প্রথম পর্ব
দ্বিতীয় পৰ্ব
তৃতীয় পৰ্ব
চতুর্থ পৰ্ব
1 of 2

১৩. দ্য মিটিং

১৩. দ্য মিটিং

হোটেল অ্যাটলান্টিস, পাম জুমেইরা, দুবাই, ২০২৩

আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আবার নিজের মুখে হাত বোলাতে লাগলেন ডক্টর ডেভিল। নিজের মুখের প্রতিবিম্বটা দেখলেই তাঁর মনটা ভাল হয়ে ওঠে। আর এখন তো মন ভাল হওয়ার অনেক খবরই মজুত আছে তাঁর কাছে।

ক্লিনিকের মতো এখানে তাঁর সেই মাস্কটা পরার কোনও প্রয়োজনই নেই। এখানে তাঁর আসল কাজের কথা কেউ জানে না। এখানে সবাই তাঁকে এক জন প্রখ্যাত সার্জেন বলেই জানে। এক জনই আছে, যে-তাঁর নাম-ধাম-কাম সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। কিন্তু তাঁর কাছে মুখ ঢেকে যাওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই।

রোলেক্সের দামি হাতঘড়িটায় চোখ বুলিয়ে নিলেন ডক্টর ডেভিল। সময় হয়ে এসেছে। যাঁর সঙ্গে দেখা করতে হবে, তাঁকে অপেক্ষা করিয়ে রাখার সাহস সত্যিকারের শয়তানেরও হবে কি না, সন্দেহ! তিনি তো কোন ছার। নিজের পোশাকটায় এক বার চোখ বুলিয়ে নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে বিলাসবহুল সুইটের দিকে রওনা দিলেন তিনি। যেখানে তাঁর জন্য অপেক্ষা করে আছে এক বিশেষ ভদ্রলোক। যার অঙ্গুলিহেলনে দেশে অনেক বড় বড় ঘটনাই ঘটে যায়।

গ্র্যান্ড অ্যাটলান্টিস সুইটের সামনে গিয়ে একটা লম্বা শ্বাস নিয়ে দরজায় আলতো করে দু’বার নক করলেন ডক্টর। এক মিনিটের মধ্যে দরজাটা খুলে দিল পরিচিত চেহারাটা। একে দেখলে ডক্টরের মতো মানুষেরও কেন জানি না রক্ত জমে যায়। লম্বায় বিশাল কিছু নয়। পাঁচ ফুট আট ইঞ্চি মতো হবে। গায়ের রংটা তামাটে। শক্তিশালী গড়ন। মাথার চুলটা ছোট করে ছাঁটা। দেখলে অনেকটা এক্স-মিলিটারি মনে হয়। সব সময় তাঁর বসের সঙ্গে সেঁটে থাকে। তবে এর পরিচয় কোনও দিন তাঁকে জানানো হয়নি। আর নিজে থেকে জানতে চাওয়ার তো কোনও প্রশ্নই নেই। তবে ডক্টর একটা ব্যাপারে নিশ্চিত। লোকটা ভারতীয় নয়। অন্তত এ দেশে জন্মে বড় হওয়া ভারতীয় তো নয়ই।

লোকটার ইশারায় সুইটের মধ্যে পা রাখলেন ডক্টর। সাড়ে চার হাজার স্কোয়ার ফুটের বেশি এই সুইটটায় কিং সাইজ বেডরুম ছাড়াও রয়েছে একটা বিশাল লিভিংরুমও। লোকটার নির্দেশে সেই লিভিংরুমের নরম সোফায় গিয়ে বসলেন ডক্টর। তাঁর ওজনটা সামান্য বেশি হওয়ার ফলে নরম গদিতে তলিয়েই গেলেন প্রায়। তাঁর মনে হচ্ছিল, সহজে এই গদি থেকে উঠতে পারবেন না।

কিন্তু তিরিশ সেকেন্ড পরে যখন সুঠাম চেহারার লোকটি বেডরুম থেকে লিভিংরুমে পা রাখল, ডক্টর নিজের অজানতেই উঠে দাঁড়ালেন। একে সামনে থেকে দেখেও বসে থাকবে, এ রকম লোক ভারতে কমই আছে।

“বলুন ডক্টর, কী রকম চলছে আপনার প্রজেক্ট,” ফালতু কথায় সময় নষ্ট করা এই লোকের স্বভাব নয়। লোকটার কাছে সময় মানে টাকা।

ডক্টর ডেভিল নিজেকে গুছিয়ে নিলেন। তার পরে বলা শুরু করলেন –

“আমাদের সামনে সোনার খনি রয়েছে। সেই সোনা শুধু তুলে নেওয়ার অপেক্ষা। আপনি যদি সাপ্লাই অ্যান্ড ডিমান্ডের নিরিখে ব্যাপারটা দেখেন, তা হলে সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। সারা বিশ্ব জুড়ে ডিমান্ড রয়েছে। আর আমাদের হাতে অফুরন্ত সাপ্লাই।”

উল্টো দিকে বসা বস পলকহীন চোখে তাকিয়ে রইল। এই সব তার চেয়ে ভাল আর কে জানে!

হিউম্যান ট্র্যাফিকিং। মানুষ পাচার। এই মুহূর্তে ভারতের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ইন্ডাস্ট্রি। কোটি কোটি টাকা এ ধার-ও ধার হচ্ছে প্রতি দিন। একটা মানুষের শরীর থেকে নানা উপায় টাকা ইনকাম করা যায়। ছোট থাকলে বাড়ির কাজের লোক। একটু বড় হলে যৌন ব্যবসায়। তার পরে অর্গ্যান ট্র্যাফিকিং। মানুষের শরীর থেকে কত ভাবে অর্থ উপার্জন করা যায়, ধারণারও বাইরে। সব চেয়ে বড় সুবিধে হল, মানুষের শরীর তো একই থাকে। কে বড়লোকের ঘরে জন্মায়, কে গরিবের ঘরে, তাতে কিছু যায় আসে না। কে শিক্ষিত, কে অশিক্ষিত, তাতেও কিছু যায় আসে না। কে হিন্দু, কে বা মুসলমান আর কে বা খৃস্টান, তাতেই বা কী এসে গেল। মানুষ জন্মানোর সময় তো একই অঙ্গ প্রত্যঙ্গ নিয়ে জন্মায়। প্রায় সবারই দু’টো পা, দু’টো হাত, দু’টো চোখ, দু’টো কিডনি, একট লিভার, একটা হৃৎপিণ্ড থাকে। আর থাকে চামড়া!

বিকৃতমনষ্ক মানুষের সংখ্যা পৃথিবী জুড়ে এত বেশি যে-কে সুন্দর, কে নয়, তাতেও কিছু যায় আসে না। আট থেকে ৬০, সব বয়সের নরনারীকেই শিকার বানানো যায়। ছেলে-মেয়ে, কিশোর-কিশোরী, যুবক-যুবতী থেকে মাঝবয়সি পুরুষ-মহিলা, সবারই চাহিদা আছে বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে। আর ভারত-বাংলাদেশ-নেপাল-মায়ানমার এই সব দেশগুলোয় প্রোডাক্টের জোগান এত বেশি যে-কখনও মন্দা আসবে না এই ব্যবসায়। বরং চিকিৎসা বিজ্ঞান যত উন্নত হবে, তত বিত্তবানদের মধ্যে চাহিদা বেড়েই যাবে। প্রোডাক্ট খুবই সহজলভ্য। শুধু তো মেয়েরাই নয়, ছেলেদেরও সমান ভাবে পণ্য বানানো যায়।

ডেটা বলছে, ভারতে প্রতি হাজার জন মানুষে ১৭টি করে বাচ্চা জন্মায়। যা গত কয়েক বছরে দেড় শতাংশ কমলেও তাতে কোনও ক্ষতি হবে না। আর এতো সরকারি হিসেব। যার কোনও মানেই নেই। তার একটা সরকারি হিসেবের কথা মনে পড়ে গেল। সরকারি হিসেব অনুযায়ী, ২০১৮ সালে ১৮ বছরের উপরে ১০৬৪ জন মহিলা, ৯৪১ জন শিশু পাচার হয়েছিল। ২০১৯ সালে হিসেবটা দাঁড়ায় ৯২৩ এবং ৮৮৩। ২০২০-তে ৭৮৪ এবং ৭৫০। তাই সরকারি পরিসংখ্যানের হিসেব অনুযায়ী মানুষ পাচার নাকি কমছে। অতি কষ্টে অট্টহাসিটা চেপে রাখল বস।

হিউম্যান ট্র্যাফিকিং যে-আজ কোথায় পৌঁছে গিয়েছে, তা নিয়ে দেশের ৯৫ শতাংশ মানুষের কোনও ধারণাই নেই। আর যারা জানে, তারা কিছু করবে না। এই কোটি কোটি ডলারের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাক, সেটা কেউই চায় না। সাপ্লাই এবং ডিম্যান্ডের অঙ্ক বলছে, এই ব্যবসা ক্রমে বাড়বে, আরও ডালপালা মেলবে।

বস কিউবান সিগারটা বার করে একটু নাকের কাছে বোলাল। তার পরে দেশলাই দিয়ে অগ্নিসংযোগ করে মুখে তুলে দাঁতে দাঁত চেপে বলল, “আর আমাদের এই নতুন প্রজেক্ট? স্কিন ট্র্যাফিকিং? তার কী অবস্থা?”

ডক্টর মনে জোর পেলেন। এটা তাঁর বিষয়। তিনি এই ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ। সামান্য হেসে বলতে লাগলেন, “ডিমান্ড কিন্তু বেড়েই চলেছে। আমেরিকায় তো আছেই, এ বার ইউরোপে চাহিদাটা খুবই বাড়ছে। এশিয়ার কয়েকটা দেশেও কসমেটিক সার্জারি যে-ভাবে ছড়িয়ে পড়ছে, তাতে আমাদের প্রোডাক্টের ডিমান্ডও বাড়বে। যে-কারণে আমাদের জালটাও একটু বেশি জায়গা জুড়ে ফেলতে হচ্ছে।”

শুরুটা হয়েছিল নেপাল থেকে। খুব স্বাভাবিক ভাবেই নেপালি মেয়েদের চামড়ার চাহিদাটা অনেক বেশি ছিল। স্কিন কালার, স্কিন টোন, স্কিন টেক্সচার— সবই খুব আকর্ষণীয়। যার ফলে ক্লায়েন্টদের কাছে চাহিদাটা খুবই বেশি ছিল। আমেরিকা থেকে মূলত আসত ‘অর্ডার’। বয়স বাড়লেও ধনকুবেররা চাইত, তাদের চামড়া যেন ঝুলে না যায়। এ ছাড়া চিকিৎসার জন্যও অনেক ক্ষেত্রে এই ধরনের চামড়ার প্রয়োজন হত। যা সব সময় আইনগত পদ্ধতির মাধ্যমে পাওয়া সম্ভব হত না। চাহিদাটা এ বার ছড়িয়ে পড়েছে ইউরোপ এবং এশিয়ার কিছু দেশেও। এই মুহূর্তে একটা ব্যাপার পরিষ্কার। অর্ডার এসেই যাবে, তাদের শুধু সাপ্লাই দিয়ে যেতে হবে।

স্কিন ট্র্যাফিকিংয়ের ক্ষেত্রে কয়েকটা বেশ সুবিধাজনক ব্যাপার আছে। এক, একই ভিক্টিমের থেকে বার বার চামড়া তুলে নেওয়া যাবে। দুই, দীর্ঘসময়ের জন্য চামড়া সংরক্ষিত করে রাখাটা এমন কিছু কঠিন কাজ নয়। তিন, চামড়া বহন করার কন্টেনারও খুবই ছোট। ফলে পাচার করতে সমস্যা হয় না।

তবে একটা ব্যাপারে নজর দেওয়া প্রয়োজন। আর সেটা ডক্টর ভালই জানেন। চামড়ার কোয়ালিটি। এ জন্য তাদের জালটা একটু বিস্তার করতে হয়েছে। শুধু প্রত্যন্ত গ্রামের ছেলে-মেয়েদের উপরে নজর দিলে হবে না। শহরেও এই জালটা ছড়াতে হবে। এখন তো এত স্কিন প্রোডাক্ট, মানুষ এত চামড়ার যত্ন করে যে, ভাল চামড়া পাওয়া খুব একটা কঠিন নয়। এই একটা ক্ষেত্রে ধনী- গরিবের পার্থক্য দেখলে চলবে না। গরিব, মধ্যবিত্ত থেকে বিত্তবান, সবাইকেই এই জালে টেনে আনতে হবে। কিশোর-কিশোরী যেমন থাকছে, সে-রকম গৃহবধুরাও টার্গেট হয়ে উঠছে। মোদ্দা কথা, ভাল চামড়া মানেই বড় বিজনেসের সুযোগ।

বস ঠোঁট থেকে সিগারটা নামিয়ে জিজ্ঞেস করল, “আমাদের ইনভেস্টরদের কী খবর?”

এই ব্যাপারটা দেখার জন্য অবশ্য আরও লোক আছে। তবে এক জন বিশেষ লোকের সঙ্গে কথা বলতে ডক্টরকে স্বয়ং মার্কিন মুলুকে পাড়ি দিতে হয়েছিল। তাঁকে বুঝিয়ে সুজিয়ে এই ব্যবসায় টাকা ঢালার জন্য রাজি করাতে।

বাকি সব ব্যবসার মতো হিউম্যান ট্র্যাফিকিং এমন এক ব্যবসা, যেখানে নিয়মিত বিনিয়োগ প্রয়োজন। সরকারি ভাবে তো এই ব্যবসার শেয়ার বাজারে ছাড়া সম্ভব নয়, তাই অন্য রাস্তা ধরতে হয়। যে-রাস্তার মাধ্যমে সমাজের খুব উচ্চ স্তরের প্রভাবশালী এবং বিশাল বিত্তবান মানুষদের বোঝানো হয়, এই ব্যবসায় অর্থ ঢাললে কতটা লাভ করা সম্ভব। একশো কোটি-দেড়শো কোটি টাকা বিনিয়োগ করলে অল্প সময়েই সেটা দ্বিগুণ হয়ে যায়। বিভিন্ন শহরে কোঠাবাড়ি তৈরি থেকে মানুষ পাচার হওয়ার প্রতিটি মোড়ে মোড়ে বুভুক্ষ লোক দাঁড়িয়ে আছে। তাদের খিদে মেটাতেও বিশাল অঙ্কের টাকা যায়। কিন্তু শেষমেশ দেখা যায়, খরচের পরেও প্রতিটি প্রোডাক্ট থেকে বিশাল মুনাফা হচ্ছে। কিন্তু এই ব্যবসায় নিয়মিত অর্থ জোগানের প্রয়োজন। আর সেখানেই চলে আসছে এই সব ‘ইনভেস্টর’।

ডক্টর একটু নিজেকে গুছিয়ে নিলেন। তার পরে বললেন, “মার্কিন ধনকুবেরটি খুবই আগ্রহ প্রকাশ করেছে এই ব্যাপারে। তবে ওর আসল আগ্রহ স্কিন ট্র্যাফিকিংয়ে। ওই ব্যাপারে খোঁজ খবর করছিল।”

বস মাথা নাড়ল। “স্বাভাবিক, এই রাস্তাটা খুবই ইন্টারেস্টিং। বিদেশে এর প্রচুর চাহিদা হবে। লোকটা ঠিক দিকটাই ধরেছে। কী মনে হয়, টাকা ঢালবে?”

“আমি তো আশাবাদী স্যার। কথা বলে মনে তো হল খুবই আগ্রহী। তবে খুব সেয়ানা আর সতর্ক লোক তো। সব দিকটা ভাল করে খতিয়ে নেবে।”

বস মাথা নাড়ল। সেটাও খুব স্বাভাবিক। এই ধরনের লোকরা শৃগালের মতো চতুর আর বাঘের মতো সতর্ক আর হিংস্র হয়। তবে পশুরা শুধু খিদে মেটাতে শিকার করে, এদের চাহিদা আকাশচুম্বী। খিদে কখনও মেটে না। এই ধরনের লোককেই বেশি করে প্রয়োজন বসের।

“ঠিক আছে। আপনি প্রোডাক্টের ব্যাপারটা দেখুন। মালের যেন কমতি না হয়। ইনভেস্টরের ব্যাপারটা অন্য লোক দেখে নেবে। আর ওই মার্কিন ধনকুবেরের যদি আর কোনও প্রশ্ন বা চাহিদা থাকে, তা হলে সেটা দেখতে হবে। এই রকম লোককে পেলে আমরা ডালপালা আরও বিস্তার করতে পারব।” বসের মুখ দেখে মনে হচ্ছিল, মিটিংটা তার মনঃপুতই হয়েছে।

আলোচনা পর্ব শেষের দিকে চলে এসেছিল। ডক্টর উঠবেন উঠবেন করছেন, এমন সময় তাঁর মোবাইলে একটা মেসেজ এসে ঢুকল। দেখবেন না ঠিক করলেও প্রেরকের নামটা দেখে চট করে এক বার সেই মেসেজে চোখটা বুলিয়ে নিলেন তিনি। আর সঙ্গে সঙ্গে ভ্রুটা কুঁচকে গেল।

ব্যাপারটা বসের নজরও এড়ায়নি। সিগারটা দু’আঙুলের ফাঁকে ধরে প্রশ্ন ছুড়ে দিল লোকটা, “কী হয়েছে? কোনও সমস্যা?”

“আমাদের একটা মেয়েকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। মেয়েটার একটা দুর্ঘটনা ঘটেছিল। তার পরে ওকে একটা হোমে রাখা হয়। সেখান থেকে তুলে আনার কথা ছিল। কিন্তু ওরা জানতে পারে, আজ সকাল থেকে মেয়েটার কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।”

“মেয়েটা কি গুরুত্বপূর্ণ?”

ডক্টর একটু ভেবে নিয়ে বললেন, “এই মেয়েটার স্কিনই আমরা অনেক জায়গায় পাঠাচ্ছিলাম। ডিমান্ড ছিল ভাল।”

বসের ভ্রুটা একটু কুঁচকে উঠল। সে অন্য একটা কথা ভাবছিল। “তার মানে তো আপনি মেয়েটার স্কিন সার্জারি করেছেন। আপনাকে দেখে ফেলেনি তো?”

আবারও একটু ভাবলেন ডক্টর, “মুখটা সম্ভবত দেখেনি। কারণ আমার তো মাস্ক পরা থাকে। তা ছাড়া অ্যানাসথেসিয়াও দেওয়া হয় মেয়েটাকে। কিন্তু একেবারে কিছুই দেখেনি কখনও, এটা নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। আর মুখ না দেখলেও…।” ডক্টর কথা শেষ করলেন না।

বসও ব্যাপারটা বুঝতে পারছিল। মুখ না দেখলেও সমস্যা হতে পারে। লোকটা সোফা ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। একটু কষ্ট করে হলেও ডক্টরও উঠে দাঁড়ালেন।

“ঝুঁকি নিয়ে লাভ নেই। মেয়েটাকে পেলে ভালই হবে। আর না পাওয়া গেলে মুখ না খোলার ব্যবস্থা করে দিন। আমাদের হাতে তো আরও মেয়ে আছে।” একটু থামল বস। তার পরে বলল, “শুধু মেয়েটাই নয়, ওকে পালানোর ব্যাপারে যারা সাহায্য করেছে, তাদের কারও বেঁচে থাকা চলবে না। ভিতরের লোকেরই হাত আছে এতে। আর যারা আছে, তারা আপনাকে চিনেও ফেলতে পারে।”

ডক্টর বুঝলেন, বস ভুল কিছু বলছে না। সত্যিই ঝুঁকিটা নেওয়া যাবে না।

ডক্টর দরজার কাছে পৌঁছছেন। এমন সময় পিছন থেকে গলাটা ভেসে এল-

“ডক্টর, এই কাজে যেন ভুল না হয়। উই ক্যান নট অ্যাফর্ড এনি মিসটেক। ভুল করা চলবে না।”

এর আগেও বসের এই গলাটা শুনেছে ডক্টর। আর যখনই শোনে, শিরদাঁড়া নিয়ে একটা ঠান্ডা স্রোত বয়ে যায়। এ বারও তাঁর গা-টা শিরশির করে উঠল। কেঁপে উঠলেন ডক্টরও।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *