প্রথম পর্ব
দ্বিতীয় পৰ্ব
তৃতীয় পৰ্ব

রক্তকরবী মার্ডারস – ১.৩

শান্তিনিকেতন, ২০২১

পরীক্ষা শেষ হয়ে গেলেও ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে নিয়মিত যেতে হয় বনমালাকে। লাইব্রেরিতে বসে কাজ করতে হয়। পরের ধাপের জন্য এখন থেকেই তৈরি হতে হবে তাকে। লাইব্রেরি থেকে অর্গানিক কেমিস্ট্রির বেশ কয়েকটা ব‍ই সাইকেলের কেরিয়ারে চাপিয়ে বাড়িতে ঢুকল বনমালা।

সন্ধ্যা নামে নামে করছে। একটা মন কেমন করা রঙে যেন ছেয়ে গিয়েছে আকাশটা। ধূসর একটা রং। যে রং মানুষের মনটা খারাপ করে দেয়। আকাশের দিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সাইকেল থেকে নামল বনমালা। গেটটা আটকানো। গেট খুলে সাইকেল নিয়ে ভিতরে যেতে হবে তাকে।

ওই সময়ই তার চোখ গিয়ে পড়ল মজুমদার বাড়ির দিকে। সন্ধ্যার অন্ধকার যেন ভীষণভাবে চেপে বসেছে ওই ইট-কাঠ-পাথরের স্তূপে। স্তূপই তো! বাড়িটা এখনও আগের মতো আছে ঠিকই কিন্তু বয়সের ভারে রুগ্ন হয়ে পড়েছে। গাছপালা, লতাগুল্ম ঘিরে ফেলেছে বাড়িটাকে। একটা ভয়ংকর স্মৃতিকে যেন লোকচক্ষুর আড়ালে রেখে দিতে চাইছে প্রকৃতি স্বয়ং। চাইছে ভুলিয়ে দিতে।

নিজের অজান্তেই একবার কেঁপে উঠল মালা।

.

মজুমদার জেঠুর কাছে অনেকদিন ধরে পড়েছে সে। কিন্তু সেই স্মৃতি যেন ক্রমে আবছা হয়ে এসেছে। অনেক কিছুই আর মনে করতে পারে না বনমালা। তার উপরে ওই ভয়ংকর ঘটনা তাকে এতটাই ধাক্কা দিয়েছিল যে, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল মেয়েটা। শুধুমাত্র দাদা পাশে ছিল বলে এক ভয়ংকর পরিণতির হাত থেকে বাঁচতে পেরেছিল। পাগল হয়ে যায়নি। তাকে পাগলাগারদে পুরে দেওয়া হয়নি!

“কী রে, গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছিস কেন?”

দাদার ডাকে হুঁশ ফিরল বনমালার। তারপরে দ্রুত এগিয়ে চলল বাড়ির দিকে। নিজের বাড়িতে পা রাখলেও একটা অদ্ভুত অনুভূতি হয় তার। মনে হয় যেন একটা পাথর চেপে বসেছে বুকের উপরে। এক অজানা বিষাদ গ্রাস করে নেয় তাকে। মনে হয় সে যেন খাঁচায় আটকানো একটা পাখি, যে ডানা ঝাপটে চলেছে ক্রমাগত, কিন্তু উড়তে পারছে না। তাই তো বনমালা উড়ে যেতে চায়। খাঁচার দরজাটা শুধু খোলা পাওয়ার অপেক্ষায় আছে সে। সেই মুক্তির পথ খুঁজে পেতে হয়তো আরও কিছুটা সময় লাগবে। ততদিন লড়াইটা করে যেতে হবে তাকে।

যখন থেকে লোকটাকে বাবা বলে চিনেছে, তখন থেকেই এইরকম একটা মুখ দেখে এসেছে সে। ভয়ংকর এক গম্ভীর মুখ, বিষাদে ভরা এক মুখ। কখনও তার সঙ্গে ভালো করে কথাই বলেনি বাবা। প্রয়োজনে দু-চারটে কথা, ব্যস।

তার শৈশব কেটে গিয়েছে সারদা মাসি আর দাদার কোলে-পিঠে চড়ে। মায়ের স্নেহছায়ার পরশ সে কোনওদিনও পায়নি। দাদার কাছেই মানুষ হয়েছে সে। মনে আছে, ছোটোবেলায় ঘুম না এলে দাদা তাকে গল্প শোনাত। পরে একটু বড়ো হলে দাদার সংগ্রহের বইগুলোয় ডুবে থাকত বনমালা। দাদা ডিটেকটিভ বই পড়তে খুব ভালোবাসত। ইংরেজি-বাংলা অনেক গোয়েন্দা বই ছিল জয়ন্তের সংগ্রহে। সেসব গোগ্রাসে গিলত বনমালা। দাদার কাছেও গোয়েন্দা গল্প শুনত।

একেবারে শৈশবে বুঝত না মা ব্যাপারটা কী! তারপরে ধীরে ধীরে বুঝতে শেখে বন্ধুদের দেখে। আর তখনই জানতে পারে, তাকে জন্ম দিতে গিয়ে মারা যায় তার মা। সারদা মাসি আপ্রাণ চেষ্টা করে গিয়েছিলেন মায়ের অভাবটা ঢাকার।

কিন্তু তার যখন আট বছর বয়স, তখন হঠাৎ করে একদিন বাড়ি ছেড়ে চলে যান সারদা মাসি। আর তার খোঁজ পায়নি মালা। তখন দাদা ছাড়া আর কেউ ছিল না তার। মিনতি মাসি কাজে বহাল হলেও কখনও সেই জায়গাটা নিতে পারেনি।

দাদা-ই তাকে আগলে আগলে রেখে বড়ো করে তুলেছে। মালার মাঝে মাঝে মনে হত বাবা তাকে একেবারেই সহ্য করতে পারে না। দাদাকে সে কয়েকবার জিজ্ঞেসও করেছিল, “দাদা, বাবা আমার উপরে সবসময় এত রেগে থাকে কেন? একটু ভালো করে কথা বলে না, একটু আদর করে না। আমার বন্ধুদের বাবাকে দেখি, কত ভালো। কত কী কিনে দেয়।”

বোনের মাথায় হাত বুলিয়ে জয়ন্ত তখন বলেছিল, “না রে, সেরকম কিছু না। বাবার মাথায় হাজার চিন্তা। তাই ঠিকমতো কথা বলার সময় পায় না। আমার সঙ্গেও তো দেখিস ওই রকম ব্যবহারই করে।”

বনমালা বুঝেছিল, দাদা তাকে ভোলাচ্ছে। সে দেখেছে দাদার সঙ্গে বাবা যথেষ্ট ভালো করেই কথা বলে। লেখাপড়ার খোঁজ নেয়। তার সম্পর্কে যেন কোনও আগ্রই নেই বাবার। শুধু দাদার উৎসাহেই সে পড়াশোনাটা চালিয়ে যাচ্ছে। দাদা না থাকলে সে বোধহয় কবে ভেসে যেত।

একটু বড়ো হওয়ার পরে বনমালার মনে একটা সন্দেহ মাথা চাড়া দিতে থাকে-

মায়ের মৃত্যুর জন্য কি বাবা তাকে দায়ী করে? সে কারণেই কি এতটা ঘৃণার চোখে দেখে মেয়েকে?

.

দাদাকে এই প্রশ্নটা করবে করবে করেও করতে পারেনি বনমালা। আজও করতে পারল না। দাদার পাশে এসে বলল, “বাড়ির অবস্থা কী?” জয়ন্ত একটু ম্লান হেসে বলল, “গুমোট হয়ে আছে, বৃষ্টি হয়নি।” তারপরে বলল, “তুই ঘরে যা, আমি একটু ঘুরে আসছি।”

কিছু না বলে ঘরের দিকে পা বাড়াল বনমালা। বাবা বেশিরভাগ সময় বাড়িতেই থাকে। এখন আর প্রায় বেরোয়ই না। এখনও যেমন ঘরেই রয়েছে। দরজা ভেজানো। আর বন্ধ ঘরের ভিতর থেকে ভেসে আসছে গানটা—

জানি তুমি ফিরে আসিবে আবার, জানি।
জানি, তবু মনে মনে প্রবোধ নাহি যে মানি, জানি
জানি তুমি ফিরে আসিবে আবার, জানি।
বিদায়লগনে ধরিয়া দুয়ার তাই তো তোমায় বলি বারবার
ফিরে এসো ফিরে এসো এসো বন্ধু আমার…

গানটা শুনতে শুনতে বনমালার শরীরটা কেঁপে উঠল, চোখ দুটো ঝাপসা হয়ে এল। বাবা কার জন্য অপেক্ষা করে আছে এখনও? কে ফিরে আসবে?

.

বাবা থাকলে ভুলেও ওই ঘরে পা রাখে না বনমালা। কিন্তু যখন থাকে না, তখন ঠিক একবার দরজা খুলে ভিতরে চলে যায়। চলে যায় একটা ছবি দেখবে বলে। তার মায়ের অদ্ভুত সুন্দর একটা তৈলচিত্র তাকে টেনে নিয়ে যায় ওই ঘরে।

কেউ একজন এঁকে দিয়েছিল। কোনও বিখ্যাত শিল্পী নয়। ছবির কাছে গিয়ে সই করা নামটা একবার দেখে নিয়েছিল বনমালা। প্রবীর সেন বলে কেউ একজন। অদ্ভুত সুন্দর এক নারীমূর্তি। টিকালো নাক, টানাটানা দুটো চোখ। পাতলা ঠোঁট। সোনার মতো গায়ের রং। খোঁপায় লাগানো একগুচ্ছ রক্তকরবী!

ছবিটা এতই জীবন্ত যে মনে হবে এই বুঝি কথা বলে উঠল। এই বুঝি বলে উঠল, “মালা, তুই কী করছিস? তৈরি হোসনি এখনও? স্কুলে যেতে হবে যে!”

মায়ের এই ছবিটা ছোটোবেলা থেকেই দেখে এসেছে বনমালা। সুযোগ পেলেই বাবার ঘরে গিয়ে ঢুকে বসে থাকত মায়ের ছবির সামনে। মাকে দু-চোখ ভরে দেখত। বাবার কাছে ধরাও পড়ে গিয়েছে কয়েকবার। বাবা তাকে ঘর থেকে বার করে দিয়েছে, কিন্তু আবারও ফিরে এসেছে মালা। এক অমোঘ আকর্ষণে। মা যেন তাকে ডাকে…

“আয়, আয়, আয়।”

ছোটোবেলায় এই ডাকটা বেশি শুনতে পেত বনমালা। সে বড়ো হয়ে যাচ্ছে বলে কি মায়ের ছায়া থেকে বেরিয়ে আসছে ক্রমে? তবে যারা তার মাকে চিনত আর এখন তাকে দেখছে, তারা একটা কথাই বলে— মায়ের মুখের সঙ্গে একটা অদ্ভুত মিল আছে বনমালার। বনমালা জানে কেউ বাড়িয়ে কিছু বলছে না। কারণ ছবিটা দেখেই ব্যাপারটা বুঝতে পারে সে। আর মায়ের সঙ্গে মিল থাকবে না তো কার সঙ্গে থাকবে!

মায়ের আর কোনও ছবি দেখেনি বনমালা। তবে নীচের তলার একটা ঘরে সেলাইমেশিন, কিছু কাটা কাপড়, বড়ো কাঁচি, নানা রংয়ের সুতো, শাড়ি— এইসব রাখা আছে। দাদার কাছ থেকে জানতে পেরেছিল, ওগুলো মায়ের জিনিস। মায়ের নেশা ছিল ডিজাইনিং। যে সব জিনিস মা একসময় ব্যবহার করেছে, তা এখন একটা ঘরে স্তূপ করে রাখা। বাবা ভুলেও ওই ঘরের দিকে যান না!

.

হাতের উলটো পিঠ দিয়ে চোখটা একবার মুছে নিল সে। বাইরের দিকে তাকিয়ে দেখল, দাদা গেট খুলে বেরিয়ে যাচ্ছে।

দাদাটাও অদ্ভুত। খুবই ভালো ছাত্র ছিল। মাধ্যমিকে তো দারুণ ফল করে। কিন্তু হঠাৎ করে উচ্চমাধ্যমিকের সময় কী যে হয়ে গেল! কোনওমতে টেনেটুনে পাশ করল। তারপরে সব ছেড়ে বাংলা নিয়ে গ্রাজুয়েশন করা শুরু করল।

কেন যে দাদা ওইভাবে বদলে গেল, তা আজও বোঝে না বনমালা। হঠাৎ কোনও ভূমিকম্প এসে যেন দাদার পৃথিবীটা ওলটপালট করে দিয়ে গিয়েছে।

দাদার ওই খারাপ ফলের জন্য নিজেকেও কিছুটা দায়ী করে বনমালা। ওই সময় তাকে যেন খুব বেশি করে আগলে রাখত দাদা। চোখের আড়াল হতে দিত না। ওই করতে গিয়েই পড়াশোনায় সময় দিতে পারেনি। এখন তো সব ছেড়ে কী একটা ব্যবসা শুরু করেছে। বাড়িতেই থাকে বেশিরভাগ সময়। নিজের কেরিয়ারটা মনে হচ্ছে পুরো বিসর্জন দিয়েছে।

সত্যিই, অদ্ভুত একটা বাড়ি তাদের। এখান থেকে উড়ে না গেলে সে-ও পাগল হয়ে যাবে!

.

দিন কয়েক পরে রাতের দিকে নিজের ঘরে বসে কেমিস্ট্রির বইগুলো উলটে পালটে দেখছিল বনমালা, তখনই মোবাইলটা বেজে উঠল। অরণ্য ফোন করেছে।

“কী রে অরণ্য, বল?”

উলটো দিক থেকে অরণ্য জবাব দিল, “শোন না মালা, আমার সঙ্গে একদিন একটু দেখা করতে পারবি?”

একটু অবাকই হল বনমালা। তাদের তো প্রায়ই দেখা হচ্ছে। চার বন্ধু মিলে তো দেদার আড্ডাও হয়। তাহলে?

“আমরা তো প্রায় রোজই দেখা করছি। তাহলে আবার দেখা করার প্রশ্ন আসছে কোথা থেকে?”

অরণ্য একটু চুপ করে রইল। তার পরে বলল, “সবার সঙ্গে দেখা নয়। আমি তোর সঙ্গে আলাদা করে একটু দেখা করতে চাই। কিছু বলার আছে।”

বনমালা তখনই জবাব দিল না। তার পরে বলল, “আচ্ছা, আমি একটু ভেবে দেখি। সময় বার করতে পারলে নিশ্চয়ই তোর সঙ্গে আলাদা করে দেখা করব। এটা আর এমন কি বড়ো ব্যাপার?”

ফোনটা রেখে চমকে উঠল বনমালা। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বাবা। ঘরের দরজাটা সে বন্ধ করতে ভুলে গিয়েছিল। একটু দূরে দাদা। কড়া চোখে মেয়ের দিকে তাকিয়ে বাবা দীনেন্দ্র সিংহ বলে উঠলেন, “ওই অরণ্য বলে ছেলেটা তোমায় ফোন করেছিল, না? একটা কথা মন দিয়ে শোনো। কারও সঙ্গে একলা ওইভাবে দেখা করা চলবে না। এখন মন দিয়ে লেখাপড়া করো।”

বিস্ফারিত দৃষ্টিতে বাবার দিকে তাকিয়ে রইল বনমালা। সে মনে করতে পারছে না, কবে বাবা তার সঙ্গে এক নাগাড়ে এতগুলো কথা বলেছে। আর যা বলল, সেটাও অদ্ভুত। তার বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে পারবে না মানে?

বনমালার মনের মধ্যে একটা চাপা রাগ দলা পাকিয়ে উঠতে লাগল। এইরকম অন্যায় সে সহ্য করবে না। সে জানে, এই আপোসহীন মনোভাবটা সে তার মায়ের কাছ থেকেই পেয়েছে। অন্যায়ের সঙ্গে কখনই সমঝোতা নয়।

.

রাত কটা হবে, দীনেন্দ্র সিংহের খেয়াল নেই। তিনি খেয়াল করতেও চান না। ঘুরতে থাকা সময়ের চাকা তার জীবনে আর প্রভাব ফেলে না। তিনি যেন সবকিছু থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে চান।

ধীরে ধীরে হুইস্কির গ্লাসটা আবার মুখে তুলে নিলেন দীনেন্দ্রবাবু। নেশার সাগরে ডুবে যেতে চান তিনি। ডুব দিয়ে ভুলে যেতে চান অতীত, বর্তমান, দেখতে চান না ভবিষ্যৎকেও।

স্ত্রীকে হারানোর পর থেকেই ধীরে ধীরে বদলে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু নেশার কবলে তখনও পড়েননি। লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন নিজের সঙ্গে। কিন্তু একটা সময় সেই লড়াইয়ে হারতে হয় তাকে। আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি। জাগতিক এই দুনিয়া থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করতে ডুবে যান মদের বোতলে।

কিন্তু তাতে কি কোনও লাভ হয়েছে? এই যন্ত্রণা, এই মারাত্মক কষ্টের শেষ কি কোনওদিন হবে?

আবার গ্লাসটা হাতে তুলে নিলেন তিনি। আর তারপরেই শুনতে পেলেন গানটা। একটু ভারী গলার আওয়াজটা ক্ষীণ হলেও ভেসে আসছে তার কানে-

তোমায় গান শোনাব…তাই তো আমায় জাগিয়ে রাখো…

গানটা থেমে গেল। আর মেয়েলি কণ্ঠে কে বলে উঠল—

“পাগল ভাই, এই বন্ধ গড়ের ভিতরে কেবল তোমার আমার মাঝখানেই একটা আকাশ বেঁচে আছে…”

.

কাঁপতে লাগলেন ভদ্রলোক। তারপরে ধীরে ধীরে দরজাটা খুলে বাইরে চোখ রাখলেন।

তাঁর মনে হল, দোতলার বারান্দার শেষ প্রান্তে হেঁটে যাচ্ছে শাড়ি পরা একটা ছায়ামূর্তি। ধীরে ধীরে আবার দরজাটা বন্ধ করে দিলেন দীনেন্দ্র সিংহ। তারপরে শরীরটাকে এনে ফেললেন চেয়ারে। তিনি কি পাগল হয়ে যাচ্ছেন? তিনি ভুল দেখছেন? এই ভয়ংকর পরিবেশ কি তাঁকে মানসিক রোগী করে দিল?

দু-হাতে মুখ ঢেকে ডুকরে ডুকরে কেঁদে উঠলেন দীনেন্দ্র সিংহ। তারপরে বিড়বিড় করে বলতে থাকলেন—

“আর কত শাস্তি দেবে আমায়? কেন আমায় শান্তি দিচ্ছ না কনক, কেন?”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *