৪৬তম অধ্যায়
বিবাহবিষয়ে দক্ষ-সংহিতাদির ব্যবস্থা-সঙ্কোচ
ভীষ্ম কহিলেন, “হে ধৰ্ম্মরাজ! পণ্ডিতেরা কহিয়া থাকেন যে, দক্ষের মতে বর যদি কন্যাকে অলঙ্কারাদি প্রদানপূর্ব্বক বিবাহ করে, তাহা হইলে কন্যাকৰ্ত্তাকে শুল্কগ্রহণ জন্য দোষে দূষিত হইতে হয় না। কারণ, অলঙ্কারাদিদ্বারা কন্যাকে বিভূষিত করা পিতা, ভ্রাতা, শ্বশুর ও দেবর প্রভৃতির অবশ্যকর্ত্তব্য কৰ্ম্ম। স্ত্রীকে সৰ্ব্বতোভাবে আহ্লাদিত করা স্বামীর অবশ্য কর্ত্তব্য। যদি স্ত্রী পুরুষের প্রতি অনুরক্ত ও তাহার সমাগমে প্রীত না হয়, তাহা হইলে সেই অপ্রীতিনিবন্ধন সে কখনই সন্তানলাভে সমর্থ হয় না। অতএব নিয়ত মহিলাগণের প্রীতিসম্পাদন ও তাহাদিগকে প্রতিপালন করা অবশ্য কর্ত্তব্য। যাহারা কামিনীগণের যথার্থ সৎকার করে, দেবতারা তাহাদের প্রতি প্রীতি প্রকাশ করিয়া থাকেন। আর যাহারা কামিনীগণের অনাদর করে তাহাদের কোন কার্য্যই ফলোপধায়ক হয় না। কুলকামিনীগণ অনুতাপ করিলে কুল একেবারে বিনষ্ট হইয়া যায়। কামিনীগণ যে যে গৃহে শাপ প্রদান করে, তৎসমুদয় নিশ্চয়ই শ্রীভ্রষ্ট ও উৎসন্ন হয়।
“মহাত্মা মনু দেবলোকে গমন করিবার সময় পুরুষদিগের হস্তে স্ত্রীলোকদিগকে সমর্পণ করিয়া কহিয়াছেন, মানবগণ! স্ত্রীজাতি নিতান্ত দুর্ব্বল, সত্যপরায়ণ ও ক্ষিপ্রকারী। উহাদিগের মধ্যে কতকগুলি ঈর্ষাপরতন্ত্র, মানলাভার্থী, প্রচণ্ডস্বভাব, অবিবেচক ও অপ্রিয়কার্য্যে নিরত; অল্পমাত্র চেষ্টা করিলেই উহাদিগের ধর্ম্ম নষ্ট করা যায়। অতএব তোমরা প্রযত্ন সহকারে উহাদিগকে রক্ষা কর। উহারা সতত সম্মানলাভের ইচ্ছা করে; অতএব উহাদিগকে সম্মান করা অতিশয় কৃর্ত্তব্য। স্ত্রীজাতিই ধর্ম্মলাভের কারণ। উহারাই উপভোগাদি সমুদয়ের মূল। অতএব উহাদিগের পরিচর্য্যা ও সম্মান রক্ষা করা শ্রেয়। অপত্যোৎপাদন, অপত্য উৎপন্ন হইলে তাহার প্রতিপালন, লোকযাত্রাবিধান স্ত্রীলোক হইতেই সমাহিত হইয়া থাকে। তাহাদিগকে সম্মান করিলে সমুদয় কার্য্য নিশ্চয়ই সুসিদ্ধ হয়।
“একদা বিদেহরাজদুহিতা কহিয়াছিলেন, স্ত্রীজাতির যজ্ঞ, শ্রাদ্ধ ও উপবাস কিছুই অনুষ্ঠান করিতে হয় না; উহাদিগের স্বামীশুশ্রূষাই পরমধর্ম্ম। উহারা সেই ধর্ম্মপ্রভাবে স্বর্গলাভ করিতে পারে। বিদেহরাজদুহিতার এই বাক্যদ্বারা স্ত্রীলোকের ভর্ত্তৃপরায়ণতা সবিশেষ সপ্রমাণ হইতেছে। স্ত্রীলোককে কুমারিকা অবস্থায় পিতা, যৌবনাবস্থায় ভর্ত্তা ও বৃদ্ধকালে পুত্র রক্ষা করিবে, উহাদিগকে স্বাতন্ত্র্য প্রদান কদাচ বিধেয় নহে। যিনি শ্রেয়োলাভাৰ্থ তিনি স্ত্রীলোকদিগকে সৎকার করিবেন। উহারা লক্ষ্মীস্বরূপা, অতএব উহাদিগকে প্রতিপালন করিলে লক্ষ্মীকে প্রতিপালন ও উহাদিগকে নিগ্রহ করিলে লক্ষ্মীকে নিগ্রহ করা হয়।”
