প্রথম পর্ব
দ্বিতীয় পৰ্ব
তৃতীয় পৰ্ব
চতুর্থ পৰ্ব
1 of 2

১৫. ফাঁদ

১৫. ফাঁদ

আলো-আঁধারির মুম্বই-কলকাতা, ২০২৩

লোকগুলোর সামনে একটা করে ল্যাপটপ খোলা। চোখগুলো স্ক্রিনে আটকানো। কারও সামনে ফেসবুক পেজ খোলা, কারও সামনে ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট। একটার পর একটা অ্যাকাউন্ট জরিপ করে চলেছে তারা। খুঁজে চলেছে ভবিষ্যতের শিকার।

শিকার খোঁজার নানা দিক আছে। কখনও চাক্ষুষ দেখে, কখনও সোশ্যাল মিডিয়া মারফত। পৃথিবীটা এখন যে-ভাবে ছোট হতে শুরু করেছে, তাতে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে শিকার চিহ্নিত করা অনেক সোজা হয়ে গিয়েছে। মুম্বই এবং দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা এই রকম ছোট ছোট ঘরে বসে লোকগুলো একটা কাজই করে। শিকার চিহ্নিত করা। এক বার শিকার বেছে নেওয়ার পরে তার অ্যাকাউন্ট ডিটেল পাঠিয়ে দেওয়া হয় টিম লিডারের কাছে। সেই টিম লিডার মারফত ছবি, নাম, অ্যাকাউন্টের হাল-হদিশ পৌঁছে যায় এক্সপার্টদের কাছে। তার পরে কাজে নামে সেই সব এক্সপার্ট।

তাদের কাছে পরিষ্কার নির্দেশ আছে, কী করতে হবে। শিকারদের জালে ফেলা। মানে প্রেম-ভালবাসার জালে। তার পরে যখন সেই জালে সম্পূর্ণ ভাবে জড়িয়ে পড়বে শিকারেরা, তখন তাদের টেনে ডাঙায় তুলতে হবে। সব সময়ই যে-শিকার জালে ফাঁসে, তা নয়। অনেক ক্ষেত্রে প্রেমের ফাঁদে পড়ে না শিকার। তখন অন্য রাস্তায় চেষ্টা করতে হয়। না-হলে সেই শিকারকে ভুলে অন্য জনকে নিশানা বানাতে হয়।

নিম্ন থেকে উচ্চবিত্ত, বড়লোক থেকে গরিব, গ্রাম থেকে শহুরে মেয়ে- এক-একটা বৃত্তের জন্য এক-এক রকমের এক্সপার্ট থাকে। স্বাভাবিক ভাবে যে- ছেলেটা সুন্দরবনের কোনও গ্রামের মেয়েকে ফাঁসাতে পারবে, তার পক্ষে শহুরে কোনও মেয়েকে জালে তোলাটা কঠিন বা অসম্ভব হয়ে পড়ে। সেই সব মেয়ের জন্য অন্য গোত্রের এক্সপার্ট থাকে। শহুরে। ইংরেজি-হিন্দি বা আরও কোনও ভাষায় দক্ষ। স্মার্ট, ঝকঝকে চেহারা। দেখতে অনেকটা নায়ক-নায়ক। এরা শিক্ষিত, ইন্টারনেটের জগতে বিচরণ করার ব্যাপারে সিদ্ধহস্ত। অন্ধকার জগতে এই ধরনের ছেলের অভাব হয় না। এদের রেটটাও স্বাভাবিক ভাবে অনেক বেশি।

রাজা এই রকমই একটা টপ ক্লাস এক্সপার্ট গ্রুপের খুব দামি সদস্য। বাছা বাছা মেয়ের ক্ষেত্রেই তাকে কাজে লাগানো হয়। যে-মেয়েদের সমাজের একটু উপরের দিকেই চলাফেরা। মাস কয়েক আগে তার হাতে একটা ছবি আর কিছু তথ্য তুলে দেওয়া হয়েছিল। নির্দেশটা ছিল পরিষ্কার। এই মেয়েটাকে জালে ফাঁসাও। একে আমার দরকার আছে।

মেয়েটার ছবিটার দিকে তাকিয়ে রাজা নামের ছেলেটা বুঝে গিয়েছিল, কেন দরকার। ছবিতেও মেয়েটার গায়ের চামড়ার ঔজ্জ্বল্য বোঝা যাচ্ছিল। এখন এই রকম চামড়ার মেয়ে, এমনকি ছেলেদেরও কদর বাড়ছে। মেয়েটার নাম আর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটা ছবির সঙ্গে দেওয়া ছিল। অজন্তা। কলকাতার মেয়ে।

খুব একটা সমস্যা হয়নি মেয়েটাকে জালে ফাঁসাতে। এই ধরনের মেয়েদের ক্ষেত্রে সমস্যাও হয় না। এরা একটা বদ্ধ জগতে দীর্ঘদিন আটকে আছে। মনের মধ্যে সুপ্ত আকাঙ্ক্ষা দমিয়ে রেখে। কিন্তু কিশোরী বয়সের দমিত এই বাসনা মনের মধ্যে বুদবুদের মতো ফুটতে থাকে। কোনও মতে বোতলের ছিপিটা খুলে দিতে পারলেই হল। তার পরে নিজে থেকেই সব কিছু ঘটতে থাকবে।

অজন্তার ক্ষেত্রেও সেটাই হল। ঘনিষ্ঠ হতে খুব বেশি সময় লাগল না রাজার। কয়েক মাসের মধ্যেই অনেকটা বশে চলে এল মেয়েটা। তার পরেই এল পরীক্ষার পালা।

দু’টো জিনিস দেখে নিতে চেয়েছিল তার উপরওয়ালা। মেয়েটা কতটা রাজার বশে এসেছে। আর মেয়েটাকে সামনে থেকে দেখতে কী রকম লাগে। সত্যিই কি ত্বকের ও-রকম ঔজ্জ্বল্য আছে নাকি ছবিতে ফোটোশপেরও কিছু কেরামতি আছে। তবে তাদের এক্সপার্টেরা দেখে বলে দিয়েছিল, মেয়েটা ফিল্টার ছাড়াই ছবি আপলোড করছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তবু চোখে দেখে নেওয়াটা জরুরি।

যে-কারণে আনোয়ার শাহ রোডের ওই বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে নজরদারি। যে-কারণে ওই দিন অজন্তাকে রাস্তায় টেনে আনা। একই সঙ্গে সে দিন তিন জোড়া চোখ দেখছিল অজন্তাকে। তার সহপাঠী কৃষ্ণেন্দু। আর মুম্বই থেকে আসা দুই শিকারি। এক-এক জনের চোখে ছিল এক রকমের ভাষা। কারও চোখ নীরবে নৈবেদ্য সাজিয়ে দিচ্ছিল অজন্তাকে, কেউ মেপে নিচ্ছিল তার ত্বকের ঔজ্জ্বল্য। আর কেউ দেখছিল, মেয়েটার চোখে প্রেমের আগুনের উত্তাপ কতটা। অজন্তা তিন জনের কাউকেই সে দিন দেখতে পায়নি। কিন্তু তার ভাগ্যের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছিল রাস্তার ও-পারে থাকা ছেলেগুলো।

.

আগের রাতে প্রায় কিছুই মুখে দিতে পারেনি অজন্তা। মা কয়েক বার বলার পরে হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন। মেয়েকে বিশেষ ঘাঁটাতে চাননি।

পরের দিন সকালে অফিসে যাওয়ার আগে মা বললেন, “কী রে, তোর মেজাজ ঠিক আছে? শরীর ঠিক আছে? আমি কি আজ বাড়ি থেকে যাব?”

অজন্তা মায়ের দিকে মুখ না তুলে টোস্টে মাখন লাগাতে লাগাতে জবাব দিল, “কোনও দরকার নেই। তোমরা অফিসে চলে যাও। আমি ঠিক আছি।”

বাবাও অবাক হয়েছিলেন মেয়ের আচরণে। কিন্তু মায়ের কথামতো কিছু বলতে যাননি মেয়েকে। দু’জনেই আপাতত অজন্তাকে একা ছেড়ে দেওয়ারই সিদ্ধান্ত নিলেন।

বাবা-মা বেরিয়ে যাওয়ার পরে নিজের ঘরে দিয়ে দরজা বন্ধ করে দিল অজন্তা। বেলা দশটা বেজে গিয়েছে। তখনই আবার মোবাইলটা বাজতে শুরু করল।

মোবাইল স্ক্রিনে একটা বিশেষ নাম ভেসে উঠছিল। রাজার ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলের নাম। অজন্তা আবারও মোবাইলটা বেজে যেতে দিল। কিন্তু তৃতীয় বারে এসে তার সঙ্কল্প টলে গেল। মোবাইলটা কানে তুলে ক্রুদ্ধ নাগিনীর মতো ফুঁসে উঠল অজন্তা-

“কী চাই তোমার? কেন বার বার ফোন করছ? তোমার সঙ্গে আমি একটা কথাও বলতে চাই না।”

ও পাশ থেকে প্রায় ফোঁপানির মতো করে জবাব এল, “আমার কথাটা শোনো প্লিজ। ফোনটা কেটে দিয়ো না। তা হলে হয়তো আমি চিরকালের জন্য হারিয়ে যাব।”

অজন্তা কিছু বলল না। কিন্তু ফোনটাও কাটল না।

উল্টো দিকের ছেলেটা বলে যেতে লাগল-

“আমি কিছু বলার আগে তোমাকে ইনস্টাগ্রামে একটা ছবি পাঠাচ্ছি। তার পরে আবার ফোন করছি। তুমি আগে ছবিটা দেখো।”

ফোনটা কেটে যাওয়ার পরমুহূর্তে টুং করে ইনস্টাগ্রাম জানান দিল, একটা মেসেজ এসেছে।

অজন্তা মেসেজটায় ক্লিক করে অবাক হয়ে গেল। একটা ছবি পাঠিয়েছে রাজা। অজন্তারই ছবি। নিজেদের কমপ্লেক্সের গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে আছে সে। পোশাকটা দেখে বুঝে নিতে অসুবিধা হল না, এটা গত কালের ছবি। যখন সে রাজার সঙ্গে দেখা করবে বলে রাস্তায় এসেছিল। ফোনটা আবার বেজে উঠল।

অজন্তাই এ বার প্রথমে কথা বলল, “এর মানে কী? এই ছবিটা কে তুলেছে?”

“আমি।” কয়েক সেকেন্ডের বিরতি। তার পরে রাজা বলে চলল, “আমি কাল এসেছিলাম তোমার কমপ্লেক্সের বাইরে। তুমি বেরিয়ে এসেছিলে। গেটের সামনে মিনিট পনেরো দাঁড়িয়েছিলে। এ-দিক ও-দিক দেখছিলে। তার পরে ভিতরে চলে যাও। আমি রাস্তার ও-পারে দাঁড়িয়ে তোমায় দেখেছি। কিন্তু কিছুতেই সাহস করে তোমার কাছে যেতে পারিনি।”

অজন্তা চুপ করে শুনে যেতে লাগল।

“আমার ভয় হচ্ছিল তোমাকে নিয়ে। তোমাকে গেটের বাইরে আসতে বলে আমি ভুল করেছিলাম। বুঝতে পারছিলাম, আমি যদি ওখানে গিয়ে তোমার সঙ্গে কথা বলি, তা হলে তোমার পরিচিত কেউ দেখে ফেলতে পারে। তোমার বাবা-মা জেনে যেতে পারে। তা হলে তুমি সমস্যায় পড়ে যাবে। আমি তো মুম্বই ফিরে যাব। কিন্তু তোমার কী হবে? সেই চিন্তায় তোমার সামনে যেতে পারিনি। বিশ্বাস করো, একটুও মিথ্যা বলছি না।”

অজন্তা বুঝতে পারছিল না কী বলবে। তার পরে আক্রমণের রাস্তাই বেছে নিল। “একদম মিথ্যে বলবে না। এই ছবিটা তোমার কোনও বন্ধু তুলে দিয়েছে। তুমি মুম্বইয়েই বসে আছ। আর মিথ্যা কথা বলে আমাকে ইমপ্রেস করার চেষ্টা করছ।”

“তোমার দিব্যি দিয়ে বলছি, আমি এখন কলকাতায় আছি। আজ মুম্বই ফিরে যাবার কথা ছিল। কিন্তু আমি টিকিট বাতিল করে দিয়েছি।”

অজন্তা চুপ করে গেল। কী বলবে বুঝতে পারছিল না। রাজাকে বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করছিল, কিন্তু মনের মধ্যে সন্দেহের শিকড়টা পুরোপুরি উপড়ে ফেলতে পারছিল না। রাজার কথাগুলো কানে ভেসে আসতে লাগল-

“তোমাকে একটা কথা বলে রাখছি। তোমার সঙ্গে দেখা না-করে আমি মুম্বই ফিরে যাব না। তাতে যা হওয়ার হবে। যদি কলকাতার পথেঘাটে আমাকে ভিক্ষে করে থাকতে হয়, তবে তাই হবে। কিন্তু তোমার সঙ্গে দেখা না-করে আমি বাড়ি ফিরব না।”

অজন্তার মনে সেই ভাললাগার ভাবটা আবার ধীরে ধীরে ফিরে আসছিল। কিন্তু নিজেকে কঠোর রেখেই জবাব দিল, “তোমার কথায় আর আমি ভুলছি না। বাজে কথা বলা বন্ধ করো।”

রাজার গলাটা এ বার থরথর করে কেঁপে উঠল, “আমাকে একটা সুযোগ দাও। তুমি যেখানে বলবে, আমি সেখানে দেখা করব। তুমি যখন বলবে আমি তখনই আসব। তা হলেই বুঝতে পারবে, আমি সত্যি বলছি না মিথ্যে। আর আমি নিজের সম্পর্কেও কয়েকটা কথা তোমাকে বলতে চাই। একটা সুযোগ না দিয়ে আমাকে বিচার কোরো না। এইটুকুই প্রার্থনা করছি। তার পরে তুমি যদি দূরে সরে যেতে চাও, তাই হবে। আমি আটকাব না।”

অজন্তার মনের প্রাচীরটা আবার ভেঙে পড়ল। বরফ গলে গেল। একটু ভেবে একটা বিশেষ ক্যাফের নাম বলে দিল রাজাকে। আর দেখা করার সময়টা।

.

নির্দিষ্ট সময় বিশেষ ওই ক্যাফের টেবিলে এসে বসল অজন্তা। এ দিন লুকিয়ে-চুরিয়ে আসেনি সে। অজন্তা জানত, বাবা-মা বেরিয়ে যাওয়ার পরে সে যদি না-বলে কোথাও যায়, তা হলে কাজের দিদি মাকে ফোন করে সব জানিয়ে দেবে। তখন ব্যাপারটা আরও খারাপ হবে। তাই মাকে আগে বলেই রেখেছিল অজন্তা। দুপুরে বন্ধুর বাড়ি যাবে পড়াশোনার ব্যাপারে কথা বলতে। মা কী বুঝেছিলেন কে জানে। কিন্তু অজন্তাকে একটু ছাড় দিতে রাজি হলেন। তিনি বুঝতে পারছিলেন, মেয়ে না-হলে হঠাৎ বিদ্রোহ করতে পারে। আর অফিসের সময়ও হয়ে যাচ্ছিল। বেশি কিছু বলারও সময় ছিল না।

দুপুরের দিকে একটা উবার নিয়ে অজন্তা চলে এল ওই বিশেষ ক্যাফেতে। আর মিনিট পাঁচেক অপেক্ষা করার পরেই দেখতে পেল রাজার লম্বা- চওড়া চেহারাটাকে। ছবিতে যে-রকম দেখেছিল, তার চেয়ে বাস্তবে অনেক বেশি আকর্ষক। সত্যিই একটা নায়কোচিত ভাব আছে। রাজা সামনে এসে দাঁড়াতেই একটু লজ্জা পেয়ে চোখটা নামিয়ে নিল অজন্তা। চেয়ার টেনে মেয়েটার সামনে বসে পড়ল মুম্বই থেকে আসা শিকারি!

প্রেমের জালে আবদ্ধ হওয়া দুই তরুণ-তরুণী প্রথম বার পরস্পরের মুখোমুখি হলে যে-রকম আবোলতাবোল কথা বলে, অজন্তা আর রাজার আলোচনাটা সে দিকেই চলতে লাগল। মিনিট পনেরো পরে রাজা বলে উঠল, “তোমাকে একটা কথা বলতে চাই।”

অজন্তা কোল্ড কফির কাপে একটা আলতো চুমুক দিয়ে রাজার দিকে তাকিয়ে রইল।

“আমার বাবার বেশ কয়েকটা ব্যবসা আছে। ট্র্যান্সপোর্টের, রেস্তরাঁর, ট্যুর অ্যান্ড ট্র্যাভেলসেরও। আমি এমবিএ-র একটা কোর্স করছিলাম, সেটা তো তুমি জানো। এর পাশাপাশি আমি নিজের একটা রেস্তরাঁ খুলেছি নবি মুম্বইয়ে। সম্পূর্ণ আমার। এতে বাবার কোনও অংশ নেই। তাই এখন প্রচুর পরিশ্রম করতে হচ্ছে এই রেস্তরাঁকে দাঁড় করানোর জন্য। স্বপ্ন আছে, একটা রেস্তরাঁর চেন খুলব। তুমি পাশে থাকবে তো?”

অজন্তা চোখ নামিয়ে জবাব দিল, “দেখা যাক।”

রাজা মিনিটখানেক চুপ করে রইল। তার পরে বলল, “তোমার সঙ্গে দেখা হয়ে গেল। আমি কালকের ফ্লাইটের টিকিট কাটব এ বার। মুম্বই ফিরে যাব। জানি না, তোমার সঙ্গে কবে আবার দেখা হবে। কারণ এটা জানি, তোমার পক্ষে মুম্বই আসা সম্ভব হবে না।”

অজন্তা চুপ করে রইল। তার পরে মুখ তুলে একটু করুণ হাসল, “এখন তো সত্যিই আসা কঠিন। তুমি তো সবই বুঝতে পারছ।”

রাজা মাথা নাড়ল। তার পরে মুখটা সামনে একটু ঝুঁকিয়ে অজন্তার চোখে চোখ রেখে ফিসফিস করে বলল, “জানি সে-কথা। কিন্তু আমার ভয় লাগে। যদি আমার কিছু হয়ে যায়, তা হলে কী হবে! তখন যেন তোমাকে অন্তত শেষ বারের মতো এক বার দেখতে পাই, এটাই আমার প্রার্থনা।”

অজন্তা কেঁপে উঠল। তার পরে তার পেলব আঙুলটা রাজার ঠোঁটে রেখে বলে উঠল, “কী সব পাগলের মতো কথা বলছ। এই ধরনের কথা কখনও বলবে না। আমি সব সময় তোমার পাশে থাকব।”

একটু দূরের টেবিলে বসা লোকটা ধোঁয়া ওঠা কফির কাপে চুমুক দিতে দিতে নিজের মনেই হাসল। সত্যি ছেলেটার কেরামতি আছে। এক বার ওর জালে কেউ আটকে গেলে, তার মুক্তি পাওয়া প্রায় অসম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *