1 of 4

২৪. ব্রহ্মহত্যাতুল্য পাপজনক কাৰ্য্য

২৪তম অধ্যায়

ব্রহ্মহত্যাতুল্য পাপজনক কাৰ্য্য

যুধিষ্ঠির কহিলেন, “পিতামহ! ব্রাহ্মণবিনাশ ব্যতীত আর কোন্ কোন্ কাৰ্য্য করিলে ব্রহ্মহত্যাপাপে লিপ্ত হইতে হয়, আপনি তাহা সবিস্তরে কীৰ্ত্তন করুন।”

ভীষ্ম কহিলেন, “ধৰ্ম্মরাজ! পূৰ্ব্বে আমি পরাশরসুত মহর্ষি ব্যাসকে আমন্ত্রণপূর্ব্বক যাহা জিজ্ঞাসা করিয়াছিলাম এবং তিনি আমাকে যাহা উত্তর প্রদান করিয়াছিলেন, তাহা তোমার নিকট কীৰ্ত্তন করিতেছি, তুমি অনন্যমনে শ্রবণ কর। একদা আমি ব্যাসের সন্নিধানে গমনপূৰ্ব্বক তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিলাম, ‘ভগবন্! আপনি মহর্ষি বশিষ্ঠের প্রপৌত্র; এক্ষণে জিজ্ঞাসা করি, ব্রাহ্মণবিনাশ ব্যতীত আর কোন্ কোন্ কাৰ্য্যপ্রভাবে ব্রহ্মহত্যাপাপ জন্মিতে পারে, আপনি তাহা যথার্থরূপে কীৰ্ত্তন করুন।’ আমি এই কথা জিজ্ঞাসা করিলে, ধর্ম্মপরায়ণ মহর্ষি ব্যাস আমাকে কহিলেন, ‘শান্তনুতনয়! যে ব্যক্তি গুণবান্ ব্রাহ্মণকে ভিক্ষাপ্রদানার্থ স্বয়ং আহ্বান করিয়া ভিক্ষাপ্রদানোপযোগী দ্রব্য নাই বলিয়া প্রত্যাখ্যান করে; যে নির্দ্দোষ সার্ঙ্গবেদাধ্যায়ী উদাসীন ব্রাহ্মণের বৃত্তিচ্ছেদ করে; যে ব্যক্তি তৃষ্ণার্ত্ত গোসমূহের সলিপানের বিঘ্নসম্পাদনে প্রবৃত্ত হয়; যে নরাধম অনভিজ্ঞতাদোষে শ্রুতি ও মহর্ষিপ্রণীত শাস্ত্র দূষিত করে; যে ব্যক্তি আপনার সর্ব্বাঙ্গসুন্দরী কন্যাকে অনুরূপ পাত্রের হস্তে সমর্পণে পরাঙ্মুখ হয়; যে অধর্ম্মপরায়ণ মূঢ় ব্রাহ্মণকে অকারণ মৰ্ম্মভেদী দুঃখ প্রদান করে; যে ব্যক্তি চক্ষুহীন, জড় ও মহা পঙ্গু ব্যক্তির সর্ব্বস্বাপহরণে প্রবৃত্ত হয় এবং যে নরাধম বন, আশ্রম, পুর ও গ্রামমধ্যে অগ্নিপ্রদান করে, তাহাদের সকলকেই ব্রহ্মঘাতী বলিয়া নির্দ্দেশ করা যায়।’ ”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *