প্রথম পর্ব
দ্বিতীয় পৰ্ব
তৃতীয় পৰ্ব

রক্তকরবী মার্ডারস – ২.৮

শান্তিনিকেতন, ২০২১

প্রান্তিকে পৌঁছে রিঙ্কিদের বাড়িটা খুঁজে পেতে সমস্যা হল না শর্মিষ্ঠার। বাবা ও মেয়ে দুজনেই ভীষণ অবাক হয়ে গেল ওই সময় পুলিশকে দেখে।

শর্মিষ্ঠা এগিয়ে এসে মিষ্টি হেসে বাচ্চাটার গাল টিপে একটা মস্তবড়ো চকোলেটের প্যাকেট বার করলেন। দেখেই চকচক করে উঠল বাচ্চাটার চোখ দুটো। ছোটো মেয়েটার হাতে প্যাকেটটা তুলে দিয়ে শর্মিষ্ঠা হাসিমুখে বললেন, “এটা কিন্তু ঘুষ দিলাম। একটা কাজ করে দিতে হবে রিঙ্কিকে।

মেয়েটার বাবা আমতা আমতা করে বলল, “আজ্ঞে, কিছুই তো বুঝতে পারছি না। রিঙ্কি কী কাজ করবে!”

রিঙ্কিকে খাটে বসিয়ে একটা চেয়ার টেনে নিলেন শর্মিষ্ঠা। তারপরে মেয়েটির দিকে তাকিয়ে বললেন, “তুমি তো স্যারের বাড়িতে ওই মেয়েটির ছবি দেখেছিলে, তাই না?”

প্রথমে বুঝতে একটু অসুবিধা হল রিঙ্কির। তারপরে বলে উঠল, “হ্যাঁ দিদি, দেখেছিলাম। খুব সুন্দর এঁকেছিলেন স্যার।”

“মেয়েটার মুখটা তোমার মনে আছে?” উত্তেজনা সামলে প্রশ্ন করলেন শর্মিষ্ঠা। রিঙ্কি বলে উঠল, “হ্যাঁ, দিদি। মনে আছে। কয়েকটা পেনসিলে আঁকা ছিল। কয়েকটা ছবি আবার রং করা। একটা ছবিতে মেয়েটার খোঁপায় কী সুন্দর লাল রংয়ের ফুল গোঁজা ছিল। স্যার বলেছিলেন, রক্তকরবী।”

শর্মিষ্ঠা আবার বাচ্চাটার গাল টিপে আদর করে দিলেন। তারপরে বললেন, “আমার জন্য তোমাকে একটা ছবি আঁকতে হবে। স্যার যে মেয়েটার ছবি এঁকেছিলেন, সেই মেয়েটার ছবি।”

রিঙ্কি অবাক হয়ে গেল, “স্যারের মতো আমি কী করে আঁকতে পারব? আমি তো সবে আঁকা শিখছি।”

“একদম ঘাবড়িও না রিস্কি। তোমার যেরকম মনে আছে, সেরকমই এঁকো। আর আঁকা শেষ হয়ে গেলে দারুণ একটা পুরস্কারও দেব তোমাকে।”

রিঙ্কির মুখটা ঝলমল করে উঠল, “আচ্ছা দিদি। আমি এঁকে দেব।’

“এই তো চাই,” বলে উঠে পড়লেন শর্মিষ্ঠা। তারপরে রিঙ্কির বাবার দিকে ফিরে বললেন, “আমার মোবাইল নম্বরটা আপনাকে দিয়ে যাচ্ছি। আঁকা শেষ হলেই আমাকে খবর দেবেন।”

.

প্রান্তিক থেকে ভুবনডাঙার ওই ঠিকানায় পৌঁছোতে মিনিট কুড়ির বেশি লাগল না শর্মিষ্ঠার। অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসককে যে রাত আটটা নাগাদ বাড়িতে পাওয়া যাবে, এটা জানতেন এলএসআই।

বাড়িতেই ছিলেন ডক্টর অমর চৌধুরী। বছর দুয়েক হল তিনি অবসর নিয়েছেন। চিকিৎসক জীবনে নানা জায়গায় ঘুরতে হয়েছে তাঁকে। নিজের শহর বোলপুরেও অনেক বছর পোস্টিংয়ে ছিলেন। তারপরে আবার বদলি হয়ে যান। চাকরির শেষ দশ বছর অবশ্য এই বোলপুরেই কাটাতে পেরেছেন তিনি।

এখন হলে অবশ্য একটু সমস্যা হত। শোনা যাচ্ছে, রাজ্য সরকার একটা নিয়ম চালু করতে চলেছে, যেখানে কোনও চিকিৎসক পাঁচ বছরের বেশি এক জায়গায় থাকতে পারবেন না।

যাক গে, সেসব নিয়ে তাঁর মাথা না ঘামালেও চলবে। তাঁর চিকিৎসক জীবনটা বেশ ভালোই কেটেছে। এখন প্রাইভেট প্র্যাকটিস করেন। একটা সময় প্রচুর অর্থ উপার্জনও করেছেন। টেবলের ওপর এবং তলা, দু-দিক দিয়েই। তাতে অবশ্য কোনও আক্ষেপ নেই অমরবাবুর। তাঁর ধারণা, তিনি সমাজের উপকারই করেন।

আজকের মতো রুগি দেখা শেষ হয়ে গিয়েছে তাঁর। কম্পাউন্ডার ছেলেটা ঘর বন্ধ করে চলে গিয়েছে। এখন তিনি একটা হুইস্কির বোতল নিয়ে রিল্যাক্স করবেন। বাদ সাধল চাকর কিঙ্কর। মনিবের সামনে এসে বলল, “একটি মেয়ে দেখা করতে এসেছে।”

ভ্রূটা কুঁচকে উঠল অমরবাবুর। এত রাতে মেয়ে? নিশ্চয়ই রুগি! “বলে দে এখন রুগি দেখা বন্ধ। কাল সকালে আসতে বল।” হুইস্কির বোতলের দিকে হাত বাড়ালেন ডাক্তার।

“বাবু, মেয়েটা বোধহয় পুলিশ।”

অবাক হয়ে গেলেন অমরবাবু। এত রাতে তার বাড়িতে পুলিশ কেন? “ঠিক আছে, ডেকে নিয়ে আয়।” হুইস্কির বোতলটা তুলে রেখে চেয়ার টেনে বসলেন ডাক্তার। মিনিটখানেকের মধ্যে ঘরে এসে ঢুকলেন শর্মিষ্ঠা বসু।

অমরবাবুর সামনে চেয়ার টেনে বসে শর্মিষ্ঠা বললেন, “জরুরি দরকার। আপনার থেকে একটা সাহায্য চাই। তাই এত রাতে চলে এলাম।”

“কী ব্যাপার, বলুন?” পুলিশের সঙ্গে কাজ করা তাঁর অভ্যাস আছে। কতবার যে বোলপুর হাসপাতালের ময়নাতদন্ত করেছেন তিনি, তার ইয়ত্তা নেই।

নিজের পরিচয় দিয়ে সরাসরি প্রসঙ্গে ঢুকে এলেন শর্মিষ্ঠা, “আপনি তো ওই রক্তকরবী কেসটার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আপনিই তো পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট তৈরি করেছিলেন?”

চমকে উঠলেন ডক্টর অমর চৌধুরী। চমকানোটা নজর এড়াল না শর্মিষ্ঠার। তিনি স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন। নিজেকে একটু সামলে নিলেন ডাক্তার। একটু সময় নিয়ে যেন ভাবার চেষ্টা করলেন। তারপরে বললেন, “ওহ্, ওই কেসটা। হ্যাঁ, আমি পোস্ট মর্টেম করেছিলাম। অনেক বছর হয়ে গেল তো, ঠিক মনে নেই।”

“করবীর বিষ ব্যবহার করা হয়েছিল বলে কেসটা রক্তকরবী বা ওলিয়েন্ডার মার্ডারস বলে কুখ্যাত হয়ে গিয়েছিল। তাই তো?”

ডাক্তার মাথা নেড়ে সায় দিলেন, “হ্যাঁ, টক্সিকোলজিস্টের রিপোর্ট তাই বলছে। তারপরে ব্যাপারটা মিডিয়ার কাছে ফাঁস হয়ে যায়। কিন্তু অত বছর আগের কথা এখন তুলছেন কেন, বুঝতে পারছি না।”

“বলছি,” শর্মিষ্ঠা একবার ডাক্তারবাবুর ঘরটায় চোখ বুলিয়ে নিলেন। দামি আসবাবপত্র, বিদেশি মদের বোতল। ডাক্তারবাবু বেশ বহাল তবিয়তেই আছেন। আবার অমর চৌধুরীর চোখে চোখ রেখে শর্মিষ্ঠা তার পরের প্রশ্নটা করলেন, “ওয়েপনের সঙ্গে ভিকটিমের ব্লাড ম্যাচিংও তো ঠিকঠাক হয়েছিল, তাই না?”

অমরবাবু বিরক্ত মুখে বললেন, “সেই ম্যাচিং এখানে হয়নি। কলকাতার ল্যাবরেটরিতে হয়েছিল।”

“হ্যাঁ, তা হয়েছিল। আমাকে একটা কথা বলুন তো ডক্টর। দ্বিতীয় ভিকটিমের ব্লাড স্যাম্পলগুলো তো আপনাদের কাছেও স্টোর করে রাখা ছিল কয়েকটা দিন। তাই না?”

অমর চৌধুরীর কপালের কাছে বিন্দুবিন্দু ঘাম জমে উঠছিল। নিজেকে শক্ত করে তিনি বলে উঠলেন, “আমরা দ্রুত সেসব স্যাম্পল ল্যাবরেটরিতে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। আপনি কেন এইসব কথা তুলছেন, আমি বুঝতে পারছি না।”

শর্মিষ্ঠা ঠিক করে এসেছিলেন, যত দূর সম্ভব চাপ তিনি তৈরি করবেন। একমাত্র চাপের মুখেই ভাঙতে পারে এই অমর চৌধুরী। একটু দ্বিধা সত্ত্বেও পরের চালটা খেললেন তিনি। ডক্টর নিশ্চয়ই চেক করে দেখবেন না, তিনি সত্যি বলছেন না মিথ্যে।

“ডক্টর অমর চৌধুরী, ব্লাড স্যাম্পল দু-দিন পরে ল্যাবে পাঠানো হয়েছিল। ততদিনে যা করার, তা করা হয়ে গিয়েছে। আমি ওই ল্যাবরেটরির থেকে চেক করেছি। পুরোনো ফাইল ঘেঁটে ওরা তারিখটা জানিয়েছে।”

“মানে? কী করা হয়ে গিয়েছে? কী বলতে চাইছেন আপনি?”

স্থিরদৃষ্টিতে ডক্টরের দিকে তাকিয়ে শর্মিষ্ঠা বসু জবাব দিলেন, “ব্যাপারটা খুব সোজা ডক্টর। একটা ছুরিতে রক্ত মাখিয়ে সেই ছুরি পাঠিয়ে দেওয়া হয় ফরেন্সিক ল্যাবরেটরিতে। রক্তটা ভিকটিমের ছিল। ফলে দুয়ে দুয়ে চার হতে অসুবিধে হয়নি।”

কাঁপতে কাঁপতে উঠে দাঁড়ালেন ডক্টর। তাঁর মুখ লাল হয়ে গিয়েছে, “আপনি আমাকে অপমান করছেন। এই মুহূর্তে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। না হলে আমি ওপরমহলে কমপ্লেন করব।”

একটুও ঘাবড়ালেন না শর্মিষ্ঠা। সেই ঠান্ডা গলাতেই বললেন, “কমপ্লেন করলে জল অনেক দূর গড়াবে। এই প্রসঙ্গ কেন সাত বছর পরে উঠল, তা বলছি আপনাকে। চুপ করে বসে শুনুন।”

ধপ করে বসে পড়লেন ডক্টর। তাঁর হৃদস্পন্দন বাড়তে শুরু করেছে।

সামনে একটু ঝুঁকে এসে ধীরে ধীরে শর্মিষ্ঠা বললেন, “আবার একটা খুন হয়েছে শান্তিনিকেতনে। সেই একই ভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ছিন্নভিন্ন করে দেওয়া হয়েছে তলপেট, যৌনাঙ্গ। তার আগে বিষ খাওয়ানো হয়েছিল মদের সঙ্গে মিশিয়ে। বিষটা ওই করবী গাছের। খবরটা এখনও বাজারে ছড়ায়নি। কিন্তু ছড়াতে কতক্ষণ?”

সাদা হয়ে গেল ডাক্তারের মুখ। অতি কষ্টে একবার ঠোঁটটা চেটে নিলেন তিনি। শর্মিষ্ঠা বললেন, “অতএব বুঝতে পারছেন, পরিস্থিতি এখন কোথায় দাঁড়িয়ে। খবরটা বেরিয়ে গেলেই প্রশ্ন উঠবে, তাহলে সাত বছর আগে এনকাউন্টারে কার মৃত্যু হয়েছিল? পুরোনো কঙ্কাল বেরিয়ে পড়বে যে ডক্টর অমর চৌধুরী।”

একটু সময় চুপ করে রইলেন ডাক্তার। তারপরে বললেন, “এটা তো কপিক্যাট কিলারের কাজও হতে পারে। কী করে নিশ্চিত হচ্ছেন, একই খুনির কাজ?”

শর্মিষ্ঠা বুঝলেন, এই লোক সহজে ভাঙবে না। তাঁকে আসল তাসটা খেলতেই হবে।

“হতেই পারে কপিক্যাট কিলারের কাজ। কিন্তু তাতে আপনার দোষটা ঢাকা পড়বে না ডক্টর চৌধুরী। আপনি এভিডেন্স ট্যাম্পার করেছেন।”

“কী করে প্রমাণ করবেন?” নিজেকে অনেকটা সামলে নিয়েছেন অমরবাবু। কঠিন গলায় বললেন, “আপনি তো শুধু অভিযোগই করে চলেছেন।”

শর্মিষ্ঠা মাথা নাড়লেন। “ঠিকই বলেছেন, আমার কাছে প্রমাণ নেই।” বলে একটু চুপ করলেন তিনি। তারপরে হাল ছেড়ে দেওয়ার ভঙ্গিতে বললেন, “আচ্ছা, আর একটা প্রশ্নের জবাব দিন, তাহলেই আমি চলে যাব।”

কোনো কথা না বলে ডাক্তার তাকিয়ে রইলেন পুলিশ অফিসারের মুখের দিকে।

পকেট থেকে একটা কাগজ বার করলেন শর্মিষ্ঠা। “এটা আপনার রিপোর্টের কপি। যা কোর্টে পেশ করা হয়েছিল। এখানে আপনি বলেছেন, ইনজুরি মার্কের সঙ্গে ওয়েপন ক্যারেক্টারেস্টিক্স মিলিয়ে দেখার পরে বলা যায় এই ধরনের ছুরিই ব্যবহার করা হয়েছে খুন করতে। এবং, দুটো মার্ডারের ক্ষেত্রে একই অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। ঠিক তো? এই অস্ত্রটাই পাড়ুইকে প্রথম মার্ডারের সঙ্গে জুড়ে দেয়। এ ছাড়া কোনও প্রমাণ ছিল না পুলিশের হাতে।”

“রিপোর্টে যখন বলা আছে, তখন ঠিক তো হবেই,” বিরক্ত মুখে জবাব দিলেন অমরবাবু।

“লাভলি,” বলে উঠলেন শর্মিষ্ঠা। তারপরে পকেট থেকে আর একটা কাগজ বার করে আনলেন। “এটা আপনার প্রথম বডির পোস্টমর্টেমের রিপোর্ট। যেখানে আপনি পরিষ্কার বলেছেন, আঘাতের জায়গায় কোনও হিল্ট মার্ক দেখা যায়নি। কিন্তু আপনার দ্বিতীয় রিপোর্টে হিল্ট মার্কের কথা আছে। আঘাতের গভীরতা প্রায় এক, ওয়েপন মার্কও এক বলে উল্লেখ করেছেন রিপোর্টে। তাহলে প্রশ্ন হল, প্রথম খুনের ক্ষেত্রে হিল্ট মার্কটা কোথায় গেল ডক্টর চৌধুরী?”

এবার সত্যি সত্যি ভয় পেলেন ডাক্তারবাবু। শর্মিষ্ঠা তাঁর শিকারের চোখে চোখ রেখে বললেন, “এই গরমিলটা তালেগোলে কেউ খেয়াল করেনি। বা খেয়াল করলেও কিছু বলেনি। আপনিও ভুলে গিয়েছিলেন। তখন পরিস্থিতি এমনই ছিল যে কাউকে না কাউকে বলি দিতেই হত।”

অমর চৌধুরী এবার হাউমাউ করে উঠলেন, “আমার কোনও দোষ নেই। ইন্সপেক্টর সমীরণ দত্ত যা বলেছিল, আমি সেটাই করেছি। এটা করা ছাড়া আমার সামনে কোনও রাস্তাও ছিল না।

একটু দম নিলেন ডাক্তারবাবু। এদিক-ওদিক তাকিয়ে জলের গ্লাস খুঁজলেন। কিন্তু পেলেন না। সামনে বসে থাকা শর্মিষ্ঠা বসুর দিকে আড়চোখে তাকিয়ে মাথা নীচু করে বলতে থাকলেন, “তখন মারাত্মক একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। দেশের প্রেসিডেন্ট স্বয়ং খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেন। ওই অবস্থায় পাড়ুইকে ঘটনাস্থল থেকে পালাতে দেখা যায়। কিন্তু ওর বিরুদ্ধে অকাট্য কোনও প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছিল না। ওয়েপনও পাওয়া যায়নি। তখন সমীরণবাবু এই প্ল্যানটা করেন।”

“তার মানে আসল খুনিকে পুলিশ তখন ধরতেই পারেনি?”

“সেটা আমি বলতে পারব না। পাড়ুই সত্যিই খুনি কি না, সেটা বলার সবচেয়ে ভালো লোক হল সমীরণ দত্ত।”

মাথা নাড়লেন শর্মিষ্ঠা। তারপরে পকেট থেকে মোবাইলটা বার করে ভয়েস রেকর্ডারটা অফ করলেন। “আপনার স্বীকারোক্তি এখানে রেকর্ড হয়ে রইল। এই রেকর্ডিং কোর্টে হয়তো টিকবে না, কিন্তু মিডিয়া ট্রায়ালে আপনার ফাঁসি হয়ে যাবে, এটা মনে রাখবেন।”

অমর চৌধুরী বুকের বাঁ-দিকে হাত বোলাতে লাগলেন। উঠে পড়লেন শর্মিষ্ঠা। ঘর থেকে বেরোনোর আগে পুলিশ অফিসার বললেন, “দুটো কথা বলে যাই। ভুলেও শান্তিনিকেতন ছাড়ার চেষ্টা করবেন না এখন। আর যদি সমীরণ দত্ত ফোন করেন, তাহলে বলবেন আমার কাছে সব ফাঁস করে দিয়েছেন।

আর কথা না বলে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন শর্মিষ্ঠা বসু।

মাথা নীচু করে বসে রইলেন অমর চৌধুরী। তাঁর শরীরটা কাঁপছে। অতীত যে এইভাবে তাঁকে তাড়া করবে, ভাবতেও পারেননি। দু-হাতে মুখ ঢেকে ফেললেন বর্ষীয়ান চিকিৎসক। তার আতঙ্ক একশোগুণ বেড়ে যেত যদি জানতেন, দুঃস্বপ্নের এখানেই শেষ নয়।

.

বাড়ি ফেরার পথে শর্মিষ্ঠা বুঝে গেলেন, এবার সমীরণ দত্তের মুখোমুখি হতে হবে তাঁকে। অতীত খুঁড়ে সত্যটা বার করে আনতে হবে। না হলে এই কেসের সমাধান হবে না।

আরও একটা ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে গিয়েছেন শর্মিষ্ঠা।

রক্তকরবী মার্ডারসের খুনি আবার ফিরে এসেছে শান্তিনিকেতনে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *