1 of 4

৪৪. উত্তম বর-নিরূপণ—বিবাহলক্ষণ

৪৪ত্তম অধ্যায়

উত্তম বর-নিরূপণ—বিবাহলক্ষণ

যুধিষ্ঠির কহিলেন, “পিতামহ! কন্যার উপযুক্ত পাত্রের সহিত পরিণয় হওয়াই দেবার্চ্চনা, পিতৃতর্পণ, অতিথিসৎকার ও স্বজনপ্রতিপালন প্রভৃতি সমুদয় ধর্ম্মের মূল। অতএব কিরূপ পাত্রে কন্যা প্রদান করা কর্ত্তব্য, তাহা কীৰ্ত্তন করুন।”

ভীষ্ম কহিলেন, “বৎস! কন্যাকর্ত্তা বরের স্বভাব, বিদ্যা, কুলমৰ্য্যাদা ও কার্য্যের বিষয় বিশেষ পরীক্ষা করিয়া তাহাকে কন্যা সম্প্রদান করিলে ঐ বিবাহকে ব্রাহ্মবিবাহ বলিয়া নির্দ্দেশ করা যায়। ব্রাহ্মবিবাহ ব্রাহ্মণের পক্ষে প্রশস্ত। বরকে ধনদানাদিদ্বারা অনুকূল করিয়া কন্যা প্রদান করিলে ঐ বিবাহ প্রাজাপত্যবিবাহ বলিয়া নির্দ্দিষ্ট হয়। প্রাজাপত্যবিবাহ ব্রাহ্মণ ও ক্ষত্রিয় এই উভয় বর্ণেরই প্রশস্ত। কেবল বর ও কন্যার মতানুসারে যে বিবাহ হয়, তাহাকে গান্ধর্ব্ববিবাহ বলা যায়। বর অধিকসংখ্যক ধনদ্বারা কন্যা ক্রয় অথবা তাহার পরিবারবর্গকে লোভপ্রদর্শন করিয়া যে বিবাহ করে তাহাকে আসুরবিবাহ কহে এবং পরিজনেরা কন্যাপ্রদানে অসম্মত হইলেও পরিণেতা তাহাদিগকে প্রহার বা তাহাদিগের মস্তকচ্ছেদনপুরঃসর বলপূৰ্ব্বক কন্যা হরণ করিয়া যে বিবাহ করে, তাহাকে রাক্ষসবিবাহ বলিয়া নির্দ্দেশ করা যায়। এই পঞ্চবিধ বিবাহের মধ্যে প্রথমোক্ত তিন প্রকার বিবাহ ধার্ঘ্য এবং অবশিষ্ট রাক্ষস আসুর এই দুই প্রকার নিন্দনীয়। ব্রাহ্ম প্রাজাপত্য ও গান্ধর্ব্ব এই তিন প্রকার মিশ্রিত হইলেও নিন্দনীয় হয় না।

“ব্রাহ্মণ ব্রাহ্মণী, ক্ষত্রিয় ও বৈশ্যাকে, ক্ষত্রিয় ক্ষত্রিয়া ও বৈশ্যাকে এবং বৈশ্য কেবল বৈশ্যাকে বিবাহ করিতে পারেন। তন্মধ্যে ব্রাহ্মণের ব্রাহ্মণী এবং ক্ষত্রিয়ের ক্ষত্রিয়া পত্নীই সৰ্ব্বপ্রধান। কেহ কেহ কহেন, ব্রাহ্মণাদি বর্ণত্রয়, কেবল উপভোগের নিমিত্ত শূদ্রাকেও গ্রহণ করিতে পারেন; কিন্তু অনেকে তদ্বিষয়ে নিষেধ করিয়া গিয়াছেন। ফলতঃ ব্রাহ্মণাদি বর্ণত্রয়ের শূদ্রাতে সন্তানোৎপাদন করা সকলের মতেই নিন্দনীয়। ব্রাহ্মণ শূদ্রার গর্ভে অপত্যোৎপাদন করিলে তাঁহাকে প্রায়শ্চিত্ত করিতে হয়।

বিবাহে বয়সাদির দোষাদোষ নির্দ্দেশ

“ত্রিংশদ্‌বর্ষবয়স্ক পাত্র দশবর্ষীয়া এবং বিংশতিবর্ষবয়স্ক পাত্র সপ্তবর্ষীয়া কন্যাকে বিবাহ করিবে। যে কন্যার পিতা ও ভ্রাতা না থাকে, সে তাহার পিতার পুত্রস্থানীয় হইতে পারে, এই আশঙ্কা করিয়া তাহাকে বিবাহ করা বিধেয় নহে। কন্যা ঋতুমতী হইলে তিন বৎসর পর্য্যন্ত বান্ধবগণের মুখাপেক্ষা করা তাহার কর্ত্তব্য। তিন বৎসর অতীত হইলেই সে স্বয়ং স্বামী মনোনীত করিয়া লইতে পারে। যে কন্যা এই নিয়মের অনুবর্ত্তী হয়, তাহার পতির সহিত প্রতি অবিচলিত থাকে ও সন্তানসন্ততি পরিবর্দ্ধিত হয়। আর যে কন্যা এই নিয়মের অন্যথাচরণ করে, তাহাকে নিশ্চয়ই জনসমাজে নিন্দনীয় হইতে হয়। মনুর মতে মাতামহের সপিণ্ড ও পিতার সগোত্র কন্যাকে বিবাহ করা কদাপি বিধেহ নহে।

যুধিষ্ঠির কহিলেন, “পিতামহ! আপনি আমাদিগের চক্ষুঃস্বরূপ। আপনার উপদেশ শ্রবণ করিয়া আমার শ্রবণলালসা পরিবর্দ্ধিত হইতেছে। অতএব যদি প্রথমতঃ এক ব্যক্তি এক কন্যার পাণিগ্রহণার্থ শুল্ক প্রদান, অপর ব্যক্তি, সেই কন্যার বন্ধুবান্ধবগণ পরামর্শ করিয়া তাহাকে কন্যাদান করিব বলিয়া স্থির করাতে সেই কন্যার নিমিত্ত শুল্ক প্রদান করিতে অঙ্গীকার, অন্য ব্যক্তি সেই কন্যার নিমিত্ত বলপ্রকাশ, অপর ব্যক্তি তাহার নিমিত্ত ধনলোভ প্রদর্শন এবং আর এক ব্যক্তি বিধিপূৰ্ব্বক সেই কন্যার পাণিগ্রহণ করে, তাহা হইলে ঐ কন্যা ধৰ্ম্মানুসারে কাহার ভাৰ্য্যা হইবে, তাহা কীৰ্ত্তন করুন।”

ভীষ্ম কহিলেন, “বৎস! ইহলোকে মানবগণ পরস্পর পরামর্শ করিয়া যাহা স্থির করে, তাহার অন্যথা করিলেই তাহাদিগকে পাপে লিপ্ত হইতে হয়। অতএব কন্যার বন্ধুবান্ধবগণ পরস্পর পরামর্শ করিয়া একজনকে কন্যাদান করিতে স্থির করিয়া যদি অন্যকে ঐ কন্যা দান করে, তাহা হইলে তাহাদিগকে অবশ্যই পাপে লিপ্ত হইতে হইবে। কিন্তু যাহাকে কন্যাদান করিব বলিয়া পূৰ্ব্বে স্থির করিয়াছিল, সে কখনই ঐ কন্যার পতি হইবে না। কন্যা পূৰ্ব্বে এক ব্যক্তির ভাৰ্য্যা হইবে বলিয়া অঙ্গীকার করিয়া পশ্চাৎ সেই ব্যক্তির মনোনীত না হওয়াতে যদি তাহাকে প্রত্যাখ্যান করে, তাহা হইলে ঐ কন্যা প্রায়শ্চিত্তদ্বারা পাপ হইতে বিমুক্ত হইতে পারে। আর কেহ কেহ কহেন, ঐরূপ স্থলে কন্যার প্রায়শ্চিত্ত করিবার আবশ্যকতা নাই।

“মনু কহিয়াছেন, যে ব্যক্তি মনোনীত না হয়, তাহার সহবাস করিলে যশ ও ধর্ম্মের হানি হইবার সম্ভাবনা, অতএব অমনোনীত ব্যক্তির সহবাস না করাই শ্রেয়। কন্যার বন্ধুবান্ধব ব্যতীত অন্য ব্যক্তি যদি বিধিপূৰ্ব্বক উহাকে এক পাত্রে সম্প্রদান করে, তাহা হইলে তাহার বন্ধুগণ তাহাকে পাত্ৰান্তরে সম্প্রদান করিতে পারে। আর কন্যার বন্ধুবান্ধবগণ যদি একজনকে কন্যাদান করিব বলিয়া তাহার নিকট কেবল শুল্ক গ্রহণ করে, তাহা হইলেও ঐ কন্যাকে পাত্ৰান্তরে সম্প্রদান করা যায়। ফলতঃ কন্যার বন্ধুবান্ধবগণ মন্ত্রপাঠপূৰ্ব্বক কন্যাদান করিলে, বর যদি মন্ত্রপাঠপূৰ্ব্বক তাহাকে গ্রহণ করিয়া অগ্নিতে আহুতি প্রদান করে, তাহা হইলেই বিবাহ সিদ্ধ হয়। বিবাহকালে বর, কন্যা ও কন্যার বন্ধুবান্ধবগণ মন্ত্রোচ্চারণপূর্ব্বক যে প্রতিজ্ঞা করে, সেই প্রতিজ্ঞাই সর্ব্বাপেক্ষা গুরুতর। লোকে পূর্ব্বতন কর্ম্মানুসারে ভাৰ্য্যালাভ করিয়া থাকে; অতএব যে কন্যার বন্ধুবান্ধব তাহাকে পূর্ব্বে পাত্ৰান্তরে প্রদান করিতে স্বীকার বা তন্নিমিত্ত পাত্ৰান্তর হইতে শুল্ক গ্রহণ করে, সেই কন্যাকে গ্রহণ করিলে গ্রহীতার কিছুমাত্র দুরদৃষ্ট বা লোকনিন্দা হইবার সম্ভাবনা নাই।”

পণ-নিয়মলক্ষণে বিবাহ-দোষাভাব

যুধিষ্ঠির কহিলেন, “পিতামহ! কন্যাকৰ্ত্তা কন্যা প্রদান করিব বলিয়া অগ্রে এক ব্যক্তির নিকট হইতে শুল্ক গ্রহণ করিলে যদি পশ্চাৎ ঐ কন্যার গ্রহণার্থে অন্য একটি শ্রেষ্ঠ বর উপস্থিত হন, তাহা হইলে কন্যাকৰ্ত্তা অগ্রে যাহার নিকট শুল্ক গ্রহণ করিয়াছিলেন। তাহাকে প্রত্যাখ্যান করিতে পারেন কি না? এরূপ স্থলে কিরূপ কার্য্যের অনুষ্ঠান করিলে কন্যাকৰ্ত্তার শ্ৰেয়োলাভ হইতে পারে, তাহা পরিজ্ঞাত হইতে আমার নিতান্ত বাসনা হইতেছে। অতএব আপনি উহা সবিস্তর কীৰ্ত্তন করিয়া আমার চিত্ত পরিতৃপ্ত করুন।”

ভীষ্ম কহিলেন, “ধৰ্ম্মরাজ! শুল্কই স্ত্রীত্বনিশ্চয়কর, এই বিবেচনা করিয়া ক্রেতা শুল্ক প্রদান করে না, শুল্ক কন্যার নিষ্ক্রয় [গার্হস্থ্য রক্ষার উপায়দানত্বের পুরস্কার] বলিয়াই তৎকালে তাহার দৃঢ়বিশ্বাস থাকে। অতএব এক ব্যক্তির, নিকট শুল্ক গ্রহণ করিলে তাহাকে কন্যাদান করা হয় না। যদি কোন ব্যক্তি বরকে আহ্বানপূর্ব্বক ‘তুমি আমার এই কন্যাকে অলঙ্কৃত করিয়া ইহার পাণিগ্রহণ কর’ এইরূপ অনুরোধ করে, আর যদি ঐ বর সেই কন্যাকে অলঙ্কারাদি প্রদানপূর্ব্বক বিবাহ করে, তাহা হইলে ঐ স্থলে অলঙ্কারাদি দানকে শুল্ক ও অলঙ্কারাদি লইয়া কন্যাদানকে কন্যাবিক্রয় বলিয়া নির্দ্দেশ করা যায় না। অলঙ্কারাদি লইয়া কন্যাদান করাও শাস্ত্রসঙ্গত। লোকে ‘অমুককে কন্যাদান করিব, কখনই অমুককে কন্যাদান করিব না এবং অমুককে অবশ্যই দান করিব’ বলিয়া যে সত্য করে, তদ্বারা কখনই বিবাহ সিদ্ধ হয় না। ফলতঃ যে পর্য্যন্ত না কন্যার পাণিগ্রহণকার্য্য সুসম্পন্ন হয়, তদবধি একজনের নিকট পণ লইয়া পাত্ৰান্তরে কন্যা দান করিলে কন্যাপহারদোষে [কন্যাচুরির দোষে] লিপ্ত হইতে হয় না। দেবগণও কন্যাপ্রদানস্থলে এইরূপ ব্যবহার করিয়া থাকেন। মহর্ষিদিগের এইরূপ শাসন আছে যে, অনভিলষিত ব্যক্তিকে কদাচই কন্যাপ্রদান করিবে না। কারণ, ঐরূপ অনভিলষিত পুরুষের ঔরসে যে সন্তান উৎপন্ন হয়, সে অবশ্যই অপ্রীতিকর হইয়া উঠে। কন্যা ক্রয়বিক্রয়নিবন্ধন বহুতর দোষ উৎপন্ন হইয়া থাকে; অতএব শুষ্ককে স্ত্রীত্বনিশ্চয়কর বলিয়া প্রতিপন্ন করা বিধেয় নহে।

পাণিগ্রহণে বিবাহসিদ্ধি

“পূর্ব্বে আমি মগধ, কাশী ও কোশলদেশসমুদয় পরাজয় করিয়া মহারাজ বিচিত্রবীর্য্যের নিমিত্ত দুইটি কন্যা আনয়ন করিয়াছিলাম। বিচিত্রবীর্য্য তাহাদের মধ্যে একটির পাণিগ্রহণ করিলেন। দ্বিতীয়টি বীর্য্যনির্জ্জিত বলিয়া তাহার পাণিগ্রহণ না করিয়াই পত্নীত্বসিদ্ধির কল্পনা করিলেন। তখন আমার পিতৃব্য বাহ্লীক তদ্বিষয়ে প্রতিরোধ করিয়া কহিলেন, পাণিগ্রহণ না করিলে পত্নীত্ব সিদ্ধ হয় না; অতএব যে কন্যাটির পাণিগ্রহণ করা হয় নাই, তাহাকে অচিরাৎ পরিত্যাগ কর। তখন আমি পিতৃব্যের বাক্যে অতিশয় সন্ধিহান হইয়া তাঁহাকে সম্বোধনপূৰ্ব্বক কহিলাম, ‘হে পিতৃব্য! আমি আপনার নিকট আচারের বিষয় সবিশেষ জ্ঞাত হইতে অভিলাষী হইয়াছি।’ ধর্ম্মপরায়ণ মহারাজ বাহ্লীক আমার বাক্য শ্রবণে আমার অভিপ্রায় অবগত হইয়া কহিলেন, ‘বৎস! যদি তোমরা পাণিগ্রহণকে ভাৰ্য্যাত্বসিদ্ধির কারণ না বলিয়া শুল্ককে ভাৰ্য্যাত্বসিদ্ধির কারণ বলিয়া নির্দ্দেশ কর, তাহা হইলে শাস্ত্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়। শাস্ত্রে নির্দ্দিষ্ট আছে, পাণিগ্রহণ না করিলে কদাচই ভাৰ্য্যাত্বসিদ্ধি হয় না। ধৰ্ম্মজ্ঞ বিজ্ঞেরা কহিয়া থাকেন, যাহারা পাণিগ্রহণ ব্যতীত শুল্কপ্রদানকেই ভাৰ্য্যাত্বসিদ্ধি কারণ বলিয়া গণনা করে, তাহাদিগের বাক্য নিতান্ত অশ্রদ্ধেয়। আর দেখ, কন্যাদানদ্বারা ভাৰ্য্যাত্ব সিদ্ধ হয়, ইহাই লোকপ্রসিদ্ধ, কিন্তু কন্যাক্রয় বা বিক্রয় করিয়া ভাৰ্য্যাত্ব সিদ্ধ হইয়াছে, ইহা কখনই শ্রবণ করি নাই। অতএব যাহারা ক্রয়বিক্রয় ভাৰ্য্যাত্বসিদ্ধির নিদান বলিয়া ব্যবস্থা প্রদান করে, তাহাদিগকে কোনক্রমেই ধাৰ্ম্মিক বলিয়া গণনা করা যাইতে পারে না। যাহাদিগের এইরূপ সিদ্ধান্ত, তাহাদিগকে কন্যাদান করা কর্ত্তব্য নহে। আর যে কন্যা অর্থাদিদ্বারা ক্রীত, তাহার পাণিগ্রহণ করাও প্রশস্ত নহে। যখন ক্রীতা কন্যার পাণিগ্রহণ অপ্রশস্ত বলিয়া নির্দ্দিষ্ট হইতেছে, তখন কন্যা ক্রয় ও বিক্রয় নিতান্ত নিষিদ্ধ, সন্দেহ নাই। যাহারা দাসী ক্রয় ও বিক্রয় করে, কন্যাক্রয় ও বিক্রয় করা সেই লুব্ধস্বভাব পামরদিগের কার্য্য।

সপ্তপদীগমনে বিবাহের সম্পূর্ণ সিদ্ধি

“একদা কয়েক ব্যক্তি মহারাজ সত্যবানের সন্নিধানে গমনপূৰ্ব্বক জিজ্ঞাসা করিয়াছিল, ‘মহারাজ! একজন কন্যাগ্রহণ করিবার নিমিত্ত শুল্ক প্রদান করিয়া যদি কলেবর পরিত্যাগ করে, তাহা হইলে ঐ কন্যাকে অন্য সৎপাত্রে সমর্পণ করা যায় কি না? আমাদিগের এই বিষয়ে অতিশয় সংশয় উপস্থিত হইয়াছে, আপনি উহা নিরাকরণ করুন।’ তখন ধর্ম্মপরায়ণ সত্যবান্ তাহাদের বাক্য শ্রবণ করিয়া কহিলেন, ‘হে সজ্জনগণ! শুল্কপ্রদাতা জীবিত থাকিলে ঐ উৎকৃষ্ট পাত্র উপস্থিত হইলে তাহাকে অবিচারিতচিত্তে কন্যাসম্প্রদান করা কর্ত্তব্য। যখন শুল্কপ্রদাতা জীবিত থাকিতেও এইরূপ ব্যবহার করিতে পারে, তখন তাহার মৃত্যু হইলে যে পাত্ৰান্তরে কন্যাদান করিবে, তাহার আর সংশয় কি? কন্যাকৰ্ত্তা কন্যাকে এক পাত্রে সমর্পণ করিবার অভিলাষে তাহার পাণিগ্রহণের পূর্ব্বে পাণিগ্রহণার্থ অবান্তর কার্য্য অনুষ্ঠান করিয়াও যদি অন্যের হস্তে তাহাকে সমর্পণ করেন, তাহা হইলে তাঁহাকে কখনই দোষে লিপ্ত হইতে হয় না; কেবল মিথ্যাবাক্যপ্রয়োগ দোষে দূষিত হইতে হয়। ফলতঃ সপ্তপদীগমন [বিবাহ হোমের একটি বিশেষ অঙ্গ] হইলেই বিবাহ সিদ্ধ হইয়া থাকে। যাহাকে জলপ্রদানপূৰ্ব্বক কন্যাদান করা যায় এবং যে বিধিপূৰ্ব্বক কন্যার পাণিগ্রহণ করে, কন্যা তাহারাই ভাৰ্য্যা হয়। ব্রাহ্মণ অনুকুলা সদবংশোদ্ভবা অগ্নিসমীপবর্ত্তিনী কন্যাকে সপ্তপদীগমনপূৰ্ব্বক বিবাহ করিবেন।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *