দ্বাদশ অধ্যায়
স্ত্রী-পুরুষব্যবহারনির্ণয়—ভঙ্গাস্বননৃপতিকথা
যুধিষ্ঠির কহিলেন, “পিতামহ! স্ত্রীপুরুষের সংসর্গকালে ঐ উভয়ের মধ্যে কাহার স্পর্শসুখ অধিক হয়, এই বিষয়ে আমার অতিশয় সংশয় উপস্থিত হইয়াছে, আপনি ইহা সবিস্তর কীৰ্ত্তন করুন।”
ভীষ্ম কহিলেন, “বৎস। আমি এই উপলক্ষে ভঙ্গাস্বনরাজার পুরাতন ইতিহাস কীৰ্ত্তন করিতেছি, শ্রবণ কর। পূৰ্ব্বকালে ভঙ্গাস্বননামে এক ধর্ম্মপরায়ণ মহীপাল ছিলেন, তিনি নিঃসন্তান হওয়াতে ইন্দ্রবিদ্বিষ্ট অগ্নিস্ফুতনামক যজ্ঞের অনুষ্ঠান করেন। ঐ যজ্ঞানুষ্ঠানদ্বারা তাঁহার একশত পুত্ৰ উৎপন্ন হয়। সুররাজ ইন্দ্র রাজর্ষি ভঙ্গাস্বনকে পুত্রকামনায় অগ্নিষ্টুতযজ্ঞের অনুষ্ঠান করিতে দেখিয়া নিরন্তর তাঁহার রন্ধ্রান্বেষণ করিতে লাগিলেন; কিন্তু কোনক্রমেই তদ্বিষয়ে কৃতকার্য্য হইতে পারিলেন না।
“কিয়ৎকাল অতীত হইলে, একদা মহারাজ ভঙ্গস্বন মৃগয়া করিবার নিমিত্ত নিজ রাজধানী হইতে নির্গত হইলেন। দেবরাজ ইন্দ্রও ঐ সময় প্রকৃত অবসর প্রাপ্ত হইয়া মায়াজালবিস্তারপূর্ব্বক তাঁহাকে বিমোহিত করিলেন। রাজর্ষি ভঙ্গাস্বন ইন্দ্রের মায়ায় মুগ্ধ হইয়া দিগ্বিদিক্ জ্ঞানশূন্য হইলেন এবং ক্ষুৎপিপাসায় যারপরনাই কাতর হইয়া সেই অশ্বে আরোহণপূৰ্ব্বক ইতস্ততঃ ভ্রমণ করিতে লাগিলেন। কিয়ৎক্ষণ পরে এক বারিপরিপূর্ণ পরম রমণীয় সরোবর তাঁহার দৃষ্টিপথে নিপতিত হইল। তিনি সেই সরোবর দৃষ্টিগোচর করিবামাত্র অশ্ব হইতে অবরূঢ় হইলেন এবং অচিরাৎ অশ্বকে জলপান করাইয়া এক বৃক্ষে বন্ধনপূর্ব্বক স্বয়ং সেই সরোবরসলিলে অবগাহন ও স্নান করিলেন। সরোবরে স্নান করিবামাত্র তাঁহার স্ত্রীত্বলাভ হইল।
ভঙ্গাস্বননৃপতির স্ত্রীত্বপ্রাপ্তিবিবরণ
‘তখন তিনি আপনার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দৃষ্টিপাতপূৰ্ব্বক সাতিশয় লজ্জিত হইয়া ব্যাকুলিতমনে চিন্তা করিতে লাগিলেন, আমি এক্ষণে কিরূপে অশ্বে আরোহণ ও কিরূপেই বা রাজধানীতে গমন করি? আমি অগ্নিষ্টুতযজ্ঞের অনুষ্ঠান করাতে আমার ঔরসে মহাবলপরাক্রান্ত একশত পুত্র জন্মগ্রহণ করিয়াছে। এক্ষণে আমি গিয়া তাহাদিগকে কি বলিব এবং আমার ভাৰ্য্যা, পুরবাসী ও গ্রাম্য লোকেরা জিজ্ঞাসা করিলেই বা তাহাদিগকে কি বলিয়া প্রত্যুত্তর প্রদান করিব? ধর্ম্মার্থদর্শী মহর্ষিগণ কহিয়া থাকেন, মৃদুত্ব, কোমলত্ব ও কাতরত্ব—এই তিন স্ত্রীলোকের এবং ব্যায়াম সহিষ্ণুতা ও বীৰ্য্যবত্তা—এই দুইটি পুরুষের প্রধান গুণ। এক্ষণে আমার পুরুষত্ববিনাশ ও স্ত্রীলোকের গুণলাভ হইয়াছে; সুতরাং কিরূপে পুরুষের ন্যায় অশ্বে আরোহণ করিব!
“রাজর্ষি ভঙ্গাস্বন মনে মনে এইরূপ চিন্তা করিয়া সরোবর হইতে উত্থিত হইয়া বহু যত্নসহকারে কৌশলক্রমে অশ্বে আরোহণপূর্ব্বক আপনার নগরে প্রত্যাগমন করিলেন। তিনি সমাগত হইবামাত্র তাঁহার পুত্র, কলত্র, ভৃত্য ও নগরবাসিগণ তাঁহাকে নিরীক্ষণ করিয়া যারপরনাই বিস্মিত হইলেন। মহারাজ ভঙ্গাস্বন তাঁহাদিগকে একান্ত বিস্ময়াবিষ্ট দেখিয়া কহিলেন, “আমি সৈন্যগণসমভিব্যাহারে মৃগয়ার্থ নির্গত হইয়া মোহবশতঃ এক নিবিড় অরণ্যমধ্যে প্রবেশ করিয়াছিলাম। তথায় সৈন্যগণপরিশূন্য হইয়া অশ্বপৃষ্ঠে একাকী শুষ্ককণ্ঠে পরিভ্রমণ করিতে করিতে হংসসারসসঙ্কুল পরমরমণীয় এক সরোবর নিরীক্ষণ করিলাম। সেই সরোবরে অবগাহন করিবামাত্র আমার পুরুষত্ববিনাশ ও স্ত্রীত্বলাভ হইয়াছে।’ মহারাজ ভঙ্গাস্বন এই বলিয়া মন্ত্রী ও পুত্রগণের বিশ্বাস উৎপাদনের নিমিত্ত আপনার নামগোত্র কীর্ত্তন করিয়া আত্মজগণকে সম্বোধনপূৰ্ব্বক পুনরায় কহিলেন, ‘পুত্রগণ! তোমরা এক্ষণে পরস্পর সৌভ্রাত্র সংস্থাপনপূর্ব্বক এই রাজ্য উপভোগ কর। আমি নিশ্চয়ই অরণ্যে প্রস্থান করিব।’
স্ত্রীত্বপ্রাপ্ত নৃপতির গর্ভে শত পুত্ৰ উৎপত্তি
“স্ত্রীরূপী নরপতি ভঙ্গাস্বন পুত্রগণকে এই কথা কহিয়া অচিরাৎ অরণ্যমধ্যে গমনপূর্ব্বক এক তাপসের আশ্রমে সমুপস্থিত হইয়া তাঁহার সংসর্গে কালযাপন করিতে লাগিলেন। কিয়ৎকাল অতীত হইলে ঐ তাপসের ঔরসে তথায় তাঁহার একশত পুত্ৰ উৎপন্ন হইল। সেই সমস্ত পুত্রেরা বয়ঃপ্রাপ্ত হইলে একদা ভঙ্গাস্বন তাহাদিগকে লইয়া পূৰ্ব্বোৎপন্ন পুত্রগণের সন্নিধানে গমনপূর্ব্বক কহিলেন, ‘আত্মজগণ! তোমরা পুরুষাবস্থায় জন্মগ্রহণ করিয়াছ, আর ইঁহারা আমার অঙ্গনাবস্থায় উৎপন্ন হইয়াছে। অতএব তোমরা উভয়পক্ষ মিলিত হইয়া সৌভ্রাত্র অবলম্বনপূৰ্ব্বক এই রাজ্য উপভোগ কর।’
“ভঙ্গাস্বন এইরূপ আদেশ করিলে তাঁহার পূর্ব্বপুত্রগণ তাঁহার বাক্যে সম্মত, ও তাহার অপর পুত্রগণের সহিত মিলিত হইয়া রাজ্যভোগ করিতে লাগিলেন। তদ্দর্শনে দেবরাজ ইন্দ্র ক্রোধাবিষ্ট হইয়া চিন্তা করিলেন, আমি রাজর্ষি ভঙ্গাস্বনের স্ত্রীত্ববিধানদ্বারা উহার অপকার না করিয়া প্রত্যুত উপকারই করিয়াছি। যাহা হউক, এক্ষণে যাহাতে বিশেষ অনিষ্ট হয়, তাহার চেষ্টা দেখিতে হইল। দেবরাজ এইরূপ স্থির করিয়া ব্রাহ্মণবেশে ভঙ্গাস্বনের পূর্ব্বপুত্রগণের নিকট সমুপস্থিত হইয়া কহিলেন, “হে রাজকুমারগণ! ভ্রাতৃগণ এক পিতার ঔরসে জন্মগ্রহণ করিলেও তাহাদিগের পরস্পর কদাচ সৌভ্রাত্র থাকে না। দেখ, সুরাসুরগণ একমাত্র মহর্ষি কশ্যপের ঔরসে জন্মগ্রহণ করিয়াও রাজ্যলাভের নিমিত্ত পরস্পর ঘোরতর বিতণ্ডা করিয়াছিলেন। কিন্তু তোমরা একশত জন ভঙ্গাস্বনের ঔরসে আর তোমাদের অপর একশত ভ্রাতা একজন তাপসের ঔরসে জন্মগ্রহণ করিয়াছে; তথাপি তোমাদের উভয়পক্ষের এরূপ সৌভ্রাত্ৰ থাকিবার কারণ কি? যাহা হউক, তোমাদের অপর ভ্রাতারা যে তাপসের ঔরসজাত হইয়াও তোমাদিগের পৈতৃক রাজ্যের অংশ অধিকার করিয়াছে, ইহা অতিশয় নিন্দার বিষয় সন্দেহ নাই।’
ইন্দ্রপ্ররোচনায় ভ্রাতৃবিরোধ—পরস্পর সংহার
“ব্রাহ্মণরূপী দেবরাজ এই কথা কহিলে ভঙ্গাস্বনের ঔরসপুত্রগণ তাঁহার উত্তেজনায় অপর ভ্রাতাদিগের উপর যারপরনাই ঈর্ষাপরবশ হইয়া অচিরাৎ তাহাদের সহিত ঘোরতর যুদ্ধে প্রবৃত্ত হইল। ঐ যুদ্ধে ক্রমে ক্রমে উভয়পক্ষই নিঃশেষিত হইয়া গেল। স্ত্রীভাবাপন্ন রাজর্ষি ভঙ্গাস্বন অরণ্যমধ্যে পুত্রগণের মৃত্যুসংবাদ শ্রবণ করিয়া যারপরনাই দুঃখিত হইয়া অবিরল বাষ্পকুললোচনে রোদন করিতে লাগিলেন। তখন দেবরাজ ইন্দ্র ব্রাহ্মণবেশে তাহার সকাশে আগমনপূৰ্ব্বক কহিলেন, ‘ভদ্রে! তুমি কি দুঃখে দুঃখিত হইয়া মুক্তকণ্ঠে রোদন করিতেছ?’ ভঙ্গাস্বন ব্রাহ্মণকে সমক্ষে নিরীক্ষণ ও তাঁহার বাক্য শ্রবণপূর্ব্বক করুণবাক্যে কহিলেন, “ব্ৰহ্ম! কালপ্রভাবে আমার দুইশত পুত্র কলেবর পরিত্যাগ করিয়াছে। আমি পূৰ্ব্বে পুরুষ ও রাজা ছিলাম। সেই অবস্থায় আমার ঔরসে একশত পুত্র উৎপন্ন হইয়াছিল। ঐ পুত্রগণ বয়ঃপ্রাপ্ত হইলে একদা আমি মৃগয়ায় গমন করিয়া উদ্ভ্রান্তচিত্তে অরণ্যে ভ্রমণ করিতে করিতে যদৃচ্ছাক্রমে একটি সরোবর অবলোকনপূৰ্ব্বক তাহাতে অবগাহন করিয়াছিলাম। সেই . সরোবরে অবগাহন করিয়া অবধি আমার এই স্ত্রীত্বলাভ হইয়াছে। দৈবপ্রতিকূলতাবশতঃ এইরূপ অসম্ভাবিত নারীরূপ লাভ হওয়াতে আমি যারপরনাই দুঃখিত হইয়া নিজ রাজধানীতে আগমন ও ঔরসপুত্রগণের প্রতি রাজ্যভার সমর্পণপূৰ্ব্বক এই তপোবনে আগমন করিলাম। এইস্থানে এক তাপসের ঔরসে আমার গর্ভে আর একশত পুত্ৰ উৎপন্ন হইয়াছিল। ঐ সকল পুত্ৰ বয়ঃপ্রাপ্ত হইলে আমি তাহাদিগকে সেই ঔরসপুত্রগণের সহিত একত্র রাজ্য ভোগ করাইবার নিমিত্ত আমার পূর্ব্বতন পুরমধ্যে সংস্থাপন করিয়া আসিয়াছিলাম। এক্ষণে তাহারা কালপ্রভাবে পরস্পর বৈর উৎপাদনপূৰ্ব্বক কলেবর পরিত্যাগ করিয়াছে। আমি সেই নিমিত্তই। নিতান্ত কাতর হইয়া অনর্গল অশ্রুজল বিসর্জ্জন করিতেছি।’
“ভঙ্গাস্বন করুণস্বরে এই কথা কহিলে, দেবরাজ তাঁহাকে পরুষবাক্যে কহিলেন, আমি সুররাজ ইন্দ্র। পূৰ্ব্বে তুমি আমাকে অনাদর করিয়া আমার বিদ্বিষ্ট অগ্নিষ্টুতযুজ্ঞের অনুষ্ঠানপূর্ব্বক আমাকে যারপরনাই দুঃখিত করিয়াছিলে। আমি তন্নিবন্ধন ক্রোধাবিষ্ট হইয়া তোমার পুত্রগণের বিনাশসম্পাদনপূৰ্ব্বক তোমার অপকার করিয়াছি।’
ইন্দ্রবরে ভঙ্গাস্বনের পুত্রগণের প্রাণপ্রাপ্তি
“সুররাজ এই কথা কহিবামাত্র রাজর্ষি ভঙ্গাস্বন তাঁহাকে ইন্দ্র বলিয়া অবগত হইলেন এবং অবিলম্বে তাঁহার চরণতলে নিপতিত হইয়া বিনীতবাক্যে কহিলেন, ‘দেবরাজ! আপনি অনুগ্রহ করিয়া প্রসন্ন হউন, আমি পুত্রলাভের অভিলাষেই অগ্নিষ্টতযজ্ঞের অনুষ্ঠান করিয়াছিলাম; অতএব এই বিষয়ে আমার যে অপরাধ হইয়াছে, আপনাকে তাহা ক্ষমা করিতে হইবে।’
“তখন দেবরাজ ভঙ্গাস্বনের প্রণিপাতে পরম পরিতুষ্ট হইয়া তাঁহাকে উত্থাপনপূৰ্ব্বক কহিলেন, ‘আমি তোমার প্রতি প্রসন্ন হইয়াছি। এক্ষণে বল, তোমার পুরুষাবস্থায় ঔরসপুত্রগণ ও এখনকার গর্ভজাত পুত্রগণের মধ্যে কোনগুলিকে জীবিত করিয়া দিব? তখন নারীরূপধারী মহারাজ ভঙ্গাস্বন কৃতাঞ্জলিপুটে দেবরাজকে সম্বোধনপূৰ্ব্বক কহিলেন, সুররাজ! যদি প্রসন্ন হইয়া থাকেন, তাহা হইলে আমার অঙ্গনাবস্থায় [নারী অবস্থায়] যে সমস্ত পুত্র উৎপন্ন হইয়াছে, আপনার বরপ্রভাবে তাহারাই পুনজ্জীবিত হউক।
নারীজাতির স্পর্শসুখ-প্রশ্নোত্তর
“ভঙ্গাস্বন এইরূপ বর প্রার্থনা করিলে, দেবরাজ ইন্দ্র সাতিশয় বিস্মিত হইয়া কহিলেন, ‘ভদ্রে! তোমার পুরুষাবস্থায় যে সমস্ত পুত্ৰ উৎপন্ন হইয়াছে, তাহারা কি নিমিত্ত তোমার বিদ্বেষভাজন [বিরক্তির পাত্র] ও তোমার অঙ্গনাবস্থায় যাহারা উৎপন্ন হইয়াছে, তাহারাই বা কি নিমিত্ত এইরূপ স্নেহের পাত্র হইল? ইহার কারণ অবগত হইতে আমার নিতান্ত অভিলাষ হইয়াছে।’ তখন ভঙ্গাস্বন কহিলেন, ‘সুররাজ! স্ত্রীলোকের ন্যায় পুরুষের স্নেহ কদাচ প্রবল হয় না। এই নিমিত্ত আমার অঙ্গনাবস্থায় যে সমস্ত পুত্ৰ উৎপন্ন হইয়াছে, তাহারাই আমার সমধিক স্নেহের পাত্র। এক্ষণে আপনার অনুগ্রহে তাহারাই পুনর্জ্জীবিত হউক।
“তখন দেবরাজ ভঙ্গস্বনের বাক্যে পরম প্রীত হইয়া কহিলেন, ‘আমি তোমাকে বর প্রদান করিতেছি, তোমার সমুদয় পুত্রই জীবিত হউক। আর এক্ষণে তোমার কি পুনরায় পুরুষত্ব লাভ করিতে ইচ্ছা হয়, না তুমি এইরূপ অঙ্গনাবস্থাতেই অবস্থান করিবে, তাহা প্রকাশ করিয়া বল। যেরূপ অবস্থা তোমার প্রীতিকর হইবে, আমি তোমাকে সেই অবস্থাতেই অবস্থাপিত করিব, সন্দেহ নাই।’ দেবরাজ এই কথা কহিলে ভঙ্গাস্বন তাঁহাকে সম্বোধন করিয়া কহিলেন, সুররাজ! আমি আর পুরুষত্বলাভে অভিলাষ করি না। আমি এক্ষণে এই স্ত্রীভাবেই সমধিক সন্তোষ লাভ করিতেছি।”
“সুররাজ কহিলেন, “রাজর্ষে! তুমি পুরুষত্বলাভে অনাস্থা প্রদর্শনপূৰ্ব্বক কি নিমিত্ত স্ত্রীভাবে অবস্থান করিতে অভিলাষী হইতেছ?’ ভঙ্গস্বন কহিলেন, ‘দেবরাজ! স্ত্রীপুরুষ-সংসর্গকালে স্ত্রীলোকেরই সমধিক স্পর্শসুখলাভ হইয়া থাকে। এই নিমিত্তই আমি স্ত্রীভাবে অবস্থান করিতে বাসনা করি। আমি সত্যই কহিতেছি, স্ত্রীত্বলাভ করিয়া আমি সমধিক প্রীতি প্রাপ্ত হইতেছি; স্ত্রীত্ব পরিত্যাগ করিতে আমার কিছুমাত্র ইচ্ছা নাই। এক্ষণে স্বস্থানে প্রস্থান করুন।’ ভঙ্গাস্বন এই কথা কহিলে দেবরাজ ইন্দ্র তাহাকে অভিলষিত বর প্রদান করিয়া আমন্ত্রণপূৰ্ব্বক সুরলোকে গমন করিলেন। হে ধৰ্ম্মরাজ! আমি এই নিদর্শনানুসারেই স্থির করিয়াছি যে, স্ত্রীপুরুষের সংসর্গকালে পুরুষ অপেক্ষা স্ত্রীলোকেরই সমধিক স্পর্শসুখলাভ হইয়া থাকে।”
