Bangla Jokes - বাংলা জোকস

বাংলা কৌতুক ও হাসির গল্প

সূচীপত্র

বেইমানি

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ লাগার খবর শুনে এক বুড়ো শিখ মেজর জিজ্ঞেস করলেন, ‘কে কার বিরুদ্ধে লড়ছে?’ ‘ইংরেজ-ফরাসি জার্মানির বিরুদ্ধে।’ সর্দারাজী আপসোস করে বললেন, ফরাসি হারলে দুনিয়া থেকে সৌন্দর্যের চর্চা উঠে যাবে আর জমনি হারলেও বুরি বাৎ, কারণ জ্ঞানবিজ্ঞান কলাকৌশল মারা যাবে।’...

গুরুদেবের ক্ষতি

গুরুদেবের ক্ষতি ১৩৪৪ সালে বিচিত্ৰা পত্রিকার শ্রাবণ সংখ্যায় রবীন্দ্ৰনাথ সাহিত্য ধর্ম নামে একটি প্ৰবন্ধ লেখেন। তৎকালীন পাঠক সমাজে প্ৰবন্ধটি আলোচনার কেন্দ্ৰবিন্দু হয়ে ওঠে। এমনই এক আলাপ আলোচনা চলতে থাকে ভারতবর্ষ পত্রিকার অফিসে। রয়েছেন কয়েকজন সাহিত্যিক ও কর্মীরা। আলোচনার...

জলধর কথা

জলধর কথা ভারতবর্ষ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন সাহিত্যিক জলধর সেন। ১৩৪১ সালে তার ৭৫ তম জন্মদিনে দেশবাসীর পক্ষ থেকে তাকে অভিনন্দন জানানো হয়। এই উপলক্ষে . ঐ সময় জলধর কথা নামে একটি পুস্তিকা প্রকাশিত হয়। পুস্তিকায় লেখেন বাংলার বিখ্যাত লেখক-লেখিকারা। ব্ৰজমোহন দাসের ওপর পড়েছিল...

ভাত

ভাত প্রখ্যাত নাট্যকার-কবি দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের জন্মভূমি কৃষ্ণনগর। ১৩৪১ সালের ১০ আশ্বিন, সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কৃষ্ণনগরে গেছেন বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের নদীয়া শাখার বার্ষিক সম্মেলনে সভাপতিত্ব করতে। দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের পুত্ৰ দিলীপকুমার ছিলেন শরৎচন্দ্রের বিশেষ...

খদ্দর

খদ্দর শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছিলেন প্ৰাদেশিক কংগ্রেস কমিটির সদস্য। একবার বঙ্গীয় প্ৰাদেশিক কমিটির অফিসে কংগ্রেসের এক বিরাট সভা বসে। সেই সভায় হাজির আনিলবরণ রায়, শরৎচন্দ্ৰ বসু প্রমুখ। কংগ্ৰেসকমীরা মনে করতেন। চরকা কাঠা ও খন্দর পরা প্রত্যেক কংগ্রেস কর্মীর অবশ্য কর্তব্য।...

আফিং এবং মিষ্টি

আফিং এবং মিষ্টি শরৎচন্দ্র একদিন লেখা দিতে এসেছেন ভারতবর্ষ পত্রিকার অফিসে। সেই সময় অফিসে ছিলেন না পত্রিকার সত্ত্বাধিকারী হরিদাস চট্টোপাধ্যায় কিংবা তার ছোট ভাই সুধাংশুশেখর চট্টোপাধ্যায়। তাঁরা বাড়ি চলে গিয়েছিলেন। শরৎচন্দ্ৰ লেখার পাণ্ডুলিপি জমা দিয়ে নানারকম গল্প করছেন...

নাম বিভ্ৰাট

নাম বিভ্ৰাট তখন সাহিত্য ক্ষেত্রে শরৎচন্দ্রের খুব নাম। শ্ৰীকান্ত, দেবদাস প্রভৃতি বই হট কেক। সেই সময় শরৎচন্দ্ৰ চট্টোপাধ্যায় নামে আর এক লেখকের আবির্ভাব হয়। এই শরৎচন্দ্ৰ চাদমুখ হিরের ফুল প্রভৃতি গ্রন্থের রচয়িতা এবং গল্পলহরী পত্রিকার সম্পাদক। স্বভাবতই দুই শরৎচন্দ্রের...

থামতে জানেন

থামতে জানেন শরৎচন্দ্র ছিলেন একজন সংগীতপ্ৰেমী। তার সংগীতপ্রেমের কথা কারো অজানা ছিল না। কাছে পিঠে কোথাও গানের আসর বসলে তার নিমন্ত্রণ হতো। একবার দিলীপকুমার রায়ের কলকাতার বাড়িতে আয়োজন করা হয়েছে সংগীত সম্মেলন। সেই আসরে গান গাওয়ার কথা বিখ্যাত সংগীতশিল্পী আবদুল করিম...

জ্যোতিষী বলেছেন

জ্যোতিষী বলেছেন একবার শরৎচন্দ্ৰ গেছেন রেঙ্গুনে গভর্নমেন্ট হাউসে। সঙ্গে ছিলেন লটপ্রাসাদের কস্ট্রোলার। কস্ট্রোলারকে শরৎচন্দ্ৰ বিশেষ স্নেহ করতেন। শরৎচন্দ্র বলরুমে প্ৰবেশ করে বিলিতি ঢঙে একটু নেচে নিলেন। তারপর উপরে শয়নকক্ষে প্রবেশ করে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন শয়ন শয্যায় কিছুক্ষণ...

মজার আয়না

মজার আয়না শরৎচন্দ্র একবার সবান্ধব নিমন্ত্রিত হয়ে গেছেন চন্দননগরের হরিহর শেঠের বাড়িতে। হরিহর ছিলেন ধনী, সদাশয়, মহানুভব ব্যক্তি। তাঁর বাড়ি ঠিক যেন রাজপ্রাসাদ। । ঘরে দামী আসবাবপত্র, ঘর সাজানোর জিনিস। অতিথিরা ঘুরে দেখছেন। একটি হল ঘরে বিপরীতমুখী দুটি দেওয়ালে দুটি বিশাল...

ঘড়ি

ঘড়ি শরৎচন্দ্র একবার হোয়াইট এ ওয়ে লোডেল কোম্পানীর সেলে তিন টাকা পনের আনায় একটি হাত ঘড়ি কিনেছিলেন। কেনার পর ঘড়িটা পুবার মেরামত করতে হয়। তৃতীয়বার ঘড়িটি খারাপ হলে তিনি একগ্লাস কেরোসিন তেলে ঘড়িটি ডুবিয়ে রাখেন। আশ্চর্য! ঘড়িটি এর ফলে ঠিক হয়ে যায়। এর পর থেকে যখনই কারো ঘড়ি...

কেমন ঠকালাম

কেমন ঠকালাম শরৎচন্দ্র তার ভাগ্না-ভাগ্নীদের সঙ্গে খুব মজা করতেন। একবার তিনি তাঁর স্নেহের ভাগ্নী পারুললতাকে মজা করে বলেন, এই পারু, তুই এখানে বসে আছিস, ওদিকে আশালতা আমাকে খুব বড়ো একটা মাছের মুড়ো খেতে দিয়েছে। যা গিয়ে দেখে আয়। একথা শুনে দৌড় লাগাল পারুললিতা, গিয়ে দেখল। সব...

বিপরীতগামী ট্রেন

বিপরীতগামী ট্রেন শরৎচন্দ্র যখন পেগুতে উকিল মিঃ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে ছিলেন তখন পেগু একজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার অফিসে দু-তিন মাস অস্থায়ীভাবে চাকুরি করেন। এই সময় তিনি মাঝে মাঝে যাতায়াত করতেন রেঙ্গুনে। তিনি ছিলেন। আপাদমস্তক ভবঘুরে। সবসময় তাঁর মধ্যে একটা উদাসভাব দেখা যেত।...

সভাপতি

সভাপতি শরৎচন্দ্ৰ কোনো সাহিত্যসভায় গিয়ে গভীরমুখে বসে থাকতে পারতেন না। ভক্তবৃন্দের আমন্ত্রণে তাঁকে প্রায়ই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করতে হত। তিনি মঞ্চের ওপর ফরাসে শ্রেষ্ঠ আসনে বসে হয় এদিক সেদিক তাকাচ্ছেন, নাহলে হাঁটুর ওপর হাতের আঙুলগুলো বা পা নাচাচ্ছেন। কখনো বা...

মামা না জ্যাঠা

মামা না জ্যাঠা শরৎচন্দ্র একদিন বন্ধু-আত্মীয়দের সঙ্গে সদর ঘরে গল্পগুজব করছেন। কথার মাঝে সুখটান দিচ্ছেন্ন গড়গড়ায়। হঠাৎ তিনি রাধারানী দেবীকে হাসতে হাসতে বললেন, হ্যাঁরে শোন, নরেন তো আমাকে শরৎদা বলে, তুই বলিস বড়দা। তোদের সস্তানরা আমাকে কী বলে ডাকবে ভেবে দেখেছিস? মামা না...

পুরাতন লাঠি

পুরাতন লাঠি কবিশেখর কালিদাস রায়ের আমন্ত্রণে শরৎচন্দ্ৰ মাঝেমাঝেই রবিবার সন্ধ্যায়। রাসচক্র-এর সাহিত্যসভায় যোগ দিতেন। তার হাতে থাকতো একটা অত্যস্ত পুরাতন শ্ৰীহীন লাঠি। অনেকেই রসিকতা করে তাঁকে বলতেন, শরৎবাবু, এবার এই লাঠিটা ফেলে দিয়ে একটা ভদ্রগোছের লাঠি ব্যবহার করুন দিকি?...

মঠের বেয়াড়া নিয়ম

মঠের বেয়াড়া নিয়ম শরৎচন্দ্র একবার রেঙ্গুনে রামকৃষ্ণ মিশনের স্বামীজী স্বামী রামকৃষ্ণানন্দ ওরফে শশী মহারাজের সঙ্গে দেখা করতে যান। কথাবার্তার মধ্যে শরৎচন্দ্ৰ স্বামীজীর কাছে জানতে চান, মহারাজ, আপনাদের এখানে সন্ন্যাসী হবার কী নিয়ম? স্বামীজী উত্তরে বলেন, মঠের সন্ন্যাসী হতে...

ভবঘুরে ও রাজলক্ষ্মী

ভবঘুরে ও রাজলক্ষ্মী শরৎচন্দ্র ছিলেন একজন আপাদমস্তক ভবঘুরে। নিয়ম মেনে চলা তার পছন্দ হত না। তিনি রেঙ্গুন থেকে শিবপুরে আসার আগে কয়েকবার একটি সুন্দরী রমনীকে নিয়ে তাঁর এক আত্মীয়ের বাড়ি যান। তার সঙ্গে থাকতো একটি বাঁশের আড় বাঁশি ও একটি হারমোনিয়াম। এই নিয়ে শরৎচন্দ্র খুব মজা...

ব্যাকরণ কৌমুদী পড়া

ব্যাকরণ কৌমুদী পড়া শরৎচন্দ্র তখন থাকেন হাওড়ার পাণিত্রাস-সামীতাবেড়েব বাড়িতে। রূপনারায়ণ নদীর ধারে এই জায়গাটি ছিল তার খুব পছন্দের। একদিন সকালে তিনি সদর দালানে বসে মন দিয়ে প্রোগ্রেস অব সায়েন্স নামে একখানা বই পড়ছিলেন। পড়া বা লেখার সময় কেউ তাকে বিরক্ত করলে তিনি অসন্তুষ্ট...

চটিজুতো বিসর্জন

চটিজুতো বিসর্জন শরৎচন্দ্র একবার এসেছেন অভিনেতা শিশির ভাদুড়ীর থিয়েটারে। তাঁর নিজের লেখা একটি নাটকের অভিনয় দেখতে। নাট্য-অভিনয় দেখে শরৎচন্দ্ৰ মুগ্ধ। তার সঙ্গে ছিলেন কয়েকজন বন্ধু। তাঁরাও খুশি। নাটকের শেষে বাড়ি ফেরার পালা। এই সময় ঘটলো এক কাণ্ড। শরৎচন্দ্ৰ তাঁর একপাটি...

Page 1 of 25212345...102030...Last »

Adsense

সাম্প্রতিক মন্তব্য