২১ আর ২২ অগাস্ট

২১ আর ২২ অগাস্ট

কলকাতায় নামল পাঁচ ব্যাটেলিয়ন ব্রিটিশ সেনা আর সেইসঙ্গে চার ব্যাটেলিয়ন ভারতীয় ও গোর্খা সেনা। কলকাতার রাস্তায় টহল দিচ্ছে তারা। কোথাও নামমাত্র দাঙ্গার আভাষ পেলেই ছুটে যাচ্ছে তারা সেখানে। এতদিনে লালবাজারও পেয়েছে রাজনৈতিক চাপ থেকে মুক্তি। তাই পুলিশ আর মিলিটারির সাঁড়াশি চাপে ক্রমশ কমছে দাঙ্গার তাণ্ডব। দিনরাত টহল দিচ্ছে সেনা। কাউকেই রেয়াত করছে না তারা। সর্বনাশ যা হবার তা তো হয়েইছে, কিন্তু আর যেন কলকাতা শ্মশানভূমিতে পরিণত না হয়, সেটাই আটকাচ্ছে তারা বেয়নেট উঁচিয়ে।

অবশেষে পরেরদিন সেনাদের দাপটে থামল দাঙ্গা। তবে একেবারেই থামল কি? এখনও যে দু-সম্প্রদায়ের মানুষের মনে রয়ে গেছে একের প্রতি অন্যের ঘৃণা আর বিদ্বেষ। সেই বিদ্বেষের টুকরো টাকরা ছবিও দেখা যাচ্ছে ইতিউতি। এটা আর ক-দিন চলবে কে জানে? নাকি দুই সম্প্রদায়ের অন্তরের গভীরে থেকে যাবে চিরস্থায়ী হয়ে?

জ্বলন্ত দাঙ্গা তো থেমেছে তবু বাইশ তারিখ সন্ধের পরে কার্ফু উঠল। এবারে শুরু হবে শহরটাকে সাফসুতরো করার পালা। সন্ধেবেলা দেখা গেল রাস্তায় ছুটছে অ্যাম্বুল্যান্স, পুলিশের ভ্যান আর মিলিটারির ট্রাক। তাই দেখে সাহস পেয়ে কিছু মানুষ রাস্তায় বেরিয়েছে কোনো মুদিখানা দোকান খুলেছে কিনা দেখতে। ঘরে যে খাবারের বড়োই অভাব। তাই পেটের দায়ে নাকে রুমাল চাপা দিয়ে তারা পাশ কাটিয়ে বা টপকে যাচ্ছে পচা লাশের টুকরো টাকরা অংশ। এসব দেখে রজনী বুঝতে পারল যে হয়তো আর দু-একদিনের মধ্যেই স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে কলকাতা। আপাতত তাদের সবার শারীরিক আর মানসিক বিশ্রাম দুটোরই বড়ো প্রয়োজন।

তাই ছাদে রাখা উনুন আর হাঁড়ি আবার ফিরে গেল রান্নাঘরে আর আধলা ইঁটগুলোকেও নামিয়ে রাখা হল উঠোনের কোণে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *