যাদু এ তো বড় রঙ্গ-র কাঁটা – ২০

কুড়ি

নবনীতা নিশ্চুপ বসে রইল।

ইন্সপেক্টর দাশ তাগাদা দেয়, কী হল? হ্যাঁ, না, কিছু একটা বলুন?

নবনীতার হয়ে বাসু-সাহেব নিজেই বলে ওঠেন, না নিখিল, এমন মারাত্মক শত্রুর কথা ও মনে করতে পারছে না। কোনো আন্দাজও করতে পারছে না। আমি আগেও প্রশ্ন করেছিলাম, কিন্তু ‘সোনালি স্বপন’ এস্ট্যাবলিশমেন্টের ভিতর এমন কোন জাতশত্রুকে ও চিহ্নিত করতে পারছে না। আমি বরং অন্যদিক থেকে প্রশ্নটা ট্যাক্ক করি।

নবনীতার দিকে ফিরে বললেন, আমাদের কেমিস্টের কথা শুনে ডিটেক্টিভদের মনে হয়েছে যে লোকটা চকলেট-এ বিষ মিশিয়েছে সেই আততায়ীর চকলেট কারখানায় কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে। কারণ প্রথমে চকলেট-ক্যান্ডির মাথা থেকে নিপুণ হাতে ব্লেড দিয়ে ক্রীমটা এমনভাবে কেটে নেওয়া হয়েছে যাতে সেটা ভেঙে বা ফেটে না যায়। তারপর ক্রীমের টুপিটা সরিয়ে চকলেট-কেকের মাঝখানে ড্রিলার দিয়ে সিকি ইঞ্চি ব্যাসের একটা ফুটোও তাকে নিপুণ হাতে করতে হয়েছে– নজর রেখে যে কেকটা যেন ভেঙে না যায়। এরপর ভেরোনাল ট্যাবলেট চূর্ণ মিশিয়ে মেরামত করে ক্রীমের টুপিটা আবার পরিয়ে কাপে বসানো হয়েছে, যাতে বাইরে থেকে বোঝা না যায়। লোকটা রীতিমত এক্সপার্ট। বারোটা চকলেটের ভিতর অন্তত শেষের ছটার একটাও ফেটে যায়নি।

নবনীতার সিগ্রেটটা শেষ হয়ে গিয়েছিল। সেটা সে অ্যাশট্রেতে গুঁজে দিয়ে বললে, এসব কথা আমাকে বলছেন কেন?

– না, মানে, আমি তোমার ওপিনিয়নটা চাইছি। যে তোমাকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করতে চেয়েছে সে একজন অভিজ্ঞ চকলেট-কর্মী। তাই নয়?

– তা আমি কেমন করে জানব?

– বাঃ। তুমিই তো জানবে নীতা। তুমি নিজেই যে কয়েক মাস চকলেট কারখানায় কাজ করেছ। সে কথাই না বলেছিলে সেদিন?

নবনীতা এবার সামলে নিয়ে বলে, হ্যাঁ, লোকটার এলেম আছে। আমি যে ছয়টা চকলেট খাই সেগুলোর মধ্যেও কোনটা ভাঙা বা ফাটা ছিল না।

– অথচ লোকটা তোমাকে হত্যা করতে চায়নি।

– চায়নি? কেমন করে বুঝলেন? তবে বিষ মিশিয়েছিল কেন?

– সে কেমন করে জানবে যে, তুমি আধ ঘণ্টার মধ্যে ছয়-ছয়টা চকলেট-ক্যান্ডি খেয়ে ফেলবে? প্রথম ক্যান্ডিটা তো তুমি বাড়িতে পৌঁছানোর পর খাও। তাই তো বলেছিলে সেদিন?

– হ্যাঁ, সোনালি স্বপন-এ বা বাসে আমি খুলে দেখিনি প্যাকেটে কী আছে।

– কারেক্ট। কিন্তু আমাকে যখন ফোন করতে শুরু কর ততক্ষণে তুমি নিশ্চয় বুঝতে পেরেছিলে যে, চকলেটগুলোতে বিষ মেশানো ছিল? তখন তো তুমি ঘুমে চুলে ঢুলে পড়ছিলে।

– আজ্ঞে হ্যাঁ। ততক্ষণে আমি সে কথা বুঝতে পেরেছিলাম।

– কিন্তু আমার টেলিফোন নাম্বারটা তুমি পেলে কোথায়?

নবনীতা রুখে ওঠে, আপনি একজন বিখ্যাত ব্যারিস্টার, স্যার। আপনার নাম-ঠিকানা, টেলিফোন নাম্বার তো গাইড-বইতেই আছে।

– কারেক্ট। আমার প্রশ্নটা তা নয়। আমি ব্যাপারটা অন্য দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখছি। তুমি সাতটা নাগাদ ‘সোনালি স্বপন’-এ ওই প্যাকেটটা পাও। সাড়ে সাতটার মধ্যে বাড়িতে চলে এসেছিলে। পাঁচ সাত মিনিট কেটে যায় মুখ-হাত ধুতে। তারপর সাতটা পঁয়ত্রিশ থেকে পঁবিশ মিনিটের মধ্যে ছয়টা চকলেট ক্যান্ডি খেয়েছিল – কারণ আমাকে ফোন করেছিলে ঠিক আটটায় তুমি ‘সোনালি স্বপন’-এ অন্তত দুই পেগ ভঙ্কা খেয়েছিলে, যদি না আগে ও দু-এক পেগ খেয়ে থাক। ফলে একটু টিপ্সসি ছিলেই। মদের নেশায় মিষ্টি ক্ষতিকারক। তার উপর চকলেট ক্যান্ডির ঘুমপাড়ানিয়া নেশাতেও তুমি ঢলে পড়ছিলে। তুমি বুঝতে পেরেছিলে যে, চকলেটে বিষ আছে। তোমার মাথা ঘুরছিল। এমন অবস্থায় তোমার পক্ষে কোনটা স্বাভাবিক?

নবনীতা অবাক চোখে তাকিয়ে বলে, কোনটা?

– আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়া। সবার আগে টেলিফোন ডাইরেক্টরির প্রথম পাতায় যেসব এমার্জেন্সি নম্বর আছে– পুলিসের, অ্যাম্বুলেন্সের, সেই জাতের ফোন নম্বর ডায়াল করা। অথবা তোমার পরিচিত কোন ডাক্তারকে। সব চেয়ে বড় সম্ভাবনা দরজার ইয়েল লকটা খুলে বাইরে ছুটে বেরিয়ে এসে সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে ঊর্ধ্বমুখে চিৎকার করে তিনতলার মেসোমশাইকে ডাকা। সেই মুহূর্তে তুমি ডাইরেক্টরি হাতড়ে নম্বর খুঁজে খুঁজে আমাকে ফোন করলে কেন, নীতা?

– আপনার অ্যাপয়েন্টমেন্টটা রাখতে পারব না, এই কথা জানাতেই ফোনটা করেছিলাম। কিন্তু ফোনটা করতে করতে যখন মনে হল আমার শরীরে বিষক্রিয়া হচ্ছে তখন তো আমি আপনাকেই অনুরোধ করলাম অ্যাম্বুলেন্স ডাকতে।

কেউ কোন জবাব দিল না। একটা অদ্ভুত স্তব্ধতা ঘিরে ধরল ঘরটাকে। নীতা এদিক-ওদিক তাকিয়ে বললে, কী হল? কেউ কিছু বলুন?

বাসু বলেন এ পর্যন্ত যেটুকু প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আমি বরং তার একটা চুম্বকসার দাখিল করি। তা থেকে পরবর্তী যুক্তি-তর্ক-বিশ্লেষণের জন্য হয়তো নতুন সূত্র খুঁজে পাওয়া যাবে। যে লোকটা তোমাকে বিষাক্ত চকলেটের প্যাকেট পাঠিয়েছে তার ‘সোনালী স্বপন’ রেস্তোরাঁয় বিভিন্ন অংশে যাতায়াত আছে– ম্যানেজারের ঘর, গুদামঘর। ম্যানেজারের টাইপ-রাইটার ব্যবহারও করে– ফলে, সে ওই রেস্তোরাঁর ভিতরের কেউ একজন। দ্বিতীয়ত, তার চকলেট ফ্যাট্রিতে কাজ করার অভিজ্ঞতাও বিলক্ষণ আছে, না হলে অমন সুনিপুণভাবে প্রতিটি চকলেটে সে বিষ মেশাতে পারত না। তৃতীয়ত, লোকটা তোমাকে খুন করতে চায়নি, কারণ তুমি যে আধঘণ্টার ভিতর ছয়টা চকলেট খেয়ে ফেলবে এটা সে কিছুতেই আন্দাজ করতে পারে না। তুমি যদি দৈনিক তিনটে করে চারদিনে বারেটা বিষাক্ত ক্যান্ডি খেতে তাহলে রাতে গাঢ় ঘুম ছাড়া আর কিছুই হত না তোমার। সবটা মিলিয়ে আমি দেখছি, এ পৃথিবীতে একটি মাত্র ব্যক্তিই এই সবগুলি শর্ত পূরণ করতে পারে – যে ‘সোনালি স্বপন’-এর সর্বত্র যেতে পারে, যে চকলেট কারখানায় কাজ করেছে এবং যে তোমাকে হত্যা করতে চায় না বটে, তবু তোমাকে বিষাক্ত খাদ্য পাঠিয়েছে একটা বিশেষ হেতুতে।

নবনীতা রুখে ওঠে, এমন লোক আপনার নজরে পড়েছে?

– হ্যাঁ– তুমি নিজে।

নবনীতা চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়, আবার বসে পড়ে। অস্ফুটে বলে, বাঃ! আমি নিজেই!

– হ্যাঁ, নীতা। এছাড়া আর কোন সমাধান নেই।তুমিই ‘সোনালি স্বপন’-এর টাইপ-রাইটারে নিজের নাম টাইপ করেছ। চকলেটগুলো ট্যাম্পার করেছ, দোকানের গুদাম থেকে শাদা র‍্যাপার কাগজে প্যাকেটটা জড়িয়েছ। তার উপর আঠা দিয়ে নিজের নাম লেখা কাগজটা সেঁটেছ। অন্তত আটচল্লিশ ঘণ্টা আগে। কাকলি তোমাকে ওই ডায়েরিটা উপহার দেওয়ায় তোমার সুযোগ হয়ে গেল। ভাবখানা, তুমি যেন ধরে নিয়েছ চকলেট-ক্যান্ডি কাকলি পাঠিয়েছে।

নবনীতা ব্যঙ্গোক্তি করে ওঠে, বাঃ! কী চমৎকার সমাধান। আমি নিজেই আমাকে বিষাক্ত চকলেট পাঠিয়ে তা গবগব করে খেয়েছি। কেন? আমি কি পাগল?

ইন্সপেক্টর দাশ কী একটা কথা বলতে যাচ্ছিল। তাকে ধমকে ওঠেন বাসু, শাট আপ। তোমার সময় এখনো আসেনি ইন্সপেক্টর দাশ। শী ইজ স্টিল মাই গেম।

তারপর নবনীতার দিকে ফিরে বললেন, না, নীতা। তুমি বিষাক্ত ক্যান্ডি একটাও খাওনি।

– ও! খাইনি। নার্সিংহোমের ডাক্তার আমার স্টম্যাক পাম্প করে চকলেট আর ভেরোনাল পাননি? আমি ডাক্তারকেও বোকা বানিয়েছি? টেম্পারেচার বাড়িয়ে, ব্লাডপ্রেশার নামিয়ে। নাকি তিনি মিথ্যা কথা বলছেন? কিন্তু কেন? কেন এসব করেছি আমি বা ডাক্তারবাবু?

– কেন করেছ সে প্রসঙ্গে পরে আসছি। আপাতত বলি, – না, বিষাক্ত ক্যান্ডি তুমি খাওনি। সময় ও সুযোগমতো মেজারিং গ্লাসে মেপে অনেকটা ভেরোনাল অবশ্য তুমি খেয়েছিলে। আর চকলেট– যা বিষাক্ত নয়।

নবনীতা উঠে দাঁড়ায়। বলে, আপনাদের সৌজন্য সাক্ষাতের জন্য ধন্যবাদ। এবার দয়া করে আসুন। কারণ আমার একটা অ্যাপয়েন্টমেন্ট আছে। আমি বেরুব।

বাসু সে কথায় কান না দিয়ে একই ভঙ্গিতে বলেন, তোমার জবানবন্দি অনুসারে তুমি এঘরে পৌঁছবার পর, রুদ্ধদ্বার কক্ষে চকলেট-ক্যান্ডিগুলো খেতে শুরু কর। আধ ঘণ্টায় ছয়টা চকলেট খেয়েছ তুমি! ফর য়োর ইনফরমেশন, তুমি নার্সিং-হোমে চলে যাবার পরে আমরা তোমার ঘর, তোমার ওয়েস্ট পেপার বাস্কেট, কিচেনের ময়লাফেলা টুকরি এবং জানলার বাইরে গলিপথটা তন্ন তন্ন করে খুঁজেছি। কিন্তু কোথাও ছয়টা কাগজের কাপের একটাও অংশ খুঁজে পাইনি। তুমি কি বলতে চাও যে, চকলেটের সঙ্গে কাগজের কাপগুলোও তুমি খেয়ে ফেলেছিলে? তাও কিন্তু তোমার স্টম্যাক ওয়াশে পাননি ডক্টর ব্যানার্জি।

নবনীতা অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকে।

বাসু বলেন, এটা তোমার প্রকাণ্ড ভুল। দু-নম্বর ভুল হচ্ছে, আমার সঙ্গে কথোপকথনের শেষে টেলিফোনের রিসিভারটা স্বস্থানে বসিয়ে দেওয়া। তখনো তোমার পুরো জ্ঞান ছিল। তোমার অন্তত উচিত ছিল আঁচল দিয়ে টেলিফোনের ফিঙ্গার-প্রিন্টগুলো মুছে দেওয়া। কারণ অন্য কোন লোক, যদি তুমি অজ্ঞান হয়ে যাবার পর তোমার ঘরে ঢোকে – ডুপ্লিকেট বা ট্রিপলিকেট চাবি দিয়ে দোর খোলে, তাহলে – সে আততায়ী হলে টেলিফোনটা ক্র্যাডলে বসিয়ে যাবে না। যদি নিতান্তই যায়, তাহলে সব প্রিঙ্গার-প্রিন্ট মুছে যাবে। তা সে যায়নি। তার মানে, তুমি অজ্ঞান হয়ে যাবার পর অন্য কেউ তোমার ঘরে আসেনি। তুমি নিজেই অভ্যাসবশে ওই টেলিফোনের জঙ্গম অংশটা তার স্থাবর ধারক অংশে বসিয়ে দিয়েছিলে। তাতে শুধুমাত্র তোমার ফিঙ্গারপ্রিন্টই পাওয়া গেছে। আততায়ীর নয়।

নবনীতা একে একে সকলের দিকে তাকিয়ে দেখল। তার মনে হল, ওর ঘরে পাশাপাশি যারা বসে আছে তারা রক্তমাংসের জীব নয়, মাদাম তুসোর মোমের নিষ্প্রাণ মূর্তি।

রীতিমতো নার্ভাস হয়ে সে আবার একটা সিগ্রেট ধরালো। জ্বলন্ত কাঠিটা নাড়তে নাড়তে ফেলে দিল অ্যাশট্রেতে। এখন সে বাসু-সাহেবের চোখের দিকে তাকাতে পারছে না। নতনেত্রে প্রায় স্বগতোক্তির মতো বললে, আপনি বদ্ধ উন্মাদ! আমি নিজেই কেন নিজেকে বিষ মাখানো চকলেট পাঠাব? আমার উদ্দেশ্যটা কী?

বাসু-সাহেব সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে বললেন, কারণ তোমার একটা জবুর অ্যালেবাই দরকার ছিল।

– অ্যালেবাই! কীসের অ্যালেবাই?

– জীবন হালদারকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেবার।

এতক্ষণে মেয়েটি ওঁর চোখে চোখে তাকায়। বলে, ও, ও! বুঝেছি। তার মানে আপনি একটা থিয়োরি খাড়া করেছেন যে, আপনার ধনী মক্কেল নয়, আমিই খুনটা করেছি। তাই নয়? কিন্তু খুনটা হয়েছে মিস কাকলি দত্তের রিভলভারে। আপনি ভুলে গেছেন যে, চকলেটে যখন ভেরোনাল মেশানো হয়– তা সে যেই মেশাক, তখনো আমার সঙ্গে কাকলি দত্তের আলাপই হয়নি। তার রিভলভার আমি পেলাম কোথায়? কীভাবে?

বাসু ধীরে-সুস্থে পাইপটা ধরালেন। বললেন, বিশ্বাস কর নীতা, এ ঘরের ভিতর অন্তত তিনজন তা জানে। একজন তুমি, একজন ইন্সপেক্টার দাশ, আর একজন আমি। তুমিই সেটা আর সবাইকে জানাও।

নীতা নির্বাক কয়েকটা মুহূর্ত তাকিয়ে থাকল। তারপর ও প্রসঙ্গ এড়িয়ে বলল, কিন্তু জীবন হালদার খুন হয়েছে – ওই পুলিসের ডাক্তারের মতে রাত নটার সময়, আর আপনার হিসাবমতো আমি আপনাকে এ ঘর থেকে ফোন করি রাত আটটায়; আপনি এই রুদ্ধদ্বার ঘরের দরজা ডুপলিকেট চাবি দিয়ে খুলে আমাকে উদ্ধার করেন রাত নটা পঁয়তাল্লিশে। টাইম ফ্যাক্টরে একটু গড়বড় হয়ে যাচ্ছে না, স্যার? আপনি নিজেই সাক্ষী যে, জীবন হালদারের মৃত্যুর সময়ে আমি এই রুদ্ধদ্বার ঘরে অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছি।

– না, নীতা; সেটাই প্রমাণ করার আপ্রাণ চেষ্টা তুমি করেছিলে– বজ্র-বাঁধুনি অ্যালেবাই– কিন্তু কয়েকটা ফসকা গেরো পড়ায় সেটা আটকালো না। অ্যালেবাইটা দাঁড়াচ্ছে না।

– ফসকা গেরো মানে?

– ওই টেলিফোনের রিসিভারে টেলিফোনটা ফিরে যাওয়া, ওই ক্যান্ডি-চকলেটের কাগজগুলো তোমার ঘরে ফেলে না রাখা, ওই ‘সোনালী স্বপন’-এর কাগজ-আঠা-টাইপ-রাইটারব্যবহার করা ইত্যাদি ইত্যাদি।

নবনীতা মাথা ঝাঁকিয়ে বলে, জীবন হালদারকে আমি খুন করব কেন? ওই শেয়ারের গোছাটার জন্য? তা তো চুরি করেছে আপনার মক্কেল।

– না, নীতা। জীবন হালদারকে তুমি খুন করতে চেয়েছিলে ভিন্ন কারণে। তার হাত ধরেই তুমি একদিন গ্রাম থেকে শহরে এসেছিলে, অনেক ‘সোনালি স্বপ্ন’ বুকে করে। এসে দেখলে এ এক আজীব ‘সোনালি স্বপন’– যেখানে তোমাকে সাকীর চরিত্রে অভিনয় করতে বলা হল। জীবন হালদার তোমাকে মদ ধরালো, সিগ্রেট ধরালো, ড্রাগ ধরাবার চেষ্টা নিশ্চয় করেছিল, পেরেছিল কিনা তা তুমিই জানো। কারণ তোমার দেহটা ভোগ করার পর সে চেয়েছিল তোমার অকুণ্ঠ বশ্যতা অথবা মৃত্যু। তুমি অপ্রতিবাদ বশ্যতা মানতে রাজি হলে না– ‘কলগার্ল’ হতে, দেহোপজীবিনী হতে স্বীকৃতা হলে না– জীবন তোমাকে ত্যাগ করে মোমিনপুরের বাসায় গিয়ে ডেরাডাণ্ডা গাড়ল।

নবনীতা রুখে ওঠে, ওসব অবান্তর অবোল-তাবোল কথা বাদ দিয়ে বলুন, রাত নয়টায় আমি কী ভাবে….

– বলছি নীতা। অত অধীর হয়ো না। ওতে তোমার গিল্ট-কনশাস মনের প্রতিচ্ছবিই ধরা পড়ছে। তুমি যদি এসব না করে থাক তাহলে নির্লিপ্তভাবে গল্পটা শুনেই যাও না। উত্তেজিত হচ্ছ কেন? এসব সত্য না হলে আমি তো প্রমাণ করতে পারব না।

– কী সব সত্য না হলে?

বাসু-সাহেব একই ভঙ্গিতে বলে চলেন, কেন তুমি জীবনকে খুন করতে আগ্রহী তোমার সেই মোটিভটার কথা বলেছি। এবার বলি কাজ হাসিলের পন্থাটা: ‘মোডাস অপারেন্ডি’। জীবন হালদার তোমার জীবনে শনির মতো প্রবেশ করে সব কিছু ছারখার করে দিয়েছে। গ্রামে বা সমাজে ফিরে যাবার পথ তোমার নেই। তুমি বারে বারে শিকল কেটে বার হতে চেয়েছ – চকলেট তৈরির কারখানায়, অন্যত্র; কিন্তু ফিরে আসতে হয়েছে ‘সোনালি স্বপন’-এর কারাগারে। এখানে কেউ তোমার দিকে হাত বাড়াতে সাহস পায় না – কারণ সবাই জানে: তুমি জীবন হালদারের সম্পত্তি। অথচ বাস্তবে তুমি তা নও। এজন্য তুমি চরম প্রতিশোধ নিতে চাইলে। কিন্তু জীবন হালদার মস্তান-পার্টির ‘গুরু’। সর্বদা দেহরক্ষী পরিবেষ্টিত, সর্বদাই হাতিয়ার-বন্। সে তোমার ঘরেও আসে না যে খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে তাকে খতম করবে। এই সময় তোমাকে দেওয়া হল একটা নতুন কাজ। যাদুগোপালকে কব্জা করে শেয়ারগুলো হাতানো। তাহলে তুমি নাকি মুনাফার টেন পার্সেন্ট পাবে। কী দুর্ভাগ্যের কথা! তুমিই যাদুগোপালকে তাতিয়ে শেয়ারগুলো আদায় করে দিলে, অথচ জীবন হালদার তোমাকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখালো। বরং খবর পেলে সে নতুন পুতুল খেলায় মেতেছে। কাকলিকে তুমি বলেছিলে, মেয়েটি জীবন হালদারের ফ্ল্যাটে সারারাত ধরে ইন্টারভিউ দেবে।

বাসু-সাহেব দম নিতে থামলেন। আসলে তাঁর পাইপে আগুনটা নিবে গেছিল। সেটা ধরিয়ে নিতে বিশ সেকেন্ড সময় লাগলো। কিন্তু কেউ কোন শব্দ করল না। পাইপে একটা টান দিয়ে বললেন: পর পর ছপ্পড় ফুঁড়ে-দু-দুটো সুযোগ এসে গেল তোমার হাতে – এক নম্বর রিভলভারটা, দু নম্বর সময়মতো পাঠানো কাকলির ডায়েরি এবং আমার সঙ্গে অ্যাপয়েন্টমেন্ট!

এবার কাকলি কথা বলে উঠে, রিভলভার বলতে? কোন্ রিভলভার?

বাসু এদিকে ফিরে বললেন, তোমারটাই কাকলি। সেটা অনেকদিন আগেই যাদুগোপাল তোমার দিদির বেড-লকার থেকে হস্তগত করেছে। লোডেড অবস্থায় ওটা নিয়েই সে ঘোরাফেরা করত। তুমি বা তোমার দিদি টের পাওনি। ‘বিজলি’ সিনেমার সামনে যেদিন অ্যাকসিডেন্ট হয় সেদিনও লোডেড রিভলভারটা ছিল ড্যাশ-বোর্ডের গ্লাভ্ কম্পার্টমেন্ট-এ। কলিশনের ধাক্কায় ওই পাল্লাটা খুলে যায়। যাদুগোপাল তখন রাস্তায় নেমে পুলিস, জনতা এবং অপর গাড়ির মালিকের সঙ্গে তকরার করছে। নবনীতা বসেছিল ড্রাইভারের পাশের সীটে। তার হঠাৎ নজরে পড়ে যায় যন্ত্রটা। দ্রুত হাতে সে ওটা নিজের ব্যাগে ভরে নেয়।

সুজাতা বলে, আপনি এত কথা কেমন করে জানলেন?

– আস্ক নিখিল। ধরা পড়ার পর যাদুগোপাল কনফেস করেছে। রিভলভারে কী করে তার আঙুলের ছাপ এল তার কৈফিয়ৎ দিতে গিয়ে। সে স্বীকার করেছে, অ্যাকসিডেন্টের পর ওর গাড়ির লাইট ভাঙে, মাডগার্ড তুবড়ে যায়, কিন্তু গাড়িটা চালু ছিল। পুলিসের অনুমতি পেয়ে সে গাড়িটা রিপেয়ার-শপে জমা দিতে গিয়ে টের পায় রিভলভারটা খোয়া গেছে। ও সন্দেহ করেনি যে, নবনীতা সেটা নিয়েছে। ব্যাপারটা সম্পূর্ণ চেপে যাওয়াটাই ও বুদ্ধিমানের কাজ বলে মনে করেছে। কারণ ওই রিভলভার ‘ক্যারি’ করার অধিকার ওর ছিল না। আর মালটা ওর চোরাই – নিজের নয়, শালীর।

হঠাৎ নিখিলের দিকে ফিরে বলেন, নাকি যাদুগোপাল বুঝতে পেরেছিল যে, ধাক্কা লেগে গ্লাভস কম্পার্টমেন্টের পাল্লাটা খুলে যায় আর নীতাই সেটা নিয়েছে?

ইন্সপেক্টর দাশ বললে, বুঝতে পেরে থাকলেও সে কথা স্বীকার করেনি। সে শুধু বলেছিল: ওই দিন যন্ত্রটা খোয়া যায়। রিভলভারে তার আঙুলের ছাপ কী করে এল এটুকুই তো সে কৈফিয়তে বোঝাচ্ছিল।

বাসু বললেন, কী নবনীতা, তুমি স্বীকার করছ এ কথা?

নবনীতা বলল, আপনি কোন অধিকারে আমার বাড়িতে চড়াও হয়ে এসব আবোল-তাবোল প্রশ্ন করছেন?

বাসু-সাহেব জবাব দেবার আগেই ইন্সপেক্টর দাশ বলে, আর ওঁর বদলে প্রশ্নটা যদি আমি করি?

নবনীতা উঠে দাঁড়ায়। বলে, সেক্ষেত্রে আমার নামে আগে ওয়ারেন্ট বের করে আনুন। আমাকে অ্যারেস্ট করুন। নাউ, লেডিস অ্যান্ড জেন্টেলমেন! ঘরটা আমার! আপনারা এবার আসুন। আমি একটু বেরুব।

উত্তেজনায় নবনীতা দাঁড়িয়ে পড়েছিল। আর সবাই যে-যেমন বসে।

ইন্সপেক্টর দাশ গম্ভীর স্বরে বললে, মিস রায়, আপনি যদি আমাকে বাধ্য করেন তাহলে আসুরিক চিকিৎসার ব্যবস্থাই আমাকে করতে হবে। অর্থাৎ এখান থেকে টেলিফোন করে আধঘণ্টার মধ্যে লালবাজার থেকে আপনার বডি-ওয়ারেন্ট করিয়ে এনে। আমি সৌজন্যবোধে সেটা এড়িয়ে যেতে চাইছিলাম। কারণ হয়তো আপনি ঘটনাটায় জড়িয়ে পড়েছেন মাত্র। অর্থাৎ নির্দোষ। এভাবে হাতকড়া পরিয়ে পুলিস হাজতে আপনাকে টেনে নিয়ে যাওয়াটা সেক্ষেত্রে নিরর্থক। অপরপক্ষে মিস্টার বাসু যা বলছেন তা লজিকাল, যুক্তিপূর্ণ ঘটনা-পরম্পরা। আপনি যদি আপনার তরফে যা বক্তব্য, বাস্তবে যা সত্যি সত্যি ঘটেছিল সেটুকু স্বেচ্ছায় বলেন, তাহলে এই আসুরিক চিকিৎসার ব্যবস্থা আমাকে করতে হবে না। এই আর কি। বসুন।

নবনীতা ওর শেষ নির্দেশটা অগ্রাহ্য করে। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই বলে, ওঁর ঐ আষাঢ়ে গল্পের কৈফিয়ৎ দিতে গিয়ে আমি নিজেই নিজেকে মামলায় জড়িয়ে ফেলি এটাই আপনি চাইছেন। সেটুকু বুঝবার মতো বুদ্ধি আমার ঘটে আছে, মিস্টার দাশ। আমি কোন কথা বলব না।

কেউ কোন জবাব দেয় না। নবনীতা দাঁড়িয়ে। বাকি সবাই মেদিনীনিবদ্ধ দৃষ্টিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বসে।

মিনিটখানেক পরে নবনীতাই আবার বলে ওঠে, এটা কী হচ্ছে? নতুন ধরনের ‘থার্ড ডিগ্রী’? আমার ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টির চেষ্টা? আপনাদের আর কারও কিছু বক্তব্য না থাকলে যে-যার বাড়ি যান।

ইন্সপেক্টর দাশ বললেন, আমরা প্রতীক্ষা করছি নবনীতা দেবী। আপনার জবাবের, আপনার কৈফিয়তের, আপনি কেন নিজেই নিজেকে বিষাক্ত চকলেটগুলো প্রেজেন্ট করেছিলেন?

নবনীতা রুখে ওঠে, বেশ, প্রতীক্ষা করুন। শবরীর মতো। জন্মজন্মান্তর। আমি কোন জবাব দেব না।

এবার সে বসে পড়ে তার চেয়ারে।

বাসু-সাহেব এই অচলাবস্থায় আর একবার নৌকার হালটার দিকে হাত বাড়ালেন। বললেন, শোন নবনীতা, তুমি আমার থিয়েটারিটাকে আষাঢ়ে গল্প বলেছ। তার দুটো হেতু হতে পারে। প্রথমত: যেহেতু তুমি নিজেই কাহিনীটার মধ্যমণি তাই তা তোমার কাছে বাস্তবে আজগুবি না লাগলেও তাই লাগছে বলে মতামত দিয়েছ। দ্বিতীয় সম্ভাবনা: আমার গল্পটা শেষ করার সুযোগ আমি পাইনি। গল্পের মাঝখানেই নানান কথাবার্তা উঠে পড়ায় কাহিনীটা অসমাপ্ত আছে। হয়তো, সেজন্যই এটাকে তোমার আষাঢ়ে আজগুবি লাগছে। তাই আমার প্রস্তাব : আমার গোটা গল্পটা শোন। না, না, কথা বল না নবনীতা, কোনও কথা বল না। কথা যত বলবে ততই তুমি নিজেই নিজেকে হয়তো ‘ইনক্রিমিনেট’ করে ফেলবে – নিজের ফাঁদেই নিজে জড়িয়ে পড়বে। বোবার তো আর শত্রু নেই। তুমি নিশ্চুপ বাকি গল্পটা শুনে যাও।

রিভলভারটা হস্তগত হবার পর তুমি বিষাক্ত চকলেটটা বানাও। নাকি তার আগে? কী জানি! তার প্রমাণ নেই। আমার ধারণা, রিভলভারটা হস্তগত হবার পরেই তুমি অ্যালেবাই-এর জন্য প্রস্তুত হও – ঐ চকলেটগুলো কিনে আনো। তুমি ঐ বাক্সের নিচের সারির ছয়টি চকলেটের প্রতিটিতে পাঁচ গ্রেন করে ভেরোনাল মেশাও। ওপরের ছয়টিতে নয়। আই রিপীট, ওপরের ছয়টি চকলেটে নয়। যেদিন সন্ধ্যায় কাকলি তোমার সঙ্গে ‘সোনালি স্বপন’-এ দেখা করে সেদিনই সকালে তুমি– এটাও আমার আন্দাজ – দু-দুটি মানসিক আঘাত পেয়েছিলে। প্রথমত, জীবন হালদার পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক জানিয়ে দিয়েছিল শেয়ারভ্যালুর প্রতিশ্রুত দশ-পার্সেন্ট বখরা সে তোমাকে দেবে না। দ্বিতীয়ত, কোন একটি সূত্রে তুমি জানতে পেরেছিলে তোমার স্থলাভিষিক্ত হতে বসেছে যে নবযৌবনা সে সেই রাত্রেই জীবন মস্তানের মোমিনপুরের ডেন-এ একরাতের জন্য ইন্টারভিয়ু দিতে আসছে। এ জন্যই তোমার মনমেজাজ খারাপ ছিল। কাকলির সঙ্গে পরিচয় হবার আগেই তুমি কয়েক পেগ ভদ্ভা পান করে বুঁদ হয়ে বসেছিলে। কাকলি যখন তোমাকে অনুরোধ করল সাড়ে নটার সময় আমার চেম্বারে আসতে, আমার বিশ্বাস তখনই তুমি সিদ্ধান্তটা নিয়ে ফেল। কাকলির ডায়েরি পাবার পর তুমি ইলিয়ট রোডে চলে এসেছিলে। সম্ভবত জীবনকে একটা টেলিফোন করে জেনে নিতে.যে, সে মোমিনপুরের বাসায় আছে কিনা, একা আছে কিনা। হয়তো তুমি ওখানে গিয়ে মুখোমুখি কথা বলতে চেয়েছিলে, জীবন দৃঢ়স্বরে তোমাকে নিষেধ করে। তাতেই তুমি বুঝতে পার, জীবন তার নতুন খেলনার জন্য প্রতীক্ষায় আছে: যে মেয়েটি সারারাত ইন্টারভিউ দিতে আসছে। এ বিষয়ে নিশ্চিন্ত হয়ে তুমি বুঝতে পারলে যে, জীবন নিশ্চয় একাই আছে, দেহরক্ষী পরিবেষ্টিত হয়ে কেউ নয়া চাকের মধু আস্বাদন করে না। তুমি দেখলে ঘড়িতে তখন আটটা বাজতে পাঁচ। টেলিফোন ডাইরেক্টরি হাতড়ে আমার নম্বর বের করে আমাকে ফোন করলে। পতন ও মূর্ছার অভিনয় শেষ করে অভ্যাসবশে টেলিফোনটা ক্র্যাডলে রেখে তুমি ঘর ছেড়ে বার হলে। সঙ্গে যাদুগোপালের গাড়ি-থেকে-উদ্ধার করা রিভলভারটা, তোমার ভ্যানিটি ব্যাগে ছয়টা নির্দোষ চকলেট, একটা পকেট-টর্চ আর একটা ছোট্ট শিশিতে ষাট-গ্রেন ভেরোনাল। ট্যাক্সিতে আসতে আসতে ছয়টা নির্দোষ চকলেট তুমি খেয়ে ফেল, জানলা দিয়ে পেপার কাপগুলো ছুঁড়ে ফেলতে ফেলতে। জীবনের বাড়ি থেকে বেশ কিছুটা দূরে ট্যাক্সি থামিয়ে ভাড়া মিটিয়ে দিয়েছিলে। যাতে, পরে পুলিস অফিসার ট্যাক্সিচালককে সাক্ষী হিসাবে আদালতে না তুলতে পারে। তারপর অন্ধকারে টর্চ জ্বেলে তুমি ওর বাসায় গিয়েছিলে। সেখানে কী হয়েছিল তার বর্ণনা করা আমার পক্ষে অসম্ভব। মোটকথা, মৃত জীবন টেবিলের ওপর উপুড় হয়ে পড়ে থাকা অবস্থায় তুমি ওর ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আস।রিভলভারটা অকুস্থলে ফেলে রেখে। নিজের আঙুলের ছাপ মুছে দিয়ে এবার রাস্তায় এসে আবার একটি ট্যাক্সি ধর। ট্যাক্সিতে উঠেই ষাট গ্রেন ভেরোনাল গলায় ঢেলে শিশিটা ফেলে দাও। ইলিয়ট রোডে পৌঁছে সাড়ে নয়টা নাগাদ যখন ট্যাক্সির ভাড়া মেটাচ্ছ তখন তোমার ঘুম-ঘুম পেতে সবে শুরু করেছে। দ্বিতলে উঠে এসে তালা খুলে ঘরে ঢোক। সব কিছু ছড়িয়ে ছিটিয়ে কার্পেটে লুটিয়ে পড়।….তুমি জানতে যে, তোমার ঠিকানা আমি জানি না। সাড়ে নটার আগে কাকলির পাত্তাও আমি পাব না। কাকলির পাত্তা পেলে বড় জোর ‘সোনালি স্বপন’-এর ঠিকানাটা জোগাড় হবে, কিন্তু সেখানে কেউ তোমার বাড়ির ঠিকানা জানে না। ফলে, তোমাকে উদ্ধার করতে করতে মধ্যরাত্রি অতিক্রান্ত হয়ে যাবে। তার মানে, রাত আটটা থেকে সারারাতের জন্য তোমার বজ্রবাঁধুনি অ্যালেবাই পাক্কা! ব্যারিস্টার পি. কে. বাসুর অ্যালেবাই। অটোপ্সি-সার্জেন মৃত্যুর সময় আটটা থেকে বারোটা যাই বলুন না কেন।