৭
তিনদিনের মাথায় ভোরবেলায় মোগাদিসুর কাছে পৌঁছল ফ্রান্সিস ড্রেক। তবে জাহাজ বন্দরে ভিড়ল না। কয়েক মাইল দূরে নোঙর করল। দিনটা কুয়াশা মাখা, ভিজে স্যাঁতসেঁতে। ক্যাপ্টেন সবাইকে ডেকে বললেন যে, এ জায়গা ভালো নয়। জাহাজ বন্দরে ভেড়াবার আগে তিনি একবার নিজে বন্দরে গিয়ে সবকিছু ব্যবস্থা করে আসবেন। এই বলে তিনি জাহাজ মেট ফক্সের জিম্মায় রেখে দুজন সঙ্গীকে নিয়ে বেরিয়ে গেলেন বোটে চেপে
ধ্রুবর এ ক’টা দিন লাইব্রেরি ঘরেই কেটেছে। মার্লিনের সঙ্গে তার দেখা হলেও বিশেষ কথাবার্তা হয়নি। ক্যাপ্টেন বিয়ার্ড চলে যেতেই মেট সবাইকে নিজের নিজের থাকার জায়গাতে যেতে বলে রেডিও রুমে ঢুকল। কুয়াশায় দূরের ডাঙা দেখা যাচ্ছে না। ডেকের স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে ধ্রুবরও থাকতে ভালো লাগল না। সে ফিরে এল নিজের ঘরে।
কিছুক্ষণের মধ্যেই দরজায় টোকা দেবার শব্দ শুনে দরজা খুলে ধ্রুব দেখতে পেল মার্লিন এসেছে। সে ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে বসে বলল, ‘মেট রেডিওরুমে। আমাকে কেউ লক্ষ করছে না দেখে চলে এলাম। এ ক’দিন খুব খাটুনি গেছে। তাছাড়া ফক্স আমার ওপর সবসময় নজর রাখছিল।’
ধ্রুব বলল, ‘ক্যাপ্টেন তো বন্দরে গেলেন। আমাকে তো আবার তার সেই হোবি ও বলে লোকটার সঙ্গে কথা বলিয়ে দেবার কথা। তারপর সব কথা রিপোর্ট করতে হবে ‘শ্রীগণেশের’ ক্যাপ্টেনকে।’
মার্লিন বলল, ‘ক্যাপ্টেনকে বেশ উত্তেজিত মনে হয়েছে এ ক’দিন। দিনের মধ্যে অনেকটা সময় কাটিয়েছে রেডিওরুমে। কখনো আবার অস্থিরভাবে পায়চারি করেছে ডেকে।’
এরপর একটু থেমে সে বলল, ‘আমি একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেটা তোমাকে জানাব।’
‘কী সিদ্ধান্ত?’
‘জাহাজ বন্দরে ভিড়লে পালাব আমি।’
‘পালাবে! কোথায়?’
‘আপাতত বন্দরেই গা ঢাকা দেব। তারপর চেষ্টা করব কোনোভাবে সেসেজ দ্বীপের দিকে যাবার। দেখি যদি ভাগ্য ফেরে? তোমারও তো মোগাদিসুতে থেকে ‘শ্রীগণেশের’ জন্য অপেক্ষা করার কথা। তুমি সেসেজে যাবে আমার সঙ্গে?’
ধ্রুব বলল, ‘কিন্তু অতবড় জায়গাতে তুমি কী ভাবে খুঁজে পাবে সেই নির্দিষ্ট স্থান। ব্যাপারটা খড়ের গাদায় ছুচ খোঁজার মতো হবে। তোমার পূর্বপুরুষরাও তো নিশ্চয়ই চেষ্টা করেছিলেন?’
মার্লিন বলল, ‘ব্যাপারটা যে সহজ নয় তা আমিও জানি। অনেক ছোট ছোট দ্বীপ আছে সেখানে। অধিকাংশ দ্বীপেই এই একবিংশ শতাব্দীতেও মানুষ থাকে না। আসলে বুড়ো জাহাজির শেষ কথাটার মধ্যে মনে হয় সব লুকিয়ে আছে। ‘যেখানে তারা আছে…।’ কোথায় কারা আছে? ব্যাপারটা ধরতে পারলেই…. তবু আমি শেষ চেষ্টা একবার করব।’
ধ্রুব বলল, ‘দ্বীপটার নাম সেদিন তোমার মুখে শুনে ওর সম্বন্ধে লাইব্রেরিতে পড়েছি। অস্ট্রলেথিয়ান কিমবা আরবরা সর্বপ্রথম পা রেখেছিল ওই নামহীন দ্বীপপুঞ্জে। ১৫০২ খ্রিস্টাব্দে পোর্তুগিজ অ্যাডমিরাল ভাস্ক-ডা-গামা ওই দ্বীপের পাশ দিয়ে যাবার সময়ও ওর নাম দেন, ‘আইল্যান্ড অব দি অ্যাডমিরাল।’ তবে লিখিত প্রমাণ অনুযায়ী ১৬০৯ সালে ফরাসি নৌ সেনাপতি ক্যাপ্টেন নিকোলাস মরফি জলদস্যুদের উৎখাত করে দ্বীপপুঞ্জ দখল করেন। ফরাসি সম্রাট পঞ্চদশ লুই-এর অর্থমন্ত্রীর নাম অনুসারে দ্বীপের নামকরণ করেন, ‘সেসেজ।’ এর পরবর্তীকালে অবশ্য ইংরেজরা ওখানে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা শুরু করে। এই হল ওখানকার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস।’
মার্লিন বলল, ‘আরও একটা তথ্য তোমাকে বলি। যে কালো টিয়া, জলদস্যু ব্ল্যাক প্যারোটের প্রতীক ছিল তা কিন্তু একমাত্র ওই সেসেজ দ্বীপেই মেলে। আমার ধারণা সেসেজের কোনো এক দ্বীপ থেকে ফেরার পথেই সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে পড়ে ব্ল্যাক প্যারোটের জাহাজ। ঝড়ই তার ভাঙা জাহাজকে এনে আছড়ে ফেলেছিল মাদাগাস্কার উপকূলে।’
‘তোমার কী ধারণা ওখানে গুপ্তধন লুকিয়ে সে ফিরছিল?
মার্লিন বলল, ‘সেটাই সম্ভব। ব্রিটিশ মেরিন লাইব্রেরির প্রাচীন তথ্য অনুসারে ব্ল্যাক প্যারোট তার কিছুদিন আগেই সমুদ্র থেকে নদীপথে অ্যামস্টেলে গেছিল। হয়তো বা সেই হারপুন হাসনের বিধবাকে তার প্রাপ্য বুঝিয়ে দিতেই। অ্যামস্টেল হল আমস্টারডমের প্রাচীন নাম। ফেরার পথে ইংলিশ চ্যানেলে ব্রিটিশ প্রাইভেটিয়ারদের একবড় নৌবাহিনী তাড়া করে ব্ল্যাক প্যারোটের জাহাজকে। পোর্তুগাল উপকূল পর্যন্ত তাড়া করে এলেও তাকে কিন্তু তারা ধরতে পারেনি। দ্বিতীয় দফায় কেপ-অব-গুড হোপে আর একবার ব্রিটিশ প্রাইভেটিয়ারদের সঙ্গে তার লড়াই বাধে। সরকারি জলদস্যুদের জাহাজ ডুবিয়ে দিয়ে সে উত্তরমুখে যাত্রা করে। সে সময় কমোরস দ্বীপপুঞ্জের ব্রিটিশ সেনারা দূর থেকে তার জাহাজ দেখতে পেয়েছিল। ওর পাশ দিয়েই সেসেজের দিকে যাবার রাস্তা। এর মাস তিনেক বাদে মাদাগাস্কারের উত্তর উপকূলে ব্ল্যাক প্যারোটের জাহাজের ভগ্নাবশেষ মেলে।’
কথাগুলো বলে মার্লিন এরপর বলল, ‘এসব কথা পরেও আলোচনা করা যাবে। তুমি বলো, আমার প্রস্তাবে তুমি রাজি কিনা? জাহাজিয়া জীবন মানেই তো ঝুঁকির কাজ। সমুদ্র কখন ফুঁসে উঠে কবে কাকে টেনে নেয় কেউ তা বলতে পারে না। একটা বাড়তি ঝুঁকি তুমি না হলে নিলেই। হয়তো এ ঝুঁকি তোমারও ভাগ্য ফিরিয়ে দেবে।’
ধ্রুব কী উত্তর দেবে বুঝতে না পেরে চুপ করে রইল।
সে চুপ করে থাকায় মার্লিন বলল, ‘ঠিক আছে তোমাকে ভাবার জন্য একটা দিন সময় দিলাম। এ জাহাজে একদিন থাকার কথা এখানে। তারপর তুমি রাজি না হলে আমার একার সিদ্ধান্ত আমি একাই নেব। আমি এখন যাচ্ছি। আমি এ ঘরে আছি মেট বুঝতে পারলে আরও সন্দেহ করবে। শেষপর্যন্ত আমার আর হয়তো পালানো হবে না।’ কথাগুলো বলে কেবিন ছেড়ে বেরিয়ে গেল মার্লিন। ধ্রুব একলা বসে ভাবতে লাগল মার্লিনের কথাগুলো। গুপ্তধনের হাতছানি যেন ধীরে ধীরে তাকেও আকর্ষণ করছে।
নিজের ঘরেই ছিল ধ্রুব। ঘণ্টা চারেক বাদে বেলা দশটা নাগাদ একজন লোক এসে খবর দিল, ক্যাপ্টেন ফিরেছেন। তিনি ধ্রুবকে তার কেবিনে ডাকছেন। ধ্রুব ডেকে উঠ বেলা হলেও কুয়াশা কাটেনি। ক্যাপ্টেনের ঘরে ঢুকল ধ্রুব। বিয়ার্ডের মুখ বেশ গম্ভীর। এর ঘরে ঢুকতেই তিনি বললেন, ‘বন্দরে গেছিলাম। সেখানকার অবস্থা খুব খারাপ। দুটো উপজাতি গোষ্ঠীর মধ্যে লড়াই লাগার সম্ভাবনা আছে। এমনিতেই আইনশৃঙ্খলা বলে এখানে কিছু নেই। তার ওপর লড়াই লাগলে মারা পড়তে হবে। বন্দরে জাহাজ ভিড়বে না।
ধ্রুব শুনে বলল, ‘কিন্তু আপনি যে বলেছিলেন সেই হোবিও বলে লোকটা জাহাজের নিরাপত্তা দেবে? তার সাথে কথা বলে তো আমার ‘শ্রীগণেশের’ ক্যাপ্টেনকে রিপোর্ট করার কথা।’
ক্যাপ্টেন বিয়ার্ড বললেন, ‘হোবিওকে জরুরি কাজে অন্যত্র যেতে হয়েছে। আমরা এখনই জাহাজের মুখ ফিরিয়ে নেব। আজই কয়েকজন এ জাহাজে উঠবে। তাদের নিয়ে এডেনের দিকে রওনা হব।’
ধ্রুব জানতে চাইল, ‘কিন্তু শ্রীগণেশের’ ব্যাপারটা কী হবে?’
ক্যাপ্টেন বিয়ার্ড বললেন, ‘আপনার জাহাজের ওয়ারলেস কোডটা ক্যাপ্টেন আনাকে দিয়েছিলেন। আমি তাঁকে ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলে দিচ্ছি। তাকে আমি এদিকে আসতে না করে দেব। আর তিনি রওনা হয়ে গেলে মাঝপথে আপনাকে সে জাহাজে তুলে দেব।’
ধ্রুব বলল, ‘আমি কি খবরটা ‘শ্রীগণেশকে জানিয়ে দেব?’
ক্যাপ্টেন এবার স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললেন, ‘আমি যে খবরটা দেব বললাম, এ কথায় কী আপনার ভরসা হল না।?’ এরপর আর কথা বলা চলে না। আকস্মিক ক্যাপ্টেনের এই সিদ্ধান্তে ধ্রুব বিস্মিত হয়ে ক্যাপ্টেনের কেবিন ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে এল। তার এবার মনে হল, মার্লিনের পরিকল্পনা তো তাহলে ভেস্তে গেল। খবরটা তাকে জানানো দরকার। কিন্তু তাকে সে ডেকে দেখতে পেল না। এতটা পথ এসেও বন্দরে নামা হবে না শুনে বিমর্ষ ধ্রুব নিজের কেবিনে ফিরে গেল।
বিকেলবেলা ঘুম ভাঙার পর পোর্টহোল দিয়ে বাইরে তাকিয়ে ধ্রুব বুঝতে পারল জাহাজ দাঁড়িয়ে গেছে। জাহাজ দাঁড়াল কেন? ধ্রুব ডেকে উঠে এসে দেখতে পেল বাইরে কুয়াশা অনেকটা কেটে গেছে। জাহাজের লোকজন ডেকে দাঁড়িয়ে সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে কী যেন দেখছে। ক্যাপ্টেন বিয়ার্ডও তাদের সঙ্গে রয়েছেন। মার্লিনকেও সে দেখতে পেল। কিছুদুরে দাঁড়িয়ে আছে আরও একটা জাহাজ। তার ডেকে কোনো লোকজন নেই। দুটো নৌকো সে জাহাজের দিক থেকে এগিয়ে আসছে ধ্রুবদের জাহাজের দিকে। জনা সাতেক লোক তাতে। ধ্রুব ক্যাপ্টেনের পাশে রেলিং-এর ধারে গিয়ে দাঁড়াতেই বিয়ার্ড তাকে দেখে নৌকার লোকগুলোকে দেখিয়ে বলল, ‘যাদের আসার কথা বলেছিলাম তারা আসছে।’
‘কারা ওরা?’ ধ্রুব জানতে চাইল।
বিয়ার্ড জবাব দিলেন, ‘আমার বন্ধু ম্যাঙ্গকি আর তার লোকজন। ওদের নিয়েই ফিরব আমরা।’
নৌকা দুটো ক্রমশ কাছে এগিয়ে আসতে লাগল। তাদের সঙ্গে বেশ বড় বড় কয়েকটা কাঠের বাক্সও আছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই নৌকা এসে লাগল জাহাজের গায়ে।
জাহাজের কাছি ধরে প্রথমে যে লোকটা ডেকে পা রাখল সে দীর্ঘদেহী এক আফ্রিকান। পরনে কালো আলখাল্লা ধরনের পোশাক। কালো রোদ চশমা আর মাথায় জড়ানো কালো কাপড়ের আড়ালে তার মুখটা অনেকটা ঢাকা পড়ে গেছে। সে উঠে বিয়ার্ডের সাথে করমর্দন করার পর বিয়ার্ড তার পাশে দাঁড়ানো ধ্রুবকে দেখিয়ে বললেন, ‘ইনি হলেন আমাদের রেডিও অপারেটর। যিনি তোমার কল রিসিভ করতেন।’
লোকটা বিয়ার্ডের কথা শুনে ধ্রুবর দিকে তাকিয়ে ফ্যাসফ্যাসে শীতল গলায় ‘হ্যালো’ বলে তার লোকজন যারা কাছি বেয়ে ওপরে উঠছে তাদের দেখতে লাগল। মিনিট তিনেকের মধ্যেই তার সঙ্গীরা ওপরে উঠে এল। তারা সবাই আফ্রিকান। পরনে একই রকম কালো পোশাক। ছয়জন লোক। এরপর তোলা হল তাদের মালপত্র। গোটাচারেক লম্বা লম্বা কাঠের বাক্স। তার একটা দেখতে অনেকটা সিন্দুকের মতো। সে বাক্সটা দেখিয়ে ম্যাঙ্গকি বিয়ার্ডকে বলল, ‘এ বাক্সটা যত্নে কোনো ঘরে রাখতে হবে। অনেক দামি জিনিস আছে এতে। তবে অন্য বাক্সগুলোও ঠিক করে রাখা দরকার।’
ক্যাপ্টেন বিয়ার্ড বললেন, ‘ও নিয়ে তোমাকে ভাবতে হবে না। আমি ব্যবস্থা করছি।’ ম্যাঙ্গকি তার পকেট থেকে একটা মোবাইল ফোন বার করে একবার দূরের জাহাজটার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘তাহলে এবার নোঙর উঠিয়ে ফেল। আমরা এখনও বিপদসীমার মধ্যেই আছি। যত তাড়াতাড়ি এগোনো যায় ততই মঙ্গল।’ বিয়ার্ড তার কথায় সম্মতি প্রকাশ করে নোঙর ওঠাতে বললেন, আর মেটকে নির্দেশ দিলেন বাক্সগুলোকে আপাতত ভার কেবিনে রাখার জন্য। মাল্লারা এগিয়ে এল বাক্সগুলো উঠিয়ে নিয়ে যাবার জন্য। কিন্তু সিন্দুকের মতো বাক্সটা তারা ছুঁতেই ম্যাঙ্গকি বলল, ‘ওটা আমার লোকরা নিয়ে যাবে।’
ম্যাঙ্গকির নির্দেশে এরপর তার দু’জন লোক সে বাক্সটা যত্ন করে বয়ে নিয়ে চলল ক্যাপ্টেনের ঘরের দিকে।
নোঙর উঠে গেল। চলতে শুরু করল জাহাজ। ডেকের ভিড় এবার কিছুটা হালকা হয়ে গেল। সবাই ফিরে গেল যে যার কাজে। পাঁচটা বাজতে এখনো এক ঘণ্টা দেরি। তারপর ডেকে হাওয়া খাওয়ার সময়। ধ্রুব একটু দূরে একটা বড় পিপের আড়ালে গিয়ে দাঁড়াল। ডেকে সে ছাড়া ক্যাপ্টেন বিয়ার্ড, ম্যাঙ্গকি আর তার লোকজন। ক্রমশ সেই জাহাজটার থেকে দূরে সরে যাচ্ছে ধ্রুবদের জাহাজ।
ক্যাপ্টেন বিয়ার্ড ম্যাঙ্গকিকে বললেন, ‘চলো, তাহলে কেবিনে যাওয়া যাক।’
সে বলল, ‘দাঁড়াও একটা ফোন করে নিই।’ এই বলে সে দূরের জাহাজটার দিকে তাকিয়ে সেলফোনের কি প্যাডে কয়েকবার চাপ দিয়ে বলল, ‘না, এটা একদম গেছে।’ তারপর ফোনটাকে ছুড়ে ফেলে দিল সমুদ্রে। আর এর পরমুহূর্তেই প্রচণ্ড একটা বিস্ফোরণ হল দূরের জাহাজটাতে। টুকরো-টুকরো হয়ে ডুবে গেল জাহাজটা। ধ্রুব বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলেও ডেকে দাঁড়ানো অন্যদের যেন ব্যাপারটা জানাই ছিল। ধ্রুব দেখল ডুবন্ত জাহাজটার দিকে তাকিয়ে ম্যাঙ্গকির ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠল। একটা সিগার ধরিয়ে বিয়ার্ডকে সে বলল, ‘চলো তোমার ঘরে যাওয়া যাক।’
তারা দুজন ক্যাপ্টেনের কেবিনে গিয়ে ঢুকল। ডেকেই রয়ে গেল ধ্রুব। পাঁচটার ঘণ্টা যখন বাজল তখন আবার লোক সমাগম হতে শুরু হল। ক্যাপ্টেন আর ম্যাঙ্গকি আবার ডেকের বাইরে এলেন। তারপর ম্যাঙ্গকির দুজন সঙ্গীকে ডেকে, ক্যাপ্টেনের ঘর থেকে সেইবড় কাঠের বাক্সটা বার করে এনে সেটা নিয়ে খোলের ভিতর নেমে গেলেন। সন্ধ্যা নামতেই ধ্রুব ফিরে গেল তার কেবিনে। অনেকক্ষণ সে অপেক্ষা করল মার্লিন যদি আসে সে জন্য। কিন্তু মার্লিন এল না।
