রিস্তেদারের কাঁটা – ৬

ছয়

পরদিন সকালে বাসু-সাহেবের সঙ্গে দেখা করতে এল গ্রিন্ডলেজ ব্যাঙ্কের ম্যানেজার সি. এস. রঙ্গনাথন। ইংরেজিতে বললে, মিস্টার বাসু, আপনার সঙ্গে একটা বিষয়ে পরামর্শ করতে এলাম। হঠাৎ একটা অদ্ভুত পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে গেছি।

– বলুন?

রঙ্গনাঘন শুর ভিজিটার্স চেয়ারে বসে। বিরলকেশ মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলে, এ জাতীয় ঘটনা ব্যাঙ্কে যে ঘটে না তা নয়, তবে এবার অবস্থাটা একটু পিকুলিয়ার! আমানতকারীর স্বার্থ এ ক্ষেত্রে কী-ভাবে রক্ষিত হবে সেটা বুঝে উঠতে পারছি না। খুলে বলি সব কথা। মিস্টার সত্যানন্দ সেন আমাদের ক্লায়েন্ট – তাঁর বিশ বছরের পুরানো অ্যাকাউন্ট। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে মিস্টার ধনঞ্জয় চৌবে – কনজারভেটর– একজন অপরিচিত ব্যক্তি, বস্তুত অবাঞ্ছিত ব্যক্তি…

– কিন্তু তিনি মহামান্য আদালতের আদেশে রঙ্গমঞ্চে উপস্থিত!

– কারেক্ট! অ্যান্ড ‘দ্যাটস্দ্য মোস্ট আনকাইন্ডেস্ট কাট অফ অল’! কিন্তু তিনি একটু বিশেষ জাতের আদালত-নিযুক্ত কনজারভেটর –

– কী রকম?

– প্রথমত ধরুন, কনজারভেটর নিযুক্ত হবার পূর্বেই তিনি আমার দ্বারস্থ হয়েছিলেন, মিস্টার সেনের ভাই হিসাবে জানতে চেয়েছিলেন যে, তাঁর দাদার অ্যাকাউন্টে ঠিক কত টাকা আছে। আমি তা তাঁকে জানাতে অস্বীকার করায় তিনি আমার কর্মচারীদের মাধ্যমে বেআইনি পথে সংবাদটা সংগ্রহের চেষ্টা করেন। তৃতীয়ত, কনজারভেটর নিযুক্ত হওয়া মাত্র তিনি আমার ব্যাঙ্ক থেকে সমস্ত টাকা অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে গেছেন…

বাসু-সাহেব বাধা দিয়ে বলেন, সেটা কী রকম সমস্ত টাকা সরিয়ে নিয়ে গেলে ওঁর অ্যাকাউন্টটা কী ভাবে টিকে আছে?

রঙ্গনাথন ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দেয়।

সচরাচর আদালত থেকে নিযুক্ত কনজারভেটর কোর্ট-অর্ডারের একটি প্রত্যয়িত কপি পাঠিয়ে ব্যাঙ্ককে অনুরোধ করে যে, তার স্বাক্ষরই শুধু মাত্র অতঃপর গ্রাহ্য হবে। এ. ক্ষেত্রে ধনঞ্জয় যদি তাই করত তাহলে গ্রিন্ডলেজ ব্যাঙ্কে টাকাটা থাকত। কিন্তু চৌবে তা করেনি। কোর্ট-অর্ডারের কপি নিয়ে সে পুনরায় ব্যাঙ্ক-ম্যানেজারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। এবার রঙ্গনাথন জানাতে বাধ্য হয় যে, সত্যানন্দ সেনের অ্যাকাউন্টে ব্যালেন্স হচ্ছে এক লক্ষ একত্রিশ হাজার তিনশ পঁচিশ টাকা। ধনঞ্জয় তৎক্ষণাৎ একটি চেক কেটে অন্য ব্যাঙ্কে তার নিজের অ্যাকাউন্টে সমস্ত তুলে নেয়, শুধু ব্যাঙ্কের আইনমোতাবেক মাত্র পাঁচশ টাকা ঐ অ্যাকাউন্টে ফেলে রেখে।

– এটুকু করুণা কেন? – জানতে চান বাসু-সাহেব।

– আদালতের আদেশকে মর্যাদা দিতে। কারণ আদেশনামায় বলা হয়েছে, সত্যানন্দের ঐ অ্যাকাউন্ট থেকে কনজারভেটরের স্বাক্ষরে টাকা ওঠানো যাবে যতদিন না অ্যাকাউন্ট-হোল্ডার আদালতের আদেশ-বলে মানসিকভাবে সুস্থ বিবেচিত হন। ফলে অ্যাকাউন্টটা যদি ক্লোজ করে দেওয়া হত প্রকারান্তরে তা হত কোর্ট-অর্ডারকে অগ্রাহ্য করা।

– বুঝলাম। কিন্তু এ-ক্ষেত্রে আপনার তো কিছু করণীয় নেই!

– না, সে ব্যাপারে নয়। ইতিমধ্যে আর একটি কাণ্ড ঘটেছে। মাত্র গতকাল বিকালে ব্যাপারটা আমার গোচরে এসেছে। শুনুন…

রঙ্গনাথনের ব্যাখ্যা থেকে জানা গেল, গতকাল রাকেশ জৈন নামে একজন ব্যবসায়ী সত্যানন্দ সেনের অ্যাকাউন্টে বেমক্কা পঞ্চাশ হাজার টাকা জমা দিয়ে বসেছেন। কী ব্যাপার? তদন্ত করে রঙ্গনাথন জানতে পারে, প্রায় ছয় মাস পূর্বে ঐ রাকেশ জৈন সত্যানন্দর কাছ থেকে একটি ভূসম্পত্তি ক্রয় করেন। স্থির হয় ক্রেতা তিনটি ইনস্টলমেন্টে বিক্রয়মূল্য দেড় লক্ষ টাকা ছয় মাসের মধ্যে প্রদান করলে সম্পত্তির দখল পাবেন। দুটি কিস্তি ইতিপূর্বেই দেওয়া হয়ে গেছিল। রাকেশ এই কোর্ট-অর্ডারের কথা কিছুই জানেন না। বোম্বাই থেকে গ্রিন্ডলেজ ব্যাঙ্কের ঐ বিশেষ অ্যাকাউন্টে পঞ্চাশ হাজার টাকার চেক পাঠিয়েছেন এবং চেকটি ক্যাশ হয়ে ঐ অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে। ফলে ঐ অ্যাকাউন্টে ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স আবার হয়ে গেছে পঞ্চাশ হাজার পাঁচশ টাকা।

বাসুর দু-হাতের দশটা আঙুল হঠাৎ সক্রিয় হয়ে ওঠে। তাঁর গ্লাসটপ টেবিলে টরে-টক্কা বাজাতে থাকে। চোখ দুটি বুঁজে তিনি বললেন, অঙ্কশাস্ত্র মতে তাই হবার কথা। সিম্পল ম্যাথমেটিক্স! পঞ্চাশ হাজার প্লাস পাঁচশ, ইজুক্যালটু পঞ্চাশ হাজার পাঁচশ। কিন্তু আপনার সমস্যাটা কী?

– আইনত ব্যাঙ্ক কি খবরটা কনজারভেটরকে জানাতে বাধ্য?

– সেটাই প্রত্যাশিত। আপনি ব্যাঙ্কে ফিরে যান এবং কনজারভেটরকে জানিয়ে দিন ব্যাপারটা।

রঙ্গনাথন ব্যাজার-মুখে বসে থাকে।

– কী হল? পরামর্শটা আপনার পছন্দ হল না মনে হচ্ছে?

– কী করে হবে বাসু-সাহেব? এ-জাতের সমাধানের সন্ধানে তো আপনার কাছে আসিনি। আমি নিশ্চিতভাবে জানি, মিস্টার সেন সুস্থ থাকলে আপনার এই সিদ্ধান্তে আদৌ খুশি হতেন না।

– আপনি ভুল করছেন মিস্টার রঙ্গনাথন। সিদ্ধান্তটা আমার নয়, মহামান্য আদালতের। ঐ অ্যাকাউন্টে যা জমা পড়বে তা নয়-ছয় করার অধিকার ঐ ‘ছপ্পড়ফোঁড়’ কনজারভেটর ধনঞ্জয় চৌবেতে বর্তেছে। আপনি-আমি কিছুই করতে পারব না। ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকা ছাড়া!

– কিন্তু আগ-বাড়িয়ে ব্যাঙ্ক কেন কনজারভেটরকে জানাতে যাবে সে কথা?

– যেহেতু সৌজন্যের তাই নির্দেশ। দু-দশ হাজার হলে ব্যাঙ্ক না জানাতেও পারত; কিন্তু পঞ্চাশ হাজার টাকা যদি কারও অ্যাকাউন্টে জমা পড়ে তাহলে ব্যাঙ্ক নিজে থেকেই তা পার্টিকে জানায়। বিশেষ, এ-ক্ষেত্রে আপনারা সদ্যই আদালতের নির্দেশ পেয়েছেন।

রঙ্গনাথন উঠে দাঁড়ায়। বলে, এবার স্বীকার করি, আমাদের লিগ্যাল অ্যডভাইসারকেও আমি সকালে

টেলিফোন করেছিলান। তিনিও******এর পরামর্শ দিয়েছেন।

– ন্যাচারালি। কিন্তু লিগ্যাল অ্যাডভাইস পাওয়ার পরেও আপনি আমার কাছে তাহলে এসেছেন কেন?

– যেহেতু আপনি পি.কে. বাসু, বার-অ্যাট-ল! আমি আশা করেছিলাম, আপনি নিশ্চয় কোন ফন্দি-ফিকির বার করবেন।

– তাই কি পারি? ছিঃ! আদালতের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হয়। চলুন, আপনার সঙ্গে ব্যাঙ্কে যাই। আমারও কিছু কাজ আছে ওখানে।

দুজনে হাঁটতে হাঁটতে চলে এলেন ব্যাঙ্কে। পথে আসতে আসতে বাসু-সাহেব প্রশ্ন করেন, মিস্টার রঙ্গনাথন, আমি আপনাদের ব্যাঙ্ক থেকে পঁচাত্তর হাজার টাকা কর্জ করতে চাই। আজই। সম্ভবপর হবে?

– তা হবে না কেন? কী আমানত রাখবেন?

– ধরুন আমার ঐ নিউ-আলিপুরের বাড়িটা যদি বন্ধক রাখি?

রঙ্গনাথন বলে, কিছু মনে করবেন না বাসু-সাহেব, কতদিন লাগবে শোধ দিতে? আই মীন, জাস্ট য়োর গেস্, আন্দাজে বলুন?

– ধরুন দশ থেকে পনের মিনিট।

রঙ্গনাথন হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়ে। বলে, মানে? সেই দশ-পনের মিনিটে কী করবেন পাঁচত্তর হাজার টাকাটা পেলে?

– আপনাদের ব্যাঙ্ক-প্রেমিসেস-এর বাইরে টাকাটা আদপে আসবেই না। ঐ পঁচাত্তর হাজার টাকা আমি আবার জমা করে দেব সত্যানন্দ সেনের অ্যাকাউন্টে।

– আপনার কী মাথা…

‘খারাপ’ কথাটা উচ্চারণের আগেই হঠাৎ উচ্চৈঃস্বরে হেসে উঠল রনাথন।

আচমকা বাসু-সাহেবের বাহুমূল চেপে ধরে বললে, বুঝেছি! আসুন!

– কী বুঝেছেন?

– সিম্পল ম্যাথমেটিক্স। পঞ্চাশ হাজার প্লাস পাঁচাত্তর হাজার ইজিক্যাল্টু এক লাখ পঁচিশ!

ব্যাঙ্কে নিজের বাতানুকূল-করা চেম্বারে ঢুকেই রঙ্গনাথন ডেকে পাঠাল তার স্টেনোকে। বাসু-সাহেব ততক্ষণে ভিজিটার্স-চেয়ারে পাইপ ধরাতে ব্যস্ত। ব্যাঙ্ক-ম্যানেজার তাঁকে বলল, কিছু মনে করবেন না বাসু-সাহেব। সবার প্রথমে আমি মিস্টার ধনঞ্জয় চৌবেকে একটা জরুরী চিঠি ডিক্‌ক্টেট করতে চাই…

বাসু-সাহেব বাধা দিয়ে বলেন, আমার মনে হয় আপনি বরং চিঠিটা মিস্টার সত্যানন্দ সেনকেই লিখুন, শ্রীধনঞ্জয় চৌবে, কনজারভেটরের প্রযত্নে…

– আই গেট দ্য পয়েন্ট। প্রযত্নে! এ গুড বেঙ্গলি ওয়র্ড! প্রকৃষ্টরূপে যত্ন নেওয়া, তাই নয়?

ইতিমধ্যে স্টেনো-টাইপিস্ট এসে বাসু-সাহেবের পাশে বসেছে। নোটবই বার করে ম্যানিকিওর-করা আঙুলে উদ্যত-কলম প্রতীক্ষা করছে।

রঙ্গনাথন ডিকটেশন দিল:

– ডিয়ার মিস্টার সেন, কেয়ার অফ মিস্টার ধনঞ্জয় চৌবে, কনজারভেটর, আপনার গড়িয়ার জমিটা নিয়ে যে চুক্তিনামা হয়েছিল সেই বিক্রয়-কোবালা মোতাবেক বোম্বাইবাসী শ্রীরাকেশ জৈন আপনার উপরিলিখিত অ্যাকাউন্টে শেষ কিস্তির প্রঞ্চাশ হাজার টাকা জমা দিয়েছেন। প্যারা। টাকাটা ক্যাশ হয়ে আপনার অ্যাকাউন্টে রাখা হয়েছে। বিনয়াবনত ইতি–

স্টেনো তার খাতাপত্র গুটিয়ে নিয়ে উঠে যেতেই বাসু বললেন, এবার তাহলে আমার ঐ পঁচাত্তর হাজার টাকার লোনটার ব্যবস্থা করতে হয়।

– বটেই তো। বসুন। ব্যবস্থা করছি।

লোন-ডিপার্টমেন্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান করণিক খাতাপত্র নিয়ে এলেন। বিনা আমানতে পঁচাত্তর হাজার টাকা কর্জ দেওয়া যে বাঞ্ছনীয় নয়, এ বিষয়ে ব্যাঙ্ক ম্যানেজারকে অবহিতও করলেন।

রঙ্গনাথন তাঁর পরামর্শে কর্ণপাত করলেন না। ব্যাজার-মুখে প্রধান করণিক বাসু-সাহেবকে প্রশ্ন করেন, কতদিনের জন্য টাকাটা ধার নিচ্ছেন স্যার?

– দিন নয়, মিনিট। পনের মিনিট! – বাসু-সাহেবের চট্-জলদি জবাব।

করণিক আঁৎকে ওঠার অবকাশ পেল না রঙ্গনাথন হুমড়ি খেয়ে পড়ায়। রঙ্গনাথন বললে, ওটা প্রাথমিকভাবে এক মাস বলে খাতাপত্রে দেখানো হোক।

তাই দেখানো হল। ঋণপত্রে স্বাক্ষর করার মিনিট পনের পরে ম্যানেজারের ঘরেই টাকাটা পেমেন্ট করা হল।

দেড়শটি পাঁচশ টাকার নোট।

বাসু টাকাটা পকেটজাত করে বেরিয়ে এলেন। ডিপজিট-কাউন্টারে তখনো ভিড় হয়নি তেমনি। ক্যাশ-ডিপজিট ফর্ম ভর্তি করে কাউন্টারে পঁচাত্তর হাজার টাকা দিতে ভদ্রলোক বললেন, সরি এই অ্যাকাউন্টটা কোর্ট-অর্ডারে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

বাসু বললেন, সরি, আমি এইমাত্র ম্যানেজারের কাছ থেকে জেনে এসেছি অ্যাকাউন্টটা জীবিত।

ভদ্রলোক উঠে গেলেন। ম্যানেজারের ঘর থেকে ঘুরে এসে টাকাটা নিয়ে আবার ব্যাঙ্ক-ভল্টের দিকে উঠে গেলেন।

এবার বাসু-সাহেব ফিরে এলেন টেলার-অ্যাকাউন্ট কাউন্টারে। সেদিনের সেই করণিক ভদ্রলোকই বসে আছেন। তাঁর দিকে বাড়িয়ে ধরলেন সত্যানন্দ সেনের সওয়া সক্ষ টাকার চেক – ‘পেয়ী’ স্মরণিকা সেনের স্বাক্ষর করা আছে যার পিছনে। ভদ্রলোক অবাক হয়ে বললেন, সেদিনই তো বললাম স্যার, অ্যাকাউন্টে অত টাকা নেই।

– শুধু তাই নয়, আপনি বলেছিলেন, ‘দিস্ ইজ অ্যান আনইউজুয়াল চেক’!

– তাও বলেছিলাম বটে। আপনি কি তা মনে করেন না?

– কথা সেটা নয়। কথা হচ্ছে চেকটা ভাঙানো যাবে কিনা।

ভদ্রলোকের মনে পড়ল, বাসু-সাহেবের বাহুমূল চেপে ধরে একটু আগেই ব্যাঙ্ক-ম্যানেজার ঘরে ফিরেছেন। ভদ্রলোক ম্যানেজারে ঘরের দিকে চলে গেলেন। একটু পরে ফিরে এসে বল্পলেন, আপনিই ঠিক বলেছেন স্যার, অ্যাকাউন্টে যে-টাকা আছে তাতে চেকটা অনার করা যাবে।

– তবে তাই যাক। আমি পাঁচশ আর একশ টাকার ডিনোমিনেশনে নেব। দশ-কুড়ি-পঞ্চাশের নোট যেন দেওয়া না হয়।

ভদ্রলোক ভল্টে উঠে গেলেন। একটু পরে ফিরে এলেন টাকা নিয়ে।

দু-পকেট-উপচীয়মান বাসু ফিরে এলেন ব্যাঙ্ক-ম্যানেজারের ঘরে। বললেন, মিস্টার রঙ্গনাথন, একটুআগে আমি আপনাদের ব্যাঙ্ক থেকে পাঁচাত্তর হাজার টাকা কর্জ করেছি। ওটা আর দরকার হচ্ছে না।

– সে কী! হঠাৎ এ সিদ্ধান্ত? – ম্যানেজার আঁতকে ওঠার অভিনয় করেন।

– যুধিষ্ঠির বলেছেন, ‘যে অঋণী, অপ্রবাসী সে শাকান্ন ভক্ষণ করলেও সুখী’। আমি ঋণমুক্ত হতে চাই মিস্টার রঙ্গনাথন।

পঁচাত্তর হাজার টাকা প্রত্যর্পণ করে বাসু-সাহেব ঋণমুক্ত হলেন। বললেন, এবার এই নগদ পঁয়তাল্লিশ হাজার টাকা দয়া করে গ্রহণ করুন এবং নয়খানা ব্যাঙ্ক ড্রাফট আমাকে দেওয়ার ব্যবস্থা করুন। প্রতিটি পাঁচহাজার টাকার। ‘পেয়ী’ – শ্রীমতী স্মরণিকা সেন। তাকে চেনেন আশা করি?

– নিশ্চয়ই। আপনার ক্লায়েন্ট। মিস্টার সত্যানন্দ সেনের অ্যাকাউন্টে অনেকবার টাকা তুলেছেন, জমা দিয়েছেন। তাকে চিনি বইকি। তারপর গলাটা খাটো করে বললেন, কিন্তু এবার যে অঙ্কশাস্ত্রটাঠিক মিলছে না, বাসু-সাহেব। পাঁচ হাজার টাকা ঘাটতি হচ্ছে–

– ওটা স্মরণিকাকে নগদে দিতে চাই। তাঁর হাতখরচ…

– বুঝলাম।সব কাজই সুসম্পন্ন। শ্রীল শ্রীযুক্ত কনজারভেটর চৌবেমহাশয়কে লেখা চিঠি ডাকে পোস্ট করা হয়েছে। সওয়া লক্ষ টাকার চেকটা ভাঙানো গেছে। আপনিও ঋণমুক্ত হয়েছেন। শুধু একটি কাজ এখনো বাকি আছে, ব্যারিস্টার সাহেব।

– আবার কী?

– আমার ক্ষমাপ্রার্থনা। মিস্টার পি. কে. বাসু, বার-এ্যাট-ল’র উপর আমি যে খণ্ডমুহূর্তের জন্যও আস্থা হারিয়ে ফেলেছিলাম সেজন্য আমি দুঃখিত।

বাসু তখন মিটিমিটি হাসছেন।