প্রথম পর্ব
দ্বিতীয় পৰ্ব
তৃতীয় পৰ্ব

রক্তকরবী মার্ডারস – ২.১

শান্তিনিকেতন, ২০১৪

সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ শোভনার গাড়িটা এসে থামল শান্তিনিকেতনের বাড়ির সামনে।

হাতের ছোটো ব্যাগটা নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়ালেন তিনি। ড্রাইভারকে নির্দেশ দিলেন, “গ্যারেজে রাখার আগে সুটকেস দুটো একটু ঘরে পৌঁছে দিও।”

দুটো সুটকেস আনতে হয়েছে এবার, কারণ ঈপ্সিতার জন্য বেশ কয়েকটা উপহার নিয়ে এসেছেন শোভনা। সপ্তাহখানেক বাড়িতে ছিলেন না তিনি। সঙ্গিনীর জন্য মনটা কেমন করছে তাঁর।

বাড়িটা ঘেরা একটা ছোটো পাঁচিল দিয়ে। গ্যারেজটা লাগোয়া। ড্রাইভার এগিয়ে গিয়ে গ্যারেজের শাটারটা তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। শোভনা এগিয়ে গেলেন বড়ো গেটটার দিকে।

আর তখনই বিদ্যুৎগতিতে ছিটকে বেরোলো একটা মূর্তি। শোভনার বিস্ফারিত চোখের সামনে ছোটো পাঁচিলটা টপকে দূরে মিলিয়ে গেল মূর্তিটা।

ঘটনাটা এতটাই আকস্মিক যে থতোমতো খেয়ে গেলেন শোভনা। ড্রাইভার ছেলেটাও ঘুরে তাকিয়েছিল আওয়াজ শুনে। সে বলে উঠল, “ম্যাডাম, কিছু চুরি করে পালাল নাকি?”

শোভনা সেদিকে তাকিয়ে বলে উঠলেন, “ও এখানে কী করছিল? এইভাবে পালাল কেন?” তারপরে এক ধাক্কায় গেট খুলে ভিতরে ঢুকে এলেন তিনি। বারান্দায় আলোটা জ্বলছে। কিন্তু কাউকে দেখা যাচ্ছে না। না ঈপ্সিতাকে, না কাজের মাসিকে।

“ঈপ্সিতা, ঈপ্সিতা,” ডাকতে গিয়ে গলাটা একটু কেঁপে গেল শোভনার।

কেউ কোনও জবাব দিল না। দ্রুত বারান্দায় উঠে এলেন শোভনা। সামনের ঘরের দরজাটা হাট করে খোলা। ভিতরে আলো জ্বললেও কোনও সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছে না।

খুব ধীর পায়ে ঘরের ভিতরে পা রাখলেন শোভনা।

তারপরে জ্ঞান হারিয়ে মাটিয়ে লুটিয়ে পড়ার আগে শোভনার গলা থেকে যে আর্ত চিৎকারটা বেরোলো তা যে কোনও মানুষের রক্ত জমিয়ে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট।

সোফার গা ঘেঁষে মাটিতে পড়ে আছে ঈপ্সিতার নিষ্প্রাণ দেহটা। তার তলপেটের অংশটা ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছে কোনও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে।

.

বোলপুর থানায় যখন খবরটা এল, তখন সকাল সাড়ে আটটা। ডিউটি অফিসার একটুও দেরি না করে ফোন করলেন সমীরণ দত্তকে।

তিনি তখন সবে ঘুম থেকে উঠেছেন। কয়েকদিন হল ঘুমটা ভালো করে হচ্ছে না। হবেই বা কী করে? ওই চঞ্চল মজুমদারের মার্ডার কেসের ব্যাপারে তো কোনও ব্লুই পেলেন না এখন পর্যন্ত।

চঞ্চল মজুমদারের ব্যাপারে তিনি কয়েকটা তথ্য চেয়েছিলেন কলকাতা পুলিশের কাছে। সেগুলো পেয়েছেন। কিন্তু তাতে কোনও লাভ হয়নি। চঞ্চলবাবুর বিরুদ্ধে কখনও কোনও পুলিশ কেস হয়নি। অন্তত কলকাতা পুলিশের কাছে তো নয়ই। স্থানীয় থানায় কোনও অভিযোগও জমা পড়েনি কখনও। মানে একেবারে ক্লিন ভদ্রলোক যাকে বলে। এবার চঞ্চলবাবুর কলেজে গিয়ে খোঁজ নিতে হবে। তার জন্য কলকাতায় যেতে হবে তাঁকে। বিছানায় শুয়ে কলকাতা যাওয়ার ব্যাপারটা ঠিক করছিলেন। তখনই ফোনের আওয়াজে তাল কেটে গেল।

খবরটা শোনার পরে সেই ঘুমের রেশ মিলিয়ে যেতেও সময় লাগল না। ডিউটি অফিসারের সব কথা শোনার পরে ওসি-কে ফোনটা লাগালেন সমীরণ দত্ত। তিনিও তখন বিছানা ছেড়ে উঠব উঠব করছিলেন।

উলটো দিকে উত্তেজিত সমীরণ দত্তের গলা পেয়ে ওসি-র আমেজটা পুরো চটকে গেল, “স্যার, একটা মারাত্মক ঘটনা ঘটে গিয়েছে!”

চমকে উঠে তিনি বললেন, “কী হয়েছে? ওরকম করছ কেন?”

সমীরণ দত্ত হড়বড় করে বলতে লাগলেন, “স্যার, এইমাত্র একটা খুনের খবর এসেছে। ওই শ্রীনিকেতনের দিক থেকে।”

“তাই নাকি? কোথায় হয়েছে? বাড়িতে না কি অন্য জায়গায়?”

“বাড়িতে স্যার।”

“খুন বুঝল কী করে?”

“স্যার একটা ছেলে ফোন করে থানায় খবরটা দেয়। নিজেকে পরিচয় দেয় বাড়ির ড্রাইভার বলে। আরও বলে, ছুরির আঘাতে নাকি তলপেটটা ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছে।”

কয়েক মুহূর্ত সব চুপচাপ। তারপরে বিছানায় তড়াক করে উঠে বসে ওসি নির্দেশ দিলেন, “আপনি এখনই ওখানে চলে যান টিম নিয়ে। আমি ফটোগ্রাফার আর বাকিদের বলছি। কোনওভাবে আগের মার্ডারটার সঙ্গে রিলেটেড কি না, দেখতে হবে।” তারপরে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বললেন, “সবে সকাল। সন্ধ্যা হতে অনেক দেরি। হাতে সময় আছে। আজই অটোপ্সি হয়ে যাবে। আপনি তাড়াতাড়ি যান।”

.

সমীরণ দত্ত যখন শোভনার বাড়ির সামনে এসে নামলেন, ন-টা বেজে গিয়েছে।

ঘরের মধ্যে ঢুকে চমকে গেলেন তিনি। বুকটা ছ্যাৎ করে উঠল।

দিন কুড়ি আগের একটা ক্রাইম সিন ভেসে উঠল চোখের সামনে।

বডিটা ছেতড়ে পড়ে আছে সোফার গায়ে। তলপেট এবং যৌনাঙ্গের কাছটা ছিন্নভিন্ন। মহিলা একটা সবুজ রংয়ের সালোয়ার আর লাল কামিজ পরে আছেন। ঘাড়টা এলিয়ে পড়েছে। মুখ দিয়ে ফেনা উঠেছে। মৃত্যুর আগে বমিও করেছেন।

ঠিক যেন চঞ্চল মজুমদারের ঘরের দৃশ্যটা। ঘরের মধ্যে একবার চোখ বুলিয়ে নিলেন সমীরণ। একটু দূরে টেবলের উপরে রাখা একটা মদের বোতল। সেটা অর্ধেক খালি। পাশে একটা গ্লাস। সেখানে সামান্য একটু মদ পড়ে আছে। বোতলটা যদি এদিনই খোলা হয়ে থাকে, তাহলে বলতে হবে ভদ্রমহিলা বেশ ভালোই মদ খান। আর যদি কোনও সঙ্গী থাকে তো আলাদা কথা। তবে গ্লাস একটাই।

সমীরণ দত্ত একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। বিশাল ঝড় উঠতে চলেছে। ওই একটা খুনের ধাক্কাই এখনও সামলানো যায়নি। তার মধ্যে আর একটা খুন। একই রকম প্যাটার্নে। সমীরণ দত্তর মন বলছিল, ভিকটিমের শরীরে আর মদের গ্লাসে ওই বিষটাই পাওয়া যাবে। সায়েন্টিফিক নামটা তাঁর মনে থাকে না। ওই রক্তকরবী বা করবীর বিষটা।

এই ব্যাপারটা যখন জানাজানি হবে, তখন চাকরি বাঁচানো দায় হয়ে উঠবে।

পাশের ঘরের দিকে এগিয়ে চললেন তিনি। খাটে হেলান দিয়ে বসে এক ভদ্রমহিলা। চোখের দৃষ্টি শূন্য। প্রচণ্ড শক পেয়েছেন বোঝা যাচ্ছে। পাশে অল্পবয়সি এক মহিলা এবং একটু দূরে একটা ছেলে দাঁড়িয়ে।

সমীরণ ঘরে ঢুকতেই ছেলেটা বলে উঠল, “স্যার, আমি এই বাড়ির ড্রাইভার। আমিই ফোন করেছিলাম থানায়।” সমীরণবাবু মেয়েটির দিকে তাকালেন। ছেলেটা বলে উঠল, “ও আমার বউ স্যার। আমরা কাছেই থাকি। ম্যাডামের এই অবস্থা দেখে আমি ওকে ফোন করে ডেকে আনি। বাড়িতে কেউ ছিল না। আমি ঘাবড়ে গিয়েছিলাম।”

অফিসার গিয়ে দাঁড়ালেন খাটের সামনে। তারপরে গলার স্বর যতটা কোমল করা সম্ভব করে বললেন, “আপনি যদি একটু বলেন কী দেখেছেন, তাহলে তদন্তের সুবিধে হবে।”

কথাটা যেন শুনতেই পেলেন না শোভনা। তারপরে বিড়বিড় করে বলতে থাকলেন, “কেন যে আমি কলকাতায় গেলাম! আমি থাকলে হয়তো মেয়েটাকে এইভাবে মরতে হত না।”

সমীরণ বুঝতে পারলেন, এখনও শক কাটিয়ে উঠতে পারেননি মহিলা। তিনি পাশে দাঁড়ানো মেয়েটিকে বললেন, “পারলে একটু নুন-চিনির জল খাওয়াও তো।” মেয়েটা দ্রুত রান্নাঘরের দিকে ছুটল।

ড্রাইভার ছেলেটাকে একটা কোণে ডেকে নিলেন সমীরণ দত্ত।

“তোমার নাম কী?”

“আজ্ঞে, রাজু স্যার।”

“আর এদের নাম?”

“এই ভদ্রমহিলার নাম শোভনা। বাড়িটা এঁরই।”

যতটা জানে, খুলে বলল ছেলেটা—

দুই বন্ধু মিলে মাসখানেক হল এখানেই থাকছেন। বাড়িটা শোভনার। সপ্তাহখানেক আগে কলকাতায় গিয়েছিলেন তিনি। রাজু গাড়ি করে কলকাতায় গিয়ে তাঁকে ছেড়ে দিয়ে চলে এসেছিল। গতকাল শোভনা ফোন করে কলকাতায় ডাকিয়ে নেন তাকে। রাতটা শোভনার বাড়িতে থেকে আজ ভোররাতে কলকাতা থেকে রওনা দেয় তারা। গাড়িটা কলকাতার বাড়িতেই ছিল এই কদিন। ভোর চারটে নাগাদ তারা কলকাতা থেকে রওনা দিয়েছিল।

আরও দিন দুয়েক পরে ফেরার কথা ছিল শোভনার। অন্তত রাজু তাই জানত। কিন্তু আজই তিনি ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। আর এসেই দেখেন এই ঘটনা। সঙ্গে সঙ্গে জ্ঞান হারান তিনি।

“এখানে যখন পৌঁছোলে, তখন কটা বাজে?”

“তা স্যার, সাড়ে সাতটা মতো হবে।”

“ভিতরে ঢুকে কী দেখলে?”

“আমি স্যার প্রথমে ঢুকিনি। গ্যারেজের দরজাটা খুলছিলাম। হঠাৎ ভিতর থেকে ম্যাডামের চিৎকার পেয়ে দৌড়ে যাই। গিয়ে দেখি ম্যাডাম ঘরের মধ্যে অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছেন। আর ঈপ্সিতা ম্যাডাম…,” বলে থেমে গেল রাজু।

“দুজনে কি পুরোনো বন্ধু?”

“হ্যাঁ স্যার, আমি যতদূর শুনেছি, ওরা অনেকদিনের বন্ধু।”

অফিসার একটু ভাবলেন, “এই কদিন কি ঈপ্সিতা একাই থাকতেন বাড়িতে?”

“বোধহয় নয়। আসার দিন যখন গাড়ি ছাড়ছিলাম, ম্যাডাম বলছিলেন, শেফালি কদিন বাড়িতে এসে থাকবে। শেফালিদি এই বাড়িতে রান্না করে।”

“তা সেই শেফালি কই? দেখতে পাচ্ছি না তো?”

রাজু একটু অবাক হয়ে বলল, “তাই তো! শেফালিদিকে তো আমিও দেখিনি। যে জন্যই তো আমার বউকে ডেকে পাঠাই।” তারপরে ভেবে বলল, “ভোরবেলায় বাড়ি চলে গিয়েছে কি না কে জানে!”

গম্ভীর হয়ে গেল সমীরণের মুখ।

তিনি আবার ধীরে ধীরে এগিয়ে গেলেন শোভনার দিকে। রাজুর বউ ততক্ষণে অনেক চেষ্টায় একটু জল খাওয়াতে পেরেছে। রাজুর দিকে ফিরে সমীরণ বলল, “এই বাড়ির ডাক্তার কে, জানা আছে?”

“না স্যার, তবে এখানের একজন স্থানীয় ডাক্তারবাবুকে আমি চিনি। আপনি বললে আমি ডেকে আনতে পারি।”

“ঠিক আছে, নিয়ে এসো।”

রাজু বেরিয়ে যেতেই আবার শোভনার কাছে এগিয়ে এলেন ইন্সপেক্টর।

“ম্যাডাম, আপনি কি একটু সুস্থ বোধ করছেন? কথা বলতে পারবেন?”

শোভনা আবার সেই রকম চাপা স্বরে বলতে লাগলেন, “কেন তোকে শান্তিনিকেতনে ফেলে কলকাতায় চলে গেলাম! কেন গেলাম!”

ফুঁপিয়ে উঠে সমীরণ দত্তর দিকে তাকিয়ে শোভনা বলতে লাগলেন, “জানেন, আমি ওকে একটা সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছিলাম। আমার দু-দিন পরে আসার কথা ছিল। কিন্তু আমি আজই ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিই। ওকে বলিওনি। ভেবেছিলাম, দুম করে হাজির হয়ে অবাক করে দেব। উলটে ও-ই অবাক করে দিয়ে চলে গেল।

হু হু করে কেঁদে ফেললেন শোভনা। সমীরণ দত্ত বুঝতে পারলেন, মহিলা এখনও শক কাটিয়ে উঠতে পারেননি। কাজের কথা কিছুই বলতে পারবেন না।

ভাগ্য ভালো, ততক্ষণে ডাক্তারকে নিয়ে চলে এসেছে রাজু। পরীক্ষা করে গোটা দুয়েক ইনজেকশন দিয়ে পেশেন্টকে শুইয়ে দিলেন ডাক্তার। তারপরে অফিসারের দিকে ফিরে বললেন, “নার্ভাস ব্রেকডাউন হয়েছে। আমি একটা সেডাটিভ দিলাম। এখন ঘুমোতে দিন। তবে কাউকে এখানে থাকতে হবে।”

তিনজনেই ঘুরে তাকাল রাজুর বউয়ের দিকে।

মেয়েটি বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে বলল, “আপনারা চিন্তা করবেন না। আমি বউদির সঙ্গে আছি।”

তিনজনই বেরিয়ে এলেন ঘর থেকে। ডাক্তারকে ছেড়ে আসতে গেল রাজু। সমীরণ দত্ত ভালো করে ঘরটা দেখতে লাগলেন। তাঁর সহকারীরা অবশ্য ইতিমধ্যেই একবার দেখেছে খুটিয়ে খুটিয়ে। সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়েনি। মৃতদেহ আর ঘরের ছবি তোলার কাজও হচ্ছে। তবে একটু দূরের টেবিলের ড্রয়ারটা খোলা। এগিয়ে গিয়ে ভালো করে দেখলেন সমীরণ। ড্রয়ারে একটা মানিব্যাগ খোলা অবস্থায় পড়ে। কিন্তু ফাঁকা। একটা টাকাও নেই। ভ্ৰূটা কুঁচকে উঠল সমীরণের। এই ব্যাপারটা নতুন দেখছেন। টাকা চুরি হল? আগের কেসে তো সেসব কিছু হয়নি।

সমীরণ দেখলেন, ডাক্তারকে পৌঁছে দিয়ে ফিরে এসেছে রাজু। তিনি আবার ডেকে নিলেন ছেলেটাকে।

“ভালো করে ভেবে বলো, ঠিক কী কী ঘটেছিল তোমরা গাড়ি থেকে নামার পরে।”

রাজু একটু ভাবল। তারপরে হঠাৎ উজ্জ্বল হয়ে উঠল ছেলেটার মুখ। “ওহো, একটা ব্যাপার তো আপনাকে বলতে ভুলেই গিয়েছিলাম। আসলে আসার পর থেকে যা সব হচ্ছে, বুদ্ধিশুদ্ধি গুলিয়ে গিয়েছে।”

অধৈর্য হয়ে পড়লেন সমীরণ দত্ত। ছেলেটা বড্ড বেশি কথা বলে।

“ভণিতা না করে কী দেখেছ, সেটা বলো।”

“আমি স্যার, তখন গ্যারেজের তালাটা খুলছিলাম। ম্যাডাম এগিয়ে গিয়েছিলেন গেটটার দিকে। আর তখনই…।

বলে নাটকীয়ভাবে থামল রাজু। ছেলেটাকে তখনই এনকাউন্টার করে দেওয়ার ইচ্ছে হচ্ছিল সমীরণ দত্তের। কোনওমতে নিজেকে সামলে চিবিয়ে চিবিয়ে বললেন, “তারপরে?”

“আর তখনই একটা লোক লাফ দিয়ে পাঁচিল টপকে পালিয়ে গেল।”

হা করে রাজুর মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন সমীরণ দত্ত। তারপরে প্রায় সেরকমই একটা লাফ দিয়ে এসে পড়লেন ছেলেটার সামনে। রাজুর কলার ধরে মস্ত একটা ঝাঁকুনি দিয়ে বললেন, “তুই সেটা এখন বলছিস হারামজাদা?”

রাজু মিনমিন করে বলে উঠল, “একেবারে ভুলে গিয়েছিলাম স্যার। এইসব ঝামেলায় মাথা থেকে পুরো বেরিয়ে গিয়েছিল।”

ঝাঁকুনিটা বন্ধ করে সমীরণ বলে উঠলেন, “লোকটাকে চিনতে পেরেছিলি?”

“না স্যার। তবে…।”

আবার থেমে গেল রাজু। তারপরে পুলিশ অফিসারের চোখের দিকে তাকিয়ে দ্রুত বলে উঠল, “খুব সম্ভবত ম্যাডাম চিনতে পেরেছিলেন। সেরকমই বলছিলেন।”

“কী বলেছিল ম্যাডাম?” হুঙ্কার দিয়ে উঠলেন সমীরণ দত্ত।

“লোকটাকে দেখে ম্যাডাম বলে উঠেছিলেন, ও এখানে কী করছে। তারপরেই বাড়িতে ঢুকে যান। আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করতে পারিনি।”

সমীরণ দ্রুত চলে এলেন পাশের ঘরে।

শোভনা তখন ঘুমে আচ্ছন্ন। ডাক্তার বলে গিয়েছেন, ঘণ্টা দুয়েকের আগে ঘুম ভাঙবে না। এই ঘুমটা না হলে শকও কাটবে না।

দাঁত কিড়মিড় করে উঠলেন সমীরণ দত্ত। ইনজেকশন দেওয়ার আগে রাজু গাধাটা যদি কথাটা বলত….! জোর করে জাগানোর ঝুঁকিটাও নিতে পারছেন না। যদি ঘোর না কাটে, কিছুই বলতে পারবে না। উলটে হিতে বিপরীত না হয়ে যায়।

ঘড়ির দিকে তাকিয়ে অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিলেন সমীরণ দত্ত।

তাঁর মনের মধ্যে তখন তুফান মেল ছুটছে। ভয় একটাই।

এই দু-ঘণ্টার মধ্যে না লোকটা হাওয়া হয়ে যায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *