কূর্মদেবতার কামড় – ৭

ভোর হল একসময়। সুদীপ্তদের শাস্তিদানের আয়োজনও শুরু হল। বল্লমের খোঁচা দিয়ে সুদীপ্তদের নিয়ে যাওয়া হল সাঁকোটার ওপর। তাদের পিঠ থেকে রুকস্যাকগুলো প্রথমে খুলে ফেলা হল। কচ্ছপের খোল বাঁধা বেশ কয়েকজন মানুষ প্রথমে লাফ দিয়ে জলে নামল বেশ কয়েকটা মোটা দড়ি নিয়ে। তারপর ধাক্কা দিয়ে সুদীপ্তদের তিনজনকে জলে ফেলা হল। জলতল থেকে উঠে আসা যে শাল খুঁটিগুলোর ওপর সাঁকোটা দাঁড়িয়ে আছে তেমনই কয়েক হাত অন্তর তিনটে খুঁটির সঙ্গে হাত বাঁধা হল তাদের তিনজনের। বাধা দিল না সুদীপ্তরা। জল বেশি গভীর নয়, বুক পর্যন্ত জল। ডুবে মরার আপাতত সম্ভাবনা নেই। কাজ শেষ হল কচ্ছপ দেবতার উপাসকদের। তারা নিজেরাও যথেষ্ট উৎকণ্ঠিত দেবতা কিম কুঈ-এর দর্শন না পাওয়াতে। লোকগুলো খুঁটির সঙ্গে সুদীপ্তদের বেঁধে ওপরে উঠে গেল। তারপর পুরোহিতের নেতৃত্বে যাত্রা শুরু করল লেকের উদ্দেশে। দেবতার দর্শন যে তাদের পেতেই হবে। নইলে অনর্থ হবে। সুদীপ্তদের পাহারা দেবার জন্য তারা শুধু রেখে গেল মঙকে।

সবাই চলে যাবার পর মঙ সুদীপ্তদের উদ্দেশে বলল, ‘তোমরা নিজেদের বিপদ নিজেরা ডাকলে। বড্ড বেশি জেনে ফেলেছ তোমরা। বিশেষত তোমাদের এই ডেং-ফু। তোমরা যাতে আর শহরে ফিরে পুলিশকে কিছু খবর না দিতে পারো সে ব্যবস্থা করলাম।’ এই বলে সে চলে গেল মন্দিরের ভিতর।

সূর্য ওপরে উঠতে শুরু করেছে। সুদীপ্তদের চারপাশে ঘুরে বেড়াতে শুরু করেছে কচ্ছপের দল। তবে তারা খুব কাছে আসছে না। জল মোটামুটি স্বচ্ছ। জলের নীচেও সবকিছু মোটামুটি দেখা যাচ্ছে। ডেং-ফু একসময় বলল, ‘মঙ যে একটা খুনে এ কথাটা বলা আমার উচিত হয়নি। আমার জন্যই বিপদে পড়লেন আপনারা।

হেরম্যান তাকে আশ্বস্ত করে বললেন, ‘তুমি কথাটা না বললেও বাচ্চাটাকে বাঁচাতে বিপদে পড়তেই হত। কিছু করার ছিল না। ওয়াংকে বাঁচাবার চেষ্টা করতেই হত। চোখের সামনে তো ভয়ংকর অন্যায় হতে দেওয়া যায় না। মঙ অতি ধূর্ত। সে আমাদের ফাঁসানোর জন্য আগেই পরিকল্পনা করে রেখেছিল। ও হয়তো আন্দাজ করেছিল যে ওর নাম আমরা ফাঁস করে দিতে পারি।’

সুদীপ্ত বলল, ‘কিন্তু এভাবে ওরা আমাদের কীভাবে মারবে?’

হেরম্যান বললেন, ‘হয়তো বা জলের মধ্যে দাঁড় করিয়ে রেখে, না খেতে দিয়ে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা জলের মধ্যে থাকলে এমনিতেই অবসন্ন হয়ে পড়ব আমরা। দেখা যাক কী হয়। হ্রদে দেবতা কিম কুঈ-এর দর্শন পেলে যদি দয়া হয় ওদের…।’

হঠাৎ সুদীপ্তর চোখ গেল সাঁকোটার অন্য দিকের খুঁটিগুলোর জলে ডোবা অংশের দিকে। ভালো করে জিনিসটা খেয়াল করে সুদীপ্ত চমকে উঠে হেরম্যানকে বলল, ‘সাঁকোর উলটোদিকের খুঁটিগুলোর জলে ডোবা অংশগুলো দেখুন!’

হেরম্যান আর ডেং-ফুও সেদিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে গেল। জলের নীচে খুঁটিগুলোর গায়ে দড়ি দিয়ে বাঁধা আছে কতগুলো মানব কঙ্কালের অংশ!

হেরম্যান বললেন, ‘ওদের আকার দেখে মনে হচ্ছে ছোট ছোট মানুষদের কঙ্কাল!’ সুদীপ্ত বলল, ‘আকার দেখে আমারও তাই মনে হচ্ছে।’

হেরম্যান বললেন, ‘তবে কি যেসব বাচ্চাদের কচ্ছপ দেবতার প্রতি উৎসর্গ করা হয় তাদের বড় করে তোলার পর এভাবেই মন্দিরের পরিখাতে চুবিয়ে মারা হয়? ওয়াং বলেছিল যে না পালালে তাকে এখানে ফেলে দিতেন পুরোহিত। আমি তখন ব্যাপারটা ঠিক বুঝতে পারিনি। এবার অনুমান করতে পারছি। কী ভয়ংকর ধর্মীয় প্রথা।’ সুদীপ্তও ব্যাপারটা কল্পনা করে শিউরে উঠল।

সময় এগিয়ে চলল। খুঁটির সঙ্গে দড়িবাঁধা অবস্থায় একইভাবে দাঁড়িয়ে রইল সুদীপ্তরা। কচ্ছপগুলো ঘুরপাক খাচ্ছে চারপাশে। ড্যাবড্যাবে চোখে দেখছে সুদীপ্তদের। পরিখার সব কচ্ছপগুলো যেন একে একে এসে জড়ো হচ্ছে সে জায়গাতে। মাঝে বেশ কয়েকবার মঙ মন্দিরের বাইরে বেরিয়ে দেখে গেল সুদীপ্তদের অবস্থা। শয়তানের হাসি তার ঠোঁটে।

মঙের সঙ্গে কথা বলার কোনো প্রবৃত্তি সুদীপ্তদের হল না।

সূর্য একদম মাথার ওপর উঠল। রোদের তাতে মাথা ফেটে যাচ্ছে, কপাল বেয়ে ঘাম নামছে, আবার সারা শরীর ডুবে আছে ঠান্ডা জলে। প্রচণ্ড অস্বস্তিকর এক অবস্থা। কিন্তু সুদীপ্তদের কিছু করার নেই। সময় এগিয়ে চলল আরও।

বার করে সুদীপ্তদের উদ্দেশে সে বলল, ‘কী কেমন লাগছে?’ মঙের কোমরের কাছে জামাটা বেলা দুটো নাগাদ মন্দিরের বাইরে বেরিয়ে সাঁকোর ওপর এসে দাঁড়াল মঙ। দাঁত একটু ওঠানো। আর সেখান থেকে উঁকি দিচ্ছে একটা রিভলবারের বাঁট।

তার কথার জবাব দিল না কেউ।

মঙ বলল, ‘এ তো সবে শুরু। যত সময় যাবে তত আরাম পাবে তোমরা। আসল আরাম লাগা তো এখনও শুরু হয়নি।’

আমি এবার একটু ঘুরে আসি। তোমরা সময় কাটাও কচ্ছপগুলোর সঙ্গে।’—এই বলে সে সাঁকো পেরিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেল গ্রামের দিকে।

হেরম্যান অস্পষ্টভাবে শুধু মন্তব্য করলেন, শয়তান।

সুদীপ্তরা একইভাবে দাঁড়িয়ে রইল জলের মধ্যে। দীর্ঘক্ষণ জলের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকার ফলে পাগুলো কেমন যেন অবসন্ন হতে শুরু করল। ডেং-ফু একসময় বলল, ‘দেখুন কচ্ছপগুলো কেমন সার বেঁধেছে!’

সত্যি তারা সার বেঁধে একটা বৃত্ত রচনা করেছে সুদীপ্তদের চারপাশে। পরিখার সব কচ্ছপ যেন জড়ো হয়েছে সেখানে। এ অবস্থাতেও হেরম্যান বললেন, ‘কচ্ছপের মধ্যেও কিছু সামাজিকবোধ লক্ষ করা যায়। একসঙ্গে কাজ করে ওরা।

সুদীপ্ত বলল, ‘হ্যাঁ, শুধু শ্রেষ্ঠ সামাজিক প্রাণী মানুষের মন থেকেই সামাজিকবোধ মুছে যাচ্ছে আজকাল।’

কচ্ছপগুলোকে দেখতে লাগল সুদীপ্তরা। সুদীপ্তদের ঘিরে তাদের ব্যূহটা যেন ক্ৰমশ ছোট হয়ে আসছে! হেরম্যান তাই দেখে পরিহাস করে বললেন, ‘কচ্ছপের ঝাঁক না হয়ে ওটা যদি পিরানহা মাছের ঝাঁক হত তবে ভাবো তো কী কাণ্ড হত?’

এতক্ষণে আমরা জলের তলায় পড়ে থাকা কঙ্কালগুলোর মতো হয়ে যেতাম! সুদীপ্ত হেসে বলল, ‘এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে হলে এখন না হোক তবে কঙ্কাল হতে আমাদের বেশিদিন বাকি নেই।’

ছোট হচ্ছে কচ্ছপদের ব্যূহ। বিশেষত সুদীপ্তদের পিছন দিকের কচ্ছপের সারি একদম কাছে চলে আসছে। একটা কচ্ছপ তো একবার সুদীপ্তর দেহ ছুঁয়ে গেল। তাদের আচরণ দেখে সুদীপ্ত প্রশ্ন করল, ‘ওরা আমাদের চারপাশে এমন ভিড় জমাচ্ছে কেন?’

হেরম্যান বললেন, ‘কচ্ছপ খুব কৌতূহলী প্রাণী। কাছ থেকে সম্ভবত আমাদের ভালো করে দেখার চেষ্টা করছে।’

হঠাৎই এরপর যেন একটা আলোড়ন শুরু হল জলের মধ্যে। সুদীপ্তদের মনে হল পরিখার অন্য দিক থেকে জলের মধ্যে দিয়ে কী যেন একটা এগিয়ে আসছে! কচ্ছপের ঝাঁক এবার ভেঙে যেতে লাগল। কী আসছে?

আর এরপরই সুদীপ্তরা দেখতে পেল ডুব সাঁতারে জল কেটে এগিয়ে আসছে ওয়াং। সম্ভবত মন্দিরের পিছন দিয়ে পরিখায় নেমেছে সে। ওয়াং-এর মুখে ধরা আছে একটা ছোট ছুরি। সুদীপ্তদের কাছে পৌঁছে গেল সে। তারপর খুঁটির সঙ্গে বাঁধা সুদীপ্তদের হাতের দড়িগুলো কাটতে শুরু করল। ওয়াং যে হঠাৎ এভাবে তাদের উদ্ধারকর্তা হিসাবে উপস্থিত হবে তা ভাবতে পারেনি কেউ। কিছুক্ষণের মধ্যেই সুদীপ্তরা মুক্ত হয়ে সাঁকোতে উঠে পড়ল ওয়াংসমেত। ওয়াং চারপাশে তাকিয়ে বলল, ‘পালাতে হবে। মঙ এসে পড়ল বলে!’

সুদীপ্তদের রুকস্যাকগুলো কাছেই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়েছিল। সেগুলোকে পিঠে তুলে নিয়ে ওয়াং-এর পিছন পিছন ছুটতে শুরু করল তারা। ওয়াং নিশ্চয়ই পালাবার রাস্তা জানে। গ্রামের পিছন দিয়ে প্রথমে লেকের ধারে পৌঁছল সবাই। বিকাল হয়ে গেছে। তারপর সবাই ছুটল জঙ্গলের দিকে। জঙ্গলে ঢোকার মুখে ওয়াং শুধু একবার বলল, ‘আমি যেভাবে পা ফেলব, সেভাবে পা ফেলবে। নইলে সবাই মারা পড়বে।’

তার একথা বলার কারণ বুঝতে অসুবিধা হল না হেরম্যান-সুদীপ্তর। মাইন পোঁতা আছে এ জঙ্গলে। যে কারণে গ্রামবাসীরাও সচরাচর জঙ্গলে ঢোকে না।

জঙ্গলে প্রবেশ করল সুদীপ্তরা। চারপাশে বড় বড় গাছ। ঝোপঝাড়, আবার তারই মাঝে ফাঁকা জমিও আছে। ওয়াং থেমে থেমে এঁকেবেঁকে যেভাবে চলতে লাগল ঠিক তেমনভাবেই সুদীপ্তরা তাকে অনুসরণ করল। হেরম্যান, ডেং-ফুর মাধ্যমে ওয়াংকে জিগ্যেস করলেন, ‘তুমি পথ চিনছ কীভাবে?’

বাচ্চা ছেলেটা লাফাতে লাফাতে পথ চলতে চলতে বলে উঠল, ‘এগুলো হরিণ চলার পথ।’

বনের পশুপাখিদের অদৃশ্য ক্ষমতা থাকে বিপদ বোঝার। তাই হরিণের দল নিশ্চয়ই মাইনগুলোকে এড়িয়ে চলে। সে পথই অনুসরণ করছে ওয়াং।

ধীরে ধীরে বনের মধ্যে বেশ অনেকটা পথ অতিক্রম করে ফেলল সুদীপ্তরা। এবার সন্ধ্যা নামবে। সামনে একটা ফাঁকা জমি। সেটা ঘুরপথে প্রায় অতিক্রম করে ফেলেছে সুদীপ্তরা। ঠিক সেই সময় তাদের পিছনে একটা প্রচণ্ড শব্দ হল। আর তার পরমুহূর্তেই যেন তীব্র শিসের মতো শব্দ তুলে একটা গরম হলকা সুদীপ্তর কাঁধ ছুয়ে ঠক করে গিয়ে বিধল সামনের গাছটাতে। বুলেট! বন্দুকের শব্দ! সুদীপ্তরা পিছনে ফিরে দেখতে পেল মঙকে। হাতে পিস্তল! কীভাবে যেন সবার অলক্ষে তাদের অনুসরণ করে সুদীপ্তদের কাছে পৌঁছে গেছে মঙ!

তাকে দেখামাত্রাই গুলির আড়াল থেকে বাঁচার জন্য একটা ঝোপের আড়ালে আশ্রয় নিল তারা চারজন। মঙ প্রথমে চিৎকার করে বলল, ‘বেরিয়ে এসো। নইলে গুলি করে মারব সবাইকে। আমি তোমাদের ফিরিয়ে নিয়ে যাব।’

তার কথার জবাব দিল না কেউ। মঙ জবাব না পেয়ে আবার গুলি চালাল ঝোপ লক্ষ্য করে। ঝোপ ফুঁড়ে সুদীপ্তদের গা ঘেঁষে বেরিয়ে গেল বুলেটটা। হেরম্যান এবার বললেন, ‘ঝোপের বাইরে বেরোনোই ভালো। ওর সব গুলি তো আর ফসকাবে না। বাইরে বেরিয়ে ওর অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে ওকে কাবু করতে হবে।’

কিন্তু সুদীপ্তরা উঠে দাঁড়াবার আগেই ওয়াং হঠাৎ ঝোপ থেকে এক লাফে বেরিয়ে লাফাতে লাফাতে সামনের ফাঁকা জমির মাঝখানে দাঁড়াল। তাকে দেখেই হিংস্র হাসি ফুটে উঠল মঙ-এর মুখে। ওয়াং কিন্তু তাতে ভয় পেল না। বরং বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করতে লাগল, ভেঙচাতে লাগল মঙ-এর উদ্দেশে। আর তার সঙ্গে সঙ্গে তাকে ধরার জন্য কাছে ডাকতে লাগল মঙকে।

মঙ তাই দেখে পিস্তল উঁচিয়ে এগোতে লাগল তার দিকে।

মঙ সামনের ফাঁকা জমিটা দিয়ে কয়েক পা এগোতেই এরপর এক ভয়ংকর ঘটনা ঘটল। মঙ এক জায়গাতে পা ফেলতেই প্রচণ্ড শব্দে বিস্ফোরণ ঘটল। আগুনের ঝলক আর প্রচণ্ড শব্দের সঙ্গে সঙ্গে মঙের দেহটা অন্তত কুড়ি হাত ওপরে উঠে গাছের ডালে বাড়ি খেয়ে অন্যদিকের একটা ঝোপের আড়ালে ছিটকে পড়ল। হয়তো এটাই ভবিতব্য ছিল খুনি মঙের জীবনে। ব্যাপারটা দুর্ভাগ্যজনক হলেও সুদীপ্তদের এখন আর কিছু করার নেই। সুদীপ্তরা আবার অনুসরণ করল ওয়াংকে।

কিছুক্ষণের মধ্যেই অন্ধকার নামল জঙ্গলে। চাঁদ না ওঠা পর্যন্ত এক জায়গায় বসে অপেক্ষা করল তারা। তারপর আবার চলা। ঘণ্টাখানেক চলার পর জঙ্গল ফিকে হয়ে গেল। জঙ্গল থেকে বেরিয়ে এসে আবার কুরু হ্রদের তীরে উপস্থিত হল তারা। চাঁদের আলোতে টলটল করছে কুরু হ্রদের জল। উজানের দিকে অনেক দূর পর্যন্ত স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।

হ্রদের পাড়ে ওয়াং-সুদীপ্তদের যে জায়গাতে এনে দাঁড় করাল সেখানে একটা ক্যানো নৌকা বাঁধা আছে। অর্থাৎ ওয়াং-এর আগে থেকেই এ জায়গা চেনা ছিল। নৌকাটা দেখিয়ে ওয়াং তাদের বলল, ‘উঠে পড়ো।’

দড়ি খুলে একে একে নৌকাতে উঠে বসল সুদীপ্তরা তিনজন। লেকের পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা ওয়াংকে হেরম্যান এরপর বললেন, ‘তুমি দাঁড়িয়ে আছো কেন? গ্রামের লোকরা চলে আসতে পারে।’

ওয়াং হেসে বলল, ‘তোমরা এগোও, আমি আসছি। অনেকক্ষণ জলে নামিনি।’ এই বলে সে পাড় থেকে জলে ঝাঁপ দিল। তারপর সাঁতরে নৌকাটার পাশ কাটিয়ে লেকের মাঝখানে গিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেল! সুদীপ্তরা নৌকা বাইতে শুরু করল উজানের দিকে।