২৩তম অধ্যায়
দৈবাদি ক্রিয়ার সময়নিরূপণ
যুধিষ্ঠির কহিলেন, “পিতামহ! সুরর্ষিগণ শ্রাদ্ধকালে দৈব ও পৈত্ৰকার্য্যে যাহা যাহা কর্ত্তব্য বলিয়া নিরূপণ করিয়া গিয়াছেন, আপনি তাহা কীৰ্ত্তন করুন।”
ভীষ্ম কহিলেন, “বৎস! মঙ্গলাচারসম্পন্ন ও পবিত্র হইয়া পরমযত্নসহকারে পূর্ব্বাহ্ণ দৈবকাৰ্য্য, অপরাহ্ণে পিতৃকাৰ্য্য ও মধ্যাহ্নে মনুষ্যকাৰ্য্য সম্পাদন করা মানবগণের অবশ্য কর্ত্তব্য। অকালদত্ত [অসময়ে প্রদত্ত] বস্তু রাক্ষসীয় ভাগ বলিয়া নির্দ্দিষ্ট হইয়াছে। লঙ্ঘিত [পদদ্বারা লঙ্ঘনকৃত], অবলীঢ় [গৃহীত-আস্বাদ—জিহ্বাস্পর্শে যাহার আস্বাদ গ্রহণ করা হয়।], কলহকৃত, রজঃস্বলাম্পৃষ্ট, অনেকের উদ্দেশে সম্পাদিত, কুক্কুরের উচ্ছিষ্ট বা দৃষ্ট, কেশ, কীট, নেত্রজল ও ক্ষুতদ্বারা দূষিত, উচ্ছিষ্ট শ্রাদ্ধে মন্ত্রক্রিয়া ও আহুতিপ্রদান ব্যতীত পরিবিষ্ট [পরিবেশনরত] এবং দুরাচার ও শূদ্রকে ভোজনার্থ প্রদত্ত অন্নকে রাক্ষসীয় ভাগ বলিয়া নির্দ্দেশ করা যায়। দেবতা, অতিথি ও বালিকাদিগকে বঞ্চনা করিয়া অন্নভোজন করিলে রাক্ষসীয় ভাগ ভোজন করা হয়।
“হে মহারাজ! এই আমি রাক্ষসীয় ভাগের বিষয় কীৰ্ত্তন করিলাম, অতঃপর যেরূপ ব্রাহ্মণকে দান করা অবিধেয়, তাহা কীৰ্ত্তন করিতেছি, শ্রবণ কর। ব্রাহ্মণগণ কৃতবিদ্য হইয়াও যদি পতিত, জড়, উন্মত্ত, কুষ্ঠ, ক্লীব, যক্ষ্মারোগী, অপস্মাররোগগ্রস্ত, অন্ধ, চিকিৎসক, দেবল [বেতনগ্রহণে দেবপূজক], বৃথানিয়মধারী, সোমবিক্রয়ী, ক্রীড়াপরায়ণ, গায়ক, নর্ত্তক, বাদক, বৃথাভাষী, যোদ্ধা, শূদ্রযাজী, শূদ্ৰাধ্যাপক, শূদ্রদাস, শূদ্ৰাপতি, বেতনভুক অধ্যাপক ও শিষ্য, স্মৃতি ও বেদোক্ত কৰ্ম্মবিবর্জ্জিত, মৃতনির্য্যাতক [পূর্ব্বশত্রুতাবশতঃ মৃতের প্রতিহিংসা কারী], তস্কর, অজ্ঞাতকুলশীল, গ্রামণী, পুত্রিকাপুত্র [দত্তকরূপে গৃহীত কন্যার পুত্র], ঋণকৰ্ত্তা, কুসীদজীবী, স্ত্রীজীবী, অস্ত্রজীবী ও সন্ধ্যাবন্দনাদিবিহীন হয়েন, তাহা হইলে তাঁহাদিগকে শ্রাদ্ধে নিমন্ত্রণ করা কদাপি বিধেয় নহে।
বিধিবিহিত দাতা ও গৃহীতার লক্ষণ
“অতঃপর দাতা ও প্রতিগৃহীতার বিষয় কীৰ্ত্তন করিতেছি, শ্রবণ কর। যেসকল ব্রাহ্মণ অগ্নিহোত্ৰব্ৰতপরায়ণ, গ্রামবাসী, চৌর্য্যবৃত্তিবিহীন, অতিথি-সৎকারজ্ঞ, ত্রিকালীন সাবিত্রীজপ পরায়ণ, ভিক্ষাজীবী, ক্রিয়াবান, অহিংস্র, অল্পদোষী, অদাম্ভিক ও শুষ্কতর্কপরাঙ্মুখ, তাঁহারাই শ্রাদ্ধে নিমন্ত্রিত হইবার উপযুক্ত পাত্র। যাঁহারা প্রথমে ধূর্ত্ততা, চৌর্য্য, প্রাণীবিক্রয় ও বণিক্বৃত্তির অনুষ্ঠান করিয়া পশ্চাৎ যজ্ঞে সোমরস পান করেন ও যাঁহারা দুষ্কর্ম্মদ্বারা ধনোপার্জ্জন করিয়া পরিশেষে অতিথিসাৎ করেন, তাহারাও শ্রাদ্ধস্থলে নিমন্ত্রিত হইতে পারেন। ব্রতপরায়ণ, গুণশালী, সাবিত্রীজ্ঞানসম্পন্ন ব্রাহ্মণ, কৃষিজীবী এবং সৎকুলসম্ভূত ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয়ধর্ম্মপরায়ণ হইলেও তাঁহাদিগকে শ্রাদ্ধে নিমন্ত্রণ করা যায়। বেদবিক্রয় ও মিথ্যা শপথাদিদ্বারা অর্জ্জিত অর্থ ও স্ত্রীধন ব্রাহ্মণকে প্রদান বা উহাদ্বারা পিতৃকাৰ্য্য সম্পাদন করা বিধেয় নহে। শ্রাদ্ধ সমাপন হইলে যে ব্রাহ্মণ শ্রদ্ধসমাপনোচিত স্বধাদি বাক্য প্রয়োগ না করেন, তাঁহাকে অধৰ্ম্মভাগী হইতে হয়। উপযুক্ত ব্রাহ্মণ, দধি, ঘৃত, সোমরস ও আরণ্য পশুর মাংস হইলেই [ইহা উপস্থিত হইলেই] শ্রাদ্ধ করা উচিত। শ্রাদ্ধ সমাপ্ত হইলে ব্রাহ্মণের ‘স্বধা’, ক্ষত্রিয়ের ‘প্রীয়ন্তাং’, বৈশ্যের ‘অক্ষয্য’ ও শূদ্রের ‘স্বস্তি’ এই বাক্য প্রয়োগ করা কর্ত্তব্য।
“দেবকাৰ্য্য অনুষ্ঠানসময়ে ব্রাহ্মণের পক্ষে প্রণবোচ্চারণপূৰ্ব্বক পুণ্যাহবাক্য, ক্ষত্রিয়ের প্রণবোচ্চারণবিহীন পুণ্যাহবাক্য, বৈশ্যের প্রীয়ন্তাং বাক্য প্রয়োগ করা কর্ত্তব্য। ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় ও বৈশ্য এই তিন বর্ণেরই জাতকৰ্ম্মাদি ক্রিয়াকলাপ মন্ত্র উচ্চারণপূর্ব্বক সম্পাদিত হইয়া থাকে। উপনয়নকালে ব্রাহ্মণের শরনিৰ্ম্মিত মেখলা, ক্ষত্রিয়ের মৌর্ব্বী-মেখলা এবং বৈশ্যের বহুজতৃণনির্ম্মিত মেখলা ব্যবহার করাই যথার্থ ধৰ্ম্ম। ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় ও বৈশ্য এই তিন বর্ণের মধ্যে ব্রাহ্মণ মিথ্যাবাক্য প্রয়োগ করিলে যে পাপ হইবে, ক্ষত্রিয়ের তাহা অপেক্ষা চতুর্গুণ এবং বৈশ্যের আটগুণ হইবে। ব্রাহ্মণ প্রথমে স্ববর্ণকর্ত্তৃক নিমন্ত্রিত হইয়া যদি অন্যত্র গমন করেন, তাহা হইলে বৃথা জীবহিংসার সম্পূর্ণ পাপ এবং ক্ষত্রিয় ও বৈশ্যকর্ত্তৃক নিমন্ত্রিত হইয়া অন্যত্র গমন করিলে বৃথা জীবহিংসার অর্দ্ধপাপভাগী হইয়া থাকেন। যে ব্রাহ্মণ তাস্নাত বা অশৌচগ্রস্ত হইয়া লোভবশতঃ দৈব বা পিতৃকাৰ্য্য উপলক্ষ্যে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় বা বৈশ্যের ভবনে গমনপূর্ব্বক ভোজন করেন, যিনি তীর্থযাত্রা বা অন্যান্য কার্য্যব্যপদেশে দাতার নিকট ধন প্রার্থনা করেন, যিনি দেবব্রতপরায়ণ না হয়েন এবং যিনি শাস্ত্রানুসারে শ্রাদ্ধে পরিবেশন না করেন, তাঁহাদিগের সকলকেই—যে ব্যক্তি গোগ্রহণের নিমিত্ত মিথ্যাবাক্য প্রয়োগ করে, তাহার তুল্য পাপভাগী হইতে হয়।”
যুধিষ্ঠির কহিলেন, “পিতামহ! দেবতা ও পিতৃগণের তৃপ্তিলাভের উদ্দেশে কাহাদিগকে দান করিলে মহাফললাভ হয়, তাহা আমার নিকট কীৰ্ত্তন করুন।”
ভীষ্ম কহিলেন, “বৎস! যাহাদিগের পত্নীগণ সুবৃষ্টি, প্রতীক্ষানিরত কৃষিজীবীর ন্যায় স্বামীর ভোজনপত্রাবশিষ্ট দ্রব্যের প্রতীক্ষা করিয়া থাকে, তাহাদিগকে ভোজন প্রদান করা অবশ্য কৰ্ত্তব্য। যে সমুদয় সচ্চরিত্র, দুর্ব্বল ও দরিদ্র ব্রাহ্মণ যাচকভাবে গৃহে উপস্থিত হয়েন, যাঁহারা ভক্তিপরায়ণ ও আশ্রিত হইয়া থাকেন এবং কেবল আবশ্যকের সময় অর্থ প্রার্থনা করেন, যাঁহারা তস্কর ও শত্রু হইতে ভীত হইয়া আগমনপূৰ্ব্বক ভোজন করিতে ইচ্ছা করেন, যাঁহারা নিতান্ত দরিদ্রতানিবন্ধন আগ্রহপূর্ব্বক দরিদ্র ব্রাহ্মণেরও করস্থিত অন্ন প্রার্থনা করেন, যাঁহারা দেশবিপ্লবনিবন্ধন হৃতদার ও হৃতসৰ্ব্বস্ব হইয়া অর্থলাভের নিমিত্ত আশ্রয় গ্রহণ করেন, যে সমুদয় ব্রতনিয়মপরায়ণ জ্ঞানবান ব্রাহ্মণ ব্রতাদি সমাধানার্থ ধনার্থী হইয়া উপস্থিত হয়েন, যাঁহারা পাষণ্ডদিগের ধর্ম্ম পরিত্যাগ করেন, যাঁহাদিগের শরীর দুর্ব্বল ও ধন কিছুমাত্র নাই, যাঁহারা পরাক্রান্ত দুরাত্মাদিগের দৌরাত্ম্যে হৃতসৰ্ব্বস্ব হইয়া অন্ন প্রার্থনা করেন এবং যাঁহারা তপস্বীদিগের নিকট ভিক্ষাৰ্থ গমন করেন, তাঁহাদিগকেই দেবতা ও পিতৃগণের তৃপ্তিসাধনোদ্দেশে দান করিলে মহাফললাভ হইয়া থাকে।
স্বর্গীয় ও নারকীয় নরকগণের লক্ষণ
“বৎস! এই আমি তোমার নিকট দানবিষয়ক মহৎফল কীৰ্ত্তন করিলাম। অতঃপর মানবগণের যে কাৰ্য্যদ্বারা নরক ও যে কাৰ্য্যদ্বারা স্বর্গভোগ হয়, তাহা কীৰ্ত্তন করিতেছি, শ্রবণ কর। যাহারা গুরুর হিতসাধন ও ভয়নিবারণ ব্যতীত অন্য কার্য্যের নিমিত্ত মিথ্যাকথা কহে; যাহারা পরদারাপহরণ, পরস্ত্রীসংসর্গ, পারদারিক কার্য্যে দৌত্যকাৰ্য্য [পরস্ত্রীহরণে দূতের কার্য্য], পরধননাশ ও পরদোষ কীৰ্ত্তন করে; যাহারা উদপান, সেতু ও গৃহাদি ভগ্ন করিয়া থাকে; যাহারা বালিকা, বৃদ্ধা ও অনাথা স্ত্রীদিগের বঞ্চনায় প্রবৃত্ত হয়; যাহারা বৃত্তিচ্ছেদ, গৃহচ্ছে, দানবিচ্ছেদ, মিত্রতাচ্ছেদ ও আশাচ্ছেদ করে; যাহারা পরদোষসূচক, সন্ধিভেদক, পরভাগ্যোপজীবী, মিত্রের প্রতি অকৃতজ্ঞ, বেদবিরোধী, সাধুদিগের দ্বেষ্টা, নিয়মবিধ্বংসী, পাপকাৰ্য্যদ্বারা পতিত, বিরুদ্ধ ব্যবহারনিরত, অনুচিত বৃদ্ধিজীবী, দূতক্রীড়াপরায়ণ, কদাচারনিরত ও প্রাণীহিংসায় প্রবৃত্ত হয়; যাহারা আশাগ্রস্ত, নির্দ্দিষ্টলাভাকাঙ্ক্ষী, বেতনভোগী ও কৃতশ্রম ব্যক্তিদিগকে কৌশলক্রমে স্বামীর নিকট হইতে দূরীভূত করিতে চেষ্টা করে; যাহারা অগ্নি, স্ত্রী, পৌষ্যবর্গ ও অতিথিদিগকে ভোজ্যবস্তু প্রদান না করিয়া স্বয়ং ভোজন করে; যাহারা দেবকাৰ্য্য ও পিতৃকার্য্যের অনুষ্ঠানে পরাঙ্মখ হয়; যাহারা বেদবিক্রয়, বেদাদ্বেষ ও বেদের অবজ্ঞা করে; যাহারা চারি আশ্রমের বহির্ভূত ও বেদাচারবিহীন হইয়া দুষ্ক্রিয়াদ্বারা জীবিকানির্ব্বাহে প্রবৃত্ত হয়; কেশবিক্রয়, বিষবিক্রয় ও ক্ষীরবিক্রয় যাহাদিগের উপজীবিকা; যাহারা গো, ব্রাহ্মণ ও কন্যাগণের কার্য্যে বিঘ্ন উৎপাদন করে; যাহারা শস্ত্র, শল্য ও ধনু নির্ম্মাণ ও বিক্রয় করে; যাহারা শিলা, শঙ্কু ও বিবরদ্বারা পথ রুদ্ধ করে; যাহারা নিরপরাধে উপাধ্যায়, ভৃত্য ও ভক্তগণকে পরিত্যাগ করে; যাহারা অপ্রাপ্তদশায় বৃষগণকে দমিত করিয়া তাহাদিগের নাসিকা ভেদ করে; যাহারা পশুদিগকে বদ্ধ করিয়া রাখে; যে সমুদয় ভূপতি প্রজাপালনে পরাঙ্মুখ হইয়া বলপূৰ্ব্বক তাহাদিগের নিকট ষষ্ঠাংশ গ্রহণ করেন ও ঐশ্বৰ্য্যশালী হইয়াও ধনদানে পরাঙ্মুখ হয়েন; যাহারা স্বকাৰ্য্যসাধন হইলেই ক্ষমাশীল, জিতেন্দ্রিয়, বিদ্বান, চিরসহচর ভৃত্যগণকে পরিত্যাগ করে এবং যাহারা বালক, বৃদ্ধ ও ভৃত্যগণকে ভোজন না করাইয়া অগ্রে ভোজন করে, তাহাদিগকে নিঃসন্দেহ নরকগামী হইতে হয়।
“হে ধৰ্ম্মরাজ! এই আমি তোমার নিকট যে সমস্ত কাৰ্য্য অনুষ্ঠান করিলে নরকগামী হইতে হয়, তাহা কীৰ্ত্তন করিলাম। এক্ষণে যেসকল কাৰ্য্যপ্রভাবে স্বর্গলাভ হইয়া থাকে, তাহাও কহিতেছি, শ্রবণ কর। দৈবকার্য্যে ব্রাহ্মণগণের অবমাননা করিলে পুত্র ও পশুসমুদয় বিনষ্ট হয়, অতএব ব্রাহ্মণের অবমাননা কদাপি কৰ্ত্তব্য নহে। যাঁহারা প্রাণান্তেও ব্রাহ্মণগণের অবমাননা করেন না; যাঁহারা দান, তপ ও সত্যবাক্যপ্রয়োগদ্বারা আপনার ধর্ম্মপ্রতিপালন করেন; যাঁহারা গুরুশুশ্রূষা ও তপানুষ্ঠানদ্বারা বিদ্যালাভ করিয়া প্রতিগ্রহে একান্ত পরাঙ্মুখ হয়েন; যাঁহারা লোকসকলকে ভয়, পাপবিঘ্ন, দারিদ্র্য ও ব্যাধি হইতে পরিত্রাণ করেন; যাঁহারা ক্ষমাশীল, ধীরস্বভাব, ধৰ্ম্মকাৰ্য্যে উৎসাহসম্পন্ন ও শুভাচারপরায়ণ; যাঁহারা মদ্য, মাংস ও পরদারে কদাচ আসক্ত হয়েন না; যাঁহারা কুল, আশ্রম ও গ্রাম-নগরাদি-সংস্থাপনে প্রবৃত্ত হয়েন; যাঁহারা অন্নপান, বস্ত্র ও আভরণ প্রদান এবং অর্থাদির সাহায্য করিয়া অন্যের বিবাহাদি কাৰ্য্য নির্ব্বাহ করেন; যাঁহারা হিংসাদোষশূন্য, সৰ্ব্বসহিষ্ণু ও সকলের আশ্রয়দাতা; যাঁহারা মাতাপিতার শুশ্রূষা ও ভ্রাতৃগণের প্রতি সমুচিত স্নেহ প্রদর্শন করিয়া থাকেন; যাঁহারা অতুল অর্থশালী, মহাবলপরাক্রান্ত ও যুবা হইয়াও সুধীর ও জিতেন্দ্রিয় হয়েন; যাঁহারা অপরাধী ব্যক্তির প্রতিও স্নেহদৃষ্টি বিতরণ করেন; যাঁহারা স্বয়ং মৃদু ও মৃদুবৎসল; যাঁহারা শুশ্রূষাদ্বারা অন্যের সুখসম্পাদনে যত্নবান্ হয়েন; যাঁহারা অসংখ্য লোকের ভোজনদাতা, ধনদাতা ও রক্ষক; যাঁহারা যাচকদিগকে গো, অশ্ব, সুবর্ণ, যান, বাহন এবং বিবাহোচিত অলঙ্কার, বস্ত্র ও দাসদাসী প্রদান করিয়া থাকেন; যাঁহারা গোষ্ঠ, পান্থনিবাস, উদ্যান, কূপ, সভা, উপদান ও প্রাচীর প্রস্তুত করিয়া দেন; যাঁহারা ক্ষেত্র ও গৃহ প্রদান করেন; যাঁহারা স্বয়ং রস, বীজ ধান্যাদি উৎপাদনপূৰ্ব্বক পাত্ৰসাৎ করিয়া এবং যাঁহারা উৎকৃষ্ট বা নিকৃষ্ট যে কোনরূপ কুলে হউক, উৎপন্ন হইয়া বহু পুত্র ও শতায়ু হইয়া দয়াশীল ও শান্তস্বভাব হয়েন, তাঁহারাই স্বর্গলাভ করিয়া থাকেন, সন্দেহ নাই। হে ধৰ্ম্মরাজ! এই আমি তোমার নিকট পরলোকহিতকর দৈব ও পৈত্ৰকাৰ্য্য এবং পূর্ব্বতন ঋষিনির্দ্দিষ্ট দান, ধর্ম্ম ও দানের বিষয় সবিশেষ কীৰ্ত্তন করিলাম।”
