৩
ছোট একটা গ্রাম। খড়ের ছাউনি দেওয়া পঞ্চাশটা মতো ঘর হবে। সুদীপ্তরা গ্রামে ঢুকতেই গ্রামবাসীরা কেউ ঘরের ভিতর থেকে, কেউ বা আবার দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে কৌতূহলী হয়ে তাকাতে লাগল তাদের দিকে। সুদীপ্তদের যারা নিয়ে চলেছে তাদের উদ্দেশে দু-একজন দুর্বোধ্য ভাষায় কী-সব প্রশ্নও করল। তারাও তেমন ভাষায় তাদের প্রশ্নর জবাবও দিল। তারপর তারা সুদীপ্তদের নিয়ে হাজির হল গ্রামের ঠিক মাঝখানে সেই মন্দিরটায়। মন্দির বেশি বড় নয়। পাথর আর কাঠ দিয়ে তৈরি মন্দিরটা একটা পরিখার মতো বাঁধানো চৌবাচ্চা দিয়ে বৃত্তাকারে ঘেরা। চৌবাচ্চাটা চওড়ায় চল্লিশ ফুট মতো হবে। তার ওপর একটা কাঠের সাঁকো আছে। সেটা পেরিয়ে মন্দিরে প্রবেশ করতে হয়। সুদীপ্তরা দেখতে পেল অসংখ্য বুড়বুড়ি উঠছে সেই চৌবাচ্চার জলে। অনেকগুলো কচ্ছপ খেলে বেড়াচ্ছে পরিখার জলে। ডেং-ফু বলল, এটা হল—কিম কুঈ—কচ্ছপ দেবতার মন্দির।’ সুদীপ্তরা কাঠের পাটাতন পেরিয়ে লোকগুলোর সঙ্গে মন্দিরে প্রবেশ করল। লাল রঙের থামের গায়ে সোনালি রঙের কচ্ছপের সার সার ছবি খোদাই করা। সার সার থামগুলোই চারপাশ থেকে ধরে রেখেছে মন্দিরের ছাদটাকে। সুদীপ্তরা মন্দিরে প্রবেশ করতেই ভিতর থেকে বেরিয়ে এল এক অদ্ভুতদর্শন লোক। মোটাসোটা খর্বকার লোকটার বুক-পেট বর্মের মতো একটা কচ্ছপের খোলা দিয়ে ঢাকা। গলায় নানা রঙের পাথরের মালা। চুলগুলো মাথার পিছনে উঁচু ঝুটি করে বাঁধা। লোকটার কোমরবন্ধ থেকে ঝুলছে একটা লম্বা দা-এর মতো অস্ত্র। সেটা লোকটার হাঁটু ছাড়িয়ে নীচে নেমেছে। লোকটার মুখমণ্ডল গোঁফ-দাড়িহীন। সে যেন কচ্ছপের মতো ড্যাবড্যাবে চোখে তাকিয়ে রইল সুদীপ্তদের দিকে। সুদীপ্তর মনে হল লোকটার বয়স অন্তত বছর ষাটেক হবে।
যারা সুদীপ্তদের মন্দিরে এনেছে তারা যেন কী একটা বলল কচ্ছপের খোল পরা লোকটাকে। সে সুদীপ্তদের ভালো করে দেখে নিয়ে ভাঙা ভাঙা ইংরিজিতে বলল, ‘আমি দং পেঙ। কিম কুঈ দেবতার পুরোহিত। তোমরা আমাদের গ্রামে এসেছ কেন?’
হেরম্যান প্রথমেই আসল কথাটা পাড়া সমীচীন মনে করলেন না। তিনি বললেন, ‘আমরা ট্যুরিস্ট। ভিয়েতনামে ঘুরে বেড়াচ্ছি। এখানে লেক আছে শুনে দেখতে এসেছি। কটা দিন থাকতে চাই এখানে।
কথাটা শুনে পুরোহিত পেঙ বলল, ‘লেক দেখতে এসেছ? তা আসতেই পারো। কিন্তু তার জন্য থাকার দরকার কী? লেক দেখবে, চলে যাবে।’
কচ্ছপ পুরোহিতের কথা শুনে সুদীপ্ত বলল, ‘আসলে, কোনো জায়গাতে দুটো দিন না থাকলে জায়গাটা ভালো করে দেখা হয় না, তাই দুটো দিন থাকতে চাই।’
ইতিমধ্যে হেরম্যান তাঁর পিঠ থেকে উপহারভর্তি ব্যাগটা খুলে ফেলেছেন। এবার তিনি সেটা এগিয়ে দিলেন মোড়লের দিকে। ব্যাগটার মধ্যে রয়েছে নানা রঙের বেশ কয়েকটা রেশমের কাপড়, তামাক, ধূপ, একটা বড় স্ফটিকের মালা, আর একটা ছোট বাক্সে কুয়ালালামপুর থেকে কেনা পাথর বসানো সোনার আংটি।
দং পেঙ ব্যাগটা নিয়ে ভিতরের জিনিসগুলো দেখতে লাগল। স্ফটিকের হারটা মনে হয় পছন্দ হল তার। মালাটা ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দেখে সেটা গলায় পরে নিল লোকটা। সুদীপ্তরা বুঝতে পারল যে তাদের উপহার কাজ দিতে শুরু করেছে। আর এরপর দং পেঙ সেই ছোট বাক্সটা খুলল। বাক্সটা খুলতেই বিকালের আলোতে সোনার আংটিটা ঝিলিক দিতে লাগল। বিস্মিত ভাবে সে দেখতে লাগল আংটিটা। সোনা এমনই একটা জিনিস যা পৃথিবীর সব দেশের মানুষ চেনে, প্রলুব্ধ হয়। এ জন্য একটু খরচ হলেও হেরম্যান উপহার হিসাবে এ জিনিসটা কিনেছেন।
হঠাৎ পিছন থেকে ইংরিজিতে একটা কণ্ঠস্বর শোনা গেল, ‘আংটিটা সত্যি সোনার তো? * সুদীপ্তরা পিছনে ফিরে দেখল সেখানে এসে দাঁড়িয়েছে এক যুবক। তার চেহারার সঙ্গে এ গ্রামের লোকগুলোর মিল থাকলেও তার পরনে শহুরে পোশাক। জিন্স আর চামড়ার কালো জ্যাকেট। এক কানে ইয়ার রিং, আর গলার কাছে একটা কাঁকড়াবিছের উল্কি করা আছে। চিবুকের নীচে ছুঁচালো দাড়িটাতে ব্লিচ করা। তার চাহনির মধ্যে কেমন একটা ধূর্ত ভাবও আছে।
হেরম্যান জবাব দিলেন, ‘হ্যাঁ, সত্যি সোনার। পরখ করে নিতে পারেন।’
আবছা একটা হাসি ফুটে উঠল সেই যুবকের ঠোটের কোণে। সে ভিয়েতনামি ভাষায় কচ্ছপ দেবতার পুরোহিতকে কী যেন বলল। পুরোহিত তার কথা শুনে সুদীপ্তদের উদ্দেশে বলল, ‘দুটো রাত তোমরা এখানে থাকতে পারো। পরশু ভোরে তোমাদের এ গ্রাম ছাড়তে হবে। ওই দিন রাতে আমাদের একটা ধর্মীয় অনুষ্ঠান আছে। আমরা চাই না যে বিদেশিরা সে সময় গ্রামে থাকুক। রাত কাটাবার জন্য একটা ঘরের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। তোমরা ওদের সঙ্গে যাও।’—এ কথা বলে সে তার সঙ্গীদেরকে নির্দেশ দিল সুদীপ্তদের তাদের থাকার জায়গাতে নিয়ে যেতে।
হেরম্যান লোকটাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বললেন, ‘সেখানে যাওয়ার আগে তোমাদের এ মন্দিরের দেবতাকে দর্শন করা যাবে কি?’ তাঁর কথা শুনে পুরোহিত পেঙ সম্মতি প্রকাশ করে ইশারায় সুদীপ্তদের অনুসরণ করতে বলল তাকে। বৃত্তাকার বারান্দা দিয়ে তার পিছন পিছন গিয়ে সুদীপ্তরা উপস্থিত হল গর্ভগৃহের দরজার বাইরে। আধো অন্ধকারে গর্ভগৃহে দাঁড়িয়ে রয়েছে কালো পাথরের তৈরি দেবতা কিম কুঈ-এর মূর্তি। উচ্চতা পাঁচফুট হবে। দু-পায়ে দাঁড়িয়ে আছেন দেবতা কিম কুঈ। তাঁর সামনের হাত বা পা দুটো মাথার দিকে তুলে ধরা। ডান হাতে ধরা আছে একটা ছুরি, আর বাঁ-হাতে ধরা ন্যায়দণ্ড বা রাজদণ্ডের মতো একটা দণ্ড। দণ্ডায়মান কুর্ম দেবতার লাল পাথরের চোখ দুটো বিন্দু বিন্দু জ্বলছে। হয়তো বা সেগুলো চুনীরও হতে পারে। সবচেয়ে আশ্চর্যর ব্যাপার হল কচ্ছপ দেবতার মুখের ভিতর সার সার তীক্ষ্ণ দাঁত দেখা যাচ্ছে। সুদীপ্ত কোথায় যেন শুনেছিল যে কচ্ছপের কামড় নাকি মারাত্মক একবার কামড়ে ধরলে বজ্রপাতের শব্দ না হলে নাকি সে কামড় ছাড়ে না! কিন্তু কচ্ছপের কি দাঁত থাকে? ব্যাপারটা ঠিক জানা নেই সুদীপ্তর। তবে ওই দাঁতগুলো যেন মূর্তিটাকে একটা ভয়ঙ্করতা এনে দিয়েছে। মূর্তিটার ঠিক পায়ের কাছেই রাখা আছে খাপে ঢাকা একটা ছুরি। জিনিসটা মনে হয় বেশ প্রাচীন। ধূপ জ্বলছে ঘরের মধ্যে। সব মিলিয়ে-মিশিয়ে গর্ভগৃহের ভিতরে কেমন যেন একটা গা-ছমছমে পরিবেশ বিরাজ করছে।
পুরোহিত পেঙ সুদীপ্তদের উদ্দেশে বলল, ‘এটা দেবতা কিম কুঈ-এর সংহার মূর্তি। এ মূর্তি আমরা পূজা করি। ইনি আমাদের শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করেন।’
সেখানে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে আবার মন্দিরের বাইরে বেরিয়ে এল সুদীপ্তরা। কচ্ছপ দেবতার উপাসকরা তাদের নিয়ে চলল তাদের থাকার জায়গার দিকে। গ্রামের শেষপ্রান্তে খড়ের ছাউনি দেওয়া একটা কাঠের ঘরে তাদের পৌঁছে দিয়ে চলে গেল লোকগুলো।
ঘরে একটা জানলা আছে। সেটা খুলতেই পিছনের লেকটা চোখে পড়ল। তার ওপাশে ঘন জঙ্গল। আর এপাশেও জঙ্গল শুরু হয়েছে সুদীপ্তরা যে ঘরটাতে আছে তার কিছুটা তফাত থেকে। মাথার ওপর নীল আকাশ। পাহাড়ের আড়াল থেকে দিনশেষের আলো এসে পড়েছে শান্ত লেকের জলে। খুব মনোরম পরিবেশ। হেরম্যানও এসে দাঁড়ালেন জানলার পাশে। সুদীপ্ত বলল, ‘জায়গাটা খুব সুন্দর। কিন্তু কচ্ছপ পুরোহিতের কথা শুনে তো বুঝলাম যে তারা ওই অনুষ্ঠানের দিন আমাদের এখানে থাকতে দেবে না।’
হেরম্যান বললেন, ‘আমাদের হাতে তো একদিন সময় আছে। দেখি কোনোভাবে কচ্ছপ দেবতার পুরোহিতকে রাজি করানো যায় কিনা।’
ডেং-ফু হঠাৎ বলল, ‘জানেন ওই পুরোহিতের ছেলেকে আমি যেন আগে কোথায় দেখেছি বলে মনে হচ্ছে! ওই যে জিন্স পরা, গলায় উল্কি আঁকা যে লোকটা আপনাদের জিগ্যেস করছিল যে আংটিটা সোনার কিনা?’
হেরম্যান বললেন, হ্যাঁ, ওর পোশাক-আশাক শহুরে। হয়তো শহরে দেখে থাকতে পারো ওকে। কিন্তু ও যে পুরোহিতের ছেলে তুমি তা বুঝলে কীভাবে?’
‘আংটিটা যে সোনার তা জানার পর ও ভিয়েতনামি ভাষায় পুরোহিতকে বলল, ‘বাবা, এদের দু-রাতের জন্য থাকতে দেওয়া যেতে পারে।’ তাই জানলাম।’—জবাব দিল ডেং-ফু।
হেরম্যান বললেন, ‘এখন এসব কথা থাক। আর কিছুক্ষণ পরই সন্ধ্যা নামবে। চলো একবার হ্রদের পাড়ে ঘুরে আসি।’ ঘর ছেড়ে বেরোল সুদীপ্তরা। ঘরের পিছন দিয়ে কিছুটা হেঁটে লেকের পাড়ে হাজির হল তারা। বিশাল লেক। তার একটা অংশের শেষ দেখা যাচ্ছে না। হেরম্যান সে দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘যদিও তাঙ্গানিকা এর চেয়ে অনেক অনেক বড়, কিন্তু এই লেকটা দেখে আমার বহুদিন পর তাঙ্গানিকার কথা মনে পড়ে গেল।’
সুদীপ্ত বলল, ‘হ্যাঁ, বুরুন্ডিতে সবুজ মানুষের সন্ধানে অভিযানে এরকমই এক শেষ বিকালে তাঙ্গানিকার পাড়ে দাঁড়িয়ে আমরা জলহস্তীর খেলা দেখেছিলাম।’—কথা বলতে বলতে হ্রদের পাড় ধরে বনের দিকে হাঁটতে লাগল সুদীপ্তরা।
চারপাশে সুন্দর-শান্ত-সমাহিত পরিবেশ। দিনের শেষ আলো রং ছড়াচ্ছে লেকের জলে। মাঝে মাঝে ঠান্ডা বাতাস ভেসে আসছে পাহাড়ের দিক থেকে। হাঁটছিল সুদীপ্তরা। সামনেই লেকের পাড়টা একটু বাঁক নিয়েছে। আর তার কিছুটা তফাতেই জঙ্গল শুরু হয়েছে। সেই বাঁকের কাছে আসতেই হঠাৎ তারা শুনতে পেল, কারা যেন চিৎকার করছে—‘কিম কুঈ! কিম কুঈ! কিম কুঈ!…’
তবে কি দেবতা কিম কুঈ দর্শন নিচ্ছেন! চিৎকারের শব্দ কানে যেতেই সুদীপ্তরা ছুটে গেল সেই বাঁকের কাছে। তারা দেখতে পেল দশ-বারো বছর বয়সি একদল ছেলেকে। লেকের একদম পাড়ে দাঁড়িয়ে জলের দিকে তাকিয়ে তারা চিৎকার করছে আর জলের মধ্যে কী যেন লক্ষ্য করে পাথর ছুড়ছে। সুদীপ্তরা দেখল পাড়ের কিছুটা তফাতে জলের মধ্যে কী যেন একটা আছে! সেটা মাঝে মাঝে ভেসে উঠছে আবার হারিয়ে যাচ্ছে। জিনিসটা দেখতে পেয়েই সুদীপ্তরাও উত্তেজিত হয়ে জলের ধারে ছেলেগুলোর পিছনে গিয়ে দাঁড়াল। ছেলেদের দল সুদীপ্তদের উপস্থিতি যেন বুঝতেই পারল না। জলের দিকে তাকিয়ে তারা ‘কিম কুঈ! কিম কুঈ’ বলে লাফাচ্ছে, আর পাথর ছুড়ছে। কিন্তু ভালো করে জলের দিকে তাকাতেই কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই আসল ব্যাপারটা ধরে ফেলল সুদীপ্তরা। জলের ভিতর যেটা ডুবছে ভাসছে, যেটা লক্ষ্য করে ছেলেগুলো পাথর ছুড়ছে সেটা কচ্ছপ দেবতা কিম কুঈ নয়, ছোট একটা মানুষের মাথা! তাকে জলের ওপর ভাসতে বা উঠতে দিচ্ছে না ছেলের দল! ছোট ছোট ছেলেরা খেলার ছলে অনেক সময় এমন নিষ্ঠুর হয়ে ওঠে যা তারা নিজেরাই বুঝতে পারে না। এটা তেমনই এক ব্যাপার। জলে থাকা ছেলেটা হয়তো শ্বাস নিতে না পেরে মরেই যাবে!
ব্যাপারটা বুঝতে পেরেই হেরম্যান চিৎকার করে উঠলেন, ডেং-ফু-ও স্থানীয় ভাষায় চিৎকার করে উঠে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে তেড়ে গেল ছেলেগুলোর দিকে। অকস্মাৎ সুদীপ্তদের উপস্থিতি আর তেড়ে আসা দেখে ঘাবড়ে গেল ছেলেগুলো। ভয় পেয়ে তারা লেকের পাড় ধরে চোঁচা দৌড় শুরু করল গ্রামের দিকে।
জলের থেকে মাথা তুলল ছেলেটা। ডেং-ফু তার উদ্দেশে স্থানীয় ভাষায় বলল, ‘উঠে এসো। কোনো ভয় নেই। ওরা চলে গেছে।’ ধীরে ধীরে সাঁতরে পাড়ের কাছে চলে এল ছেলেটা। তারপর জল ছেড়ে উঠে এসে সুদীপ্তদের সামনে এসে দাঁড়াল। বছর দশেক বয়স হবে ছেলেটার। পরনে নামমাত্র পোশাক। এই ঠান্ডার দেশেও খালি গা-খালি পা। বিধ্বস্ত চেহারা তার। জলের নীচে অনেকক্ষণ থাকার কারণে, শ্বাস নিতে না পারার কারণে হাঁফাচ্ছে সে। পাথরের আঘাতে কপালের কাছে এক জায়গা ছড়ে গেছে। পাহাড়ের আড়াল গলে দিনের শেষ আলো এসে পড়েছে ছেলেটার মুখে। বিষণ্ণ, ভয়ার্ত দৃষ্টিতে বাচ্চা ছেলেটা তাকিয়ে আছে সুদীপ্তদের দিকে।
ডেং-ফু তাকে প্রশ্ন করল, ‘তোমার নাম কী?’
সে শ্বাস নিতে নিতে অতি কষ্টে উত্তর দিল ‘ওয়াং’।
ডেং-ফু জানতে চাইল, ‘ওরা তোমাকে পাথর ছুড়ছিল কেন?’
বাচ্চা ছেলেটা এ প্রশ্নের জবাবে শুধু নিশ্চুপভাবে কিছুক্ষণ চেয়ে রইল তারপর লেকের পাড় ধরে ধীরে ধীরে এগিয়ে জঙ্গলের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে গেল। সূর্য ডুবে গেছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ফেরার পথ ধরল সুদীপ্তরা।
অন্ধকার নামতে শুরু করেছে চারপাশে। লেকের পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা অরণ্যের ভিতর থেকে ভেসে আসতে শুরু করল ঝিঁঝিঁর কলতান।
ঘরে ফিরে খাওয়া সেরে নিল সুদীপ্তরা। তারপর জানলার কাছে এসে দাঁড়াল সুদীপ্ত আর হেরম্যান। আর একদিন বাদেই পূর্ণিমা। ষোলোকলা প্রায় পূর্ণ হতে চলেছে। চাঁদের আলো ছড়িয়ে পড়েছে লেকের জলে। বাতাসে মৃদু মন্দ ঢেউ উঠছে লেকের জলে। হেরম্যান সেদিকে তাকিয়ে বললেন, ‘এই বিশাল হ্রদের তলদেশে হয়তো সত্যি কোথাও লুকিয়ে আছেন কচ্ছপ দেবতা কিম কুঈ। পাহাড়-জঙ্গল আর নদী-হ্রদ-সমুদ্রের মধ্যে সবচেয়ে রহস্যময় জায়গা কিন্তু জলতল। সেখানে আজও কত রহস্যময় ব্যাপার লুকিয়ে আছে কে জানে? দেখা যাক আমরা কচ্ছপ দেবতার দর্শন পাই কিনা? কাল একবার লেকের জলে নৌকাবিহার করার ইচ্ছা আছে। তার আগে একবার যাব পুরোহিতের সঙ্গে কথা বলতে, অনুষ্ঠানে যাতে আমরা থাকতে পারি সে ব্যাপারে তাকে রাজি করাতে।’
সুদীপ্ত বলল, ‘হ্যাঁ, সে চেষ্টা করতে হবে আমাদের।’
সারাদিনের পথশ্রমের ক্লান্তিতে এর কিছুক্ষণের মধ্যেই মাটিতে ম্যাট পেতে শুয়ে পড়ল সকলে।
