একুশ
বাসু থামলেন। কেউ কোন কথা বলে না। দায়টা ইন্সপেক্টর দাশের। ফলে তাকেই বলতে হল, মিস রায়, বাসু-সাহেবের আষাঢ়ে গল্পটা শেষ হয়েছে। এনি কমেন্টস্? কিছু বলবেন?
নবনীতা এতক্ষণে সামলেছে। বললে, সরি স্যার, নো কমেন্টস্।
– ত’হলে লালবাজারে হোমিসাইড সেকশনে ফোন করে আপনার বডি-ওয়ারেন্ট করিয়ে আনবার ব্যবস্থা করি?
– করুন। কিন্তু সেখানে গিয়েও কোন লাভ হবে না। কারণ আমি কোন কথা বলব না। এমনকি আমার নাম কী এ প্রশ্নের জবাবও দেব না। বাসু-সাহেবের মতো পণ্ডিত আমি নই। তবে সাংবিধানিক অধিকার সম্বন্ধে আমারও কিছু ধারণা আছে। যতক্ষণ আমার তরফের আইনজীবী উপস্থিত না হচ্ছেন ততক্ষণ আমি বোবা-কালা।
বাসু বলেন, ফেয়ার এনাফ। এ বিষয়ে নিশ্চিত তোমার সাংবিধানিক অধিকার আছে। যদি তুমি স্বহস্তে স্বেচ্ছায় জীবন হালদারকে খুন করে থাক তাহলে নিশ্চয় তুমি বোবা-কালা হয়ে একরাত হাজতে কাটিয়ে দেবে, যতক্ষণ না তোমার আইনজীবী উপস্থিত হন। কিন্তু নবনীতা, যদি তুমি আত্মরক্ষার্থে গুলি করে থাক, অথবা কোন দুর্ঘটনাজনিত-কারণে তোমার রিভলভার নিক্ষিপ্ত গুলিতে জীবন হালদারের মৃত্যু হয়ে থাকে তাহলে তোমাকে কিন্তু এখনই তা বলতে হবে।
– কেন? এখনি কেন?
– কারণ, এখন যদি তুমি নীরব থাক, এবং পরে বলতে চাও যে, আত্মরক্ষার্থে বা ঘটনাচক্রে জীবন হালদার তোমার হাতেই খুন হয়েছে, তখন তা বিশ্বাস করানো অত্যন্ত কঠিন হবে। আদালত স্বতই মনে করবেন, তুমি তোমার পক্ষের উকিলের পরামর্শ মতো সাজানো একটা ‘আষাঢ়ে গল্প’ বলে চলেছ।
– এখন তো আপনারা বলতে পারেন, আমি বানিয়ে বানিয়ে বলছি।
– বানিয়ে বলতে পার, কিন্তু এই তাৎক্ষণিক জবানবন্দি ‘শেখানো বুলি’ এ অভিযোগ কেউ করতে পারবে না। দ্বিতীয়ত, – আমি জানি না কিন্তু তুমি জান, সত্যিই যদি আত্মরক্ষার্থে বা অ্যাকসিডেন্টালি তুমি গুলি করে থাক তাহলে তার তৃতীয় কোনও সাক্ষী থাকলেও থাকতে পারে। হয়তো সে নিজের জান বাঁচাতে নীরব আছে। লুকিয়ে আছে। পুলিস যদি এখনি টাটকা: টাটকি সে রকম সাক্ষীকে ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারে যে, তোমার এই তাৎক্ষণিক প্রদত্ত এজাহার সত্য, তাহলে তার অসীম মূল্য। তিন দিন পরে সেই এভিডেন্সটা প্রমাণ করা হলে আদালত স্বতই মনে করতে পারে যে, এ এক ভাড়া করা মিথ্যাসাক্ষী, উকিলের শেখানো বুলি তোতাপাখির মতো কপচে যাচ্ছে।
নবনীতা পুরো একমিনিট স্থিরদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকল। তারপর মুখ তুলে বলে, আমার মনে হয় আপনি ঠিক কথাই বলছেন, স্যার। আমি এক দুর্ভাগিনী। আজ্ঞে না, আত্মরক্ষার্থে গুলিটা আমি করিনি। এটা নিতান্তই একটা দুর্ঘটনা-পিওর অ্যাকসিডেন্ট। নিজেকে নির্দোষ আমি বলব না, কারণ হত্যার সিদ্ধান্ত আমি একসময় নিয়েছিলাম। কিন্তু ওকে নিজে হাতে খুন করার সৌভাগ্য আমার হল না। নিতান্ত দুর্ঘটনায় শেষ হয়ে গেল শয়তানটা।
বাসু ঝুঁকে পড়ে বলেন, ঐ দুর্ঘটনার কোনও সাক্ষী নেই, না নবনীতা?
– না, স্যার, আছে। তাকে আমি চিনি, কিন্তু সে আমাকে চেনে না। তাই সব কথা আমি এখনই বলে যাব। তার নাম-ঠিকানাও জানাব, আপনারা সেই সাক্ষীকে ডেকে এখনই যাচাই করে দেখুন।
নবনীতা থামল। কেউ কোন শ্ন করে না। একটু গুছিয়ে নিয়ে নবনীতা প্রায় স্বগতোক্তির মতো তার জবানবন্দী দিয়ে যায়।
বেচারি সত্যই হতভাগিনী। গাঁয়ের মেয়ে। জীবনলালের প্রেমে পড়ে গ্রাম ছাড়ে। তারপর একদিন টের পায় জীবন বিবাহিত, তার সংসার আছে। সে জীবনের রক্ষিতা মাত্র। গ্রামে কুমারী জীবনে দূর থেকে যাকে মনে হয়েছিল দুর্ধর্ষ, বেপরোয়া রাজকুমার, শহরে এস দেখল সে পার্টি মস্তান। কিছুদিনের মধ্যেই জীবনের কাছে নবনীতার নারীত্ব পুরোনো হয়ে গেল। জীবন বাসা বদলাল। নতুন শয্যাসঙ্গিনীর সন্ধানে। নবনীতাকে পরামর্শ দিয়েছিল ‘সোনালি স্বপন’-এর কলগার্ল হতে। এসব কথা ঠিকই আন্দাজ করেছিলেন বাসু-সাহেব। তখন থেকেই নীতা চেয়েছিল জীবনকে একেবারে খুন করে ফেলতে, চরম প্রতিশোধ নিতে। দুর্দান্ত সুযোগ হয়ে গেল হঠাৎ পথদুর্ঘটনায় যাদুগোপালের গাড়ির ড্যাশবোর্ড থেকে রিভলভারটা হস্তগত করায়। চকলেট কিনে জব্বর অ্যালেবাইয়ের ব্যবস্থাও করে ফেলে। এক ডাক্তারবন্ধুর কাছ থেকে জেনেছিল ষাট গ্রেন ভেরোনাল খেলে মানুষ মরে না। প্রচণ্ড ঘুমায়। চকলেট কারখানাতেই ভ্যানিলা বা অন্যান্য সুগন্ধি গ্রেন হিসাবে মাপতে শিখেছিল। ওটাও বাসুসাহেবের নির্ভুল আন্দাজ, মানে কখন চকলেটগুলো খায়, আর কখন ভেরোনাল। ও জানত ডাক্তার ওর স্টম্যাক ওয়াশ করাবেই। তখন তার অর্ধজীর্ণ খাদ্যাংশের ভিতর চকলেট আর ভেরোনাল থাকা দরকার। তবে ওর ঘরের ভিতর চকলেটের ঐ কাগজের কাপগুলোর অনুপস্থিতি যে সন্দেহের উদ্রেক করতে পারে এটা তার খেয়াল হয়নি।
টেলিফোনের রিসিভারটা স্বস্থানে থাকার হেতুটা অন্যরকম। বাসু-সাহেব তাঁর কাহিনী-বিন্যাসে বর্ণনা করেছেন যে, জীবন হালদারকে ফোন করে নিশ্চিন্ত হয়ে নবনীতা বাসু-সাহেবকে টেলিফোন করেছিল। বাস্তবে তা হয়নি। বাসু-সাহেবকে ফোন করে, পতন ও মূর্ছার অভিনয় করার পরেই ওর খেয়াল হয়েছিল: জীবন হালদার তার বাড়িতে যদি একা না থাকে? এ-কথাটা তার আগে খেয়াল হয়নি। তাই বাসু-সাহেবকে ফোন করার পরে সে টেলিফোনটাকার্পেটে নামিয়ে জীবনকে একটা ফোন করে। কথাবার্তায় বুঝতে পারে জীবন একাই আছে, তার নয়া-চিড়িয়ার প্রতীক্ষায়। কারণ নবনীতা বলে, তোমার সঙ্গে একটা জরুরি কথা আছে, পাঁচ মিনিটের জন্য যাব?
জীবন ওকে বারণ করেছিল।
নবনীতা জানতে চায়, কেন? তোমার চ্যালা-চামুণ্ডারা কেউ আছে?
– না, নেই। তাহলেও এখন আমার সময় হবে না।
নবনীতা বলেছিল, জানি! আমার বদলিতে যাকে বহাল করতে চাও তার প্রতীক্ষায় আছ, তাই না? আজ রাতে তার ইন্টারভিয়ু? ঠিক বলছি?
– তবে তো তুমি সবই জান? অহেতুক বিরক্ত করছ কেন?
লাইনটা কেটে দেয় জীবন হালদার।
আপাদমস্তক জ্বালা করে ওঠে নবনীতার। ঐ লোকটা কতরকম মিঠে-মিঠে বুলি কপচিয়ে ওকে গ্রাম থেকে ভাগিয়ে এনেছিল। আর আজ তাকে শূন্যগর্ভ মদের বোতলের মতো ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলছে। নবনীতা মুহূর্তের জন্য ভুলে যায় টেলিফোনের স্থাবর অংশটা টেবিলের উপর আর মাউথপিসটা মাটিতে পড়ে থাকার কথা। অভ্যাসবশে সেটাকে ক্র্যাডলে বসিয়ে দিয়ে টানা-ড্রয়ার খুলে যাদুগোপালের গাড়ি থেকে সংগ্রহ করা অস্ত্রটা বার করে আনে।
হ্যাঁ, সওয়া আটটা নাগাদই সে ইলিয়ট রোড থেকে রওনা হয়। ট্যাক্সি নিয়ে মোমিনপুরের দিকে। বাসু-সাহেব ঠিকই আন্দাজ করেছেন, ওর সঙ্গে ছিল টর্চ, ছয়টা নির্বিষ চকলেট আর ভেরোনালের শিশি। তবে তা ছাড়াও তার সঙ্গে ছিল আরও তিনটে বিচিত্র জিনিস: একটা রেনকোট, একজোড়া গ্লাভস আর চড়কের মেলায় সখ-করে-কেনা একটা রাক্ষসের মুখোশ। সব কিছু ভরে নেয় একটা ‘বিগ-শপার’–এ। মোমিনপুরে জীবনের বাড়ি থেকে প্রায় দু’শ গজ দূরে ট্যাক্সিটা ছেড়ে দেয়। ও চায়নি, ট্যাক্সিচালক জানতে পারুক ও কোন্ বাড়িতে যাচ্ছে। সে সময় ওপাড়ায় লোড-শেডিং চলছে। একটি বাড়িতে জেনারেটার বা অন্যান্য বিকল্প আলোর ব্যবস্থায় পাড়াটা আলো-আঁধারি। টর্চের আলোয় পথ দেখে নবনীতা জীবনের বাড়ির কাছাকাছি চলে আসে। বাড়ির সামনে একটা বারান্দা। নবনীতা সেখানে উঠে ডাইনে-বাঁয়ে তাকিয়ে দেখে। না, জনমানবের কোনও চিহ্ন নজরে পড়ে না। অন্ধকারেই তখন সে রেইনকোট, দস্তানা, আর মুখোশটা পরে নেয়। জীবনের ঘরের ভিতর জেনারেটারের আলো জ্বলছে। সদর দরজায় গোদরেজের ইয়েল-লক। তার ফুটোয় চোখ দিয়ে নবনীতা দেখতে পায় ভিতরে আলো। এবার সে কল-বেলটা বাজায়। ভিতরে একটা মিঠে সুরের বাজনা বাজল।
ভিতর থেকে সদা-সাবধানী জীবন হাঁকড় পাড়ে, কে?
নবনীতা কৃত্রিম আধো আধো ন্যাকামি-মেশানো গলায় বলে, আমার তো আসার কথাই ছিল। রাত নয়টায়। দোর খুলে দেখুন না, কে এসেছে।
জীবন আঁধারের কারবারী। সর্বদা তাকে সাবধান হয়ে থাকতে হয়। মস্তানে মস্তানে এলাকা দখলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা লেগেই থাকে। তাই জীবন ম্যাজিক-আইয়ের ভিতর দিয়ে দেখবার চেষ্টা করে। বৃথা। ঘরের ভিতর জোরালো আলো, বাহিরে নীরন্ধ্র অন্ধকার। জীবন ভিতর থেকে প্রশ্ন করে, তোমার নাম কী?
নামটা জানা ছিল নবনীতার। কিন্তু এককথায় স্বীকার করল না। বললে, ন্যাকা! এখানে অন্ধকারে দাঁড়িয়ে বংশ পরিচয় দিতে থাকব না কী?
জীবন বলে, তোমার সঙ্গে আর কে আছে?
– আবার কে থাকবে? আমি একাই। দোর খুলুন। ট্যাক্সিটাও ছেড়ে দিয়েছি। বাইরে ঘুটঘুটে অন্ধকার। আমার ভয় করছে।
জীবন গর্জে ওঠে: নিজের নামটা বল, না হলে দোর খুলব না।
নবনীতা তখন তার প্রতিদ্বন্দ্বিনীর নামটা উচ্চারণ করে।
জীবন এবার নিশ্চিন্ত হয়ে ল্যাচ-কীটা খুলে দেয়। দরজার পাল্লা খুলে দেবার সঙ্গে সঙ্গে একলাফে নবনীতা ঘরের ভিতর ঢুকে পড়ে। তার হাতে উদ্যত রিভলভার।
আগন্তুককে দেখেই জীবন দু-পা পিছিয়ে গেছে। আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে বলে, কে?…কে তুমি?
নবনীতা ততক্ষণে ঘরের ভিতর। দরজাটা বাঁ-হাতে পিছনে ঠেলে দিয়েছে। জীবনের ঘরে ডায়নামোর জোরালো বাতি। সেই আলোতে জীবন দেখতে পাচ্ছে আগন্তুককে। বর্ষাতি গায়ে, মুখে রাক্ষসের মুখোশ, হাতে উদ্যত আগ্নেয়াস্ত্র।
জীবন-মস্তান সম্ভবত দুটি সিদ্ধান্তে নিঃসন্দেহ হতে পেরেছিল। প্রথমত, আগন্তুকের কণ্ঠস্বরে, উচ্চতায়, দৈহিক তরঙ্গ-ভঙ্গিমায় যে, সে স্ত্রীলোক। দ্বিতীয়ত, আগ্নেয়াস্ত্র বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিটির বুঝতে অসুবিধা হয়নি যে, ওর হাতে ওটা খেলনা-পিস্তল নয়, খাঁটি মাল। পয়েন্ট টু টু বোর স্প্যানিশ রুবি। জীবন সবচেয়ে বেশি ঘাবড়ে গেল এইটে দেখে যে, আগন্তুকের হাতে গ্লাভস। অর্থাৎ প্রয়োজনে সে যন্ত্রটা ব্যবহার করতে মনে মনে প্রস্তুত হয়েই এসেছে। স্ত্রীলোক হলেও প্রফেশনাল। ফিঙ্গার-প্রিন্ট সম্বন্ধে সচেতন।
আগন্তুক বিকৃত কণ্ঠস্বরে বললে, মাথার ওপর হাত তোল…
জীবন ওর আদেশ পালন করে। কিন্তু প্রশ্নটা আবার পেশ করে, তুমি, তুমি কে?
আগন্তুক সে-কথার জবাব দেয় না। বলে, এবার পিছু হটে ঐ টেবিলটার দিকে যাও, কোন চালাকি করার চেষ্টা কর না জীবন মস্তান। তাহলে এই ঘরের ভিতরেই তোমার লাশ ফেলে দেব।
‘লাশ ফেলে দেওয়া’ মস্তানদের একটা বাঁধা লব্জ। জীবন আগন্তুকের জাতি নির্ণয়ের চেষ্টা করতে করতে পিছু হটে নির্দেশ মতো টেবিলের দিকে পিছিয়ে যায়। তার দু-হাত মাথার ওপর তোলা। ঐ টেবিলের ডান দিকের প্রথম ড্রয়ারে আছে ওর নিজের মারণাস্ত্রটা। ছয়টা চেম্বারই লোডেড। ভুল! প্রচণ্ড ভুল হয়ে গেছে তার, মেয়েলী মিঠে কণ্ঠস্বরে! যন্ত্রটা হাতে না নিয়ে ল্যাচ-কী খুলে দেওয়াটা একটা মারাত্মক ভ্রান্তি।
জীবন এবার প্রশ্ন করে, কী….কী চাও তুমি? টাকা?
…শুনতে শুনতে সুজাতার ধৈর্যচ্যুতি ঘটে যায়। সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে নবনীতাকে প্রশ্ন করে, একটা কথা। তুমি তো ওকে খুন করতেই গেছিলে। তাহলে প্রথম সুযোগেই একেবারে খতম করে দিলে না কেন?
নবনীতা হঠাৎ চমকে ওঠে।
এতক্ষণ সে ঘরভর্তি শ্রোতার উপস্থিতির কথা ভুলে গিয়েছিল। যেন আপনমনে সে রাত্রের ঘটনার সোচ্চার স্মৃতিচারণ করছিল। এতক্ষণে সে সচেতন হয়ে একে একে সকলের দিকে তাকিয়ে দেখে। ম্লান হেসে বলে, হেতুটা বিচিত্র! ইতিমধ্যে ঘাতকের মৃত্যু হয়েছে। আমার মনে হল….
বাসু-সাহেব বিরক্ত হয়েছিলেন সুজাতার ঐ হঠাৎ পেশ করা প্রশ্নে। এখন প্রায় ধমকের সুরে নবনীতাকে বলেন, তোমার কী মনে হল তা আমরা জানতে চাইছি না, নীতা! তুমি পর পর ঠিক কী করলে তাই শুধু বলে যাও।
কোথাও কিছু নেই তড়াক করে উঠে দাঁড়ায় কৌশিক। ছাত্রজীবনে যে ছিল স্বভাবকবি। যে অভদ্র আচরণের কথা ওর দুঃস্বপ্নেরও অগোচর, তাই করে বসল হঠাৎ। প্রচণ্ড ধমক দিয়ে বসল তার পরমশ্রদ্ধেয় বাসু-মামাকে। বললে, আপনি থামুন তো? এটা আপনার আদালত নয়….। হ্যাঁ, তুমি কী বলছিলে বলে যাও, নীতা। ঠিক কী মনে হল তোমার? ‘ঘাতুকের মৃত্যু হল’ ঠিক কোন মুহূর্তটাতে? কেন?
ইন্সপেক্টার নিখিল দাশ আড়চোখে তাকিয়ে দেখল বাসু-সাহেবের মুখটা হাঁ হয়ে গেছে। সে টু শব্দটি করল না।
