প্রথম পর্ব
দ্বিতীয় পৰ্ব
তৃতীয় পৰ্ব
চতুর্থ পৰ্ব
1 of 2

৫. আশার ছলনে ভুলি

৫. আশার ছলনে ভুলি

সুরাট, ২০২৩

প্যারিস দুর্ঘটনার ছ’দিন পরে।

নভেম্বর থেকে সুরাটে সূর্যাস্ত হয় মোটামুটি সন্ধ্যা ছ’টা নাগাদ। আর সাড়ে সাতটার মধ্যে পুরো ফাঁকা করে দেওয়া হয় ডুমাস বিচ। শহরের বাইরের যে- রাস্তা দিয়ে গাড়িগুলো সমুদ্রসৈকতের দিকে আসে, সেগুলো তখন বন্ধ করে দেয় পুলিশ। সমুদ্রসৈকত থেকে গাড়ি শহরের দিকে ফিরে যেতে পারে, কিন্তু আসতে পারে না।

ভোর রাতে অজন্তা আর রীতা সুরাটের যে-গোপন ঠিকানায় এসে নেমেছিল, সেটা মূল ডুমাস বিচ থেকে পাঁচ-ছ’কিলোমিটার দূরে।

শহর থেকে আসা সুরাট-ডুমাস রোড সমুদ্রেসৈকতের কাছে আসার আগে কয়েকটা দিকে ভাগ হয়ে গিয়েছে। সে-রকমই একটা রাস্তা দিয়ে মিনিট দশেক এগোলেই পাওয়া যাবে ছোট বাড়িটা। এক তলা, মাথায় টিনের ছাউনি। তিনটে ঘরের মধ্যে একটায় জড়সড় হয়ে বসে আছে অজন্তা।

সে বুঝতে পারছিল না, সামনে কী অপেক্ষা করে আছে। তবে এইটুকু বুঝে গিয়েছিল, খুব তাড়াতাড়ি তার ভাগ্যের ফয়সালা হয়ে যাবে। হয় এস্পার, নয় ওস্পার। অজন্তার মতো শান্ত মেয়েও যেন মানসিক ভাবে ক্রমে কঠিন হয়ে পড়ছিল। সে ঠিক করে নিয়েছিল, বাঁচার জন্য একটা মরিয়া চেষ্টা যদি করতে হয়, করবে। তাতে মরতে হলে আর কীই বা ক্ষতি হবে। বেঁচে থাকার পরিণাম হয়তো আরও ভয়ঙ্কর।

মুম্বই থেকে বেলা সাড়ে এগারোটা নাগাদ যে-এসইউভি-টা রওনা দিয়েছিল, সেটা সুরাটে এসে পৌঁছয় পাঁচটা নাগাদ। এই গাড়িটাও বিচ পর্যন্ত আসেনি। আরোহীদের অন্য একটা গ্রামে নামিয়ে দিয়ে আবার চলে গিয়েছিল শহরে।

গ্রামের লোকেরা অবশ্য এই ধরনের গাড়ি আর বহিরাগতদের আগমন নিয়ে মোটেই মাথা ঘামায় না। তারা জানে, বেশি মাথা ঘামালে মাথাটাই হয়তো চলে যাবে। আর পুলিশের যখন হেলদোল নেই, তারা কেন মিথ্যে ঝামেলায় জড়াবে। এমনিতেই ডুমাস বিচ নিয়ে অনেক কথা হয়।

সোলাঙ্কি, এডওয়ার্ডস আর অ্যাডাম জানত, এখন অপেক্ষার পালা চলবে।

.

রাত আটটা-সাড়ে আটটার পর থেকে ডুমাস বিচ পুরোপুরি জনশূন্য হয়ে যায়। সবাইকে বার করে দিয়ে পুলিশও চলে যায় জায়গাটা ছেড়ে। সৈকতে ইলেকট্রিক আলোরও কোনও ব্যবস্থা নেই। দূরের রাস্তায় টিমটিম করে কয়েকটা বাল্ব জ্বলে। কে আর আসবে এই ভূতুড়ে জায়গায়।

গ্রামবাসীরা বলে, রাত নামলেই জেগে ওঠে শয়তানের চেলারা। ঘোরাঘুরি করে অতৃপ্ত আত্মা।

সেই রাতে অবশ্য শয়তানের চেলাদের জেগে উঠতে আরও কিছুটা সময় লাগল। রাত দেড়টা-দু’টো না-হলে তো সমুদ্রের জল তীরের আরও কাছে আসবে না!

রাত এগারোটা নাগাদ অজন্তার সামনে এসে দাঁড়াল রীতা। ফিসফিস করে বলল, “আর ঘণ্টা দুয়েক বাদে তোমাকে এখান থেকে নিয়ে যাওয়া হবে। পুরো পরিকল্পনাটা দ্রুত শুনে নাও।”

অজন্তা কথা না বলে তাকিয়ে রইল।

রীতা বলে চলল, “তোমাকে ডুমাস বলে একটা বিচে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে তোমাকে তোলা হবে একটা ছোট ডিঙিতে। কিছু দূরে নিয়ে গিয়ে তোমাকে একটা মাছধরা ট্রলারে উঠিয়ে দেবে। সেই ট্রলার তোমাকে নিয়ে যাবে সমুদ্রে অপেক্ষা করে থাকা একটা জাহাজে। এই হল পরিকল্পনা।’

শুনে আতঙ্কে বড় বড় হয়ে গেল অজন্তার চোখ। সে ধরা গলায় বলল, “তা হলে আমাকে কে বাঁচাবে? জাহাজে এক বার উঠিয়ে দিলে তো আর ফিরে আসতে পারব না।”

চার দিকে দ্রুত চোখ বুলিয়ে রীতা এসে হাতটা চেপে ধরল অজন্তার। “আস্তে কথা বলো। ওরা শুনে ফেলবে। তোমাকে বাঁচানোর ব্যবস্থা হয়ে গিয়েছে। নৌকোয় ওঠানোর আগেই তোমাকে ওই বিচ থেকে উদ্ধার করা হবে। আমার সঙ্গে দিদির সেই মতো কথা হয়েছে।”

অজন্তা কোনও মতে নিজেকে সংবরণ করে রেখেছিল। ফোঁপানির মতো একটা শব্দ বেরিয়ে আসছিল তার মুখ থেকে। অনেক চেষ্টায় নিজেকে সামলে রাখল মেয়েটা।

রীতা আরও একবার হাত বুলিয়ে দিল অজন্তার মাথায়। চলে যাওয়ার আগে বলে গেল, “আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। তার পরে এদের হাত থেকে মুক্তি পেয়ে যাবে তুমি।”

আগের রাতের ঘুমের ওষুধের ঘোরটা পুরোপুরি যায়নি। তাই মাঝেমধ্যেই চোখটা বন্ধ হয়ে আসছিল। একটা ঘোরের মধ্যে ছিল অজন্তা। তবে বাইরে থেকে দরজা খোলার আওয়াজটা ঠিক কানে চলে এল তার।

বিছানায় উঠে বসল অজন্তা। সে জানত না, ঘড়িতে রাত একটা বেজে গিয়েছে। সমুদ্রের জল চলে আসছে পারের কাছে। যে-গভীরতায় ছোট রবাবের ডিঙি চলতে সমস্যা হবে না।

আবার ঘরে ঢুকে এল রীতা। তার হাতে একটা কাঁচের গ্লাস। যার মধ্যে রয়েছে সেই পরিচিত তরলটা।

“নাও, টুক করে খেয়ে ফ্যালো দিখি।”

গ্লাসটার দিকে তাকিয়ে একটু চমকে উঠল অজন্তা। এই রকম গ্লাসে চুমুক দিয়েই তো ঘুমিয়ে পড়েছিল সে। আবার সেই গ্লাস!

অজন্তার মুখে দ্বিধার ছাপটা দেখতে অসুবিধে হল না রীতার। সে দ্রুত কাছে এসে বলল, “এই গ্লাসে কোনও ওষুধ মেশাইনি আমি। তুমি শুধু খেয়ে একটু ঘুমের অভিনয় করো। তা হলে কোনও সমস্যা হবে না। না-হলে হাত-পা বেঁধে নিয়ে যাবে।”

অজন্তা নিজেকে শক্ত করে নিল। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে নিরীহ পশুও একটা শেষ চেষ্টা করে লড়াই করার। অজন্তা এখন সেই অবস্থায় এসে পৌঁছেছে। সে স্থির ভাবে বলল, “আমি দুধটা খাব না। ওষুধ মেশানো না থাকলে তুমি খেয়ে ওদের গিয়ে বলো, আমি খেয়েছি।”

রীতা অবাক হয়ে গেল অজন্তার পরিবর্তনে। তার পরে আর এক পা এগিয়ে এসে কড়া গলায় বলল, “চুপ করে খেয়ে নাও। ঝামেলা কোরো না।”

“না।”

রীতার মুখের ভাবটা ক্রমে বদলে যেতে লাগল। মিষ্টি ভাবটা হারিয়ে গিয়ে ভেসে উঠল একটা হিংস্র চেহারা।

এক হাতে অজন্তার ঘাড়টা ধরে অন্য হাতে গ্লাসটা মুখের কাছে নিয়ে এসে রীতা হিসহিস করে বলে উঠল, “হারামজাদি, চুপ করে দুধটা খেয়ে নে। না-হলে এখানেই তোর চামড়া ছাড়িয়ে নেব।”

রীতার পরিবর্তনটা দেখে কাঁপতে লাগল অজন্তা। এখান থেকে পালানোর যে-স্বপ্নটা সে দেখছিল, তা মুহূর্তে চুরমার হয়ে গেল। কিন্তু শেষ শক্তি সম্বল করে রীতার গ্লাস ধরা হাতে আঘাত করল সে। রীতার হাত থেকে গ্লাসটা ছিটকে মেঝেয় পড়ে টুকরো টুকরো হয়ে গেল।

সপাটে অজন্তার গালে একটা চড় মারল রীতা। ঝামেলার আওয়াজে তত ক্ষণে ঘরে ঢুকে এসেছে তিনটে মূর্তি। তার মধ্যে এক জন এগিয়ে এসে রীতাকে সামলাল, “তুই পাগল হলি নাকি। এর চোট লাগলে চলবে না। এত দিন যে- নাটকটা করে মেয়েটাকে পটিয়ে রাখলি, এখন চোট লাগলে সেটা পুরো বেকার হয়ে যাবে।”

রীতা রীতিমতো ফুঁসছে। এই কাজটার জন্য সে অনেক বেশি টাকা পাচ্ছে। ওই বাড়ির মহিলা এবং আব্দুল তাকে ডেকে দায়িত্বটা দিয়েছিল। এই মেয়েটাকে মারধর করা যাবে না, জোরাজুরি করা যাবে না। দেখতে হবে, যেন চোট না লাগে কোনও ভাবে।

এই কাজ তখনই সম্ভব, যখন মেয়েটা কারও কথা শুনে চলবে। কাউকে বিশ্বাস করবে। দায়িত্বটা এত দিন দারুণ ভাবে সামলে এসেছিল রীতা। অজন্তা তাকে পুরোদস্তুর বিশ্বাস করতে শুরু করে। ঠিক সময়ে উদ্ধার করা হবে, এই টোপ দিয়ে মেয়েটাকে সুরাট পর্যন্ত বিনা ঝামেলায় নিয়ে আসা গিয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ঝামেলা করে বসল। রীতার চিন্তা হয়ে গেল, পুরো টাকাটা এখন পাবে কি না।

অজন্তা সরে গিয়েছিল একটা কোনায়। এই ভাবে প্রত্যাঘাত করার পরে তার শরীরটা যেন হঠাৎ দুর্বল লাগছে, মাথা ঘুরছে।

তিনটে লোক এগিয়ে এল অজন্তার দিকে। সামনের লোকটা একটা ছুরি বার করে অজন্তার সামনে নাচিয়ে বলল, “একটা আওয়াজ যদি শুনেছি, তা হলে চোখটা তুলে নেব। চোখ ছাড়াও তুই বিক্রি হয়ে যাবি।”

বোবা আতঙ্কে তাকিয়ে রইল অজন্তা।

দুই সঙ্গীর দিকে তাকিয়ে লোকটা নির্দেশ দিল, “মেয়েটার হাত বাঁধ। মুখেও একটা কাপড় গুঁজে দিস। যাতে আওয়াজ করতে না পারে।”

মিনিট কয়েকের মধ্যেই অজন্তা আর আওয়াজ করার মতো অবস্থায় থাকল না। দু’টো লোক মেয়েটাকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে চলল বাড়ির বাইরে।

উঠোনেই দাঁড়িয়ে ছিল একটা সাইকেল ভ্যান। সেখানে অজন্তাকে চাপিয়ে উঠে বসল তিনটে লোক। প্যাডেলে চাপ দিল ভ্যান চালক।

.

জোয়ার আসতে শুরু করেছে। ডুমাস বিচে জল অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। আকাশের অর্ধাকৃতি চাঁদের মায়াবী আলোয় দেখা গেল কয়েকটা ছায়ামূর্তিকে। যারা একটা রাবারের বোট পারের যতটা কাছে আনা সম্ভব, নিয়ে এসেছে।

কেউ যদি আরও গভীর সমুদ্রের দিকে তাকাত, তা হলে একটা মাছ ধরার ট্রলার দেখতে পেলেও পারত। কিন্তু আরও গভীর সমুদ্রের বুকে যে- জাহাজটা রয়েছে, তার হদিশ সমুদ্রপার থেকে পাওয়া অসম্ভব।

অজন্তাকে নিয়ে সেই অভিশপ্ত ডুমাস বিচের দিকে রওনা দিল সাইকেল ভ্যানটা।

সমুদ্র-সৈকতের একটু উপরে লাগোয়া মন্দিরের আড়ালে অপেক্ষা করে ছিল তিনটে মূর্তি। এ বার তারা ধীরে ধীরে নেমে এল নীচে।

এখানটায় জল নেই। জল পেতে গেলে আরও একটু হাঁটতে হবে। এই জায়গাটা বেশ কাদা-কাদা। সমুদ্রের দিকে নয়, সোলাঙ্কি তাকিয়েছিল উপরের রাস্তাটার দিকে। সে এ বার বলে উঠল, “মেয়েটাকে নিয়ে আসছে ওরা।”

পেন্টার এবং অ্যাডাম, দু’জনেই ঘুরে তাকাল রাস্তাটার দিকে। একটা সাইকেল ভ্যান এসে থামল উঁচু চড়া মতো জায়গাটায়।

.

অজন্তাকে নিয়ে ভ্যানটা ডুমাস বিচে পৌঁছতে তখনও আট ঘণ্টার বেশি বাকি। বিকেল পাঁচটা নাগাদ সূর্যের হন্ডা সিটিটা এসে থামল সুলতানাবাদে ডুমাস পুলিশ স্টেশনের সামনে।

মুম্বই থেকে আসার পথে নিজের সন্দেহটা খোলাখুলি রুদ্রাণীকে বলে ফেলল সূর্য।

“দু’টো তথ্য আমরা হাতে পেয়েছি। এক, সুরাট থেকে বিদেশে মানুষ পাচার বেশি হচ্ছে। দুই, সীমান্ত পার করে আরব দেশগুলোয় মানুষ পাচার করতে হলে জলপথের চেয়ে ভাল রাস্তা আর কিছু হতে পারে না।”

রুদ্রাণী চুপ করে শুনে যেতে লাগল।

“গোটা তিনেক বিচ আছে সুরাটে। কিন্তু একটা বিচ বাকি দু’টোর চেয়ে আলাদা। ডুমাস বিচ। এই বিচটা হন্টেড। ভূতুড়ে!”

রুদ্রাণী অবাক দৃষ্টিতে তাকাল সূর্যের দিকে, “মানে?”

অল্প কথায় ডুমাস বিচের ইতিকথা রুদ্রাণীকে জানিয়ে দিল সূর্য। তার পরে বলল, “এই বিচে অনেক রকম ক্রাইম হয়। গণধর্ষণ, খুন, আত্মহত্যা। পুলিশ পাহারার ব্যবস্থা আছে ঠিকই, কিন্তু পাহারাদারদের সংখ্যাটা খুবই কম। সন্ধের পর থেকে এই বিচে কাউকে আসতে দেওয়া হয় না। ফাঁকা করে দেওয়া হয় পুরো জায়গাটা। পুলিশ পাহারা থাকার কথা, কিন্তু…।”

দু’জনে নীরবে চোখাচোখি করে নিল এক বার। তার পরে রুদ্রাণী প্রশ্ন করল, “তুমি কি মনে করো এই রুটটাই কাজে লাগানো হয় মানুষ পাচার করার জন্য?”

সূর্য গাড়ি ড্রাইভ করতে করতে আনমনে বলে উঠল, “আরব সাগরের বুকে এ রকম একটা সৈকত। দিনের বেলায় দারুণ জমজমাট। আর রাত হলেই পুরো ফাঁকা। শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে। এক দিকে শশ্মান। আর কিছুটা দূরে কয়েকটা গ্রাম। ফাঁকা অঞ্চল। সামনে বিস্তৃত আরব সাগর। একটু গভীরে যেতে পারলেই তুমি সবার নাগালের বাইরে।” সূর্য থামল। তার পরে রুদ্রাণীর দিকে ফিরে সরাসরি প্রশ্ন করল, “তুমি যদি এই রকম চক্র চালাতে, তা হলে কী করতে?”

রুদ্রাণী চুপ করে রইল। তার পরে জিজ্ঞেস করল, “এখন কী করবে?”

“প্রথমে ডুমাস পুলিশ স্টেশনে যাব।”

.

ডুমাস থানার অফিসারের সঙ্গে বেশ কিছুটা সময় কাটিয়েও কোনও লাভ হল না।

“এই কাহিনি শুনে আপনারা সেই মুম্বই থেকে সুরাট ছুটে এসেছেন একটা মেয়েকে উদ্ধার করবেন বলে? এ ছাড়া কোনও তথ্য-প্রমাণই নেই আপনাদের কাছে?” প্রায় অট্টহাস্য করে উঠল অফিসার। তার পরে বলল—

“আরে মশাই, এ সব গল্পকথা। মানছি, কিছু ক্রাইম হয় ওই জায়গায় আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটেছে। সে তো অনেক জায়গাতেই ঘটে। এত ফাঁকা একটা বিচ। রাতে পুলিশ কত নজর রাখবে বলুন তো? যে-কারণে মাঝেমধ্যে কিছু উল্টোপাল্টা ঘটনা ঘটে যায়। তা বলে মানুষ পাচার…!” সবেগে মাথা নাড়ল অফিসার।

নানা ভাবে খুঁচিয়েও কোনও লাভ হল না। অফিসার তার বক্তব্যে অনড় থাকল। মানুষ পাচার সম্পর্কে কোনও কথা তার কানে আসেনি।

কিছুটা সময় পরে থানা থেকে বেরিয়ে এল সূর্য আর রুদ্রাণী। গম্ভীর মুখে রুদ্রাণী বলল, “এ বার কী করবে? এখান থেকে কোনও ক্লু পাওয়া যাবে বলে তো মনে হয় না। কেউ সাহায্য করবে না।”

সূর্য ভাবছিল। “আমার এক বন্ধুর সঙ্গে কথা বলতে হবে। ও শহরে থাকে। আপাতত এখানে কিছু করার নেই। শহরে যাওয়া যাক।”

গাড়িটা থানার সামনে পার্ক করা। মুখটা সুরাট শহরের দিকে ঘোরানো। সূর্য গাড়িতে স্টার্ট দিতেই রুদ্রাণী বলে উঠল, “এক বার ওই ডুমাস বিচটা দেখে এলে হত না? এত কথা যখন শুনলাম।”

সূর্য মাথা নাড়াল। “ঠিকই বলেছ। চলো, বিচটা এক বার দেখে আসি।”

গাড়ির মুখটা ঘুরে গেল ডুমাস বিচের দিকে।

রুদ্রাণীদের মিলিয়ে যাওয়া গাড়িটা দেখতে দেখতে পকেট থেকে মোবাইলটা বার করে আনল অফিসার। তার আর কিছু করার নেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *