1 of 3

020.124

এবং যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জীবিকা সংকীর্ণ হবে এবং আমি তাকে কেয়ামতের দিন অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করব।
”But whosoever turns away from My Reminder (i.e. neither believes in this Qur’ân nor acts on its orders, etc.) verily, for him is a life of hardship, and We shall raise him up blind on the Day of Resurrection.”

وَمَنْ أَعْرَضَ عَن ذِكْرِي فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنكًا وَنَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْمَى
Waman aAArada AAan thikree fa-inna lahu maAAeeshatan dankan wanahshuruhu yawma alqiyamati aAAman

YUSUFALI: “But whosoever turns away from My Message, verily for him is a life narrowed down, and We shall raise him up blind on the Day of Judgment.”
PICKTHAL: But he who turneth away from remembrance of Me, his will be a narrow life, and I shall bring him blind to the assembly on the Day of Resurrection.
SHAKIR: And whoever turns away from My reminder, his shall be a straitened life, and We will raise him on the day of resurrection, blind.
KHALIFA: “As for the one who disregards My message, he will have a miserable life, and we resurrect him, on the Day of Resurrection, blind.”

১২৪। কিন্তু যে আমার বাণী থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, অবশ্যই তার জন্য জীবন হবে সংকুচিত এবং শেষ বিচারের দিনে আমি তাকে উত্থিত করবো অন্ধ অবস্থায় ২৬৪৮। ২৬৪৮-ক

২৬৪৮। পূর্বের আয়াত [ ২ : ৩৯ ] এ সাধারণভাবে বর্ণনা করা হয়েছে , আল্লাহ্‌র নির্দ্দেশসমূহ অমান্য করার ফল। এই আয়াতে ব্যক্তিগত ভাবে বর্ণনা করা হয়েছে আল্লাহ্‌র নির্দ্দেশ অমান্য করার ফলাফল। ” জীবন যাপন সংকুচিত ” হওয়া এবং ” উত্থিত করিব অন্ধ অবস্থায় ” বাক্যগুলি তাৎপর্যপূর্ণ। ” জীবিকার সঙ্কীর্ণতার” অর্থ যে, তাদের কাছ থেকে অল্পে তুষ্টির গুণটি ছিনিয়ে নেয়া হবে। অল্পে তুষ্টি লাভ করার ক্ষমতা আল্লাহ্‌র বিশেষ নেয়ামত বান্দার জন্য। যার এই গুণ নাই সে পৃথিবীর সমস্ত সম্পদ কুক্ষিগত করার পরেও থাকবে অতৃপ্ত। কারণ তার মাঝে সাংসারিক লোভ লালসার বৃদ্ধি পাবে আগুনের ন্যায়। তাদের আত্মার মাঝে লোভ লালসার আগুন বৃদ্ধি করা হবে। এর ফলে তাদের যত অর্থ সম্পদই সঞ্চিত হোক না কেন; আন্তরিক শান্তি তাদের ভাগ্যে জুটবে না। সদাসর্বদা সম্পদ বৃদ্ধি করার চিন্তা, রক্ষা করার চিন্তা এবং ক্ষতির আশঙ্কা তাদের অস্থির করে রাখবে। ফলে জাগতিক সুখের সামগ্রী প্রচুর থাকা সত্ত্বেও শান্তি তাদের ভাগ্যে জোটে না। কারণ তাদের উপরে আল্লাহ্‌র রহমত অনুপস্থিত। সত্যিকারের অভাব না থাকা সত্বেও তাদের আত্মার মাঝে তীব্র অভাব বোধ বিরাজ করবে। এই বাক্যটির আর একটি অর্থ হচ্ছে ব্যক্তি বা জাতি যখন আল্লাহ্‌র নির্দ্দেশিত পথকে পরিহার করে তখন সেই ব্যক্তি বা জাতির উপর থেকে আল্লাহ্‌র রহমত তুলে নেয়া হয়- ফলে বিশ্ব সভায় তার ভাগ্যে জোটে লাঞ্ছনা ও গঞ্জনা। এর বিশদ ব্যাখ্যা হচ্ছে ব্যক্তিগত জীবনে বা জাতীয় জীবনে যখন কেউ আল্লাহ্‌র নির্দ্দেশিত পথ অর্থাৎ সৎ পথকে ত্যাগ করে অসৎ পথ অবলম্বন করে,তার শেষ পরিণতি কখনও ভালো হবে না। অসৎ পথে অর্জিত সম্পদ ব্যক্তির জীবনে স্থায়ী সাফল্য বয়ে আনতে পারে না। ঠিক সেই একই ভাবে যাদের জাতীয় জীবনে মিথ্যা, প্রতারণা, অন্যায় বিরাজ করে [ যেমন বাংলাদেশে ] সে জাতি কখনও বিশ্ব সভায় স্থান পেতে পারে না। তাদের জীবিকাকে আল্লাহ্‌ সংকুচিত করে দেবেন। আল্লাহ্‌র দেয়া প্রাকৃতিক সম্পদ থাকলেও জাতীয় জীবনে তারা সে সম্পদকে ধরে রাখতে সক্ষম হবে না। প্রাচুর্যের পরিবর্তে জাতীয় জীবনে তাদের জীবনোপকরণ হবে সংকুচিত। একমাত্র ন্যায় ও সত্যের পথেই প্রাচুর্য অর্জন করা ও প্রাচুর্য ধরে রাখা সম্ভব।

২৬৪৮ -ক। “উত্থিত করিব অন্ধ অবস্থায়” – এই বাক্যটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যারা শুধুমাত্র জাগতিক বিষয়বস্তুর প্রতি তাদের সর্ব সত্তাকে নিয়োজিত করে; পার্থিব সম্পদ ও ক্ষমতার লোভে যারা আল্লাহ্‌র নির্দ্দেশিত ন্যায় ও সত্য পথকে পরিত্যাগ করে, তাদের মানসিক অবস্থাকে এখানে উপরের বাক্যটির মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। ন্যায় – অন্যায় , ভালো-মন্দ, সত্য – মিথ্যার মধ্যে যারা ভেদাভেদ না করে শুধুমাত্র জাগতিক বিষয়ের প্রতি তাদের সর্ব আকর্ষণ , চিন্তা ও ধ্যান ধারণাকে নিয়োজিত করে,তারা জীবনের প্রকৃত রূপকে অনুধাবনে অক্ষম। অন্ধ ব্যক্তি যেমন স্পর্শাতীত কোনও জিনিষই অনুধাবনে সক্ষম নয় এসব ব্যক্তিরা সেরূপ জীবনের প্রকৃত স্বরূপকে অনুধাবনে হবে অক্ষম। এরা ন্যায়কে অন্যায় থেকে, ভালোকে মন্দ থেকে , সত্যকে মিথ্যা থেকে , পূণ্যকে পাপ থেকে পার্থক্য করতে পারবে না। মনুষ্য জন্মের সার্থকতাই হচ্ছে তার বিবেক- যা প্রাণীকুলের মধ্যে অনুপস্থিত। এসব জাগতিক বিষয়বুদ্ধি সম্পন্ন লোক তাদের কর্মের ফলে, নিজস্ব বিবেকের অস্তিত্বকে ধ্বংস করে ফেলে। বিবেকহীন লোক ঐ সব অন্ধ ব্যক্তির ন্যায় যারা তাদের চারিপার্শ্বের পৃথিবীর প্রকৃত দৃশ্যকে অনুধাবন করতে পারে না। এরা অন্ধ স্বরূপ। বিবেক বিহীন লোক প্রকৃত সত্যকে অনুধাবনে ব্যর্থ। পৃথিবীতেও তাদের এই অবস্থা থাকবে, মৃত্যুর পরেও তাদের সেই অবস্থায় পুণরুত্থিত করা হবে। কারণ মৃত্যু তো আত্মাকে ধ্বংস করে না। আত্মা শুধুমাত্র তার বাহন এই নশ্বর দেহকে ত্যাগ করে অনন্ত লোকে যাত্রা করে। মৃত্যু হচ্ছে জীবনের ধারাবাহিকতার আর এক রূপ। আত্মা তার জাগতিক সকল অভিজ্ঞতাই পরলোকে বহন করে নিয়ে যায়। বিবেক হচ্ছে অন্তর্দৃষ্টি বা আত্মার চোখ, যে ব্যক্তি এই পৃথিবীতে বিবেকহীন বা আত্মার চক্ষুহীন, সে সেই ভাবেই তার পরলোকের যাত্রা শুরু করবে।