৭
শান্তিনিকেতন, ২০২১
তিনজনে এসে বসল অরণ্যদের ড্রয়িংরুমে। তারপরে বনমালার দিকে তাকিয়ে অরণ্য বলে উঠল, “আমার কাকা কিন্তু খুব বড়ো ডাক্তার। ইংল্যান্ডেও ছিল বেশ কয়েক বছর।”
“আরে ও সব কথা থাক,” অরণ্যকে থামিয়ে দিয়ে কমলেশ ফিরলেন বনমালার দিকে, “তারপরে তোমার কথা বলো। এরপরে কী করার ইচ্ছে আছে?”
“অ্যাপ্লায়েড কেমিস্ট্রি নিয়ে রিসার্চ করতে চাই।”
“বাহ, দারুণ। বিদেশে যাওয়ার ইচ্ছে আছে বুঝি?” মিষ্টি করে হেসে জিজ্ঞেস করলেন কমলেশ।
বনমালাও হেসে জবাব দিল, “সেরকমই ভেবে রেখেছি। জানি না কী হবে?”
“স্বপ্ন যখন দেখেছ, তখন অবশ্যই সেটা পূরণ করবে। স্বপ্নই তো আমাদের বাঁচিয়ে রাখে,” চশমাটা খুলে টেবিলে রাখলেন কমলেশ। ভদ্রলোক খুবই মিশুকে ধরনের। এই সামান্য পরিচয়েই বেশ ভালো লাগছিল বনমালার। সে বুঝতে পারছিল, অরণ্য কেন কাকার বড়ো ভক্ত। তবে ভদ্রলোকের চোখের দৃষ্টিটা বড়ো তীব্র। যেন মগজ ফুঁড়ে একটা মানুষের মনের কথা টেনে বার করতে পারে।
অরণ্য একটু অধৈর্য প্রকৃতির ছেলে। সে উশখুশ করছিল। এবার বলে উঠল, “মালা, তোর ব্যাপারটা আমি কাকাকে বলেছি। কাকা তোকে সাহায্য করবে।”
বনমালা একটু বিব্রত বোধ করছিল। অরণ্যটা পারে বটে! মানুষটা ভালো হতে পারে, কিন্তু এই ধরনের কথা বলার মতো পরিচয় তো হয়নি।
কমলেশ বুঝতে পারছিলেন বনমালার অস্বস্তিটা। তিনি আবার চশমাটা পরে নিয়ে বললেন, “দেখো, এটা সম্পূর্ণ তোমার ব্যাপার। তোমার যদি কোনও সমস্যা থাকে, আমাকে কিছু বলার দরকার নেই।”
“আসলে ব্যাপারটা তা নয়,” তাড়াতাড়ি বলে উঠল বনমালা। “এমন একটা পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি, যে কাউকে কিছু বলতেও পারছি না। অরণ্যর মুখ থেকে তো আপনি সব শুনেছেন। বুঝতেই পারছেন, এই নিয়ে কথা বলাটা কতটা অস্বস্তিকর।”
কমলেশ মাথা নাড়লেন। “তুমি ঠিকই বলেছ। কোনও সমস্যা নেই। তোমার যদি কোনও কারণে সাহায্যের দরকার হয়, তখন আমাকে বলবে। শান্তিনিকেতনে আমি কিছুদিন থাকব।”
বনমালা একটু অবাক হল। এই ভদ্রলোকের সাহায্য তাকে কেন নিতে হবে? উনি তো একজন চিকিৎসক। তার তো কোনও চিকিৎসকের প্রয়োজন নেই।
অরণ্য বুঝতে পারল মালার মনের ভাবটা। সে এবার মুখ খুলল, “কাকার কথা তোকে বলার একটা কারণ আছে। কমলেশ কাকা কিন্তু নামকরা একজন ক্লিনিক্যাল সাইকিয়াট্রিস্ট। মনোবিদ। বিদেশি ইউনিভার্সিটিতেও কাকার রিসার্চ পেপার পড়া হয়।”
বনমালা চমকে উঠল। মনোবিদ। সাইকিয়াট্রিস্ট। বনমালার চমকানোটা নজর এড়াল না কমলেশের। তিনি বললেন, “সাইকিয়াট্রিস্ট বলতে তুমি যা বুঝছ, তা নয়। মানুষের মন আর মস্তিষ্ক এমন দুটো জিনিস, যার তল আমরা কোনওভাবেই পাইনি। তাও আমাদের ক্ষুদ্র সাধ্যের মধ্যে যতটা পারি রহস্যের সমাধান করার চেষ্টা করি। এটা একটা ধূসর জগৎ। তোমার চেয়েও অনেক বড়ো সমস্যা নিয়ে লোকে আমার কাছে এসেছে।” কথা শেষ করে স্মিত হাসি হাসলেন কমলেশ।
বনমালা চুপ করে রইল। বুঝে উঠতে পারছিল না, সব কথা খুলে বলবে কি না। তারপরে ঠিক করল, বলবে। দেখা যাক, ভদ্রলোক সত্যি কোনও সাহায্য করতে পারেন কি না।
আধঘণ্টা মতো সময় নিয়ে ভদ্রলোককে সব কথা খুলে বলল বনমালা। ছোটোবেলায় প্রথম স্বপ্নটা দেখা থেকে শুরু করে। এমনকী, রক্তকরবীর বিষের কথাও। যা তারা পরে কাগজে পড়েছিল।
“তবে এবার রক্তকরবীর বিষ ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, জানি না।” কথা শেষ করে জানিয়ে দিল বনমালা।
অরণ্য পাশ থেকে বলে উঠল, “মালার মধ্যে কোনও অলৌকিক শক্তি আছে নাকি, কমলেশ কাকা? ও আগে থেকে মৃত্যুগুলো দেখতে পাচ্ছে! এইরকম একটা সিনেমা দেখেছিলাম আমি।”
কমলেশ এতক্ষণ গম্ভীর মুখে সব শুনছিলেন। এবার একটু হেসে বললেন, “এটা তো সিনেমা নয়, বাস্তব। আগেও বলেছি, মনস্তত্ত্ব একটা ধূসর জগৎ। মানুষের মনের অনেক স্তর থাকে। প্রতিটা স্তরের মধ্যেই পাঁচিল তোলা। মাঝে মাঝে এই পাঁচিল ভেদ করে কোনও স্তর থেকে সিগন্যাল চলে আসে অন্য স্তরে। অবচেতন মন সিগন্যাল পাঠায় সচেতন মনকে। তখন আমরা অনেক কিছু দেখি, শুনি যা বাস্তবে অসম্ভব মনে হয়।
একটু থেমে ছেলে-মেয়ে দুটির মুখের উপরে চোখ বুলিয়ে নিলেন কমলেশ রায়। তারপরে বললেন, “আগে দেখি পুরো ব্যাপারটা। তারপরে না হয় বলব, আমাদের বনমালা কোনও অলৌকিক শক্তির অধিকারী কি না।”
বনমালার মুখের দিকে তাকিয়ে কমলেশ বললেন, “তোমাকে কটা প্রশ্ন করব। আপত্তি না থাকলে সেগুলোর জবাব দিও।”
মাথা নাড়ল বনমালা।
প্রশ্ন করলেন কমলেশ— “তোমার ছোটোবেলায় যে দুজন খুন হয়েছিল, তাদের সঙ্গে তোমার সম্পর্কটা কেমন ছিল?”
একটু ভাবল বনমালা। পুরোনো দিনের কথা মনে করার চেষ্টা করল। তার ভ্রূ দুটো কুঁচকে রইল অল্পসময়। তারপরে বলল, “ভালোই তো। আমার টিচার ছিলেন দুজন। একজনের কাছে ইংরেজি পড়তাম। অন্যজনের কাছে নাচ শিখতাম। এর বেশি তো কিছু মনে পড়ে না।”
কমলেশ মন দিয়ে শুনলেন বনমালার কথা। তারপরে জিজ্ঞেস করলেন, “আর এই ভদ্রলোকের সঙ্গে? যিনি কদিন আগে খুন হলেন?”
“এই ভদ্রলোকের সঙ্গে তো সবে আলাপ হয়েছিল। একদিন ওর বাড়ি গিয়েছিলাম। কিছু কথাবার্তা হয়েছিল। তারপরে এই ঘটনা ঘটে গেল।”
“কেন গিয়েছিলে ওর বাড়ি?” কমলেশের প্রশ্নটা আবার দ্বিধায় ফেলে দিল বনমালাকে। সে একবার তাকাল অরণ্যর দিকে। মেয়েটার দ্বিধা বুঝতে পেরে কমলেশ দ্রুত বলে উঠলেন, “তোমার কোনও সমস্যা থাকলে বলতে হবে না। আমি তো পুলিশ নই।” বলে আবার দরাজ হাসি হাসলেন।
বনমালার মনে হল ওই হাসিতে পরিবেশটা অনেক হালকা হয়ে গেল। সে ঠিক করে ফেলল, সব কিছু খুলে বলবে।
“ওই ভদ্রলোক বলেছিলেন, আমার জন্মের রাতে এমন কিছু ঘটেছিল, যা আমার জানা দরকার।”
“মানে?” প্রায় লাফিয়ে উঠল অরণ্য, “আমাকে তো এইসব বলিসনি।”
ভাইপোকে প্রায় ধমকে উঠলেন কমলেশ, “তুই চুপ করবি? আমাকে শুনতে দে।” অরণ্য আবার বসে পড়ল সোফায়।
বনমালা বলে চলল, “জন্মের সময় আমি আমার মাকে হারিয়েছিলাম। এই ভদ্রলোক আমাকে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, সেই মৃত্যু রহস্যজনক। আমাকে বলেছিলেন, পরের বার এলে সব জানাবেন।”
অরণ্য অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকল বনমালার মুখের দিকে। একটা চাপা কষ্ট অনুভব করছিল সে। মেয়েটা তাকে কিছুই বলেনি!
“আর একটা কথা,” বনমালা কিছুই আর লুকোতে চাইল না, “ভদ্রলোক এও বলেছিলেন, ছোটোবেলায় আমার মা এবং বাবা ওর খুব ভালো বন্ধু ছিল। এবং, মাকে ঘিরে একটা ত্রিকোণ প্রেমের সম্পর্কও তৈরি হয়েছিল।”
অরণ্য এবার উত্তেজিত হয়ে উঠল, “লোকটা তোকে এইসব কথা বলল আর তুই চুপ করে শুনে এলি! বিশ্বাস করলি ওর কথা?”
বনমালা কোনও জবাব দিল না। হঠাৎ অরণ্য জিজ্ঞেস করল, “কিন্তু তুই সেদিন ওই রকম করে দৌড়ে বেরিয়ে এসেছিলিস কেন ওই লোকটার বাড়ি থেকে? কী ঘটেছিল আমাকে তো বলিসনি।’
কমলেশ জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন। একটু ইতস্তত করে বনমালা বলল, “আমি আসলে ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। ভদ্রলোক মদ খাওয়া শুরু করে দিয়েছিলেন। তারপরে আমার খুব কাছে চলে আসেন। আমাকে স্পর্শও করেন। খুব ভয় পেয়ে পালিয়ে আসি।”
অরণ্য তড়াক করে লাফিয়ে উঠল। কোনও কথা না বলে জানলার সামনে চলে গেল ছেলেটা। তার হাত দুটো মুষ্টিবদ্ধ হয়ে গিয়েছে। মুখটা দেখা না গেলেও বোঝা যাচ্ছিল, রাগে ফুঁসছে অরণ্য।
কমলেশ খুব মন দিয়ে দুজনকে দেখলেন। তারপরে বললেন, “আচ্ছা, ঠিক আছে। ওই প্রসঙ্গ থাক। তুমি আমাকে বলো তো, স্বপ্নটা যখন দেখতে, তার আগে কী কিছু হত? মাথা ঘুরত, মাথা ব্যথা করত, এইরকম কিছু?”
বনমালা আবার একটু ভাবল। তারপরে বলল, “শরীরটা একটু খারাপ লাগত। মাঝে মাঝে মাথায় যন্ত্রণাও হত। কিন্তু সেটা স্বপ্ন দেখার আগে না পরে না অন্য সময়ে, এখন ঠিক মনে পড়ে না। আর এবার তো প্রবীর সেনের বাড়ি থেকে চলে আসার পরে আমি ভীষণ ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। টেনশনে শরীরটা খারাপ লাগতে শুরু করে। যে রাতে স্বপ্ন দেখি, মাথায় খুব যন্ত্রণা করছিল।”
কমলেশ চুপ করে রইলেন। তারপরে জানতে চাইলেন, “আচ্ছা, এই করবী গাছের ব্যাপারটা তুমি জানো? মানে, এই গাছটায় যে বিষ আছে?”
“হ্যাঁ, আমরা ছোটোবেলা থেকেই জানি।”
“আমরা বলতে?”
“আমরা সবাই জানি,” এবার জবাব দিল অরণ্য। সে একটু শান্ত হয়েছে। আবার সোফায় এসে বসল। তারপরে বলল, “ছোটোবেলাতে মালা আমাদের বারবার বলত, করবী গাছে বিষ আছে।”
“তুমি কোথা থেকে জেনেছিলে?” একটু অবাক হয়েই প্রশ্ন করলেন কমলেশ।
“বাবার কাছ থেকে। বাবা তো বোটানির প্রফেসর। গাছ-গাছড়া নিয়ে অনেক জানে। আমাকে আর দাদাকে বাবা বারবার বলত, করবী গাছের থেকে দূরে থাকতে। করবী ফুল দেখলে ভীষণ রেগে যেত। বিশেষ করে রক্তকরবী।”
“মালা বারণ করলেও আমরা কিন্তু করবী ফুল তুলতাম,” ছোটোবেলার কথা মনে করে সামান্য হাসল অরণ্য। তারপরেই একটা যন্ত্রণার রেখা খেলে গেল তার মুখে। তারা যখন হইহই করে ছোটোবেলাটা কাটিয়েছে, তখন বনমালার শৈশব কেটেছে ভয়ংকর এক যন্ত্রণার মধ্যে। ওই রকম মানসিক চাপ কাটিয়ে বেরিয়ে এসেছে মেয়েটা। নিজের উপরে রাগ হচ্ছিল অরণ্যর। কেন সে মালার বিশ্বাস অর্জন করতে পারেনি তখন?
“তোমার দাদার বয়স কত?” কমলেশের প্রশ্নে আবার বর্তমানে ফিরে এল অরণ্য। বনমালা জবাব দিল-
“চব্বিশ বছর। আমার চেয়ে ও তিন বছরের বড়ো। আমাকে প্রাণ দিয়ে ভালোবাসে।”
“বাহ, এইরকম দাদা হলে আর কী চাই?” বলেই ঘড়ি দেখল কমলেশ। ছ-টা বেজে গিয়েছে। সন্ধ্যা হয়ে এসেছে। সে ছেলে-মেয়ে দুটির দিকে তাকিয়ে বলল, “অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে। তোমাকে আর আটকাব না। অরণ্য তোমাকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে আসবে।”
তিনজনেই উঠে দাঁড়াল। বনমালা আর অরণ্য যখন বেরিয়ে যাচ্ছে, কমলেশ বলে উঠলেন, “তুমি কিছু চিন্তা কোরো না। সব ঠিক হয়ে যাবে। আর কিছু মনে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে আমাকে জানিও।”
বাধ্য মেয়ের মতো মাথা নাড়িয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল বনমালা। সঙ্গে অরণ্য।
বাইরের রাস্তায় পা রেখেই অরণ্য বলে উঠল, “আমি কি এতই নিকৃষ্ট প্রাণী যে তুই আমাকে কিছুই বলতে পারিস না?”
“কেন, এই যে বললাম স্বপ্নের ব্যাপারটা।”
অরণ্য নিজের সাইকেলটা বনমালার সাইকেলের পাশে এনে দৃঢ় স্বরে বলল, “দোহাই মালা। এরপরে যা কিছু হবে, আমাকে দয়া করে বলিস।”
বনমালা প্রথমে কিছু বলল না। নিঃশব্দে সাইকেল চালাতে লাগল। তারপরে চাপা স্বরে বলল, “প্রবীর সেন যে কথাটা আমাকে বলে যেতে পারেনি, সে কথা আমাকে জানতেই হবে। আমার জন্মের রাতে কী হয়েছিল, তা না জানা পর্যন্ত আমি শান্তি পাব না।”
বনমালার পাশে সাইকেল চালাতে চালাতে অরণ্য জবাব দিল, “আমি তোর সঙ্গে আছি। আমরা দুজনে মিলে বার করব তোর অতীত রহস্য।”
ধীরে ধীরে অন্ধকারে মিলিয়ে গেল দুটো ছায়ামূর্তি।
.
ছেলে-মেয়ে দুটি চলে যাওয়ার পরে গভীর চিন্তায় ডুবে গেলেন কমলেশ রায়। তার কেন যেন মনে হচ্ছে, এই কেসটায় মাথা ঘামিয়ে তিনি ঠিক করছেন না। তাঁর মনটা বড়ো অশান্ত হয়ে উঠছে।
.
নিজের ডেস্কে বসে একটা কাগজের টুকরোয় চোখ বোলাচ্ছিলেন শর্মিষ্ঠা বসু। কাগজে একটা ঠিকানা লেখা। ভুবনডাঙার ঠিকানা। কাল এই বাড়িতে যেতে হবে তাঁকে। অনেক প্রশ্ন মনের মধ্যে ভিড় করে আছে। দ্রুত জবাব পাওয়া দরকার।
সাত বছর আগের ফাইল ঘেঁটে দুটো পোস্ট মর্টেমের রিপোর্ট দেখেছেন তিনি। তারপরেই কিছু প্রশ্ন জেগেছে মনে। মিডিয়ায় এখনও রক্তকরবীর ব্যাপারটা ফাঁস হয়নি। কিন্তু হতেই বা কত দিন!
আরও একটা কাজ তাড়াতাড়ি করতে হবে তাঁকে। ওই ছবিগুলো খুঁজে পেতে হবে। আর ছবির মেয়েটাকে। তাঁর মন বলছে, ওই ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে কোনও গোপন চাবিকাঠি।
কিন্তু কীভাবে খুঁজে পাওয়া যায় ওই মেয়েটাকে? কিছুতেই রাস্তা বার করতে পারছিলেন না তিনি। বিরক্ত মুখে পাশে রাখা জলের গ্লাসটা তুলে নিলেন। কিন্তু মুখ পর্যন্ত পৌঁছোনোর আগে তাঁর হাত থেমে গেল
তাঁর চোখ পড়েছে টেবলে রাখা ডেস্ক ক্যালেন্ডারে। এই ক্যালেন্ডারের বিশেষত্ব হল, প্রতিটা পাতায় বাচ্চাদের আঁকা দিয়ে সাজানো। একটি এনজিও-র তরফে উপহার পেয়েছিলেন তিনি।
ধীরে ধীরে গ্লাসটা নামিয়ে রাখলেন শর্মিষ্ঠা। তাঁর মুখটা উত্তেজনায় লাল হয়ে উঠছে।
এতদিনে কেন ভাবেননি কথাটা! তাঁর মাথায় জং পড়তে শুরু করেছে! সামান্য হলেও মেয়েটাকে খুঁজে বার করার একটা রাস্তা তিনি দেখতে পেয়েছেন।
লাফিয়ে উঠে কনস্টেবলকে নির্দেশ দিলেন শর্মিষ্ঠা, “জিপ বার করো। আমাদের এখনই প্রান্তিকে যেতে হবে।”
জিপের হেডলাইটে আলোকিত হয়ে উঠতে থাকা অন্ধকার রাস্তার দিকে তাকিয়ে শর্মিষ্ঠা মনে মনে ভাবলেন, এবার হয়তো কেসটার আঁধার কিছুটা কাটবে।
তিনি ভুলেই গিয়েছিলেন রিঙ্কির কথা। রিঙ্কি আঁকতে জানে। আর প্রবীর সেনের আঁকা মেয়েটির ছবি বাচ্চাটা দেখেছে। শুধু দেখেইনি, মনেও রেখেছে। রিঙ্কির কথাটা মনে পড়ে যাচ্ছিল শর্মিষ্ঠার, “ওই সুন্দর মেয়েটা।”
রিঙ্কিই এখন পারে তাঁকে পথ দেখাতে!
রিঙ্কিকে এখন শুধু একটা ছবি আঁকতে হবে! ওই মেয়েটার ছবি!
