৪. কালভৈরব
নয়াদিল্লি। জুলাই-সেপ্টেম্বর, ২০১৮
মলদ্বীপের ঘটনার ২০ দিন আগে।
সবার সঙ্গে নিজের অফিসে দেখা করা পছন্দ করেন না নিশান্ত অরোরা। দিল্লিতে আরও কয়েকটা সেফ হাউস আছে। যেখানে বিশেষ বিশেষ লোকের সঙ্গে দেখা করেন র-এর চিফ।
সে দিনটাও ওই রকম ছিল। বিশেষ এক জনের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন অরোরা। তাঁর নিজের ব্যাকগ্রাউন্ড পুলিশের। মহারাষ্ট্র ক্যাডারের আইপিএস অফিসার। উল্টো দিকে যে ছেলেটি বসে আছে, তার ব্যাকগ্রাউন্ডও মিলিটারি।
শুধু মিলিটারি বললে ভুল হবে। আরও একটু আছে। ইন্ডিয়ান আর্মির প্যারা স্পেশাল ফোর্সের হাইলি ট্রেনড কমান্ডো। আর্মি থেকে আসার সময় ছেলেটির র্যাঙ্ক ছিল মেজর।
সরাসরি আর্মি থেকে এসেছে বললে অবশ্য একটু ভুল হবে। ইন্ডিয়ান আর্মি থেকে মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স কোর-এ যোগ দিয়েছিল অভিমন্যু সিংহ রানা। যে রাস্তাটা খুব সহজ ছিল না। আর্মি অফিসারদের বিশেষ বিশেষ কিছু গুণ থাকা দরকার এই ইন্টেলিজেন্স কোরে যোগ দিতে গেলে। সবার মধ্যে সেই সব গুণ থাকে না।
থাকতে হবে ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স। যার মানে হল, উল্টো দিকের লোককে যাচাই করে নেওয়ার ক্ষমতা। বুঝে নেওয়া, লোকটাকে মানসিক ভাবে ভাঙা যাবে কি না বা ফাঁদে ফেলা যাবে কি না।
হতে হবে টেকনোলজিতে চৌখস। বেশ কয়েকটা ভাষায় দখল থাকতে হবে, পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড হতে হবে স্বচ্ছ এবং গোপনীয়তা রক্ষা করার ক্ষমতা থাকতে হবে। এইসব গুণ যদি থাকে, তা হলেই কোনও মিলিটারি অফিসার ইন্টেলিজেন্স উইংয়ে যোগ দেওয়ার কথা ভাবতে পারে। তাও সেটা তার নিজের উপরে নির্ভর করবে না। যোগ্যতার মাপকাঠি পেরোলে তবেই তাকে ডেকে নেওয়া হয়।
ইন্টেলিজেন্স কোর বা ডাইরেক্টোরেট অব মিলিটারি ইন্টেলিজেন্সে যদি কোনও আমি অফিসার যোগ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করে, তা হলে তার উপরের গুণগুলো দেখে নেওয়া হয়। সব ক’টা বক্সে টিক পড়লে তবেই তাকে সুযোগ দেওয়া হয়। খুব কম অফিসারই এই সুযোগ পেয়ে থাকে।
এর পরে চলে পুণের মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স ট্রেনিং স্কুল অ্যান্ড ডিপো (MINTSD)-তে ট্রেনিং পর্ব। সেখান থেকে পাশ করে বেরোতে পারলে তবেই যোগ দেওয়া যায় মিলিটারি ইন্টেলিজেন্সে।
র-এর রিক্রুটারদের সব সময়ই নজর থাকে ইন্ডিয়ান আর্মির অফিসারদের উপরে। বিশেষ করে যারা মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স কোরের সঙ্গে যুক্ত। কাউকে পছন্দ হলে প্রস্তাব দেওয়া হয়। সে রাজি হলে র-এ যোগ দিতে পারে ডেপুটেশনে।
সাধারণত দু’রকম ভাবে এজেন্ট বেছে নেওয়া হয় র-এর জন্য। প্রথমত, পুলিশ ব্যাকগ্রাউন্ড, আর্মি ব্যাকগ্রাউন্ড যাদের আছে, তাদের মধ্যে থেকে। এরা হয় র-এর ডাইরেক্ট এজেন্ট। র-এর অফিসার। এদের মধ্যে থেকেই কেউ কেউ হয়ে যায় র-এর ডিরেক্টরও। যেমন পুলিশ থেকে আসা নিশান্ত অরোরা এখন সর্বোচ্চ পদ সামলাচ্ছেন।
দ্বিতীয় পদ্ধতিটা হল অ্যাসেট রিক্রুটমেন্ট। সেটা হয় সাধারণ লোকেদের মধ্যে থেকে। সেই ব্যক্তি কোনও অফিসের কেরানি হতে পারে, ডাক্তার হতে পারে, ইঞ্জিনিয়ার হতে পারে, ছাত্র হতে পারে। খুব সরল ভাবে বললে এরা হয় ‘স্পাই’। যখন কাউকে বেছে নেওয়া হয় ভবিষ্যতের স্পাই হিসেবে, তখন সেই ব্যক্তির উপরে নজরদারি চলে প্রথমে। সব ঠিক থাকলে তাকে প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রস্তাব গ্রহণ করলে চলে একটা ট্রেনিং পিরিয়ড। আর তারপরে নামিয়ে দেওয়া হয় ফিল্ডে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে ট্রেনিং দেওয়ার সময়ও পাওয়া যায় না। সরাসরি কাজে লাগিয়ে দেওয়া হয় এজেন্ট হিসেবে।
এর বাইরেও একটা ক্যাটেগরি আছে, যে ক্যাটেগরির এজেন্টরা ছায়ার মতো। দুনিয়ার কাছে তাদের কোনও অস্তিত্ব নেই। এদের কাজে লাগানো হয় কোনও বিশেষ সমস্যার সমাধান করতে। সমাধান কথাটার একটাই অর্থ— ভারতের পথের কাঁটা সরিয়ে দেওয়া। প্রধানত বিদেশেই এরা অপারেট করে বেশি।
এদের রিক্রুট করা হয় মিলিটারি থেকে। এরা ট্রেনড হয়েই আসে। তবে র-তে আসার পরে মিলিটারির সঙ্গে কোনও সম্পর্ক থাকে না তাদের। শুরু হয় নতুন পরিচয়ে নতুন জীবন। সেই জীবনে তারা আর পাঁচটা সাধারণ লোকের মতোই। কিন্তু তার আড়ালে আর একটা পরিচয় থাকে তাদের। তারা হয়—হাইলি ট্রেনড, হাইলি ডেডিকেটেড, হাইলি পেট্রিয়টিক। এবং, স্টোন কোলড কিলার।
অভিমন্যু সিংহ রানা বা এজেন্ট ভৈরব এই ছায়া জগতেরই বাসিন্দা!
সামনে বসা অভিমন্যুর মধ্যে এই গুণগুলো অনেক দিন আগেই আবিষ্কার করেছিলেন অরোরা। যে কারণে এই ছেলেটাকেই বেছে নিয়েছিলেন র-এর চিফ।
এখন এই গুণগুলো আরও কেউ কেউ টের পাচ্ছে। একটা মহলে অভিমন্যুর নামই হয়ে গিয়েছে—
কালভৈরব!
অভিমন্যুর দিকে একটা ফাইল ঠেলে দিয়ে মুখ খুললেন অরোরা—
‘মলদ্বীপ সিচুয়েশনটা কিন্তু খুব জটিল হয়ে উঠছে।’
ফাইলটা একটু উল্টেপাল্টে দেখে অভিমন্যু শুধু একটা শব্দই বলল, ‘চিন?’
‘হ্যাঁ,’ সিগারে অগ্নিসংযোগ করতে করতে জবাব দিলেন অরোরা। তাঁর ডক্টর কত দিন বলেছে ধূমপানের অভ্যাসটা ছাড়তে। কিন্তু তাঁর কাজে নার্ভ শান্ত রাখা ভীষণ জরুরি। সিগারটা ঠোঁটে না থাকলে যেন নিজেকে শান্ত রাখতে পারেন না র-এর চিফ। খুবই বাজে অভ্যাস। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে, সিগারে একটা লম্বা টান দিয়ে অরোরা বলতে থাকলেন—
‘আমাদের কাছে যা খবর, সোলহি জিততে চলেছে। সোলহিকে জেতানোর জন্য ভারত যা করার করছে। এই ইনভেস্টমেন্টটা জলে গেলে চলবে না। ভারত মহাসাগর নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে মলদ্বীপ খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা পয়েন্ট হয়ে উঠেছে। মলদ্বীপকে হাতছাড়া করা যাবে না কোনও ভারেই।
অভিমন্যু স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল তার বসের দিকে। সে বুঝে গিয়েছে, ব্যাপারটা কোন দিকে যাচ্ছে।
‘সমস্যা হচ্ছে, চিন ব্যাপারটা এত সহজে মেনে নেবে না,’ বলে চললেন অরোরা, ‘কোনও বড় পদক্ষেপ করতে পারে ওরা।’
‘সোলহিকে একেবারে সরিয়ে দিতে পারে বলছেন?’
‘সেরকমই খবর আছে আমাদের কাছে। চিন কোনও এজেন্টকে পাঠাতে পারে মলদ্বীপে।’
‘আমাকে কী করতে হবে?’ ফাইলটা বন্ধ করে ঠান্ডা গলায় প্রশ্ন করল অভিমন্যু।
‘যা তুমি করে থাকো। পথের কাঁটা সরিয়ে দিতে হবে। মলদ্বীপে আমাদের এজেন্ট আছে। ডিটেল পেয়ে যাবে ফাইলে। মালেতে পৌঁছে ওর সঙ্গে যোগাযোগ করে নাও। যদি চিনের অ্যাসাসিন সত্যিই আসে, তা হলে ওকে সরিয়ে দিতে হবে। এই নির্বাচনে জিততেই হবে সোলহিকে। ভারতের স্বার্থের জন্য ওকে মলদ্বীপের প্রেসিডেন্ট হতে হবে।’
বিভিন্ন পরিচয়ে বিভিন্ন পাসপোর্ট করা আছে অভিমন্যুর। মলদ্বীপে সে যাবে টুরিস্ট হিসেবেই। মলদ্বীপের জন্য আগাম ভিসা লাগে না ভারতীয়দের। এয়ারপোর্ট বা পোর্টে নামলেই ফ্রি ভিসা।
দু’দিন পরেই মালের ভেলানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পা রাখল অভিমন্যু সিং রানা। অবশ্যই অন্য নামে।
এর পরে কাজটা এগোতে লাগল বেশ মসৃণ ভাবেই। চিনা এজেন্ট মলদ্বীপে পা রেখেছে কিনা, জানার একটা সোজা রাস্তা হল, মলদ্বীপ সিক্রেট সার্ভিসে থাকা চিনা গুপ্তচরদের উপরে নজর রাখা।
চিনের সঙ্গে মলদ্বীপের সম্পর্ক তখন এতটাই ভাল যে, বিশেষ গোপনীয়তা বজায় রাখার কোনও প্রয়োজন মনে করত না এই অফিসাররা। একটু ভিতরের খবর রাখা লোকেরা জানত, কোন কোন অফিসার চিনের পে রোলে আছে। সরকারি মদতও থাকত এই সব অফিসারের পিছনে।
অবশ্য শুধু চিনের নয়, ভারতের পে-রোলে থাকা কয়েক জন অফিসারও ছিল মলদ্বীপ সিক্রেট সার্ভিসে। যাদের একজনের সাহায্যে সন্দেহভাজন তিন অফিসারের উপরে নজরদারি চালানোর পরে বেরিয়ে এল নামটা। যার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে লিং।
সে দিন যে ফেরিটা লিং এবং মলদ্বীপের ন্যাশনাল সিকিউরিটি সার্ভিসের ওই উচ্চপদস্থ অফিসারকে নিয়ে মালের দিকে আসছিল, তাতে টুরিস্টদের ভিড়ের মধ্যে মিশে ছিল অভিমন্যুও।
একবার লিংকে চিহ্নিত করার পরে আর তাকে নজরের বাইরে যেতে দেয়নি অভিমন্যু। তিনবার অ্যাসাসিনেশনের স্পট রেকি করতে গিয়েছিল লিং। তিনবারই ছিল অভিমন্যু। এবং পরে আরও একবার। নিজের এসকেপ রুটটা প্ল্যান করার জন্য। তার মলদ্বীপ কন্ট্যাক্ট একটা ব্যাপার বলে দিয়েছিল— সরকারের পক্ষ থেকে লিংকে সাহায্য করা হচ্ছে অপারেশনটা করার জন্য। যার ফলে সিকিউরিটি নিয়ে কোনও চিন্তা থাকবে না।
লিংয়ের পরিষ্কার করে দেওয়া রাস্তাতে হেঁটেই চাইনিজ এজেন্টকে সরিয়ে দেয় অভিমন্যু।
তাঁর এজেন্টের কাছে ফাইনাল মেসেজটা পাওয়ার পরে যা যা করার করেছিলেন অরোরা। সোলহিকে ডেকে সতর্ক করে দেওয়া হয়। নিরাপত্তা বাড়িয়ে দেওয়া তাঁর। বলে দেওয়া হয়, দু’টো মাস নিরাপত্তার বেষ্টনীতে থেকেই নির্বাচনী প্রচার করতে হবে তাঁকে।
এর পরে আরোরা দেশে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছিলেন এজেন্ট ভৈরবকে।
দেশে ফেরার পরেই বসের মুখোমুখি হল অভিমন্যু। অপারেশন ব্রিফ করার জন্য। পুরো রিপোর্ট দেওয়ার পরে অভিমন্যু বলল, ‘লিং মারা যাওয়ার সময় একটা কথা বলে গিয়েছিল। খানিকটা ওয়ার্নিংয়ের মতো ছিল কথাগুলো।’
ভ্রুটা কুঁচকে অভিমন্যুর দিকে তাকালেন অরোরা।
‘লিং বলেছিল, চিয়াং আসছে। সব কিছু ধ্বংস হয়ে যাবে।’
‘চিয়াং?’ ভ্রুটা কুঁচকেই রইল রাওয়াতের।
‘চিয়াংয়ের একটা মানে বল্লম, বর্শা। শাওলিন মঙ্কদের প্রিয় একটা অস্ত্র।’
অভিমন্যুর উত্তরটা শুনে রাওয়াতের ভ্রু কুঁচকানোটা আরও বেড়ে গেল।
‘বল্লম? মানে একটা অস্ত্র? চিন কি নতুন কোনও অস্ত্র বানাচ্ছে? সেরকম তো কোনও খবর পাইনি,’ কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইলেন অরোরা। তারপরে বললেন, ‘লিংয়ের কথায় কতটা গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে মনে করো?’
‘যে লোকটা মরতে বসেছে, সে বাজে কথা বলবে না। তা ছাড়া লিং সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছিলাম। এমএসএসের টপ এজেন্টদের একজন। ওর কাছে গোপন খবর থাকা অস্বাভাবিক কিছু নয়।’
ডানহাতের পাঁচটা আঙুল টেবিলে কয়েকবার বাজিয়ে নিলেন অরোরা। ‘ঠিক আছে। ম্যানডারিন ডেস্ককে ব্যাপারটা জানাব। আমাদের চিনের এজেন্টকেও চোখকান খোলা রাখতে বলা হবে। দেখা যাক, কোনও খবর পাওয়া যায় কিনা।’
পরের দু’মাসে চিয়াং নিয়ে কোনও খবর পাওয়া গেল না। কিন্তু ‘র’ এবং ভারতের বিদেশমন্ত্রকে খুশির হাওয়া বয়ে গেল। ইয়ামিনকে হারিয়ে মলদ্বীপের প্রেসিডেন্ট হয়ে গিয়েছেন সোলহি। যা ভারত এবং ‘র’-এর একটা বিশাল জয় বলে চিহ্নিত হয়ে গেল কূটনৈতিক মহলে।
ঠিক উলটো ছবিটাই দেখা গেল চিনে।
সরকারি ঘোষণা হওয়ার আগেই খবরটা চলে এসেছিল চিনের কাছে। হারতে চলেছে ইয়ামিন।
বেজিংয়ে পলিটব্যুরোর মিটিংয়ে সে দিন রীতিমতো ঝড় উঠে গেল। ভারতের এই জয়টা মানতে পারছিল না কেউ।
সোলহির প্রেসিডেন্ট হওয়াটা এমএসএস-এর একটা ব্যর্থতা হিসেবেই চিহ্নিত হয়ে গেল পলিটব্যুরোর কাছে। এবং, কারওরই অজানা নয়, ব্যর্থতাকে কী চোখে দেখা হয় পলিটব্যুরোয়।
সোলহির শপথগ্রহণের দিনে এমএসএস-এর সদর দফতরে মিলিত হলেন হাইকমান্ডের কয়েকটি বড় মাথা।
‘চিয়াং’ নামকরণটি যে জেনারেল করেছিলেন, বিষোদগারটি তিনিই করলেন, ‘ভারতের এই জয়কে কিন্তু চুপচাপ মেনে নেওয়া যাবে না। ওদের শিক্ষা দিতেই হবে। যে করেই হোক।’
কথাটা কারওরই অপছন্দ হল না। শিক্ষা দেওয়াটা সত্যিই দরকার। ভারত যেভাবে ডালপালা মেলছে, সেটা হতে দেওয়া চলে না। ডালগুলো কেটে দেওয়ার সময় এসেছে।
আবার সরাসরি কিছু করাও মুশকিল। ভারতের মার্কেটটা বিশাল। ভারতীয় বাজারে চিনের বহু পণ্য যায়। চিনের অর্থনীতির একটা বড় অংশ ভারতের উপরেই নির্ভরশীল। রাজনৈতিক সমীকরণের পাশাপাশি আর্থিক সমীকরণের গুরুত্বটাও মাথায় রাখতে হবে। সেই বাজারটাও নষ্ট করতে চায় না চিন। এমন কিছু করতে হবে, যাতে সাপও মরবে কিন্তু লাঠিও ভাঙবে না।
মুখ খুললেন পার্টির এক মহাকর্তা, ‘আমার মনে হয়, ভারতের এই বর্তমান সরকারকে সরিয়ে দেওয়ার সময় এসেছে। এই সরকারকে ফেলে দিতে পারলে আমাদের কাজটা সহজ হয়ে যাবে। তখন আর চিনের সঙ্গে টক্কর দিতে সাহস পাবে না ভারত।
এই প্রস্তাবটাও মনে ধরল সবার। সত্যিই, এই ভারত বড্ড বাড়াবাড়ি করছে। এই সরকারকে একটা উপযুক্ত শিক্ষা দিতে হবে।
কিন্তু কী করে?
অনুচ্চারিত প্রশ্নটা খেলা করতে লাগল ঘরে উপস্থিত মানুষগুলোর মনে।
এমএসএস চিফের মাথায় তখন নিঃশব্দে দানা বাঁধছে একটা পরিকল্পনা। ভারতে সরকার ফেলে দেওয়ার রাস্তা বার করতে হলে তাঁকে বিশেষ একজনের সঙ্গে কথা বলতে হবে।
লোকটা চিনের কেউ নয়। লোকটা ভারতীয়!
