৬
তারা তিনজন চলে যাবার পর দীপাঞ্জনের মনে হল, ‘আচ্ছা সেই বৃদ্ধ কবরখানাতেই রয়ে যাননি তো? গতকাল রাতে তো কুয়াশার মধ্যে ওই কবরখানার ভিতরই হারিয়ে গেছিলেন। একা-একা নির্জনে থাকার অভ্যাস লোকটার। হয়তো তিনি লোকজন চিৎকার চেঁচামেচি এড়াবার জন্য সেখানেই রয়ে গেছেন। কথাটা মনে হতেই দীপাঞ্জন এগোল সেদিকে। চিড়িয়াখানার এ অংশে শুটিং-এর কাজ হচ্ছে না। কোনো লোকজন তাই এদিকটাতেই নেই। দীপাঞ্জন হাঁটতে শুরু করল কবরখানায় পৌঁছবার জন্য। গরাদ-ঘেরা ঘরগুলোর গোলকধাঁধায় ঢুকে পড়ল সে। পথের দু-পাশে সার-সার গরাদ-ঘেরা পাথুরে ঘর নিস্তব্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে। পরিখা ঘেরা জায়গাটার পিছনের দিকে এ ঘরগুলো উত্তর-দক্ষিণমুখী। তাই পূর্ব-পশ্চিমের সূর্যালোক ঘরগুলোর গভীরে তেমন একটা প্রবেশ করে না। ঘরগুলোর ভিতরের কোণগুলোতে খেলা করছে চাপ-চাপ অন্ধকার। স্যামসন গতকাল বলছিলেন যে এমনই কোনো জায়গাতেই তিনি কুড়িয়ে পেয়েছিলেন সেই ঈগলের পালকটা। কিন্তু কী আশ্চর্য! কথাটা ভাবতে-ভাবতেই হাঁটতে-হাঁটতে কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই সে দেখতে পেল একটা ঈগলের পালক পড়ে আছে তার সামনে। তাহলে বুড়ো উইলিয়াম মিথ্যা বলেননি। দীপাঞ্জন ঝুঁকে পড়ে মাটি থেকে কুড়িয়ে নিল পালকটা। তারপরই পালকটা ভালো করে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দেখতে গিয়ে তার চোখে একটা জিনিস ধরা পড়ল। সাদা-কালো ডোরাকাটা পালকটার গায়ে রক্ত লেগে আছে। পুরোনো রক্ত নয়, লাল রক্তের ছোপ! যেখানে দীপাঞ্জন দাঁড়িয়ে আছে ঠিক তার সামনেই পরিত্যক্ত গরাদঘরের একটা উন্মুক্ত দরজা। দীপাঞ্জন খেয়াল করে দেখল যেখান থেকে পালকটা সে কুড়িয়ে নিয়েছে সেখান থেকে বিন্দু বিন্দু রক্তের ফোঁটা প্রবেশ করেছে গরাদঘরের মধ্যে। দীপাঞ্জনের হঠাৎ মনে হল এটা বুড়ো স্যামসনের হাতের সেই পালকটা নয়তো? একইরকম তো মনে হচ্ছে পালকটা দেখে। হয়তো স্যামসন কোনোভাবে আহত হয়েছেন, তারপর এই গরাদঘরে আশ্রয় নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন? বাইরে থেকে গরাদঘরটার ভিতর কাউকে না-দেখা গেলেও ঘরের পিছনের দেওয়ালের দিকে চাপচাপ অন্ধকার খেলা করছে। হয়তো ওখানেই শুয়ে আছেন স্যামসন?—এ কথাটা মনে আসতেই গরাদঘরটার ভিতর ঢুকে পড়ল দীপাঞ্জন। প্রথমে সে পকেট থেকে সেলফোনটা বার করে তার টর্চ জ্বালল। হ্যাঁ, মাটিতেও পড়ে আছে বিন্দু বিন্দু রক্তের দাগ। আর সে দাগ এগিয়েছে লম্বা ঘরটার অন্ধকার কোণের দিকে। পায়ে-পায়ে দীপাঞ্জন এগিয়ে গেল ঘরের কোণের দিকে, তারপর টর্চের আলো ফেলল সেখানে। না, সেখানে স্যামসন পড়ে নেই, তবে সেখানে অন্য একটা জিনিস দেখতে পেল সে। পাথুরে ঘরটার কোণার দিকটাতে মেঝের একটা পাথরের ব্লক তুলে একপাশে সরিয়ে রাখা হয়েছে। আর তার নীচে উঁকি মারছে বিরাট একটা গহ্বর। দীপাঞ্জন আলো ফেলল সেই গহ্বরে। ধাপে ধাপে পাথুরে সিঁড়ি নেমে গেছে তার ভিতর। দীপাঞ্জন গহ্বরটার সামনে দাঁড়িয়ে ভাবতে লাগল তার নিচে নামা উচিত হবে কিনা? তার মনে হল জুয়ানকে ব্যাপারটা জানিয়ে তার পরামর্শ নিলে বা ডেকে নিলে ভালো হয়। সেলফোন থেকে জুয়ানের ফোনে দু-বার ফোন করল সে। কিন্তু রিং হয়ে গেল। জুয়ান ফোন ধরলেন না। দীপাঞ্জন অনুমান করল যে, জুয়ানের ঘুম সম্ভবত ভাঙেনি। এরপর সে ভাবল, ‘কী আর হবে? একবার সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে দেখাই যাক না নিচে কী আছে? হয়তো বা বৃদ্ধ নিচে নেমে আর উঠে আসতে পারছেন না?’—এই দ্বিতীয় ভাবনাটাই নিচে নামার জন্য বেশি প্ররোচিত করল দীপাঞ্জনকে। সিঁড়ি বেয়ে মোবাইল টর্চের আলো ফেলে নিচে নামা শুরু করল সে। বেশ অনেকটা নিচে নামার পর দীপাঞ্জন একটা সমতল জায়গায় এসে দাঁড়াল। একটা দীর্ঘ টানেল বা সুড়ঙ্গ চলে গেছে সামনের দিকে। মাটিতে আলো ফেলে দীপাঞ্জন দেখল মেঝের ধুলোতে জেগে আছে অনেক পায়ের ছাপ। খালি পায়ের ছাপ, জুতো পরা পায়ের ছাপ। অর্থাৎ মানুষের যাওয়া-আসা আছে এই সুড়ঙ্গে। একটু ইতস্তত করে দীপাঞ্জন এগোতে থাকল সুড়ঙ্গ বেয়ে। টানেলের মাঝে মাঝে দু-পাশে সার-সার ঘর। তাদের দরজাগুলো বন্ধ। বেশ কিছুটা এগোবার পর একটা বাঁকের মুখে একটা মৃদু আলোকরেখা দেখতে পেল সে। একটা ঘরের ভিতর থেকে আলোটা আসছে। মোবাইলের আলোটা নিভিয়ে দীপাঞ্জন সত্তর্পণে এসে দাঁড়াল ঘরের দরজাটার সামনে। পাল্লাটা অল্প একটু ফাঁক করা। আর সেই ফাঁক গলে আলো আর টুকরো-টুকরো কথাবার্তা ভেসে আসছে ঘরটার ভিতর থেকে। দীপাঞ্জন দরজার ফাঁকে চোখ লাগিয়ে একটু অদ্ভুত দৃশ্য দেখতে পেল। একটা মশাল জ্বলছে ঘরের ভিতর। তার আলোতে আলোকিত ঘরটা। ঘরের এক কোণে হাত বাঁধা অবস্থায় বসে আছেন বৃদ্ধ স্যামসন। তাঁর সাদা চুল সাদা দাড়ি রক্তে ভেজা। আর তাঁর সামনে দরজার দিকে পিছন ফিরে দাঁড়িয়ে আছে একজন বিশালদেহী রেড ইন্ডিয়ান। তার মাথায় ঈগলের পালকের সাজ। হাতে একটা চামড়ার চাবুক। বৃদ্ধের উদ্দেশে সে বলছে, ‘বল? টিকুটিকুর কবরটা কোথায়?’
তার কথায় বৃদ্ধ জবাব দিলেন, ‘কতক্ষণ ধরে তো বলছি, টিকুটিকুর কবর কোনটা আমি জানি না।’
রেড ইন্ডিয়ানটা বলল, ‘তুই জানিস। টিকুটিকুর কবরের গর্ত খোঁড়ানো হয়েছিল তোকে দিয়েই। কবরটা আমাদের চিনিয়ে দে।’
স্যামসন বললেন, ‘আর কতবার বলব যে আমি জানি না।’
তাঁর কথাটা শেষ হবার সঙ্গে-সঙ্গেই রেড ইন্ডিয়ানটার চামড়ার চাবুকটা আছড়ে পড়ল স্যামসনের মুখের ওপর। তার আঘাতে কুঁকড়ে উঠে আর্তনাদ করে উঠলেন বৃদ্ধ। চাবুকের আঘাতে একটা লাল রেখা ফুটে উঠল বৃদ্ধর মুখে। কাতর স্বরে তিনি বলে উঠলেন, ‘আমাকে ছেড়ে দাও। দোহাই তোমাদের। আমাকে আর মেরো না।’
ঠিক এই সময় ঘরের কোণা থেকে আর একটা কণ্ঠস্বর ভেসে এল রেড ইন্ডিয়ানটার উদ্দেশে ‘ওকে বলো যে আজ রাতের মধ্যে যদি ও কবরটা দেখিয়ে না-দেয় তবে কালো চামড়ার মানুষ বলে ওকে রেয়াত করব না। দেশে ফেরার আগে ওর দেহটা টুকরো-টুকরো করে কেটে পরিখার জলে ফেলে দেব।’
কণ্ঠস্বরটা শুনে দীপাঞ্জন তাকাল ঘরের অন্য কোণটার দিকে। যাকে সে দেখতে পেল তাকে দেখে সে চমকে গেল! কোম্বাটু? কিন্তু তা কী করে হয়? কিছুক্ষণ আগেই তো মিস্টার কোম্বাটুর সঙ্গে দেখা হল দীপাঞ্জনের। তবে পিগমি আকৃতির লোকটার কোম্বাটুর মতো আকৃতি আর মুখমণ্ডল হলেও তার পোশাকের রং ভিন্ন। তার গলা থেকে ঝুলছে একটা স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র। পিগমি আকৃতির হলেও এ অন্য একজন লোক। কে লোকটা? পিগমি আকৃতির লোকটার কথা শুনে দীর্ঘদেহী রেড ইন্ডিয়ানটা বলল, ‘আপনি তো দেখছেনই হুজুর যে আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি। কিন্তু এ বুড়োর পেট থেকে কথা বেরোচ্ছে না।’
বামনাকৃতির লোকটা বলল ‘চেষ্টা করো, চেষ্টা করো। আরও চাবুক চালাও। ওই শুটিং-এর লোকগুলো এসে সব গন্ডগোল করে দিল। তাদের সঙ্গে আবার কোম্বাটুও আছে। গতকাল রাতে তো আবার দুটো লোক কবরখানাতেও গেছিল। আমাদের অবশ্য দেখতে পায়নি তারা। কুয়াশার মধ্যে গা ঢাকা দিয়েছিলাম।’
লোকটার কথা শুনে রেডইন্ডিয়ানটা কিছু বলল। কিন্তু তা ভালো করে শুনতে পেল না দীপাঞ্জন। কারণ তার পকেটে সেলফোনটা বাজতে শুরু করেছে। তাড়াতাড়ি পকেট হাতড়ে মোবাইলটা বার করল দীপাঞ্জন। ফোনকলটা প্রফেসর জুয়ানের। দীপাঞ্জন যত দ্রুত সম্ভব যাতে শব্দটা কেউ শুনতে না-পায় সেজন্য ফোনটার সুইচ অফ করে দিল। কিন্তু এরই মধ্যে শব্দটা একজনের কানে পৌঁছে গেছিল। পিছনে একটা শব্দ শুনে দীপাঞ্জন ফিরে তাকিয়ে দেখল উলটো দিকের ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছে একজন ইরিগেট। তার হাতে ধরা একটা তলোয়ার। আলো-আঁধারির মধ্যে তার হিংস্র চোখ দুটো জ্বলজ্বল করছে! দীপাঞ্জন কিছু বোঝার আগেই লোকটা তলোয়ারের উলটো পিঠ দিয়ে আঘাত করল দীপাঞ্জনের মাথায়। আকস্মিক এই আঘাতে মাটিতে ছিটকে পড়ল দীপাঞ্জন। ঘরের ভিতর থেকেও অন্য লোকগুলো ছুটে বেরিয়ে এল এরপর। দীপাঞ্জনকে ধরে ফেলল তারা।
প্রচণ্ড আঘাতে কিছুক্ষণের জন্য জ্ঞান হারিয়েছিল দীপাঞ্জন। জলের ঝাপটায় জ্ঞান ফিরল তার। ততক্ষণে অবশ্য তার হাত বেঁধে ফেলেছে লোকগুলো। পা-ও বাঁধা হয়েছে তার। দেওয়ালের গায়ে ঠেস দিয়ে বসানো হয়েছে তাকে। সে চোখ মেলতেই দেখতে পেল তার সামনে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সেই বামন লোকটা। আর তার পিছনে দাঁড়িয়ে সেই ইরিগেট আর রেড ইন্ডিয়ানটা। আর ঘরের এক কোণে প্রায় সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পড়ে বৃদ্ধ স্যামসন। পিগমি আকৃতির লোকটা অস্ত্র উঁচিয়ে কর্কশ স্বরে প্রশ্ন করল, —তুই কোন দেশের লোক?’
দীপাঞ্জন জবাব দিল, ‘ইন্ডিয়া।’
তুই এই সুড়ঙ্গে এলি কেন?’ প্রশ্ন করল লোকটা।
দীপাঞ্জন জবাব দিল, ‘ঘুরতে-ঘুরতে নীচে নেমে এসেছি।’
রেড ইন্ডিয়ানটা এবার বামন লোকটার উদ্দেশে বলল, ‘এই লোকটাই কিন্তু আর একটা লোকের সঙ্গে কবরখানায় গেছিল গতরাতে। আমি ওকে দেখেই চিনতে পেরেছি।
কথাটা শুনে বামন লোকটা সন্দিগ্ধ ভাবে বলল, ‘ঠিক করে বল তুই কে? আমাদের ফলো করছিস? কে তোকে আমাদের পিছনে লাগিয়েছে? পুলিশ না কোম্বাটু?’
দীপাঞ্জন বলল, ‘কেউ না।’
দিয়ে জোরে আঘাত করল দীপাঞ্জনের মাথায়। গড়িয়ে পড়ল দীপাঞ্জন। সেই অবস্থাতেই ‘মিথ্যা কথা’—ওই বলে চিৎকার করে সেই পিগমি এগিয়ে এসে তার অস্ত্রটার বাঁট মুহূর্তের মধ্যে দীপাঞ্জন ভেবে নিল, যতক্ষণ তার জ্ঞান থাকবে ততক্ষণ এমনই মার খেতে হবে তাকে। তাই গড়িয়ে পড়ে মৃদু আর্তনাদ করে একদম স্থির হয়ে গেল সে।
বেঁটে লোকটা এরপর এগিয়ে এসে সজোরে লাথি ক্যাল দীপাঞ্জনের পাঁজরে। প্রচণ্ড লাগল দীপাঞ্জনের, কিন্তু সে কোনো শব্দ করল না।
আবারও একটা লাথি! কোনোরকমে সেটাও সহ্য করে নিল দীপাঞ্জন।
বেঁটে লোকটা বলল, ‘মনে হয় সত্যিই অজ্ঞান হয়ে গেছে।’
রেড ইন্ডিয়ানের পোশাক পরা লোকটা বলল, ‘এ লোকটাকে নিয়ে এখন কী করব? এখনই মেরে দেব?’
বেঁটে লোকটা বলল, ‘না, এখন থাক। ও তো আর পালাতে পারবে, না। মাঝরাত পর্যন্ত তো আমরা এ অঞ্চলে আছি। ওর ব্যবস্থা করার মতো সময় আমাদের হাতে আছে। ইরিগেট-সাজা লোকটা বলল, ‘আমাদের কি তবে কাল ভোরের আলো ফোটার আগেই যেতে হবে?’
বেঁটে লোকটা বলল, ‘হ্যাঁ, তাই। চার্টার্ড প্লেনের পাইলট আর থাকতে চাইছে না। বার-বার ফোন করছে আমাকে। প্লেনের মেরামতির অছিলাতে সে জরুরি অবতরণ করেছিল এখানকার এয়ারপোর্টে। সাতদিন হয়ে গেল। নেহাত শহর থেকে দূরে এটা একটা প্রাইভেট এয়ারপোর্ট আর সিকিউরিটির ব্যাপার তেমন নেই বলে সে প্লেনটা নিয়ে থেকে যেতে পেরেছে এখানে। কিন্তু গতকাল অ্যাভিয়েশন দপ্তর থেকে নাকি ফোন এসেছিল কেন সে উড়তে পারছে না সে ব্যাপারে খোঁজ নিতে। হয়তো তাদের কোনো সন্দেহ হয়েছে। তাই আর দেরি করা যাবে না। কালই আমাদের উড়ে যেতে হবে।’
রেড ইন্ডিয়ান সাগরেদটা বলল, ‘কিন্তু টিকুটিকুর জ্বরটা যদি আমরা খুঁজে না-পাই তবে তো খালি হাতেই ফিরে যেতে হবে আমাদের। এই যে এতদূর থেকে আসা, এত পরিশ্রম এ সবই তো নষ্ট হল আমাদের।’
এ কথা শুনে একটু চুপ করে থেকে হাসল বামনটা। তারপর বলল, ‘না, কবরটা খুঁজে পাই-না-পাই খালি হাতে ফিরব না আমি। সে ব্যবস্থা করতে শুরু করেছি আমি। কবরটা খুঁজে পেলে ভালো নইলে অন্য কিছু সঙ্গে নিয়ে যাব। তবে বুড়োটার থেকে কবরের খোঁজ পাবার শেষ একটা চেষ্টা করতে হবে।’
ইরিগেট-সাজা লোকটা বলল, ‘কবরটা খুঁজে না-পেলে আমরা সঙ্গে করে কী নিয়ে যাব?’
পিগমি আকৃতির লোকটা এবার বলল, ‘আমরা অনেকক্ষণ এখানে আছি। ওপরে কী ঘটছে তা একবার সুড়ঙ্গের মুখে উঠে দেখে আসা দরকার। বলা যায় না এই ইন্ডিয়ানটাকে অনুসরণ করে কেউ এখানে চলে আসতে পারে। চলো এবার ওপরটা দেখে আসা যাক। কবরটা না খুঁজে পেলে কী সঙ্গে নেব তোমাদের বলছি।’
ঘরের দরজার পাল্লাটা বন্ধ করে ঘর থেকে এরপর চলে গেল লোকগুলো।
