১২
শান্তিনিকেতন, ২০২১
বনমালা প্যাডেল করা বন্ধ করে দিয়েছিল। দাঁড়িয়ে পড়েছিল অরণ্যও। খুব চাপা স্বরে অরণ্য বলল, “তুই একদম ঘাবড়াবি না। মনে আছে তো কী বলেছিলাম? তুই শুধু একদিনই প্রবীর সেনের বাড়িতে গিয়েছিলি। আমিও ছিলাম তোর সঙ্গে। আর তোর লাল জ্যাকেট আমি পুড়িয়ে ফেলেছি। চিন্তা নেই।”
আলতো করে বনমালার পিঠটা চাপড়ে দিল অরণ্য, “চল, যাওয়া যাক।”
দুই বন্ধুই আবার প্যাডলে চাপ দিল।
বাড়িতে ঢুকতেই দেখতে পেল, একজন মহিলা পুলিশ অফিসার চেয়ারে বসে আছেন। তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে আছেন বাবা আর দাদা। বনমালাকে দেখতে পেয়েই এগিয়ে এল জয়ন্ত, “মালা, তুই এসে গিয়েছিস! যাক তোকেই ফোন করতে যাচ্ছিলাম।” একবার বক্রদৃষ্টিতে অরণ্যর দিকে তাকিয়ে বোনের পাশাপাশি হেঁটে চলল জয়ন্ত।
সন্ধ্যার অন্ধকার নেমে এসেছে শান্তিনিকেতনে। ঠান্ডাও পড়েছে একটু একটু। কিন্তু ঠান্ডার জন্য নয়, পুলিশ অফিসারের চোখের দিকে তাকিয়ে কেঁপে উঠল বনমালা। সেই কমলেশ রায়ের মতো অস্তভেদী দৃষ্টি।
শর্মিষ্ঠা অবশ্য কথা বললেন খুবই মিষ্টি স্বরে, “আরে এসো, এসো। তোমার নামই তো বনমালা। তোমার কথাই হচ্ছিল এতক্ষণ।”
বনমালা ধীরে ধীরে সামনে এসে দাঁড়াল। সামনের একটা খালি চেয়ারের দিকে ইঙ্গিত করলেন শর্মিষ্ঠা।
বনমালা চেয়ারে বসার পরে মেয়েটার মুখটা ভালো করে দেখে নিলেন শর্মিষ্ঠা। রিঙ্কি যে ছবিটা এঁকেছে, তার সঙ্গে অনেকটাই মিল আছে। তবে পুরোটা নয়। যাই হোক, জেরা তো করতেই হবে।
“তোমার বাবা আর দাদাও জিজ্ঞেস করছিল কেন তোমাকে খুঁজছি। আপনাদের সবাইকে এবার বলব।”
বনমালার পাশের চেয়ারেই বসে দীনেন্দ্র সিংহ। জয়ন্ত একটু পিছনে। সে বুঝে গিয়েছিল, পুলিশ কেন এসেছে।
“আচ্ছা আপনারা প্রবীর সেন বলে কাউকে চিনতেন?”
“কেন বলুন তো?” ভ্রূ কুঁচকে প্রশ্নটা করলেন দীনেন্দ্র সিংহ। তার দিকে নির্নিমেষে তাকিয়ে শর্মিষ্ঠা বললেন, “কয়েকদিন আগে প্রবীর সেন খুন হয়ে যায় ওর বাড়িতে।”
“হোয়াট?” বলে লাফিয়ে উঠলেন দীনেন্দ্র, “প্রবীর মারা গিয়েছে? কে মারল ওকে?”
যা বোঝার বুঝে গেলেন শর্মিষ্ঠা। তিনি শুধু বললেন, “খবরটা তো ছড়িয়ে পড়েছে শান্তিনিকেতনে। কাগজেও বেরিয়েছে। আপনি জানতেন না?”
“আমি কাগজ পড়ি না। বাইরের খবরও রাখি না।” আবার চেয়ারে শান্ত হয়ে বসে পড়লেন দীনেন্দ্ৰ সিংহ।
“কিছু যদি না মনে করেন, একটা কথা জিজ্ঞেস করছি। আপনার পেশাটা কী?” প্রশ্ন করলেন শর্মিষ্ঠা।
“আমি আগে বোটানির প্রফেসর ছিলাম এখানে। এখন অবসর নিয়েছি। বাড়িতেই থাকি,” গম্ভীর গলায় বললেন দীনেন্দ্ৰ।
“বেশ, বেশ,” বলে বাকি দুজনের দিকে তাকালেন শর্মিষ্ঠা। “তোমরা প্রবীর সেনের ব্যাপারটা জানতে?” বনমালা আর জয়ন্ত মাথা হেলিয়ে ‘হ্যাঁ” বলল।
শর্মিষ্ঠা এবার বনমালার মুখোমুখি হলেন, “তুমি কি কখনও প্রবীর সেনের বাড়িতে গিয়েছ?”
বনমালা উত্তর দেওয়ার আগেই বাধা দিয়ে উঠলেন দীনেন্দ্র, “ও কেন প্রবীর সেনের বাড়িতে যাবে? ও তো প্রবীরকে চেনেই না।”
দীনেন্দ্রর কথার জবাব না দিয়ে বনমালার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন শর্মিষ্ঠা। শান্তস্বরে বনমালা বলে উঠল, “একদিন গিয়েছিলাম।”
আবার লাফিয়ে উঠলেন দীনেন্দ্র, “হোয়াট? তুমি প্রবীরের বাড়িতে গিয়েছিলে? তুমি ওকে চিনলে কী করে?”
শর্মিষ্ঠা শান্তভাবে সবাইকে দেখছিলেন। তিনি বুঝে গিয়েছেন, প্রবীর সেনের সঙ্গে এই বাড়ির একটা গভীর সম্পর্ক আছে।
“একদিনই গিয়েছিলে?”
“হ্যাঁ, ওই একদিনই।”
“আমিও সেদিন মালার সঙ্গে ছিলাম।” পিছন থেকে গলাটা শুনে সবাই সেদিকে তাকাল। কেউ খেয়াল করেনি, কখন অরণ্যও উঠে এসেছে বারান্দায়।
“তুমি কে?” শর্মিষ্ঠার প্রশ্নের উত্তরটা বনমালাই দিয়ে দিল, “আমার বন্ধু অরণ্য। কাছেই ওর বাড়ি। সেদিন ও আমার সঙ্গে ছিল।” লম্বা-চওড়া ছেলেটার দিকে একবার ভালো করে তাকিয়ে নিলেন শর্মিষ্ঠা। তারপরে আবার ফিরলেন বনমালার দিকে, “কেন গিয়েছিলে?”
“উনি একদিন আমার সঙ্গে এসে আলাপ করেছিলেন। বলেছিলেন, আমার মায়ের বেশ কয়েকটা ছবি উনি এঁকেছেন। আমি ছোটোবেলায় মাকে হারিয়েছি। সেই ছবিগুলো আমাকে দেবেন বলেছিলেন। তাই আনতে গিয়েছিলাম।”
“তোমার মায়ের ছবি কেন এঁকেছিলেন প্রবীরবাবু?” একটু অবাক হয়েই জিজ্ঞেস করলেন শর্মিষ্ঠা। ছেলে-মেয়ে দুটি চুপ করে রইল। দীনেন্দ্র সিংহের ফর্সা মুখটা ক্রমে লাল হয়ে যাচ্ছে।
“সেই ছবি পেয়েছিলে?” আবার বনমালার দিকে ফিরে প্রশ্ন করলেন শর্মিষ্ঠা।
“হ্যাঁ, কয়েকটা ছবি আমাকে দিয়েছিলেন।”
“ছবিগুলো আমাকে দেখাতে পারবে?”
“হ্যাঁ, আমার ঘরে আছে। নিয়ে আসব?”
“নিয়ে এসো।”
দ্রুত উঠে গেল বনমালা। দীনেন্দ্র সিংহের মুখের দিকে আবার তাকালেন শর্মিষ্ঠা। তারপরে শান্ত স্বরে জিজ্ঞেস করলেন, “আপনার স্ত্রীর ছবি কেন এঁকেছিলেন প্রবীরবাবু?”
একটু সময় চুপ করে রইলেন দীনেন্দ্র সিংহ। তারপরে বললেন, “আমরা ছোটোবেলা থেকে বন্ধু ছিলাম। আমি ওদের থেকে বছর দুয়েকের বড়ো। প্রবীর ছোটো থেকেই ভালো আঁকত। আমাদের বিয়েতে কনকের একটা পোর্ট্রেট এঁকে দিয়েছিল ও।”
শর্মিষ্ঠা আর কিছু বললেন না। ততক্ষণে চলে এসেছে বনমালা। হাতে কয়েকটা ছবি। সেগুলো খুলে দেখতে লাগলেন শর্মিষ্ঠা। সত্যিই সুন্দর এঁকেছে। রিঙ্কির ছবিটাও প্রায় একই রকম।
আবার বনমালার দিকে ফিরলেন শর্মিষ্ঠা, “তুমি তাহলে দ্বিতীয়বার ওই বাড়িতে যাওনি?”
বনমালার শিরদাঁড়া দিয়ে ঠান্ডা স্রোত বয়ে যেতে লাগল। শর্মিষ্ঠার চোখের দিকে তাকাতে পারছিল না। তাও মনের সবটুকু জোর দিয়ে বলল, “না, ওই একবারই গিয়েছিলাম।” শর্মিষ্ঠা একটু চুপ করে রইলেন। উত্তর দিক থেকে একটা ঠান্ডা হাওয়া এসে সবাইকে কাঁপিয়ে দিয়ে গেল।
উঠে দাঁড়ালেন শর্মিষ্ঠা। তারপরে দীনেন্দ্র সিংহের দিকে তাকিয়ে বললেন, “আপনার স্ত্রীর যে ছবিটা প্রবীরবাবু এঁকেছিলেন, সেটা একবার দেখা যায়?”
দীনেন্দ্র চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন। তারপরে ইশারায় শর্মিষ্ঠাকে ডেকে নিজের শোওয়ার ঘরের দিকে এগিয়ে গেলেন।
ঘরটা একটু ভ্যাপসা মতো, হাওয়া-বাতাস বোধহয় সেরকম আসে না। মদের গন্ধ পেলেন শর্মিষ্ঠা। দীনেন্দ্ৰ সিংহ বোধহয় সন্ধ্যা থেকেই নেশা করেন। তারপরে দেওয়ালে চোখ পড়ল তাঁর।
বাঁধানো ছবিটা টাঙানো আছে দেওয়ালে। চিনতে অসুবিধে হয় না। ওই কাগজের ছবিগুলোর মতো। এই মহিলা যে বনমালার মা, সেটাও বলে দিতে হয় না। মুখের ভীষণ মিল। সেদিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে শর্মিষ্ঠা প্রশ্ন করলেন, “আপনার স্ত্রী কীভাবে মারা গিয়েছিলেন মিস্টার সিংহ?”
“মেয়ের জন্ম দিতে গিয়ে,” নিরুত্তাপ ভঙ্গিতে বললেন ভদ্রলোক।
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে শর্মিষ্ঠা বললেন, “ঠিক আছে, চলুন।”
দুজনে বেরিয়ে এলেন বারান্দায়। হাঁটতে হাঁটতে বনমালাদের কাছে এসে শর্মিষ্ঠা হঠাৎ প্রশ্ন করলেন, “আচ্ছা, মিস্টার সিংহ, আপনি তো বোটানিস্ট। আপনি কি জানেন করবী গাছে বিষ আছে?”
চমকে উঠলেন দীনেন্দ্র সিংহ। তারপরে নিজেকে সামলে নিয়ে বললেন, “হ্যাঁ, জানব না কেন? এটা তো খুব সাধারণ জ্ঞান।”
“খুব সাধারণ নয়। কজন জানে বলুন।”
পাশ থেকে জয়ন্ত তাড়াতাড়ি বলে উঠল, “আমি কিন্তু জানি। ছোটোবেলাতেই বাবা আমাদের সাবধান করে দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, করবী বিষ খেলে পেটে যন্ত্রণা হবে, বমি হবে, বুকে ব্যথা হবে, নিস্তেজ হয়ে পড়বে। এমনকী, চিকিৎসার দেরি হয়ে গেলে মৃত্যুও হতে পারে।”
“আমরাও জানি। ছোটোবেলায় জেঠু যে কতবার বলেছিলেন,” এবার বলে উঠল অরণা।
“ওহ, তাহলে তোমরা সবাই জানো। বাহ, খুব ভালো তো। জানা থাকলে সবসময় সতর্ক থাকা যায়, তাই না?”
কেউ কোনও জবাব দিল না।
সবার মুখের ওপর থেকে একবার চোখ বুলিয়ে শর্মিষ্ঠা বললেন, “ঠিক আছে। আমি আজ আসছি। মিস্টার সিংহ, আমি আবার আসব। প্রবীরবাবুর অতীত সম্পর্কে আপনার থেকে জানতে হবে। আপনি যখন ওঁর বন্ধু ছিলেন, নিশ্চয়ই অনেক কথা বলতে পারবেন। আর কয়েকটা দিন শান্তিনিকেতনেই থাকুন আপনারা। এই শহর ছেড়ে বাইরে যাওয়ার দরকার নেই।”
খুব মিষ্টি করে বললেও কারওই বুঝতে অসুবিধে হল না নির্দেশটা। সিংহবাড়ির কাউকে এখন শান্তিনিকেতন ছেড়ে যেতে নিষেধ করছে পুলিশ।
শর্মিষ্ঠা প্রায় সিঁড়ির কাছে চলে গিয়েছিলেন। হঠাৎ কী মনে পড়তে ফিরে এলেন। তারপরে বনমালার সামনে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করলেন, “তোমার কি কোনও লাল জ্যাকেট আছে?”
প্রশ্নটা যে এই ভাবে আসবে, সেটা বোঝেনি বনমালা। সে একটু চমকে উঠল। তারপরে তাড়াতাড়ি বলে উঠল, “না তো, আমার কোনও লাল জ্যাকেট নেই।”
“আচ্ছা,” বলে শর্মিষ্ঠা তাকাল জয়ন্তর দিকে।
“আমারও নেই,” গম্ভীর গলায় জবাব দিল জয়ন্ত।
শর্মিষ্ঠা আর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। তারপরে নেমে গেলেন সিঁড়ি দিয়ে। পাশেই রাখা ছিল তিনটে সাইকেল। শর্মিষ্ঠা তাকানোর সঙ্গে সঙ্গেই অরণ্য বলে উঠল, “একটা সাইকেল আমার।”
শর্মিষ্ঠা গেটের দিকে হাঁটা দিলেন। তারপরে মাঝপথে ফিরে তাকালেন।
“আমার কথাটা ভুলবেন না কিন্তু। শান্তিনিকেতনের বাইরে এখন আপনারা কেউ যাবেন না।”
ধুলো উড়িয়ে পুলিশের গাড়ি মিলিয়ে গেল শান্তিনিকেতন-শ্রীনিকেতন রোডে।
.
গাড়ির আওয়াজ মিলিয়ে যেতেই ক্রুদ্ধ বাঘের মতো বনমালার সামনে এসে দাঁড়ালেন দীনেন্দ্র সিংহ, “তোমার এত সাহস হয় কী করে প্রবীরের মতো স্কাউন্ডেলটার বাড়িতে যাওয়ার?”
বনমালা একটুও ঘাবড়ালো না। বাবার চোখের দিকে তাকিয়ে সমান তেজি গলায় জবাব দিল, “ওই স্কাউন্ডেলটা বলেছিল, আমার জন্মের রাতে কী হয়েছিল, তা জানাবে। সেই রাতে কী হয়েছিল?”
দীনেন্দ্র সিংহ কাঁপতে লাগলেন। বনমালা থামল না। অনেক অনেকদিন পরে সে মুখ খুলছে। নিজের মনের ভিতরে জমতে থাকা রাগ-যন্ত্রণা সব সে উগড়ে দিতে চাইছে। বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে চিবিয়ে চিবিয়ে প্রশ্ন করল বনমালা-
“প্রবীরবাবু বলেছিলেন, আমাকে সব জানিয়ে দেবেন। কিন্তু জানানোর সুযোগ পেলেন না। তার আগেই খুন হয়ে গেলেন। কে তাকে খুন করল… বাবা?”
বিস্ফারিত চোখে মেয়ের দিকে তাকিয়ে রইলেন দীনেন্দ্র সিংহ। তাঁর শরীর কাঁপছে। প্রচণ্ড রাগে।
.
আরও দুজনের শরীরে সে রাতে কাঁপুনি উঠেছিল। তবে রাগে নয়, উত্তেজনায়। কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যপূরণের দিকে যে এগিয়ে চলেছে তারা। উত্তেজনা হবে না!
বিছানায় শুয়ে শতাব্দী চাদরটা গায়ে টেনে নিল। দাদা খবর এনেছে, বনমালার বাড়িতে পুলিশ গিয়েছে। তাহলে কি সত্যিই বনমালাকে সরে যেতে হবে তার রাস্তা থেকে?
ওই প্রবীর সেনের সঙ্গে বনমালার সম্পর্কটা কী? কে-ই বা মারল লোকটাকে? এইসব প্রশ্ন মনে এলেও তা ঠেলে সরিয়ে দিচ্ছে শতাব্দী। সে শুধু একটা প্রশ্নের উত্তর চায়— বনমালাকে কি পুলিশ ধরে নিয়ে যাবে?
মদের গ্লাসটা হাতে খাটে বসেছিল মানিক। তার মনেও ঝড় উঠেছে। সেই ছোটোবেলা থেকে তার বোনকে খালি লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়তে হয়েছে। আর
দাদা হয়েও অসহায়ভাবে তাকে সেসব দেখতে হয়েছে।
সাত বছর আগে দুটো খুন শান্তিনিকেতনকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। যে ঘটনাগুলোর সঙ্গে সে আর শতাব্দী জড়িয়ে পড়তে পড়তেও বেঁচে গিয়েছিল। কিন্তু ঘটনাগুলো ভুলতে পারেনি মানিক।
এবার কী হবে?
একটা ঘটনার কথা সে শতাব্দীকে বলেনি। বলার প্রয়োজনও নেই।
প্রবীর সেনের বাড়িতে সে গিয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল একটাই। মাতালটার মুখ থেকে যদি বনমালা সম্পর্কে কোনও খবর পাওয়া যায়।
কিন্তু লোকটা অত্যন্ত বদমেজাজি। সঙ্গে বসে মদ খেলেও কাজের কথা একটাও বলেনি তাকে। বনমালার নাম শুনেই প্রায় দুরদুর করে তাড়িয়ে দিয়েছে। মানিকের ইচ্ছে করছিল, তখনই লোকটার চোয়ালে একটা ঘুসি মেরে বুঝিয়ে দেয় সে কী করতে পারে।
কিন্তু নিজেকে সে রাতে সংযত করেছিল মানিক। তার মনে হচ্ছিল, এই লোকটা কাজে আসবে। সত্যিকারের কাজে।
গ্লাসটা আবার মুখে তুলল মানিক। সে ঠিকই ভেবেছিল।
প্রবীর সেন মরে গিয়েই তার কাজটা করে দিয়ে গেল!
