অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ৩ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
ফ্ল্যাপের লেখা
ভিয়েতনামের এক হ্রদ। পাহাড় আর জঙ্গলে ঘেরা, স্থানীয় উপজাতি অধ্যুষিত। তাদের আরাধ্য এক দানবীয় কচ্ছপ। লোকশ্রুতি সেই কচ্ছপের খোল সোনার। বছরের এক নির্দিষ্ট দিনে তাদেরকে দর্শন দেন সেই সোনার জলদেবতা।
কিংবা মালয় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের দিগন্তবিস্তৃত সেই রবার গাছের বন। যে সব শ্রমিকরা সেই রবার বাগিচাতে ‘ট্যাপ’ অর্থাৎ রস সংগ্রহ করতে যায় তারা অনেকেই নাকি দূর থেকে অথবা খুব কাছ থেকে দেখেছে এক বা একাধিক লোমশ প্রাণীকে।
জার্মানির কুখ্যাত ‘ডাকাউ ক্যাম্প।’ এক সময় হিটলারের বন্দি শিবির। যেখানে হাজার হাজার মানুষকে ফুয়েরারের নির্দেশে গ্যাস চেম্বার বা মেশিনগানের সামনে দাঁড় করিয়ে হত্যা করা হত।
অথবা ‘হিউম্যান জ্যু’। মানুষের চিড়িয়াখানা। মানবতার চূড়ান্ত অপমান যেখানে সংগঠিত হত। মাসাই, পিগমি, রেড ইন্ডিয়ান, এস্কিমো, এমনকী ভারতীয়দেরও পশুর মতো খাঁচাবন্দি করে দর্শনার্থীদের প্রদর্শন করা হত।
সমুদ্র শুধু সুন্দর নয়, কোনো কোনো সময় ভয়ঙ্করও বটে। সামুদ্রিক ঝড় ভয়ঙ্কর তো বটেই তার থেকেও বেশি ভয়ঙ্কর জলদস্যুরা। তবে তারা প্রাচীন ভিক্টোরীয় যুগের জলদস্যুদের মতো আদ্দিকালের পারকাসন পিস্তল নিয়ে আজকাল ঘোরে না। তাদের হাতে এখন অত্যাধুনিক কারবাইন।
পাঁচটি বিচিত্র পটভূমিতে পাঁচটি শিহরন জাগানো উপন্যাস এক মলাটে …
.
শ্রাবণী গুপ্ত সরকার
ও
কমলকৃষ্ণ মল্লিক
—কে
.
ভূমিকা
‘অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র’, ‘অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র-২’-এর পর পাঠকরা আগের দুটি অ্যাডভেঞ্চার সমগ্রকে ভালোবেসে গ্রহণ করেছেন বলে এই ‘অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র-৩ আবারও তাঁদের হাতে তুলে দেবার প্রচেষ্টা।
বলা বাহুল্য আগের দুটো খণ্ডর মতো এ বইতেও উপন্যাসের সংখ্যা পাঁচ এবং ‘সুদীপ্ত- হেরম্যান’ যার ‘প্রফেসর জুয়ান-দীপাঞ্জন ও এ বইতে আগের মতোই হাজির তাদের অ্যাডভেঞ্চার নিয়ে। ক্রিপ্টোজুলজিস্ট হেরম্যান আর সুদীপ্তর এবারের প্রথম অভিযান ভিয়েতনামের পার্বত্য অঞ্চলে সোনার কচ্ছপের খোঁজে। তোমরা জানই তো যে পৃথিবীর নানা প্রান্তে, কখনো তুষার ধবল পাহাড় চূড়ায়, অন্ধকার গভীর জঙ্গলে এমনকী মরুভূমি বা গভীর সমুদ্রে পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাওয়া অথবা নানা অদ্ভুত প্রাণীর সন্ধানে ঘুরে বেড়ায়। তাদের নিয়ে এ বইয়ের প্রথম উপন্যাস ‘কূর্ম দেবতার কামড়’ প্রকাশিত হয়েছিল শারদীয়া ‘শুকতারা’তে। এ বইতে সুদীপ্ত হেরম্যানের দ্বিতীয় কাহিনির নাম ‘মালয় বনের আতঙ্ক’। উপন্যাসের নাম শুনেই বুঝতে পারছ যে ভিয়েতনাম থেকে ফিরে এসেই আবার তাদের ছুটতে হয়েছিল এক নতুন অ্যাডভেঞ্চারে মালয়ের জঙ্গলে। সেখানে রবার বলে নাকি একধরনের লোমশ মানুষ থাকে! তারা কি মানুষের পূর্বপুরুষ? লেখাটি প্রকাশ পেয়েছে ‘মায়াকানন’ শারদ সংখ্যাতে। ইতিহাস গবেষক প্রফেসর জুয়ান আর তার সঙ্গীর বেড়াবার জায়গা হিসাবে পছন্দ ঐতিহাসিক জায়গাগুলো। অতীত যেখানে কথা বলে, নানা রহস্যময় গন্ধ শোনায়। কিন্তু জুয়ান-দীপাঞ্জনকে নিয়ে যেখানেই যান না কেন, সেখানে গিয়েই জড়িয়ে পড়েন কোনো না কোনো ভয়ঙ্কর ঘটনায়, দুর্ধর্ষ অ্যাডভেঞ্চারে। এবার তাদের যেতে হয়েছিল জার্মানি, আর বেলজিয়ামে। এ জায়গা দুটো হয়তো রোমের কলসিয়াম বা শেরউড বনের মতো অত প্রাচীন নয়। জার্মানির ‘ডাকাউ কনসেন্ট্রশন ক্যাম্প’ আর বেলজিয়ামের হিউম্যান জ্যু’তে। মেরেকেটে এ জায়গা দুটোর বয়স একশো বছর হবে। কিন্তু সভ্য পৃথিবীর ইতিহাসে এ জায়গা দুটোর মতো ভয়ঙ্কর কুখ্যাত জায়গা বিরল। প্রথম জায়গাতে হিটলার গ্যাস চেম্বারে ঢুকিয়ে হাজার হাজার মানুষকে খুন করেছিলেন এ ঘটনা হয়তো জানো। কিন্তু দ্বিতীয় জায়গাটা তোমাদের কাছে হয়তো নতুন লাগবে। যেখানে মানুষের চিড়িয়াখানা বানিয়ে ছিল তথাকথিত সভ্য ইউরোপীয়রা। আফ্রিকার কালো মানুষ, আমেরিকার রেড ইন্ডিয়ান, এমনকী ভারতীয়দেরও পশুর মতো খাঁচাবন্দি করে রাখত। দর্শকরা তাদের দেখতে আসত টিকিট কেটে! জুয়ান ও দীপাঞ্জনকে নিয়ে এই বইয়ের তৃতীয় ও চতুর্থ উপন্যাস ‘ডাকাউ ক্যাম্পের বন্দি’ ও ‘ঈগলের পালকে রক্তের দাগ’।—এ দুটো লেখাই প্রকাশিত হয় ‘আমপাতা জামপাতা’র শারদ সংখ্যাতে।
এই বইয়ের শেষ চমক পঞ্চম তথা শেষ উপন্যাসটি। ব্যাপ্তি ও বিষয় বৈচিত্রেও দীর্ঘ ‘কালোটিয়ার দ্বীপে’। না এ কাহিনি ‘সুদীপ্ত-হেরম্যান’ বা ‘জুয়ান-দীপাঞ্জনের’ অ্যাডভেঞ্চার উপন্যাস নয়। জলদস্যুদের নিয়ে লেখা উপন্যাস। যার নায়ক বাঙালি যুবক ধ্রুব জাহাজের রেডিও অপারেটরের কাজ নিয়ে এডেন বন্দরে গিয়ে জড়িয়ে পড়ে জলদস্যুদের সাথে। আধুনিক সোমালীয় জলদস্যু থেকে পারকাসন পিস্তল হাতে প্রাচীন জলদস্যুদের কাহিনি। সবার কাহিনি ধরা আছে এ উপন্যাসে। আর জলদস্যু মানেই তো গুপ্তধনের গন্ধ। যার খোঁজে ধ্রুব পৌঁছে যায় ‘কালোটিয়ার দ্বীপে’।
অ্যাডভেঞ্চার সমগ্রর প্রথম দুটি খণ্ডর মতো তোমরা এ বইটিকেও নিজের করে নিলে কৃতজ্ঞ থাকব।
পরিশেষে কৃতজ্ঞতা জানাই দে’জ পাবলিশিং-এর অন্যতম কর্ণধার শ্রী শুভঙ্কর দে-কে। যাঁর অকুণ্ঠ সহযোগিতা ও ভালোবাসায় প্রকাশিত হল ‘অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র-৩’।
হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
৫ নভেম্বর, ২০১৭






Himadri kishore Dasgupta জাদুকর সত্যচরণ অশরীরী শরীর boi ta upload korun
Sayantani Putatutnder lekha ‘Mithridatis’, ‘Erano Jay Na 2 & 3 and Indranil Sanyal er lekha ‘Medical Thriller’ ei koyekti boi upload korar onurodh roilo. Pls ei boi gulo parle upload korun
সম্ভব হলে সায়ন্তনী পুততুন্ডের অধিরাজ সিরিজের নতুন গল্প আপলোড করবেন প্লিজ।
I like these app
I want to read this book.