৮
বার্কের ঘরে গিয়ে তারা চারজন বসলেন। বাইরের পৃথিবী থেকে শেষ আলোটাও মুছে গেল। কুয়াশাও গাঢ় হয়ে নামতে শুরু করেছে। একটা পেট্রোম্যাক্স জ্বালিয়ে নিয়ে সে ঘরে বসলেন তারা। কখনও শুটিং-এর প্রসঙ্গ আর তার সঙ্গে-সঙ্গে স্যামসন আর দীপাঞ্জন কোথায় যেতে পারেন সে ব্যাপারে আলোচনা করতে লাগলেন সকলে। সময় এগিয়ে চলল। জুয়ান যে কতবার দীপাঞ্জনের ফোনে ফোন করলেন তার হিসাব নেই। বলা বাহুল্য, প্রতিবারই ফোন বন্ধ পেলেন।
এক সময় রাত আটটা বাজতে চলল। জুয়ান আর ঘরে বসে না-থাকতে পেরে চেয়ার ছেড়ে উঠে বললেন, আমি আর একবার বাইরেটা ভালো করে খুঁজে আসি।’
তার দেখাদেখি অন্যরাও চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালেন। মার্টিন বললেন, ‘হ্যাঁ, চলুন, সকলে মিলে শেষ একবার ভালো করে খুঁজে দেখি। যদি তাদের না-পাওয়া যায় তবে পুলিশকে এবার ফোন করে জানাতে হবে।’
জুয়ানরা এরপর এগোতে যাচ্ছিলেন দরজার দিকে, ঠিক তখনই দরজার পাল্লাটা খুলে গেল। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে সেই বাক্স নিয়ে আসা লোকটা। জুয়ানদের উদ্দেশে লোকটা বলল, ‘স্যামসন ফিরে এসেছেন। আর তাঁর সঙ্গে একজন ইন্ডিয়ানও আছেন। তারা আপনাদের এখনই ডাকছেন।’
ইন্ডিয়ান! অর্থাৎ তবে দীপাঞ্জন ফিরে এসেছে। জুয়ান ব্যগ্রভাবে জানতে চাইলেন, ‘কোথায় তাঁরা?’
লোকটা বলল, ‘ওই যে-ঘরে বাক্স রাখলাম সে-ঘরেই আছেন তাঁরা।’
মার্টিন বলে উঠলেন, ‘যাক এবার নিশ্চিন্ত হওয়া গেল। আমি বেশ ঘাবড়ে গেছিলাম।’ কোম্বাটু বলল, ‘চলুন আগে গিয়ে দেখি তারা এতক্ষণ কোথায় ছিলেন?
জুয়ানরা ঘরের বাইরে বেরিয়ে লোকটার সঙ্গে এগোল যে ঘরে বাক্স রাখা আছে সেদিকে। বেশ বড় চাঁদ উঠেছে আকাশে। সম্ভবত পূর্ণিমার চাঁদ। চারপাশ কুয়াশা আর চাঁদের আলোতে মাখামাখি। কোথাও কেউ নেই। যে সার-সার ঘরগুলোতে অন্যরা আছেন, সে ঘরগুলো সব বন্ধ। নিশ্চয়ই তারা নিজেদের ঘরে বিশ্রাম নিচ্ছেন। শুটিং-এর কাজে সবাই অল্প-বিস্তর পরিশ্রম করেছেন। সে ঘরগুলো পেরিয়ে নির্দিষ্ট ঘরের সামনে পৌঁছে গেলেন তাঁরা। সে ঘরটার মধ্যে একটা মশালের মতো আলো জ্বলছে। লোকটার সঙ্গে ঘরে ঢুকে জুয়ানরা দেখলেন, হ্যাঁ, একটা মশাল গোঁজা আছে বড় ঘরটার এক পাশের দেওয়ালে। বাক্সগুলো সার বেঁধে ঘরের ঠিক মাঝখানে রাখা। কিন্তু দীপাঞ্জন আর স্যামসন কই?
জুয়ান প্রশ্ন করলেন, ‘তারা দু-জন কোথায়?’
সে লোকটা বলল, ‘ওরা বাক্সের পিছনে বসে আছেন।’
বাক্সের পিছনে বসে আছে কেন? কথাটা শোনার সঙ্গে সঙ্গে জুয়ানরা ঘরের মাঝখানে বাক্সগুলোর কাছে এগিয়ে গেলেন, তারপর উঁকি দিলেন বাক্সগুলোর পিছনে।
কিন্তু বাক্সগুলোর আড়ালে কেউ নেই!
জুয়ান লোকটার উদ্দেশে বললেন, ‘কই কেউ কোথাও নেই তো?
লোকটা জুয়ানের কথার কোনো জবাব না-দিয়ে দাঁত বার করে হাসতে লাগল।
মার্টিন এই দেখে লোকটাকে বললেন, ‘তুমি কি আমাদের সঙ্গে মজা করছ?’
হ্যাঁ, একটু মজা করলাম। তোমার শ্বেতাঙ্গ পূর্বপুরুষরা এর থেকে অনেক বেশি মজা করত মানুষদের নিয়ে। যে দুজনকে তোমরা খুঁজছ তাদেরও হয়তো আনা হবে এ ঘরে। তবে তোমাদের অন্য সঙ্গীরা এ ঘরে আছে। বাক্সের ডালা খোলো তাহলেই বুঝতে পারবে। —কথাগুলো ভেসে এল যে দরজা দিয়ে জুয়ানরা ঘরে ঢুকেছেন তার একপাশের কোণ থেকে। জুয়ানরা দেখার চেষ্টা করতে লাগলেন অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটাকে। আর তার সঙ্গে-সঙ্গেই মার্টিন খুলে ফেললেন সামনের বাক্সের ডালাটা। জুয়ানরা বাক্সের ভিতরে তাকিয়ে দেখলেন, তার মধ্যে হাত-পা দুমড়ে-মুচড়ে শুয়ে আছেন তুর্গিনেভ! একদম নড়াচড়া করছেন না তিনি! সঙ্গে-সঙ্গে পরের বাক্সটার ডালা তুললেন কোম্বাটু। তার ভিতরে একইভাবে শুয়ে আছেন পাউল। জুয়ানরা বুঝতে পারলেন অন্য বাক্সগুলোর মধ্যেও শুয়ে আছেন অন্যরা!
মার্টিন লোকটার দিকে ফিরে বললেন, ‘কী হয়েছে ওদের? অন্ধকারের মধ্যে কে আছেন? বাইরে বেরিয়ে আসুন।’
হ্যাঁ, এবার সত্যি অন্ধকারের মধ্যে থেকে বেরিয়ে এল একটা লোক। ঠিক কোম্বাটুর মতোই খর্বাকৃতির একটা লোক! তার গলা থেকে ঝুলছে চামড়ার ফিতে বাঁধা একটা স্বয়ংক্রিয় রাইফেল। তার নলটা সোজা তাগ করা জুয়ানদের দিকে। কয়েক-পা এগিয়ে এসে লোকটা বলল, ‘ওদের এখনও কিছু হয়নি। ওরা একে-একে এসে বাক্সের মধ্যে ঢুকে পড়ল। আর ডালা বন্ধ করার পরে ডালার ওপরের ফুটো দিয়ে কয়েক ফোঁটা করে ক্লোরোফর্ম ভিতরে ঢেলে দেওয়া হয়েছিল। আপাতত অজ্ঞান হয়ে আছে ওরা। ঘুমোচ্ছেও বলা যায়।’ কথাগুলো বলে হাসল লোকটা।
তার কথা শুনে হতবাক হয়ে গেলেন জুয়ানরা।
আর এরপরই মিস্টার কোম্বাটু বলে উঠলেন, ‘আরে টিম্বাকু তুমি? গরাদের বাইরে বেরোলে কবে?’
টিম্বাকু নামের বামন লোকটা বলল, ‘বছর তিনেক আগে। তারপর আমাদের পূর্বপুরুষের মাটি আফ্রিকায় ফিরে গেছিলাম। একটা কাজে আবার এখানে ফিরে এসেছি।’ কথাগুলো বলে আবারও হাসল লোকটা।
জুয়ান, কোম্বাটুকে প্রশ্ন করলেন, ‘ও লোকটাকে আপনি চেনেন?’
কোম্বাটু জবাব দিলেন, ‘হ্যাঁ, চিনি।’
‘কে ও? সঙ্গে-সঙ্গে প্রশ্ন করলেন জুয়ান।’
একটু ইতস্তত করে কোম্বাটু বললেন, ‘হ্যাঁ, চিনি। যার কথা আপনাদের বলেছিলাম। এ আমার সেই বৈমাত্রেয় ভাই।’ কোম্বাটুর কথা শুনে বেশ শব্দ করে হেসে উঠল টিম্বাকু নামের লোকটা। তারপর কোম্বাটুর উদ্দেশে বলল, ‘যাক, বৈমাত্রেয় হলেও আজকে তুমি আমাকে তোমার ভাই বলে পরিচয় দিলে। আমি তো শুনেছি যে তুমি আমাকে ‘ভাই’ বলে পরিচয় দিতে নাকি লজ্জা পাও?’
কোম্বাটু বললেন, ‘হ্যাঁ, সেটাই স্বাভাবিক। যে মানুষ খুনের চেষ্টায় ধরা পড়ে জেলে যায়, তাকে ভাই বলে পরিচয় দিতে সত্যি আমার লজ্জা হয়।
কথাটা শুনে টিম্বাকু চিৎকার করে বলে উঠল, ‘কে মানুষ? যাকে মারতে গেছিলাম সে মানুষ নয়, কুকুর। শ্বেতাঙ্গদের আমি মানুষ বলে মনে করি না, ঠিক যে একদিন তারা করত না আমাদেরও।’
তারপর সে বলে উঠল, ‘বেশি কথা বলে লাভ নেই। একপাশে ওই যে চারটে বাক্স আছে ওর মধ্যে ঢুকে পড়ো একে-একে।’ মার্টিন এ কথা শুনে বলে উঠলেন, ‘কী বলছ তুমি? আমরা বাক্সের মধ্যে ঢুকতে যাব কেন?
টিম্বাকু শান্ত গলায় জবাব দিল। আমি তোমাদের ওই বাক্সবন্দি করে প্লেনে চাপিয়ে নিয়ে যাব মধ্য আফ্রিকার একটা ছোট্ট দেশ আমাদের জন্মভূমিতে।
কোম্বাটু এবার বলে উঠলেন, ‘তুমি কি পাগল হয়ে গেছ টিম্বাকু। সেখানে তুমি সবাইকে নিয়ে গিয়ে কী করবে?’
টিম্বাকু বলে উঠল, ‘একটা ‘হিউম্যান জু’ বানাব সেখানে। সাদা চামড়ার লোকগুলোকে সেখানে রাখব প্রথমে। ঠিক যেমন আমাদের পূর্বপুরুষদের খাঁচায় আটকে রাখত এই শ্বেতাঙ্গ কুকুরেরা।’
কোম্বাটু বললেন, ‘তুমি কি জানো না যে ‘হিউম্যান জ্যু’ সারা পৃথিবী থেকে উঠে গেছে? ও দেশের সরকারও তোমাকে এ কাজে অনুমতি দেবে না।
টিম্বাকু বলল, ‘আফ্রিকার প্রত্যন্ত অঞ্চলে জঙ্গল-ঘেরা পরিবেশে আমার চিড়িয়াখানার খোঁজই পাবে না সরকার। আর তা পেলেও তা নিয়ে খুব বেশি মাথা ঘামাবে না সরকার। তারা তো সারা বছরই ব্যস্ত থাকে পড়শি দেশের সঙ্গে ঝগড়া করার কাজে বা দেশের অভ্যন্তরে বিদ্রোহ দমনের কাজে। তবে কিছু মানুষকে আমি নিজে থেকে খবর দেব। আফ্রিকা মহাদেশের বিভিন্ন দেশে এখনও এমন অনেক পয়সাওলা মানুষ আছে যারা নিজেরা বা তাদের পূর্বপুরুষরা কোনো-না-কোনোভাবে অত্যাচারিত হয়েছে বর্বর শ্বেতাঙ্গদের দ্বারা। শ্বেতাঙ্গদের প্রতি এখনও যাদের ঘৃণা বোধ আছে। তাদের মোটা পয়সার বিনিময়ে আমি আমার চিড়িয়াখানা দেখাব। আমার তাতে পয়সা হবে আর তারাও তৃপ্ত হবে এ চিড়িয়াখানা দেখে। তবে কালো মানুষদের নিয়ে কী করব তা আমি ভাবিনি।
বার্ক কথাটা শুনে বলে উঠল, ‘তুমি তো সত্যি পাগল মনে হচ্ছে!’
টিম্বাকু সঙ্গে-সঙ্গে বলে উঠল, চুপ কর কুকুর। চুপচাপ বাক্সের মধ্যে ঢুকে যা। নইলে ফল ভালো হবে না। ওই লোকটাকে দেখ ভালো করে। বাক্সের ভিতরে না-ঢুকলে মরতে হবে।’—এই বলে টিম্বাকু দেওয়ালের অন্য কোণে জুয়ানদের দৃষ্টি আকর্ষণ করল। জুয়ানরা সেদিকে তাকিয়ে দেখলেন সেখান থেকে বেরিয়ে এসেছে ভীষণ দর্শন এক লোক। তার পরনে ইরিগেটদের মতো পোশাক, উল্কি। হাতে ধরা আছে একটা তলোয়ার। হিংস্র দৃষ্টিতে সে তাকিয়ে আছে জুয়ানদের দিকে।
লোকটাকে দেখিয়ে টিম্বাকু এর পর বলল, ওর নাম মোচে। ও ইরিগেট সেজেছে শুধু নয়, ওর পূর্বপুরুষরা কিন্তু সত্যি ইরিগেট ছিল। জানো তো ইরিগেটরা এক সময় নরমুণ্ড শিকার করত? খুন করার ব্যাপারটা ওর রক্তের মধ্যে এখনও আছে। পোশাকটা নকল হলেও ওর হাতের খড়্গগটা কিন্তু নকল নয়। এ পর্যন্ত পাঁচটা লোককে মেরেছে ও। ফাঁসির সাজা হয়েছিল ওর। জেল ভেঙে পালাবার পর আমিই ওকে আশ্রয় দেই। আমার এই ইশারাতে ও তোমাদের মুন্ডু কেটে ফেলবে। আর সময় নষ্ট না-করে একে-একে বাক্সের মধ্যে ঢুকে যাও। যেমন অন্যরা ঢুকেছিল
জুয়ান বিস্মিতভাবে বললেন, ‘তোমরা আমাদের সঙ্গীদের এখানে আনলে কীভাবে?’ টিম্বাকু বলল, ‘এক-এক করে তাদের এ-ঘরে ডাকিয়ে আনা হয়েছিল, তোমরা তাদের এখানে ডাকছ এ কথা বলে। তারপর মোচের খড়গের ভয়ে তারা বাক্সতে ঢুকে গেল নিজেরাই। তারপর…’
টিম্বাকুর কথা শেষ হবার আগেই মার্টিন চিৎকার করে বলে উঠল, ‘শয়তান! তুই ভেবেছিস তোর কথা শুনে আমরা বাক্সে ঢুকে যাব?’ এ কথা বলে টিম্বাকুর দিকে এগোল মার্টিন। কিন্তু টিম্বাকুর কাছে পৌঁছতে পারল না সে। মার্টিনকে লক্ষ করে গুলি চালিয়ে দিল টিম্বাকু। আর্তনাদ করে মেঝেতে ছিটকে পড়ল মার্টিন। কয়েক মুহূর্তের জন্য ধোঁয়ায় অদৃশ্য হয়ে গেল ঘণ্টা। আর যেটা কেটে যাবার পরই জুয়ানরা দেখতে পেলেন মাটিতে নিস্পন্দভাবে পড়ে আছে মাটিন। রক্তে ভেসে যাচ্ছে তার দেহ। মোচেও এবার তার অস্ত্রটা তুলে ধরে কিছুটা এগিয়ে এল জুয়ানদের দিকে। যে লোকটা জুয়ানদের ডেকে এনেছিল সে এবার টিম্বাকুকে বলল, ‘দেরি করা যাবে না। আমি গাড়িতে যাচ্ছি। লোকগুলোকে বাক্সে ভরে তাড়াতাড়ি গাড়িতে ওঠান।’ টিম্বাকু জুয়ানদের উদ্দেশে বলে উঠল, ‘আর কোনো চালাকির চেষ্টা করলে সঙ্গে-সঙ্গে গলা কেটে দেব। কুকুরের মতো গুলি করে মারব সবাইকে।’ ঠিক এই সময় বাইরে কোথাও থেকে যেন একটা আর্ত চিৎকার শোনা গেল বেশ কয়েকবার। টিম্বাকু শব্দটা শুনে একটু থেমে মোচেকে বলল, ‘ওয়াহুয়ার গলা মনে হচ্ছে। তুমি বাইরে গিয়ে দেখো ব্যাপারটা কী হল। আমি এদিকটা দেখছি।’
টিম্বাকুর কথা শুনে দ্রুত ঘর ছাড়ল মোচে। টিম্বাকু এরপর তার আগ্নেয়াস্ত্রটা উচিয়ে ধরে বলল, ‘আমি তিন গুনব। তার মধ্যে একে-একে বাক্সের মধ্যে না-ঢুকলে গুলি করে মারব।’
কোম্বাটু একবার লোকটাকে থামাবার শেষ চেষ্টা করে বললেন, ‘কাজটা তুমি ঠিক করলে না। এরজন্য তোমাকে জেলে যেতে হবে। সঙ্গে-সঙ্গে লোকটা কোম্বাটুর দিকে গুলি চালাল। গুলিটা কোম্বাটুর গা ঘেঁষে বেরিয়ে গেল। টিম্বাকু তারপর বলল, ‘তোমাকেও কিন্তু আমি রেয়াত করব না। যাও বাক্সতে গিয়ে ঢোকো। এক….দুই…।’ –কাউন্ট শুরু করল লোকটা। আর কিছু করার নেই। বাক্সের দিকে এগোল তারা তিনজন। প্রথমে বার্ক এগিয়ে গিয়ে একটা বাক্সের ভিতর ঢুকে গিয়ে শুয়ে পড়ল। পিছন থেকে কর্কশ শব্দে হুকুম এল ডালাটা কেউ বন্ধ করো। কোম্বাটু ডালাটা বন্ধ করলেন। তারপর তিনি অন্য একটা বাক্সের ডালা খুলে তার মধ্যে হাত-পা মুড়ে শুয়ে পড়লেন। জুয়ান এরপর এগিয়ে গেলেন তৃতীয় বাক্সর কাছে…।
