প্রথম পর্ব
দ্বিতীয় পৰ্ব
তৃতীয় পৰ্ব
চতুর্থ পৰ্ব
1 of 2

৯. হাতবদল

৯. হাতবদল

কলকাতা, ২০২৩

অপরাজিতা-সমীর গোরখপুর এক্সপ্রেসে উঠেছিল দিন সাতেক আগে। অজন্তা নিরুদ্দেশ হয়ে গিয়েছে দশ দিন হল।

গাড়ির নম্বর প্লেটটা পাওয়ার পরে কলকাতা পুলিশের তদন্তে বেশ গতি এসেছে। কিন্তু একটা জায়গায় গিয়ে হোঁচট খেয়ে যাচ্ছেন মির।

গাড়ির নম্বর প্লেটটা ঝাড়খণ্ডের। আরও নির্দিষ্ট করে বললে, গাড়িটা রাঁচির। কিন্তু পুলিশ যে-সন্দেহ করছিল, সেটাই হয়েছে। গাড়ির নম্বর প্লেটটা নকল। ফলে ওই জায়গায় এসে আটকে গিয়েছে পুলিশ।

কিন্তু অন্য একটা রাস্তা খুলে গিয়েছে পুলিশের সামনে। গাড়ির নম্বরটা পাওয়ার পরে এয়ারপোর্টের রাস্তায় ট্র্যাফিক সিগনালে লাগানো ক্যামেরাগুলোর ফুটেজ দেখা শুরু করে পুলিশ। এক দিকে ভিআইপি রোড, অন্য দিকে রাজারহাটের রাস্তা। শেষ বার অজন্তার ফোন সুইচ অন হওয়ার টাইম ছিল সন্ধ্যা ছ’টা নাগাদ। মিনিট পাঁচেকের জন্য সুইচ অন হয়েছিল। তার পরে বন্ধ হয়ে যায়। ওই সময়ের হিসেব করে পুলিশ ফুটেজগুলো দেখতে শুরু করে। কিন্তু ঘণ্টা দুয়েক পিছিয়ে গিয়েও লাভ হয়নি। তার পরে আরও পিছনে হাঁটতে থাকে পুলিশ।

এর পরে দুপুর দু’টো নাগাদ গাড়ির ছবিটা ভেসে ওঠে একটা ফুটেজে। কিন্তু তখন গাড়িটা এয়ারপোর্টে যাচ্ছিল না। ফিরে আসছিল। তা হলে কি অজন্তা আর রাজাকে নামিয়ে দিয়ে গাড়ি ফেরত আসছিল?

দু’ঘণ্টা মতো তা হলে বিমানবন্দরে অপেক্ষা করেছিল ওরা দু’জনে। কিন্তু এয়ারপোর্টের কোনও ক্যামেরাতেই ওদের ছবি ধরা পড়েনি। ওই সময়ের আশেপাশে যে-সব ফ্লাইট মুম্বই পাড়ি দিয়েছিল, তাদের প্যাসেঞ্জার লিস্টে অজন্তা নামটা পাওয়া যায়নি। বাকি প্লেনগুলোর প্যাসেঞ্জার লিস্টও দেখা হয়। কিন্তু লাভ হয়নি কোনও। মেয়েটা নিশ্চয়ই জালি ডকুমেন্ট নিয়ে উঠবে না। রাজা না হয় অন্য নামে টিকিট কেটেছিল। তা হলে কি ওরা অন্য কোনও রাস্তা দিয়ে পালিয়েছে? প্লেনে না উঠে বিহার চলে গিয়েছিল? সেখান থেকে মুম্বই বা দেশের অন্য কোনওখানে?

মির এসে এই একটা জায়গায় আটকে যাচ্ছিলেন। তিনি অবশ্য আর একটা কাজ করেছেন। মুম্বইয়ে তার কন্ট্যাক্টদের কাছে রাজার ছবিটা পাঠিয়ে দিয়েছেন। যদি কোনও খবর পাওয়া যায়। একই সঙ্গে গাড়িটার নম্বর দেওয়া হয়েছে কয়েক জন খোচরকে। যদি খবর মেলে।

খবরটা এই রকম একটা লোকের মারফতই এল। তিলজলার কাছে একটা বাড়িতে দিন দশেক আগে একটা সাদা স্করপিওকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল। ঠিক নম্বরটা কারও মনে নেই, কিন্তু গাড়িটা বাইরের। সম্ভবত বিহার কী জামশেদপুরের হবে। গাড়ি থেকে দু’টো মেয়েকে ওই বাড়িতে ঢুকতে দেখা যায়।

মিরের তখন কুটোটা পেলেও আঁকড়ে ধরার মতো অবস্থা। তিনি ঠিক করলেন, বাড়ির লোকেদের সঙ্গে এক বার কথা বলবেন।

.

নিজের ফ্ল্যাটে বসে পুরো ঘটনাটা আবার ভাবছিলেন সুপর্ণা। এর মধ্যে রাজীবের সঙ্গেও কথা বলেছেন তিনি। নতুন কিছুই আর জানা যায়নি। কৃষ্ণেন্দুকে পুলিশ আর জেরা করেনি। কিন্তু অজন্তা উদ্ধারের ব্যাপারেও তারা আদৌ কোনও রাস্তা পেয়েছে কি না, সেটাও বোঝা যাচ্ছে না।

আরও একটা ভয় ধরানো কথা কানে আসছিল সুপর্ণার। সেটা তিনি পুলিশ সূত্রেই শুনেছেন। এই ধরনের কেস বেশির ভাগই হিউম্যান ট্র্যাফিকিংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকে। যত দিন যাবে, মেয়েদের বাড়ি ফেরার সম্ভাবনা তত কমবে। পরে মেয়েদের উদ্ধার করলেও দেখা যাবে, তাদের এমন ক্ষতি হয়ে গিয়েছে যে, সুস্থ ভাবে বাঁচার কথাও ভুলে গিয়েছে তারা।

সুপর্ণা জানতেন, এই ধরনের হিউম্যান ট্র্যাফিকিংয়ের কেস সামলায় সিআইডি-র অ্যান্টি হিউম্যান ট্র্যাফিকিং ইউনিট। একটু খোঁজ করতেই বেরিয়ে গেল, এখন ওই ইউনিটে তাঁর এক পরিচিত পুলিশ অফিসারই রয়েছে। ইন্সপেক্টর রুদ্রাণী সিংহ। রুদ্রাণীর সঙ্গে সুপর্ণার প্রথম আলাপ হয়েছিল এক অনুষ্ঠানে। পরে সুপর্ণার আমন্ত্রণে তাঁদের এনজিও-র এক অনুষ্ঠানেও এসেছিল রুদ্রাণী। সুপর্ণাটি ঠিক করে নিলেন, রুদ্রাণীর সঙ্গে এক বার যোগাযোগ করে নেবেন।

.

তিলজলার কাছের ওই বাড়ির বাসিন্দাদের তুলে আনতে প্রথমে একটু বেগ পেতে হয়েছিল। কিন্তু মির দমেননি। শেষ পর্যন্ত বাড়ির দু’টো ছেলেকে ভুলে নিয়ে আসা হয় থানায়।

গাড়ির ছবিটা দেখিয়ে মির সরাসরি চার্জ করেন ছেলে দু’টোকে। বুঝিয়ে দেন, পুলিশ সব জেনে গিয়েছে। দু’টো মেয়ের কথা। এয়ারপোর্ট থেকে গাড়িটা ফিরে আসার কথা। সব কিছুই। তাতেও অবশ্য ছেলে দু’টোকে ভাঙা সহজ হচ্ছিল না। যে-কারণে আধ ঘণ্টা ধরে বিশেষ দাওয়াইয়ের ব্যবস্থা করতে হল। তার পরে মুখ খুলল দু’টো ছেলেই। সব শোনার পরে মির বুঝতে পারলেন, তিনি যা সন্দেহ করছেন, তা-ই। অজন্তা পাচার হয়ে গিয়েছে মুম্বইয়ে। আর হয়েছে হাওড়া স্টেশন দিয়ে, ট্রেন মারফত। আরও জানলেন, দু’টো মেয়ের সঙ্গে দু’টো ছেলেও ছিল। কৃষ্ণেন্দুর আঁকা ছবিটা দেখে ছেলে দু’টো স্বীকার করে নিল, এই ছেলেটাও তাদের বাড়িতে ছিল কয়েক ঘণ্টা। তার পরে মেয়ে দু’টো বোরখা পরে বেরিয়ে যায়। আরও একটু চাপ দিতে জানা গেল, একটা মেয়ে বেশ অসুস্থ ছিল। তাকে প্রায় ধরে ধরেই গাড়িতে তোলা হয়।

সব কিছু খুলে বলার পরে ছেলে দু’টো হাত জুড়ে কাঁকুতি-মিনতি শুরু করল। “স্যার, আমরা কিন্তু এর বেশি কিছু জানি না। এই বাড়ির মালিক বাইরে থাকে। আমাদের ফোন করে বলেছিল, কয়েক জন আসবে। ওদের জন্য একটা স্পেশাল ব্যবস্থা করে দিতে।”

স্পেশাল ব্যবস্থাটা কী, সেটাও জানা গেল। ছেলে দু’টোর উপরে দায়িত্ব পড়েছিল ভিন রাজ্য থেকে একটা গাড়ি আর বিশ্বস্ত ড্রাইভার জোগাড় করা। সেটা সমস্যা হয়নি। মোটা টাকার বিনিময়ে এই কাজগুলো খুব মসৃণ ভাবে হয়ে যায়। কেউ কোথাও মুখ খোলে না। একেবারে হাতেনাতে ধরা পড়ে গেলে আলাদা কথা।

এর পরে সেই গাড়ি চেপে বারোটা নাগাদ বেরিয়ে যায় তিন জন। ফেরে আবার তিনটে নাগাদ। তখন গাড়িতে একটা বাড়তি মেয়ে ছিল। তার পরে সাড়ে পাঁচটা নাগাদ চার জনই বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। হাওড়া স্টেশনে নামিয়ে দিয়ে গাড়ি আবার স্বস্থানে ফিরে গিয়েছে।

সব কিছু উগরে দেওয়ার পরে ছেলে দু’টো ফের কাকুতি-মিনতি করতে লাগল, “আমরা গাড়ির ব্যবস্থা করে দেওয়ার বাইরে আর কোনও কিছুর সঙ্গে জড়িত নই। মালিক বলেছে বলে কাজটা করেছি।”

মিরের তখন ছেলে দু’টোর কথা শোনার মতো অবস্থা নেই। ছেলে দু’টো ঠিক বলছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য ওই সময় অনুযায়ী হাওড়া স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজটাও দেখা হল। এবং, দেখা গেল, সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টা নাগাদ গাড়িটা হাওড়া স্টেশনে ঢুকছে।

মির তল্লাশি শুরু করলেন মুম্বই যাওয়ার ট্রেন দিয়ে। ওই সময় মুম্বই যাওয়ার একটা ট্রেনই ছিল। আর একটু চেষ্টার পরে সে দিন ওই ট্রেনের গার্ড, টিটিই, কেয়ারটেকার আর খাবার সরবরাহ করা ছেলেদের খুঁজে পাওয়া গেল। চার জনের ওই গ্রুপটার হদিশ পেতে এর পরে আর বেশি দেরি হয়নি। বোরখা পরা দু’টো মেয়েকে নিয়ে দু’জন ছেলে উঠেছিল ফার্স্ট ক্লাসের কেবিনে। চার জনেরই নাম এবং পরিচয় পত্র যে-জাল ছিল, তা বুঝতে সমস্যা হয়নি মিরের। এও বুঝেছিলেন, টিটিই-র সাহস হবে না, বোরখা সরিয়ে কোনও মেয়ের মুখ দেখে আইডির সঙ্গে মেলানোর। ফলে নির্বিঘ্নে শিকারকে নিয়ে গ্রুপটা নেমে গিয়েছে মুম্বইয়ে।

রুদ্রাণীকে ফোনেই পুরো ব্যাপারটা খুলে বললেন সুপর্ণা।

“আপনার কী মনে হয়, মেয়েটাকে খুঁজে পাওয়া যাবে?” কোনও-রকম ভণিতা না-করে সরাসরি জিজ্ঞেস করলেন সুপর্ণা।

“এই ধরনের কেস বেশির ভাগই হিউম্যান ট্র্যাফিকিংয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকে। তবে এত হাই প্রোফাইল টার্গেট আমি আগে দেখিনি। সাধারণত গরিব, গ্রামের বাড়ির মেয়েরাই টার্গেট হয়।”

“আপনি নিশ্চিত, অজন্তা ট্র্যাফিকিংয়ের শিকারই হয়েছে?”

রুদ্রাণী একটু ভেবে জবাব দিল, “নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। তবে সন্দেহ তো হচ্ছেই।”

“তা হলে আপনারা কেসটা নিয়ে নিচ্ছেন না কেন? আপনারা নিলে তো তদন্তটা আর একটু দ্রুত এগোয়। মেয়েটা বেঁচে গেলেও বেঁচে যেতে পারে,” সুপর্ণার গলায় এ বার আঁকুতি ঝরে পড়ল।

“কেসটা আমরা দুম করে নিতে পারি না। সব কিছুরই নিয়ম আছে।” এর পরে ব্যাখ্যা করলেন রুদ্রাণী। দু’ভাবে এই ধরনের মিসিং পার্সন কেস আসে অ্যান্টি হিউম্যান ট্র্যাফিকিং ইউনিটের কাছে। এক, যদি দীর্ঘ সময় পরে ও মেয়েটার কোনও খবর না পাওয়া যায় বা কেসটায় কোনও ব্রেকথ্রু না হয়। তা হলে সিআইডি-র অ্যান্টি হিউম্যান ট্র্যাফিকিং ইউনিট কেসটা নিজেরাই নিয়ে নিতে পারে বা আদালত সেই নির্দেশ দিতে পারে।

দ্বিতীয়ত, যদি লোকাল থানার ইনভেস্টিগেটিং অফিসার এমন কিছু প্রমাণ বা তথ্য হাতে পান, যার ভিত্তিতে তাঁর মনে হতে পারে, ব্যাপারটা হিউম্যান ট্র্যাফিকিংয়ের সঙ্গে জড়িত, তা হলে কেস হ্যান্ডওভার করার আবেদন করতে পারেন।

“আমাদের আর একটু অপেক্ষা করে দেখতে হবে যাদবপুর থানার অফিসার কী রিপোর্ট দেন। এর মধ্যে আমি নিজে একটু খোঁজ নিয়ে দেখছি,” যতটা পারে সুপর্ণাকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করল রুদ্রাণী।

.

তাঁর প্রাথমিক রিপোর্টটা হাতে নিয়ে ঊর্ধ্বতন অফিসারের সামনে বসে ছিলেন মির। একটুও রাখঢাক না-করে তিনি বলে চললেন, “স্যার, কেসটা কিন্তু ট্র্যাফিকিংয়ের দিকেই যাচ্ছে। যা সাক্ষ্যপ্রমাণ পেয়েছি, তাতে একটা ব্যাপার পরিষ্কার। অজন্তাকে ওই রাজা নামের ছেলেটাই ভুলিয়ে ফাঁদে ফেলে। এর পরে ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ডিলিট করে দেয়। একেবারে পাকা খেলোয়াড়।”

অফিসার কিছু না বলে শুনতে লাগলেন।

“এর পরে অজন্তার মোবাইলটা সুইচড অফ করে দেওয়ার পরে আরও এক বার অন করা হয়। সেটা সন্ধ্যা ছ’টা নাগাদ কলকাতা বিমানবন্দরে। তখন মোবাইলটা অজন্তার হাতে ছিল না। অন্য কেউ কাজটা করেছিল।”

“এটা একটা বড় গ্যাংয়ের কাজ মনে হচ্ছে,” থানা ইন-চার্জ প্রায় নিজের মনেই বললেন।

“একেবারে ঠিক স্যার। তার পরে মেয়েটাকে তিলজলার ওই বাড়িতে রাখা হয়। তখন নিশ্চয়ই ড্রাগের প্রভাবে ছিল। এর পরে বোরখা পরিয়ে ট্রেনে তুলে মুম্বই পাচার করে দেওয়া হয়েছে। নিঃসন্দেহে খুব বড় একটা গ্যাং এর পিছনে আছে।”

মির একটু থামলেন। অফিসার বুঝতে পারছিলেন, কেস ইন চার্জ ঠিক কথাই বলছেন।

“টাকার জন্য কিডন্যাপিংয়ের কেস এটা নয় বলছেন?”

মির একটু ভাবলেন। তার পরে জবাব দিলেন, “স্যার, কিডন্যাপাররা এত ঝুঁকি নিয়ে মুম্বই নিয়ে যাবে বলে মনে হয় না। ওরা কাছাকাছি কোথাও রাখত। বিহার-ঝাড়খণ্ড ওই দিকটায়। আর এত দিন হয়ে গিয়েছে, কেউ কোনও যোগাযোগই করেনি। পালিয়ে বিয়ে করার ব্যাপারটাও আমরা উড়িয়ে দিতে পারি। তা হলে তো একটাই কারণই পড়ে থাকছে। শুধু একটা ব্যাপার বুঝতে পারছি না। একটা মেয়ের জন্য এ রকম ঝুঁকি কেন নিচ্ছে গ্যাংটা? এমন কী বিশেষত্ব আছে মেয়েটার মধ্যে?”

অফিসারের কাছেও এই প্রশ্নের জবাব ছিল না। কিন্তু তিনি তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করে নিয়েছিলেন। মিরের দিকে তাকিয়ে বললেন, “ঠিক আছে। আপনি আপনার পুরো রিপোর্ট তৈরি করে ফেলুন। আমি বসদের সঙ্গে কথা বলছি কেসটা নিয়ে।”

দিন দুয়েকের মধ্যে রিপোর্ট তৈরি হয়ে গেল। সেই রিপোর্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার অব পুলিশের হাত ঘুরে চলে গেল আরও উপরমহলে। কেসটার গুরুত্ব বুঝে আর দ্বিধা করলেন না তাঁরা। সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেললেন। কেসটা সিআইডির অ্যান্টি হিউম্যান ট্র্যাফিকিং ইউনিটের হাতেই তুলে দিতে হবে। বিশেষ করে যেখানে আন্তঃরাজ্য ট্র্যাফিকিংয়ের অ্যাঙ্গলটাও উঠে আসছে।

এই ধরনের কেস সামলানোর জন্য এ এইচ টি ইউ-এর হাতে রসদটাও বেশি আছে। মিসিং পার্সন কেস ফাইল হওয়ার পরে নিরুদ্দেশ ব্যক্তির ছবি আর তথ্য আপলোড হয়ে যায় মিসিং পার্সন পোর্টালে। দেশের যে-কোনও প্রান্ত থেকে সেই তথ্যের উপরে নজর বোলানো যায়। ঠিক একই ভাবে পরিচয়হীন কাউকে উদ্ধার করতে পারলে তার ছবিও আপলোড করে দেওয়া হয় এই পোর্টালে। যাতে দেশের যে-কোনও প্রান্তের পুলিশ সেই ছবি দেখতে পায়।

এ এইচ টি ইউয়ের হাতে বাড়তি আরও কিছু ক্ষমতা আছে। তারা দেশের যে-কোনও ইন্টেলিজেন্স সংস্থার সাহায্য নিতে পারে পাচার হয়ে যাওয়া ভিক্টিমের খোঁজে। এমনকি, সাহায্য নেওয়া যেতে পারে ইন্টারপোলেরও। তা ছাড়া সঙ্গে সঙ্গে সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া হয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছে। যাতে সীমান্ত দিয়ে কাউকে বিদেশে পাচার করে না দেওয়া হয়। কিন্তু সমস্যা হল, এ এইচ টি ইউয়ের হাতে যখন কেস আসে, তখন এমনিতেই অনেক দেরি হয়ে যায়। ভিক্টিমরা হয়তো তত দিনে পাচার হয়ে গিয়েছে বাইরে।

.

নিজের ডিপার্টমেন্টে বসে অজন্তার কেস ফাইলটায় চোখ বোলাচ্ছিল রুদ্রাণী সিংহ। এই দায়িত্ব নেওয়ার পরে এই প্রথম কোনও কেস তার হাতে এল। আর সেটাই কি না এই রকম একটা কেস!

রুদ্রাণীর একটাই ভয় হচ্ছিল। মেয়েটাকে না এত দিনে বিদেশে পাচার করে দেওয়া হয়ে গিয়ে থাকে।

অজন্তাকে বিদেশে পাচার করে দেওয়া হয়নি। কিন্তু তার চামড়া পাড়ি দিয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরের ওপারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *