১. ফাটকা
মুম্বই, ২০২৩
প্যারিস দুর্ঘটনার চার ঘণ্টা আগে।
মোবাইলের সুরেলা বাজনায় ঘুম ভেঙে গেল পাঞ্চালীর। গত ২৪ ঘণ্টায় যা ঘটে গিয়েছে, তার পরে পাঞ্চালীর ঘুম এমনিতেই উড়ে গিয়েছে।
রুদ্রাণী থাকতে থাকতেই নিজের সংস্থার দু’জন ছেলেকে ফোন করে ব্যাপারটা বুঝিয়ে দেন পাঞ্চালী। এক ঘণ্টার মধ্যে দু’টো ছেলে চলে আসে পাঞ্চালীর ফ্ল্যাটে। রুদ্রাণী আর পাঞ্চালী মোটামুটি বুঝিয়ে দিলেন ব্যাপারটা। সমীর যত দিন আছে, তত দিন ওদের এখানে থাকতে হবে ২৪ ঘণ্টা। রুদ্রাণী আশ্বস্ত করল, দু’দিনের বেশি নয়। স্বামীকে আর এই নিয়ে একটা কথাও বলেননি পাঞ্চালী। বাইরে থাকা অবস্থায় টেনশনটা নিতে পারবে না।
ড্রয়িংরুমে দু’টো ছেলে ডিভানটা লম্বা করে পেতে শুয়ে পড়ে। গেস্টরুমে সমীর। পাঞ্চালী নিজের ঘরে শুয়ে বুঝতে পারছিলেন, কেউই ঘুমোতে পারছে না। ভোর রাতের দিকে চোখটা লেগে এসেছিল পাঞ্চালীর। তার একটু পরেই মোবাইল বাজল।
স্ক্রিনে রুদ্রাণীর নামটা দেখেই বুকটা ধড়ফড় করে উঠল পাঞ্চালীর। দ্রুত মোবাইলটা কানে লাগিয়ে বলে উঠল, “কী হয়েছে রে, বল!” মিনিট পাঁচেক পরে মোবাইলটা নামিয়ে রেখে পাথরের মতো বসে রইলেন পাঞ্চালী। কাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছেন, তার একটা আন্দাজ তিনি পেয়ে গিয়েছেন।
আধ ঘণ্টার মধ্যে ফ্ল্যাটের বেলটা বেজে উঠল আর রুদ্রাণী এসে বসল পাঞ্চালীর সামনে।
“কখন খবরটা পেলি তুই?”
“ভোরের দিকে। আমাকে সূর্য ফোন করে জানায়। তার একটু পরে তোমাকে ফোন করি।”
“তুই নিশ্চিত শ্রুতি শিণ্ডে আর বেঁচে নেই?”
“হান্ড্রেড পার্সেন্ট। তোমার এখানে কাগজ এলে দেখে নিয়ো। টিভি আর সোশ্যাল মিডিয়াতেও খবরটা ছড়িয়ে গিয়েছে। দুর্ঘটনায় মৃত প্রখ্যাত সার্জন।”
পাঞ্চালী একটু চুপ করে বসে রইলেন। তার পরে বললেন, “আমার কোনও সন্দেহই হয়নি শ্রুতি এই কাজের সঙ্গে জড়িয়ে। ও নিজেই আমাকে বলেছিল, প্ল্যাস্টিক সার্জন না হয়েও চামড়া তোলার ব্যাপারটা আয়ত্ত করা যায়। কসমেটিক সার্জারিটা শিখে নিতে সমস্যা হয় না। কত বড় শয়তান ভাব এক বার। সত্যিই ডক্টর ডেভিল!”
রুদ্রাণী মাথা নাড়ল, “মুখোশের আড়ালে মুখটা ঢেকে না রাখতে পারলে তো এরা কুকীর্তিটা করতেই পারবে না। জয়ন্ত দেশমুখের ব্যাপারটা ঘটে যাওয়ার তদন্তের মোড়টা পুরো অন্য দিকে ঘুরে গিয়েছিল। সমীর ফিরে না এলে কেউ জানতেও পারত না।”
“সব চেয়ে বড় কথা, এই ধরনের মানুষ বেশি করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে যায়। এক দিকে, সমাজসেবী বলে প্রচার পাওয়া হল, অন্য দিকে আবার নিজের কাজটাও গোপনে চালিয়ে যাওয়া যায়। কত বাচ্চা, কিশোর-কিশোরী যে-এই সব হোম থেকে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়, তা কেউ জানে না।” একটু থেমে পাঞ্চালী বললেন, “কে জানে, ওই বাচ্চাটাকে হয়তো শ্রুতিই চুরি করার তালে ছিল। জয়ন্ত নিয়ে যাওয়ায় ক্ষেপে যায়।”
পাঞ্চালী দৃশ্যতই ভেঙে পড়েছিলেন। তার পরে নিজেকে সামলে বলে উঠলেন, “কিন্তু পাপের শাস্তি ঠিকই পেয়ে গেল। ভয়ঙ্কর ভাবে মরতে হল নিজের লোকেদের হাতেই। ক্রাইম ডাজ নট পে।”
রুদ্রাণী ভাবছিল অন্য কথা। পাঞ্চালীর দিকে তাকিয়ে বলল, “ডক্টর ডেভিলকে ওরা সরিয়ে দিয়েছে। এ বার কিন্তু টার্গেট করবে সমীরকে। তুমিও নিরাপদ নও। আমাদের যা করার দ্রুত করতে হবে।
পাঞ্চালীর মুখটা গম্ভীর হয়ে এল। তার পরে জানতে চাইল, “কী করতে চাস?”
জবাব না দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করল রুদ্রাণী, “সমীর কোথায়? ঘুমোচ্ছে?” পাঞ্চালী মাথা নাড়লেন। রুদ্রাণী আবার গম্ভীর মুখে বলল, “ডক্টর ডেভিলের ব্যাপারটা ওকে জানানোর দরকার নেই। আমি দেখছি, কী করা যায়। তোমাকে জানাব।”
উঠে দাঁড়াল রুদ্রাণী। তার পরে বলল, “আমার মনে হচ্ছে সমীরকে এখান থেকে দ্রুত সরিয়ে দিতে হবে। সমীরকে বোলো, কালই হয়তো ট্রেনে করে ওকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা হয়ে যাবে। সে ভাবেই যেন তৈরি থাকে।”
রুদ্রাণী বেরিয়ে যাওয়ার পরে পাঞ্চালী এগিয়ে গেলেন রান্নাঘরের দিকে। ছেলেগুলোর জন্য আপাতত কয়েক কাপ চা তো বানানো যাক।
.
প্যারিস দুর্ঘটনার এক দিন পরে।
বান্দ্রা টার্মিনাসের পাঁচ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে ছিল ট্রেনটা। ১৯০৩৭ আউধ এক্সপ্রেস। রাত সাড়ে দশটা বাজে। আর একটু পরেই ছুটতে শুরু করবে ট্রেনটা।
টিয়ার স্লিপার ক্লাসের একটা আসনে বসে ছিল সমীর। আসনটা করিডর ঘেঁষে। জানলা দিয়ে প্ল্যাটফর্মের বাইরে এক বার তাকাল ছেলেটা। এই শেষ বার। আর সম্ভবত কোনও দিন সে মুম্বই ফিরে আসবে না। এই শহর তাকে শুধু যন্ত্রণা দিয়েছে, কষ্ট দিয়েছে। তার থেকে শুধু নিয়েই গিয়েছে। ফিরিয়ে দেয়নি কিছু।
পাঞ্চালী ম্যাডামই ঘরে ফেরার সমস্ত ব্যবস্থা করে দেন। পুলিশকেও কিছু জানানো হয়নি। সে জন্য অবশ্য কৃতজ্ঞ সমীর। জানালে তাকে এত ক্ষণে হাজতে ভরে দেওয়া হত। আপাতত সে দুনিয়ার সঙ্গে বিচ্ছিন্ন। গোরখপুর থেকে আসার সময়ই মোবাইলটা ছুড়ে ফেলে দিয়েছিল। চায়নি, কেউ তার খোঁজ পাক। এখন নতুন করে সেই যন্ত্রটাকে সঙ্গী বানাতে চায় না। পাঞ্চালী ম্যাডামকেও একই কথা বলে দিয়েছে সমীর। এক বার মুম্বই ছাড়ার পরে আর তাকে খুঁজে পাওয়া যাবে না।
রাত দশটা নাগাদ তাকে স্টেশনে নামিয়ে দেওয়া হয়। পাঞ্চালী ম্যাডাম নিজে এসেছিলেন স্টেশন পর্যন্ত ছাড়তে। তার পরে সমীরকে তুলে দেওয়া হল ট্রেনে। পাঁচ হাজার টাকা আর ট্রেনের টিকিটটা তার হাতে তুলে দিয়েছিলেন পাঞ্চালী। কিন্তু সমীর টাকা ফিরিয়ে দেয়। তার কাছে যা টাকা আছে, তাই দিয়ে সে বাড়ি ফিরে যেতে পারবে।
সিটে বসিয়ে দিয়ে পাঞ্চালী এবং তাঁর দুই সঙ্গী একটু আগে নেমে গিয়েছে ট্রেন থেকে। ট্রেন ছাড়ার সময় হয়ে এসেছে। কামরাটায় এক বার চোখ বুলিয়ে নিল সমীর। তার পাশে বসে আছে এক জন বয়স্ক মানুষ এবং এক মহিলা। খুব সম্ভবত ভদ্রলোকের স্ত্রী।
উল্টো দিকের বেঞ্চে দু’জন বসে। এরাও খুব সম্ভবত স্বামী-স্ত্রী। বরটা ঝিমোচ্ছে। বৌটার মাথা কাত হয়ে আছে সিটের পাশের স্টিলের সিঁড়িটার উপরে। যেটা দিয়ে আপার বার্থে ওঠা যায়। ঘুমিয়ে পড়েছে কি না, বোঝা যাচ্ছে না। মুখটা ঘোমটায় ঢাকা। করিডরের পাশে জানলার ধারের সিটে একটা লোকই বসে আছে। একটু গাঁট্টাগোট্টা ধরনের চেহারা।
সমীর মনে মনে হাসল। সে জানে, তার পিছনে আততায়ীরা ধাওয়া করে আসবে। আজ না হয় কাল, ঠিক তাকে ধরে ফেলবে। তার পরে কারও একটা ছুরির ফলা তার পেটেও ঢুকে যাবে। এফোঁড়-ওফোঁড় করে দেবে। কেড়ে নেবে তার প্রাণ। যেমন কেড়েছিল অপরাজিতার।
কামরাটায় আরও এক বার চোখ বুলিয়ে নিল সমীর। তার চারপাশে যারা বসে আছে, যে-কেউ তার ওপর হামলা করতে পারে। এমনকি, সামনের ওই বৌটাও। ছুরি বসিয়ে দিতে আর কতটা শক্তি লাগে। ওর শাড়ির ভাঁজে যে- কোনও ধারালো অস্ত্র লুকিয়ে নেই, কে বলবে!
তবে সমীর আর এই সব নিয়ে এখন ভাবে না। মরে গেলে মরে যাবে। সে চোখটা বন্ধ করল। মিনিটখানেক বাদে ট্রেনের হর্নে খুলে গেল চোখ। এ বার যাত্রা শুরু হবে। লোক এখনও উঠছে।
মুম্বই হলেও রাতের দিকে ঠান্ডাটা খারাপ পড়েনি। অনেকের গায়েই সোয়েটার। করিডর দিয়ে তার দিকে যে-লোকটা এগিয়ে আসছে, সে তো পুরো চাদরে মোড়া। মুখটাও অনেকটাই ঢাকা।
লোকটা এসে থেমে গেল সমীরের সামনে। সমীর মুখ তুলে তাকিয়ে চমকে উঠল। ওই চোখ দু’টো তার খুব চেনা। ভয়ঙ্কর দুঃস্বপ্নে তাড়া করে বেড়ায় ওই দু’টো চোখ।
সমীর চোখের দিকে তাকিয়ে ছিল বলে খেয়াল করেনি, লোকটার ডান হাত কখন চাদরের তলা থেকে বেরিয়ে এসেছে। কামরার স্বল্প আলোতেও চকচক করে উঠল ছুরির ফলাটা। তার পরে সেই ছুরি ধরা হাতটা বিদ্যুতের মতো উঠে এল সমীরের গলা লক্ষ্য করে।
গলাটা ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়ারই কথা। কিন্তু সমীর আর আনোয়ার, দু’জনেই অবাক হয়ে দেখল ছুরিটা সমীরের গলা পর্যন্ত এল না। তার আগেই থেমে গিয়েছে। পিছন থেকে আসা একটা হাতের মুঠোয় বন্দি হয়ে গিয়েছে আনোয়ারের কব্জি। অবাক দৃষ্টিতে দেহাতি বৌটার দিকে ফিরে তাকাল আনোয়ার। কিন্তু কিছু বলার আর সুযোগ পেল না।
একটা মোচড়ে আনোয়ারের ডান হাতটা পিছন দিয়ে উঠে গেল তার কাঁধের কাছে। যন্ত্রণায় চিৎকার করার ফাঁকেই আনোয়ার দেখে নিল, ছুরিটা ছিটকে পড়েছে দূরে। মুখ থেকে একটা গালাগালি বেরিয়ে আসছিল আনোয়ারের। কিন্তু সেটা জিভেই আটকে রইল। মেয়েটার বরটাও তত ক্ষণে উঠে দাঁড়িয়েছে। তার একটা বজ্রমুষ্টি আছড়ে পড়ল আনোয়ারের চোয়ালে। জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল অপরাজিতার খুনি।
আনোয়ারের পিছনে যে-দু’জন শাগরেদ ছিল, তারা কিছু বোঝার আগেই দেখল পাশের সিটে বসে থাকা গাঁট্টাগোট্টা লোকটা উঠে দাঁড়িয়েছে। হাতের পিস্তলটা সোজা তাক করে আছে তাদের দিকে। পরের মুহূর্তেই পুলিশ হুইসনের তীব্র আওয়াজে স্টেশন চত্বরের শান্তি টুকরো টুকরো হয়ে গেল। কামরাটকে তত ক্ষণে ঘিরে ফেলেছে রেল পুলিশ!
সূর্যের দিকে ফিরে হাসল রুদ্রাণী, “ঘুসিটা খুব জোরে মেরেছ। দেখো, আবার মরে গেল কি না।”
হাঁ করে পুরো ঘটনাটা বোঝার চেষ্টা করছিল সমীর। তার পরে হাল ছেড়ে দিল।
সূর্য নিচু হয়ে আনোয়ারকে পরীক্ষা করে দেখছিল। লোকটা জ্ঞান হারিয়েছে। চাদরটা সরিয়ে ভাল করে জামা-প্যান্ট হাতড়ে দেখল। না, আর কোনও অস্ত্র নেই। এ বার প্যান্টের পকেটে হাত দিয়ে দেখল। পাশের দু’টো পকেট ফাঁকা। পিছনেরটায় রয়েছে আনোয়ারের মানিব্যাগ।
মানিব্যাগটা খুলে সূর্য দেখল, বিশেষ কিছু নেই। পাঁচশোর নোট আর খুচরো মিলিয়ে হাজার পাঁচেক টাকা হবে। মানিব্যাগের সাইড পকেটের উপরে সাঁটা একটি লাস্যময়ী যুবতীর ছবি।
সাইড পকেটের বাটনটা খুলে ভিতরটা উঁকি মারল সূর্য। একটা ছবি রয়েছে। ছবিটা বার করে এক বার তাকাতেই সূর্যের মুখের ভাব বদলে গেল। রুদ্রাণী দেখছিল ভাল করে। সূর্যের মুখের ভাব দেখে বুঝে গেল, কিছু একটা গোলমাল আছে।
“কার ছবি? দেখি!” হাত বাড়িয়ে ছবিটা প্রায় ছিনিয়েই নিল রুদ্রাণী। তার পরে তার মুখের ভাবও বদলে গেল। চাপা উল্লাসের অভিব্যক্তি ফুটে উঠল মুখে। এই ছবির মুখটা সে চেনে। কৃষ্ণেন্দুর আঁকা স্কেচে দেখেছিল মুখটা। এই মুখ সেই রাজা বলে ছেলেটার!
তত ক্ষণে আরও একটা ব্যাপার নজরে পড়েছে সূর্যের। ছবির পিছনের সাদা অংশে কিছু একটা লেখা আছে।
“ছবির পিছনটা দেখো,” সূর্যের কথামতো ছবিটা উল্টো করে নিল রুদ্রাণী। আর তার মুখে খেলে গেল হাজার ওয়াটের হাসি।
ছবির পিছনে লেখা আছে একটা ঠিকানা।
.
তার ফ্ল্যাটটা বেশ ভালই। দু’কামরার। অবশ্য ভাড়ার। একাই থাকে ছেলেটা। আর দেদার নারীসঙ্গও উপভোগ করে। জীবনটাকে ‘এনজয়’ না করলে চলে নাকি। যে-কাজ সে করে, তাতে ভালই টাকা। সেই টাকা না ওড়ালে চলবে কী করে!
শিস দিতে দিতে শরীরে পারফিউম স্প্রে করছিল সে। কোকো শ্যানেল পারফিউম। অত্যন্ত দামি ব্র্যান্ড। তাকেই মানায়। আজ একটা পার্টি আছে। জেল্লা মেরে না গেলে হবে কী করে। রাত তো সবে বারোটা ছুঁইছুঁই করছে। নাইট ইজ স্টিল ইয়াং। আজ রাতভর মস্তি।
কলিংবেলের আওয়াজে মেজাজটা একটু খিঁচড়ে গেল ছেলেটার। এত রাতে আবার কে এল। কি হোলে চোখ রেখে দেখল, সুন্দর মতো একটা অল্পবয়সি মেয়ে দাঁড়িয়ে।
দরজা খুলতে আর দ্বিধা করল না ছেলেটা। নতুন চিড়িয়াটা কে, দেখতে হবে তো।
দরজা খুলে ছেলেটা বুঝল, ভাল কাজই করেছে। কি হোল দিয়ে ঠিক বোঝা যাচ্ছিল না। এখন বোঝা গেল, মেয়েটা দেখতে দারুণ। চাম্পুস ফিগার। জিন্স আর টি-শার্টে আরও খোলতাই হয়েছে চেহারাটা।
মেয়েটাকে নীচ থেকে ওপর পর্যন্ত মেপে নিয়ে ছেলেটা বলল, “কে তুমি ডার্লিং? কী চাই?”
জবাবটা অবশ্য শোনা হল না। মেয়েটার হাতটা মুঠো হয়ে প্রচণ্ড জোরে আছড়ে পড়ল ছেলেটার নাকে। অসহ্য যন্ত্রণায় মাটিতে লুটিয়ে পড়তে পড়তে ছেলেটা বুঝঝল, তার মুখ রক্তে ভেসে যাচ্ছে। নাকের হাড়টা ভেঙেই গিয়েছে সম্ভবত।
দরজা ঠেলে ঘরে ঢুকে এল রুদ্রাণী সিংহ। রাজা বলে ছেলেটা তখন যন্ত্রণায় প্রায় সংজ্ঞা হারিয়েছে।
