১. দ্য ক্লিনিক
মুম্বইয়ের কোনও একটি এলাকা, ২০২৩
সামনের মুখটার দিকে খুব ভাল করে তাকিয়ে ছিলেন তিনি। মুখটা আসলে তাঁরই। আয়নায় ধরা পড়া নিজের প্রতিবিম্ব!
গোলগাল অমায়িক মুখ। হাসি লেগেই আছে। সামান্য ডাবল চিন আছে বলে মনে হয় যেন কোনও কমিক বুক থেকে উঠে আসা মজাদার এক চরিত্র। উল্টো দিকের কেউ এই মুখটা দেখলে নিজের অজানতেই সামান্য হলেও হেসে ফেলবে। সত্যি, এঁকে দেখলে যেন মনটা ভাল হয়ে যায়।
নিজের মুখ দেখে তাঁর মনটাও যেন ফুরফুরে হয়ে উঠল। চাপা শিস দিতে দিতে মুখে এক বার হাত বুলিয়ে নিলেন। তার পরে ফিরে তাকালেন ঘরের দিকে।
খুবই সাদামাটা একটা ঘর। দেওয়াল থেকে বড় লাইট ঝুলছে। সেই লাইটের আলোটা গিয়ে পড়ছে ঘরের মাঝখানে রাখা একটা লম্বা টেবিলের উপরে। যে-টেবিলটার পাশে রাখা আর একটা ছোট টেবিল। তার উপরে একটা স্টিলের ট্রে-তে রাখা একটা বড় মেডিক্যাল মাস্ক, এক জোড়া সার্জিক্যাল গ্লাভস, একটা স্কালপেল, একটা ফরসেপ আর একটা লম্বা মতো যন্ত্র। যন্ত্রটা দেখতে অনেকটা চ্যাপ্টা টর্চের মতো। যন্ত্রটার মাথাটা দেখলে ইলেক্ট্রিক রেজরের কথা মনে পড়ে যেতে পারে কারও কারও। যন্ত্রটা যদিও টর্চও নয়, দাড়ি কামানোর মেশিনও নয়। এই যন্ত্রটির অন্য কাজ আছে।
তিনি এ বার নিজের অ্যাপ্রনটা ঠিক করে নিলেন। তার পরে একটা মেডিক্যাল মাস্ক পরে এগিয়ে গেলেন বড় টেবিলটার দিকে। মাস্কটা তিনি পরেই ক্লিনিকে ঢুকেছিলেন। এখানকার দুই আর্দালি মাস্ক ছাড়া কখনও তাঁকে দেখেনি। এই মাস্কটা পরলে মুখের বেশির ভাগ অংশই ঢাকা থাকে। ঘরে ঢুকে এক বার খুলে নিয়েছিলেন মাস্কটা। টেবিলের সামনে গিয়ে তিনি এ বার চাপা স্বরে বললেন, “ভিতরে এসো।”
দুটো ছেলে ত্রস্ত মুখে ঘরে এসে ঢুকল। তাদের দৃষ্টি মাটির দিকে I
পোশাক দেখে বোঝা যাচ্ছিল, তিনি এক জন ডাক্তার। তৈরি হচ্ছেন কোনও একটা অস্ত্রোপচারের জন্য। ঘরের চারপাশে এক বার চোখ বুলিয়ে তিনি হাতে তুলে নিলেন স্কালপেলটা। এই বস্তুটা তাঁর খুব প্রিয়। তাঁর হাতে পড়লে যেন প্রাণের ছোঁয়া পেয়ে যায়। কয়েক মুহূর্ত ভাবলেন ডাক্তার। তার পরে স্কালপেলটা নীচে নামিয়ে রাখলেন। নাহ, আজ স্কালপেলের দিন নয়। আজ ওই আধুনিক যন্ত্রটা ব্যবহার করতে হবে। যার নাম ডার্মাটোম।
মেশিনটা হাতে তুলে নিলেন তিনি। তার পরে পাশে দাঁড়ানো ছেলেটির দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “চার্জ ঠিকমতো দেওয়া আছে তো?” কোনও মতে দ্রুত মাথা নাড়ল সহকারীটি। ডাক্তারের মুখের দিকে না-তাকিয়েই। যেন ওই মুখটার দিকে তাকাতে ভয় পাচ্ছে সে।
ডাক্তার আবার মেশিনটার দিকে তাকালেন। এই মেশিনের পোশাকি নাম ডি-৮০ ব্যাটারি অপারেটেড কর্ডলেস ডার্মাটোম। এই মেশিনটার বিশেষত্ব হল, শরীরের বিভিন্ন কোণেও অনায়াসে ব্যবহার করা যায়। তাঁর বাঁ হাতে ধরা ছিল মেশিনটা। এ বার ডান হাত দিয়ে মেশিনটার মাথার কাছে দু’টো বোতামে চাপ দিলেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে একটা ছোট খাপ খুলে গেল, যাকে বলা হয় ব্লেড কম্পার্টমেন্ট।
দ্বিতীয় সহকারীর দিকে এ বার ফিরলেন তিনি। সে ছেলেটি ছোট একটা প্যাকেট দ্রুত এগিয়ে দিল। মেশিনটা টেবিলের উপরে নামিয়ে রেখে প্যাকেটটা হাতে তুলে নিলেন ডাক্তার। মোড়কটা খোলার পরেই বেরিয়ে এল ব্লেড জাতীয় একটা বস্তু। তবে সেটা সাধারণ ব্লেডের চেয়ে প্রায় চার গুণ বড়। ধীরে ধীরে সেই ব্লেডটা মেশিনের ফাঁকা কম্পার্টমেন্টে ঢুকিয়ে কভারটা বন্ধ করে দিলেন তিনি। ক্লিক শব্দ দিয়ে ডি-৮০ ডার্মাটোম জানান দিল, সে তৈরি কাজের জন্য। অপারেশন শুরুর আগে আর একটা ছোট্ট কাজ বাকি ছিল। মেশিনের গ্রাফ্ট থিকনেসের প্যানেলটা অ্যাডজাস্ট করা। ০.৩ মিলিমিটারের বেশি স্কিন তাঁর দরকার নেই। নির্দেশ অনুযায়ী ওই ঘনত্বের চামড়াই মানুষের শরীর থেকে তুলে আনবে ডার্মাটোম। মমতাভরে এক বার হাত বুলিয়ে নিলেন যন্ত্রটার উপরে। তিনি তৈরি। শিল্পীর হাতে তুলি এসে গিয়েছে। এ বার শুরু হবে শিল্পকর্ম।
প্রায় একই সঙ্গে তিন জনের চোখই চলে গেল বড় টেবিলটায় শায়িত দেহটার উপরে। শাওয়ার ক্যাপের আড়ালে ঢাকা পড়ে আছে ছোট ছোট কোঁকড়ানো চুল। এক সময় হয়তো কিছুটা বড় ছিল, কিন্তু এখন কেটে ছোট করে দেওয়া হয়েছে। শায়িত চেহারাটার দিকে নজর গেলে আন্দাজ করা যায়, দেহের মালিক পাঁচ ফুট দু’ইঞ্চির মতো হবে। গলা থেকে শরীরের নীচের দিকের অংশ সাদা চাদরে ঢাকা। চাদরের ভাঁজে এক জোড়া স্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। মুখটা আবরণমুক্ত। মোটামুটি সুশ্রী বলা চলে। নাকটা একটু চ্যাপ্টা। তবে মেয়েটির আকর্ষণের কেন্দ্র হল গায়ের চামড়াটা। আবরণমুক্ত মুখে যে-ত্বকের আভাস পাওয়া যাচ্ছে, তা রীতিমতো ঈর্ষণীয়। মনে হচ্ছে, স্বর্ণাভ রংয়ের মাখন দিয়ে মেয়েটির মুখ কেউ ছাঁচে ফেলে তৈরি করেছে।
মুখটার দিকে মায়াভরে এক বার তাকিয়ে রইলেন ডাক্তার। সার্জিক্যাল গ্লাভস পরা অবস্থাতেই এক বার হাত বুলিয়ে নিলেন মেয়েটার মুখে। তার পরে সুইচ টিপে দিলেন যন্ত্রটার। ঘড় ঘড় শব্দে চালু হয়ে গেল কর্ডলেস মেশিন। ডাক্তারের হাত নেমে এল মেয়েটির মুখের উপরে।
ঠিক মুখের উপরে নয়। বলা ভাল, কানের পিছনের অংশে। ধীরে ধীরে মেয়েটির মুখের সে জায়গাটায় মেশিনটা বোলাতে লাগলেন ডাক্তার। প্রাতরাশের সময়ে টোস্টে লাগানোর জন্য যে-ভাবে ছুরি দিয়ে মাখন তোলা হয়, সে ভাবেই মেশিনটি মেয়েটার কানের নীচের চামড়া তুলে নিতে লাগল। খুব আদরের সঙ্গে, খুব যত্ন করে। ধীরে ধীরে চামড়াটা রোল হয়ে উঠে আসতে লাগল মেশিনের ব্লেডে। চামড়ার উপরের স্তরটা উঠে যেতেই মেয়েটার কানের নীচে ফুটে উঠল রক্তবাহী শিরা-উপশিরার আভাস। স্বর্ণাভ ত্বক তখন বদলে গিয়েছে রক্তাক্ত এক মাংসপিণ্ডে। শিরা-উপশিরার মধ্য দিয়ে রক্তপ্রবাহের চালচিত্রটাও যেন নজরে চলে আসছে।
ডাক্তার তখনও থামলেন না। আরও অল্প সময় চলল ডার্মাটোম। যান্ত্রিক ব্লেডের নকশা তখন কানের নীচ থেকে চোয়াল বেয়ে চলে এসেছে সামনের দিকে। রক্তের রেখাটাও এগিয়ে এসেছে সেই পথ ধরে। গালের কাছ বরাবর এসে থেমে গেল যান্ত্রিক ঘড় ঘড় শব্দটা। শিল্পীর কাজ শেষ হল। বাঁ হাতে মেশিনটা ধরে ডান হাতে একটা ফরসেপ জাতীয় বস্তু তুলে নিলেন তিনি। ধীরে ধীরে মেশিনের মাথা থেকে ছাড়িয়ে নিলেন মেয়েটির চামড়া। তার পরে ঘুরে তাকালেন তাঁর এক সহকারীর দিকে।
মুহূর্তের মধ্যে একটা স্টেরাইল কন্টেনার এগিয়ে দিল সহকারী ছেলেটা। যে-কন্টেনারের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিবায়োটিক এবং পঞ্চাশ শতাংশ গ্লিসারল সলিউশন। ফরসেপের সাহায্যে তোলা চামড়াটা ডাক্তার এ বার ডুবিয়ে দিলেন কন্টেনারে রাখা তরলে। ডার্মাটোম মেশিনের নির্দেশ অনুযায়ী, ০.৩ মিলিমিটার চামড়া তুলে নেওয়া হয়েছে মেয়েটির মুখের ওই অংশ থেকে।
সহকারী ছেলেটা জানত কী করতে হবে। মিনিট ৪৫ ওই তরলে ডুবিয়ে রাখতে হবে চামড়াটা। তার পরে তারা এই কন্টেনারটি পাঠিয়ে দেবে বিশেষ একটি জায়গায়। যেখানে ঘণ্টা তিনেক শেকিং ইনকিউবেটরে রাখা হবে মেয়েটার চামড়ার এই অংশটা। এর পরে সেখান থেকে চামড়ার টুকরো নিয়ে যাওয়া হবে আর একটি ঘরে। বিশেষ একটি রেফ্রিজারেটরে তিন সপ্তাহ রেখে দেওয়া হবে এই চামড়ার টুকরো। যে-রেফ্রিজারেটরের তাপমাত্রা মাইনাস ৫ ডিগ্রি থেকে মাইনাস ৭০ ডিগ্রি পর্যন্ত হতে পারে। সপ্তাহ তিনেক সেই ঠান্ডায় শুকোবে মেয়েটার চামড়া। অনেকটা মা-ঠাকুরমার আচার রোদে শুকোনোর মতো করে! তার পরে ট্র্যান্সপ্লান্টের জন্য তৈরি হয়ে যাবে এই স্কিনটি। ট্র্যান্সপ্ল্যান্ট প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই করা যায়। কিন্তু এই বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আরও একটা ব্যাপারের জন্য তৈরি করে দেওয়া হয় শরীর থেকে তুলে আনা মানুষের চামড়াকে। এখন এই চামড়ার টুকরো চালান হয়ে যেতে পারে দেশে-বিদেশের যে-কোনও জায়গায়। কোনও সমস্যা হবে না। খুব প্রয়োজন হলে বছরখানেকেরও বেশি সময় থেকে যাবে সুরক্ষিত এই চামড়ার অংশ। তার পরেও ব্যবহার করা যাবে ট্র্যান্সপ্লান্টের জন্য।
ছেলে দু’টোর অবশ্য জানার কোনও আগ্রহ নেই, এখান থেকে বেরিয়ে চামড়ার টুকরোটা ঠিক কোথায় যায়। তারা জানে, এখানে একটা বেচাল কথা মানে চিরতরে হারিয়ে যেতে হবে। এই কাজে টাকাপয়সা ভালই মেলে। তবে কাজ করার দু’টো শর্ত। হুকুম ছাড়া আর কোনও কথা কানে ঢোকানো যাবে না। আর এখান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরে পুরোপুরি ভুলে যেতে হবে এই ক্লিনিকের কথা।
চামড়ার টুকরোটা কন্টেনারে নিয়ে পাশের ঘরে চলে গিয়েছিল প্রথম ছেলেটা। দ্বিতীয় ছেলেটা তখন ডার্মাটোম থেকে রক্ত ধুয়ে পরিষ্কার করার কাজে ব্যস্ত। ডাক্তারও গ্লাভস আর অ্যাপ্রন খুলে ফেলেছেন, এই সময় শোনা গেল আওয়াজটা। মেয়েটা গোঙাচ্ছে। অব্যক্ত এক যন্ত্রণার রেশ ফুটে উঠছে মেয়েটার মুখের এক অংশে। দরদর করে জল নেমে আসছে চোখ দু’টো থেকে।
“কী রে, অজ্ঞান করার ইঞ্জেকশনটা ঠিকমতো দিসনি? এত আগে জ্ঞান ফিরে আসছে কেন?”
পাশের ঘর থেকে প্রথম ছেলেটা দৌড়ে এসে বলল, “না না, দিয়েছি তো। একেবারে ঠিকঠাক।”
“তা হলে জ্ঞান ফিরে আসছে কেন?” আধ ঘণ্টা আগের ডাক্তারের সেই হাসিখুশি মুখ পুরোপুরি বদলে গিয়েছে। একটা সরীসৃপ যেন হিসহিস করে উঠছে। ছেলেটা কোনও মতে ঠোঁট চেটে বলতে পারল, “মেয়েটাকে তো আগে অনেক বার অ্যানাস্থেসিয়া দিয়ে অজ্ঞান করা হয়েছে। মনে হচ্ছে, ওর উপরে ওষুধের প্রভাবটা কমে আসছে।”
ডাক্তার একটু সময় ভাবলেন। তার পরে বললেন, “চট করে মুখের বাঁ দিকে ব্যান্ডেজ করে মেয়েটাকে সরিয়ে নিয়ে যা। আমাকে যেন ও দেখতে না-পায়।”
ডাক্তার অবশ্য জানতেন, দেখলেও বিশেষ সমস্যা হবে না। আর একটা লাশ না হয় পড়ে থাকবে মুম্বইয়ের কোনও রাস্তার পাশের ড্রেনে। সমস্যাটা সেখানে নয়। এত তাড়াতাড়ি সোনার ডিমপাড়া হাঁসটাকে নষ্ট করতে চান না তিনি। আরও বেশ কয়েক বার মেয়েটার শরীর থেকে চামড়া তুলে নেওয়া যাবে। মেয়েটাকে বাঁচিয়ে রেখেই। তাতে সবারই লাভ। এত তাড়াতাড়ি মেরে দিলে ব্যবসার ক্ষতি হয়ে যাবে না! আর এই মেয়েটা সত্যিই সোনার ডিমপাড়া হাঁস। এর ফরসা ত্বকের ঔজ্জ্বল্যই আলাদা। এর স্কিন স্যাম্পেল বিদেশে পাঠানোর পর থেকেই বেশ একটা লাইন পড়ে গিয়েছে। ক্লায়েন্টদের খুশি রাখতে হবে। তারও আগে তাঁর মালিককে খুশি রাখতে হবে। আর যাই হোক না কেন, নিজের মানিককে কোনও ভাবেই চটাতে চান না ডাক্তার।
একটা ছেলে দ্রুততার সঙ্গে মেয়েটার মুখে ব্যান্ডেজ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। মেয়েটার গোঙানি তখন ক্রমেই বেড়ে চলেছে। সে দিকে তাকিয়ে ডাক্তার বলে উঠলেন, “সপ্তাহ দু’য়েকের মধ্যে জায়গাটা ঠিক হয়ে যাবে। তত ক্ষণ মেয়েটার খেয়াল রাখিস। আর আমি বেরিয়ে গেলে ওকে এখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যাস।’
মিনিট পনেরো পরে ডাক্তারের সি ক্লাস মার্সিডিজটা মুম্বইয়ের রাস্তা দিয়ে উড়ে যেতে লাগল তাঁর বহুতল অ্যাপার্টমেন্টের দিকে।
ছেলে দু’টো অবশ্য তত ক্ষণে একটা কাজ সেরে ফেলেছে। জরুরি ফোনটা করে ফেলেছে তাদের সেন্টারে। একটু পরেই অ্যাম্বুল্যান্স চলে আসবে মেয়েটাকে নিয়ে যেতে।
শায়িত মেয়েটার দিকে করুণ চোখে এক বার তাকিয়ে প্রথম ছেলেটা বলে উঠল, “সত্যি, কাউকে দেখে কখনও বোঝা যায় না সে কত বড় শয়তান। তা-ই না?”
দ্বিতীয় ছেলেটা তাড়াতাড়ি ঠোঁটে আঙুল দিয়ে সাবধান করে দিল, “থাক, থাক সমীর, ও-সব কথা বলিস না। কেউ শুনতে পেলে আমাদের কেটে আরব সাগরের জলে ভাসিয়ে দেবে। এই সব অমানুষের নাম ভুলেও করতে নেই।”
“ওর আসল নাম জানি নাকি যে-বলব? মুখও তো কোনও দিন দেখলাম না!” ট্রে-র বাকি জিনিসগুলো গুছিয়ে রাখতে রাখতে বলল সমীর, “ওকে তো সবাই এই সার্কিটে ডক্টর ডেভিল বলে জানে।”
