প্রথম পর্ব
দ্বিতীয় পৰ্ব
তৃতীয় পৰ্ব
চতুর্থ পৰ্ব
1 of 2

৫. শিকারের সন্ধানে

৫. শিকারের সন্ধানে

মুম্বই – পুণে, ২০২৩

কয়েকটা দিন চলে গেলেও আনোয়ার তার শিকারের হদিশ পায়নি। কিন্তু একটা রাস্তা সে দেখেছিল। রতন মরার আগে একটা কথা বলে যায়। সমীরের এক জন ঘনিষ্ঠ বন্ধু আছে যে-ক্যাব ড্রাইভ করে। এক বার তিন জনে নাইট ক্লাবেও গিয়েছিল।

তার পরে রঞ্জিতের সঙ্গে আরও একদফা কথা বলে আনোয়ার। জেনে নেয়, সমীর একটা গাড়ি নিয়ে রাত বারোটা নাগাদ হোমের কাছে এসেছিল। ওই গাড়িতেই মেয়েটাকে নিয়ে পালায়। কিন্তু রঞ্জিত নিজে ওই গাড়ির সামনে যায়নি বলে কী ধরনের গাড়ি বা গাড়ির নম্বরটা কী, সেটা ও জানে না।

.

আনোয়ার তার ছেলেদের লাগিয়ে দিল সমীরের বস্তির কাছে যে-সব লোক থাকে, তাদের সঙ্গে কথা বলতে। সমীরের কোনও বন্ধুর হদিশ নিশ্চয়ই পাওয়া যাবে।

আরও একটা কাজ সে করেছিল। এর জন্য অবশ্য তার উপরওয়ালাদের সাহায্য নিতে হয়েছিল। সমীরের মোবাইল নম্বরটা বিশেষ এক ব্যক্তির হাতে তুলে দিয়ে অনুরোধ করা হয়েছিল, লোকেশনটা ট্র্যাক করতে। লোকেশন ট্র্যাক করার ক্ষেত্রে মোবাইল সার্ভিস অপারেটরদের সাহায্য পাওয়াটা খুবই জরুরি সেই সাহায্য পেতে অবশ্য সমস্যা হয়নি। পুলিশের থেকে তারা আরও আগে এই ধরনের সাহায্য পেয়ে যায়! কিন্তু সমস্যা হল অন্য জায়গায়। সমীরের মোবাইলটা সুইচড অফ দেখাচ্ছে ক্রমাগত। লাস্ট লোকেশন দেখিয়েছে, সেই হোমের সামনেটা।

.

আনোয়ার বুঝতে পারছিল আর বেশি সময় নেই হাতে। তখনই ফোনটা এল। তার দলেরই একটা ছেলে করেছে। সমীরের সেই বন্ধু ফিরে এসেছে। যার সঙ্গে ঘর ভাগ করে ধারাভির ওই বস্তিতে থাকত সমীর।

এক ঘণ্টার মধ্যে সেই বন্ধুকে তুলে আনা হল আনোয়ারের সামনে।

ছেলেটার উল্টো দিকে বসে হাতের ক্ষুরটা নাচাতে নাচাতে আনোয়ার বলল, “তোর বন্ধু আমাদের টাকা চুরি করে পালিয়েছে। আমরা জানি; তুই এর মধ্যে নেই। কিন্তু আমাদের একটা খবর দরকার। সমীরের এক বন্ধু আছে যে- ওই ট্যাক্সি চালায়। ওর গাড়িতে চেপে ও পালিয়েছিল। সেই ছেলেটার হদিশ আমাদের চাই।”

সমীরের বন্ধু এক বার আনোয়ারের হাতের ক্ষুরটার দিকে তাকিয়ে কোনও মতে বলে উঠল, “আমি কিন্ত সমীরের বন্ধু নই। আমরা শুধু ঘর শেয়ার করে থাকি।” আনোয়ার কিছু না বলে তাকিয়ে থাকল। ছেলেটা হড়বড় করে বলে যেতে লাগল, “একটা ছেলে এক বার সমীরের সঙ্গে আমাদের ঘরে এসেছিল। মাস কয়েক আগে হবে। আমরা একসঙ্গে বসে মদ-টদ খেয়েছিলাম। ছেলেটার নামটা ঠিক মনে নেই। তবে একটা অ্যাপ কোম্পানির হয়ে গাড়ি চালায়। সাদা সুইফ ডিজায়ার নিয়ে এসেছিল। গাড়িটা মাঝেমধ্যে ভাড়াও খাটায়।”

আনোয়ারের চোখের দৃষ্টি ছেলেটার মুখের থেকে সরল না। চিবিয়ে চিবিয়ে জিজ্ঞেস করল, “গাড়িটার নম্বর মনে আছে? ভাল করে ভেবে বল। বা ছেলেটার ফোন নম্বর?”

ছেলেটা কপালের ঘাম মুছে বলে উঠল, “গাড়ির নম্বর তো মনে নেই। ফোন নম্বরও নেই। তবে….।”

“তবে কী?”

“আমরা ওর গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলেছিলাম। আমাদের বস্তির কেউ এক জন তুলে দিয়েছিল। যে-কারণে গাড়িটার কথা মনে আছে। আমার ফোনে বোধ হয় ছবিটা আছে এখনও।”

আনোয়ার চোখটা নাচাল।

মোবাইল ফোনটা তাড়াতাড়ি বার করতে গিয়ে ছেলেটা ফেলেই দিল হাত থেকে। আবার দ্রুত ফোনটা তুলে মিনিটখানেক ছবির গ্যালারি হাতড়াল। যে- ছবিটা খুঁজছিল, সেটা পেতেই বেঁচে যাওয়ার একটা হাসি হেসে ফোনটা এগিয়ে দিল আনোয়ারের দিকে, “এই যে-সেই ছবিটা। আমরা তিন জনে আছি। গাড়িটার সামনে দাঁড়িয়েই ছবিটা তোলা হয়েছিল।”

মোবাইলটা হাতে নিয়ে ছবিটার উপরে চোখ বোলাল আনোয়ার। তার মুখে একটা বিকৃত হাসি ফুটে উঠছে।

ছবিতে তিন জনকে দেখা যাচ্ছে। এদের মধ্যে দু’জনকে সে চেনে। তৃতীয় লোকটা দাড়ি-গোঁফওয়ালা। কিন্তু এরা নয়। আনোয়ারের দৃষ্টি চলে গেল ছবির আর একটা অংশে।

তিন জনে এমন ভাবে দাঁড়িয়েছিল, যাতে করে গাড়ির নম্বর প্লেটটা পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে। সম্ভবত নিজের গাড়িটা ছবিতে দেখাতে চাইছিল সমীরের বন্ধু।

আনোয়ার ক্ষুরটা খাপে ভরে ফেলল! তার পরে ছেলেটার দিকে তাকিয়ে চিবিয়ে চিবিয়ে বলল, “তোকে এ বারের মতো ছেড়ে দিলাম। সমীর আমাদের টাকা চুরি করে বাঁচবে না। তুই মুখ খুললে তুইও মরবি মনে রাখিস।”

ছেলেটা কোনও মতে মাথা নাড়ল।

.

পুণে।

.

সমীর সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলল কী করবে এ বার। আর এখানে থাকা চলবে না। পরশুই বেরিয়ে যাবে ঠিক করল। তার আগে অপরাজিতাকে ডেকে খুলে বলল নিজের পরিকল্পনা।

পুণে থেকে নেপাল যাওয়ার মোটামুটি তিনটে সহজ রাস্তা আছে। একটা উত্তরপ্রদেশের গোরখপুর হয়ে। বিকেলের দিকে পুণে থেকে ছাড়ে ১১০৩৭ গোরখপুর এক্সপ্রেস। ৩৩ ঘণ্টা মতো সময় নিয়ে পরের পরের দিন রাত একটা নাগাদ পৌঁছয় গোরখপুরে। সেখান থেকে বাস নিয়ে সুনাউলি বর্ডার। ওই সীমান্ত পার হয়ে ঢুকে যেতে হবে নেপালের ভাইরাহাওয়ায়। যা এখন পরিচিত সিদ্ধার্থ নগর বলে।

দ্বিতীয় রাস্তা হল বেনারস হয়ে। একই ট্রেন ধরে নামতে হবে বেনারসে। সেখান থেকে আবার বাস নিয়ে কাঠমাণ্ডু। ঘণ্টা ১৪ সময় লাগে বাসে।

তিন নম্বর রাস্তাটা রক্সাউল হয়ে। পুণে-দ্বারভাঙা ট্রেনে করে মুজ্জাফফরপুরে নামতে হয়। মুজ্জাফ্ফরপুর থেকে আবার ট্রেন করে রাক্সাউল। সেখান থেকে সীমান্ত পার হয়ে বীরগঞ্জ।

তিনটে রাস্তার কথাই অপরাজিতাকে খুলে বলল সমীর। মেয়েটা একটু ভেবে বেছে নিল গোরখপুরকেই। সমীরেরও এই রাস্তাটাই পছন্দ ছিল। গোরখপুর তার খুব চেনা শহর। ওখানেই তার বাড়ি! তার উপরে গোরখপুর থেকে সুনাউলি সীমান্তও বেশ কাছে। একশো কিলোমিটারের মধ্যে হবে। ভোরবেলা বাস ছাড়ে নেপাল যাওয়ার। অপরাজিতাও কাঠমান্ডুতে আর ফিরতে চাইছিল না। ভাইরাহাওয়া থেকে তাদের গ্রামেও তাড়াতাড়ি ফেরা যাবে। তবে সমস্যা একটা ছিল। অপরাজিতার পরিচয়পত্র। যা দেখাতে লাগবে সীমান্ত পার হওয়ার সময়। সমীর ঠিক করে নিয়েছিল, আগে গোরখপুর পৌঁছনো যাক। তার পরে তার চেনাশোনা লোকের সঙ্গে কথা বলবে। সরকারি রাস্তা ছাড়াও নেপাল পৌঁছনোর অন্য রাস্তাও আছে। সেটা সমীরের জানা ছিল। অনেকেই এই ভাবে আসা-যাওয়া করে।

সমীর সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলল। গোরখপুর এক্সপ্রেসের দু’টো টিকিট কেটে নিতে হবে দ্রুত। নিজের হাত ব্যাগটা কাছে টেনে নিল সমীর। অপরাজিতাকে নিয়ে পালানোর পর থেকেই সে নিজের মোবাইলটা সুইচ অফ করে ব্যাগে পুরে রেখেছিল। এই সময় কোনও ফোন আসুক, সে চায় না। তা ছাড়া আনোয়ার, রতনের কাছেও তার ফোন নম্বরটা আছে। ওদের কাছ থেকে ফোন এলে সেটা ধরার মতো বুকের পাটা সমীরের নেই।

ব্যাগ থেকে মোবাইল ফোনটা বার করল সমীর। অল্প সময়ের জন্য ফোনটা অন করতে হবে তাকে। কয়েকটা ব্যাপার জেনে নিতে হবে। ট্রেনের সময় দেখে নিতে হবে। তার পরে বন্ধুকে দিয়ে যাত্রার দিন দু’টো আনরিজার্ভড কম্পার্টমেন্টের টিকিট কাটতে হবে।

মোবাইলের অন সুইচটা চেপে ধরল সমীর। ধীরে ধীরে প্রাণ ফিরে পেল আধুনিক যন্ত্রটা।

.

পুলিশ চাইলে খুব দ্রুত গাড়ির নম্বর থেকে নাম-ধাম-ফোন নম্বর সব বার করে ফেলতে পারে। মোটর ভেহিকেলস ডিপার্টমেন্টের মাধ্যমেও এই সব তথ্য দ্রুত জানা যায়। আনোয়ারের ছেলেরা তাদের মোটর ভেহিকেলসের সোর্স কাজে লাগিয়ে অতি দ্রুত সমীরের বন্ধুর মোবাইল নম্বর আর নামটা বার করে ফেলল।

এর পরের কাজটা করতে সমস্যা হয়নি। একটা ফোন। গাড়িটা ক’দিনের জন্য ভাড়া নেওয়ার কথা বলা। আর তার আগে এক বার দেখা করে ভাল অ্যাডভান্স দেওয়ার প্রতিশ্রুতি। রাত আটটা নাগাদ একটা গ্যারেজের সামনে দেখা করতে চলে এল সমীরের বন্ধু।

ছেলেটা প্রথম দিকে একটু বেগড়বাই করেছিল। স্বীকার করতে চায়নি সমীর আর মেয়েটার কথা। কিন্তু মিনিট পনেরো ঠিকঠাক দাওয়াই দিতেই বেরিয়ে পড়ল আসল কথাটা। সে দিন রাত বারোটা নাগাদ আন্ধেরির ওই অঞ্চল থেকে সমীর আর মেয়েটাকে নিয়ে সে দাদারের মহারাষ্ট্র স্টেট ট্রান্সপোর্ট ডিপোর শিবনেরি বাসস্ট্যান্ডে নামিয়ে দেয়। যেখান থেকে থেকে বাসগুলো ছেড়ে যায় পুণের জন্য।

একটা কথা জানার ছিল আনোয়ারের। ওরা দু’জন বাসেই উঠেছে কি না। কারণ, এই জায়গাটা থেকে দাদার স্টেশনও বেশি দূরে নয়। কিন্তু সমীরের বন্ধু জানাল, বাস গুমটির টিকিট কাউন্টারের দিকেই সোজা গিয়েছিল সমীর। পুণের বাসের টিকিট কাটার পরে সে গাড়ি নিয়ে ফিরে আসে।

“পুণেতে কে থাকে সমীরের? কোনও বন্ধু বা আত্মীয়?” ক্ষুরটা বন্ধুর গলায় চেপে ধরে গর্জন করে ওঠে আনোয়ার।

“সত্যি বলছি, আমার কোনও ধারণাই নেই।” ছটফট করে উঠে বলল ছেলেটা। তার মুখ আতঙ্কে সাদা হয়ে গিয়েছে।

আনোয়ার বুঝে গেল, এই ছেলেটার কাছ থেকে কিছু জানা যাবে না আর। সমস্যা হল, একে বাঁচিয়ে রাখাও চলে না। সমীরের আগের বন্ধুটাকে হুঁশিয়ারি দিয়ে ছেড়ে দিয়েছিল। টাকা চুরির গল্পটা ও বিশ্বাস করেছিল। কিন্তু এই ড্রাইভারটা বুঝে গিয়েছে, কেন তারা সমীরের খোঁজ করছে। বুঝে গিয়েছে, আসল টার্গেট ওই মেয়েটা। একে ছেড়ে দিলে সমস্যা হতে পারে। কে জানে, সমীরকেও জানিয়ে দেবে কি না।

আনোয়ার এক বার ক্ষুরটা বুলিয়ে দিল ছেলেটার গলায়।

.

রাত তখন দশটা। আনোয়ার ঠিক করে ফেলেছে, কী করবে। কাল সকালেই সে রওনা দেবে পুণের উদ্দেশে। তার দু’জন ছেলে তো সঙ্গে থাকবেই, এ ছাড়া সঙ্গে রাখবে আরও এক জন বিশেষ বন্ধুকে। মুম্বই পুলিশের এক জন সাব ইন্সপেক্টর। কাউকে খুঁজে বার করার কাজে আগেও এই পুলিশ অফিসারের সাহায্য পেয়েছে আনোয়ার এবং তার বন্ধুরা। অবশ্যই মোটা অঙ্কের বিনিময়ে। আজ রাতেই রওনা দেওয়ার ইচ্ছে ছিল আনোয়ারের। কিন্তু ওই সাব ইন্সপেক্টর বন্ধুর রাতে ডিউটি আছে। পরের দু’দিন সে ম্যানেজ করে নিতে পারবে। দু’দিনের মধ্যেই যা করার করতে হবে।

আনোয়ার অবশ্য বুঝতে পারছিল না, সে ঠিক কী করবে। তার হাতে অপরাজিতা আর সমীরের ছবি আছে। বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছে ওখানকার লোক জনের সঙ্গে কথা বলতে হবে। ওই রাতে যে-বাসটা এসেছিল মুম্বই থেকে, তার কন্ডাক্টরের সঙ্গে কথা বলে দেখতে হবে। দেখা যাক, ওরা কেউ কিছু বলতে পারে কি না। এই কাজে এক জন সত্যিকারের পুলিশ অফিসার সঙ্গে থাকলে কাজটা দ্রুত হয়ে যায়। লোকে চট করে মুখ খোলে। আনোয়ার একটা প্রার্থনাই করছিল। সমীর যেন পুণে থেকেও ভেগে না যায়।

পরের দিন সকাল ন’টা নাগাদ একটা টয়োটা ইনোভা প্রায় উড়ে যেতে লাগল পুণের দিকে। গাড়িতে ড্রাইভার ছাড়া আরও চার জন লোক। আনোয়ার হিসেব করে দেখল, আর ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই তারা পুণে পৌঁছে যাবে।

সে দিন সকাল সকালই ঘুম থেকে উঠে পড়েছিল অপরাজিতা। উত্তেজনায় সারা রাত ঘুমোতেই পারেনি মেয়েটা। এই রকম উত্তেজনা, এই রকম চাপা আনন্দের অনুভূতিগুলো তার জীবন থেকে হারিয়েই গিয়েছিল। সমীর আবার সেগুলো ফিরিয়ে আনছে।

অনেক দিন বাদে সকালে উঠে গুনগুন করে একটা নেপালি গানের সুর গাইতে লাগল অপরাজিতা। যদি সব কিছু ঠিক চলে, তা হলে দিন চারেকের মধ্যে সে আবার নিজেদের ওই ছোট্ট গ্রামে ফিরে যেতে পারবে। যেখানে ফিরে যাওয়ার সমস্ত আশা ছেড়েই দিয়েছিল মেয়েটা। সমীর সেই আশাগুলোই আবার জাগিয়ে তুলেছে।

সমীরও এ দিন তাড়াতাড়িই উঠে পড়েছে। আজ বিকেল সওয়া চারটের সময় তাদের ট্রেন। দুপুর দুপুরই বেরিয়ে যেতে হবে বালেওয়াড়ির বন্ধুর বাড়ি থেকে।

তাদের এই ছোট্ট ঘরের জানলা থেকে বাইরের উঠোনটা দেখতে পাচ্ছিল অপরাজিতা। সমীর তার বন্ধুর সঙ্গে কথা বলছে।

এই রকম কোনও ছেলে যে-তার জীবনে কোনও দিন আসতে পারে, কখনও ভাবতেই পারেনি অপরাজিতা। এক নরকে সে ডুবে গিয়েছিল। সেখান থেকে সমীর তাকে টেনে তোলার চেষ্টা করছে।

সমীরের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে অপরাজিতার গালটা একটু লাল হয়ে উঠল। আচ্ছা, সমীর কি তাকে ভালবাসে? না-হলে কেন করছে এত সব একটা অপরিচিত মেয়ের জন্য? ক্লিনিকের টেবিলে শুয়ে থাকতে থাকতে, জ্ঞান হারানোর আগে পর্যন্ত সমীরকে দেখত অপরাজিতা। অনেক মানুষের সংস্পর্শে এসেছে সে। তারা বেশির ভাগই অমানুষ। কিন্তু এই ছেলেটাকে তার অন্য রকম লাগত। সে জন্যই সমীরের হাত ছুঁয়েছিল সে। সে জন্যই সমীরের সঙ্গে রেসকিউ হোম ছেড়ে বেরিয়ে আসতে দ্বিধা করেনি।

আচ্ছা, সমীর কি তাকে বাড়ি পৌঁছে দিয়েই চলে আসবে? নাকি আরও কিছু বলবে? তারা এখানে স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে লুকিয়ে আছে। সিঁথির সিঁদুরটা সে নিজেই পরে নিয়েছে। কোনও দিন কি সমীর তার সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দেবে?

অপরাজিতার ফর্সা টুকটুকে ডান গালটা আরও লাল হয়ে উঠল। বাঁ- গালের ব্যান্ডেজটার উপরে নিজের অজানতেই এক বার হাত বুলিয়ে নিল নেপালি মেয়েটা।

আনোয়ারদের গাড়ি তখন মুম্বই-পুণে এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে উড়ে আসছে শিকারের সন্ধানে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *