৯. প্রথম সূত্র
ক্যাপিটাল মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি, বেজিং। জুন, ২০১৯
সে দিন নায়ারের কথাটা শুনে চমকে উঠেছিল মৈত্রী। দেশের সেবা মানে? কী বলতে চায় লোকটা?
নায়ার তার পরে বলেছিল, ‘আমরা একটা প্রস্তাব দিতে চাই আপনাকে। খুব একটা কঠিন কোনও কাজ নয়। শুধু চোখকান খোলা রাখার কাজ।’
মৈত্রী চুপ করে তাকিয়ে ছিল।
‘আপনি মেডিক্যাল ফিল্ডে আছেন। এখানকার একটা বড় ইউনিভার্সিটির সঙ্গে যুক্ত। আপনাকে অনেক সেমিনারে যেতে হয়। চিনের অনেক বৈজ্ঞানিক সেখানে আসেন। চিনের স্টুডেন্টরাও থাকে। এই ফিল্ডের অনেকের সঙ্গে আপনার যোগাযোগ আছে। আপনি শুধু চোখকান খোলা রাখবেন। যদি সন্দেহজনক কিছু শোনেন, আমাকে জানাবেন। ব্যস। এর বাইরে কিছু নয়।’
মৈত্রী অবাক হয়ে অল্প সময় তাকিয়ে রইল নায়ারের দিকে। তারপরে বলল, ‘আপনি আমাকে গুপ্তচরবৃত্তি করতে বলছেন?’
নায়ার একটা লম্বা শ্বাস ফেলল। তারপরে কফির কাপে চুমুক দিয়ে জবাব দিল, ‘সে ভাবেও দেখতে পারেন ব্যাপারটা। তবে সিনেমা বা গল্পে যে রকম গ্ল্যামারাস গুপ্তচরদের কাহিনি দেখেন বা পড়েন, সে রকম নাটকীয় হবে না আপনার জীবন। যে রকম চলছে, সে রকমই চলবে। যে ক’টা বছর চিনে আছেন, চোখকানটা একটু খোলা রাখবেন। এইটুকুই। ভেবে বসবেন না যে, আপনাকে কোনও গোপন মিশনে পাঠানো হবে যেখানে আপনার জীবন বিপন্ন হতে পারে।’ কথা শেষ করে মিষ্টি হাসল নায়ার। ধাতস্থ হতে কিছুটা সময় নিল মৈত্রী। তারপরে জানতে চাইল, ‘আপনারা কি ‘র’?’ অল্পবিস্তর থ্রিলার সে-ও পড়েছে!
‘আমরা কে, সেটা বড় কথা নয়। আপনি দেশকে সাহায্য করছেন, এটাই আসল ব্যাপার।’
‘কিন্তু আমি কেন? যতদূর জানি ভারত থেকে চিনে কুড়ি হাজারের উপরে ছাত্রছাত্রী পড়তে আসে।’
‘ঠিকই বলেছেন। সংখ্যাটা কুড়ি হাজারেরও বেশি। ওই যে বললাম, কাদের ভিসা দেওয়া হচ্ছে, সেটা আমরা জানি। তারপরে একটা শর্ট লিস্ট করা হয়। দেখা হয়, এই কাজের উপযুক্ত কারা হতে পারে। অর্থাৎ, কাদের পারিবারিক শিক্ষা কী রকম।’
একটু থামল নায়ার। সময় দিল মৈত্রীকে পুরো ব্যাপারটা হজম করার। তারপরে বলে চলল-
‘আপনার বাবার কথা আমরা সব জানি। ওঁর মতো সৎ মানুষ খুব কম হয়। আপনাদের বাড়িতে লাগানো নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ছবিতে যে উনি রোজ প্রণাম করেন, এটাও আমাদের অজানা নয়। সব খবর নেওয়ার পরে আমাদের মনে হয়েছে, আপনিই উপযুক্ত প্রার্থী।
মৈত্রী বুঝতে পারছিল না, কী বলবে। তার দুনিয়াটা খুব দ্রুত বদলে যাচ্ছিল। সে চিনে এসেছিল একটা স্বপ্ন পূরণ করার জন্য। বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য। হাসি ঠিকই ফুটেছে বাবা-মায়ের মুখে, কিন্তু সে যে ভাবে চেয়েছিল, সে ভাবে কী? বুঝতে পারছিল না মৈত্ৰী।
মেয়েটার দ্বিধাটা বুঝতে পারল নায়ার। সে আশ্বস্ত করার ভঙ্গিতে বলল, ‘আপনি এই নিয়ে একেবারে চাপ নেবেন না। টেনশন করবেন না। আমরা খারাপ লোক নেই। আপনি হোস্টেলে ফিরে যান। দু’দিন ভাবুন। শনিবার আবার আমরা এখানে দেখা করব। তখন আপনার সিদ্ধান্ত জানাবেন।
হোস্টেলে নিজের বিছানায় শুয়ে পরিস্থিতিটা ভাবছিল মৈত্রী। সে কখনও কল্পনাও করেনি, কোনও দিন এই রকম অবস্থার মধ্যে পড়বে। দেশের হয়ে গুপ্তচরগিরি করবে কিনা, সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে!
তবে নায়ার বলে দিয়েছে, ব্যাপারটা মোটেই গ্ল্যামারাস কিছু নয়। অনেকটা ক্লারিকাল কাজের মতো। নিজের মনেই হাসল মৈত্রী। ততক্ষণে সিদ্ধান্তটা সে নিয়ে ফেলেছে। কাজটা না করে উপায়ও নেই। বাবা-মায়ের মুখে অনেক দিন পরে হাসি ফুটেছে। এই হাসিটা সে কেড়ে নিতে চায় না।
এইভাবেই তার নতুন কাজ শুরু করল মৈত্রী। কিন্তু বছর দেড়েক কিছুই করতে হল না তাকে। নায়ারের সঙ্গে দেখা হলে মামুলি কথাবার্তা হত। এমন কিছু তার কানে আসেনি, যা নায়ারের কাজে লাগতে পারে। নায়ারও কোনও চাপ দেয়নি।
তারপরে এল সেই দিনটা। যখন নায়ার তাকে ডেকে একটা দায়িত্ব দিল। চিয়াং। এই নামটা খেয়াল রাখতে হবে। যদি কোনও ভাবে কানে আসে, তা হলে নায়ারকে জানাতে হবে।
সেই কাজের দায়িত্ব পাওয়ার পরেও মৈত্রী কোনও সাহায্য করতে পারেনি নায়ারকে। তার একটু খারাপই লেগেছিল। বিশেষ করে যেখানে দেশের স্বার্থ জড়িয়ে। সে আগ বাড়িয়ে দু’-এক জায়গায় জিজ্ঞেসও করেছিল চিয়াং নিয়ে। কিন্তু ইন্টারেস্টিং কিছু পায়নি। চিয়াং শব্দটা ধীরে ধীরে তলিয়ে গেল স্মৃতির অতলে। মেডিক্যাল কোর্সের শেষ দিকে চলে এসেছে মৈত্রী। এই সময় চাপটাও বাড়ছে।
চিনে আসার পরে মৈত্রী শুধু নিজের কলেজের গণ্ডিতে আটকে ছিল না। ভারতীয় স্টুডেন্টদের দল ঘুরে বেড়ায় চিনের নানা শহরে। এক কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে অন্য কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের যোগাযোগ আছে। দেখা সাক্ষাৎ হওয়ার পরে সেই যোগাযোগের রেশটা থেকে যায় অনলাইনের মাধ্যমে।
সেইরকমই এক অনলাইন বন্ধু মারফত মৈত্রী জানল, বেজিংয়ে আসছে হাবেই মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির একটা দল। যাদের মধ্যে অনেককেই আগে থেকে চেনে মৈত্রী।
.
দিন সাতেকের মধ্যেই বেজিং চলে এল দলটা। ক্যাপিটাল মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে তাদের কিছু কাজও ছিল। পরিচিত ভারতীয় ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে দেখা হওয়ায় আড্ডাটা জমে উঠল দু’দলে।
মৈত্রীদের ইউনিভার্সিটির ক্যাফেটেরিয়াটা বেশ বড়। খাবারও পাওয়া যায় দেশ- বিদেশের। তাই আড্ডাটা বেশি হত ওখানেই।
হাবেই ফিরে যাওয়ার আগের দিন এই রকমই একটা আড্ডা বসেছে দু’টো দলের। মৈত্রী একটু চুপচাপ ধরনের মেয়ে। সে বলার চেয়ে শোনাই বেশি পছন্দ করে। উল্টো দিকে মূর্তি বলে ছেলেটা আবার বড্ড বকে। কথা শুরু করলে থামতেই চায় না।
জনা দশেক ভারতীয় ছেলে-মেয়ে দু’টো টেবিল জুড়ে হইহট্টগোল করে চলেছে। মূর্তির গল্প তো থামছেই না। নিজের ইউনিভার্সিটির গল্প, প্রফেসরদের গল্প। মৈত্রী চুপ করে শুনছিল আর কফির কাপে চুমুক দিচ্ছিল।
মূর্তি হঠাৎ বলে উঠল, ‘জানিস, একটা মজার ব্যাপার ঘটেছিল কিছুদিন আগে। আমাদের এক চাইনিজ প্রফেসরকে ধরে আমি খুব জ্ঞান দিচ্ছিলাম।’
‘কী রকম, কী রকম?’ বেশ কয়েকটা ছেলে-মেয়ে একসঙ্গে প্রশ্ন করল।
‘প্রফেসরটি খুব ভেঙে পড়েছিলেন। নতুন একটা ভাইরাস নিয়ে গবেষণা করছেন। আবার ভয় পাচ্ছেন, এই ভাইরাস না মানুষের ক্ষতি করে। এমনকি, গবেষণা বন্ধ করে দেবেন কি না, তাও ভাবছিলেন।
‘তা তুই কী বললি?’ প্রশ্ন করল মৈত্রীর এক বান্ধবী।
‘আমি স্যারকে খুব জ্ঞান দিলাম। বললাম, আপনি তো মানবজাতির উপকারের জন্যই গবেষণা করছেন। আপনি কেন চিন্তা করছেন।’
‘তা তোর জ্ঞান শুনে প্রফেসর কী বললেন?’
‘মনে হল অনুপ্রাণিত হয়েছেন। গবেষণাটা চালিয়ে যাবেন। বল, তা হলে সমাজের কত বড় উপকার করলাম আমি!’
সবাই হেসে উঠল। একজন প্রশ্ন করল, ‘নতুন ভাইরাসটা কী? জানলি কিছু?’
‘না, আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি। উনি খুব চাপের মধ্যে ছিলেন তো। তবে কী যেন একটা নাম বলেছিলেন।’
‘কী নাম?’
‘বেশ সুন্দর একটা নাম। কী যেন, কী যেন…পেটে আসছে, মুখে আসছে না,’ বলে মাথা চুলকোতে লাগল মূর্তি। কেউ আর তাকে পাত্তা দিল না। ডুবে গেল অন্য কথায়। মৈত্রীও কফির কাপে চুমুক লাগাল।
তারপরে ভয়ঙ্কর একটা বিষম খাওয়া থেকে কোনওমতে আটকাল নিজেকে। মূর্তির কথাগুলো শুনতে পেয়েছে সে। মূর্তি বলছে-
‘মনে পড়েছে। প্রফেসর ওই ভাইরাসটার নাম দিয়েছে চিয়াং! বেশ সুন্দর নাম, তাই না?’
মূর্তির কথা কেউ শুনল বলে মনে হল না। ছাত্র-ছাত্রীরা তখন ঢুকে গিয়েছে অন্য আলোচনায়।
অতি কষ্টে নিজেকে সামলাল মৈত্রী। তারপরে উত্তেজনাটা দমিয়ে মূর্তিকে প্রশ্ন করল, ‘কী নাম তোদের ওই প্রফেসরের?’
‘প্রফেসর ওয়াং লি। খুব সিনিয়র প্রফেসর।’
‘আচ্ছা,’ বলে কফির কাপটা শক্ত করে চেপে ধরল মৈত্রী। তার বুকের ভিতরটা ধুকপুক ধুকপুক করছে।
.
নায়ারের সঙ্গে দেখা হওয়ার তারিখটা আরও দু’দিন পরে। নায়ার কোনও ফোন নম্বর দেয়নি মৈত্রীকে। বলে রেখেছিল, প্রয়োজন হলে যোগাযোগ করে নেবে।
দু’টো দিন উত্তেজনায় ভাল করে পড়াশোনা করতেই পারল না মৈত্রী। তারপরে এল নায়ারের সঙ্গে দেখা করার দিনটা।
সুপারমার্কেটে নায়ারকে দেখতে পেয়েই সে দ্রুত এগিয়ে এল। তার পরে চারপাশটা ভাল করে দেখে নিয়ে বলল, ‘খবর আছে।’
মৈত্রীর উত্তেজনাটা যেন টের পাচ্ছিল নায়ারও। সে চুপ করে অপেক্ষা করে রইল মৈত্রীর পরের কথাটা শোনার জন্য।
‘চিয়াং শব্দটা শুনেছি একজনের মুখ থেকে।’
‘কার?’ নায়ারের গলাটা শান্ত।
‘আমার এক বন্ধুর মুখে শুনলাম। ও পড়ে হাবেই মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে। ওদের এক প্রফেসর নতুন ভাইরাস নিয়ে গবেষণা করছেন। ওই ভাইরাসের নাম রেখেছেন চিয়াং।’
নায়ারও মনে মনে উত্তেজিত হয়ে উঠল। কিন্তু গলাটা স্বাভাবিক রেখে জানতে চাইল, ‘কী নাম প্রফেসরের?’
‘প্রফেসর ওয়াং লি।’ একটু থেমে মৈত্রী যোগ করল, ‘প্রফেসর নাকি ওই ভাইরাসটা নিয়ে চিন্তায় আছেন। ভয় পাচ্ছেন, মানব সমাজের ক্ষতি না হয়ে যায়।’
দু’জনেই কয়েক মূহূর্ত চুপ করে রইল। তার পরে নায়ার বলল, ‘যা শুনেছেন, সব কিছু খুলে বলুন আমাকে। একেবারে প্রথম থেকে।’
দু’জনে তাদের পছন্দের টেবিলে বসার পরে মূর্তির গল্পটা নায়ারকে শোনাল মৈত্রী। কথা শেষে নায়ার একটাই প্রশ্ন করল, ‘ওই প্রফেসর কি মানসিক টানাপড়েনে আছেন এই গবেষণাটা নিয়ে? ‘
‘মূর্তি তো তাই বলল। প্রফেসর ভয় পাচ্ছিলেন, ভাইরাসের প্রকোপে না মানুষের ক্ষতি হয়ে যায়। গবেষণা বন্ধ করে দেওয়ার কথাও নাকি ভেবেছিলেন। মূর্তিই ওঁকে সাহস জুগিয়েছে।’
একটু ভাবল নায়ার। তার পরে বলল, ‘আমার কথাটা শুনুন মৈত্রী। আমরা আপাতত আর দেখা করব না। যদি প্রয়োজন হয়, আমি অন্য ভাবে যোগাযোগ করব।’ একটু থামল নায়ার। তারপরে মুখে হাসি ফুটিয়ে বলল, ‘আপনি দারুণ কাজ করেছেন। বাকিটা আমরা করব। আপনি এবার লেখাপড়ায় মন দিন।’
মৈত্রীর কাঁধ চাপড়ে দিয়ে দ্রুত বেরিয়ে গেল নায়ার।
.
একদিনের মধ্যেই ম্যান্ডারিন ডেস্ক থেকে রিপোর্টটা পৌঁছে গেল নিশান্ত অরোরার টেবিলে। চিয়াং শব্দের একটা খোঁজ পাওয়া গিয়েছে।
নতুন এক ভাইরাসের নাম!
খবরটা জানার পরে কপালে বড়সড় একটা ভাঁজ পড়ল র চিফের। চিন আবার কী শুরু করেছে? চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়াল ব্যাপারটা।
তাঁদের এই ভুলভুলাইয়ার দুনিয়ায় কাকতালীয় বলে কিছু হয় না। সব কিছুর সঙ্গে সব কিছুর একটা যোগ আছে বলে ধরে নিতে হবে। সেই ফর্মুলা অনুযায়ী, ধরে নিতে হবে লিং মরার আগে অভিমন্যুকে যে চিয়াংয়ের কথা বলে গিয়েছিল, তা এই একই চিয়াং।
অর্থাৎ, এক মারণ ভাইরাস। তা হলে কি চিন কোনও বায়োলজিক্যাল ওয়েপন বানাচ্ছে? যা ভারতের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করতে পারে?
অরোরা জানেন, সেটা খোলাখুলি করতে পারবে না চিন। জেনিভা প্রোটোকল এবং বায়োলজিক্যাল ওয়েপনস কনভেনশন গোটা পৃথিবীতে বায়োলজিক্যাল ওয়েপনের উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে। এই অস্ত্র কেউ ব্যবহার করলে তার গায়ে টেররিস্ট তকমা লাগিয়ে দেওয়া হবে। চিন যদি সত্যিই এই অস্ত্র কাজে লাগাতে চায় ভারতের বিরুদ্ধে, তা হলে চোরাগোপ্তা আক্রমণ করতে হবে। ঘুরপথে। মেঘের আড়ালে থেকে। ফাইলটা আরও এক বার দেখে নিলেন অরোরা। প্রফেসর ওয়াং লি সম্পর্কে একটা পর্যবেক্ষণ রয়েছে ফাইলে—
ভাইরাস নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন প্রফেসর। চিন্তায় আছেন, এতে না মানুষের ক্ষতি হয়ে যায়। এমনকি, গবেষণা চালিয়ে যাবেন কি না, তা নিয়েও ভেবেছেন।
ভাল করে লেখাটা আবার পড়লেন অরোরা। মনে মনে চাইনিজ প্রফেসরের একটা সাইকো-অ্যানালিটিক্যাল পোর্ট্রেট বানানোর চেষ্টা করলেন। বোঝার চেষ্টা করলেন, লোকটার মানসিকতা কী রকম হতে পারে।
তারপরে ফোনে দু’টো নির্দেশ দিলেন র-এর চিফ। একটা ম্যান্ডারিন ডেস্কে। প্রফেসর ওয়াং লি-র উপরে যতটা সম্ভব নজর রাখতে হবে। কাজে লাগাতে হবে চিনের কোনও স্লিপার সেলকে।
আর দ্বিতীয়টা তার সেক্রেটারিকে। অভিমন্যু সিংহ রানাকে এখনই তাঁর কেবিনে পাঠানোর নির্দেশ দিয়ে।
অভিমন্যুকে জানানো দরকার, লিংয়ের হুমকিটা সম্ভবত মিথ্যা ছিল না। বড় কিছু আসছে চিন থেকে।
ভয়ানক কিছু!
