039.002

আমি আপনার প্রতি এ কিতাব যথার্থরূপে নাযিল করেছি। অতএব, আপনি নিষ্ঠার সাথে আল্লাহর এবাদত করুন।
Verily it is We Who have revealed the Book to thee in Truth: so serve Allah, offering Him sincere devotion.

إِنَّا أَنزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ فَاعْبُدِ اللَّهَ مُخْلِصًا لَّهُ الدِّينَ
Inna anzalna ilayka alkitaba bialhaqqi faoAAbudi Allaha mukhlisan lahu alddeena

YUSUFALI: Verily it is We Who have revealed the Book to thee in Truth: so serve Allah, offering Him sincere devotion.
PICKTHAL: Lo! We have revealed the Scripture unto thee (Muhammad) with truth; so worship Allah, making religion pure for Him (only).
SHAKIR: Surely We have revealed to you the Book with the truth, therefore serve Allah, being sincere to Him in obedience.
KHALIFA: We sent down to you this scripture, truthfully; you shall worship GOD, devoting your religion to Him alone.

০২। আমিই তোমার নিকট সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেছি। সুতারাং একান্ত অনুগতভাবে তার এবাদত কর।

০৩। একান্ত আনুগত্য কি আল্লাহ্‌র প্রাপ্য নয় ? ৪২৪৩ কিন্তু যারা আল্লাহ্‌ ব্যতীত অন্য কাউকে রক্ষাকর্তা রূপে গ্রহণ করে [ তারা বলে ] : ” আমরা তো তাদের পূঁজা করি কেবলমাত্র এজন্য যে, তারা হয়তো আমাদের আল্লাহ্‌র সান্নিধ্যে নিয়ে আসবে।” ৪২৪৪। ওরা যে বিষয়ে নিজেদের মধ্যে মতভেদ করছে সত্যিই আল্লাহ্‌ তার বিচার মীমাংসা করে দেবেন। কিন্তু যারা মিথ্যাবাদী ও অকৃতজ্ঞ আল্লাহ্‌ তাদের পথ প্রদর্শন করেন না। ৪২৪৫।

৪২৪৩। বিশ্ব ভূবনের সর্বত্র স্রষ্টার সৃষ্টি নৈপুন্য ছড়িয়ে আছে। সকালের ঝড়ে পড়া শিউলীফুলের পেলবতা থেকে সুউচ্চ পর্বতমালার কাঠিন্য গাম্ভীর্য সর্ব স্থানে স্রষ্টার হাতের স্পর্শ বিদ্যমান। বিশ্বভূবনের সকলেই একই স্রষ্টার সৃষ্টি ; তাই পৃথিবীর সকলেই বিজ্ঞানের একই সুত্রের আওতাধীন। সূদূর মঙ্গলে জড় পদার্থের যে ধর্ম ,এই মাটির পৃথিবীর জড় পদার্থের একই ধর্ম। জীব জগতেরও জৈবিক ধর্ম সকল প্রাণীর মাঝে এক। স্রষ্টা এক ও অদ্বিতীয় – এ সত্যকেই প্রত্যক্ষ করা যায় সৃষ্টিকে পর্যবেক্ষণের দ্বারা। বিশ্বস্রষ্টা আল্লাহ্‌-ই একমাত্র উপাসনার যোগ্য। আর সে উপাসনা হতে হবে একান্ত আন্তরিক।

৪২৪৪। মানুষ জ্ঞানতঃ বা অজ্ঞানত বশতঃ আল্লাহ্‌ ব্যতীত অন্যান্য উপাস্যের উপাসনা করে থাকে। এ সবের মধ্যে পীর পূঁজা ও মাজার পূঁজা অন্যতম। এদের বক্তব্য হচ্ছে যে, তারা নিরাকার আল্লাহ্‌র নিকট পৌঁছানোর জন্য এসব মাধ্যমের আশ্রয় গ্রহণ করে থাকে। তাহলে খৃষ্টান ও ইহুদীদের সঙ্গে আমাদের পার্থক্য কোথায়?

আবার আর একদল আছে যারা জাগতিক বিষয়বস্তুকে জীবনের চরম ও পরম পাওয়া বলে সাব্যস্ত করে। এরা নিজেদের প্রগতিশীল বলে দাবী করে। এদের কেউ সম্পদের , কেউ বিজ্ঞানের , কেউ শিল্পকলার , আবার কেউ নিজস্ব স্বার্থের চিন্তায় দিবারাত্র বিভোর থাকে। তারা দাবী করে যে এগুলির মাধ্যমে তারা আত্মোন্নতি করার ক্ষমতা রাখে এবং জীবনের সর্বশেষ লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম।এবং এরই মাধ্যমে তারা স্রষ্টার নিকটবর্তী হওয়ার আশা রাখে। এই আয়াতে পরিষ্কারভাবে ঘোষণা করা হয়েছে যে, এরা সকলেই ভুল পথে আল্লাহ্‌র অন্বেষণ করছে। কোনও মাধ্যম নয়, মানুষের চিন্তার জগত, মনোজগত, আধ্যাত্মিক জগত শুধুমাত্র স্রষ্টার চিন্তায় আপ্লুত থাকলেই স্রষ্টার সান্নিধ্য লাভ করা সম্ভব।

৪২৪৫। আল্লাহ্‌র প্রকৃত উপাসনা ত্যাগ করে, সঠিক পথকে পরিহার করে, মানুষ যখন মিথ্যা উপাস্যের উপাসনায় নিমগ্ন হয়ে পড়ে , তখন তাদের মাঝে সীমাহীন বিভেদের ও দলের সৃষ্টি হয়। এ সব ফয়সালার মালিক একমাত্র আল্লাহ্‌। কিন্তু কেউ যদি সত্যকে পরিহার করে মিথ্যার আশ্রয় গ্রহণ করে এবং আল্লাহ্‌র প্রতি করণীয় কর্তব্য ও আল্লাহ্‌র কাজে অনীহা প্রকাশ করে, আল্লাহ্‌র প্রতি প্রতিদিনের এই জীবনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে ভুলে যায় , তাহলে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে আল্লাহ্‌ প্রদর্শিত পথকে ত্যাগ করে। এরাই তারা যারা মিথ্যাবাদী ও কাফের, আল্লাহ্‌ তাদের হেদায়েত করেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *