বাইশ
নবনীতা ওদিকে তাকিয়ে দেখল না পর্যন্ত। ওঁদের যেন কোন পাত্তাই দিল না। কৌশিক-সুজাতার দিকে ফিরে বলল, শুনুন, বুঝিয়ে বলি: ‘ঘাতকের মৃত্যু’ হয়েছিল যে-সন্ধ্যায় কাকলি এসেছিল সোনালি স্বপন-এ। তার আগেই আমার সব পরিকল্পনা ছকা হয়ে গেছে। রেনকোট-গ্লাভস্-মুখোশ আমার আলমারিতে মজুত। ছয়টা চকলেটে ভেরোনাল মেশানো আছে। যাদুগোপালের লোডেড রিভলভার আমার দেরাজে। যে পিশাচটা আমাকে ভুল বুঝিয়ে গ্রাম থেকে শহরে ফুসলে নিয়ে এসেছিল, স্বামী-সংসার-সন্তানের লোভ দেখিয়ে, তার স্বরূপটা বুঝে ফেলেছি আমি; তার মৃত্যুদণ্ড মনে মনে ঘোষণা করে বসে আছি। এমনকি তার মৃত্যু-মুহূর্তে আমি যে অজ্ঞান হয়ে ঘরের ভিতর পড়ে আছি এটা প্রতিষ্ঠা করার আয়োজনও সম্পূর্ণ। ভেবেছিলাম, পুলিশ স্টেশনে ফোন করে জানাব আমাকে কেউ বিষ মেশানো চকলেট পাঠিয়ে হত্যা করতে চায়। পরে মনে হল, পুলিশে ফোন করার চেয়ে অনেক ভাল হবে যদি ব্যারিস্টার-সাহেবকে ফোন করে কথাটা বলি।
কিন্তু আমার সব পরিকল্পনা বানচাল করে দিল কাকলি, যখন সে আচমকা বাড়িয়ে দিল তার বন্ধুত্বের হাত। কাকলি জানতে পেরেছিল-ওই বার-এর এই ‘বারটেন্ডার’ মদের দোকানে একা বসে মদ্যপান করে, সে সিগ্রেট খায়, সে মদিরা-তিয়াসীদের রূপযৌবনের আকর্ষণে উৎসাহিত করে মদ্যপ হতে। ক্রমে এ কথাও জানল যে, সে গাঁয়ের এক হায়ার সেকেন্ডারী-পাস কুমারী মেয়ে, যাকে এক সমাজবিরোধী পার্টি-মস্তান গ্রাম থেকে শহরে ফুসলে নিয়ে এসেছিল, যার অনিবার্য অন্তিম পরিণাম এই কল্লোলিনী কলকাতার কোন ‘রেড-লাইট’ এলাকা, এমন একটি ‘নষ্ট’ চরিত্রের মেয়েকে ওই খানদানী ঘরের কাকলি দত্ত অনায়াসে বলতে পারল, আমরা এক ঘরে পাশাপাশি চৌকিতে শোব। তুমি আমার এঁটো বাসন ধুয়ে দেবে, আমি তোমার এঁটো বাসন ধুয়ে দেব:কী, পারবে না?…কী বলব? আমার কানে কথাগুলো মন্ত্রের মতো কাজ করল। একটা অজানা অচেনা পৃথিবীর সিংহদরজা যেন আচমকা আমার চোখের সামনে খুলে গেল। আমার মনে হল: ওই তো প্রায় আমার বয়সী একটি কুমারী মেয়ে এই পুরুষ-শাসিত সমাজে দেয়ালে পিঠ দিয়ে একা হাতে লড়ে যাচ্ছে। বাঘিনীর মতো। ভৈরব দাশ, যাদুগোপাল, জীবন-মস্তানের দল ঝাঁক-বাধা নেকড়ের মতো ওর দেহটা ছিঁড়ে খেতে চায়। ও হার মানেনি। ও ভয় পায়নি। ও লড়ছে। তাহলে আমিই বা পারব না কেন?– ঠিক সেই মুহূর্তেই হল ‘ঘাতকের মৃত্যু’। ওদিকে যেহেতু আমার ছক তৈরি, তাই আমি মনস্থির করলাম: জীবন-মস্তানকে আমি খুন করব না, তার চেয়ে বড় আঘাত হানব। ওকে নতজানু করব! সিংহের গুহায় ঢুকে সিংহশাবককে পিস্তল দেখিয়ে অপহরণ করে আনব। দশ পার্সেন্ট হিস্যা চাওয়াতে যে লোকটা বলেছিল -‘ওকে গলায় দড়ি দিতে বল’ সে লোকটা প্রাণের ভয়ে নতজানু হয়ে গোটা শেয়ারের গোছাটা আমার হতে তুলে দেবে। আর আমি তা তুলে দেব কাকলিকে, আমার বন্ধুত্বের উপহার…
আবার আগ্রহের আতিশয্যে সুজাতা প্রশ্ন করে বসে: জীবন-মস্তান সেটা দিয়েছিল?
– দিত, নিশ্চিত দিত! কিন্তু বিধি বাম। ঘটে গেল একটা দুর্ঘটনা। নতজানু অবস্থায় জীবনের মুঠিতে শেয়ারের গোছাটা ধরা। ও বললে, কই, এস, নিয়ে যাও….
আমি বললাম, চালাকি কর না জীবন-মস্তান! শেয়ারের গোছাটা আমার দিকে ছুঁড়ে দাও! ..
আমাদের দু’জনের মাঝখানে তখন তিন হাতের ব্যবধান। এই তিন হাত দূরত্ব দুর্ধর্ষ সমাজবিরোধী জীবন-মস্তান অতিক্রম করতে পারছে না। কারণ আমার হাতে উদ্যত পিস্তল। আমি ওকে বললাম, আমি তিন গুনব। তার মধ্যে যদি কথা আমার শেষ হল না। পিছনে খুট করে শব্দ হল…
দুর্ভাগ্য নবনীতার। ঘরে ঢুকে সে বা হাতে সদর দরজাটা পিছন দিকে ঠেলে দিয়েছিল বটে, কিন্তু লক্ষ্য করে দেখেনি ইয়েল-লক বন্ধ হয়েছে, কি হয়নি। পিছনে খুট করে শব্দ হতেই নবনীতা পাশ ফিরে দেখে। পিস্তলের লক্ষ্যমুখ কিন্তু তখনো জীবনের দিকে। জীবন হিসহিসিয়ে ওঠে: ধর্। ধর্ হারামজাদিকে!
নবনীতা দেখতে পায় নিঃশব্দে দরজা খুলে ঘরে ঢুকেছে একটি অচেনা মেয়ে। বছর আঠারো-উনিশ : অর্থাৎ যে বয়সে ও নিজে গ্রাম ছেড়ে অজানা গাঙে নাও ভাসিয়েছিল, ঐ জীবন-মস্তানের হাত ধরে। মেয়েটার হাতে একটা ছোট ওভারনাইট ব্যাগ: নীল রঙের। সুন্দরী নয়, তবে যৌবন টলটল করছে। জাপানী সিল্কের একটা জঙলা শাড়ি, ওই রঙেরই এয়ারহোস্টেস ব্লাউজ। চিনতে অসুবিধা হয়নি ওই অচেনা মেয়েটাকে। এরই আজ সারারাত ইন্টারভিয়ু দেবার কথা। মুখোশ পরা নবনীতাকে দেখে সে প্রথমটা ঘাবড়ে যায়। কিন্তু পর মুহূর্তেই বাঘিনীর মতো ঝাঁপ খেয়ে পড়ে সামনের দিকে। দু হাতে বজ্রমুষ্টিতে চেপে ধরে নবনীতার ডান হাত। নবনীতা চাপা গর্জন করে ওঠে, ছেড়ে দাও। এক্ষুনি ফায়ার হয়ে যাবে।
দু’জনে হাত কাড়াকাড়ি করতে থাকে। দু’জনের কারও খেয়াল হয় না যে, ঘরে একজন তৃতীয় ব্যক্তিও আছে। সে কী করছে, তা ওরা জানে না। জানবার অবকাশ পায়নি। সেই নতজানু লোকটা ইতিমধ্যে উঠে দাঁড়িয়েছে। মুহূর্তমধ্যে ওদের দিকে পিছন ফিরে টেবিলের ডান দিকের ড্রয়ারটা টেনে খুলেছে, যার ভিতর রাখা আছে ওর নিজের আত্মরক্ষার অস্ত্রটা। কিন্তু সেটা টেনে বার করার অবকাশ পায়নি অনেক-অনেক হত্যাকাণ্ডের নায়ক জীবন-মস্তান।
অন্ধকার রাত্রির নৈঃশব্দ খানখান হয়ে ভেঙে পড়ে নবনীতার মুঠিতে ধরা রিভলভারটার গর্জনে।
দু’জনেই এদিকে ফেরে। দেখে, গুলিটা লেগেছে পিছন-ফেরা জীবনের পিঠে। সে উবুড় হয়ে পড়েছে টেবিলের উপর। তার পিঠ দিয়ে গলগল করে নেমে আসছে তাজা রক্তের একটা ধারা।
নবনীতা জানে না, এরপর তিন-চার সেকেন্ড ঠিক কী ঘটেছে। যখন সংবিত ফিরে পায় তখন দেখতে পায় ঘরে সে একা। আর ওর জীবন-যৌবনের অভিশাপ জীবন-মস্তানের মৃতদেহ। মেয়েটা কখন নিঃশব্দে ঘর ছেড়ে চলে গেছে। মেঝেতে পড়ে আছে রিভলভারটা, আর ওই মেয়েটার ফেলে যাওয়া সেই নীল রঙের ওভারনাইট ব্যাগ।
নবনীতাও নিঃশব্দে ঘর ছেড়ে পথে নামে। এবারও তার ভুল হয়ে যায় দরজাটা টেনে ইয়েল-লকটা বন্ধ করতে। তবে ওর বিগ-শপারটা নিতে ভোলেনি। বাইরের বারান্দায় বার হয়ে এসে এদিকে ওদিকে তাকিয়ে দেখে। জনমানবের সন্ধান পায় না। অপর মেয়েটি যেন কপূরের মত উবে গেছে। নবনীতা মুখোশ, গ্লাভস আর বর্ষাতিটা খুলে বিগ-শপারের ভিতর ভরে নেয়। তখনও লোড-শেডিং চলছে ও তল্লাটে। পাশেই সশব্দে কোনও জেনারেটার চলছে, যেজন্য পিস্তলের শব্দ পাড়াপড়শির কানে যায়নি। টর্চের আলোয় পথ দেখে ও বড় রাস্তায় এসে পড়ে। একটা ফ্লাইং ট্যাক্সি পেয়ে যায়। তাতে করে ও বাড়ি ফিরে আসে। ট্যাক্সিতে উঠেই ও ভেরোনালের শিশিটাকে বার করে ব্যাগ থেকে। সবটা ওষুধ গলায় ঢেলে দিয়ে চলন্ত গাড়ি থেকে শিশিটা জানলা গলিয়ে ফেলে দেয়।
দম নেবার জন্য এবার নবনীতা থামে।
ইন্সপেক্টর দাশ বলে, মেয়েটি কে? যে আপনার হাতচেপে ধরেছিল? তাকে চেনেন?
নবনীতা বললে, হ্যাঁ, চিনি। সে রাত্রে শুধু তার নামটুকুই জানতাম। আজ তার পরিচয়টাও জানি।
– সে কে?
– কাকলির দোকানের কাউন্টার গার্ল।
কাকলি চাপা আর্তনাদ করে ওঠে, সুপর্ণা?
– হ্যাঁ, ভাই। কী বিচিত্র ঘটনাচক্র দেখ। সুপর্ণা আমার চাকরিটা খেতে আসছিল, আর আমি তার চাকরিটা….
– তুমি কি আজ আমার দোকানে এসে তাকে চিনতে পারলে?
– হ্যাঁ, আর সেই জন্যেই তোমার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছিলাম না। আমি জানি যে, সুপর্ণার কাছে আমি অপরিচিতা। সে রাত্রে আমার মুখে মুখোশ পরা ছিল, কিন্তু কিছুতেই স্বাভাবিক হতে পারছিলাম না।
ইন্সপেক্টর দাশ বললে, আপনার সেই মুখোশটা কোথায়?
নবনীতা নিঃশব্দে উঠে গেল। ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে একটা চাবি বেছে নিয়ে দেওয়ালের গা–আলমারিটা খুলে একটা বড় বাজারের থলে বের করে আনল – বিগ-শপার ব্যাগ। তা থেকে টেনে বার করলে তিনটে জিনিস-একটা বর্ষাতি, একজোড়া গ্লাভস আর একটা মুখোশ।
নিখিল দাশ হাতঘড়িতে সময় দেখে কাকলিকে বলল, আপনার ফোটোগ্রাফির দোকান অনেকক্ষণ আগেই বন্ধ হয়ে গেছে, কিন্তু আপনার কর্মচারী সুপর্ণার ঠিকানাটা কি মনে আছে আপনার?
কাকলি বলল, ঠিকানাটা মুখস্ত নেই, তবে বাড়িটা চিনি।
– আপনি কাইন্ডলি আমার জীপ-এ আসবেন? বাড়িটা চিনিয়ে দিতে?
কাকলি বলে, আপনি এখনই যেতে চান?
– নিশ্চয়ই। তার বক্তব্যটা আজ রাত্রেই টেপ করতে হবে, সে উকিলের পরামর্শ নেওয়ার আগে
কৌশিক বলে, একটা কথা। ঘটনাস্থলে কোন নীলরঙের মেয়েলি ওভারনাইট-ব্যাগ কি পুলিস উদ্ধার করেছিল?
– তা করেছে। তাতে যে সব জিনিস ছিল তা থেকে মালকিন-এর হদিশ পাওয়া যায়নি। আমি কিন্তু এই বিগ-শপার ব্যাগটা নিয়ে যাচ্ছি।
শেষ কথাটা সে বলে নবনীতার দিকে ফিরে।
নবনীতা বলে, স্বচ্ছন্দে।
– মিস দত্ত? আপনি কি আসছেন?
কাকলি এককথায় রাজি হয় না। বাসু-সাহেবের দিকে তাকিয়ে দেখে।
বাসু নিখিল দাশের দিকে ফিরে বলেন, তার আগে তোমার একটা কাজ যে বাকি আছে, নিখিল?
– কী কাজ?
বাসু-সাহেব হাত বাড়িয়ে নবনীতার টেলিফোনটা ক্র্যাডল থেকে তুলে ইন্সপেক্টর দাশের দিকে বাড়িয়ে ধরে বলেন, লালবাজারকে জানিয়ে দাও যে, মিসেস জয়া সেনকে তোমরা ছেড়ে দিচ্ছ। তুমি কাকলিকে নিয়ে সুপর্ণার বাড়ির দিকে রওনা হলেই আমি গাড়ি নিয়ে রওনা দেব আমার ক্লায়েন্টকে ছাড়িয়ে এনে ডক্টর ব্যানার্জির নার্সিং হোমে ভর্তি করে দিতে।
ইন্সপেক্টর দাশ টেলিফোনটা গ্রহণ করে বললে, মোস্ট সার্টেনলি, স্যার।
তিনজনে গাড়ি নিয়ে চলেছেন জয়া সেনকে পুলিস-হাসপাতাল থেকে ছাড়িয়ে আনতে। গাড়ি চালাচ্ছে কৌশিক, তার পাশে সুজাতা। পিছনের সীটে বাসু-সাহেব এতক্ষণে পাইপ ধরিয়েছেন। গাড়ি চালাতে চালাতে কৌশিক বলে, আয়াম এক্সট্রিমলি সরি, মামু। তখন সর্বসমক্ষে আমি যে ব্যবহার করেছি…
– সেটা ভাগ্নেজনোচিত না হলেও কবিজনোচিত হয়েছিল। তুমি এককালে কবিতা লিখতে, আমার মনে আছে। ইন ফ্যাক্ট, প্রশ্নটা আমার মনেও জেগেছিল: ঠিক কোন মুহূর্তে ‘ঘাতকের মৃত্যু’ হল, কিন্তু সে প্রশ্নটা আমার প্রফেশনাল এথিক্সকে ছাপিয়ে উঠতে পারেনি, এই যা।
সুজাতা জানতে চায়, জীবন হালদারের হত্যার মূলে যে নবনীতার হাত থাকতে পারে এটা আপনি কখন আন্দাজ করেন, মামু?
– ওকে চাক্ষুষ দেখার আগেই। যখন ওর পতন ও মূর্ছার এক মিনিট পরে ওর টেলিফোনে ডায়ালটোন ফিরে এল….
– সেটা তো যান্ত্রিক কারণেও হতে পারত।
– পারত। কিন্তু ওকে যখন অজ্ঞান অবস্থায় আবিষ্কার করলাম তখন স্বচক্ষে দেখলাম – টেলিফোনে ডায়াল-টোন ফিরে আসার হেতু: ও অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাবার পরে কেউ টেলিফোনের জঙ্গম অংশটা ফের ক্র্যাডল-এ বসিয়ে দিয়েছে। তাছাড়া ওর কথা সত্যি হলে ঘরের ভিতর বা বাইরে গলিপথে দু-একটা চকলেটের কাগজের কাপ খুঁজে পাওয়ার কথা। তা ছিল না কিন্তু। তখনই আমার সন্দেহ হয়, নবনীতা একটা শক্তপোক্ত অ্যালেবাই বানাবার জন্য নিজেই বিষাক্ত চকলেট খেয়েছে। জীবন হালদারকে হত্যা করার মোটিভটা বুঝতে অসুবিধা হয় না; কিন্তু কাকলির রিভলভারটা সে কেমন করে হাত করল এটাই বুঝে উঠতে দেরি হল।
সুজাতা বললে, একটা কথা মামু, আমার মনে হল ইন্সপেক্টর নিখিল দাশ কাকলির প্রতি একটু বেশি ইন্টরেস্টেড। আপনারও কি তা মনে হয়নি?
: হ্যাঁ, ব্যাপারটা আমারও নজরে পড়েছে? তবে এসব বিষয়ে মেয়েদের ইনটুইশন বেশি। তাই তোমাকেই প্রশ্ন করছি। কী মনে হয়? একটা মিলনান্তক পরিণতি হতে পারে এই কণ্টকিত কাহিনীর?
কৌশিক গাড়ি চালাতে চালাতে বলে, আমার তো তাই ধারণা।
– তোমার কী ধারণা তা তো জানতে চাইনি আমি। তুমি গাড়ি চালাচ্ছ গাড়ি চালাও। আমি মহিলাদের ইন্টুইশনে বিশ্বাস করি, তোমার মতো অনড্রানের নয়। তাই আমি সুজাতার মতামতটা জানতে চাইছি….
সুজাতা বলে, আমার মতে অন্তিম পরিণতিটা বিয়োগান্তক হবে, মামু।
– বিয়োগান্তক! কেন? আমার তো মনে হল নিখিল আর কাকলি দু’জনেই দু’জনকে….
বাধা দিয়ে সুজাতা বলে, ও আয়াম সরি। আপনি ওদের কথা বলছেন বুঝি? আমি ভুল বুঝেছি। কারণ কাকলি তো আর আপনার ক্লায়েন্ট নয়। ক্লায়েন্ট হচ্ছে: জয়া সেন। তাই আমি ভেবেছিলাম, যাদুগোপাল আর জয়া সেনের কথা। এর পরের কেস যেটা আপনার হাতে আসছে তা তো ‘সেন-ভার্সেস-সেন’ ডির্ভোস পিটিশন। যাদুগোপালের রঙ্গ দেখানোটা বন্ধ করার আদালতী ভানুমতীর খেল। তাই না?
বাসু প্রাণখোলা হাসি হাসেন: তা বটে!
(সমাপ্ত)
