1 of 4

১০. নীচজাতি বেদাদি-উপদেশের অযোগ্য

১০ম অধ্যায়

নীচজাতি বেদাদি-উপদেশের অযোগ্য

যুধিষ্ঠির কহিলেন, “পিতামহ! ধৰ্ম্মের গতি অতিশয় সূক্ষ্ম, মানবগণ সৰ্ব্বদাই ধৰ্ম্মবিষয়ে মুগ্ধ হইয়া থাকে। এক্ষণে মনুষ্য নীচজাতিকে সুহৃদ্ভাবে উপদেশ প্রদান করিলে দোয়ভাগী হয় কি না, তাহা শ্রবণ করিতে আমার নিতান্ত বাসনা হইতেছে; অতএব উহা আমার নিকট কীৰ্ত্তন করুন।”

ভীষ্ম কহিলেন, “বৎস! পূৰ্ব্বে আমি মহর্ষিদিগের মুখে এই বিষয়সংক্রান্ত যে কথা শ্রবণ করিয়াছিলাম, এক্ষণে তোমার নিকট তাহা সবিস্তার কীৰ্ত্তন করিতেছি, শ্রবণ কর।

“হীনজাতিকে উপদেশ প্রদান করা কখনই কর্ত্তব্য নহে। যে ব্যক্তি নীচকে উপদেশ প্রদান করেন, তাঁহাকে শাস্ত্রানুসারে অবশ্যই অপরাধী হইতে হয়। পূৰ্ব্বে হিমালয় পার্শ্ববর্ত্তী ভগবান্ ব্রহ্মার আশ্রমসন্নিধানে সিদ্ধচারণসেবিত, পুষ্পোদ্যানসমলঙ্কৃত বিবিধ তরুলতায় সমাকীর্ণ এক পবিত্র আশ্রমে সূৰ্য্য ও অনলের ন্যায় তেজঃসম্পন্ন, নিয়মব্রতধারী, মহাত্মা, ব্রহ্মচারী, বানপ্রস্থাশ্রমী, সন্ন্যাসধর্ম্মাবলম্বী বালখিল্য মহর্ষিগণ অবস্থানপূর্ব্বক নিরন্তর বেদ পাঠ করিতেন। একদা এক পরমদয়াবান শূদ্র ঐ আশ্রমে সমুপস্থিত হইয়া মুনিগণকে বিবিধ নিয়মসম্পন্ন, দেবতুল্য ও অসাধারণ তেজঃসম্পন্ন দর্শন করিয়া যারপরনাই সন্তুষ্ট হইলেন এবং স্বয়ং তপস্যা করিতে কৃতনিশ্চয় হইয়া সেই আশ্রমবাসী। কুলপতির চরণধারণপূর্ব্বক তাঁহাকে সম্বোধন করিয়া কহিলেন, ‘ভগবন্! আমি শূদ্রবংশসম্ভূত হইয়াও ধৰ্ম্মশিক্ষার মানসে আপনার শরণাপন্ন হইয়াছি। আপনি প্রসন্ন হইয়া আমাকে সন্ন্যাসধর্ম্ম গ্রহণ করাইয়া চরিতার্থ করুন। আমি নিরন্তর আপনার শুশ্রূষায় অনুরক্ত থাকিব।

শূদ্রের সন্ন্যাসে অনধিকার

“তখন কুলপতি কহিলেন, ‘বৎস! শূদ্ৰজাতির সন্ন্যাসধৰ্ম্মে অধিকার নাই। যদি তোমার নিতান্তই ধৰ্ম্মবুদ্ধি উপস্থিত হইয়া থাকে, তাহা হইলে তুমি এই স্থানে অবস্থানপূৰ্ব্বক আমাদিগের শুশ্রূষা কর, পরিণামে নিশ্চয়ই উৎকৃষ্ট লোক লাভ করিতে সমর্থ হইবে।’

“কুলপতি এই কথা কহিলে, শূদ্র মনে মনে চিন্তা করিতে লাগিলেন, এক্ষণে কি করা কর্ত্তব্য? প্রব্রজ্যা গ্রহণ করা আমার কৰ্ত্তব্য কি না, তাহা কিয়দ্দিন বিশেষরূপে বিবেচনা করি, পরিশেষে যাহা শ্রেয়ঃ বলিয়া বোধ হইবে, তাহাই করিব।

ধর্ম্মপরায়ণ শূদ্র মনে মনে এইরূপ নিশ্চয় করিয়া সেই আশ্রমের অনতিদূরে এক পর্ণশালা এবং তন্মধ্যে বেদী, শয়নস্থান ও দেবস্থানসমুদয় প্রস্তুত করিলেন এবং স্বয়ং নিয়মধারী, ফলাহারনিরত, জিতেন্দ্রিয় ও তপঃপরায়ণ হইয়া বহুকাল দেবস্থানে ত্রিকালীন জলসেচ, বলিদান, হোম, দেবতাদিগের অর্চ্চনা ও ফলমূলাদি দ্বারা সমাগত অতিথিদিগের যথোচিত সৎকার করিতে লাগিলেন।

“এইরূপে বহুদিন অতীত হইলে একদা মহর্ষি ঐ শূদ্রের আশ্রমে সমুপস্থিত হইলেন। শূদ্র মহর্ষিকে দেখিবামাত্র তাঁহার যথাবিধি সৎকার করিয়া তাহাকে পরিতুষ্ট করিলেন। মহর্ষি শূদ্রের ভক্তি দর্শনে যারপরনাই পরিতুষ্ট হইয়া তাহার সহিত মিষ্টালাপ করিয়া স্বস্থানে গমন করিলেন এবং অতি অল্পদিনমধ্যে পুনরায় ঐ আশ্রমে সমুপস্থিত হইলেন। ক্রমে ঐ শূদ্রের সহিত মহর্ষির বিলক্ষণ সৌহার্দ্য জন্মিল। তখন তিনি প্রতিদিন উহার আশ্রমে আগমন করিতে আরম্ভ করিলেন।

শূদ্ৰমমতায় মুগ্ধ মহর্ষির শূদ্রযাজন

“একদা শূদ্র সেই তপোধনকে সম্বোধন করিয়া কহিলেন, ‘ভগবন্! আমি পিতৃকাৰ্য্য করিবার বাসনা করিয়াছি, আপনাকে অনুগ্রহণপূৰ্ব্বক ঐ কাৰ্য্যসম্পাদন করিতে হইবে।’ শূদ্র এইরূপ অনুরোধ করিলে, মহর্ষি কিছুমাত্র বিচার না করিয়া ‘তথাস্তু’ বলিয়া তাঁহার বাক্য স্বীকার করিলেন। তখন ঐ শূদ্র পবিত্র হইয়া তাহাকে পাদোদক [পা-ধোওয়ার জল] প্রদান পুরঃসর ওষধি [কলাপাতা ও পেটো], দর্ভ [কুশ] ও পবিত্র আসন আনয়নপূর্ব্বক শ্রাদ্ধীয় ব্রাহ্মণের আসন দক্ষিণদিকে পশ্চিমশীর্ষ করিয়া করিলেন। ঐ সময় মহর্ষি ব্রাহ্মণের আসনসংস্থাপন অশাস্ত্রীয় হইয়াছে দেখিয়া শূদ্রকে সম্বোধনপূর্ব্বক কহিলেন, ‘তপোধন! তুমি পূৰ্ব্বশীর্ষ করিয়া ব্রাহ্মণের আসন সংস্থাপনপূৰ্ব্বক স্বয়ং উত্তরাস্য হইয়া উপবেশন কর।’ মহর্ষি এইরূপ উপদেশ প্রদান করিলে শূদ্র উত্তরাস্যে উপবিষ্ট হইয়া তাঁহার আদেশানুসারে যথাস্থানে দর্ভ ও অর্থ্যাদি সংস্থাপনপূর্ব্বক শ্রাদ্ধ সমাপন করিলেন। ধর্ম্মপরায়ণ মহর্ষিও তাঁহার পিতৃকাৰ্য্য সম্পাদনপূৰ্ব্বক বিদায় লইয়া যথাস্থানে গমন করিলেন। অনন্তর শূদ্র তাপস তথায় দীর্ঘকাল তপানুষ্ঠানপূৰ্ব্বক, কলেবর পরিত্যাগ করিয়া স্বীয় পুণ্যবলে রাজবংশে জন্মগ্রহণ করিলেন এবং সেই মহর্ষিও যথাকালে দেহত্যাগ করিয়া পুরোহিতকুলে উৎপন্ন হইলেন।

জন্মান্তরে মহর্ষির বংশপরম্পরা শূদ্র-পৌরোহিত্য

“এইরূপে সেই শূদ্র ও ব্রাহ্মণ উভয়ে জন্মগ্রহণ করিয়া ক্রমে ক্রমে বর্দ্ধিত হইতে লাগিলেন। তাঁহাদিগের বয়ঃক্রমের সহিত বিদ্যানুরাগ বর্দ্ধিত হইতে লাগিল। ব্রাহ্মণ ক্রমে ক্রমে বেদসমুদয়, কল্প, প্রয়োগ, জ্যোতিষশাস্ত্র ও সাঙ্খ্যশাস্ত্রে বিশেষ পারদর্শী হইয়া উঠিলেন। কিয়দ্দিন পরে বৃদ্ধ রাজা পরলোকে যাত্রা করিলে প্রজাগণ মিলিত হইয়া রাজকুমারকে রাজ্যে অভিষিক্ত করিল। রাজকুমার রাজা হইয়া সেই ব্রাহ্মণকুমারকে পৌরোহিত্যে বরণ করিয়া পরমসুখে রাজ্যশাসন ও প্রজাপালন করিতে লাগিলেন। ব্রাহ্মণকুমার পৌরোহিত্যপদে নিযুক্ত হইয়া পুণ্যাহবাচন বা অন্য কোন ধৰ্ম্মকাৰ্য্যের অনুষ্ঠানসময়ে রাজার দৃষ্টিপথে নিপতিত হইলেই ভূপতি উচ্চৈঃস্বরে হাস্য করিতেন।

“রাজা এইরূপে বারংবার হাস্য করাতে পুরোহিতের ক্রোধোদ্রেক হইল। তখন তিনি একদা রাজার সহিত নির্জ্জনে সাক্ষাৎকার ও শিষ্টালাপ করিয়া তাঁহাকে সম্বোধনপূৰ্ব্বক কহিলেন, মহারাজ! আমি আপনাকে কোন বিষয় জিজ্ঞাসা করিতে বাসনা করিয়াছি, যদি অকপটে আমার নিকট উহা ব্যক্ত করেন, তাহা হইলে জিজ্ঞাসা করি।’

“তখন রাজা কহিলেন, মহাশয়! আপনি এক বিষয়ের কথা দূরে থাকুক, যে যে বিষয় আমাকে জিজ্ঞাসা করিবেন, আমি অবশ্যই তৎসমুদয় আপনার নিকট কীৰ্ত্তন করিব। স্নেহ ও সম্মাননিবন্ধন আমার নিকট আপনার কিছু অবক্তব্য নাই।

“তখন পুরোহিত কহিলেন, ‘মহারাজ! একটি বিষয়ের অধিক আমার জিজ্ঞাস্য নাই। যদি আপনি সন্তুষ্ট হইয়া থাকেন, তাহা হইলে আমার নিকট মিথ্যা কহিবেন না, অঙ্গীকার করুন।’

“ব্রাহ্মণ এই কথা কহিলে, নরপতি তাঁহার বাক্য স্বীকার করিয়া কহিলেন, ব্রহ্ম! যদি আমি আপনার জিজ্ঞাস্য বিষয় অবগত থাকি, তাহা হইলে অবশ্যই প্রকাশ করিব।’

“তখন পুরোহিত কহিলেন, ‘মহারাজ! স্বস্তিবাচন, শান্তি ও হোমাদি বিবিধ ধৰ্ম্মকাৰ্য্যসময়ে আপনি যে আমার প্রতি দৃষ্টিনিক্ষেপ করিয়া হাস্য করেন, তাহার কারণ কি? আপনি হাস্য করাতে আমাকে নিতান্ত লজ্জিত হইতে হয়; আপনার ঐ হাস্যের অবশ্যই কোন গুঢ় কারণ আছে। সেই কারণ অবগত হইবার নিমিত্ত আমি একান্ত উৎসুক হইয়াছি; অতএব এই নিগূঢ়তত্ত্ব অকপটে আমার নিকট কীৰ্ত্তন করুন। আপনি আমার নিকট সত্য কহিবেন বলিয়া অঙ্গীকার করিয়াছেন; এক্ষণে তাহার অন্যথা করা কোনক্রমেই বিধেয় নহে।’

যজমান-পুরোহিত পূৰ্ব্বজন্মপ্রকাশ

“নরপতি কহিলেন, ‘ব্ৰহ্মন্! আপনি যেরূপ আগ্রহ প্রকাশ করিতেছেন, তাহাতে এই বিষয় অবক্তব্য হইলেও আপনার নিকট কীৰ্ত্তন করা আমার অবশ্য কর্ত্তব্য। এক্ষণে আমি আমার হাস্যের কারণ প্রকাশ করিতেছি, অবহিতচিত্তে শ্রবণ করুন। আমি জাতিস্মর; আমার পূর্ব্বজন্মে যাহা যাহা ঘটিয়াছিল, তৎসমুদয় আমি সবিশেষ অবগত আছি। পূৰ্ব্বজন্মে আমি তপস্যানিরত শূদ্র ছিলাম এবং আপনি উগ্রতর তপঃপরায়ণ মহর্ষি ছিলেন। আপনি আমার প্রতি পরম পরিতুষ্ট হইয়া অনুগ্রহপ্রকাশপূৰ্ব্বক আমায় পিতৃশ্রাদ্ধে আমাকে কুশাসন, কুশ এবং হব্যকব্যবিষয়ে উপদেশ প্রদান করিয়াছেন। সেই কৰ্ম্মনিবন্ধন ইহজন্মে আপনি পুরোহিত হইয়াছেন এবং আমি রাজা হইয়া জন্মগ্রহণ করিয়াছি। কালের কি আশ্চৰ্য্য মহিমা! আপনি আমাকে শ্রাদ্ধে উপদেশ প্রদান করিয়াই এই ফল লাভ করিলেন। হে দ্বিজবর! আমি কেবল এই কারণবশতঃ আপনাকে দেখিবামাত্র হাস্য করিয়া থাকি, আপনি আমার গুরু। আমি আপনার প্রতি অবজ্ঞা করিয়া হাস্য করি না। আমি শূদ্র হইয়াও জাতিস্মর হইলাম এবং আপনি মুনি হইয়াও পুরোহিত হইলেন। ইহাতে আমি নিতান্ত দুঃখিত হইয়াছি। কি আশ্চর্য্য! একমাত্র উপদেশপ্রদাননিবন্ধন আপনার তাদৃশ কঠোর তপশ্চরণ একেবারে ধ্বংস হইয়া গেল। যাহা হউক, এক্ষণে আপনি পৌরোহিত্য পরিত্যাগপূৰ্ব্বক পুনরায় উৎকৃষ্ট জন্মগ্রহণের নিমিত্ত যত্নবান হউন। আর যেন আপনাকে ইহা অপেক্ষা অধম যোনিতে জন্মপরিগ্রহ করিতে না হয়। এক্ষণে আপনি এই ধনরাশি গ্রহণপূৰ্ব্বক পুণ্যকাৰ্য্যের অনুষ্ঠান করুন।’

দানাদিদ্বারা পুণ্যসঞ্চয়ে ব্রাহ্মণের পূৰ্ব্বগতি

“নরপতি এই কথা কহিবামাত্র ব্রাহ্মণ তঁহার নিকট বিদায় গ্রহণপূৰ্ব্বক গৃহে প্রত্যাগমন করিয়া, ব্রাহ্মণদিগকে ভূমি, গ্রাম ও বিবিধ ধন প্রদান ও তাঁহাদের আদেশানুসারে কঠোর কাৰ্য্যের অনুষ্ঠান করিতে লাগিলেন। পরে বহুতর তীর্থপর্য্যটন করিয়া তথায় ব্রাহ্মণগণকে গাভী ও অন্যান্য নানাবিধ ধন দান করিয়া পরম পবিত্র হইলেন এবং পরিশেষে স্বীয় আশ্রমে গমনপূর্ব্বক ঘোরতর তপস্যাদ্বারা আশ্রমবাসীদিগের নিকট সম্মান লাভ করিয়া সিদ্ধিলাভ করিলেন।

“হে ধৰ্ম্মরাজ! শূদ্রকে উপদেশ প্রদান করিয়া সেই মহর্ষিকে এইরূপ কষ্ট সহ্য করিতে হইয়াছিল; অতএব নীচজাতিকে উপদেশ প্রদান করা ব্রাহ্মণের কদাপি কৰ্ত্তব্য নহে। ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় ও বৈশ্য এই তিন বর্ণকে ব্রাহ্মণ উপদেশ প্রদান করিলে কখনই দূষিত হয়েন না; কিন্তু শূদ্রকে উপদেশ প্রদান করা তাঁহার নিতান্ত অকৰ্ত্তব্য। ধৰ্ম্মের গতি নিতান্ত সূক্ষ্ম, পাপাত্মারা কখনই তাহা অনুধাবন করিতে সমর্থ হয় না। মুনিগণ দুৰ্ব্বাক্যপ্রয়োগভয়ে বাঙনিষ্পত্তিপরাঙ্মুখ হইয়া মৌনাবলম্বন করিয়া থাকেন। লোকে ধার্ম্মিক ও সত্যসরলতাদিগুণযুক্ত হইয়াও একমাত্ৰ দুৰ্ব্বাক্য প্রয়োগদ্বারা ঘোরতর পাপে লিপ্ত হয়। বিশেষ বিবেচনা না করিয়া অন্যকে উপদেশ প্রদান করা কদাপি কর্ত্তব্য নহে। কারণ, উপদিষ্ট ব্যক্তি যদি দৈবাৎ উপদেষ্টার বাক্যানুসারে পাপকাৰ্য্যের অনুষ্ঠান করে, তাহা হইলে উপদেষ্টাকে নিশ্চয়ই সেই পাপে লিপ্ত হইতে হয়। ধৰ্ম্মজ্ঞ বিজ্ঞ ব্যক্তিদিগের পক্ষে বিবেচনা করিয়া কাৰ্য্য করাই বিধেয়। ধনলোভনিবন্ধন উপদেশ প্রদান করিলে ধৰ্ম্মক্ষয় হয়। কেহ প্রশ্ন করিলে, বিশেষ বিবেচনা করিয়া যাহাতে ধর্ম্মলাভ হয়, সেইরূপ উপদেশ প্রদান করাই উচিত। নীচজাতিকে উপদেশ প্রদান করিলে মহাক্লেশ উপস্থিত হয়; অতএব নীচজাতিকে উপদেশ প্রদান করা কোনক্রমেই বিধেয় নহে। এই আমি তোমার নিকট তোমার প্রশ্নানুরূপ কথা কীৰ্ত্তন করিলাম।”