1 of 3

002.267

হে ঈমানদারগণ! তোমরা স্বীয় উপার্জন থেকে এবং যা আমি তোমাদের জন্যে ভূমি থেকে উৎপন্ন করেছি, তা থেকে উৎকৃষ্ট বস্তু ব্যয় কর এবং তা থেকে নিকৃষ্ট জিনিস ব্যয় করতে মনস্থ করো না। কেননা, তা তোমরা কখনও গ্রহণ করবে না; তবে যদি তোমরা চোখ বন্ধ করে নিয়ে নাও। জেনে রেখো, আল্লাহ অভাব মুক্ত, প্রশংসিত।
O you who believe! Spend of the good things which you have (legally) earned, and of that which We have produced from the earth for you, and do not aim at that which is bad to spend from it, (though) you would not accept it save if you close your eyes and tolerate therein. And know that Allâh is Rich (Free of all wants), and Worthy of all praise.

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ أَنفِقُواْ مِن طَيِّبَاتِ مَا كَسَبْتُمْ وَمِمَّا أَخْرَجْنَا لَكُم مِّنَ الأَرْضِ وَلاَ تَيَمَّمُواْ الْخَبِيثَ مِنْهُ تُنفِقُونَ وَلَسْتُم بِآخِذِيهِ إِلاَّ أَن تُغْمِضُواْ فِيهِ وَاعْلَمُواْ أَنَّ اللّهَ غَنِيٌّ حَمِيدٌ
Ya ayyuha allatheena amanoo anfiqoo min tayyibati ma kasabtum wamimma akhrajna lakum mina al-ardi wala tayammamoo alkhabeetha minhu tunfiqoona walastum bi-akhitheehi illa an tughmidoo feehi waiAAlamoo anna Allaha ghaniyyun hameedun

YUSUFALI: O ye who believe! Give of the good things which ye have (honourably) earned, and of the fruits of the earth which We have produced for you, and do not even aim at getting anything which is bad, in order that out of it ye may give away something, when ye yourselves would not receive it except with closed eyes. And know that Allah is Free of all wants, and worthy of all praise.
PICKTHAL: O ye who believe! Spend of the good things which ye have earned, and of that which We bring forth from the earth for you, and seek not the bad (with intent) to spend thereof (in charity) when ye would not take it for yourselves save with disdain; and know that Allah is Absolute, Owner of Praise.
SHAKIR: O you who believe! spend (benevolently) of the good things that you earn and or what We have brought forth for you out of the earth, and do not aim at what is bad that you may spend (in alms) of it, while you would not take it yourselves unless you have its price lowered, and know that Allah is Self-sufficient, Praiseworthy.
KHALIFA: O you who believe, you shall give to charity from the good things you earn, and from what we have produced for you from the earth. Do not pick out the bad therein to give away, when you yourselves do not accept it unless your eyes are closed. You should know that GOD is Rich, Praiseworthy.

রুকু – ৩৭

২৬৭। হে বিশ্বাসী সম্প্রদায় ! তোমরা যা [সৎ পথে] উপার্জন কর ৩১৪; এবং আমি তোমাদের জন্য ভূমি থেকে যা উৎপন্ন করি, তার মধ্যে যা উৎকৃষ্ট তা থেকে দান কর; এর মধ্যে যা নিকৃষ্ট বস্তু ৩১৫ তা দান করার সংকল্প করো না; কেননা তা তোমরা কখনই গ্রহণ করবে না, যদি না তোমরা চোখ বন্ধ করে রাখ ৩১৬। এবং জেনে রাখ যে নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ সর্ব অভাবমুক্ত ও সকল প্রশংসার যোগ্য ৩১৭।

৩১৪। ইংরেজী একটি প্রবাদ বাক্য আছে, “Charity covers a multitude of sins.” কিন্তু ইসলাম এই মতবাদে বিশ্বাসী নয়। প্রকৃত দানের মূল্য তখনই থাকবে যখন, (১) দাতার নিকট মূল্যবান, এমন কিছু দান করা হয়, (২) যাহা সৎপথে উপার্জিত হয় অর্থাৎ হালাল রুজী কিংবা (৩) আল্লাহ্‌ প্রদত্ত নেয়ামতসমূহ [টিকা ২৭ দেখুন] জনগণের কল্যাণে নিয়োজিত করা হয়।

নম্বর (১) সম্পর্কে বলা যায় যে, এরকম দানের জিনিস এমন হতে পারে যা দাতা ব্যবহার করেন না বা দাতার তার প্রয়োজনের থেকে অতিরিক্ত আছে। যেমন- ব্যবহৃত কাপড়। অনেক সময়ে ধনী ব্যক্তিরা ফ্যাশনের পরিবর্তনের সাথে সাথে ব্যবহার্য কাপড়-চোপড় নষ্ট হওয়ার পূর্বেই পরিত্যাগ করে এবং নূতন কাপড় ক্রয় করে। এরূপ ক্ষেত্রে ঐ পরিত্যক্ত কাপড় গরীবদের দান করা যায়। কিন্তু এমন কিছু দান করা উচিত নয় যা গ্রহীতা ব্যবহার করলে বিপদের সম্মুখীন হবে। উদাহরণ : যেমন ব্যবহৃত পুরানো সাইকেল কোনও গরীব ছাত্রকে দান করা হলো তার কলেজে যাতায়াতের সুবিধার জন্য। সাইকেলটির ব্রেকের এবং হ্যান্ডেলের অসুবিধার জন্য ঐ ছাত্রটি পথ চলার সময়ে দুর্ঘটনার সম্মুখীন হলো। এ ক্ষেত্রে ঐ সাইকেলটি দেয়া দান হিসেবে গণ্য হবে না। কারণ যে দান গ্রহীতার উপকার অপেক্ষা অপকার করে তা সর্বশক্তিমানের কাছে দান হিসেবে গণ্য নয়। আবার মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে নেশার দ্রব্য ক্রয়ের জন্য সাহায্য করা দান নয়।
(২) ‘হালাল রুজী’ – সৎ পথে অর্জিত সম্পদ ব্যতীত যে অর্থ সম্পদ তা দানের অযোগ্য। আমাদের সামজে অনেক লোক আছে যারা ঘুষ, কলোবাজারী ইত্যাদি অসৎ উপায়ে অর্থ উপার্জন করে এবং রোজার মাসে দান-ধ্যানে প্রচুর অর্থ ব্যয় করে। আবার অনেকে মনে করে যে বড় লোকদের অর্থকড়ি ডাকাতি বা জোরপূর্বক অপহরণ করে যদি তা গরীবের মঙ্গলের জন্য ব্যয় করা হয় তবে তাতে কোনও অন্যায় নাই। এমন কি বিশ্বসাহিত্যের ‘রবীনহুডের’ মত, আমাদের দেশে ‘দস্যু মোহনের’ মত চরিত্র কিশোর সাহিত্যে সমাধিক জনপ্রিয়। কারণ তারা, “Rob Peter to pay Paul” কিন্তু ইসলাম এই দৃষ্টিভঙ্গী সমর্থন করে না। ইসলামের দৃষ্টিতে উপার্জিত অর্থের প্রতিটি পাই পয়সা হতে হবে সৎ পথে অর্জিত এবং হালাল। এই-ই হচ্ছে ইসলামের অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গী বা নিয়ম-কানুন (Code)। ইসলামের চোখে যে অর্থ সৎ পথে অর্জিত নয় সে অর্থ কোনভাবেই আল্লাহ্‌র কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। এই হচ্ছে কোরানের হুকুম। অসৎ পথের অর্জিত অর্থ দ্বারা দান-ধ্যান বা সৎ কাজে ব্যয় করার মধ্যে কোনও পূণ্য নাই। কারণ তা আল্লাহ্‌র কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। একথা যেনো কেউ মনে না করে দানের পূণ্য তার অসৎ পথে অর্জিত পাপকে মুছে দেবে। তা কখনই দেবে না। কারণ যারা অসৎ পথে অর্থ উপার্জন করে তারা সমাজের শান্তি ও শৃঙ্খলা (peace & harmony) বিঘ্নিত করে এবং পুরো সমাজের সম্মুখে তারা যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে তা সমাজের বহু নবীন যুবককে পথভ্রষ্ট করে। তাই তাদের দান তাদের কৃতকর্মের পাপকে মুছে ফেলতে পারবে না।

নম্বর (৩) প্রতিটি মানুষের মধ্যে আল্লাহ্‌ কিছু না কিছু গুণাবলীর সৃষ্টি করেছেন। এই গুণাবলীই হচ্ছে আল্লাহ্‌র নেয়ামত [টিকা ২৭]। যদি এই নেয়ামত বান্দা জীবনে সৎ কাজের সন্ধানে ব্যয় করে তবেই তা সার্থক ও দান। কিন্তু তা না হয়ে যদি এই নেয়ামতকে অসৎ কাজে ব্যবহার করা হয় তবে তা পাপ। আল্লাহ্‌ মানব সন্তানকে বহু ধরণের নেয়ামত দিয়েছেন : শিল্প, সাহিত্য, প্রশাসনিক দক্ষতা, সঙ্গীত, বিজ্ঞান, বাণিজ্য ইত্যাদি জীবনের বিভিন্ন শাখায় বিভিন্ন প্রতিভাধর ব্যক্তির জন্ম হয়, সেই কারণে মানব সভ্যতা ক্রমাগত অগ্রসরমান। আল্লাহ্‌র হুকুম হচ্ছে, সর্বোচ্চ দান হচ্ছে সেই দান যে তার প্রতিভা বা দক্ষতা অন্যকে শিক্ষা দেয় অথবা এই দক্ষতা বা প্রতিভার যা ফসল তা সে অন্য সবার সাথে ভাগ করে নেয়। সেই রকমভাবে যে দক্ষতা বা প্রতিভা অন্যায় কাজে ব্যবহৃত হয়, যেমন- বাণিজ্য প্রতিভাকে কালোবাজারীতে ব্যবহার করা, ঋণ-খেলাপী হওয়া ইত্যাদি বা প্রশাসনিক ক্ষমতাকে জনগণের খেদমতের পরিবর্তে নিজ স্বার্থসিদ্ধির জন্য ব্যবহার করা পাপ, তখন আল্লাহ্‌র এই নেয়ামতের ব্যবহার দ্বারা বান্দা জীবনে দানের পূণ্য অর্জন করতে সক্ষম হয় না। কারণ আল্লাহ্‌র এইসব নেয়ামতের অপব্যবহার দ্বারা তারা সমাজের নৈতিকতা ধ্বংস করলো। ফলে তা কলঙ্কিত হলো, তা পাপে পরিণত হলো।

[অনুবাদকের মন্তব্যঃ বাংলাদেশ, যে দেশে অশিক্ষিতের হার এবং দরিদ্রের হার এত বেশী সেখানে শিক্ষিত ব্যক্তিবর্গ, যথা- ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যাংকার, ব্যবসায়ী ইত্যাদি এরা আল্লাহ্‌র নেয়ামতে ধন্য। এদের উপরে আল্লাহ্‌ কর্তৃক দায়িত্ব হচ্ছে যাকে আল্লাহ্‌ যে স্থানে অধিষ্ঠিত করেছেন, সেখান থেকেই তার মেধা ও দক্ষতা দ্বারা সমাজের মঙ্গলের জন্য কাজ করা। অর্থাৎ বিবেকের সাথে নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য সুষ্ঠুভাবে পালন করা। তবেই সেটা হবে তার জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ দান। আর তা না করে যদি তারা এই দক্ষতার দ্বারা অন্যায়ভাবে টাকা উপার্জন করতে চায় নিজস্ব সুখ ও সুবিধা ভোগ করার জন্য, তবে তা হবে পাপ। যেমন : ডাক্তার যদি তার কর্তব্য না করে, ইঞ্জিনিয়ার যদি তার কর্তব্য না করে, শিক্ষক যদি তার কর্তব্য না করে তবে তা পাপ। আর স্ব স্ব কর্তব্য যদি নিষ্ঠার সাথে পালন করে তবে তা হবে সর্বশ্রেষ্ঠ দান এবং আল্লাহ্‌র এবাদত।

৩১৫। উপরের টিকাতে আলোচনা করা হয়েছে সেগুলি সম্বন্ধে যেগুলি ব্যয় করার মধ্যে কোনও দানের পূণ্য নাই। কারণ ঐ বস্তুগুলি হচ্ছে খারাপ পথে অর্জিত সম্পদ। এখানে সাবধান করা হচ্ছে আমরা ঐ সব খারাপ পথে অর্থ সম্পদ উপার্জন করা থেকে দূরে থাকবো। কারণ তা পাপ, আর ঐ পাপ পথে অর্জিত অর্থ দান দ্বারা অর্জিত পাপকে মুছে ফেলা সম্ভব নয়। কারণ হালাল রুজীর দান ব্যতীত আল্লাহ্‌র কাছে তা গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা হয়তো আমাদের বিবেককে সান্ত্বনা দিতে পারি যে, আমরা সৎ কাজে প্রচুর দান করেছি সুতরাং অসৎ অর্জিত সম্পদের যে পাপ তা ঐ দানের পূণ্য দ্বারা ক্ষয় বা শোধ হয়ে যাবে। কিন্তু একথা মনে রাখতে হবে হারাম উপায়ে অর্জিত বস্তু আল্লাহ্‌ কবুল করেন না।

৩১৬। ‘চক্ষু-বন্ধ করে থাকা’ – এ কথাটির দ্বারা বোঝানো হচ্ছে যে, সেই সব নৈতিকতা বর্জিত কাজ যা বিবেক সম্পন্ন লোক গ্রহণ করতে পারে না। ‘চক্ষু-বন্ধ’ অর্থাৎ বিবেককে বাদ দিয়ে যা করা হয়।

৩১৭। অসৎ পথে উপার্জিত অর্থ আল্লাহ্‌র নিয়তে দান করার অর্থ আল্লাহকে অসম্মান করা। আল্লাহ্‌ অভাবমুক্ত। তিনি বান্দার অর্থ সম্পদ চান না। তিনি চান বান্দার সমর্পিত হৃদয়। পূত পবিত্র হৃদয়ের দান, যে দান নির্মল হৃদয় থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে উৎসারিত। সমস্ত প্রশংসার মালিক আল্লাহ্‌।