1 of 4

২৮. মতঙ্গের তপস্যায় অনধিকার

২৮তম অধ্যায়

মতঙ্গের তপস্যায় অনধিকার

ভীষ্ম কহিলেন, “দেবরাজ ইন্দ্র এইরূপ কহিলে ব্রতচারী মতঙ্গ তাঁহার বাক্যে তপস্যায় বিরত না হইয়া একশত বৎসর একপদে দণ্ডায়মান রহিলেন। তখন পুরন্দর পুনরায় তাঁহার নিকট আগমনপূর্ব্বক তাঁহাকে সম্বোধন করিয়া কহিলেন, বৎস! ব্রাহ্মণ্য নিতান্ত দুর্ল্লভ। তুমি উহা লাভ করিতে চেষ্টা করিয়া নিশ্চয়ই কালকবলে নিপতিত হইবে। তথাপি আমি তোমাকে বারংবার নিষেধ করিতেছি, তুমি ব্রাহ্মণ্যলাভের বাসনা করিও না। তুমি সহস্র চেষ্টা করিলেও কোনক্রমেই উহা লাভ করিতে পারিবে না। জীব তীর্য্যগযোনি হইতে মনুষ্যত্ব লাভ করিয়া প্রথমতঃ পুক্কশ বা চণ্ডালযোনিতে উৎপন্ন হইয়া সহস্র বৎসর সেই নিকৃষ্টযোনিতে পরিভ্রমণপূর্ব্বক শূদ্ৰতা লাভ করে। তৎপরে ত্রিংশৎসহস্র বৎসর অতীত হইলে তাহার বৈশ্যতা, বৈশ্যত্বলাভের পর একলক্ষ অশীতি বৎসর অতীত হইলে তাহার ক্ষত্রিয় ও ক্ষত্রিয়ত্বলাভের পর একশত অশীতি লক্ষ বৎসর অতীত হইলে পতিত ব্রাহ্মণত্ব লাভ হয়। তৎপরে সে সেই পতিত ব্রাহ্মণকুলে দ্বিশতমোড়শ কোটি বৎসর পরিভ্রমণ করিয়া অস্ত্রজীবী ব্রাহ্মণের কুলে, তৎপরে চতুঃষষ্টি সহস্র অষ্টশত কোটি বৎসর অতীত হইলে গায়ত্রীসেবী ব্রাহ্মণবংশে একবার, পরিশেষে ঐ বংশে দুইশত উনষষ্টি লক্ষ বিংশতি সহস্র কোটি বৎসর পরিভ্রমণ করিয়া শ্রোত্রিয়গৃহে জন্মপরিগ্রহ করে ঐ শ্রোত্রিয়বংশে পরিভ্রমণের সময় হর্ষ, শোক, কাম, দ্বেষ, অভিমান ও বৃথা বাগ্বিতণ্ডা তাহাকে আক্রমণ করে। ঐ সময় যদি সে হর্ষশোকাদি শত্রুগণকে পরাস্ত করিতে পারে, তাহা হইলেই তাহার সদগতিলাভ হয়, আর যদি সে ঐ সকল শত্রুর বশীভূত হয়, তাহা হইলে এককালে তাহার অধোগতিলাভ হইয়া থাকে। হে মতঙ্গ। এক্ষণে আমি তোমার নিকট যে কথা কীৰ্ত্তন করিলাম, ইহা বিলক্ষণ হৃদয়ঙ্গম করিয়া অন্য অভীষ্ট বর প্রার্থনা কর। ব্রাহ্মণ্যলাভের লোভ করা তোমার পক্ষে নিতান্ত কঠিন।’ ”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *