রিস্তেদারের কাঁটা – ১৪

চৌদ্দ

সাতটা দিন কেটে গেছে তারপরে।

অনিবার্যভাবে সাতটা সূর্যোদয় ও সাতটি সূর্যাস্ত অতিক্রান্ত, কেউ নজর করে দেখুক বা না দেখুক। কিন্তু আমাদের কাহিনী যেখানে ছিল প্রায় সেখানেই দাঁড়িয়ে। ইতিমধ্যে স্মরণিকা সেনের তরফে জামিনের একটি আবেদন করা হয়েছিল। সেটি নাকচ করা হয়েছে। সত্যানন্দ সেনের কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। তিনি যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেছেন। ইতিমধ্যে জানা গেছে, বিলাসসিং যাদব যে গাড়িখানা নিয়ে মোটেলে এসে উঠেছিল সেটি ‘রেন্ট-এ কার’ সার্ভিসের। বিলাসের ড্রাইভিং লাইসেন্স, ট্রেড-ইউনিয়নের আইডেন্টিটি কার্ড ও কাগজপত্র দেখে গাড়িটি ভাড়া দিতে আপত্তি করেননি গাড়ির মালিক। মৃতদেহ যখন আবিষ্কৃত হয় তখন গাড়িটা গ্যারেজে ছিল না। পরদিন সেটা পাওয়া যায় দমদম এয়ারপোর্টে, প্রাইভেট গাড়ি পার্কিং-এর চিহ্নিত এলাকায়।

ধনঞ্জয় চৌবেকে জেরা করে পুলিশে কিছু সূত্র বার করতে পারেনি। হ্যাঁ, ধনঞ্জয় বিলাসকে চেনে, মানে চিনত। তারা একই সঙ্গে ধানবাদ থেকে কলকাতা আসে। বিলাস মাস-দুই-তিন ঐ সত্যানন্দের বাড়িতে ছিল। তার পার্টির কী-সব কাজ করত। বিস্তারিত ধনঞ্জয় বা তার স্ত্রী জানে না। জানার কথাও নয়, তেমন ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ছিল না। ঘটনার কদিন আগে বিলাসসিং কোথায় যেন চলে যায়। সত্যানন্দকে হাসপাতালে ভর্তি করার পরই নাকি বিলাস ও বাড়ি ছেড়ে দেয়।

উল্লেখযোগ্য ঘটনার মধ্যে রবি বসু একদিন গোপনে দেখা করতে এসেছিল, বাসু-সাহেবের সঙ্গে। তার বক্তব্য: ‘ভারতের সেই ট্রাডিশন সমানে চলেছে।’ আরক্ষা-বিভাগ সমেত।

অর্থাৎ অধস্তন কর্মচারী রবি বসুর ধারণা অপরাধটা স্মরণিকা সেন আদৌ করেনি। অনেক ভেবেচিন্তে সে অন্য সমাধানে এসেছে। প্রথম কথা, যে পদ্ধতিতে হত্যা অনুষ্ঠিত হয়েছে সেটা স্মরণিকার পক্ষে খাপ খায় না। ঘুমন্ত শত্রুটাকে দেখে যদি হত্যার অভিলাষ আদৌ জাগে, তাহলে খণ্ডমুহূর্তের উত্তেজনায় স্মরণিকার মতো মেয়ের পক্ষে ওর গলা টিপে ধরাই স্বাভাবিক হত। ঐ অবস্থায় তাকে ঘরে বন্ধ করে রেখে নিচে গিয়ে গাড়ি থেকে রেঞ্চ বার করে আনার কথা তার মাথায় আসত না। পিছনের ঐ পাইপটা যে গ্যাসের, রেঞ্চের সাহায্যে তা যে খোলা যায়, এসব কথা সেই মারাত্মক মুহূর্তে তার মনে পড়া প্রত্যাশিত ঘটনা নয়। দ্বিতীয়ত, রাত দশটায় ঐভাবে একটা নিষ্ঠুর খুন সুচারুরূপে সম্পন্ন করে টুকুর বয়সী একটি তরুণীর পক্ষে ডায়মন্ড-হারবার রোড ধরে একা ড্রাইভ করে এসে সাড়ে-দশটায় যদু কলোনিতে পৌঁছানো এবং তৎক্ষণাৎ গব্র্ করে এক প্যাকেট চাওমিঙ চিলি-চিকেন ভক্ষণ করাও সম্ভবপর নয়। হ্যাঁ, অর্ধভুক্ত চাওমিঙের প্যাকেটটা ওর ফ্ল্যাটবাড়ির ময়লা-ফেলা টিন থেকে আবিষ্কৃত হয়েছে। তার গায়ে ঐ চীনে রেস্তোরাঁর বিজ্ঞাপন।

রবি বসুর অনুমান: অপরাধটা করেছেন স্বয়ং সত্যানন্দ সেন। তাঁর পাকা মাথা। ঠাণ্ডা মাথা। তাই মৃতের পকেট থেকে ধীরে-সুস্থে চাবিটা নিয়ে গ্যারেজ খুলে’রেন্ট-আ-কার’ সার্ভিসের গাড়িটা বার করেন রাত দশটা নাগাদ। গ্যাস-পাইপটা তিনিই খুলে দেন। তারপর সোজা ড্রাইভ করে চলে যান দমদম এয়ারপোর্ট। ওঁর পকেটে তখন নগদ চল্লিশ হাজার টাকা। হ্যাঁ, নিউ আলিপুর-শাখার গ্রিন্ডলেজ ব্যাঙ্ক খাতাপত্তর দেখে বলেছে, ঘটনার দিন বেলা সাড়ে দশটা নাগাদ শ্রীমতী স্মরণিকা সেন ব্যাঙ্কড্রাফ্টগুলি ভাঙিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। ফলে রাত এগারো সাড়ে এগারোটা নাগাদ সত্যানন্দ যখন পার্কিং প্লেসে গাড়িটা রেখে এয়ারপোর্ট এলাকায় প্রবেশ করেন তখন তাঁর পকেটে নগদ প্রায় হাজার চল্লিশ টাকা। না, ইন্টার-ন্যাশনাল এয়ারপোর্টের দিকে তিনি যাননি। সেটা নিরর্থক হত। ওঁর কাছে পাসপোর্ট-ভিসা ছিল না। কিন্তু ইন্ডিয়ান এয়ার লাইন্স-এর যে কোন প্লেন ধরে এই মহান উপদ্বীপের যে কোন প্রান্তে চলে যাওয়ার কোনও বাধা ছিল না। হয়তো পরদিন ভোরের যে কোন প্লেনে কন্যাকুমারী থেকে কাশ্মীর, গুজরাট থেকে গুয়াহাটি।

ভেবে দেখ তোমরা, বিলাস সিং যাদব সত্যানন্দেরই শত্রু। আর কারও নয়। স্মরণিকা তাকে প্রায় চিনতই না। আর যে অত্যাচার তিনি সহ্য করেছেন সে কথা মনে পড়ায়, সত্যানন্দ ক্ষণিক উত্তেজনায়, প্রতিশোধকামনায় ক্ষিপ্ত হয়ে…

কিন্তু হলে কী হবে? রবি বসু অধস্তন পুলিশ-কর্মচারী। মূল-গায়েনরা কীর্তনের যে-পদ গাইবেন রবির মতো দোহারকি তার ধুয়ো ধরে থাকে মাত্র। বড় কর্তারা তারা-উদারার খেল দেখাবেন, ও শুধু পোঁ ধরে থাকবে। তাই সে গোপনে সাক্ষাৎ করেছিল বাসু-সাহেবের সঙ্গে। এমন কাণ্ড সে আগেও করেছে। এটুকু ঝুঁকি নিতে রবি পিছপাও নয়।

বাসু রাজি হয়েছেন। তাঁর মক্কেল যদি খালাস পায় তাহলে রবিকে সাহায্য করতে তাঁর আপত্তি কী? শর্ত হয়েছে: রবি যেসব সূত্র সংগ্রহ করবে গোপনে জানিয়ে যাবে, আর বাসু যদি অপরাধীকে চিহ্ণিত করতে পারেন, এমন কি সত্যানন্দ হলেও – তাহলে সবার আগে রবিকে গোপনে সেটা জানিয়ে দেবেন। অপরাধীকে চিহ্নিত এবং গ্রেপ্তার করার কৃতিত্ব লাভ করবে রবি বসু।

রবির সংগৃহীত সংবাদ: অটোন্সি-রিপোর্ট প্রত্যাশিত বার্তা। অর্থাৎ চীনে-খাবারের সঙ্গে কাম্পোজ খাইয়ে বিলাসকে ঘুম পাড়ানো হয়। খাদ্য জীর্ণ হতে সবে শুরু করেছিল। এই সময় শ্বাসরোধ হয়ে লোকটা মারা যায়। ওর ফুসসে ঐ বিশেষ গ্যাসের ক্ষীণ অস্থিত্বও প্রমাণিত। আহার গ্রহণের একঘণ্টার মধ্যেই তার মৃত্যু হয়।

দ্বিতীয় কথা : ঐ ঘরে যে-সমস্ত লেটেন্ট ফিঙ্গার-প্রিন্ট পাওয়া যায় তার মধ্যে অনেকগুলিই সনাক্ত করা গেছে:স্মরণিকা, বিলাসসিং, প্রবীর, ম্যানেজার প্রভৃতি। কিন্তু আরও দুটি ফিঙ্গারপ্রিন্ট পাওয়া গেছে, যার হদিস মেলেনি। একটি সম্ভবত সত্যানন্দের। দ্বিতীয়টি কার? ঐ ঘরের পূর্বতন বাসিন্দার হওয়ার সম্ভাবনা অল্প। কারণ পূর্বতন বাসিন্দা চেক-আউট করার পর ঘরটা ঝাড়-পোঁছ করার প্রথা আছে। সেটি আততায়ীর হওয়ার সম্ভাবনা। রুম-সার্ভিসের ব্যবস্থা ওখানে নেই। সংলগ্ন রেস্তোরাঁ থেকে অবশ্য খাবার ঘরে আনা হয়; কিন্তু সেখানকার কারও ফিঙ্গার-প্রিন্টের সঙ্গে ঐ টিপছাপ মিলছে না।

আজ বেলা দুটোর সময় প্রাথমিক কেসটা উঠবে। লাঞ্চ রিসেস্-এর পরে। সেশনস্-জাজ ঘোষের আদালতে। বাসু গাড়ি নিয়ে শেষবারের মতো তাঁর মক্কেলের সঙ্গে দেখা করতে গেলেন বেলা দশটা নাগাদ।

লোহার জালতির দু-পাশে দুজন। মেট্রন বসে আছে দূরে। শ্রুতিসীমার বাইরে কিন্তু দৃষ্টিসীমার নয়। বাসু বললেন, দেখা যাচ্ছে, তোমাকে কিছুতেই বোঝানো গেল না যে উকিলের কাছ থেকে তোমার কোন কিছুই গোপন করা উচিত নয়!

কেন, কী গোপন করছি আমি?

– গোপন কিছু করছ কিনা জানি না; কিন্তু তোমার জেঠুকে খুঁজে বার করার যে প্রয়াস আমি চালিয়ে যাচ্ছি তাতে সাহায্যও করছ না।

টুকু কপালের উপর থেকে চুলের গোছাটা সরিয়ে দিয়ে ওঁর চোখে-চোখে তাকালো। বলল, মেসো! খোলাখুলিই বলি – আমি আপনাকে সবরকম ভাবে সাহায্য করতে রাজি; কিন্তু জেঠুর ক্ষতি হতে পারে এমন কোন কথা আমি বলব না।

– এতদিনে তুমি নিশ্চয় বুঝতে পেরেছ যে, উনি তোমার জেঠু নন, তোমাদের মধ্যে রক্তের কোন সম্পর্ক নেই…

– জানি! কী করব? সেটা আমার হাতের বাইরে। জন্মের জন্য আমি দায়ী নই। কিন্তু বিশ্বাস করুন, মেসো – এ দুনিয়ায় একমাত্র তিনিই আমার আপনজন। তাঁকে ‘জেঠু’ বলে ডেকেছি বরাবর; কিন্তুতিনি বাস্তবে আমার বাবার মতোই।

– আচ্ছা, ঐ ব্যাপারটার কোন ফয়শালা হয়েছে? ভেবে বার করতে পেরেছ? তুমি কখন টাকাটাজেঠুর পকেটে দিয়েছ? সকালে না রাত্রে? ক্যাশ-সার্টিফিকেট না নগদ টাকা?

– হ্যাঁ, সেটা মনে পড়েছে। সকালে দিয়ে যাইনি। তা যদি বলে থাকি, তবে ভুল বলেছি। ব্যাঙ্ক থেকে ক্যাশ সার্টিফিকেটগুলো দিনের বেলা ভাঙাই আর রাতে যদু কলোনিতে ফিরে আসার আগে টাকাটা ওঁকে দিয়ে আসি।

– মোটেলটার এয়ার-কন্ডিশনিং বা ইলেট্রিসিটির বদলে গ্যাস ব্যবহার করার বিষয়ে কি জেঠুর সঙ্গে তোমার কোন কথা হয়েছিল?

টুকু ওঁর চোখে-চোখে তাকিয়ে বলল, এ-প্রশ্নের জবাব আমি দেব না, মেসো! এ প্রশ্ন কেন করছেন তা বুঝতে পারার মতো সাধারণ বুদ্ধি আমার আছে।

বাসু বললেন, তুমি একটা কথা ভুলে যাচ্ছ, টুকু। তোমার জেঠু আমার মক্কেল নন। আমার একমাত্র লক্ষ্য তোমাকে বাঁচানো। বুঝেছ?

– বুঝেছি।

– এখানেই তোমাকে আরও কিছুদিন থাকতে হবে। জজ-সাহেব জামিন মঞ্জুর করেননি।

– শুনেছি। ওটা ক্রমশ অভ্যাস হয়ে যাবে

– আচ্ছা চলি।-বাসু উঠে দাঁড়ালেন।

হঠাৎ টুকুও লাফিয়ে উঠল। লোহার জালতির উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। অস্ফুটে বলল, কেন এই সহজ কথাটা বুঝতে পারছেন না, মেসো? আমার বয়েস কম, আমার সহ্য-ক্ষমতা বেশি – দৈহিক আর মানসিক। দশ-বিশ বছরের জেল হলেও আমি সেটা সইতে পারব। কিন্তু এই…এই বাস্টার্ড মেয়েটাকে যিনি এতদিন বুক দিয়ে আড়াল করে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন তিনি এ আঘাত সইতে পারবেন না। তাঁকে এ আঘাত আমি সইতে দেব না! কিছুতেই দেব না।

বাসুর ইচ্ছে হল ওর মাথায় একটা হাত রাখেন। সে ইচ্ছা পূরণ করার সুযোগ নেই। আসামী আর তার উকিলের মাঝখানে লোহার জালতি।

বেলা সাড়ে-এগারোটা নাগাদ ফিরে এলেন নিউ আলিপুরে। আহারাদি সারতে। দুপুরে আবার আদালতে যেতে হবে। কৌশিক-সুজাতা কেউই বাড়ি নেই। বিশ্বনাথ টেবিলে খাবার সাজিয়ে দিচ্ছে। এমন সময় বেজে উঠল টেলিফোন। বাসু যন্ত্রটা তুলে নিয়ে বললেন, ইয়েস, বাসু স্পিকিং…

ও-প্রান্তবাসিনী নিশ্চিন্ত হতে চাইল, ‘বাসু’ মানে মিস্টার পি. কে. বাসু, বার-অ্যাট-ল?

– দ্যাটস্ ইট! কে বলছেন?

– আপনি আমাকে চিনবেন না। আমি আপনার একজন ‘ফ্যান’। মানে…আপনার সব ক্রিমিনালকে সই আমি খুঁটিয়ে পড়ি। আমি বহু দূর থেকে ট্রাঙ্ক লাইনে কথা ৰলছি। একটা জরুরী খঘর আপনাকে জানাতে চাই…

– বলুন?

– ‘বলুন’ নয়, ‘বল’। আমি আপনার মেয়ের বয়সী।

– ও সব ফর্মালিটি ছেড়ে কাজের কথাটুকু বল। আজ দুপুরে আমার একটা ইম্পর্টেন্ট কেস আছে আমার সময় কম…

– জানি স্যার। সেই কেস সম্বন্ধেই…আপনি যে বৃদ্ধটিকে খুঁজছেন…দমদম এয়ারপোর্ট পর্যন্ত যাঁকে ট্রেস করা যায়…

বাসুর মুঠি নিজের অজ্ঞাতসারেই শক্ত হয়ে ওঠে। যেন শক্ত হাতে রিসিভারটা ধরে থাকলে আচমকা লাইন কেটে যাবার আশঙ্কা থাকে না। বলেন, ইয়েস, সেই বৃদ্ধ কোথায়?

– আমার হোটেলে। এখানে। মাত্র দশফুট দূরে।

– তোমার হোটেলে? কোথায় সেটা?

– দার্জিলিঙে-এ। হোটেল কুণ্ডুজ।

– তোমার নাম?

– মিসেস্ হেনা মণ্ডল।

– ঐ হোটেলের মালিক তুমি?

– ইন এ ওয়ে। পার্টনারশিপ বিজনস।

– লুক হিয়ার হেনা! আমাদের প্রফেশানে নানান রকম কাণ্ড ঘটে। আমাকে দুটো বিকল্প সম্ভাবনাই যাচাই করে দেখতে হবে। তুমি কিছু মনে কর না যেন। এক নম্বর: হতে পারে, তুমি আমার হিতাকাঙ্ক্ষিণী। আমার ভালোর জন্যই গ্যাঁটের পয়সা খরচ করে ট্রাঙ্ক-কল করছ। দু-নম্বর: তুমি আমার শত্রুপক্ষ। বিপথে চালনার জন্য বিপক্ষের পয়সায় আমাকে ট্রাঙ্ক-কল করছ। – অল রাইট! আমি কিছু মনে করব না। আপনি কী ভাবে…

– বছি। সেই বৃদ্ধটির নাম উচ্চারণ কর না। হেতুটা নিশ্চয় বুঝতে পারছ। তুমি কি জান, দমদমে প্লেন ধরতে যাবার আগে তিনি কোথায় ছিলেন?

– জানি না। কিন্তু আপনার এই কেসটা কাগজে যেটুকু বার হচ্ছে সব পড়েছি। তাছাড়া ক’দিন আগে সন্ধ্যাবেলা টি. ভি.তে…

– আই নো! আই নো! তুমি লাইন কেটে দাও। আমি ‘টেলিফোন-অ্যাসিস্টেন্স’ থেকে দার্জিলিঙ-এর ‘হোটেল কুণ্ডুজ’-এর নম্বর সংগ্রহ করে তোমাকে পি. পি.কল করব। তবে টেলিফোনের যা অবস্থা, তোমাকে ধরতে পারব কিনা জানি না। যাই হোক, আমি একটা চান্স নেব। কাল সকালের ফ্লাইটে আমি বাগডোগরা যাচ্ছি, ওখান থেকে সোজা ট্যাক্সি নিয়ে দার্জিলিঙ। তুমি যদি আমার মিত্রপক্ষের হও তাহলে অশেষ উপকার করলে। আর যদি শত্রুপক্ষের হও তাহলেও প্রকারান্তরে উপকারই করলে– একদিনের জন্য দার্জিলিঙে ঘুরে এলে শরীরটা শান্ত হবে। মাথাটা খুলবে।

– থ্যাঙ্কু, স্যার। ‘শত্রু-শিবির’ বা ‘মিত্র-নিবাস’যাই হোক, আপনি হোটেল কুণ্ডুজ-এ অতিথি হবেন কিন্তু।

– থ্যাঙ্কস্ তো আমিই দেব। তবে অত্যন্ত দুঃখিত, ঠিক এখনই দিতে পারছি না। ওটা মুলতুবি রাখতে হচ্ছে। তবে হোটেল কুণ্ডুজ-এই উঠব।

ও-প্রান্তবাসী হেসে উঠল।

– হাসছ কেন?

– হাসছি এজন্য যে, আপনি আমাকে চিনতে পারছেন না– আমি শত্রপক্ষের, না মিত্রপক্ষের! অথচ আমি আপনার কথাবার্তায় ঠিক চিনতে পেরেছি। আপনি ভেজাল নন, টেলিফোনে যা শুনেছি তা টিপিক্যাল পি.কে. বাসুর ডায়ালগ।

লাইনটা কেটে দিল ও-প্রান্ত থেকে।