কূর্মদেবতার কামড় – ৪

পরদিন ভোরে সুদীপ্তদের যখন ঘুম ভাঙল তখন ভোরের প্রথম আলো ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে লেকের বুকে। সুদীপ্তরা দেখতে পেল কয়েকটা ‘ক্যানো’ জাতীয় নৌকাও ইতিমধ্যে নেমে পড়েছে হ্রদে। সম্ভবত এই লেককে কেন্দ্র করেই এ গ্রামের সামাজিক ও ধর্মীয় জীবনযাত্রা আবর্তিত হয়।

সুদীপ্তরা তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে নিয়ে ঘর ছাড়ল। পূর্ব পরিকল্পনা মতো তারা প্রথমে এগোল কুর্ম দেবতার মন্দিরের দিকে। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই লেকের ধারের এই ছোট পাহাড়ি গ্রামটা জেগে উঠেছে। কেউ হাতে মাছ ধরার জাল নিয়ে, কেউ বা আবার কাঠ কাটার কুড়াল নিয়ে দৈনন্দিন কাজে বেরিয়ে পড়েছে। মেয়েরাও বাঁশের চুপড়ি হাতে বেরিয়ে পড়েছে জিনিসপত্র সংগ্রহের জন্য। এসব দেখতে দেখতে কচ্ছপ মন্দিরে পৌঁছে গেল সুদীপ্তরা। মন্দিরের বাইরে কেউ নেই। কাঠের সাঁকো বেয়ে মন্দিরে প্রবেশ করার সময় একটু দাঁড়িয়ে তারা দু-পাশের পরিখা বা চৌবাচ্চার মধ্যে কচ্ছপগুলোকে কিছুক্ষণ দেখল। বেশ অনেকগুলো কচ্ছপ। আকারে ছোটই বলা যায়। খোলের আকার ভাত-খাবার থালার মতো। সুদীপ্তরা কাঠের পাটাতনের ওপর দাঁড়াতেই দু-পাশ থেকে তারা এসে জল থেকে মাথা তুলতে লাগল সম্ভবত খাবারের প্রত্যাশায়। তাদের বেশ কয়েকটা ছবি তুলল সুদীপ্ত। তারপর তারা প্রবেশ করল মন্দিরের ভিতর। সেখানেও কেউ নেই। মন্দিরে ঢুকে সুদীপ্তরা উপস্থিত হল গর্ভগৃহের সামনে। কিন্তু সেখানে পুরোহিত দং-পেঙ নেই। আধো অন্ধকারে সেখানে একলা দাঁড়িয়ে আছেন দেবতা কিম কুঈ। মাথার ওপরের গবাক্ষ দিয়ে বাইরের একটা আলোকরশ্মি এসে পড়েছে দেবতার মুখে। তাতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে তাঁর উন্মুক্ত মুখমণ্ডলের ভিতর সার সার তীক্ষ্ণ দাঁতগুলো।

সুদীপ্তর চোখ আটকে গেল দেবতার মুখের ওপর। সে হেরম্যানকে বলল, ‘শুনেছি, কচ্ছপের কামড় নাকি খুব মারাত্মক। চোয়ালে সাংঘাতিক জোর। একবার কামড়ে ধরলে নাকি কিছুতেই ছাড়ানো যায় না। আচ্ছা, কচ্ছপের চোয়ালে কি দাঁত থাকে?’

হেরম্যান বললেন, ‘পৃথিবীতে বর্তমানে ৩২৭ প্রজাতির কচ্ছপ পাওয়া যায় ছোট-বড় মিলিয়ে। তাদের কারোরই কিন্তু দাঁত নেই।

কচ্ছপের চোয়ালের গড়ন অনেকটা পাখির ঠোটের মতো! কিছু কিছু প্রজাতির কচ্ছপের চোয়ালের হাড় খুব শক্ত হয়, ধারালোও হয়। তারা কামড়ালে ছাড়ানো অনেক সময় মুশকিল হয়।’

এরপর একটু থেমে হেরম্যান বললেন, ‘তবে একটা কথা। একসময় কিন্তু কিছু সামুদ্রিক কচ্ছপের দাঁত ছিল। তারা এ পৃথিবীর বুকে বাস করত মেসোজোয়িক মহাযুগের ট্রায়াসিক কালপর্বে ১৮ থেকে ২২ কোটি বছর আগে। ছোট আকারের দাঁতযুক্ত এই ট্রায়াসিক টার্টেলের জীবাশ্ম সম্প্রতি আবিষ্কৃত হয়েছে। ট্রায়াসিক যুগের পর শুরু হয় জুরাসিক যুগ। পৃথিবী কাঁপাতে থাকে ডায়ানোসরের দল। মজার ব্যাপার হল ডাইনোসর বা কচ্ছপ সবই কিন্তু সরীসৃপ গোত্রের। তার মধ্যে কচ্ছপরা হল প্রাচীন। ২৫ কোটি বছর আগে তারা পৃথিবীতে প্রথম আসে। বিবর্তনের পথ ধরে একসময় দাঁত গজায়, আবার অবলুপ্তও হয়ে যায়। কচ্ছপের দাঁত খুঁজতে হলে তোমাকে অন্তত ১৬ থেকে ১৮ কোটি বছর আগে ফিরে যেতে হবে। ডায়নোসরের আবির্ভাব কালেই বিলুপ্ত হয়ে যায় দাঁতঅলা কচ্ছপ।’ এই বলে হাসলেন হেরম্যান।

কচ্ছপ মন্দিরের পুরোহিতকে মন্দিরে পাওয়া গেল না। কাজেই আবার মন্দিরের বাইরে বেরিয়ে এলেন হেরম্যানরা। পরিখার ওপর কাঠের সাঁকোটা পেরোবার সময় তাঁদের দেখে আবার দু’পাশ থেকে এগিয়ে আসতে লাগল কচ্ছপের দল। সুদীপ্ত হেরম্যানের কাছে জানতে চাইল, ‘এগুলো কী প্রজাতির কচ্ছপ?’

হেরম্যান জবাব দিলেন, ‘এগুলোও সম্ভবত গোল্ডেন টার্টেলের কোনো প্রজাতি। খেয়াল করে দেখো ওদের গলার কাছটাতে হলদেটে আভা আছে।’

হেরম্যান এরপর আরও কিছু বলতে যাচ্ছিলেন কিন্তু তারা দেখতে পেল সাঁকোর দিকে এগিয়ে আসছে গতকালের সেই লোক, পুরোহিতের সেই ছেলেটা।

সুদীপ্ত তাকে দেখতে পেয়ে হেরম্যানকে বলল, ‘ওর সঙ্গেও তো আমাদের থাকার ব্যাপারটা নিয়ে কথা বলা যেতে পারে?’

ডেং-ফুও বলল, ‘হ্যাঁ, কাল ওর কথা শুনে মনে হল যে বাবার ওপর ওর প্রভাব আছে।’

সাঁকোটা পেরিয়েই তার মুখোমুখি হল সুদীপ্তরা। সে হেসে বলল, ‘গুড মর্নিং। আমি মঙ। কাল তোমাদের সঙ্গে দেখা হলেও কথা হয়নি। তোমাদের সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছা আছে। পুরোহিতের সঙ্গে দেখা করতে গেছিলে?’

হেরম্যান বললেন, ‘হ্যাঁ, কিন্তু তার দেখা পেলাম না।’

মঙ বলল, ‘সে ভোরে বেরিয়ে গেছে। কাল তো আমাদের এখানে একটা উৎসব আছে। তার জোগাড়যন্ত্র করতে। মন্দিরে ফিরতে দুপুর হবে। তা তোমরা এখন কোথায় যাবে?’ হেরম্যান বললেন, ‘আপাতত ভাবছি লেকের জলে নৌকা নিয়ে ঘুরব। তোমার সঙ্গে আমাদের কিছু জরুরি কথা আছে।’

মঙ বলল, ‘তোমাদের সঙ্গে আমারও কিছু কথা আছে।’

হেরম্যান বললেন, ‘তোমারটা আগে বলো, শুনি। তারপর আমাদের কথা বলছি।’ ঠিক এমন সময় সবাই দেখতে পেল কয়েকজন কচ্ছপ দেবতার উপাসক গ্রামবাসী মন্দিরের দিকে এগিয়ে আসছে। তাদের দেখে মঙ বলল, ‘এভাবে এখানে দাঁড়িয়ে ঠিক কথাবার্তা হবে না। ওই যে লেকের ওদিকটাতে গেলে নৌকা পেয়ে যাবে। তোমরা বরং লেকটাতে ঘুরে আসা। আমি তোমাদের ঘরে যাব।’ এই বলে সে সাঁকোতে উঠে মন্দিরের দিকে এগোল। আর সুদীপ্তরাও এগোল লেকের পাড়ে যাওয়ার জন্য। যেতে যেতে সুদীপ্ত বলল, ‘মঙের কী কথা থাকতে পারে আমাদের সঙ্গে?’

হেরম্যান বললেন, ‘হয়তো বা টাকাপয়সা বা অন্য কোনো সাহায্য চাইতে পারে, হয়তো বা আমাদের সঙ্গে শহরে ফেরার কথা বলতে পারে। দেখা যাক কী বলে…’

ডেং-ফু বলল, ‘আমার এবারও মঙকে দেখে মনে হল কোথায় যেন তাকে দেখেছি…’ কথা বলতে বলতে গ্রামের বাইরে লেকের ধারে পৌঁছে গেল তারা। কিছুটা এগোতেই এক জায়গাতে বেশ কয়েকটা ক্যানোর মতো নৌকা রয়েছে লেকের পাড়ে। গাছের গুঁড়ি কেটে বানানো নৌকা। তার ভিতরটা কেটে ফাঁপা করা। যার ভিতর বসে দাঁড় বাইতে হয়। জেলে ধরনের বেশ কয়েকজন গ্রামবাসীও রয়েছে সেখানে। তাদের সঙ্গে কিছুটা কথাবার্তার পর টাকার বিনিময়ে সুদীপ্তদের লেকে ঘোরাতে রাজি হয়ে গেল লোকগুলো। গাছের গুঁড়ির মতো একটা নৌকা ঠেলে নামানো হল জলে। দুজন মাঝি আর সুদীপ্তরা তিনজন উঠে বসল নৌকার গর্তে। দাঁড় বাইতে শুরু করল সে লোক দুজন। বিশাল কুরু হ্রদের বুকে ভেসে পড়ল সুদীপ্তদের নৌকা।

হ্রদের যে দিকটা সীমাহীন অনন্তের দিকে গিয়ে মিশেছে সে দিকেই দাঁড় বাইতে শুরু করল মাঝির দল। সুদীপ্তরা মাঝিদের জিগ্যেস করে জানতে পারল যে হ্রদটা ওদিকে মাইল দশেক এগিয়ে পাহাড়শ্রেণির অপরপ্রান্তে ঢালু হয়ে কোনো এক নদীর সঙ্গে মিশেছে। এই কুরু লেকের জলের উৎস হল আশেপাশের পাহাড়গুলোর বরফগলা জল আর বৃষ্টির জল।

হ্রদের জলের গভীরতা এক এক জায়গাতে এক এক রকম। কোথাও জল কাচের মতো স্বচ্ছ, চোখে পড়ছে জলতলের নীচে সবুজ উদ্ভিদ, খেলে বেড়ানো মাছের ঝাঁক। এমনকী এক জায়গাতে কিম কুঈ মন্দিরের মতো একটা ছোট কচ্ছপকেও খেলে বেড়াতে দেখল তারা। আবার কোথাও কোথাও জলতল এত গভীর, এত জমাটবাঁধা অন্ধকার খেলা করছে যে জলের এক হাত গভীরে দৃষ্টি যায় না। সুদীপ্তদের যাত্রাপথে মাঝে মাঝে আরও নৌকা চোখে পড়ছে। তারা কেউ ছিপ ফেলে, কেউ জাল ফেলে মাছ ধরছে। রৌদ্রকরোজ্জ্বল সকালে ঝলমল করছে লেকের জল। ধীরে ধীরে দাঁড় বাইছে মাঝিরা। সুদীপ্তদের চোখ লেকের জলে। বিশেষত জলতল যেখানে অনেকটা দেখা যাচ্ছে সে সব জায়গা ভালো করে দেখার চেষ্টা করতে লাগল তারা। জীবনের কোন মুহূর্তে মানুষের জন্য কী চমক অপেক্ষা করে থাকে তা আগাম জানা যায় না। বলা কি যায়, হয়তো বা দেখা মিলে গেল কূর্ম দেবতা কিম কুঈ-এর? সুদীপ্ত বারকয়েক হাত দিল জলে। বরফের মতো ঠান্ডা জল।

আশপাশের জেলে ডিঙিগুলোকে পিছনে ফেলে একসময় বেশ অনেকটাই এগিয়ে গেল তারা। হ্রদ এখানটায় হঠাৎই কিছুটা সর্পিল হয়ে এসেছে। হ্রদের দু-পাশের জঙ্গলের ছায়া দীর্ঘ হয়ে এসে পড়েছে। জলের রঙও বেশ ঘন। নীচে কী আছে তা ঠাহর হয় না। মাঝিরা বলল, এবার ফেরার জন্য নৌকার মুখ ঘোরাবে তারা। একপাশে দাঁড় ফেলে এরপর নৌকার মুখ ঘোরাতে যাচ্ছিল মাঝিরা। কিন্তু হঠাৎ হাত দশেক তফাতেই জলরাশি হঠাৎই প্রচণ্ডভাবে আন্দোলিত হয়ে উঠল। অমনি বৈঠা উঠিয়ে সে দিকে তাকিয়ে নৌকা থামিয়ে দিল মাঝির দল। কী ওখানে? সুদীপ্তরাও নিঃশ্বাস বন্ধ করে তাকাল সেদিকে। তবে কি…। বেশ বড় কিছুই তো জলের নীচে দাপাদাপি করছে বলে মনে হচ্ছে! হ্রদের জল ছিটকে উঠছে ওপর দিকে। আর এর কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই জলোচ্ছ্বাসের সঙ্গে জলের ওপর ভেসে উঠল একজন। গতকালের সেই বাচ্চা ছেলেটা—ওয়াং!

তারপর কিছুটা তফাত দিয়ে মাছের মতো অবলীলায় নৌকার চারপাশে চক্কর দিতে লাগল। তাই দেখে জেলেদের একজন নৌকার মধ্যে থাকা একটা পাথরের টুকরো তুলে তাক করল ছেলেটাকে ছুড়ে মারার জন্য। হেরম্যান সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলেন, ‘আরে ওকে : মারছ কেন? মারছ কেন?’

পাথর তাক করতে দেখেই অবশ্য ছেলেটা ভুস করে ডুব দিল জলে। তারপর বেশ কিছুটা দূরে গিয়ে একবার মাথা তুলে আবার হারিয়ে গেল জলে।

পাথরটা নামিয়ে রেখে নৌকার মুখ ঘুরিয়ে জেলেটা রাগতস্বরে বলল, ‘মারব না? ও একটা শয়তান। আমাদের পেতে রাখা জাল কেটে দেয়। ওকে আমরা ধরার চেষ্টা করছি কিন্তু পারছি না। সারাদিন লেকের জলে থাকে আর অন্ধকার নামলে জঙ্গলে ঢুকে যায়। জঙ্গলে মাইন পোঁতা আছে বলে আমরা সেখানে ঢুকি না।’

সুদীপ্ত প্রশ্ন করল, ‘ছেলেটা কে?’

নৌকার অপর একজন বলল, ‘ওর নাম ওয়াং। সারাদিন জলে থাকে বলে কেউ কেউ ওকে কিম কুঈ নামে ডাকে। কচ্ছপের মতোই সাঁতার কাটতে পারে জলে। ওর বাপ-মা কেউ নেই। হ্রদের জলে ওকে ঝুড়িতে ভাসিয়ে দিয়ে গেছিল ওর বাপ-মা। যেমন অনেক বাচ্চাকেই হ্রদের জলে ভাসিয়ে দিয়ে যায় তাদের বাপ-মা। নিয়মমাফিক কিম কুঈ মন্দিরের পুরোহিত তাকে তুলে নিয়ে মন্দিরে রেখেছিলেন। কিন্তু ওকে বড় করে নীচে ফেরত পাঠাবার আগেই ও পালাল। ওকে আর ধরা যাচ্ছে না।’

ব্যাপারটা না বুঝতে পেরে হেরম্যান জানতে চাইলেন, ‘বাচ্চা ভাসিয়ে দিয়ে যায় মানে?’

জেলে বলল, ‘কিম কুঈ মন্দির খুব জাগ্রত। অনেক সন্তানহীন দম্পতি মাঝে মাঝে এখানে আসে সন্তান প্রার্থনায়। মনস্কামনা পূর্ণ হলে তারা প্রথম সন্তানকে উৎসর্গ করে দেবতার উদ্দেশে। হ্রদের জলে ঝুড়ি করে বাচ্চা ভাসিয়ে যায়। তাদের উঠিয়ে এনে মানুষ করা হয়। তারপর নীচে ছেড়ে আসা হয়। আমরা ওকে নৌকায় নিয়ে ঘুরতাম। খুব চটপট মাত্র চার-পাঁচ বছর বয়সেই ভালো সাঁতার শিখে গেছিল ও। আমরা ওকে নৌকাতে নিয়ে ঘুরে বেড়াতাম। জলের তলায় মাছের জাল আটকে গেলে ও জলের গভীরে নেমে জাল খুলে দিত। সব ঠিকঠাকই চলছিল, কিন্তু হঠাৎ ও পালাল। তারপর এখন ও শয়তানি করে জাল কেটে দেয়। ওকে ধরতে পারলে মন্দিরের কচ্ছপ পুকুরে নামানো হবে।’—শেষ কথাগুলো বেশ রাগত স্বরে বলল জেলেটা।

সুদীপ্ত হেরম্যানকে বলল, ‘একসময় আমাদের দেশেও এই নিষ্ঠুর প্রথা ছিল। গঙ্গায় উৎসর্গ করা হত সন্তানকে। বহুদিন অবশ্য সে প্রথা বন্ধ হয়েছে।’

জেলেরা ফেরার জন্য দাঁড় বাইতে লাগল। ক্যানো নৌকা আবার এসে ভিড়ল হ্রদের পাড়ে। জেলে-মাঝিদের পাওনা-গণ্ডা মিটাবার পর সুদীপ্ত, হেরম্যানকে জিগ্যেস করল, ‘এবার কী করবেন?’

হেরম্যান বললেন, ‘আপাতত ঘরে ফেরা যাক। মঙ-এর তো আসার কথা। সে না এলে বিকালে আবার মন্দিরে হানা দেব পুরোহিতের খোঁজে।’