জিহাদি – ৬

(ছয়)

কাল রাত থেকে গুম মেরে আছে কামাল। তুচ্ছ কারণে অহেতুক মেজাজ দেখাচ্ছে। ইমন বুঝতে পারছিল না, আর কতটা সহ্য করতে পারবে। চিরাগই বলল, ‘শূয়ারটা গাড্ডায় পড়েছে। মেজাজ তো খারাপ হবেই। এখন ওকে কিছু বলতে যাস না। ওকে হ্যান্ডেল করার ভার আমার উপর ছেড়ে দে।’

ইমন জিজ্ঞেস করল, ‘গাড্ডায় পড়সে মানে?’

‘বউয়ের জন্য ঝামেলা। দামাস্কাস থেকে ঘনঘন ফোন আসছে, তুই শুনতে পাচ্ছিস না? আমি তো কান খাড়া করে রয়েছি। কামালের যে আঠারো বছরের একটা ছেলে আছে, জানতামই না। তাকে জিহাদি করবে বলে ও রাক্কার ক্যালিফেটে নিয়ে আসতে চেয়েছিল। কিন্তু বউ ছেলেকে আসতে দেবে না। যেদিন ছেলেটার রওনা হওয়ার কথা, সেদিন ওর বউ ইচ্ছে করে ছেলেকে কোনও জড়িবুটি খাইয়েছিল। ফলে ছেলেটা মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়ে। ওকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। এটা জানাজানি হওয়াতে দামাস্কাস পুলিশ কামালের বউকে অ্যারেস্ট করেছে।’

চিরাগের চোখ-মুখে প্রচণ্ড খুশির ছাপ। দেখে ইমনের ভাল লাগল না। কামাল ওদের থেকে অন্তত দশ বছরের বড়। মোসুল ক্যাম্পে একবার বেশ কিছুদিন ওরা একসঙ্গে ছিল। তখন ইমন শুনেছে, কামালের বউ কুর্দ। জিহাদি হওয়ার আগে, দামাস্কাসে কী একটা কাজে ও গেছিল। তখন প্রেমে পড়ে এবং বিয়ে করে নেয়। মোসুল ক্যাম্পে ওর বিছানার পাশে বউ আর ছেলের ছবিও ইমন দেখেছে। কোনও অ্যাকশনে যাওয়ার আগে ছবিটার সামনে দাঁড়িয়ে কামাল কী যেন বিড়বিড় করে বলত। বাচ্চাটার মুখ মনে পড়ায় ইমন জিজ্ঞেস করল, ‘পোলাটা অহন কেমন আসে, হুনছস কিছু?’

‘শুনলাম, বাঁচবে কি না সন্দেহ। এটাকে কী বলে জানিস? আল্লাহর বিচার। কামাল শূয়ারটা কত মায়ের কোল থেকে বাচ্চাকে কেড়ে নিয়েছে, সে তো নিজের চোখেই দেখেছিস। প্রতিদান পেতে হবে না? ওর ঘরে গিয়ে মজাটা একবার দেখে আয়। ছেলের কথা ভেবে হাউ হাউ করে কাঁদছে।’

বাফেলো থেকে নিউ ইয়র্কে আসার পর তিন-চারদিন ধরে ইমনরা একটা পাবলিক স্টোরেজের বেসমেন্টে লুকিয়ে আছে। জায়গাটা ব্রুকলিন ব্রিজের এ পারে। স্টোরেজের আশপাশটায় ঘন অন্ধকার। সন্ধে হলেই গাড়ি চলাচল কমে যায়। স্টোরেজের তিনতলায় নিওন বাতিটা ছাড়া আর কোনও আলো থাকে না। পুরো জায়গাটা যেন কেমন ভুতুড়ে মনে হয়। দিনের বেলাতেও বিশেষ লোকজন ইমনের চোখে পড়েনি। পড়বে কী করে? স্টোরেজ মানে সুন্দর সাজানো গোজানো বড় দোতলা-তিনতলা গুদাম, যেখানে বাড়ির বাড়তি আসবাবপত্র রাখার জন্য লোকে ভাড়া নেয়। বেশিরভাগ ঘরই দিনের পর দিন তালাবন্ধ হয়ে পড়ে থাকে।

স্টোরেজের চোরাকুঠুরিতে একটা ঘরে ইমনের সঙ্গে রয়েছে চিরাগ। অন্য একটা ঘরে কামাল আর সিরিয়ার এক জিহাদি ইমাদ খামিস। এই দু’জন আরব বলে আলাদা খাতির। ওদের ঘর রোজ পরিষ্কার করার জন্য রুম ক্লিনার আসে। পোশাক ধোয়া আর ইস্ত্রি করার জন্য লোকও। স্টোরেজের ম্যানেজার যে ছেলেটা, সেই তৌফিক অবশ্য সামনাসামনি কোনও ভেদাভেদ করে না। সে মাঝে মধ্যেই ইমনদের ঘরে আড্ডা মারতে আসে। নিউইয়র্ক সম্পর্কে নানা রকম ধারণা দেয়। একদিন ওকে আর চিরাগকে শহর দেখাতেও নিয়ে গেছে। ওদের প্রতি তৌফিক এত সহানুভূতিসম্পন্ন কেন, ইমন জানে না।

মাঝে মাঝে এ দিক সে দিক থেকে জিহাদিরা আসে। দলের লোকেদের কথাবার্তায় ইমন শুনেছে, এই স্টোরেজটা একজন মিশরীয়র। তিনি আইএস-এর সমর্থক। নিউইয়র্কে যে সব জিহাদি যাতায়াত করে, গোপনে তাদের তিনি আশ্রয় দেন। তাঁর লোকেরাই জিহাদিদের খাবার-দাবারের ব্যবস্থা, উগ্রপন্থী কার্যকলাপে সাহায্য করে। কোনও কোনও সময় অস্ত্র বা অন্য হাতিয়ারও জোগান দেয়। এই যেমন গতকাল পাঁচটা মাকারভ পিস্তল ডেরায় এসেছে। তার একটা নিয়ে না কি ইমনকে অ্যাকশনে যেতে হবে। একদম লেটেস্ট মডেল। বালগেরিয়া থেকে সদ্য আনা।

ইমন কোনোদিন মাকারভ পিস্তল হাতে পায়নি। কিন্তু দলে আচমকা ওর গুরুত্ব বেড়ে গেছে। চিরাগের বদলে কম্যান্ডাররা ওকে দায়িত্ব দিয়েছেন কালকেতু নন্দী বলে একজনকে খুন করার। এর পিছনে একটাই কারণ। লোকটাকে হত্যা করার জন্য একটা অ্যাপার্টমন্টের লক ভাঙতে হবে। সবাই জানে, ইমন এই কাজটায় খুবই ওস্তাদ। মাকারভ পিস্তলটা হাতে তুলে দেওয়ার সময় কামাল উৎসাহ দেওয়ার মতো গলায় ওকে বলেছিল, ‘তোর স্যাঙাৎ তো পারল না। একটা সুযোগ পেয়েছিস, তুই এটা কাজে লাগা। আল্লাহর অনেক কাছে চলে যেতে পারবি।’

চিরাগের কাজটা যত কঠিন ছিল, তার তুলনায় ইমনেরটা অনেক সহজ। লিলি গডউইনের চারপাশে নিরাপত্তার বলয় থাকত। সেটা কালকেতু নন্দীর ধারে কাছে নেই। কামালের মুখে যখন ব্রিফিং শোনে, তখন ইমন অবাক হয়ে গেছিল, আরে এই নন্দী লোকটা তো কলকাতার। ওর মতোই বাঙালি। লোকটা কী এমন অপরাধ করেছে, যার জন্য ওর নাম হিট লিস্টে? হ্যাঁ, নায়গারায় নন্দী ওদের কাজে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ওর জন্য চিরাগকে যথেষ্ট অপদস্থও হতে হয়েছে। তবুও, লোকটাকে খুন করার জন্য ইমন এখনও যথেষ্ট জিঘাংসাবোধ করছে না।

কামাল সম্পর্কে খুশখবরটা দিয়ে চিরাগ গোসল করতে ঢুকে গেল। মজা দেখার জন্য নয়, এমনিতেই ইমনের যাওয়ার কথা কামালদের ঘরে। চেলসিতে যে অ্যাপার্টমেন্টে কালকেতু নন্দী আছে, সেখানে একবার রেকি করে আসার দরকার কি না, সেটা ও জানতে যাবে। তা ছাড়া, কামাল দুটো ভূতের মুখোশ কিনে এনেছে ওয়ালমার্ট থেকে। ঠিক আছে, হ্যালোইনের রাতে অ্যাকশনটা করতে হবে। ভূতের কস্টিউম পরে গেলে ওর আসল চেহারাটা সিসিটিভির ক্যামেরায় ধরা পড়বে না। সেদিক থেকে ইমন নিশ্চিন্ত। কিন্তু ওর সঙ্গে অ্যাকশনে কে যাবে, সেটা ও শুনতে চায় কামালের কাছ থেকে। চিরাগকে নিশ্চয়ই পাঠানো হবে না। মিস লিলিকে খুন করতে না পারার জন্য ছেলেটার খুব বদনাম হয়ে গেছে।

খানিকক্ষণ অপেক্ষা করে ইমন গিয়ে ঢুকল কামালের ঘরে। ফোনে কারও সঙ্গে কথা বলছে। ওর চোখ-মুখ শুকিয়ে গেছে। গলাতেও তেমন জোর নেই। ওর পাশেই বসে আছে ইমাদ খামিস। সমবয়সি, একেবারে রাজপুত্তুরের মতো দেখতে ছেলেটা। গত পাঁচ বছর ধরে আরবদের দেশে থাকার জন্য আরবি ভাষা কিছুটা আয়ত্ত্ব করেছে ইমন। নিজে পড়তে বা লিখতেও পারে। মিনিট দুয়েক দাঁড়িয়ে থাকার পরও ও বুঝতে পারল না কামাল কোন ভাষায় কথা বলছে। ইমন নিশ্চিত, আরবি নয়। কুর্দ হতে পারে। হঠাৎ ও খামিসের চোখে পড়ল। মুখে আঙুল দিয়ে খামিস ওকে ইশারা করল, চুপ করে থাকতে। কিন্তু এত ভদ্রভাবে কার সঙ্গে কথা বলছে কামাল? একটু পরেই ইমনের কৌতূহল মিটে গেল। খামিস যখন জিজ্ঞেস করল, ‘তোর শ্বশুর এখন কী বলছে কামাল?’

ফোনের সুইচ অফ করেই, দপ করে জ্বলে উঠল কামাল। বলল, ‘আমাকে দামাস্কাসে যেতে বলছে। ইঁদুরের বাচ্চাটা জানে, এই সময় দামাস্কাসে গেলেই আমি অ্যারেস্ট হয়ে যাব। কুর্দরা ওখানে খুব স্ট্রং হয়ে গেছে। খুঁজে খুঁজে আমাদের মতো জিহাদিদের গলা কাটছে। সেটা জেনে শুনেও লোকটা বলছে, দামাস্কাসে গিয়ে বউকে জেল থেকে আর ছেলেকে হাসপাতাল থেকে ছাড়িয়ে নিতে। আমি টাকা-পয়সা খরচা করতে পারব না। বউয়ের বাবা না হলে লোকটার বুক আমি ঝাঁঝরা করে দিতাম।’

শ্বশুরের উপর ঝাল মেটানোর ফাঁকে ইমনকে দেখতে পেল কামাল। মুখ খিঁচিয়ে বলল, ‘এই বি টেন, এখানে দাঁড়িয়ে তুই কী শুনছিস ?’

জিহাদিদের আসল নামে ডাকাডাকির কোনও প্রশ্নই নেই। ওর কোড নাম্বার বি টেন। অর্থাৎ কী না বাংলাদেশ থেকে দশ নম্বর জিহাদি। যেমন চিরাগের কোড নাম্বার আই সিক্সটি ফাইভ। ইমন বলল, ‘আমার সঙ্গে আজ অ্যাকশনে কে যাবে, জানতে এসেছি।’

‘কে গেলে তুই খুশি হবি, বল। দয়া করে আই সিক্সটি ফাইভের নামটা করিস না। বাফেলোর হাসপাতালে ওর জন্যই আমি ধরা পড়তে পড়তে বেঁচে গেছি। দু’দুবার ফেল। এমন আকাট, অপদার্থ সে। তুই এক কাজ কর। আজ খামিসকে সঙ্গে নিয়ে যা। তোর অনেক কাজে লাগবে। তোদের সঙ্গে আর যাবে তৌফিকও। সে গাড়ি নিয়ে কাছাকাছি কোথাও ওয়েট করবে। মিনিট দশেকের মধ্যে কাজটা খতম করে তোকে বেরিয়ে আসতে হবে।’

ঘাড় নেড়ে ইমন বেরিয়ে আসছিল, সেইসময় ফের ওকে ডেকে কামাল বলল, ‘শোন, আজ দুপুরেই নিউ ইয়র্ক থেকে আমি চলে যাচ্ছি। খামিসও দু’একদিনের মধ্যে হয়তো একটা ইমপরট্যান্ট কাজে কসোভোয় চলে যাবে। দেখিস, ওকে যেন বিপদের মধ্যে ফেলিস না।’

আর দাঁড়িয়ে থাকার কোনও মানে হয় না। কথা বাড়াতে গেলে কপালে খিস্তি জুটবে। নিজেদের ঘরে ফিরে এসে ইমন দেখল, চিরাগ ল্যাপটপ খুলে বসে আছে। ওর সামনে অর্ধেক শেষ করা খাবারের প্লেট। আধ খাওয়া চিকেন স্যান্ডউইচ, কলা, আধা ডেমসেদ্ধ পড়ে রয়েছে। ওর খাবারটাও প্লেট দিয়ে ঢাকা। ঘুম থেকে উঠে শুধু বেড টি খেয়েছে। তা সত্ত্বেও, খিদে পাচ্ছে না ইমনের। সন্ধেবেলার অ্যাকশনের কথা যখনই ভাবছে, তখনই ওর অল্প টেনশন হচ্ছে। জীবনে এই প্রথম ও কাউকে খুন করতে যাচ্ছে। ছোটবেলা থেকেই ও ডানপিটে টাইপের। কিন্তু পাঁচ-ছয় বছর আগে পর্যন্ত কাউকে খুন করার কথাটা ও চিন্তাই করতে পারত না। ওদের বাড়ি ঢাকার কাছে আমোদপুর বলে একটা গ্রামে। ওর দাদামশয় বিপুল সম্পত্তির মালিক ছিলেন। রাজনীতি করতেন বলে বিশাল প্রতিপত্তি ছিল তাঁর। বাংলাদেশের জন্ম হওয়ার পর অবশ্য সেই রমরমা কমে যায়।

ইমনের মনে আছে, একবার ঈদের তিন-চারদিন আগে ওর দাদামশয় একটা উট কিনে এনেছিলেন। উটের মাংস খাওয়ার সৌভাগ্য তো চট করে হয় না। প্রতিবেশীরা সবাই জুটে গেছিলেন সেই আনন্দ যজ্ঞে। বাড়িতে কয়েকদিন দেখে ইমনের খুব মায়া পড়ে গেছিল উটের উপর। আগের রাতে যখন নিরীহ পশুটাকে জবাই করা হচ্ছিল, তখন তার আর্ত চিৎকারে ঘুম ভেঙে গেছিল ইমনের। ওর এত কষ্ট হয়েছিল যে, আম্মুকে জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি করেছিল। গ্রামে ওর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল রোহিত দাশগুপ্ত। ওর বাবা পরে একদিন বলেছিলেন, প্রাণীহত্যা মহাপাপ। ঈশ্বরের কাছে সব প্রাণীই সমান। এই কারণেই হিন্দু দেবদেবীদের বাহন অন্য জীবজন্তুরা। যাতে কেউ তাদের মেরে ফেলার কথা না ভাবে। প্রাণীহত্যা করলে না কি মরণের পরে হিন্দুরা নরক আর মুসলমানরা দোজখে গিয়ে কষ্টভোগ করে।

কপালের ফেরে জিহাদিদের ক্যাম্পে এসে একেবারে উল্টো কথা শুনতে হচ্ছে ইমনকে। এখানে মায়া-মমতা-স্নেহ বলে কিছু নেই। সর্বদাই ওদের শুনতে হয়, ইহুদি আর ইসাই অর্থাৎ ক্রিশ্চানরা হল কাফের। ওদের খতম করো। ক্যালিফ বলতেন, শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষরাও শত্রু। ওদের প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করতে হবে। হয় মারো, না হয় মরো। শত্রুর হাতে মারা যাওয়া, মানে শহীদ হওয়া। আল্লাহ বেহস্তে ঠিক জায়গা করে দেবেন। সুন্নি সম্প্রদায়ের শত্রু কারা, তাও মওলানারা শুরুতেই মনে করিয়ে দিতেন। জিহাদিদের নিজস্ব ওয়েব সাইটে বলা আছে, শিয়া আর তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে আমৃত্যু লড়াই কোরো।

‘কামাল শূয়ারটা তোকে কী বলল রে ইমন?’ ল্যাপটপ থেকে মুখ ঘুরিয়ে প্রশ্নটা করল চিরাগ। ‘বলেছে কি আজই নিউ ইয়র্ক ছেড়ে চলে যাচ্ছে?’

ইমন বলল, ‘হ কইসে। তুই জানলি কী কইর‌্যা?’

‘আমাদের ওয়েবসাইট থেকে। নিউ ইয়র্ক থেকে ও এমন একজনকে সিরিয়ার রাক্কা শহর নিয়ে যাচ্ছে, যে আর্টিফিসিয়াল লিম্ব তৈরিতে এক্সপার্ট। ওখানে আমেরিকানদের অ্যাটাকে জিহাদিদের অনেকের হাত-পা অ্যামপিউট করতে হচ্ছে। জেলের বাইরে যদি থাকে, তা হলে বাকি জীবনে তারা চলাফেরা… কাজকর্ম করবে কী করে? এই আমেরিকান লোকটা যাচ্ছে ওদের জন্য। এর নাম ছিল ডেভিড ক্লিফোর্ড। রিসেন্টলি ইসলাম ধর্ম নিয়ে নাম বদলে হয়েছে গাজি মহম্মদ সালাম। একে নিয়ে কামাল প্রথমে যাচ্ছে দামাস্কাস। সেখান থেকে সুযোগ মতো ঢুকে পড়বে রাক্কায়। সালামকে এরা কত মাইনে দেবে, আন্দাজ কর তো?’

ইমন বলল, ‘কইতে পারুম না।’

‘পার মান্থ সাত লাখ সিরিয়ান পাউন্ড। মানে প্রায় এক লাখ টাকা। প্লাস ও যতগুলো আর্টিফিসিয়াল হাত-পা তৈরি করবে, তার খরচাও দিতে হবে। সালাম না কি এদের বলেই দিয়েছে, ওকে দিয়ে খুন-খারাপি করানো যাবে না। আরবরা আমাদের কী রকম ঠকাচ্ছে ভাব। যত রিস্কি কাজ করব আমরা, মানুষ মারতে গিয়ে মরব। অথচ আমাদের মাইনে মাত্র কুড়ি হাজার টাকা। সিরিয়াসলি ভাবার সময় এসে গেছে, জিহাদিদের সঙ্গে থাকব কি না।’

‘কামাল কিন্তু দামাস্কাস যাইতে চাইতাসে না।’

‘বলল বুঝি? যাবে কোন মুখে? গেলে ওর শ্বশুরই গারদের ভিতর ঢুকিয়ে দেবে। ভদ্রলোক ওখানকার প্রেজেন্ট গর্ভমেন্টে একটা ভাল জায়গায় আছেন। তবুও সিরিয়ান পুলিশ কামালের বউয়ের এগেনস্টে চাইল্ড অ্যাবিউসের এমন চার্জ দিয়েছে যে, তিন বছরের আগে সে জেল থেকে বেরোতে পারবে না। শ্বশুর এত রেগে রয়েছে, হয়তো কামালকেই অ্যারেস্ট করিয়ে দেবে।’

‘তুই এত খবর পাইলি কোত্থেইকা চিরাগ?’

‘তুই জেনে কী করবি? সকালে আমার সঙ্গে ওর একচোট ঝামেলা হয়ে গেছে। তাই ওকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য ওর সম্পর্কে একটু খোঁজ খবর নিলাম।’

‘কখন হল এসব?’

‘আরে, সবে গোসল করে বেরিয়েছি, এমন সময় আমায় বলে কী না, আমাদের কমোডটা পরিষ্কার করে দিয়ে যা। কাজের লোকটা আজ আসবে না। কত বড় সাহস! কমোড পরিষ্কার করতে গিয়ে আমি ওখানেই পটি করে এলাম। ফ্ল্যাশ টেনেও আসিনি।’

শুনে ইমনের হাসি পেল। চিরাগ ফের জিজ্ঞাসা করল, ‘হ্যাঁরে, আজ চেলসিতে তোর সঙ্গে কে অ্যাকশনে যাচ্ছে, বলেছে কিছু?’

‘কইল তো খামিস যাইব।’

চিরাগ তাচ্ছিল্যের সঙ্গে বলল, ‘তা হলেই হয়েছে। মোসুলে দেখেছি, আকাশে আমেরিকান ড্রোন দেখলেই ওর প্যান্ট হলদে হয়ে যেত। ফাইটার প্লেন তো দূরের কথা। সে যাবে অ্যাকশনে! সাবধানে থাকিস। যাক গে, তোর ব্রেক ফাস্ট ঠাণ্ডা হয়ে গেছে। এ বার খেয়ে নে।’

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *