কূর্মদেবতার কামড় – ১

গাড়ি থেকে নেমে হেরম্যান চারপাশে তাকিয়ে বললেন, ‘কী সুন্দর শান্ত পরিবেশ। হ্যানয় শহরের গায়েই জায়গাটা। অথচ শহরের কোনো কোলাহল এ জায়গাতে পৌঁছয় না। যদিও হ্যানয় শহরটাও আমার খারাপ লাগেনি। রাস্তা-বাড়ি-ঘর সবকিছুই বেশ পরিপাটি করে সাজানো। মানুষগুলোও বেশ শান্ত নম্র বলে মনে হয়েছে।’

সুদীপ্তদের গাড়িটা যেখানে এসে থেমেছে সত্যি সে জায়গাটা বেশ মনোরম। পথের দু-পাশে বড় বড় গাছ সার বেঁধে দাঁড়িয়ে আছে। মসৃণ পিচের রাস্তাটাকে তারা ঠান্ডা-ছায়ানিবিড় করে তুলেছে। মৃদু বাতাসে গাছের ডালগুলো কাঁপছে আর তার ফাঁক গলে সূর্যকিরণ এসে আলপনা এঁকে দিয়ে যাচ্ছে পথের ওপর। দু-পাশের জঙ্গল থেকে দু-একটা পাখির ডাক মাঝে মাঝে ভেসে আসছে তাছাড়া কোথাও আর কোনো শব্দ নেই আর এই বনপথ যেখানে গিয়ে শেষ হয়েছে সে জায়গায় দাঁড়িয়ে রয়েছে একটা বিরাট তোরণ। তার মাথাটা অনেকটা প্যাগোডার মতো প্রাচীন ভিয়েতনামি স্থাপত্যের আদলে গড়া। হেরম্যানের কথা শুনে সুদীপ্তদের গাড়ির ড্রাইভার কাম গাইড ডেং-ফু বলল, ‘হ্যাঁ, স্যার। এ জায়গাটা এমনিতেই শান্ত, তার ওপর এখন ট্যুরিস্ট সিজিন নয় বলে আরও নিরিবিলি লাগছে। চলুন এবার এগোনো যাক।’

ডেং-ফু-কে অনুসরণ করল তারা দুজনে। ধীর পায়ে সেই তোরণটার দিকে এগোতে এগোতে সুদীপ্ত জানতে চাইল, ‘এখানে কী আছে?’

তার প্রশ্ন শুনে হেরম্যান যেন মৃদু হাসলেন। ডেং-ফু জবাব দিল, ‘এখানে একটা প্রাচীন মন্দির আছে। প্রায় পাঁচশো বছরের প্রাচীন মন্দির। যাঁরা ভিয়েতনাম বা হ্যানয় শহরে বেড়াতে আসেন তাঁরা অনেকেই এ মন্দির দেখতে আসেন। উত্তর ভিয়েতনামের প্রাচীন জায়গাগুলোর মধ্যে এ জায়গাটা অন্যতম। এখানকার মন্দিরটা তৈরি হয়েছিল প্রাচীন ভিয়েতনামের জাতীয় নায়ক ‘তাও’ ও কুনফুশিয়াস দার্শনিক ‘তাং-হুং-দাও’-এর স্মৃতির উদ্দেশে। যে মন্দিরটা আপনারা দেখতে চলেছেন সেটাকে ‘স্মৃতি মন্দির’ বলতে পারেন।’

ডেং-ফুর সঙ্গে কথা বলতে বলতে সেই তোরণটা অতিক্রম করেই সুদীপ্তদের চোখে পড়ল একটা বিরাট বড় জলাশয়—লেক। আর লেকের ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা ভিয়েতনামি স্থাপত্যে গড়া এক প্রাচীন মন্দির। কাঠের তৈরি একটা সাঁকো লেকের পাড়ের সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করছে মন্দিরটার। লেকের উত্তর পাড়ে ওয়াচ টাওয়ারের মতো দেখতে একটা প্রাচীন টাওয়ারও দাঁড়িয়ে আছে। এ জায়গাটা দেখে বেশ অবাক হয়ে গেল সুদীপ্ত। গাছগাছালির আড়ালে যে এত বড় একটা জলাশয় লুকিয়ে আছে তা বুঝতেই পারেনি সুদীপ্ত। হেরম্যান অবশ্য এতটা বিস্মিত হলেন না। এ জায়গা সম্বন্ধে তিনি বেশ পড়াশোনা করেছেন তারপর জায়গাটা চাক্ষুষ করতে এসেছেন। সুদীপ্তর অবশ্য এ ব্যাপারটা জানা নেই

লেকের পাড়ে দাঁড়িয়ে ডেং-ফু বলল, ‘লেকের মাঝখানে যে ছোট দ্বীপের মতো জায়গাটাতে মন্দিরটা আছে তাকে বলে ‘জেডে আইল্যান্ড’। আর মন্দিরটাকে বলে ‘টেম্পল অব জেডে মাউন্টেন’।’

হেরম্যান বললেন, ‘আর এটাই সেই বিখ্যাত ‘হোয়ান কিম লেক’ তাই তো?’ হেরম্যানের কথা শুনে ডেং-ফু হেসে বলল, ‘হ্যাঁ, তাই। আপনি এই লেকের গল্প জানেন?’

হেরম্যান মৃদু হেসে বললেন, ‘হয়তো একটু জানি। তবে তুমি তোমার কথা বলো—।’

গাইড ডেং-ফু বলতে শুরু করল, ‘এই প্রাচীন হ্রদের সঙ্গে আমাদের দেশের অনেক ইতিহাস-লোককথা-রূপকথার গল্প ছড়িয়ে আছে। বিশেষত ‘হোয়ান কিম টার্টেলের’ গল্প। সেজন্যই এই লেক বিখ্যাত। সে গল্পটা আপনাদের বলি। হিন্দু, বৌদ্ধধর্মের মতো কিন্তু আমাদের ‘তাও’ ধর্মে কচ্ছপকে দেবতার অবতার মনে করা হয়। সে দেবতার নাম ‘কিম কুঈ’। তাকে নিয়েই এ গল্প। পাঁচশো বছর আগে ‘লি লোই’ বলে একজন লোক ছিলেন যিনি পরবর্তীকালে ভিয়েতনামের সম্রাট হন ও ‘লি’ রাজবংশের প্রতিষ্ঠা করেন। সোনার কচ্ছপ দেবতা ‘কিম কুঈ’ একদিন তাঁকে স্বপ্নে দেখা দিয়ে বলেন যে ‘তোমাকে এক স্বর্গীয় তরবারির সন্ধান দিচ্ছি আমি। হ্রদের পাড়ে তা পড়ে আছে। ওই তরবারির ঐশ্বরিক ক্ষমতা আছে। ওই তরবারির বলে তুমি রাজা হয়ে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠিত করো।’

লি লোই সেই স্বপ্নশ্ৰুত বার্তা শুনে সত্যিই এই হ্রদের পাড়ে এসে খুঁজে পান সেই সোনার তরবারি। আর তার সাহায্যে একদিন রাজা হয়ে দেশে শান্তি-ধর্ম প্রতিষ্ঠা করেন। তারপর একদিন সম্রাট লি লোই এই হ্রদে একা নৌকাবিহার করছিলেন তখন তাঁকে দর্শন দিলেন কচ্ছপ দেবতা কিম কুঈ। বিশাল তাঁর চেহারা। সোনার তৈরি বিশাল পিঠটা জলের বাইরে বেরিয়ে সূর্যালোকে ঝলমল করছে। দেবতার দু’পাশে তাঁর দুই সঙ্গী আরও দুটো বিরাট কচ্ছপ। জল থেকে মুখ তুলে সোনার কচ্ছপ দেবতা সম্রাটের উদ্দেশে বললেন, ‘আমি তোমাকে আশীর্বাদ করছি মৃত্যুর পর স্বর্গারোহণ করবে তুমি। তুমি দেশে সুখ-শান্তি-ধর্ম প্রতিষ্ঠা করেছ। তোমার তরবারির কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু দৈবশক্তিসম্পন্ন এ তরবারি তোমার মৃত্যুর পর অন্য কোনো লোকের হাতে গেলে দেশের অনিষ্ট হতে পারে। তাই ও তরবারি আমি ফেরত নিতে এসেছি।’ স্বপ্নে দেখা দেবতাকে স্বচক্ষে দেখে তাঁকে নতমস্তকে প্রণাম জানিয়ে তাঁর নির্দেশমতো সঙ্গে সঙ্গে সম্রাট লি লোই কোমরবন্ধ থেকে তলোয়ারটা খুলে দেবতার দিকে বাড়িয়ে দিলেন। কচ্ছপ দেবতা এবার তাঁকে আশীর্বাদ করে বললেন, ‘তোমার এ দেশ কেউ কোনোদিন জয় করতে পারবে না।’—এ কথা বলে দেবতা কিম কুঈ সেই সোনার তরবারি পিঠে নিয়ে অন্তর্হিত হলেন হ্রদের গভীরে। আর সম্রাট লি লোই পাড়ে উঠে এ দৈব ঘটনার স্মরণে হ্রদের নামকরণ করলেন—‘হোয়ান কিম হ্রদ’। ভিয়েতনামি ভাষায় ‘হোয়ান কিম’ শব্দের অর্থ ‘তরবারি প্রত্যর্পণ’।

হেরম্যান এরপর সুদীপ্তকে মৃদু হেসে বললেন, ‘হোয়ান কিম টার্টেলের’ ব্যাপারটা কিন্তু ক্রিপ্টোলজিস্টদের কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ।’

সুদীপ্ত, হেরম্যানের কথার ইঙ্গিতটা ধরতে পেরে মৃদু বিস্মিত ভাবে বলল, ‘রূপকথার হোয়ান কিম টার্টেল নিয়ে আরও গল্প আছে নাকি? ওই সোনার কচ্ছপের সন্ধানেই আমাদের

এই ভিয়েতনাম সফর নাকি?’

হেরম্যান হেঁয়ালি করে বললেন, ‘হোয়ান কিম টার্টেলই যে ক্রিপ্টোজুলজিস্টদের মান রাখল।’

সুদীপ্ত বলল, ‘মানে?’

হেরম্যান বললেন, ‘একটু অপেক্ষা করো। মন্দিরের ভিতর প্রবেশ করে ব্যাপারটা তোমাকে বলছি।’—এ কথা বলে তিনি গাইড ডেং-ফু-কে ইঙ্গিত করলেন তাঁদের মন্দিরের ভিতর নিয়ে যাওয়ার জন্য।

পাড় থেকে মন্দিরের সংযোগকারী কাঠের সাঁকোতে উঠল সবাই। লাল রঙের কাঠের সাঁকোটা নানা রঙের ধর্মীয় পতাকা দিয়ে সাজানো। ডেং-ফু বলল, ‘এই ব্রিজটার নাম ‘ওয়েলকাম মর্নিং সানরাইজ ব্রিজ।’ সূর্যর প্রথম আলো এই ব্রিজের ওপরই এসে পড়ে।’

লেকের জল এখানে বেশ স্বচ্ছ। জলতলটা দেখা যাচ্ছে। ঘন জলজ উদ্ভিদে পরিপূর্ণ। লাল, রঙিন মাছের ঝাঁক খেলে বেড়াচ্ছে সেখানে। ভারি সুন্দর লাগছে সাঁকো থেকে তাদের দেখতে। মন্দিরের দিকে এগোতে এগোতে ডেং-ফু বলল, জলাশয়ের এ জায়গা অগভীর। অন্যত্র কিন্তু এমন নয়। সেখানে জলতল দেখা যায় না।

সাঁকো পেরিয়ে মন্দিরে প্রবেশ করল সুদীপ্তরা। কাঠ আর পাথরের তৈরি তাও ধর্মাবলম্বীদের মন্দির। নিস্তব্ধ-শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে মন্দির চত্বরে। দু-একজন তাও সন্ন্যাসী নিঃশব্দে চলাফেরা করছেন মন্দিরের ভিতর। তাঁদের হাতে ধরা আছে জপমালা। ডেং-ফু মন্দিরের ভিতর ঢুকে সুদীপ্তদের ঘুরিয়ে দেখাতে লাগল ঘরগুলো। তাও ধর্মগুরুদের বিভিন্ন মূর্তি রাখা আছে যেখানে। তান-হুং-দাওর-এর মূর্তির সামনে গোছা গোছা ধূপ জ্বলছে। যাঁর উদ্দেশে উৎসর্গীকৃত এই মন্দির নির্মিত। একের পর এক কক্ষ অতিক্রম করে এক সময় বেশ বড় একটা ঘরে প্রবেশ করল তারা। ঘরের ঠিক মাঝখানে রয়েছে বিশাল বড় একটা কাচের আধার। আর তার মধ্যে রাখা আছে বিরাট বড় এক কচ্ছপ–কূর্ম দেবতার দেহ। তারা তিনজন সেই কাচের বাক্সর কাছাকাছি গিয়ে দাঁড়াল। লাল মখমলের চাদরের ওপর স্টাফ করে বা ট্যাক্সডার্মি করে রাখা দানবাকৃতি কচ্ছপটা যেন জীবন্ত, মাথা তুলে দেখছে সে চারপাশের লোকজনকে। ডেং-ফু তাকে দেখিয়ে হেরম্যানকে বলল, ‘এই আপনার সেই বিখ্যাত ‘হোয়ান কিম টার্টেল।’ দৈর্ঘ্যে ছ’ফুট সাত ইঞ্চি, ওজন দুশো কেজি। এর স্থানীয় নাম হল ‘কু-রুয়া’ অর্থাৎ গ্রেট গ্র্যান্ডফাদার টার্টেল।’

হেরম্যান প্রথমে স্বগতোক্তি করলেন, ‘হ্যাঁ বয়সের দিক থেকে একে অবশ্যই গ্রেট গ্র্যান্ড-ফাদার বলা যায়!’ তারপর সুদীপ্তর উদ্দেশে বললেন, ‘এই হোয়ান কিম টার্টেলের কাহিনি বংশপরম্পরায় প্রচলিত ছিল তাও ধর্মাবলম্বী সহ অন্য ভিয়েতনামিদের মধ্যে। এই দানব কচ্ছপকে এই হ্রদে বহু সময় বহুজন দেখেছে বলেও দাবি করেছিল। আমরা ক্রিপ্টোজুলজিস্টরাও বিভিন্ন লোকের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে দাবি করতাম হোয়ান কিম হ্রদের এই প্রাচীন কচ্ছপের কথা। কিন্তু জীববিজ্ঞানীরা ফুৎকারে নস্যাৎ করতেন আমাদের দাবি। কারণ তাঁদের বক্তব্য ছিল ‘রেফেক্টস লেলই’ প্রজাতির এই দানব কচ্ছপ নাকি অন্তত হাজার বছর আগেই পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত এই ‘কু-রুয়া’ মরে প্রমাণ করল সে মরেনি। এ দেহটা এই লেকের জলে ভেসে ওঠে কিছুদিন আগে। আর তারও আগে ধীবরদের জালে আটকে পড়ে মারা যায় একটা। সে দেহ অবশ্য সংরক্ষণ করা যায়নি।

হেরম্যানের কথা শুনে গাইড ডেং-ফু মৃদু বিস্মিত ভাবে বলল, ‘আপনি এ ব্যাপারে বেশ জানেন দেখছি। স্থানীয় মানুষদের বিশ্বাস এই মৃত কচ্ছপ দুটো হল দেবতা কিম কুঈ-এর সেই দুই অনুচর, যাদের সঙ্গে করে তরবারি ফিরিয়ে নিতে এসেছিলেন কিম কুঈ।’

হেরম্যান বললেন, ‘অনেক সময়ই এমন হয় যে লোককথা-উপকথার পিছনে কিছু সত্যি লুকিয়ে থাকে। হয়তো তা কিছুটা পল্লবিত হয়ে প্রচারিত হয় ঠিকই, কিন্তু তার মধ্যে সত্যি থাকে।’

সুদীপ্ত কথাটা শুনে বলল, ‘কিম কুঈ-এর তরবারির গল্প যদি সত্যি হয়ে থাকে তবে আসল জন কই? সেই সোনার কচ্ছপ দেবতা? তার মৃত সঙ্গীদের পাওয়া গেলেও তিনি কই?’

সুদীপ্তর প্রশ্ন শুনে এবার ধীরে ধীরে হাসি ফুটে উঠল হেরম্যানের মুখে। সুদীপ্তর কাঁধে হাত রেখে তিনি বললেন, ‘একদম মোক্ষম প্রশ্ন করলে তুমি। হ্যাঁ, সেই সোনার কচ্ছপের কী হল? তার খোঁজেই তো এখানে এসেছি আমরা। তোমাকে চমকে দেব বলে আগাম কিছু বলিনি। বলেছিলাম এ দেশটা দেখার ইচ্ছা বলে বেড়াতে এসেছি।’

সুদীপ্ত হেসে বলল, ‘আপনি আমাকে আগাম কিছু না বললেও এমন একটা অনুমান কিন্তু আমি করেছিলাম। তা সেই কূর্ম দেবতার বাসস্থান কোথায়? আমাদের হিন্দুধর্মে কচ্ছপকে ভগবান বিষ্ণুর অবতার মানা হয়—কূর্ম অবতার।’

হেরম্যান জবাব দিলেন, ‘এখান থেকে প্রায় একশো মাইল দূরে উত্তর ভিয়েতনামের পাহাড়ি অঞ্চলে একটা হ্রদ আছে। সম্ভবত সেখানে অধিষ্ঠান করেন সেই দেবতা। ওখানে পাহাড়ি জনজাতির লোকেরা প্রতি বছর নির্দিষ্ট দিনে একটা ধর্মীয় উৎসব করে। বছরের সেই নির্দিষ্ট দিনে নাকি একবারের জন্য দর্শন দেন দেবতা কিম কুঈ। আর তিনদিন পরই সেই উৎসব। যদিও ওখানকার বাসিন্দারা সে উৎসবে সাধারণত বাইরের কাউকে শামিল হতে দেয় না। পাছে তাদের দেবতাকে কেউ চুরি করে নিয়ে যায় সে জন্য। তবু আমি একবার চেষ্টা করে দেখব তাদের সে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা যায় কিনা। সেই সোনার কচ্ছপ দেবতাকে দর্শন করা যায় কিনা। হ্রদটার নাম হল ‘কুরু লেক’।