৫
দীপাঞ্জনদের ঘুম কিন্তু পাঁচটার অনেক আগেই ভেঙে গেল গাড়ির এঞ্জিনের শব্দ আর লোকজনের চিৎকার—হাঁকডাকের শব্দে। বার্ক দীপাঞ্জনদের সঙ্গে এখানে থাকলেও শুটিং ইউনিটের অন্যান্য সব লোকজন সন্ধ্যার আগেই তাদের প্রাথমিক কাজকর্ম ছেড়ে বাইরে কোথাও থাকতে চলে গেছিল। ভোরের আলো ফোটার আগেই ফিরে এসেছে তারা। সকালবেলা থেকেই শুটিং শুরু হবে যে। জেনারেটর কারের ধকধক শুরু হল। আলো জ্বালিয়েই কাজ শুরু করে দিল বার্কের লোকজন। ভোর পাঁচটা নাগাদ যখন দীপাঞ্জন দরজা খুলল তখন বাইরে অনেক লোক চোখে পড়ল দীপাঞ্জনদের। যদিও তখনও ভোরের কুয়াশা ভালো করে কাটেনি। চিত্র পরিচালক বার্ককেও দেখতে পেল তারা। হাতে একটা ক্লিপবোর্ডের মধ্যে একতাড়া কাগজ নিয়ে তিনি এদিক ওদিক ছোটাছুটি করে নানা রকম নির্দেশ দিচ্ছেন তাদের লোকদের।
ঠিক ছ’টায় দীপাঞ্জনদের ঘরসহ সব ঘরে প্রাতরাশ পৌঁছে গেল। প্রাতরাশ খেয়ে তৈরি হয়ে নিয়ে ঠিক সাতটায় দীপাঞ্জনরা বাইরে বেরোল। অন্যরাও ধীরে-ধীরে তাদের সঙ্গে নির্দিষ্ট জায়গাতে জমায়েত হলেন। প্রযোজক কোম্বাটুর গাড়ি ঢুকল প্রবেশ তোরণ দিয়ে। গাড়ি থেকে নেমে কোম্বাটু সোজা উপস্থিত হলেন দীপাঞ্জনদের কাছে। আর তাকে দেখেই দু-জন অনুচরকে নিয়ে পরিচালক বার্ক ছুটতে ছুটতে এসে পৌঁছলেন সে জায়গাতে। জুয়ান-দীপাঞ্জনদের পুরো দলটার সঙ্গে প্রভাতী সৌজন্য-সম্ভাষণ বিনিময়ের পর কোম্বাটু বললেন, ‘আমিও কিন্তু অভিনয় করব। বলা বাহুল্য পিগমির চরিত্রেই। কারণ মেকআপ দিয়েও তো আমার মতো খর্বাকৃতি কাউকে বানানো যাবে না। আজ কিন্তু আমার বেশ গর্ব হচ্ছে আমার এই চেহারার জন্য।’—কথাগুলো বলে হাসলেন তিনি।
পরিচালক বার্ক এবার বললেন, ‘ওদিকের কাজ মোটামুটি শেষ। চলুন এবার মেকআপ রুমে যাওয়া যাক। শুটিং সিডিউল তো আপনাদের প্রত্যেকের কাছে দেওয়াই আছে। প্রথম শ্যুটটা হবে পরিখা ঘেরা জায়গার ভিতর। মিস্টার পাউল যেখানে ইরিগেটের ভূমিকায় অভিনয় করবেন। সাপলিও আর মার্টিন আপনাদেরও মেকআপ নিতে হবে শ্বেতাঙ্গ গার্ডদের ভূমিকাতে অভিনয় করার জন্য।
কাছেই একটা পরিত্যক্ত ঘরকে মেকআপ রুম বানানো হয়েছে। বিরাট আয়না বসানো হয়েছে, জেনারেটারের সাহায্যে আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেকআপম্যানরা আগে থেকেই হাজির সেখানে। বাক্সপ্যাটরা থেকে তারা কস্টিউম ইত্যাদি বাইরে বের করে রেখেছে। তার মধ্যে একটা জিনিসে চোখ আটকে গেল দীপাঞ্জন আর জুয়ানের, ঈগল পাখির পালক লাগানো রেড ইন্ডিয়ানদের সাজ। রেড ইন্ডিয়ান দলপতিরা এই পালকের সাজ ব্যবহার করত। মাথার ওপর থেকে সূর্যের ছটার মতো এ সাজ নেমে আসত কাঁধের নীচ পর্যন্ত। জুয়ান আগ্রহ ভরে সাজটা তুলে নিয়ে কাছে দাঁড়ানো একজন মেকআপম্যানকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘এখানে কি ঈগল আছে? এই ঈগলের পালক কোথা থেকে পান আপনারা?’
লোকটা হেসে বলল, ‘না স্যার। এদেশে ছোটখাটো কিছু ঈগল পাওয়া গেলেও, এতবড় ঈগল পাওয়া যায় না। এই ঈগলের পালক আমেরিকা থেকে আনাতে হয়।’
দীপাঞ্জনও জিনিসটা হাতে নিয়ে দেখল। তারপর জিনিসটা যথাস্থানে রেখে দিল।
দীপাঞ্জন আর জুয়ানের শট দুপুরের দিকে লাঞ্চ ব্রেকের ঠিক আগে। তাদের পরে মেকআপ নিলেও চলবে। পাউল সাপলিও আর মার্টিন মেকআপ নিতে বসলেন। পাউলকে পোশাক খুলিয়ে দেহের নীচের অংশে পরানো হল পাতার সাজ। নাকে-কানে হাড়ের গয়না। গায়ে মাখানো হতে থাকল লালচে রং। আঁকা হতে থাকল বিচিত্র উল্কি। ধীরে-ধীরে মেকআপম্যানদের হাতের ছোঁয়াতে দীপাঞ্জনদের চোখের সামনে ফুটে উঠতে লাগল ফিলিপিন্সের দুর্ধর্ষ নরমুণ্ড-শিকারি উপজাতি ইরিগেটের মূর্তি। মার্টিন আর সাপলিওকেও পরানো হল পঞ্চাশ-ষাট বছর আগেকার শ্বেতাঙ্গ গার্ডদের পোশাক। তবে তাদের মেকআপ পাউলের মতো বেশি নয়। পোশাক আর কাঁধে বন্দুক। আল মামুনও কাছে দাঁড়িয়ে তাদের মেকআপ নেওয়া দেখছিলেন। তিনি হঠাৎ বার্ককে প্রশ্ন করলেন, ‘ইরিগেটের হাতে কোনো অস্ত্র থাকবে না?’
পরিচালক বার্ক বললেন, ‘জঙ্গলচারী ইরিগেটরা নরমুণ্ডচ্ছেদের জন্য একধরনের তলোয়ার ব্যবহার করত ঠিকই। কিন্তু এখানে বন্দিদশায় ইরিগেটদের হাতে তলোয়ার বা রেড ইন্ডিয়ানদের তিরধনুক বা মাসাইদের বর্শা কখনওই দেওয়া হত না নিরাপত্তার কারণে। রেড ইন্ডিয়ান আর মাসাইদের চামড়ার বা কাঠের বাজনা দেওয়া হত অনেকসময় দর্শকদের মনোরঞ্জন করার জন্য।’
কথাটা শুনে আল মামুন যেন বিড়বিড় করে বললেন, ‘সেই ইরিগেটটার হাতে তলোয়ার ছিল।’
তার কথাটা খেয়াল করলেন না বার্ক। দীপাঞ্জনের মনে হল আল মামুন যেন ভুলতে পারছেন না গতকালের দেখা দৃশ্যটার কথা
ইরিগেট আর গার্ডদের মেকআপ এক সময় শেষ হল। অন্য কিছু লোকজন মেকআপ নিতে বসলেন। বার্ক পাউলদের নিয়ে চলল শুটিং-স্পটের দিকে। তাদের সঙ্গে ব্যাপারটা দেখার জন্য এগোল দীপাঞ্জন, জুয়ান আর মিস্টার কোম্বাটু। তাদের পরে মেকআপ নিলেও চলবে। সবাই গিয়ে হাজির হল পরিখার প্রাচীর ঘেরা জায়গাটার সামনে। প্রাচীর থেকে নীচের পরিখা অতিক্রম করে একটা একটা লম্বা সিঁড়ি নামানো হয়েছে নিচের জমিটাতে। ইতিমধ্যে সে জমিতে নেমে নানা মাপজোক করছে পিছু লোক। একটা ক্যামেরাও বসানো হয়েছে সেখানে। আর একটা ক্যামেরা প্রাচীরটার ওপাশে একটা ক্রেনের মাথার ওপর বসানো। বার্ক প্রাচীরের গায়ের একটা নির্দিষ্ট অংশ দেখিয়ে বললেন, ‘মিস্টার কোম্বাটু আপনারা ওই জায়গাতে গিয়ে দাঁড়ান। ওখান থেকে শুটিং দেখুন। ও জায়গা ক্যামেরার ফ্রেমে আসবে না।’ তার পরামর্শ মতো কোম্বাটুর সঙ্গে দীপাঞ্জনরা গিয়ে দাঁড়াল সে জায়গাতে। মার্টিন আর সাপলিওকে কোথায় দাঁড়িয়ে কী করতে হবে বুঝিয়ে দিয়ে বার্ক, পাউলকে নিয়ে প্রাচীর টপকে সিঁড়ি বেয়ে পরিখার ওপর দিয়ে নামতে লাগলেন নিচের জমিটাতে। জুয়ান বললেন, ‘এভাবে নিশ্চয়ই ইরিগেটদের নিচে নামানো হত। এছাড়া তো নিচে নামার অন্য কোনো উপায় দেখছি না।’
কোম্বাটু মন্তব্য করলেন, ‘সম্ভবত তাই হবে।
দীপাঞ্জন বলল, ‘আচ্ছা, ইরিগেটরা কি সাঁতার জানত না? পরিখাটা গভীর আর হাত কুড়ি চওড়া ঠিকই। কিন্তু সাঁতার জানলে এই পরিখা টপকে দেওয়ালের খাঁজ বেয়ে এই ছোট প্রাচীরের ওপর ওঠা খুব একটা কষ্টকর নয়।’
কোম্বাটু এরপর বললেন, ‘হয়তো-বা তাই হবে।’
পাউলকে নিয়ে জমিটাতে নেমে পড়েছেন বার্ক। সেদিকে তাকিয়ে কোম্বাটু বললেন, এই তথ্যচিত্র যেটা তৈরি হচ্ছে, এটা আমার কাছে একটা স্বপ্নের মতো ব্যাপার। আমার পরিবার-পরিজনরাও খুব উৎসাহিত ব্যাপারটা নিয়ে। তারা সবাই কিন্তু আমার মতোই খর্বাকৃতির।’
জুয়ান জিজ্ঞেস করলেন, ‘কে কে আছেন আপনার পরিবারে?’
কোম্বাটু বললেন, ‘স্ত্রী, কন্যা, বৃদ্ধা মা। তাদের সবাইকে নিয়েই আমি আফ্রিকাতে ফিরে যাব। আরও একজন অবশ্য ছিল। সে অবশ্য তার ব্যাবসা বিক্রি করে অনেক আগেই কোথাও চলে গেছে।’
‘কে তিনি?’—প্রশ্ন করলেন জুয়ান।
মৃদু দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে কোম্বাটু বললেন, ‘আমার বৈমাত্রেয় ভাই।’
পারিবারিক ব্যাপারে বেশি প্রশ্ন করা শিষ্টাচার-বিরোধী। তাই আর তাকে কোনো প্রশ্ন করল না দীপাঞ্জনরা
কিছুক্ষণের মধ্যেই শুটিং শুরু হল। ক্ল্যাপস্টিক পড়ল। ফাঁকা জমিটার মধ্যে দিয়ে ধীরে ধীরে পরিখার ধারে এগিয়ে এসে দাঁড়াল ইরিগেটবেশী পাউল। আর গার্ডরূপী মার্টিন আর সাপলিও প্রাচীর থেকে ঝুঁকে পড়ে নিচের জমিতে দাঁড়িয়ে থাকা ইরিগেটের দিকে রুটির টুকরো ছুড়ে দিতে দিতে হাসতে-হাসতে বলতে লাগল—‘ওয়াইল্ড ডগ। ওয়াইল্ড ডগ!—বুনো কুত্তা!’ আর অসহায় ইরিগেট রুটির টুকরোগুলো তুলে মুখে দিতে লাগল। তবে একেবারে এ দৃশ্য নেওয়া গেল না। কারণ, কখনও পাউলের পরিখার ধারে দাঁড়ানো ঠিক হল না, অথবা মার্টিন-সাপলিওর রুটি ছোড়া ঠিক হল না। বার-তিনেক দৃশ্যটার পুনরাবৃত্তির পর পরিচালক বার্ক জানালেন ‘শট ওকে।’ জমিটা ছেড়ে আবার মই বেয়ে ওপরে উঠে এলেন বার্ক আর পাউল।
এর পরের শটের বন্দোবস্ত করা হয়েছে একটা ফেনসিং ঘেরা জায়গাতে। দীপাঞ্জনেরা হাজির হল সেখানেও। ক্যামেরা-ট্যামেরা নিয়ে সে জায়গাতে শুটিং-এর প্রস্তুতি শুরু করলেন বার্ক। ইতিমধ্যে সেখানে মেকআপ নিয়ে হাজির হয়েছেন টোগো আর আল মামুন। গায়ে কালো রং মাখিয়ে আল মামুনকে নিগ্রো সাজানো হয়েছে। টোগো আর মামুন দুজনেরই কটিদেশে নামমাত্র পোশাক। টোগোর বাহুতে এক গোছা ধূসর লোম বাঁধা! সিংহের লোম। আর মামুনের উন্মুক্ত বুকে লাল সুতোতে ঝুলছে কোনো একটা প্রাণীর দাঁত। চেহারাতে মেকআপের সাহায্যে একটা রুক্ষ ভাব ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। মাসাই বন্দিদের ভূমিকাতে অভিনয় করবেন তাঁরা।
শুটিং দেখছিল দীপাঞ্জন আর জুয়ান। হঠাৎ একজন লোক এসে বলল, ‘স্যার এবার মেকআপ রুমে চলুন। পরের শটের জন্য মেকআপ নিতে হবে।’
লোকটার সঙ্গে দীপাঞ্জনরা এগোল মেকআপ রুমের দিকে।
কিছুক্ষণ পর মেকআপ শেষে দীপাঞ্জন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখে চমকে গেল। আয়নার সামনে যেন দীপাঞ্জন নয় কোনো এক তাতারের মূর্তি ছবির বইয়ের পাতা থেকে এসে দাঁড়িয়েছে। পরনে পশুচর্মের পোশাক, পরচুলটা মাথার ওপর ঝুঁটি করে বাঁধা। সারা মুখ আর দেহের চামড়াতে ফুটে আছে একটা রুক্ষতা। ঠিক যেমন থাকত তাতারদের। যেন একটু আগেও কোনো রুক্ষ পার্বত্য মরু অঞ্চলে ঘোড়া ছুটিয়ে বেড়াচ্ছিল সে। নিজেকে দেখে অবাক হয়ে গেল দীপাঞ্জন। প্রফেসর জুয়ানকেও সাজানো হল এক পীত উপজাতির সাজে। লম্বা বেণি ঝুলছে তার উন্মুক্ত পিঠে।
কিছুক্ষণের মধ্যেই দীপাঞ্জনদের ডাক এল। তবে খোলা জায়গাতে নয়, তাদের ছবি নেওয়া হবে গরাদঘেরা খাঁচায় নবাগত বন্দির ভূমিকাতে। সে জায়গাতে যাবার পর পরিচালক বার্ক দীপাঞ্জনকে প্রথমে তার শটটা বোঝালেন। আলো আর ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে চারপাশে। ব্যাপারটা বুঝে নিয়ে বার্কের কথামতো গরাদের ভিতর প্রবেশ করল দীপাঞ্জন। তারপর গরাদ ধরে দাঁড়িয়ে যথাসম্ভব বিষণ্ণভাব ফুটিয়ে তুলে গরাদ ঝাঁকিয়ে তা ভাঙার চেষ্টা করতে লাগল দীপাঞ্জন। বার্ক একসময় বললেন, ‘কাট’। আলো নিভে গেল। দীপাঞ্জন গরাদের বাইরে বেরিয়ে আসতেই পরিচালক বার্ক বললেন, ‘খুব ভালো অভিব্যক্তি ফুটিয়ে তুললেন আপনি। জীবনে প্রথমবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালেন দেখে তা মনে হল না।’
তার কথা শুনে হাসল দীপাঞ্জন।
এরপর জুয়ানের শটটাও নেওয়া হল কাছেই একটা খাঁচার মধ্যে। ঘরের মধ্যে রাখা একটা পাথরের থালা থেকে পশুর মতো জল চেটে খাচ্ছে এক মোঙ্গলয়েড বন্দি।—এ দৃশ্যটা ক্যামেরায় ধরে রাখা হল। এ দৃশ্যটা তোলার পর বার্ক বললেন, ‘এ বেলার মতো কাজ শেষ। বিকালে শুধু তুর্গিনেভের শটটা নেব। শেষ বিকালের আলোতে ফেনসিং ঘেরা জায়গার মধ্যে একলা দাঁড়িয়ে আছে একজন এস্কিমো। ওরাই সবচেয়ে কম বাঁচত এখানে এসে। মাত্র কয়েক মাস। খুব ঠান্ডার দেশের মানুষ ওরা। এ জায়গা ঠান্ডা হলেও ওদের কাছে গরমের দেশ। এস্কিমোদের যখন এখানে আনা হত তখন টিকিটের দাম বেশি করা হত। কারণ সারা বছর তো তাদের লোক দেখতে পেত না। মারা যেত তারা। এখানকার গরমেও তাদের মোটা পোশাক পরানো হত।’ দীপাঞ্জনরা সে জায়গা থেকে এরপর প্রথমে ফিরে এল মেকআপ রুমে। সেখান থেকে মেকআপ তুলে নিজেদের পোশাক প’লটে যখন ঘরে ফিরল তখন বেলা প্রায় দুটো। খাবার এসে গেল। খাওয়া সেরে বিছানায় শুয়ে পড়ল দীপাঞ্জনরা। জুয়ান ঘুমিয়ে পড়লেন। কিন্তু দীপাঞ্জনের ঘুম আসছে না। বিছানায় শুয়ে এপাশ-ওপাশ করতে লাগল সে। তারপর একসময় বিছানা ছেড়ে উঠে দরজা খুলে ঘরের বাইরে এসে দাঁড়াল। নিঝুম দুপুর। কোনো চিৎকার চেঁচামেচির শব্দ নেই। শুটিং ইউনিটের লোকগুলো এখানে ওখানে বসে চুপচাপ ঝিমুচ্ছে। রাত শেষ না হতেই কাজে লেগেছিল তারা। ক্লান্তি তো লাগবেই।
ধীরে-ধীরে হাঁটতে-হাঁটতে দীপাঞ্জন পৌঁছে গেল প্রবেশ তোরণের কাছে। ঠিক তখনই সে দেখতে পেল একটা ঘরের ভিতর থেকে বেরিয়ে আসছেন মার্টিন বার্ক আর কোম্বাটু মৃদু চিন্তার ভাব যেন তাদের চোখেমুখে। দীপাঞ্জনের সামনে এসে দাঁড়াল তারা। মার্টিন, দীপাঞ্জনকে বললেন, ‘সারাদিন বুড়ো স্যামসনকে একবারও দেখেছেন আপনারা?’
দীপাঞ্জন বলল, ‘না, দেখিনি।’
মার্টিন আর কোম্বাটু বললেন, ‘আমরাও তো দেখিনি কেউ। দুপুরে যে ওর ওই ঘরে খাবার দিতে এসেছিল সে ফিরে গিয়ে জানাল সে তার ওই ঘরে নেই। দুপুরে পর্যন্ত তো কাজে ব্যস্ত ছিলাম সবাই। তাই তার খেয়াল রাখিনি।’
মার্টিন দুশ্চিন্তার স্বরে বললেন, ‘স্যামসন কিন্তু এ জায়গা ছেড়ে কোথাও যায় না। ইদানীং ওর মাথাটা যেন বেশি গন্ডগোল করছে। ভুলভাল দেখছেন। তাই বেশি দুশ্চিন্তা লাগছে। কোথায় গেলেন কে জানে?’
বার্ক বললেন, ‘এত বড় জায়গা। তিনি হয়তো এখানেই কোথাও আছেন। আপাতত আমাকে বিকালের শুটিং-এর ব্যবস্থা করতে হবে। তারপর না হয় তাকে খুঁজব।’ বার্ক এ কথা বলার পর দীপাঞ্জনের থেকে বিদায় নিয়ে তারা তিনজন কাজে এগোলেন।
