কৌতূহলী কনের কাঁটা – ৯

নয়

পরদিন রবিবার। হেবিয়াস কর্পাস করা যাবে না। আদালত বন্ধ। কিন্তু বাসু-সাহেবকে নিষ্কর্মা বসে থাকতে হল না। বেলা সাড়ে-দশটা নাগাদ বর্মন টেলিফোন করে জানাল যে, বাসু সাহেবের মক্কেল তাঁর উপস্থিতি ছাড়া কোনো কথারই জবাব দিচ্ছে না। উনি কি আসতে পারবেন হেড-কোয়ার্টার্সে?

বাসু এলেন। বললেন, আমার মক্কেল জবানবন্দি দেবে কিন্তু তার পূর্বে আমি তার সঙ্গে নির্জনে সাক্ষাৎ করতে চাই।

সে ব্যবস্থাই হল। ছন্দাকে নিয়ে আসা হল ওঁর কাছে, বিশেষ সাক্ষাৎ কক্ষে। লেডি-মেট্রন অদূরে বসে রইল। শ্রুতিসীমার বাইরে, কিন্তু দৃষ্টিসীমার নয়।

বাসু বললেন, আয়াম সরি ছন্দা! তুমি প্রথম থেকেই আমাকে না জানিয়ে একের পর এক ভ্রান্ত পদক্ষেপ করছিলে। তবে তুমি এটা খুব বুদ্ধিমতীর মতো কাজ করেছ – মানে এই স্ট্যান্ডটা নিয়ে যে, তোমার অ্যাটর্নির অনুপস্থিতি তুমি কোনো এজাহার দেবে না।

– সুজাতাদি আমাকে সে-কথা বলেছিল। একটা কথা বলুন তো: পুলিসে আমাকে সন্দেহ করল কী করে?

– তোমার কর্তা থানায় গিয়ে এজাহার দিয়েছিল বলে!

ছন্দা একটু অবাক হল। বললে, তা কেমন করে হবে? সে তো কিছুই জানে না। সে তো তখন ঘুমাচ্ছিল?

না, ছন্দা! তুমি ওর গরম চকলেটে ‘ইপ্রাল’ ট্যাবলেট মিশিয়েছিলে এটা সে জানতে পেরেছিল। সে ওটা কমোডে ঢেলে দেয়। আদৌ পান করেনি। ঘুমের ভান করে পড়েছিল। তুমি কখন গাড়ি নিয়ে আলিপুর থেকে রওনা হয়েছ আর কখন ফিরে এসেছ, তা সে জানে।

ছন্দা অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। কথাটা হজম করতে পারছিল না সে। তারপর কোনক্রমে বললে, ও জেগে ছিল? ঘুমায়নি? ও জানে যে, রাত্রে আমি গাড়ি নিয়ে…

কথাটা ওকে শেষ করতে দেন না বাসু। বলেন, এখন আমাকে সংক্ষেপে বল দিকি– কেন কাল মধ্য রাত্রে তারাতলায় গিয়েছিলে?

– কমলেন্দু আমাকে বাধ্য করেছিল। সন্ধ্যার অ্যাপয়েন্টমেন্টটা ক্যানসেল করে টেলিফোনে রাত একটায় ওর সঙ্গে একটা অ্যাপয়েন্টমেন্ট করি। আমার আশা ছিল, ত্রিদিবকে ঘুম পাড়িয়ে আমি একা ওর কাছে যেতে পারব।

– তোমার বয়সী একটি মেয়ের পক্ষে একা ড্রাইভ করে অত রাত্রে ওখানে যাওয়া কি দুঃসাহসিকতা নয়? তোমার ভয় হল না?

– ভয়ের কী আছে? আমার সঙ্গে লোডেড রিভলভার ছিল। আপনি তো নিজেই সেটা আমাকে ফেরৎ দিয়েছিলেন। কোনো মস্তান বাঁদরামো করতে এলে তার খুলি উড়িয়ে দিতাম!

বাসু ম্লান হেসে বললেন, তোমার ধমনীতেও কি শক্তাবৎ রাজরক্ত বইছে, ছন্দা? কী দরকার ছিল এতটা ঝুঁকি নেবার?

– – সে আপনাকে বোঝাতে পারব না। আমি…আমি একটা অপরাধ করেছিলাম। কমলেশ তা জানত! খবরটা সে পুলিসে জানালে আমার নির্ঘাত জেল হয়ে যেত! কী জানেন? আমি জানি যে, আমি অন্যায় করেছি, সেজন্য জেল খাটতেও আমি প্রস্তুত, কিন্তু ত্রিদিবের কথা ভেবে আমি প্রায়শ্চিত্তটা করতে পারছিলাম না। ওর বাবা ত্রিবিক্রমের ধারণা: তাঁর পুত্র নিচু ঘরে বিয়ে করেছে, আমার ‘খানদান’ নেই – তা আমার নেই বটে, তেমনি আমি কিন্তু ‘বর্ন-ক্রিমিনাল’ও নই। আমার জেল হলে ওর বাবা ওকে বলতেন ‘দেখলে তো?’…সেটাই আমার সহ্য হচ্ছিল না। তাই আমার হাত-পা বাঁধা পড়েছিল। আমার উপায় ছিল না। কমলেশের হুকুম মতো রাত একটার সময়েই আমাকে তারাতলার মতো এলাকায় যেতে হয়েছিল, প্রচণ্ড বিপদ মাথায় করে।

– তুমি কি ওকে কিছু টাকা দিতে গেছিলে?

– আদৌ না! টাকা কোথায় যে, দেব? আমি শুধু কিছু সময় চাইতে গেছিলাম। হতভাগাটা কিছুতেই রাজি হল না।..আপনি জানেন, আমার ধারণা ছিল, সে বাস দুর্ঘটনায় মারা গেছে। আসলে হয়তো সে এ কয়বছর জেল খাটছিল – ঠিক জানি না –মোট কথা তার কোনো খবরই পাইনি বহু বছর ধরে।

– কাল রাত্রে কী ঘটেছিল তাই বল। কোনো কথা বাদ দিও না, কোনো কথা গোপন কর না। যদি তুমি স্বহস্তে খুন করে থাক তাহলে অকপটে তা স্বীকার কর!

ছন্দা মেদিনীনিবদ্ধ দৃষ্টিতে পাঁচ সেকেন্ড নিথর হয়ে বসে রইল। তারপর ওঁর চোখে-চোখে তাকিয়ে বলল, আই কনফেস্, স্যার! হ্যাঁ, আমিই ওকে খুন করেছি…নিজের হাতে…

বাসুও মিনিটখানেক স্তব্ধ হয়ে বসে থাকেন। তারপর বলেন, কিন্তু সেদিন তো তুমি আমাকে বলেছিলে ছন্দা, যে, ইঁদুর-কলে-পড়া ইঁদুরদেরও তুমি মারতে পারতে না-দূরে গিয়ে ছেড়ে দিতে।বলনি?

– বলেছিলাম। সেদিন সত্যি কথাই বলেছিলাম, স্যার। কমলেশকে আমি ইচ্ছা করে খুন করিনি। নিতান্ত ঘটনাচক্রে…

– ঠিক কী ঘটেছিল বল দিকিন।

– ওর সঙ্গে আমার কথা কাটাকাটি থেকে ঝগড়া হচ্ছিল। ও বিশ্বাস করছিল না যে, সত্যিই দু-হাজার টাকাও আমার কাছে নেই। হঠাৎ ক্ষেপে গিয়ে ও একটা অশ্লীল গালাগাল দিয়ে আমার হাত চেপে ধরে। আমি ওকে ধাক্কা মেরে নিজেকে ছাড়িয়ে নিই। কী-একটা জিনিস– কাচের গ্লাসই হবে বোধহয় – হাতের ধাক্কা লেগে ঝন্ধন্ করে ভেঙে পড়ল। ও দু-হাত বাড়িয়ে আমার দিকে এগিয়ে আসে। যেন দু-হাতে আমার গলা টিপে ধরবে। আমি নিচু হয়ে হাতের কাছে যা পেলাম তাই কুড়িয়ে নিলাম। তখন বুঝতে পারিনি, এখন খবরের কাগজ পড়ে বুঝছি যে, সেটা একটা গ্যালভানাইজড কলের জলের শর্টপীস। হাত-দেড়েক লম্বা। আমি সেটা এলোপাতাড়ি ঘুরিয়ে ওকে দূরে হটাতে চাইলাম। ঠিক তখনই ও মরিয়া হয়ে এগিয়ে আসে। পাইপটা ওর মাথায় লাগে। ও পড়ে যায়।

– তখনি তুমি ছুটে পালিয়ে গেলে?

– না। ঠিক তখনি কে-যেন সুইচটা অফ করে দিল!

– সুইচটা ‘অফ’ করে দিল? কে? ঘরে তো মাত্র তোমরা দুজন? আর কমলেশ তো তখন মাটিতে পড়ে?

– না! ঘরে তৃতীয় আর এক ব্যক্তিও ছিল। সে যে কে বা কখন এসেছে, তা জানি না। কিন্তু সে-ই হঠাৎ সুইচটা অফ করে দেয়।

– ঠিক কখন? আই মিন, কমলেশ মাথায় আঘাত পাওয়ার আগে, না পরে?

– আগেও না, পরেও নয়। ঠিক একই সময়ে। কোনো ঘটনা আগুপিছু ঘটে থাকলে তা স্প্লিট সেকেন্ডের ব্যাপার!

– তাহলে এমনও হতে পারে যে, তোমার আঘাতে কমলেশ ভূতলশায়ী হয়নি। তোমার ঘূর্ণমাণ ডাণ্ডাটা অন্য কিছুতে আঘাত করে থাকতে পারে? ওই তৃতীয় লোকটাই…

– আপনি যদি সেই কথা আমাকে বলতে বলেন, তবে আমি অবশ্য তাই বলব; কিন্তু আমার দৃঢ়-বিশ্বাস আমিই তার মাথায় ডাণ্ডার বাড়ি মেরেছিলাম। ওই তৃতীয় ব্যক্তি নয়।

– কোনো তৃতীয় ব্যক্তি তো ঘরে নাও থাকতে পারে ছন্দা। হয়তো ঘটনাচক্রে ঠিক তখনই বাল্বটা ফিউজ হয়ে যায়।

– না। তা যায়নি। এক নম্বর কথা: ‘সুইচ অফ’ হবার শব্দ আমি স্বকর্ণে শুনেছি। রাত তখন নিস্তব্ধ। দ্বিতীয়ত ঘর অন্ধকার হয়ে যাবার পর আমি দরজার আড়ালে সরে যাই। কমলেশ তখন নিথর হয়ে পড়ে আছে। সেই সময়ে ঘরে পর পর চার-পাঁচ বার কেউ একটা দেশলাই জ্বালাবার চেষ্টা করে। পারে না। দেশলাইটা বোধহয় ভিজে ছিল। যে জ্বালছিল সে দেশলাইয়ের দিকে তাকিয়েছিল, কিন্তু ক্ষণিক আলোর ঝলকানিতে আমি পালাবার পথটা দেখে নিয়েছিলাম। নিঃশব্দে আমি সিঁড়ি দিয়ে নামতে শুরু করলাম। ঠিক তখনই কলবেলটা একটানা বেজে উঠল।

– কলবেল? কার কলবেল?

– কমলেশেরই ডোরবেল। রাস্তায় দাঁড়িয়ে কেউ ‘কলবেল’ বাজাচ্ছিল।

– ওই রাত দেড়টার সময়?

– হ্যাঁ। লোকটা ভিতরে আসতে চাইছিল। ফলে, আমি অন্ধকারে সিঁড়ির মাঝমাঝি থমকে দাঁড়িয়ে পড়ি। আমার মনে হয় যে-লোকটা আমার পিছনে দেশলাই জ্বালার চেষ্টা করছিল সেও থমকে থেমে পড়েছে, ল্যান্ডিঙের উপর। একটু পরে আমার নজর হয়– বাড়ির পিছনের ভারা বেয়ে কে একজন নেমে যাচ্ছে! তার একটু পরেই রাস্তায় একটা মোটরবাইক স্টার্ট নেবার শব্দ হয়। তৎক্ষণাৎ ডোরবেল বাজানো বন্ধ হয়। আমি তখন বাকি কটা ধাপ নেমে দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে আসি। আশ্চর্য তখনও আমার মনে হচ্ছিল আমার পিছনে মেজানাইন-ল্যান্ডিঙে কেউ দাঁড়িয়ে আছে। লোকটা আর একবার দেশলাই জ্বালাবার চেষ্টা করে। এবং এবার সফল হয়। ঠিক তখনি আমি সদর দরজা পার হই। আমি প্রায় দৌড়ে এসে গাড়িতে উঠি। স্টার্ট দিই…

– জ্যস্ট এ মিনিট। আলোটা নিবে যাবার কত পরে তুমি গাড়িতে স্টার্ট দাও? হোয়াটস্ য়োর বেস্ট গেস্? পাঁচ-দশ সেকেন্ড, না তিন-চার মিনিট?

– মিনিট দুই-তিন হবে।

– কে ডোরবেল বাজাচ্ছিল, কে দেশলাই জ্বালাবার চেষ্টা করছিল বা ভারা বেয়ে নেমে যায়, তা তুমি জান না? আন্দাজও করতে পার না?

– আজ্ঞে না।

– ওরা তিনজন ভিন্ন-ভিন্ন লোক? নাকি একই লোককে…

– তা আমি জানি না। তবে ভারা বেয়ে যে নেমে যায় সে লোকটা দেশলাই জ্বালছিল না। কারণ সে ভারা বেয়ে নেমে যাবার পরেও লোকটা ল্যান্ডিঙে দাঁড়িয়েছিল।

– তোমার চাবির থোকাটা কখন পড়ে যায়? খবরের কাগজে যে ছবিটা ছেপেছে…

– আমি জানি না। সম্ভবত ধস্তাধস্তির সময়।

– তাহলে তুমি গাড়ির দরজা খুললে কী করে?

– আমি এত উত্তেজিত ছিলাম যে, কমলেশের বাড়ির সামনে গাড়িটা পার্ক করে আদৌ লক করিনি। দরজাটা খোলা রেখেই নেমে গেছিলাম।

– তাহলে ফিরে এসে গ্যারেজের তালাটা খুললে কী করে।

– ওটাও আমি বন্ধ করে যাইনি।

– তোমার স্পষ্ট মনে আছে?

ছন্দা একটু ভেবে নিয়ে বলল, না। মনে নেই। তবে এ ছাড়া অন্য সমাধান নেই বলেই আমি ধরে নিচ্ছি যে, গ্যারেজের তালাটা আমি বন্ধ করে যাইনি।

– একটু বুঝিয়ে বল।

– দেখুন, আমরা দুজনে একই ডব্লল গ্যারেজ ব্যবহার করি। যে-কেউ গাড়ি বার করলেই স্লাইডিং ডোরটা টেনে তালা বন্ধ করে দিই। এটা অনেকটা অভ্যাসবশত– প্রতিবর্তী প্রেরণায়। আমার স্পষ্ট মনে আছে যে, স্লাইডিং ডোরটা আমি টেনে বন্ধ করেছিলাম; কিন্তু নবতাল-তালাটা নিশ্চয়ই লাগাইনি। কারণ সে-ক্ষেত্রে ফিরে এসে আমি গাড়ি গ্যারেজ করতে পারতাম না। কারণ তার আগেই তারাতলায় আমার চাবিটা খোয়া গেছে।

– – কেন? তোমার কাছে ট্রিপ্লিকেট-চাবিটা কি ছিল না?

– ট্রিপ্লিকেট চাবি? মানে যেটা আমাদের ড্রেসিং-টেবিলের ড্রয়ারে থাকে? আপনি তার কথা জানলেন কেমন করে?

– তোমার কর্তাই বলেছিল।

– না। সেটা যেখানে ছিল সেখানেই ছিল। কাল সারা দিনে-রাতে তাতে আমি হাত দিইনি।

– তুমি নিঃসন্দেহ? অন্যমনস্কভাবে রাত্রে ড্রয়ার খুলে সেই তৃতীয় চাবির থোকাটা নিয়ে যাওনি?

– নিশ্চয় না! এ-কথা কেন?

– অলরাইট। ফিরে এসে গাড়ি গ্যারেজ করার পর – তখন তো রাত পৌনে দুটো। তুমি গ্যারেজে নবতাল তালাটা লাগাবার চেষ্টা করনি কেন?

– সে প্রশ্নই ওঠেনি। কারণ ফিরে এসে আমি স্লাইডিং পাল্লাটা টেনে বন্ধ করতে পারিনি।

– সেটাই বা কেন?

– কখনো কখনো অ্যাম্বাসাডার গাড়িটা একটু সরে নড়ে গেলে দরজাটা বন্ধ হতে চায় না। তখন হয় অ্যাম্বাসাডারটাকে স্টার্ট দিয়ে সামনের দিকে দু-এক ইঞ্চি এগিয়ে নিতে হয়, নাহলে একজন বাম্পারটা ঠেলে ধরে অন্যজন দরজাটা বন্ধ করে। একা হাতে ওটা করা যায় না। তাই ফিরে এসে নবতাল তালা লাগানোর প্রশ্নই ওঠেনি। আর সেজন্যই রাতে আমি টের পাইনি যে, আমার চাবিটা খোয়া গেছে। তাছাড়া মানসিকভাবে আমি এতই উত্তেজিত ছিলাম যে, গাড়ি দুটোর নিরাপত্তার কথা আমার মনেই ছিল না।

– তারপর কী হল?

–

– আমি ঘরে ফিরে এসে দেখলাম ও নিথর হয়ে ঘুমাচ্ছে। আমি নিঃশব্দে শাড়ি পালটে নাইট-গাউন পরে নিলাম। রিভলভারটা অন্ধকারে লুকিয়ে ফেললাম। ভীষণ নার্ভাস লাগছিল। কমলেশ বেঁচে আছে কি না আমি জানতাম না; আমি স্বপ্নেও ভাবিনি যে, সে ওই সামান্য আঘাতে মারা যাবে! তবু আমি খুবই উত্তেজিত ছিলাম। তাই স্ট্রং ঘুমের ওষুধ খেয়ে শুয়ে পড়ি। ঘুম ভাঙল বেলা আটটায়, আপনি টেলিফোন করায়।

– তুমি যা বললে তা আদ্যন্ত সত্য? কোনো কিছু গোপন করনি?

– না! কিন্তু ফিরে এসে আমি গ্যারেজের দরজাটা যে বন্ধ না করেই শুতে গেছি, এ-কথা আপনি কী করে জানলেন?

– তোমার স্বামী বলেছে। সে আক্ষরিক-অর্থে সাত-সকালে আমার বাড়িতে এসেছিল।

– কেন? আচ্ছা এ-কথা কি সত্যি যে, পুলিসে সে নিজে থেকে গেছিল?

– হ্যাঁ, সত্যি! ও নিজের ধারণা অনুযায়ী স্থির করেছিল যে, সে যা জানে তা পুলিসকে জানানো কর্তব্য!

– সেজন্য আপনি ওকে দোষ দিতে পারেন না। সেটাই ওর শিক্ষা! ইন ফ্যাক্ট, সেটাই ওর মানসিক অসুখ! আচ্ছা, ও কি আর কারও কথা আপনাকে বলেছে?

– বলেছে। ওর ধারণা খুন করেছে অন্য একজন, যাকে তুমি বাঁচাতে চাইছ –

– সে কে?

– ডক্টর প্রতুল ব্যানার্জি।

ছন্দা একটু চমকে উঠল। আমতা আমতা করে বললে, ও তাঁর সম্বন্ধে কী জানে?

– তা আমি কেমন করে জানব? তুমি বরং আমাকে বল, কাল রাত্রে ডক্টর ব্যানার্জি কি তারাতলায় ছিলেন– ওই গভীর রাত্রে!

– গুড হেভেন্স! নিশ্চয় নয়!

– তুমি নিঃসন্দেহ?

– নিশ্চয়ই।

মেট্রন দূর থেকে বলে ওঠে, এক্সকিউজ মি, স্যার। সময় শেষ হয়ে গেছে।

বাসু বলেন, অল রাইট, আর এক মিনিট!

ছন্দার দিকে ফিরে বলেন, কাল রাত্রে তুমি হাতে গ্লাভস্ পরে যাওনি নিশ্চয়?

– আজ্ঞে না। হাতে পরার গ্লাভস্ আমার কাছে আদৌ নেই। হাসপাতালে ও. টি. তে-গেলে পরি। নার্সিং-হোমের গ্লাভস্। একথা কেন?

বাসু বলেন, সংক্ষেপে এবার বল, তুমি কী এমন অপরাধ করেছিলে যেজন্য তোমার জেল হতে পারত…নাউ লুক হিয়ার…আমি তোমার অ্যাটর্নি! আমাকে বললে তা প্রিভিলেজড কম্যুনিকেশন! তাতে তোমার কোনো ক্ষতি হতে পারে না। কিন্তু আমার জানা দরকার, কমলেশ তোমাকে কী নিয়ে ভয় দেখাচ্ছিল?

ছন্দা দৃঢ়স্বরে মাথা নেড়ে বললে, সরি স্যার! বিশেষ কারণে সে-কথা আপনাকে আমি জানাতে পারি না।

– তুমি কি বলতে চাও যে, সে গোপন কথাটা তোমার একার নয়?

– আপনার সঙ্গে কথা চালানোই বিপদ।…ওই দেখুন মেট্রন এগিয়ে আসছে। আমার যা বলার ছিল, বলেছি।

– অলরাইট! এবার শেষ কথাটা বলি। আমার অনুপস্থিতিতে পুলিসের কাছে কোনও জবানবন্দি দেবে না। মনে থাকবে?

– থাকবে!