অপারেশন ড্রাগন হান্ট – কৌশিক দাশ
অপারেশন ড্রাগন হান্ট – কৌশিক দাশ
OPERATION DRAGON HUNT
Author: Koushik Das
.
নিশ্ছিদ্র ষড়যন্ত্রের অন্ধকারে ঘনিয়ে আসছে এক অজানা বিপদ! চিনের এক গোপন ল্যাবরেটরিতে জন্ম নিচ্ছে ইবোলার চেয়েও ভয়ঙ্কর মিউট্যান্ট ভাইরাস! ভারতের বিরুদ্ধে দানা বাঁধছে ভয়ঙ্কর এক চক্রান্ত— হাত মিলিয়েছে চিনের সিক্রেট সার্ভিস আর পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন লশকর-এ-তৈবা। ট্রিলিয়ন ডলারের বিআরআই প্রকল্পে ভারতের বাধা সরাতে রচিত হচ্ছে মৃত্যুফাঁদ।
ভ্যাটিকান সিটিতে রহস্যময় এক হত্যাকাণ্ড দিয়ে এই কাহিনির শুরু। তারপর তার শাখাপ্রশাখা ছড়িয়ে পড়ে চিন, মলদ্বীপ, মিয়ানমার হয়ে ইতালি থেকে পোপের প্রাসাদ অবধি। কারা এখানে বন্ধু আর কারাই বা শত্রু, বুঝে ওঠা কঠিন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী থেকে ক্যাথলিকদের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু পোপ— সবাই এখানে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায়।
২০২১। কোভিডের আতঙ্ক তখনও মুছে যায়নি। সেই সময় জেগে উঠেছে ড্রাগন। নিশ্বাসে তার লেলিহান অগ্নিশিখা। এই অগ্নিগ্রাস, এই ভয়ঙ্কর বিপর্যয় থেকে ভারতকে বাঁচাতে পারে একজনই। ধূসর জগৎ থেকে উঠে আসা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং (র)-এর অন্যতম সেরা এজেন্ট। অভিমন্যু সিং রানা। কোড নেম— এজেন্ট ভৈরব!
অভিমন্যু কি পারবে এই গোপন মিশনে সফল হতে? নাকি ভারত ডুবে যাবে সর্বনাশের ঘূর্ণিপাকে?
জানতে হলে পড়তে হবে কৌশিক দাশের অপারেশন ড্রাগন হান্ট!
একনিশ্বাসে পড়ে ফেলার মতো এই থ্রিলারের পাতায় পাতায় লুকিয়ে আছে শ্বাসরোধকারী উত্তেজনা, ধাঁধার থেকেও জটিল রহস্যের ধোঁয়াশা আর মৃত্যুর অতর্কিত, করাল ছায়া!
.
একদিকে গোপন এক পরীক্ষাগারে জন্ম নিচ্ছে ভয়ঙ্কর এক মিউট্যান্ট ভাইরাস, অন্যদিকে ভারতের বিরুদ্ধে ঘনিয়ে উঠছে ভয়ঙ্কর এক আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র! মিয়ানমার থেকে ইতালি, দিল্লি থেকে বেজিং— চক্রান্তের চক্রব্যূহ ক্রমেই জাল ছড়াচ্ছে বিশ্বজুড়ে। জেগে উঠেছে ড্রাগন। একের পর এক গুপ্তহত্যায় প্রমাদ গুনছেন পি এম ও থেকে শুরু করে র-এর বরিষ্ঠ কর্তারা। আসন্ন সর্বনাশের ঘূর্ণিপাক থেকে ভারতকে বাঁচাবে কে? অপারেশন ড্রাগন হান্ট! আসছে— অভিমন্যু সিং রানা। কোড নেম— এজেন্ট ভৈরব!
.
প্রথম সংস্করণ: জুলাই ২০২৫
.
সেই প্রহরীদের যাঁরা নিরন্তর দেশকে
রক্ষা করে চলেছেন।
.
ভূমিকা
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি পারুল প্রকাশনীর সঙ্গে কথাবার্তা চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ার পরে প্রথম ফোনটা করেছিলাম আমেরিকার টেক্সাসে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক প্রাক্তন কমান্ডোর সঙ্গে কথা বলতে। হোয়াটসঅ্যাপ কলে প্রায় একঘণ্টা কথা চলে আমাদের।
একটার পর একটা প্রশ্ন করে গিয়েছিলাম। ঠিক কী দক্ষতা থাকা দরকার এক ‘র’ এজেন্টের? সে কি মিলিটারি ব্যাকগ্রাউন্ডের হবে না পুলিশের? এর বাইরে আরও কী কী ক্ষমতা থাকলে একজন শ্যাডো এজেন্ট হওয়া যায়? কীভাবে কাজ করে তারা?
সেদিন যাবতীয় প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিল আমার বন্ধু, ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রাক্তন লেফ্টেন্যান্ট কর্নেল, স্বরূপ দাস। কিছুটা প্রত্যক্ষ এবং কিছুটা পরোক্ষ অভিজ্ঞতা থেকে। আর তারপরেই জন্ম নেয় এই নতুন চরিত্র-’র’ এজেন্ট অভিমন্যু সিং রানা। প্যারাশুট রেজিমেন্ট স্পেশাল ফোর্সের প্রাক্তন অফিসার। এই স্পাই থ্রিলারটি যখন লিখছি, তখনও কাশ্মীরে ঘৃণ্য হত্যালীলা ঘটেনি। ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ লাগেনি। সাধারণ মানুষ তখনও জানতে পারেননি কীভাবে আড়াল থেকে নানা খেলা খেলে চলেছে চিন।
বিশ্ব রাজনীতি এই মুহূর্তে টালমাটাল অবস্থায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে এইভাবে বোধহয় পুরো পৃথিবী জুড়ে কখনও রণদামামা বাজেনি। একটা যুদ্ধ থামছে তো আর একটা যুদ্ধ শুরু হয়ে যাচ্ছে। আড়াল থেকে কলকাঠি নেড়ে চলেছে ক্ষমতালোভী কিছু দেশ আর তাদের পিছনে থাকা কিছু মানুষ
এশীয় এবং বিশ্বের রাজনীতিতে চিন এবং ভারতের সম্পর্কের সমীকরণটা ভীষণই গুরুত্বপূর্ণ। সেই সমীকরণটা ঠিক রাখতে সামনে যতটা না খেলা হয়, তার থেকে অনেক বেশি খেলা হয় পর্দার আড়ালে। কে, কার উপরে আধিপত্য বিস্তার করবে, কে দৌড়ে এক পা এগিয়ে যাবে, তা নিয়েই লড়াই চলছে ২৪ ঘণ্টা। নেপথ্যে থেকে যাঁরা এই লড়াই লড়ছেন, তাঁদের কথা আমাদের কাছে অজানাই থেকে যায়।
‘অপারেশন ড্রাগনহান্ট’ এই পর্দার অন্তরালেই উঁকি দিয়েছে। পাঠকদের সামনে নিয়ে এসেছে আড়ালে থাকা এক কাহিনীকে। যার প্রাতিটা পদক্ষেপে নিঃশ্বাস ফেলছে মৃত্যুদূত। একটা ভুল পদক্ষেপ মানে হারিয়ে যেতে হবে চিরতরে। এই কাহিনি যদিও শুরু হয়েছে ১৯৯৮ সালে, ভ্যাটিকানে জোড়া খুনের ঘটনা দিয়ে, কিন্তু উপন্যাসের আসল পটভূমিকা ২০২১ সাল। যখন কোভিডের আতঙ্ক কাটিয়ে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে পৃথিবী।
এই কাহিনি তৈরি হয়েছে বাস্তব এবং কল্পনার মেলবন্ধনে। কিছু বাস্তব ঘটনার পটভূমিকায় লেখা হয়েছে এই স্পাই থ্রিলার। যে বই আপনাদের ভাবাবে। পড়ার পরে হয়তো নিজেকেই নিজে প্রশ্ন করবেন, আচ্ছা এমনটা যদি হয়, তা হলে কী হবে? এই কাহিনি তুলে ধরেছে নির্ভীক কিছু মানুষের কথা। যাঁদের কাছে সবার আগে থাকে দেশ। যাঁরা দেশের জন্য প্রাণ দিতে পারেন, প্রাণ নিতেও পারেন। নিরন্তর যাঁরা রক্ষা করে চলেছেন মাতৃভূমিকে। কুর্নিশ তাঁদের। এই বই তাঁদেরই জন্য।
কৃতজ্ঞতা জানাই পারুল প্রকাশনীকে এবং সর্বোপরি কর্ণধার গৌরদাস সাহা মহাশয়কে এই বইটি প্রকাশ করার জন্য। কৃতজ্ঞতা জানাই বেশ কয়েকজন মানুষকে, সাংবাদিক হিসেবে যাঁদের সঙ্গে পরিচয় ঘটেছে। যাঁদের নাম সামনে আনা গেল না। এই বই লেখার ক্ষেত্রে তাঁদের সবার সাহায্য পেয়েছি।
পাশাপাশি দিয়ে রাখতে চাই একটি বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ: এই উপন্যাস বাস্তবের উপরে ভিত্তি করে লেখা এক কাল্পনিক কাহিনি। এই কাহিনির কাল্পনিক চরিত্রদের সঙ্গে বাস্তবের কোনও চরিত্রের যদি মিল পাওয়া যায়, তাহলে তা একান্তই অনিচ্ছাকৃত। এবং, তার জন্য আমি আগাম ক্ষমাপ্রার্থী। এই উপন্যাস কোনও ব্যক্তি, সম্প্রদায়, ধর্ম বা জাতিকে আঘাত দেওয়ার জন্য লেখা হয়নি।
ধন্যবাদান্তে
কৌশিক দাশ
জুন ২০২৫




Leave a Reply