের প্রতিরোধ না করি তবে আমরা আল্লাহ্‌র প্রতি আমাদের যে কর্তব্য তা থেকে বিচ্যুত হব। অন্যায়ের প্রতিরোধ করা মুসলমানদের জন্য অবশ্য কর্তব্য।