প্রথম পর্ব
দ্বিতীয় পৰ্ব
তৃতীয় পৰ্ব
চতুর্থ পৰ্ব
1 of 2

২. কেউ তো জানে না, মনের ঠিকানা…

২. কেউ তো জানে না, মনের ঠিকানা….

দক্ষিণ কলকাতার কোনও এক নামীদামি স্কুল

“হ্যালো কৃষ্ণেন্দু, আর ইউ হিয়্যার? অর ফ্লোটিং ইন সাম আদার ইউনিভার্স?”

ফিজিক্স স্যারের বিদ্রুপ মেশানো, হুল ফোটানো গলাটা কানে আসতেই সম্বিৎ ফিরে পেল ছেলেটা। সত্যিই সে তখন এই দুনিয়ায় ছিল না। কল্পনার মেঘকে ডিঙি বানিয়ে সে তখন ভেসে বেড়াচ্ছিল অন্য এক জগতে, অন্য কোনওখানে। স্যারের কথাগুলো কানে যেতেই সেই কল্পনার ডিঙি আকাশ থেকে আছড়ে পড়ল বাস্তবের রুক্ষ জমিতে।

মাথ নিচু করে ফিজিক্স বইয়ের মধ্যে মনোনিবেশ করার চেষ্টা করল ছেলেটা। পাশে বসা ছাত্রছাত্রীদের অনেকের মুখেই তখন ব্যঙ্গের বক্র হাসি। তার ঠোঁটেও কি ওই রকম হাসি দেখা যাচ্ছে? মুখ তুলে দেখার সাহস হল না ছেলেটার। যদি সে-ও ওই রকম হাসি হাসে, তা হলে সহ্য হবে না ছেলেটার।

ফিজিক্স স্যার আর কিছু বলার প্রয়োজনীয়তা দেখলেন না। এই ছেলেটাকে নিয়ে তিনি বেশি ভাবতেই চান না। ক্লাস ইলেভেনের শুরুতে প্রথম কয়েকটা মাস পড়িয়েই বুঝে গিয়েছেন, এর দ্বারা কিসসু হওয়ার নয়। কেন যে- এই সব ছেলেরা সায়েন্স নিয়ে পড়তে আসে, কে জানে। নিজে তো বরবাদ হবেই, একটা সিটও নষ্ট করল। তবে এদের চেয়ে এদের বাবা-মায়ের দোষই যে-বেশি, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই স্যারের। সবাইকে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার তৈরি করা যায় না, এটা বাবা, মায়েরা কবে যে-বুঝবেন, কে জানে! একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে পড়ানোয় মন দিলেন ফিজিক্স স্যার।

ছেলেটাও দীর্ঘশ্বাস ফেলতে যাচ্ছিল, কিন্তু নিজেকে সামলে নিল। তার চোখও জলে ভরে আসছে। সে বড্ড আবেগপ্রবণ। একটুতেই কেঁদে ফেলে। অল্পতেই আঘাত পায়। তাই তো তার এত কষ্ট। বিজ্ঞান নিয়ে পড়ার কোনও ইচ্ছেই তার ছিল না। সে গড়পড়তা স্টুডেন্টের থেকে একটু ভাল। আইসিএসসি- তে একেবারে ফেলে দেওয়ার মতো নম্বর পায়নি। তবে বিজ্ঞান নিয়ে পড়ার মতো আহামরি কিছুও নয়। একই স্কুলের ক্লাস ইলেভেন বলে একটু বাড়তি সুবিধে পেয়েছে বিজ্ঞান নিয়ে পড়ার জন্য। এই ক্লাসের বেশির ভাগ ছাত্র-ছাত্রী তো নব্বই শতাংশের উপরে পেয়েছে। আর ওই যে-ডান দিকের প্রথম বেঞ্চে যে-মেয়েটা কোণ ঘেঁষে বসে আছে, সে তো ৯৮ শতাংশ পেয়েছে ক্লাস টেনের বোর্ড পরীক্ষায়। স্কুলের টপার। এই স্কুলের গর্ব। স্কুলের স্যার-ম্যাডামরা নিশ্চিত, মেয়েটা বড় হয়ে খুব নামী ইঞ্জিনিয়ার হবে। বা বিজ্ঞানী।

তার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার কোনও ইচ্ছে নেই। সে চায় লিখতে আর আঁকতে। ছোটবেলা থেকেই সুযোগ পেলে ডায়েরি খুলে হাবিজাবি লিখে এসেছে সে। আর সাদা পাতা পেলে এঁকেছে। তার একটা গুণ আছে। স্মৃতিশক্তিটা বেশ ভাল। এক বার কিছু দেখলে মনে রেখে দিতে পারে। বেশ কয়েক দিন পরেও স্মৃতি থেকে কোনও দৃশ্য বা কারও মুখ এঁকে দিতে সমস্যা হয় না। কিন্তু পড়াশোনার ক্ষেত্রে সেই স্মৃতি সব সময় সাহায্য করে না। মস্তিষ্কের ক্ষমতা বড় অদ্ভুত। সে যা চায়, তা-ই গ্রহণ করে। যা চায় না, তা হাজার চেষ্টাতেও মাথায় ঢোকানো যায় না।

তার লেখা যেমন কখনও গল্পের আকার নেয়, কখনও বা শুধুই ভো- কাট্টা ঘুড়ির মতো লাট খাওয়া কিছু ভাবনা-চিন্তার রেখা হয়ে থেকে যায়। তার কয়েক জন বন্ধু অবশ্য গল্পগুলো পড়ে আর ছবিগুলো দেখে প্রশংসাই করেছে। বলেছে, লেখা আর আঁকা ছাড়বি না।

কিন্তু বাবা-মা তাকে নিয়ে আরও বড় স্বপ্ন দেখে। বিশাল চাকরি করবে সে, বিশাল গাড়ি আসবে তাকে বাড়ি থেকে অফিস নিয়ে যেতে। কথায় কথায় বিদেশে পাড়ি দেবে। ছেলেটা অবশ্য সুদূর কল্পনাতেও এই দৃশ্য দেখতে পায় না। “কী রে কৃষ্ণেন্দু, স্যারের কথায় দুঃখ পেয়েছিস নাকি?” পাশ থেকে সমবেদনা মাখানো কথাগুলো শুনে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল ছেলেটা। পাশে দাঁড়িয়ে তার বন্ধু সঞ্জয়। মিনিট দুয়েক আগে পিরিয়ড শেষ হওয়ার ঘণ্টা পড়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই সে ক্লাসের পিছন দিকটায় বসে। সঞ্জয় বসে ছিল সামনের দিকে। ফাঁক পেয়ে চলে এসেছে।

এ বার কাঁধে হাত দিয়ে সঞ্জয় বলে উঠল, “স্যার ও-রকমই। আর মনে রাখবি, সবাই তোকে বুঝবেও না, চিনবেও না। কিন্তু আমরা তোকে ভাল করে চিনি। জানি। মাথায় রাখবি, তোর পাশে সব সময় আছি।”

কৃষ্ণেন্দু হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে চোখের পাতা দু’টো এক বার মুছে নিল। তার পরে মুখে এক চিলতে হাসি ফুটিয়ে বলল, “ঠিকই বলেছিস। তোরা পাশে থাকলে আমার চিন্তা কী!” সঞ্জয় হেসে কাঁধটা চাপড়ে দিল কৃষ্ণেন্দুর।

পরের পিরিয়ড শুরু হতে আর বেশি সময় বাকি নেই। অঙ্কের স্যার এখনই চলে আসবে। সঞ্জয় তাই নিজের সিটের দিকে পা বাড়াতে যাচ্ছিল, পিছন থেকে চাপা গলায় কৃষ্ণেন্দু বলে উঠল, “একটা কথা জিজ্ঞেস করব তোকে? রাগ করবি না তো?” সঞ্জয় একটু অবাক হয়েই ঘুরে তাকাল, “রাগ করব কেন? তুই বল না, কী বলবি?” লজ্জা লজ্জা মুখ করে কৃষ্ণেন্দু জিজ্ঞেস করল, “আচ্ছা, স্যার যখন আমাকে ওই সব কথা বলছিল, তখন অনেকেই চাপা হাসি হাসছিল। অজন্তাও হেসেছে নাকি?”

সঞ্জয় কয়েক সেকেন্ড হাঁ করে তাকিয়ে থেকে ডান হাতটা দিয়ে কপাল চাপড়ে নিল এক বার। তার পরে প্রায় রাগত গলায় বলে উঠল, “তুই এই সব ছাড়বি? এখনও ওই মেয়েটার জন্য মাথা খারাপ করছিস! কত বার বলেছি, শি ইজ আউট অব ইয়োর লিগ। ওর কথা ভাবতে বসলে তোর জীবনটাই কিন্তু নষ্ট হয়ে যাবে।” কৃষ্ণেন্দু ধীরে ধীরে মুখটা নিচু করে নিল।

সঞ্জয় এক বার তাকাল তার বন্ধুর দিকে। ছেলেটার ম্লান হয়ে যাওয়া মুখটা দেখে তার নিজেরও এ বার কষ্ট হল। কী ভেবে বন্ধুর কানের কাছে মুখটা নিয়ে গিয়ে চাপা স্বরে বলল, “না রে, হাসেনি। আমি দেখেছি। অজন্তার মুখটাও গম্ভীর হয়ে গিয়েছিল।”

মুহূর্তের মধ্যে ছেলেটার চোখে-মুখে যেন হাজার পাওয়ারের আলো জ্বলে উঠল। এক বারও ভেবে দেখল না, সঞ্জয় সত্যি বলছে, না তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছে। ভেবে দেখল না, অজন্তার মুখটা গম্ভীর হওয়ার পিছনে আরও হাজারটা কারণ থাকতে পারে। আসলে অত ভাবার সময় ছেলেটার নেই। সে অল্পেতেই খুশি। এই একটা কথা শোনা মাত্রই এ বার সে কল্পনার জাল বুনতে শুরু করবে। যেখানে সে-ই সৃষ্টিকর্তা, সে-ই অধীশ্বর।

অজন্তার তখন সত্যিই অন্য কারও কথা ভাবার সময় ছিল না। অঙ্কের ক্লাস শুরু হচ্ছে। তার অন্যতম প্রিয় বিষয়। পুরো স্কুলজীবনে বোধ হয় খুব কম পরীক্ষাই গিয়েছে, যেখানে সে একশোয় একশো পায়নি। মনে আছে, এক বার বোধ হয় কোনও ক্লাসের মিডটার্ম টেস্টে ৮৮ না ৮৯, কী একটা নম্বর পেয়েছিল, তাতে বাবা-মা দু’জনেই ভীষণ ভেঙে পড়েছিলেন। অজন্তার বাবা-মা দু’জনেই নামী ইঞ্জিনিয়ার। খুব বড় বেসরকারি কোম্পানিতে বিশাল চাকরি করেন। প্রায়ই বিদেশ যেতে হয়। দক্ষিণ কলকাতারই এক বহুতল আবাসনের চার-পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের অ্যাপার্টমেন্টে থাকে অজন্তারা। তার বাবা-মায়ের কাছে টাকার অভাব না-থাকলেও একটা জিনিসের বড় অভাব। সময়ের। এই রকম দায়িত্বশীল পদে থাকলে, ওই রকম মোটা মাইনের চাকরি করলে যে-জীবনের ৮০ শতাংশই জুড়ে থাকবে কোম্পানি-জগৎ, তা মেনে নিয়েছিলেন ওই দম্পতি। তাঁরা জানতেন, সন্তানের জন্যও সময় বার করা কঠিন হয়ে যাবে তাঁদের কাছে।

তার জন্য অবশ্য খুব একটা পরোয়া করেন না অজন্তার বাবা-মা। তাঁরা সময় দিতে পারছেন না তো কী হয়েছে! ছ’জন গৃহ শিক্ষক-শিক্ষিকা আছে কী করতে। মেয়ে তাদের এমনিতেই একটা আস্ত হিরে। মাস্টারদের কাজ হল, সেই হিরেকে ঠিকমতো কেটে আরও জৌলুস বাড়িয়ে দেওয়া। সে-বার অঙ্কে কম নম্বর পাওয়ায় দ্রুত মাস্টার বদলে দেন অজন্তার বাবা-মা। তাতে কাজ হয়েছে। মেয়ে আর ৯৮-এর নীচে কখনও নম্বরই পায়নি। অজন্তা অবশ্য জানে, সেটা যত না নতুন মাস্টারের কৃতিত্ব, তার চেয়ে বেশি কৃতিত্ব তার বাবা-মায়ের! অঙ্কের নম্বর দেখে তাঁদের মুখের যা অবস্থা হয়েছিল, তা দেখে রীতিমতো ঘাবড়ে গিয়েছিল মেয়েটা। মনে মনে ঠিক করে নিয়েছিল, আর কোনও দিন এই ভুল করবে না। যে-কারণে পড়াশোনার মাত্রাটা আর একটু বাড়িয়ে দিতে হয়েছিল তাকে।

জীবনের এখন যে-মোড়ে অজন্তা দাঁড়িয়ে আছে, সেটা তাকে সোনালি ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যেতে পারে। আবার পা ফস্কালে হারিয়েও যেতে হতে পারে সাধারণ, মধ্যমেধার জগতে। এই কথাটা বার বার বলে মেয়ের মগজে ঢুকিয়ে দিয়েছেন অজন্তার বাবা-মা। মেয়েরও সামনে পাঁখির চোখ একটাই। আই আই টি ক্র্যাক করা। তার পরে তো আকাশটাও আর চূড়ান্ত সীমা থাকবে না!

তাই অজন্তার সময় নেই কারও দিকে চোখ তুলে তাকানোর, কারও কথা ভাবা। এ-রকম অবস্থাই ছিল মাসখানেক আগে পর্যন্ত। কিন্তু হঠাৎ করে মেয়েটার জীবনে একটা ছোট্ট পরিবর্তন এসেছে। কোভিডের সময় স্মার্টফোন কিছুটা বাধ্য হয়েই মেয়ের হাতে তুলে দিয়েছিলেন বাবা-মা। কোভিড-কাল পার হয়ে গেলেও সেই ফোন এখন ছাত্র-ছাত্রীদের জীবনের অঙ্গ হয়ে গিয়েছে। পড়াশোনার ক্ষেত্রেও এর প্রয়োজনীয়তা এখন অস্বীকার করার জায়গা নেই। বাবা-মা বাধ্য হয়ে মেনে নিয়েছেন। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে সতর্কবাণীও শুনিয়ে দিয়েছেন— যাবতীয় সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকতে হবে।

অজন্তাও সে কথা মেনে চলছিল। ফেসবুক সে একদমই করে না। ওই মাস কয়েক বাদে বাদে খুলে এক বার চোখ বোলানো। হোয়াটসঅ্যাপের ব্যবহার বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ আর স্টাডিগ্রুপের কাজের মধ্যেই আটকে থাকে। কিন্তু মাসখানেক হল অজন্তার এক বন্ধু তার ফোনটা নিয়ে একটা অ্যাপ ডাউনলোড করে দিয়েছে। ইনস্টাগ্রাম। আর তার পরেই যেন ধীরে ধীরে এই একটা অ্যাপের আকর্ষণ বিশেষ ভাবে টানতে শুরু করেছে তাকে। যদিও অজন্তা প্রাণপণ চেষ্টা করছে, এই অমোঘ আকর্ষণ কাটিয়ে নিজের চেনা জগতে আবার ফিরে আসতে।

শেষ পিরিয়ডের ঘণ্টা বাজার পরে হইহই শুরু হয়ে গেল ছেলেমেয়েদের। অজন্তাও ব্যাগ গুছিয়ে নিল। তাকে নেওয়ার জন্য গাড়ি চলে আসে সময়ের আগেই। দেরি করলে ড্রাইভার কাকু ভ্রু কুঁচকে তাকায়। অজন্তা ঠিক সময়ে স্কুল থেকে বেরিয়ে গাড়িতে উঠল কি না, এই রিপোর্ট ড্রাইভারকে নিয়মিত দিতে হয় তার মালিক-মালকিনকে।

ক্লাস থেকে অজন্তার বেরিয়ে যাওয়াটা দু’চোখ মেলে দেখছিল কৃষ্ণেন্দু। কাল সকালের আগে তো মেয়েটাকে আর দেখা যাবে না। মাঝের এই সময়টা যেন কাটতেই চায় না ছেলেটার।

ক্লাসের আরও কয়েক জন দেখছিল মেয়েটাকে। শুধু টপার বলেই নয় তার আকর্ষণীয় চেহারার জন্যও ক্লাসের মধ্যে জনপ্রিয় অজন্তা। তবে সবার মধ্যে নয়। অজন্তার একটু পিছনে ক্লাস থেকে বেরোতে বেরোতে দু’টো মেয়ে চাপা স্বরে নিজেদের মধ্যে কথা বলছিল—

“গায়ে কী মাখে বল তো? মনে হয়, সূর্যের আলোও পিছলে যাবে! বিদেশি ক্রিমটিম হবে কিছু। টাকা-পয়সার তো অভাব নেই!”

দ্বিতীয় মেয়েটা এ বার জবাব দিল, “আমি কিন্তু অন্য রকম শুনেছি। ওদের বাড়ির এক বিউটিশিয়ান আছে। সে নাকি দুধের সরের সঙ্গে আরও কী সব মিশিয়ে একটা ক্রিম বানিয়ে মাখিয়ে দেয়।” দু’টো মেয়েই একটু বক্র চোখে তাকিয়ে রইল অজন্তার মিলিয়ে যাওয়া চেহারাটার দিকে।

মেয়ে দু’জনের ঈর্ষান্বিত হওয়ার কারণ অবশ্যই আছে। অজন্তার মতো গায়ের রং আর উজ্জ্বল ত্বক বাঙালিদের মধ্যে প্রায় দেখাই যায় না। মনে হয় যেন নদীর জলে খেলা করে চলেছে সোনা রংয়ের রোদ।

এত মসৃণ, এত নিটোল, এত সোনাঝরা চামড়া খুব কমই দেখা যায়। যে-দেখে, সেই তাকিয়ে থাকে!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *