1 of 4

১৭. শিবের অষ্টোত্তরসহস্র নাম

১৭শ অধ্যায়

শিবের অষ্টোত্তরসহস্র নাম

বাসুদেব কহিলেন, “হে ধৰ্ম্মরাজ! অনন্তর মহাত্মা উপমন্যু আমার নিকট মহাদেবের নামসমুদয় কীৰ্ত্তন করিতে বাসনা করিয়া আমাকে সম্বোধনপূৰ্ব্বক কহিলেন, ‘বাসুদেব! তুমি ভগবান ভূতনাথের প্রধান ভক্ত; অতএব এক্ষণে আমি তোমার সমক্ষে বেদবেদাঙ্গনির্দ্দিষ্ট, মহর্ষি তণ্ডি ও তত্ত্বদর্শী অন্যান্য সাধুগণকর্ত্তৃক কথিত, সর্ব্বার্থসাধক, জগদ্বিখ্যাত কতকগুলি নামদ্বারা কৃতাঞ্জলিপুটে সেই স্তবার্হ সৰ্ব্বভূতহিতৈষী ত্রিলোকবিখ্যাত সনাতন পরমব্রহ্মস্বরূপ মহেশ্বরকে স্তব করিব, তুমি অবহিতচিত্তে শ্রবণ কর। লোকে অণিমাদি ঐশ্বৰ্য্যসংযুক্ত হইয়াও শত বৎসরে বিস্তারিতরূপে সেই দেবাদিদেবের মাহাত্ম্য কীৰ্ত্তন করিতে সমর্থ হয় না। যখন দেবগণও মহাদেবের আদি, অন্ত ও মধ্য অবগত হইতে পারেন না, তখন অন্য কোন্ ব্যক্তি বিস্তারিতরূপে তাঁহার মহিমাকীর্ত্তনে সমর্থ হইবে? আমি তাঁহার প্রসাদবলে সাধ্যানুসারে সংক্ষেপে তাহার নাম কীৰ্ত্তন করিব। তিনি অনুজ্ঞা প্রদান না করিলে কেহই তাঁহাকে স্তব করিতে সমর্থ হয় না। তিনি যখন আমাকে অনুজ্ঞা প্রদান করেন, আমি তখনই তাঁহাকে স্তব করিয়া থাকি।।

‘পূৰ্ব্বে কমলযোনি ব্রহ্মা অনাদিনিধি, জগতের আদি কারণ, বিশ্বরূপী, বরদাতা মহেশ্বরের যে দশসহস্র নাম কীৰ্ত্তন করিয়াছিলেন, আমি তাহার মধ্যে উৎকৃষ্টতর অষ্টোত্তরসহস্র নাম সংগ্রহ করিয়াছি। ঘৃত যেমন দধির, সুবর্ণ যেমন পৰ্ব্বতের, মধু যেমন পুষ্পের ও মণ্ড যেমন ঘৃতের সারভূত, তদ্রূপ এই অষ্টোত্তরসহস্র নাম ব্রহ্মোক্ত দশসহস্র নামের সারস্বরূপ। ঐ সকল নাম যত্নসহকারে শ্রবণ ও ধারণ করা অবশ্য কর্ত্তব্য; ঐ নামসমুদয় মঙ্গলজনক, তুষ্টিকর, বিঘ্ননাশক ও পরম পবিত্রতাসম্পাদক।

শ্রদ্ধাযুক্ত ভক্তকেই উহা প্রদান করা কর্ত্তব্য; অজিতেন্দ্রিয় শ্রদ্ধাবিহীন নাস্তিককে প্রদান করা কদাপি বিধেয় নহে। উহা অনুত্তম ধ্যান, যোগধ্যেয় বস্তু, জপ্য মন্ত্র, জ্ঞান ও নিগূঢ় বলিয়া নির্দ্দিষ্ট হইয়া থাকে। মানবগণ অন্তকালেও ঐ পাপনাশন যজ্ঞাদি, ফলপ্রদ মঙ্গলময় পরমানন্দস্বরূপ নামসমুদয় পরিজ্ঞাত হইলে পরমগতি লাভ করিতে পারে। পূৰ্ব্বে সৰ্ব্বলোকপিতামহ ভগবান্ ব্রহ্মা সমুদয় দিব্যস্তবের মধ্যে ঐ নামসমুদয়কে শ্রেষ্ঠ বলিয়া কল্পনা করিয়াছিলেন, সেই অবধি ভগবান্ মহেশ্বরের এই দেবপূজিত উৎকৃষ্ট স্তব ‘স্তবরাজ’নামে জগতিতলে বিখ্যাত হইয়াছে। প্রথমে ঐ স্তব ব্রহ্মলোক হইতে স্বর্গলোকে আনীত হয়, তৎপরে মহাত্মা তণ্ডি উহা প্রাপ্ত হইয়া স্বর্গ হইতে ভূলোকে সমানীত ও প্রচারিত করেন। এই নিমিত্ত উহা তণ্ডিকৃত বলিয়া নির্দ্দিষ্ট হইয়াছে। যে ভূতভাবন ভগবান্‌, বেদপ্রতিপাদ্য ব্রহ্ম, যিনি সর্ব্বাপেক্ষা তেজস্বী, পবিত্র, দ্যুতিমান, প্রশান্ত, জিতেন্দ্রিয়, বুদ্ধিমান; যিনি দেবতাদিগের দেবতা, ঋষিদিগেরও ঋষি, শ্রেষ্ঠ যজ্ঞ, উৎকৃষ্ট কল্যাণ, ব্রহ্মাদির ধ্যেয় ও কারণের কারণস্বরূপ এবং যাঁহা হইতে লোকসমুদয়ের বারংবার সৃষ্টি ও সংহার হইয়া থাকে, আমি এক্ষণে সেই দেবদেবের অষ্টোত্তর সহস্র নাম কীৰ্ত্তন করিতেছি, শ্রবণ কর। উহার প্রভাবে অনায়াসে অভীষ্ট ফললাভ করিতে পারিবে।

তিনি স্থির, স্থাণু, প্রভু, ভীম, প্রবর, বরদ, বর, সর্ব্বাত্মা, সৰ্ব্ববিখ্যাত, শৰ্ব্ব, সৰ্ব্বকর, ভব, জটাধারী, ব্যাঘ্রচর্ম্মাবৃত, শিখা, বিরাটমূৰ্ত্তিধারী, বিশ্বকৰ্ত্তা, হর, হিরণ্যাক্ষ, সৰ্ব্বভূতবিনাশক, প্রবৃত্তিনিবৃত্তি, নিয়ত, শাশ্বত, ধ্রুব, শ্মশানবাসী, ভগবান, খেচর, বিষয়গোচর, পাপাত্মাদিগের পীড়নকৰ্ত্তা, সৰ্ব্বনমস্য, মহাকর্ম্মা, তপস্বী, ভূতভাবন, উন্মত্তবেশ, প্রচ্ছন্ন, সৰ্ব্বলোকপ্রজাপতি, মায়ারূপ, মায়াকায়, বৃষরূপ, মহাযশা, মহাত্মা, সর্ব্বভূতাত্মা, বিশ্বরূপ, মহামনু, লোকপাল, অন্তহিতাত্মা, আনন্দময়, হয়গার্দ্দভি, পবিত্র, মহান, নিয়মাশ্রিত, নিয়ম, সৰ্ব্বকর্ম্মা, স্বয়ম্ভুত, আদি, আদিকরনিধি, সহস্রাক্ষ, বিশালাক্ষ, সোমরস, নক্ষত্রসাধক, চন্দ্র, সূৰ্য্য, শনি, কেতু, রাহু, মঙ্গল, বৃহস্পতি, অত্রি, নমস্কৰ্ত্তা, মৃগধারী, শরত্যাগী, নিষ্পাপ, মহাতপাঃ, ঘোরতপাঃ, অদীন, দীনসাধক, সংবৎসরকৰ্ত্তা, মন্ত্র, প্রমাণ, পরমতপস্যা, যোগী, যাজ্য, মহাবীজ, মহারেতাঃ, মহাবল, সুবর্ণরেতাঃ, সৰ্ব্বজ্ঞ, সুবীজ, বীজবাহন, দশবাহু, অনিমেষ, নীলকণ্ঠ, উমাপতি, বিশ্বরূপ, স্বয়ংশ্রেষ্ঠ, বলবীর, বল, গণ, গণকর্ত্তা, গণপতি, দিগম্বর, কাম, মন্ত্রবিৎ, পরমমন্ত্র, জগৎকারণ, সংহারকর্ত্তা, কমণ্ডলুধারী, ধনুর্দ্ধর, বাণহস্তু, কপালধারী, অশনিধারী, শতঘ্নীধারী, খড়গপাণি, পট্টিশহস্ত, শূলপাণি, পূজ্য, স্রূবহস্ত, সুরূপ, তেজঃ, তেজস্কর, নিধি, উষ্ণীষধারী, সুবক্ত্র, উজ্জিতরূপ, বিনয়ান্বিত, দীর্ঘ, হরিকেশ, সুতীর্থ, কৃষ্ণ, শৃগালরূপী, সিদ্ধার্থ, মুক্ত, সৰ্ব্বশুভঙ্কর, অজ, বহুরূপ, গন্ধধারী, কপর্দ্দী, উৰ্দ্ধরেতা, উৰ্দ্ধলিঙ্গ, ঊৰ্দ্দশায়ী, নভস্থল, ব্রিজটী, চীরবাসা, রুদ্র, সেনাপতি, সৰ্ব্বব্যাপী, অহশ্চর, রাত্রিচর, তীক্ষ্ণক্রোধ, সুবর্চ্চ, গজাসুরহন্তা, দানবঘাতী, কাল, লোকবিধাতা, গুণাকর, সিংহশার্দ্দূলরূপী, আর্দ্রচর্ম্মাবৃত, কালযোগী, মহানাদ, সৰ্ব্বকাম, চতুষ্পথ, নিশাচর, প্রেতচারী, ভূতচারী, মহেশ্বর, বহুভূত, বহুধন, রাহু, অনন্ত, গতি, নৃত্যপ্রিয়, নিত্যনৃত্য, নৰ্ত্তক, বিশ্ববন্ধু, ঘোররূপী, মহাতপাঃ, মায়াপাশধারী, ধ্বংসরহিত, পর্ব্বতারূঢ়, নিঃসঙ্গ, সহস্ৰহস্ত, বিজয়, ব্যবসায়, অতন্দ্রিত, অপ্রকম্প্য, ভয়স্বরূপ, যজ্ঞহন্তা, কামনাশন, দক্ষযজ্ঞাপহারী, সৌম্য, ঈষৎসৌম্য, অতিক্রূর, বলসূদন, নিত্যানন্দময়, অর্থনীয়, অজিত, অবর, গম্ভীরঘোষ, গম্ভীর, বলবাহন, ন্যগ্রোধরূপী, অশ্বত্থাবৃক্ষস্বরূপ, বৃক্ষপত্রস্থিত, ভক্তবৎসল, সুতীক্ষ্ণদংষ্ট্র, মহাকায়, মহানল, বিষ্বক্‌সেন, সচ্চসংহকৰ্ত্তা, সৃষ্টির বীজস্বরূপ, বৃষবাহন, তীক্ষ্ণচাপ, হৰ্য্যশ্ব, সহায়, কৰ্ম্মকালবেত্তা, বিষ্ণুপ্ৰসাদিত, যজ্ঞ, সমুদ্র, বড়বামুখ, বায়ু, প্রশান্তাত্মা, হুতাশন, উগ্রতেজাঃ, মহাতেজাঃ, সংগ্রামনিপুণ, বিজয়কালবেত্তা, জ্যোতিষ্মান্‌দিগের গতিপ্রকাশক, শাস্ত্র, সিদ্ধি, সৰ্ব্ববিগ্রহ, শিখী, দণ্ডী, জটাধারী, জ্বালাবৃত, মূৰ্ত্তিজ, মূৰ্দ্ধগ, বলী, বৈণব, পণবী, তালীখলী, কালমায়ার ছেদনকৰ্ত্তা, নিমিত্ত, নিমিত্তস্থ, আনন্দস্বরূপ, আনন্দবিধাতা, হরি, নদীশ্বর, নন্দন, নন্দিবর্দ্ধন, কালচক্রের পরিচালক, জীবরূপী, ঈশ্বর, অচঞ্চল, প্রজাপতি, বিশ্ববাহু, বিভাগকর্ত্তা, সৰ্ব্বগ, অসুখ, সংসারমোচক, সুশরণ, দেহের সৃষ্টিকর্ত্তা, মেঢ্রজ, বনচারী, ভূচর, সৰ্ব্বস্তুত, সর্ব্বতূর্য্যাননাদী, পশুপতি, ব্যালরূপ, গুহাবাসী, গুহ, হেমমালী, বিষয়সুখের রসজ্ঞ, ত্রিদশ, ত্রিকালজ্ঞ, সৰ্ব্ববন্ধবিমোচন, দৈত্যদিগের সংহারকর্ত্তা, শত্রুনাশন, সাঙ্খ্যজ্ঞানপ্রদ, দুৰ্ব্বাসা, সর্ব্বসাধুনিষেবিত, প্ৰস্কন্দন, কৰ্ম্মফলবিভাজক, সর্ব্বশ্রেষ্ঠ, যজ্ঞভাগবিৎ, সৰ্ব্বস্থানগত, সৰ্ব্বস্থানচারী, বাসবিহীন, বাসব, অমর, হিমালয়রূপা, হেমকর, নিষ্কর্ম্মা, সমুদয় কৰ্ম্মফলের আধার, সকলের অবলম্বনস্বরূপ, লোহিতাক্ষ, মহাক্ষ, বিজয়াক্ষ, পণ্ডিত, সংগ্রহীতা, নিগ্রহীতা, কাৰ্য্যসম্পাদক, ভুজঙ্গাবদ্ধবস্ত্র, উৎকৃষ্ট, অপকৃষ্ট, অতিশয়পুষ্ট, কাহলবাদ্যধারী, সৰ্ব্বকামপ্রদ, সৰ্ব্বকাল প্রসন্ন, মহাবল, বলদেবরূপধারী, মোক্ষস্বরূপ সৰ্ব্বপ্রদ, সৰ্ব্বতোমুখ, আকাশের ন্যায় সৰ্ব্বব্যাপী, সৰ্ব্বসংহারক, অনায়ত্ত, হৃদয়াকাশগত, মহাভৈরব, সূর্য্যকিরণ, সূৰ্য্য, বহুরশ্মি, অতুল তেজঃসম্পন্ন, বায়ুর ন্যায় বেগবান, মহাবেগসমন্বিত, মন অপেক্ষাও সমধিক বেগশালী, বিষয়ভোগনিরত, সর্ব্বদেহবাসী, শ্রীমান, উপদেষ্টা, মৌনী, মুনি, জীবের শুভাশুভ-বিচারকর্ত্তা, সৰ্ব্বসেব্য, বদন্য, গুরু, মিত্ররূপী, অতিদীপ্ত, প্রজাপতি, উন্মাদ, মদন, কাম্যবিষয়, সংসারবৃক্ষ, অর্থের আধার, কীৰ্ত্তিদাতা, বামদেব, কৰ্ম্মফলস্বরূপ, সকলের আদি, ত্রিলোকাক্ৰমণসমর্থ, বামন, সিদ্ধযোগী, মহর্ষি, সিদ্ধসন্ন্যাসী, জ্ঞানবান সন্ন্যাসী, ভিক্ষু, পরমহংস, ব্যবহারবিহীন, মৃদু, অব্যয়, মহাসেন, বিশাখ, জাগ্ৰদবস্থা প্রভৃতি ষষ্টিতত্ত্বের ঈশ্বর, ইন্দ্রিয়ের অধিষ্ঠাতা, বজ্রহস্ত, বিস্তৃত, দৈত্যসেনার স্তম্ভনকর্ত্তা, সমরবিজয়ী, সংসারাশ্রয়বেত্তা, বসন্ত, পিঙ্গললোচন, বৃহস্পতির আরাধ্য, যজুর্ব্বেদ, আশ্রমপূজিত, ব্রহ্মচারী, ব্রাহ্মণ প্রভৃতি বর্ণচতুষ্টয়ের গৃহচারী, সৰ্ব্বগত, বিচারবিৎ, ঈশান, ঈশ্বর, কাল, মহাপ্রলয়ে অবস্থিত, পিনাকধারী, সৰ্ব্বকারণস্থ, কারণ, সমৃদ্ধি, আনন্দকর, হরি, নন্দীশ্বর, নন্দী আনন্দবর্দ্ধন, ঐশ্বৰ্য্যহর্ত্তা, হন্তা, কাল, ব্রহ্মা, পিতামহ, চতুর্ম্মুখ, মহালিঙ্গ, চারুলিঙ্গ, লিঙ্গাধ্যক্ষ, সুরাধ্যক্ষ, যোগাধ্যক্ষ, যুগাবহ, বীজাধ্যক্ষ, বীজকর্ত্তা, অধ্যাত্ম, সাধক, বলবান, ইতিহাস, কল্প, গৌতম, চন্দ্র, দম্ভ, অদম্ভ, দম্ভবিহীন ব্যক্তির প্রাপ্য, ভক্তাধীন, বশীকরণসমর্থ, কলি, লোককৰ্ত্তা, পশুপতি, পৃথিবীর স্রষ্টা, ভোগবিহীন, অক্ষর, পরব্রহ্ম, বলশালী, শত্রু, নীতি, অনীতি, নিলচিত্ত, দোষবিহীন, মান্য, সংসারস্বরূপ, প্রসাদগুণসম্পন্ন, স্বপ্নাভিমানী, পুরুষদর্পণ, শত্ৰুবিজয়ী, বেদকৰ্ত্তা, মন্ত্ৰকৰ্ত্তা, বিদ্বান, সমরমর্দ্দন, মহামেঘনিবাসী, মহাঘোর, বশীকর, অগ্নিপ্রভ, মহাতেজস্বী, কালাগ্নি, আহুতি, হবনীয়দ্রব্য, ধৰ্ম্মরূপী, শঙ্কর, তেজস্বী, বহ্নিস্বরূপ, নীল, স্বলিঙ্গাবির্ভূত, কল্যাণহেতু, প্রতিবন্ধশূন্য, স্বস্তিদাতা, স্বস্তিভাব, যজ্ঞভাগবিশিষ্ট, বিভাজক, শীঘ্রগামী, সঙ্গবিহীন, মহালিঙ্গ, কন্দর্প, কৃষ্ণবর্ণ, সুবর্ণ, ইন্দ্রিয়, মহাপাদ, মহাহস্ত, মহাকায়, মহাযশা, মহামূৰ্দ্ধা, মহামাত্র, মহানেত্র, অবিদ্যানাশস্থান, মোহান্তক, মহাকর্ণ, মহোষ্ঠ, মহাহনু, মহানাশ, মহাকন্ঠ, মহাগ্রীব, মহাবক্ষা, মহাহৃদয়, শ্মশানবাসী, অন্তরাত্মা, মৃগচিহ্নধারী, ব্রহ্মাণ্ডের আশ্রয়, প্রলম্বিতোষ্ঠ, ক্ষীরসমুদ্র, মহাকায়, মহাদন্ত, মহাদংষ্ট্র, মহাজিহ্ব, মহামুখ, মহানখ, মহারোমা, মহাকেশ, দীর্ঘজটাধারী, সুপ্রসন্ন, প্রসন্ন, অনুভব, গিরিধৱা, স্নেহবান, স্নেহবিহীন, অজিত, মহামুনি, সংসারবৃক্ষস্বরূপ, বৃক্ষকেতু, অনল, বায়ুবাহন, ক্ষুদ্রপর্ব্বতগামী, সুমেরুনিবাসী, দেবাধিপতি, অথৰ্ব্বশীৰ্ষ, কামমুখ, ঋকলোচন, যজুঃপাদভুজ, উপনিষদের স্বরূপ, কৰ্ম্মকাণ্ড-বেদস্বরূপ, মনুষ্যাদিরূপ, প্রার্থনাপূরক, দয়ালু, সুখপ্রাপ্য, সুদর্শন, উপকারী, প্রিয়, সৰ্ব্ব, সুবর্ণবর্ণ, স্বর্ণাদিধাতু, যজ্ঞ, আনন্দকর, যজ্ঞশ্রদ্ধা, ব্রহ্মাণ্ডনির্ম্মাতা, স্থির, দ্বাদশসূৰ্য্যস্বরূপ, ভয়জনক, আদ্য, যজ্ঞ, যজ্ঞলভ্য, মহামোহ, কলহ, কাল, মকর, কালপূজিত, সগণ, গণকৰ্ত্তা, ব্রহ্মসারথি, ভস্মশায়ী, ভস্মরক্ষক, ভস্মসৃৎ, কল্পবৃক্ষ, গণ, লোকপাল, লোকাতীত, মহাত্মা, সর্ব্বপূজিত, শুদ্ধ, শুদ্ধদেহ, শুদ্ধান্তঃকরণ, নিত্যমুক্ত, পবিত্র, ভূতনিষেবিত, আশ্রমবাসী, ক্রিয়াবস্থিত, বিশ্বকর্ম্মার বুদ্ধি, সর্ব্বশ্রেষ্ঠ, দীর্ঘবাহু, তাম্ৰোষ্ঠ, অর্ণব, নিশ্চল, কপিলবর্ণ, পিঙ্গলবর্ণ, শুক্লবর্ণ, আয়ু, প্রাচীন, অর্ব্বাচীন, গন্ধৰ্ব্ব, অদিতি, গরুড়, সুবিজ্ঞেয়, প্রিয়বাদী, কুঠারহস্ত, দেব, অনুকারী, সুবান্ধব, তুম্বী ফুলযুক্তবীণাধারী, মহাক্রোধ, ঊর্দ্ধরেতাঃ, জলাশায়ী, উগ্র, বংশকর, বংশ, বংশনাদ, অনিন্দিত, সর্ব্বাঙ্গসুন্দর, মায়াবী, সুহৃদ, অনিল, অনল, সংসারপাশ, বন্ধনকর্ত্তা, বন্ধনমোচক, যজ্ঞহন্তা, কামনাশন, মহাদংষ্ট্রা, মহাযুধ, দক্ষনিন্দিত, শৰ্ব্ব, শঙ্কর, সৰ্ব্বসংশয়চ্ছেত্তা, নির্গুণ, অমরেশ, মহাদেব, বিশ্বদেব, অসুরহন্তা, অনন্তসর্পরূপী, বায়ুসদৃশ, জ্ঞানবান, হরি, অজৈকপাত, কপালী, ত্রিশঙ্কু, অজিত, শিব, ধন্বন্তরি, ধূমকেতু, কার্ত্তিকেয়, কুবের, ধাতা, বিষ্ণু, ইন্দ্র, মিত্র, বিশ্বকর্ম্মা, ধ্রুব, ধারণকৰ্ত্তা, প্রভাব, সৰ্ব্বগত, বায়ু, অর্য্যমা, সবিতা, রবি, উষ্ণকিরণ, বিধাতা, মান্ধাতা, ভূতভাবন, বিভু, চাতুৰ্ব্বর্ণসংস্থাপক, সৰ্ব্বকামগুণপ্রাপক, পদ্মনাভ, মহাগর্ভ, চন্দ্রানন, অনিল, অনল, বলবান, উপশান্ত, পুরাণ, পুণ্যজ্ঞেয়, কুরুক্ষেত্ৰকৰ্তা, কুরুক্ষেত্রবাসী, কুরুক্ষেত্র, ত্রিগুণোদ্দীপক, সর্ব্বান্তঃকরণ গর্ভধারী, সর্ব্বপ্ৰাণীর ঈশ্বর, দেবদেব, সুখাসক্ত, কার্য্যকারণবেত্তা, সৰ্ব্বরত্নবেত্তা, কৈলাসপর্ব্বতবাসী, হিমালয়বাসী, কুলহারী, কুলকৰ্ত্তা, বহুবিদ্য, বহুপ্রদ, বণিক, কাষ্ঠচ্ছেদনকৰ্ত্তা, বৃক্ষ, বকুলবৃক্ষ, চন্দনবৃক্ষ, সৰ্ব্বাচ্ছাদক, সারগ্রীব, মহাচ্ছত্র, মহৌষধ, সিদ্ধার্থকারী, সিদ্ধার্থ, ছন্দ ও ব্যাকরণ, সিংহনাদ, সিংহদংষ্ট্র, সিংহগতি, সিংহবাহন, প্রভবাত্মা, জগদগ্রাসকৰ্ত্তা, ভোজনপাত্র, লোকহিতকর, পরিত্রাণকর্ত্তা, সারঙ্গপক্ষী, নবহংস, কেতুমালী, ধৰ্ম্মস্থানপালক, সৰ্ব্বভূতাশ্রয়, ভূতপতি, অহোরাত্র, অনিন্দিত, সৰ্ব্বভূতবহনকর্ত্তা, সৰ্ব্বভূতগৃহস্বরূপ, সৰ্ব্বসংযোগী, ভব, অমোঘ, সংযত, অন্ন, অন্নদাতা, প্রাণধারণ, নৃতিমান, মতিমান, দক্ষ, সৎকৃত, যুগাধিপ, ইন্দ্রিয়পালক, গোপতি, গ্রাম, গোচৰ্ম্মবসন, ভক্তক্লেশধারী, হিরণ্যবাহু, যোগীদিগের শরীররক্ষক, শত্রুঘাতক, মহাহর্ষ, জিতকাম, জিতেন্দ্রিয়, গান্ধারস্বর, সুবাস, তপানুষ্ঠাননিত, প্রীতি, মনুষ্যরূপী, মহাগীত, মহানৃত্য, অপ্সরাগণসেবিত, মহাকেতু, মহাধাতা, বহুশিখরবাসী, চঞ্চল, জ্ঞানগোচর, উপদেশ, সৰ্ব্বগন্ধসুখাবহ, তোরণ, তারণ, বাত, খেচরেশ্বর, সংযোগ, বর্দ্ধন, বৃদ্ধ, অতিবৃদ্ধ, গুণাধিক, নিত্য, আত্মসহায়, দেবসুরপতি, পতি, যুক্ত, যুক্তবক্ত্র, দেবদেব, আষাঢ়, সসহিষ্ণু, ধ্রুব, অচঞ্চল, হরিণ, হর, স্বর্গচ্যুত ব্যক্তিদিগের ধনদাতা, বসুশ্রেষ্ঠ, মহাপথ, ব্রহ্মশিবোহর্ত্ত, বিশেষবিচারক্ষম, সৰ্ব্বলক্ষণসম্পন্ন, রথা, রথযুক্ত, সৰ্ব্বসংস্পর্শী, মহাবল, দেব, বেদভিন্ন, তীর্থবেদ, মহারথ, নির্জ্জীব, জীবনোপায়, মন্ত্র, প্রশান্তদৃষ্টি, বহুকর্কশ, রত্নের উৎপত্তিস্থান, রক্তাঙ্গ, মহার্ণবপানকর্ত্তা, সৰ্ব্বকারণ, বিশাল, অমৃত, ব্যক্ত, অব্যক্ত, তপোনিধি, পরম পদারোহণে অভিলাষী, পরমপদারূঢ়, সদাচারনিরত, মহাযশা, সৈন্যগণের পরাক্রম, মহাকল্প, যোগ, যুগকর্ত্তা, হরি, যুগরূপ, মহারূপ, গজাসুরহন্তা, মৃত্যু, যথাযোগ্য: দানশীল, শরণ্য, পণ্ডিত, অচলতুল্য, বহুমালাযুক্ত, মহামালাসম্পন্ন, চন্দ্র, হর, সুলোচন, বিস্তার, লবণরস, কূপ, ত্রিযুগ, ফলপ্ৰদাতা, ত্রিনেত্র, হিরাঙ্গ, মণিময়কুণ্ডলধারী, জটাধর, অনুস্বার, বিসর্গ, সুমুখ, শর, সর্ব্বায়ুধ, সৰ্ব্বসহ, নিশ্চয়জ্ঞানবান, সুখাবির্ভূত, গান্ধারদেশোদ্ভব, মহাচাপসম্পন্ন, সৰ্ব্ববসনাময়, ভগবান, সৰ্ব্বকার্য্যের আধার, বিশ্বমথনসমর্থ, বহুল, বায়ু, পূর্ণ, সৰ্ব্বলোচন, তল, তাল, করস্থালী, দৃঢ়শরীর, শ্রেষ্ঠ, ছত্র, সুচ্ছত্র, বিখ্যাত, লোক, সংসারাশ্রয়, ত্রিবিক্রমরূপী, মুণ্ড, বিরূপ, বিকৃত, দণ্ডী, কুণ্ডধারী, বিকারযুক্ত, হৰ্য্যক্ষ, ককুভ, বজ্রধারী, শতজিহ্ব, সহস্রপাৎ, সহস্ৰমূৰ্দ্ধা, দেবেন্দ্র, সর্ব্বদেবময়, গুরু, সহস্রবাহু, সৰ্ব্বাঙ্গ, শরণ্য, সৰ্ব্বলোককৰ্ত্তা, পবিত্র, বীজশক্তিকীলকজপমন্ত্র, কনিষ্ঠ, কৃষ্ণপিঙ্গলবর্ণ, ব্ৰহ্মাদণ্ডনির্ম্মাণকৰ্ত্তা, শতঘ্নীপাশশক্তিসম্পন্ন ব্রহ্মা, মহাগর্ভ, দেবগর্ভ, একার্ণবজলে আবির্ভূত, রশ্মিমান, বেদকৰ্ত্তা, বেদাধ্যায়ী, বেদার্থবেত্তা, ব্রাহ্মণ, সৰ্ব্বজনাশ্রয়, অনন্তরূপ, অনেকরূপ, তীক্ষ্ণতেজা, স্বয়ম্ভু, উপাধিশূন্য, পশুপতি, বায়ুবেগ, মনোজব, চন্দনলিপ্ত, পদ্মনালাগ্রস্বরূপ, সুরভির উদ্ধারকর্ত্তা, নরাবতার, কর্ণিকারমালাসম্পন্ন, কিরীটধারী, পিনাকহস্ত, উমাপতি, উমাকান্ত, জাহ্নবী, উমাধর, বর, বরাহ, বরদ, বরেণ্য, সুমহান, মহাপ্রসাদ, দমন, শত্ৰুহন্তা, শ্বেতপিঙ্গলবর্ণ, সুবর্ণবর্ণ, পরমাত্মা, প্রতাত্মা, প্রকৃতির আশ্রয়, পঞ্চবক্ত্র, ত্রিনয়ন, সাধারণ ধৰ্ম্মস্বরূপ, শ্রেষ্ঠ, চরাচরাত্মা, সূক্ষ্মাত্মা, নিষ্কাম, ধৰ্ম্মাধিপতি, সাধ্যষি, বসু, আদিত্য, বিবস্থান, সবিতা, সোমরস, বেদব্যাস, সৃষ্টি, সংক্ষেপ, বিস্তর, সর্ব্বব্যাপী, জীবরূপ, ঋতু, সংবৎসর, মাস, পক্ষ, সাঙ্খ্যতীত, কলা, কাষ্ঠা, লব, মাত্রা, মুহূর্ত্ত, দিবা, রাত্রি, ক্ষণ, বিশ্বক্ষেত্র, প্রজাকৰ্ত্তা, মহত্তত্ত্ব, অহঙ্কার, জগতের অঙ্কুর, কাৰ্য্য, কারণ, গ্রাহ্য, অগ্রাহ্য, পিতা, মাতা, পিতামহ, স্বর্গদ্বার, প্রজাদ্বার, মোক্ষদ্বার, ত্রিবিষ্টপ, নিৰ্ব্বাণ, আনন্দকর, ব্ৰহ্মলোক, পরমগতি, দেব, দেবাসুরসৃষ্টিকর্ত্তা, দেবাসুরগতি, দেবাসুরগুরু, দেবাসুরনমস্কৃত, দেবাসুরনিয়ন্তা, দেবাসুরাশ্রয়, দেবাসুরাধ্যক্ষ, দেবাসুরাগ্রগণ্য, দেবাদিদেব, দেবর্ষি, দেবাসুরবরপ্রদ, দেবসুরেশ্বর, ব্ৰহ্মাণ্ড, দেবাসুরপূজ্য, সর্ব্বদেবময়, অচিন্ত্য, দেবতাত্মা, স্বতঃসিদ্ধ, উদ্ভিদ, ত্রিবিক্রম, বিদ্বান, নির্ম্মল, রজোগুণবিহীন, অমরস্তবনীয়, হস্তীশ্বর, ব্যাঘ্নেশ্বর, দেবশ্রেষ্ঠ, নরশ্রেষ্ঠ, বিবুধ, অগ্রবরণীয়, দুর্ল্লক্ষ্য, সৰ্ব্বদেবময়, তপোময়, সুযুক্ত, শোভন, বজ্রধারী প্রাসাস্ত্রের উৎপাদক, অব্যয়, গুহকান্ত, অসাধারণ স্বভাব, পবিত্ৰ, সৰ্ব্বপাবন, বৃষরূপ, পর্ব্বত, শিখরপ্রিয়, শনৈশ্চর, রাজরাজ, নির্দ্দোষ, অভিরাম, দেবগণস্বরূপ, বিরাম, সর্ব্বসাধন, ললাটাক্ষ, বিশ্বদেব, হরিণ, বজ্ৰতেজ, হিমালয়, প্রাপ্তসমাধি, নিত্যসিদ্ধ, নিত্যমুক্ত, অচিন্ত্য, সত্যব্রত, শুচি, ব্ৰতফলদাতা, পরব্রহ্ম, ভক্তদিগের পরমগতি, বিমুক্ত, মুক্ততেজা, শ্রীমান্, শ্রীবর্দ্ধন ও জগৎস্বরূপ বলিয়া অভিহিত হইয়া থাকেন।

শিব-সহস্রনাম-পাঠফল

‘হে বাসুদেব! এই আমি ভূতভাবন ভগবান্ দেবদেবের প্রধান সহস্র নাম উচ্চারণপূর্ব্বক ভক্তিভাবে তাঁহাকে স্তব করিলাম। ব্ৰহ্মাদি দেবতা ও মহর্ষিগণ যাঁহাকে বিশেষরূপে পরিজ্ঞাত হইতে পারেন না, তাঁহাকে স্তবদ্বারা পরিতুষ্ট করা কাহারও সাধ্য নহে। আমি সেই জগদীশ্বরের অনুমতিক্রমে ভক্তিপূৰ্ব্বক তাঁহার স্তব করিলাম। যে ব্যক্তি পবিত্র ও ভক্তিপরায়ণ হইয়া এই পুষ্টিবর্দ্ধন সহস্রনাম উচ্চারণপূর্ব্বক ভগবান ভবানীপতির স্তব করে, সে ব্যক্তি নিশ্চয়ই পরব্রহ্মে লীন হয়। দেবতা ও মহর্ষিগণ এইরূপে সেই সনাতন দেবদেবের স্তব করিয়া থাকেন। মোক্ষপ্রদ ভূতভাবন ভগবান শূলপাণি জিতেন্দ্রিয় মহাত্মাগণকর্ত্তৃক সংস্তুত হইলে পরম পরিতুষ্ট হয়েন। আস্তিক, শ্রদ্ধান্বিত, অতুলতেজঃসম্পন্ন শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিরা কি শয়ন, কি জাগরণ, কি প্রস্থান, কি উপবেশন, কি উন্মেষণ কি নিমেষপরিত্যাগ সকল সময়েই ভক্তিপূৰ্ব্বক কায়মনোবাক্যে সেই সনাতন দেবাদিদেবের স্তব, তাঁহার মাহাত্ম্যশ্রবণ ও অন্যের নিকট উহা কীৰ্ত্তন করিয়া তুষ্টিলাভ করেন।

‘মনুষ্য অসংখ্যজন্ম সংসারমধ্যে নানা যোনিতে পরিভ্রমণ পূৰ্ব্বক পাপবিহীন হইতে পারিলে পরিশেষে শিবভক্তি লাভ করিয়া ক্রমে ক্রমে সেই সৰ্ব্বকারণ সনাতন শশিশেখরের প্রতি একান্ত ভক্তিপরায়ণ হইতে পারে। দেবলোক, মনুষ্যলোক প্রভৃতি সমুদয় লোকেই এইরূপ নির্দ্দোষ পবিত্র ঐকান্তিক শিবভক্তি নিতান্ত দুর্ল্লভ বলিয়া পরিগণিত হয়। ভূতভাবন ভগবান পিনাকপাণি প্রসন্ন হইলেই মানবগণ তাঁহার প্রতি ভক্তিপরায়ণ হইয়া পরম সিদ্ধি লাভ করিতে পারে। যাহারা একান্ত ভক্তিপরায়ণ হইয়া মহেশ্বরের শরণাপন্ন হয়, দীনবৎসল ভগবান ভবানীপতি তাহাদিগকে নিশ্চয়ই সংসারপাশ হইতে বিমুক্ত করেন। দেবদেব মহাদেব ব্যতীত আর কোন দেবতারই মনুষ্যকে সংসার হইতে বিমুক্ত করিবার ক্ষমতা নাই। ইন্দ্রাদি দেবগণ কেবল স্বৰ্গবেশ্যাপ্রেরণ প্রভৃতি অকাৰ্য্যদ্বারা মানবগণের তপোবল বিনষ্ট করিয়া থাকেন। এই নিমিত্তই মহাত্মা তণ্ডি অন্যান্য দেবতার উপাসনায় বিরত হইয়া এইরূপে সেই সময় সনাতন পশুপতির স্তব করিয়াছিলেন।

‘পূৰ্ব্বে সৰ্ব্বলোকপিতামহ ভগবান ব্রহ্মা মহাত্মা মহাদেবের নিকট এই স্তব কীৰ্ত্তন করেন। যাঁহারা ভগবান্ শঙ্করের প্রতি একান্ত ভক্তিপরায়ণ হইয়া তাঁহার এই সৰ্ব্বপাপনাশন স্বর্গ যোগমোক্ষপ্রদ পরমপবিত্র স্তব পাঠ করেন, তাঁহারা নিশ্চয়ই সাঙ্খ্যযোগোক্ত পরমগতি লাভ করিতে সমর্থ হয়েন। শিবভক্তিপরায়ণ মহাত্মারা ভূতভাবন ভগবান দেবদেবের নিকট এক বত্সর এই স্তব পাঠ করিলে অভীষ্ট ফললাভ করিতে পারেন। পূর্ব্বে ভগবান্ ব্রহ্ম আপনার এই পরম রহস্য পবিত্র স্তব ইন্দ্রকে, তৎপরে ইন্দ্র মৃত্যুকে, মৃত্যু রুদ্রগণকে, রুদ্রগণ মহাতপাঃ তণ্ডিকে, তণ্ডি শুক্রাচার্য্যকে, শুক্রাচার্য্য গৌতমকে, গৌতম বৈবস্বত মনুকে, বৈবস্বত মনু নারায়ণকে, নারায়ণ যমকে, যম নাচিকেতকে এবং নাচিকেত মার্কণ্ডেয়কে প্রদান করিয়াছিলেন। পরিশেষে মহাত্মা মার্কণ্ডেয় আমাকে ইহা প্রদান করিয়াছিলেন। এক্ষণে আমি এই আয়ুবৃদ্ধিকর বেদসম্মত পবিত্র স্তব তোমাকে প্রদান করিতেছি। দানব, যক্ষ, রাক্ষস, পিশাচ, গুহ্যক ও ভুজগগণ। কদাচ ইহার বিঘ্ন করিতে সমর্থ হয়েন না; যে ব্যক্তি ব্রহ্মচারী, জিতেন্দ্রিয় ও পবিত্র হইয়া এক বৎসর এই বিশুদ্ধ স্তব পাঠ করেন, তাঁহার অশ্বমেধযজ্ঞের ফললাভ হয়, সন্দেহ নাই।’ ”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *