রক্তকরবী মার্ডারস – কৌশিক দাশ
রক্তকরবী মার্ডারস – কৌশিক দাশ
স্মেল অফ বুকস প্ৰকাশন
.
উৎসর্গ
আমার বাবা-মা এবং বাকি সব অভিভাবককে।
.
ভূমিকা
সম্পূর্ণ কাল্পনিক এক উপন্যাস!
লাইনটা লেখার পরে ভাবছি, সত্যিই ঠিক লিখলাম তো? নাকি ভুল? কাহিনিটা কাল্পনিক নাকি…
এই কাহিনির ভূমিকা লিখতে বসে আমি সত্যিই আটকে গিয়েছি। কী লিখব বুঝতে পারছি না। আমাদের সমাজে জীবনে এমন এমন সব সত্য লুকিয়ে থাকে, যা অতি ভয়ংকর। দুর্বল হৃদয়ের লোকেরা মনে করেন, এই সব সত্যকে অন্ধকারেই রেখে দেওয়া ভালো। এদের সামনে নিয়ে এলে পরিণতি কখনওই ভালো হবে না।
কিন্তু সত্যিই কি তাই? কিছু সত্যকে অন্ধকারে রেখে দিলেই কি সব বিপদ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়? যায় না, যাওয়া সম্ভব নয়। সেই ‘ভয়ংকর’ তখন ডালপালা আরও ছড়িয়ে গ্রাস করে নিতে চায় সব কিছু।
‘স্মেল অব বুকস’-এর তরফে যখন একটি উপন্যাস লেখার প্রস্তাব পাই, গোটা রাজ্য এক অসহনীয় পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। অন্ধকারে যেন ডুবে গিয়েছে সব কিছু। সেই অন্ধকারেরই প্রতিফলন ঘটেছে এই উপন্যাসে।
কাহিনির পটভূমিকা হিসেবে বেছে নিই শান্তিনিকেতনকে। তারপরে ঠিক করি আরও একবার শহরটাকে দেখতে হবে। এবার অন্য দৃষ্টিতে। আমার কলেজের বান্ধবী অনন্যা এবং ওর স্বামী সুমনের আমন্ত্রণপত্রটা পেয়েছিলাম ঠিক তার পরেই। ওদের গৃহপ্রবেশে যাওয়ার আমন্ত্রণ। সমাপতন কাকে বলে! চলে গিয়েছিলাম শান্তিনিকেতনে। আগে অনেকবারই গিয়েছি। কিন্তু এবার এসেছিলাম কয়েকটি বিশেষ লক্ষ্য নিয়ে। ওখানে গিয়ে কথা বলি কয়েকজন স্থানীয় মানুষ, শিক্ষক-শিক্ষিকার সঙ্গে। ভেসে ওঠে শান্তিনিকেতনের একটি অচেনা দিক।
এই উপন্যাস লেখার ক্ষেত্রে দুজন আমাকে খুবই সাহায্য করেছে। প্রথম জন, আমার স্কুলের বন্ধু ডক্টর বিষ্ণুপ্রিয়া বসু। বিষ্ণুপ্রিয়া একজন খ্যাতনামা সাইকিয়াট্রিস্ট। মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস করে বিষ্ণুপ্রিয়া ইংল্যান্ডে চলে যায়। সেখানে সাউথ সাসেক্সে অ্যাডাল্ট সাইকিয়াট্রি-সহ বিভিন্ন বিষয়ে নানা কোর্স সম্পূর্ণ করে। অনেক বছর প্র্যাকটিসও করেছে। এই বইটি লেখার আগে এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বিষ্ণুপ্রিয়ার সাক্ষাৎকার নিই। আমার অনেক প্রশ্নের জবাব পাই ওর কাছ থেকে।
দ্বিতীয় জন, আমার ভগ্নিপতি সৌমেন সরকার। সৌমেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক। এই বইয়ের আইনি ও তদন্ত সংক্রান্ত তথ্য দিয়ে ও আমাকে সাহায্য করেছে। এ ছাড়াও আছেন আরও কয়েকজন। যাঁদের কথা এখানে বলা যাবে না।
একটা বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ এখানে দিয়ে রাখছি। এই উপন্যাস সম্পূর্ণ কাল্পনিক। বাস্তবের কোনও ঘটনা বা চরিত্রের সঙ্গে কোনও মিল পাওয়া গেলে তা সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত। এই উপন্যাস কোনও ব্যক্তি, সম্প্রদায় বা জাতিকে আঘাত দেওয়ার জন্য লেখা হয়নি।
‘রক্তকরবী মার্ডারস’ লৌকিক নাকি অলৌকিক কাহিনি? এই প্রশ্নের জবাব উপন্যাসের শেষে নিজেরাই খুঁজে পাবেন পাঠকেরা। আমি শুধু বলব, লৌকিক- অলৌকিকের মাঝে এক জগৎ আছে। এক ভয়ানক ধূসর জগৎ। যেখানে এমন এক ঘূর্ণিঝড় বয়ে চলেছে, যা আপনাকে টেনে নামাতে পারে অতল গহ্বরে।
তাই সাবধান! ওই অতল গহ্বরের আকর্ষণে কখনওই সেই ঘূর্ণিঝড়ের ফাঁদে পড়বেন না। অন্ধকারে একবার পা রাখলে আর নিষ্কৃতি নেই। আপনি তলিয়ে যাবেন এক ভয়ংকর জগতে।
নীচের উক্তিটি মাথায় রেখে পড়তে শুরু করুন ‘রক্তকরবী মার্ডারস’- Truth।s such a thing that almost no one wants to accept।n this world.
পাঠ শুভ হোক। বা অশুভ। সব কিছুই আপনার উপরে নির্ভর করছে!
ধন্যবাদ,
কৌশিক দাশ
.
লেখক পরিচিতি
জন্ম ১৯৭২ সালের ১ জুলাই, কলকাতায় সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স। ১৯৯৫ সাল থেকে আনন্দবাজার পত্রিকায় কর্মরত। বর্তমানে আনন্দবাজার ক্রীড়া বিভাগের সহকারী সম্পাদক।
লেখকের প্রথম উপন্যাস ‘শয়তানের মা’। ক্রিকেটের ম্যাচ ফিক্সিং এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ নিয়ে লেখা এই স্পোর্টস থ্রিলার এক বছরেই বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে। বইটি পরবর্তীতে ইংরেজিতে অনুবাদও হয়েছে। এর পরে আরও দু’টি জনপ্রিয় বই সৃষ্টি হয়েছে লেখকের কলম থেকে— শিকারের সন্ধানে এবং শক্তিরূপেণ। দু’বছরের মধ্যেই বাংলা থ্রিলার সাহিত্যে ছাপ রাখার পরে এটি লেখকের চতুর্থ বই।

