প্রথম পর্ব
দ্বিতীয় পৰ্ব
তৃতীয় পৰ্ব
চতুর্থ পৰ্ব
1 of 2

৬. অসহায়ের কান্না

৬. অসহায়ের কান্না

মুম্বই, ২০২৩

আরও দু’টো দিন মুম্বইয়ে অপেক্ষা করতে হল রুদ্রাণীকে। তার পরে অনুমতি মিলল জরন্ত দেশমুখের সঙ্গে দেখা করার।

মুম্বইয়ে নেমেই রুদ্রাণী প্রথমে যোগাযোগ করেন পাঞ্চালীর সঙ্গে। তার পরে দু’জনে মিলে চলে আসে গোরেগাওয়ের পুলিশ স্টেশনে। কিন্তু তত ক্ষণে জয়ন্ত আর পুলিশ কাস্টডিতে নেই। চলে গিয়েছে জুডিশিয়াল কাস্টডিতে।

.

দুজনকে আলাদা একটা ঘরে ডেকে নিয়ে যান চৌহান। তার পরে জানান গত ৪৮ ঘণ্টায় কী ঘটে গিয়েছে।

বাচ্চাটি নাবালক হওয়ার পকসো (প্রোটেকশন অব চিলড্রেন ফ্রম সেক্সুয়াল অফেন্সেস) অ্যাক্টের আওতার কেন দেওয়া হয়েছে জয়ন্ত দেশমুখকে। পুলিশ কাস্টডিতে রাখার ফলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে তুলতে হয় অভিযুক্তকে। এর পরে ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে জুডিশিয়াল কাস্টডিতে রাখা হয়েছে তাকে। জয়ন্ত এখন আছে থানের ডিস্ট্রিক্ট সেন্ট্রল জেলে।

চৌহান বলছিলেন, “আপনার ফোন পাওয়ার পরেই আমরা আদালতে আবেদন করেছি যাতে অভিযুক্তকে জেরা করার সুযোগ মেলে। বিচারপতির নির্দেশ না পেলে বা জয়ন্তকে এখন জেরা করতে পারব না।”

পাঞ্চালী এবং রুদ্রানীর সে কথা ভালই জানা ছিল। রুদ্রাণী একটু ভেবে নিয়ে বলল, “কবে নাগাদ অর্ডার পেয়ে যাব বলে মনে হয়?”

“আশা করছি, পরশু আপনাকে নিয়ে যেতে পারব সেন্ট্রাল জেলে। তার পরে দেখা যাক। আমরা ইতিমধ্যে তদন্ত চালাচ্ছি। মিসেস লতা দেশমুখকে জেরা করা চলছে। তার গ্রেফতার করা হয়নি, কিন্তু বাড়ির বাইরে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। এদের অ্যাপার্টমেন্ট তল্লাশি করে কিছু পাওরা যায়নি।”

রুদ্রাণী আবার প্রশ্ন করল, “আপনার হাতে তো ২৪ ঘণ্টা ছিল জয়ন্ত। কিছু বুঝতে পারলেন কি? কোনও আভাস পেয়েছেন আর কোনও মেয়েকে লোকটা আটকে রেখেছে কি না কোথাও?”

চৌহান একটি সমর চুপ করে থাকলেন। তার পরে রুদ্রাণীদের দিকে তাকিয়ে বলতে থাকলেন, “এই লোকটা শয়তানের একটা রূপ। আমি অনেক ভাবেই চেষ্টা করেছিলাম। অনেক ভাবে বলতে কী বোঝাচ্ছি, নিশ্চই বুঝতে পেরেছেন। কিন্তু মুখ খোলাতে পারিনি। সব কিছু চুপ করে সহ্য করে গিয়েছে। জেরাতেও টু শব্দ করেনি। যেন পুরো বোবা। কথা বলতে পারে না।”

রুদ্রাণী আর পাঞ্চালী একে অপরের দিকে তাকালেন। তার পরে রুদ্রাণী দ্বিতীয় প্রশ্ন করল, “লোকটাকে কি আপনার বিকৃতমস্তিষ্ক বলে মনে হচ্ছে?”

চৌহান মাথা নাড়লেন, “না। লোকটা অত্যন্ত ধুরন্ধর। ও জানে মুখ না খুললে আমরা ওর বিরুদ্ধে আর কোনও চার্জ আনতে পারব না। শুধু এই নাবালিকা মেয়েটির উপরে অত্যাচার করা ছাড়া। কোনও খুনের অভিযোগও ওর বিরুদ্ধে আনা যাচ্ছে না।”

“তা হলে স্কিন ট্র্যাফিকিংয়ের ব্যাপারটাও তো অন্ধকারে রয়ে যাচ্ছে?” এ বার প্রশ্ন করলেন পাঞ্চালী।

চৌহান মাথা নাড়লেন, “কোনও ভাবেই কানেক্ট করতে পারছি না। ওর অতীত ঘেঁটে এমন কিছু পাইনি, যাতে সন্দেহের উদ্রেক হয়। ক্লিন ইমেজ। যদি সত্যিই ও এই ডক্টর ডেভিল হয়ে থাকে, তা হলে মুখ আরও খুলবে না। সে ক্ষেত্রে ওপরমহলেও যোগাযোগ থাকবে লোকটার। ওর বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ জোগাড় করতে না পারলে তো শক্ত কেস দেওয়াই যাবে না।”

রুদ্রাণী বুঝল, ব্যাপারটা খুবই জটিল হয়ে যাচ্ছে। তাকে আরও একটা দিন অপেক্ষা করতে হবে। একটু ভেবে রুদ্রাণী জানতে চাইল, “এক বার লতা দেশমুখের সঙ্গে কথা বলা যাবে?”

“হ্যাঁ যাবে,” বলে চৌহান তাকালেন পাঞ্চালীর দিকে, “ওখানে কিন্তু আপনাকে নিয়ে যেতে পারব না ম্যাডাম।”

পাঞ্চালী জানতেন চৌহান এ রকমই বলবেন। তিনি রুদ্রাণীর দিকে ফিরে বললেন, “তুই লতা দেশমুখের সঙ্গে কথা বল। আমি আমার ইনফর্মারদের থেকে যতটা পারি খবর সংগ্রহ করছি। দেখা যাক, কী হয়।”

পাঞ্চালী উঠে পড়েছিলেন। চৌহান তাঁর দিকে তাকিয়ে বললেন, “ম্যাডাম, একটা কথা বলছি। এই লোকটা যদি সত্যি ওই ডক্টর ডেভিল হয়, তা হলে আপনি একটু সাবধানে থাকবেন। এই সব গ্যাংয়ের হাত অনেক লম্বা হয়। এমনকি, ফোনেও এই নিয়ে খোলাখুলি কথা বলবেন না। আপনি বুঝতে পারছেন তো আমি কী বলতে চাইছি?”

পাঞ্চালী বুঝতে পেরেছিলেন। ফোনে আড়িপাতা এমন কিছু কঠিন কাজ নয়।

.

ঘণ্টা দুয়েক পরে চৌহানের সঙ্গে লতা দেশমুখের অ্যাপার্টমেন্টে হাজির হল রুদ্রাণী। কিন্তু মিনিট পাঁচেক কথা বলেই বুঝে গেল, এই মহিলাকে ভাঙা কঠিন। শুধু ‘আমি কিছু জানি না’-র বাইরে একটা কথাও বলতে রাজি হলেন না লতা। আইনজীবীকে ডেকে আনার হুমকি দিতে লাগলেন।

রুদ্রাণী এ বার অন্য রাস্তা নেওয়ার কথা ভাবল। মোবাইল বার করে অজন্তার ছবিটা তুলে ধরল লতার সামনে। তার পরে বলল, “এই মেয়েটাকে দেখুন। ১৬-১৭ বছর বয়স। আপনি সহায়তা না করলে মেয়েটা চিরদিনের মতো হারিয়ে যাবে।”

“মানে? এই মেয়েটা কে? আমিই বা সাহায্য করব কী করে?” লতার ভ্রু কুঁচকে গেল।

“মেয়েটা কিডন্যাপ হয়েছে মাসখানেক হয়ে গেল। ওর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের সন্দেহ আপনার স্বামী এই ব্যাপারে কিছু জানেন। আপনি আমাদের সাহায্য করলে সবারই উপকার হবে, এমনকি আপনার স্বামীরও,” সরাসরি ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করল রুদ্রাণী। কিন্তু তাতে কোনও লাভ হল না।

লতা একটুও নরম হলেন বলে মনে হল না। বরং তাঁর দৃষ্টি ক্রুর হয়ে উঠল। রীতিমতো ফোঁস করে উঠে বললেন, “আপনারা অনেক ভাবেই আমার স্বামীকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন। ওই বুড়িটা যে-এ সব করেনি, আপনারা জানলেন কী করে? আমিও এর শেষ দেখে ছাড়ব। উকিলকে ছাড়া একটা কথাও বলব না।”

চৌহান এবং রুদ্রাণী বুঝলেন, লতাকে ভাঙা সম্ভব নয়। হয় এই মহিলা সত্যিই কিছু জানেন না বা জানলেও বেফাঁস কিছু বলবেন না। স্বামীর মতোই মানসিকতা লতা দেশমুখের।

.

পুলিশের জিপ রুদ্রাণীকে ছেড়ে দিয়েছিল তার হোটেলে। সেখানে পৌঁছে সূর্যকে ফোনে ধরল রুদ্রাণী। “তুমি কিছু খবর পেয়েছ?”

সূর্যের জবাব শুনে কিছুটা নিরাশ হয়ে পড়ল রুদ্রাণী। সূর্য বলল, “অজন্তার ছবি আর রাজা বলে ছেলেটার স্কেচ চার দিকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনও কোনও ইতিবাচক খবর আসেনি আমাদের হাতে। এলেই তোমাকে জানাব।” তার পরেই সূর্য প্রশ্ন করল, “তুমি এই ডক্টর ডেভিলের সঙ্গে কথা বলেছ?”

“কাল বা পরশু দেখা হবে। কোর্টের অনুমতির অপেক্ষা করছি। কিন্তু তাতে কতটা লাভ হবে, বুঝতে পারছি না।”

সূর্য একটু ভেবে বলল, “তোমার কি মনে হয় সিরিয়াল মলেস্টর?”

“সে-রকম ঠিক নয়। যা শুনলাম, তাতে সিরিয়াল টর্চারার লাগছে। কিন্তু ওই চামড়া তুলে নেওয়ার ব্যাপারটাই তো অন্য ইঙ্গিত দিচ্ছে।”

“স্কিন ট্র্যাফিকিংয়ের ব্যাপারটা তো? আমিও খোঁজ নিচ্ছি। কিছু পেলেই তোমাকে জানাব।”

.

সেই রাতটা ছটফট করেই কাটাল রুদ্রাণী। কিছুতেই ঘুম আসছে না। এত কাছে এসেও হার মানতে হবে! ডক্টর ডেভিল বলে লোকটাকে হাতে পেয়ে ও অজন্তাকে বাঁচানো যাবে না? এক বার সামনে পেলে অন্তত একটা চেষ্টা করে দেখা যেত।

কিন্তু সেই চেষ্টাতেও কোনও লাভ হল না।

অনুমতিটা পরের দিনই এসে গিয়েছিল চৌহানের কাছে। তার পরে রুদ্রাণীকে নিয়ে তিনি হাজির হয়ে যান থানের সেন্ট্রাল জেলে।

.

টেবিলের উল্টো প্রান্তে বসে থাকা লোকটাকে দেখে রুদ্রাণীর মনটা দমে গেল। এই লোকটার মুখে তো কোনও অভিব্যক্তি নেই। কোনও অনুভূতিই যেন স্পর্শ করতে পারছে না একে। নিষ্পলক চোখ মেলে তাদের দু’জনের দিকে তাকিয়ে রইল জয়ন্ত। আর চুপ করে শুনে যেতে লাগল রুদ্রাণীর কথা।

অজন্তার ছবিটা দেখে স্ত্রীর মতোই ভাবলেশহীন থাকল জয়ন্ত দেশমুখ। আধ ঘণ্টা জেরা করার পরেও একটা শব্দ বার করা গেল না জয়ন্তের মুখ থেকে। হতাশ রুদ্রাণী বেরিয়ে এল চৌহানকে সঙ্গে নিয়ে। তার হাতের তাস দ্রুত শেষ হয়ে আসছে। এই লোকটাই একমাত্র রাস্তা ছিল অজন্তাকে খুঁজে পাওয়ার। কিন্তু তদন্ত যে-এ রকম একটা প্রাচীরে এসে ধাক্কা খাবে, ভাবতেও পারেনি রুদ্রাণী।

.

পাঞ্চালীও হতাশ হয়ে পড়ছিলেন। রুদ্রাণীর ফোনটা পেয়ে একরাশ নৈরাশ্যের সঙ্গে বললেন, “অনেক সময় নষ্ট হয়ে গেল রে রুদ্রাণী। মেয়েটাকে বোধ হয় আর রক্ষা করা গেল না। হয়তো এত দিনে বিদেশে কোথাও পাচার করে দিয়েছে।”

“কী করা যায় তা হলে? আর তো কোনও হদিশই পাচ্ছি না।”

অসহায় রুদ্রাণীকে একটু সান্ত্বনা দিয়ে পাঞ্চালী বললেন, “আমার ইনফর্মারদের সঙ্গে আর এক বার কথা বলে দেখি। ওদের কানে সন্দেহজক কিছু গেল কি না।”

সেই রাতে ঘুম এল না অনেকেরই। ভেঙে পড়া পাঞ্চালী-রুদ্রাণীর তো নয়ই।

কিন্তু জেগে ছিলেন দুই চিকিৎসকও। ডক্টর ডেভিলের খবরটা কাগজে দেখার পরে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলেন বাকি দুই ডক্টর। প্রশান্ত পাটিল এবং অপূর্ব দেশপাণ্ডের মনে তখন নানা ভাবনা। শেষ পর্যন্ত লতার স্বামী! একটু নার্ভাস অপূর্ব ভাবছিলেন, মেডিসিনের দু’নম্বরি ওই কারবারের সঙ্গে আর যুক্ত থাকা ঠিক হবে কি না। তিনিও তো ফেঁসে যেতে পারেন। তাঁর নামও বেরিয়ে যেতে পারে কাগজে।

প্রশান্তের চিন্তাটা অন্য রকম ছিল। তিনি উত্তেজিত অন্য কারণে। যে- মহিলা চিকিৎসকের সঙ্গে তাঁর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক চলছিল, সে আবার লতা দেশমুখের ঘনিষ্ঠ। দেখা যাক, আর কোনও বাড়তি খবর পাওয়া যায় কি না। বিশেষ করে স্কিন ট্র্যাফিকিংয়ের ব্যাপারে।

ঘুম আসছিল না সমীরেরও। কী করবে, বুঝে উঠতে পারছিল না ছেলেটা। মরিয়া হয়ে সে সোজা চলে গিয়েছিল ওই ক্লিনিকের সামনে। ক্লিনিকে তখন নিয়মমাফিক কাজ চলছিল। চলবে, সেটা বুঝেছিল সমীর। অনেকটা সময় নিজেকে আড়ালে রেখেও কোনও চেনা মুখ দেখতে পায়নি। তার পরে ফিরে আসে।

গত ৪৮ ঘণ্টায় মুম্বইয়ের রাস্তায় রাস্তায় হতাশ হয়ে ঘুরে বেড়িয়েছে সমীর। যে-প্রতিশোধের স্বপ্ন নিয়ে সে মুম্বইয়ে পা রেখেছিল, তা ক্রমে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এক বার ভেবেছিল, পুলিশের কাছে গিয়ে সব বলে দেয়। তার পরে ভাবল, সে-রকম করলে হয়তো তার লাশটাও কেউ খুঁজে পাবে না। এদের হাত যে-কতটা উঁচুতে পৌঁছতে পারে, সেটা সমীরের চেয়ে কে আর ভাল জানে। আর পুলিশের কাছে কী-ই বা বলবে সে। ওই ক্লিনিকের সন্ধান দিতে পারে বড়জোর। সমীরের মনের ভিতরে হুহু করে ঝড় উঠল— এমন কেউ নেই যে-তাকে সাহায্য করতে পারে!

পরের দিন সকালে উঠে খানিকটা সময় থম মেরে বসে রইল সমীর। বুঝতে পারছিল, কতটা তুচ্ছ সে। প্রতিশোধের স্বপ্ন দেখা তার মতো কাপুরুষ প্রাণীর সাজে না। সে শুধু রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে আর রাতে এসে এই আস্তানাটায় কুঁকড়ে শুয়ে থাকছে। সমীর ঠিক করে ফেলল, সে বাড়ি ফিরে যাবে।

নিজের ব্যাগটা কাঁধে করে ডর্মিটরির পাওনা মিটিয়ে রাস্তায় নেমে এল সমীর। এখান থেকে হেঁটে স্টেশন খুব দূরে নয়। তবে তার আগে শেষ বার ওই জায়গাটা দেখে নিতে চায় সমীর। আর এক বার। যেখান থেকে অপরাজিতার হাত ধরে বেরিয়ে এসেছিল সে। সেই রেসকিউ হোমটা।

.

গেটের মুখ থেকে বেশ কিছুটা দূরে দাঁড়িয়েছিল সমীর। ফটকের ভিতর দিয়ে কয়েকটা মেয়েকে দেখা যাচ্ছে। যেমন সে দিন গিয়েছিল। এক জন সিকিয়োরিটি গার্ডও বেরিয়ে এল। তবে সে রঞ্জিত নয়।

চোখটা ঝাপসা হয়ে এল সমীরের। মাথাটা যেন ঘুরতে লাগল। রাস্তার পাশেই রয়েছে চায়ের দোকানটা। যেখানে বসে সে দিন কথা বলেছিল রঞ্জিতের সঙ্গে।

কী মনে হতে শরীরটাকে টানতে টানতে শেষ বারের মতো ওই চায়ের দোকানে নিয়ে গেল সমীর। তার পরে বসল একটা ফাঁকা টেবিলে।

নিজেকে আর সামলাতে পারল না ছেলেটা। দু’হাতে মুখ ঢেকে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল সমীর। অপরাজিতাকে বাঁচাতে পারেনি। বদলাটাও নিতে পারল না। কাপুরুষের মতো মুম্বই ছেড়ে পালিয়ে যেতে হচ্ছে।

কান্নার দমকে সমীরের শরীরটা ফুলে ফুলে উঠছিল। তখনই কেউ হাত রাখল তার কাঁধে। আর খুব নরম গলায় জিজ্ঞেস করল—

“কী হয়েছে তোমার? কোনও সমস্যা? আমাকে বলতে পারো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *