২০ ডিসেম্বর ১৯৪৪ – সেনবাড়িতে আগুনখেলা

২০ ডিসেম্বর ১৯৪৪ – সেনবাড়িতে আগুনখেলা

গতকাল একপশলা বৃষ্টি হয়ে গেছে। অকালবর্ষণ। তাই চারিদিকে স্যাঁতসেতে কুয়াশা। কিন্তু তার জন্যে রুটিনে ছেদ পড়েনি। আজ ঠিকসময়েই ছেলেরা এসে গেছে। তারা প্র্যাকটিস শুরু করার আগেই রজনীই তাদের জন্যে ছোলা-গুড়ের ব্যবস্থা করে রেখেছিল। সুরেশ কাকা নেই। তাই বেশ একটু অসুবিধেই হয়েছে রজনীর। তবে রজনীর অনুরোধে কানাইয়ের মা খিচুড়ি রেঁধে রেখে গেছে। শীতকাল, তাই খিচুড়ি নষ্ট হবে না।

ছেলেরা যখন এসেছিল, তখন রজনী নিজের প্র্যাকটিস করছিল। ওরা আসতে ছোলা-গুড় দেবে বলে খানিকটা সময় থেমেছিল শুধু।

প্র্যাকটিস চলছে। আজ রজনীও তাদের সঙ্গে জোরকদমে প্র্যাকটিস করছে; বরং মনে হচ্ছে আজ একটু বেশিই রোখ তার। ছেলেরা তাকে এর আগে এত কঠোর অনুশীলন করতে দেখেনি। আজ গাছের গায়ে তৈরি প্যাডে তার এক একটা কিক, পাঞ্চ আর ব্যাকহিল আছড়ে পড়ছে সজোরে। তাই মাঝে একটু থামতেই দলের সবচেয়ে সিনিয়র পল্টু বলে উঠল— ‘দারুণ হচ্ছে স্যার, দারুণ।’

রজনী বললে— ‘অনেকদিন পরে একটু বেশি গা ঘামাচ্ছি আজ। দেখে নিচ্ছি নিজের কী হাল।’

দুপুরে খাওয়ার আগে সে পল্টুকে বলে— ‘শোন, বাড়ি যাবার আগে তুই, পটাই আর নেলো আমার সঙ্গে একটু দেখা করে যাস। বিশেষ কথা আছে।’

কানাই বলল— ‘কী কথা স্যার?’

—‘সেটা শোনার মতো বড়ো তুই এখনও হোসনি। যেদিন হবি, সেদিন নিজেই সব বুঝতে পারবি।’

রজনী আজ নিজের হাতেই সবাইকে পরিবেশন করে বলে— ‘যার যা দরকার পড়বে নিয়ে নিবি। আমি এবারে তাহলে খেতে বসছি।’

খাওয়া দাওয়া শেষ হলে পল্টু, পটাই আর নেলো রজনীর কথা মন দিয়ে শুনল। একান্তে। তারপরে মাথা নাড়িয়ে বললে—‘ঠিক আছে স্যার পারব।’

—‘তবে এই কথাটা কেউ যেন ঘুণাক্ষরেও না জানে। এমনকী তোদের বাড়ির লোকও নয়। বুঝেছিস?’

—‘আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন স্যার।’

রজনী তাদের হাতে কিছু পয়সা দিয়ে বলল— ‘যা, এখন বাড়ি গিয়ে খানিকটা ঘুমিয়ে নে।’

ছেলেরা চলে গেলে সে মনে মনে ভাবে— পুলিন গেল, সুরেশ কাকা গেল। একে একে তার সব প্রিয়জন তাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে। কানাইও তার সঙ্গে কলকাতায় যাবে। হ্যাঁ, প্রতি রবিবার তারা হয়তো এই গ্রামে আসবে, একসঙ্গে তাইকোন্ডো শিখবে, কিন্তু এই ছেলেরা কি সবাই এখনকার মতোই একসঙ্গে থাকবে?

দূরে থাকলে টান ক্রমশ কমতে থাকে আর কমতে কমতে সেই টানটা একসময় মিলিয়ে যায়। সেটাই কি হবে? তার এই ছেলের দল কি একটা সময় পরে তাকে ভুলে যাবে? ভেঙে যাবে তার প্রাণপাত করে তৈরি এই দলটা?… কোনো উত্তর খুঁজে পায় না সে। আসলে কেউই তো আর ভবিষ্যৎ দেখতে পায় না। সেইই বা তা দেখতে পাবে কীভাবে?

.

তিনদিন হয়ে গেল শ্যামাদাসকে কেউ দেখেনি গ্রামে। কিন্তু সেনেদের পোড়ো বাড়ির সামনে অন্ধকারে মিশে থেকে চোখে ঠুলির মতো চশমা পরা কালো মূর্তি জানে সে কোথায় আছে। তাই সে এখন বাড়িতে ঢোকার অকালবৃষ্টিতে ভেজা সরু পথটা পরীক্ষা করে দেখছে।

অন্ততঃপক্ষে খান পাঁচেক সাইকেল ঢুকেছে আর রয়েছে খান চারেক চটিজুতোর ছাপ। তারমানে আজ ভালোই লোক জড়ো হয়েছে সেনেদের ভিটেয়। তাহলে তো আর সোজাপথে ঢোকা যাবে না। ঢুকতে হবে বাঁকাপথে। কিন্তু কীভাবে ঢুকবে? সেটাই হদিস করতে থাকে সে। হঠাৎই খেয়াল করে যে জলার ধার থেকে উঠেছে যে আমগাছটা, তারই একটা ডাল হেলে গিয়ে পড়েছে বাড়িটার ছাদের ওপরে। হ্যাঁ, ওটাই সবচেয়ে সুবিধেজনক পথ। এমনিতেই দোতলার সিঁড়িটা বাদে ছাদটার অবস্থা বেশ বিপজ্জনক। তাই ওখানে কেউই ওঠে না। তার ওপরে কাল বৃষ্টি হয়েছে। ছাদটার অবস্থা তাই আরও খারাপ হয়েও থাকতে পারে। কিন্তু বিপজ্জনক হলেও তার কাছে ওটাই একমাত্র সুবিধেজনক পথ।

তাই কালো মূর্তি তরতরিয়ে উঠতে থাকে ওই আমগাছ বেয়ে। যদিও গাছের ডাল বেশ পিছল হয়ে আছে, তবু তার হাতে আর পায়ে কাপড় জড়ানো থাকায় তেমন অসুবিধে হচ্ছে না। একটু পরেই ঝুঁকে পড়া ডালটা থেকে ঝুপ করে ছাদে নেমে সাবধানে এগিয়ে গিয়ে সিঁড়ির মুখে খানিক অপেক্ষা করে সে। শরীরে পৈতের মতো করে জড়ানো ল্যাসো আর বুমেরাংটায় হাত বুলিয়ে দেখে নেয়। তারপর সন্তর্পনে সিঁড়ি দিয়ে নামতে থাকে।

সিঁড়িটা গিয়ে শেষ হয়েছে বাড়ির একতলার একটা দাওয়ায়। সেই দাওয়া থেকে দু-ধাপ নামলেই মস্ত উঠোন। সিঁড়ির নীচের মুখ থেকে কয়েকপা দূরে সেই দাওয়াতেই পাশাপাশি বসে আছে দুটো চাদর গায়ে মানুষ। তাদের একপাশে একটা কলাপাতায় রাখা মুড়ি-চানাচুর আর তিনটে মাটির খুরি। পাশে রাখা দুটো কাঁচের বোতল। একটা জলের আর একটা দেশি মদের। তারা গল্প করছে আর মদের গন্ধে ম-ম করছে জায়গাটা। কালো মূর্তি অন্ধকারে মিশে শুনতে থাকে তাদের কথা।

—‘আরে ব্যাটা মদনা সেই যে কাজ সারতে গ্যালো, একোনো এলনি।’

—‘যা শালা বনবাদাড় চাদ্দারে। আমার তো ভয় হচ্চে লতায় না কাটে।’

—‘লতায় কাটলি তো চেঁচাতো। তবে যাই বল মাইরি, এইভাবে টানা তিনদিন মুড়ি-চানাচুর দে মদ গিলতে ভাল্লাগে? শ্যামাদা আর একটু ভালো চাটের ব্যবস্তা করতি পাল্লোনি?’

—‘একী তোমার হুগলি পেয়েচো চাঁদু, যে পাঁটার ছাঁটের চাট মিলবে? নরেশকা তো বল্লে ক-দিন সবুর করতে। তাপ্পর হাতে ট্যাকা নে ফিরে গে যত্তো খুশি গিলিস।’

—‘তা ব্যাটাচ্ছেলে তিনজনের জন্যে রোজ মাত্তর একটা বোতল দেয়। এতে কি হয় বল দিকি?’

—‘না, নরেশকা বলেচে যে বেশি নেশা করলে চলবেনি। তা নইলে সাপ ধরতে গে ব্যাং ধরবি।’

—‘শালা, আমি তো ভেবেচিলাম মালটা কাল আসবে। বিষ্টি হচ্চিল। তা ব্যাটা এলোনি। খুব চালাক মাইরি মালটা। এলে তাড়াতাড়ি কাজটা মিইটে যেত।’

—‘আজ কালের মদ্দে এসে পড়বে দেকিস। শ্যামাদা তো তাই বলেচে। একোন সে চার ফেলে বসে আচে মাচ ধরবে বলে। …দুর শালা মদনার ক্যাঁতায় আগুন। দাঁড়া আরেট্টু ঢালি।’

ঠিক সেইসময়েই সাঁ করে ছুটে এল ল্যাসো। অব্যর্থ টিপে জড়িয়ে গেল কাছাকাছি বসে থাকা দু-জনের গলায়। একজনের মাথার পেছনে লাগল ভারী সীসের বলটা আর হ্যাঁচকা টানে দু-জনেই চিৎ হয়ে পড়ল দাওয়ায়। তাদের পা লেগে বোতলদুটো পড়ল গিয়ে বাঁধানো উঠোনে আর তার পরের মিনিটেই দুটো মারাত্মক চপে ছিঁড়ে গেল দু-জনের গলার কার্টিলেজ আর ভেঙে গেল ঘাড়ের হাড়। দুটোই নিকেশ এক্কেবারে।

কিন্তু ততক্ষণে উঠোনের উলটোদিকের কোণা থেকে বেরিয়ে আসছে মদনা। কালো মূর্তি তাড়াতাড়ি পড়ে থাকা দু-জনের গলা থেকে ল্যাসোটা খুলে নিয়ে একটা থামের আড়ালে লুকিয়ে ফেলে নিজেকে। মদনা কাছে এসে দেখে বলে— ‘যা বাব্বা, এর মদ্দেই শুয়ে পড়লি? তোদের বলেচিল না জেগে…ওঁ ওঁ।’ কথা শেষ হবার আগেই ল্যাসো জড়িয়ে গেছে তারও গলায়। উঠোনে চিৎ হয়ে পড়েছে সে।

ওদিকে বোতল ভাঙার শব্দ আর মদনার কাতরানির আওয়াজ পৌঁছে গেছে ঘরে। নরেশ কাকা আর জনা তিনেক লোক বেরিয়ে পড়েছে। দেখে ফেলেছে তাকে। ঘর থেকে বেরিয়ে নরেশ কাকা দাওয়া ধরে দৌড়ে পৌঁছে গেছে সিঁড়ির মুখে। তার হাতে একটা রামদা। পালাবার পথ বন্ধ। এদিকে মদনা কিন্তু তখনও মরেনি। ল্যাসো জড়ানো গলা চেপে ধরে সে লুটোপুটি খাচ্ছে উঠোনে। এমনভাবে ল্যাসোটা জড়িয়ে গেছে মদনার গলায় যে কালো মূর্তি এখন সেটা ছাড়িয়ে নেবে তারও উপায় নেই। এদিকে যে তিনজন ছুটে আসছে তাদের একজনের হাতে তরোয়াল, একজনের ভোজালি আর অন্যজনের হাতে টাঙ্গি। তবু কালো মূর্তি চেষ্টা করে। তার হাতের বুমেরাং দিয়ে ছুটে আসা লোকটার তরোয়ালটা আটকে এক কিকে তাকে ধরাশয়ী করে দেয়। কিন্তু বাকি দু-জন এসে জাপটে ধরে তাকে। একজন পেছনে গিয়ে তার গলায় চেপে ধরে ভোজালি। নরেশ কাকাও রামদা হাতে নেমে আসে। নাঃ, আর পারল না সে। আসলে প্রতিহিংসা যখন চেপে বসে মাথায় তখন সূক্ষ্মবুদ্ধিগুলো দমে যায় সেই চাপে। আজ তারও তাই হয়েছে।

ততক্ষণে ঘরের দরজা হাট করে খুলে গেছে। ঘরের দরজার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে যে, তার সিল্যুয়েট অবয়ব দেখেই তাকে চিনতে পারে কালো মূর্তি। সে আর কেউ নয়, স্বয়ং শ্যামাদাস রায়।

সেখানে দাঁড়িয়েই সে হাঁক দেয়— ‘এই, ওর হাত-পা বাঁধ।’

নরেশ কাকা একজনের কাছ থেকে একটা দড়ি চেয়ে নিয়ে প্রথমে তার পা-দুটো বাঁধে। তারপর তাকে উপুড় করে শুইয়ে দিয়ে তার হাতদুটো বাঁধতে থাকে পেছনে। তখনই কালো মূর্তি বুঝতে পারে যে তার কোমরের কাছে কিছু যেন ঢোকানো হচ্ছে। দূরে একটা হ্যারিকেন রাখা দাওয়ার ওপরে। উঠোনে এসে পড়া সেই ম্লান আলোতে নরেশ কাকা অস্ত্রধারী লোকগুলোকে বলে— ‘এই তোরা অস্তরগুলো সরা দিকি। অস্তরের চোট এর শইরে যেন না থাকে। যা, সব অস্তরগুলো দাওয়ায় একজায়গায় রাক।’ লোকগুলো তাদের অস্ত্রগুলো নিয়ে দাওয়ায় রেখে মদনার গলা থেকে ল্যাসো খুলে দেয়। সে তখন উঠোনে বসে গলায় হাত বুলোচ্ছে। শ্বাস নিতে বেশ কষ্ট হচ্ছে তার। আর তখনই কালো মূর্তি দেখে যে শ্যামাদাস এবারে এগিয়ে আসছে তার দিকে। তাকে হাত তুলে থামিয়ে দিয়ে নরেশ কাকা বলতে থাকে— ‘আগে আমার হিসেবটা মিইটে নিতে দাও শ্যামা। ও শালা আমার ভবেশকে মেরেচে। আগে সেই হিসেবটা মেটাই, তাপ্পর না হয় তুমি তোমার হিসেব নিকেশ কর। অ্যাই, কেউ ওকে তুলে দাঁড় করা।’ শেষের কথাগুলো বলা ওই গুন্ডাগুলোকে।

দু-জনে তুলে দাঁড় করায় তাকে। তবে কালো মূর্তি ততক্ষণে বুঝতে পেরে গেছে যে এরা এখুনি তার ওপরে অস্ত্রপ্রয়োগ করবে না। তাকে মারবে অন্যভাবে আর তারপরে তার লাশ হয়তো ডুবিয়ে দেবে জলায়।

নরেশ কাকা এগিয়ে এসে তাকে বলে— ‘কী রে শালা, ভবেশকে এইভাবে মেরিচিলি ন্যা?’ বলে টেনে এক ঘুঁষি মারে তার পেটে। ব্যথায় সামনে খানিক বেঁকে যায় সে।

—‘…নাকি এইভাবে?’ বলে তার বুকের ওপরে সপাটে একটা লাথি হাঁকায়। কালো মূর্তি পড়ে যায় মাটিতে। ঠক করে তার মাথায় ঠুকে যায় তারই ল্যাসোর সীসের বলটা।

এবারে নরেশ কাকা পা দিয়ে ঠেলে তাকে উপুড় করে তার পাছার ওপরে বসে। কনুই দিয়ে কষে বেশ কয়েকবার আঘাত করে তার পিঠে। প্রচণ্ড রাগে বলে— ‘আর এইভাবেও মেরিচিলি, ন্যা রে শালা?’ কিন্তু নরেশ কাকা তো কই তেমন জোরে মারছে না! হালকা ব্যথার মধ্যেও কালো মূর্তি বুঝতে পারে যে শ্যামাদাসকে আড়াল করে নরেশ কাকা দুটো আঙুল দিয়ে টোকা মারে তার কোমরের কাছে। এটা নিশ্চয়ই কোনো সংকেত হবে। কিন্তু কীসের? যাইহোক, এখন তার কাজ শুধু আঘাত লাগার ভাণ করে যাওয়া আর ঠান্ডা মাথায় সুযোগের অপেক্ষায় থাকা। তাই প্রতিটা আঘাতেই ককিয়ে ওঠে সে।

দূরে দাঁড়িয়ে একটা সিগারেট ধরিয়ে বলে— ‘সাবাস নরেশদা। চালিয়ে যাও। আর এই ছোকরারা, দেখে নে অস্তর ছাড়াই নরেশদা কেমন প্যাঁদাচ্ছে ব্যাটাচ্ছেলেকে। শালার সাহস কম নয়, একেবারে বাঘের গুহায় এসে ঢুকেছে। প্যাঁদাও, নরেশদা প্যাঁদাও…।’

শ্যামাদাসের মনে হয় যে নরেশদা বোধ হয় তাতে উৎসাহই পেল। সে তাই দাঁড়িয়ে উঠে পা দিয়ে লোকটাকে চিৎ করে ফেলে পাঁজরায় মারল সপাটে এক লাথি। ‘উঃ মা গো’ বলে ককিয়ে উঠল কালো মূর্তি। নরেশদা তারপর ঘুরে গিয়ে তার অন্য পাঁজরায় মারল আর এক লাথি। তাতে আবার ককিয়ে উঠল লোকটা।

—‘এ্যাই, শালাকে খাড়া কর।’ হুকুম দিল নরেশ কাকা। দু-জন তাকে ধরে দাঁড় করিয়ে দিল আবার। নরেশ কাকা বলে উঠল— ‘এইভাবে আমার ভবেশও ‘‘উঃ মা গো’’, ‘‘উঃ মা গো’’ বলে চেঁচিয়েছিল।’ আর তার পরেই দড়াম করে একটা ঘুঁষি আছড়ে পড়ল কালো মূর্তির চোয়ালে। লাগেনি তেমন, তবু টাল সামলাতে না পেরে সে আবার পড়ে গেল মাটিতে।

শ্যামাদাস সিগারেটে একটা লম্বা টান দিয়ে ছদ্ম সহানুভূতি দেখিয়ে বলল— ‘আ হা হা, কর কী, কর কী নরেশদা! আমার জন্যেও একটু খেলা বাকি রাখো। এই, ওকে উঠিয়ে বসা। গলায় জল দে। মরার আগে যে মুখে জল দিতে হয়, তাও কি জানিস না?’

একজন মদনাদের ওই মদ খাওয়ার মাটির খুরিটা করে জল নিয়ে এল। তাকে উঠিয়ে বসিয়ে জলটা খাওয়ালে। বিচ্ছিরি কটূ স্বাদ। মদের গন্ধ। তবু খেতেই হল বাধ্য হয়ে। তারপর সরে গেল নরেশ কাকা। কালো মূর্তি লক্ষ্য করলে যে সে দাওয়ায় রাখা অস্ত্রগুলোর পাশে গিয়ে বসল।

শ্যামাদাস সিগারেট টানছে। অন্ধকারে শয়তানের চোখ হয়ে জ্বলছে সেই আগুনটা। এবার সে এগিয়ে আসছে। কোনো তাড়াহুড়ো নেই তার মধ্যে। চোরাচালানের পাণ্ডারা বুঝি এতটাই ঠান্ডা মাথার হয়?

একদম কাছে এগিয়ে এসেছে শ্যামাদাস। এখন ইচ্ছে করলেই জোড়াপায়ের কিকে সে মাটিতে ফেলে দিতে পারে শ্যামাকে। কিন্তু তাতে লাভ?

শ্যামাদাস হাঁক দিল— ‘এই, আমার ঘর থেকে লন্ঠনটা নিয়ে আয় তো। আমাদের এই অতিথির মুখটা দেখি ভালো করে।’

কেউ একজন ঘর থেকে লন্ঠনটা এনে দিল। বাঁ-হাতে লন্ঠনটা তুলে ধরে সে কালো মূর্তির চোখের চশমাটা তার কপালে তুলে দিয়ে বলল— ‘বা…হ। এই তো আমাদের নিশি…। থুড়ি, আমাদের রজনীকান্ত রায়। ও নরেশদা, এ যে আমাদের রজনী গো। এসো। এসো। চাঁদমুখটা শেষ দেখা দেখে যাও একবার।’

নরেশ কাকা উঠে এসে ভালো করে কালিমাখা মুখটা দেখে। বলে— ‘হ্যাঁ তাই তো। এ তো দেকচি আমাদের রজনী গো। এইই তাইলে আমাদের পেচনে পড়েচে। নাও শ্যামা নাও, এবার ভালো করে তোমার হাতযশ দেকাও দিকি। একসময় তো ভালোই ঘুসোঘুষি কত্তে।’ বলে সরে গিয়ে আবার নিজের জায়গায় গিয়ে বসে। রজনীও জানে যে শ্যামাদাস একসময়ে বক্সিং লড়ত ভালোই। কলেজ চ্যাম্পিয়ন ছিল সে। ডিস্ট্রিক্ট লেভেলেও লড়েছে।

এবারে শ্যামাদাস একটা হাঁটু মেঝেতে রেখে লন্ঠনটা নামিয়ে রাখে মাটিতে। তারপর একমুখ ধোঁয়া ছাড়ে রজনীর মুখে। রজনী মুখটা ঘুরিয়ে নেয়। আর তখনই শ্যামাদাস জ্বলন্ত সিগারেটটা চেপে ধরে তার বাঁ-উরুতে। ‘উঁ উঁ’ করে চাপা আওয়াজ বেরোয় রজনীর মুখ থেকে। দাঁতে দাঁত চিপে সে সহ্য করে জ্বালার যন্ত্রণা।

শ্যামাদাস বলে— ‘এইটা বিষ্টুর জন্যে।… আর এইটা হল দিনেশের জন্যে’ বলে আবার সিগারেটে টান মেরে সেটার আগুন চেপে ধরে রজনীর ডান উরুতে।

—‘দিনেশকে আমি মারিনি।’

—‘তবে সে কোথায় গেল রে শালা? তার মাকে আমার নাম বলেছিল কে?’

—‘আমি জানি না।’

—‘দ্যাখ, তুই যখন স্কুলে পড়তিস, তখন একবার স্কুলের ফাউন্ডেশন ডের ফাংশনে হরবোলার ডাক শুনিয়েছিলিস। মনে আছে তোর? সেটা সবাই ভুলে গেলেও, আমি কিন্তু ভুলিনি রে হারামির বাচ্চা।’

—‘সত্যি বলছি। আমি এসবের কিচ্ছু জানি না।’ শেষ চেষ্টা করে রজনী।

সঙ্গে সঙ্গে দড়াম করে শ্যামাদাসের ঘুঁষি আছড়ে পড়ে রজনীর বাঁ-চোয়ালে। কষ বেয়ে রক্ত গড়াতে থাকে। পরক্ষণেই আবার একটা। এবারে ডান চোয়ালে। একসময়ের বক্সিং এ চোস্ত শ্যামাদাসের গায়ে জোর আছে বটে। ব্যথায় মাথা নীচু হয়ে যায় তার।

এবারে সিগারেট ফেলে দিয়ে চুলের মুঠি ধরে মাথাটা তুলে ধরে শ্যামাদাস। বলে— ‘শালা, তোর বাপের ভাগ্য ভালো যে আমি নগাইকে আনিনি। সে থাকলে তোর হাইট ওপর দিক থেকে এক ফুট ছোটো করে দিত রে।’ ঠাস করে একটা থাপ্পড় এসে পড়ে গালে।

তারপরে রজনীকে চিৎ করে ফেলে তার বুকের ওপরে চেপে বসে শ্যামাদাস। চুলের মুঠি ধরে মেঝেতে ঠুকতে থাকে মাথাটা। সেইসঙ্গে চলতে থাকে অশ্রাব্য গালিগালাজ আর একনাগাড়ে চড় আর ঘুঁষি। ক্রমশ ভয়ংকর হয়ে উঠছে শ্যামাদাস।

—‘শালা, তোর জন্যেই আমাকে ব্যবসা লাটে তুলতে হচ্ছে আর তোকে ছেড়ে দেব আমি? তুই শালা আমাকে মেরেছিস, এবারে তুই মর।’ বলেই পাজামার কোমরে গোঁজা রিভলভার বের করে সে। রজনীর কপালে ঠেকিয়ে বলে— ‘একটা ছোট্ট শব্দ হবে শুধু। জনমনিষ্যি কেউ টেরই পাবে না।’

এইবার একটা মোক্ষম চাল দেয় রজনী। হঠাৎই সে বলে— ‘আমাকে মারবে ঠিকই, কিন্তু সেইসঙ্গে মরতে হবে রসময়ী আর তোমার ছেলেকেও। তারা এখন আমার কব্জায়। বারোটার মধ্যে আমি না ফিরলে তারাও মরবে।’

—‘রসময়ী? কে সে? কী যা তা বলছিস রে শালা কুত্তার বাচ্চা।’ থমকে যায় শ্যামাদাস।

—‘চিনতে তো অসুবিধে হওয়ার কথা নয়। তাই নয় কি?’

—‘চালাকি করছিস? তাই না?’

—‘একদমই না। ওই তো বললাম যে, বারোটার মধ্যে না ফিরলে…।’ এবার কিন্তু কথাটা শেষ হবার আগেই শ্যামাদাস চিৎকার করে বলে উঠল— ‘কোথায় রেখেছিস তাদের? বল শালা।’ রিভলভারের বাঁটের বাড়ি পড়ে রজনীর চোয়ালে।

—‘উঃ’ বলে কাতরে উঠে পিচ করে একটু রক্তমাখা থুতু ফেলে রজনী বলে —‘পথে এসেছ তাহলে?’

—‘তাহলে শালা বল, কোথায় রেখেছিস?’

—‘… বেতো বামনীর ঘাটের কাছে।’ ইচ্ছে করেই সময় নিচ্ছে সে। পুরো ঠিকানাটা একেবারে বলছে না। হ্যাঁ, আরও মার হয়তো খেতে হবে তাকে। তবে মার সহ্য করার মতো ক্ষমতা তার আছে। আর যত না লাগছে তার থেকেও বেশি অভিনয় করছে সে।

—‘ঘাটের কাছে কোথায়?’

—‘সমাজপতিদের পুকুর পাহারা দেয় যারা তাদের কাছে।’

তড়াক করে উঠে দাঁড়ায় শ্যামাদাস। উঠে বসে রজনীও। শ্যামাদাস রাগে চেঁচিয়ে বলে— ‘এই তোরা তিনজন যা তো। মদনা তুই এখানে থাক। যেমন করেই হোক ওদের নিয়ে ফিরবি। তারপরে শালার…।’

ইচ্ছে করেই ভুল জায়গা বলেছে রজনী, যাতে এখানকার কিছু লোক কমে যায়। যে জায়গাটা সে বলেছে, সেটা এখান থেকে মাইল চারেক দূরে। যেতে আসতে অনেক সময় লাগবে। আর তিনজন চলে গেলে এখানে থাকবে শুধু নরেশ কাকা, শ্যামাদাস, মদনা আর সে।

ওরা ওদের অস্ত্রগুলো দাওয়া থেকে নিয়ে চলে গেলে শ্যামাদাস রিভলভারটা কোমরে গুঁজতে গুঁজতে বলে— ‘ওদের ফিরতে দে, তারপর তোর হচ্ছে। আর মিথ্যে যদি বলেছিস শালা…।’ বলেই ক্যাঁৎ করে একটা লাথি মারে রজনীকে।

রজনী এই সুযোগটাই খুঁজছিল। তার খানিকটা সময় চাই।

তাই সে বলে— ‘আমি মিথ্যে বলি না। তাই না নরেশ কাকা?’

—‘এই থামবি কুত্তার বাচ্চা। আবার শালা নরেশকে জড়াচ্ছে।’ শ্যামাদাসের একটা লাথি এসে পড়ে রজনীর পাঁজর ঘেঁষে।

এতক্ষণ চুপ করে থাকা নরেশ কাকা হঠাৎই দৌড়ে এসে চেপে ধরে শ্যামাদাসের পাঞ্জাবির কলার। গর্জে ওঠে— ‘তুই থাম, শালা শুয়োরের বাচ্চা শ্যামা। তুই শালা আমাদের দে কাজ কইরেছিস আর নিজে ফয়দা তুলেচিস? কলকেতা থেকে আনাতিস ছ-প্যাকেট মাল। বিলোতিস চার প্যাকেট। তাহলে দু-প্যাকেট কী ওই মেয়েচেলেটাকে পুষতে যেত? আর শালা পিস্তলগুলোর পয়সা…।’

শ্যামাদাসও নরেশের ফতুয়া দু-হাতে চেপে ধরে বলে— ‘চুপ কর শালা বেজম্মা। এই যে দলের খরচ-খরচা, গুন্ডা পোষা, অস্ত্রর ব্যবস্থা করা, মালমশলা আর দানাদারের জোগান, এসবের জন্যে একটা পাই পয়সাও চেয়েছি কোনোদিন তোদের কাছ থেকে? সব নিজের মাল্লু খসিয়ে করেছি রে শালা হাড়হাভাতে হারামখোর। জেনে রাখ, শ্যামা নয়, ওই শালা কুত্তার বাচ্চা রজনী মিথ্যে কথা বলছে।’

—‘মিচে কতা ও কইচে, না তুই রে? হারামির বাচ্চা, তুই আমাদের গতর ভাঙিয়ে মাল চালাচালি করেচিস, লুকিয়ে মেয়েচেলে পুষচিস, দামি মাল গিলচিস এমনকী নগাইকে দে মদ গিলিয়ে আমার ভবেশকেও মেরেচিস। আমার ভবেশ তো কক্কোনো মদ খেতোনি। কিন্তু তার পেটের মদ্দে মদ পাওয়া গেল কী করে রা? বল শালা, বল?’

—‘চুপ কর শালা ঢ্যামনা। বুঝতে পারছিস না, ও তোর কানে বিষ ঢেলে আমাদের মধ্যে ঝগড়া লাগাতে চাইছে?’

—‘বিষটা যে এ্যাদ্দিন ধরে কে ঢেলেচিল, তা তোর নগাইয়ের কাচ থেকেই জানতে পেরেচি আমরা।’

—‘মানে, কী বলতে চাইছিস তুই?’

—‘শোনরে শালা, তোর প্যারের মাগি বেতো বামনীর ঘাটে নেই। তারা আচে আমার জিম্মায়। আর নগাই? তার নলী কেটে লাশটা ভাইসে দিচি খালের জলে।’ এবারে আর সহ্য হয় না শ্যামাদাসের। তাহলে তাকে কি সবই হারাতে হবে?

তারই মাঝে শোনা যায়— ‘শালা ধোঁকাবাজ। খুনি। আজ শালা তোর একদিন কি আমার একদিন।’ একটা ঘুঁষি আছড়ে পড়ে শ্যামাদাসের বুকে। নরেশ কাকা মাঝারি গড়নের হলে কী হবে, গায়ে তারও জোর কিছু কম নয়। সেই ঘুঁষির ধাক্কায় দু-তিন হাত পেছিয়ে যায় শ্যামা। তার হাতের টানে ছিঁড়ে যায় নরেশ কাকার ফতুয়া।

শ্যামাদাসও ছাড়বার পাত্র নয়। পরক্ষণেই তার দু-হাতের দু-দুটো পাঞ্চ আছড়ে পড়ে নরেশের শরীরে। একটা পড়ে পাঁজরায় আর একটা গিয়ে পড়ে নরেশের মুখে। তার ঠোঁট ফেটে গিয়ে দরদর করে রক্ত গড়াতে থাকে আর সেই ফাঁকে শ্যামাদাস নিজের কোমর থেকে টেনে বের করে তার রিভলভার।

কিন্তু হঠাৎই মুখে একটা প্রচণ্ড কিক খেয়ে ছিটকে পড়ে মদনা আর পরক্ষণেই একটা ল্যাসো এসে জড়িয়ে ধরে শ্যামাদাসের হাতের কব্জি। হ্যাঁচকা টানে ছিটকে পড়ে তার রিভলভার।

রজনী উঠে দাঁড়িয়েছে। তার একহাতে ল্যাসোর একটা প্রান্ত আর অন্যহাতে একটা ক্ষুর। এটাই নরেশ কাকা তার কোমরে গুঁজে দিয়েছিল।

শ্যামাদাস লাফিয়ে গিয়ে রিভলভারটা তুলতে যায়, কিন্তু মুখে সপাটে একটা কিক খেয়ে ছিটকে যায় সে।

তার অস্ত্রটা এখন রজনীর হাতে। হাতে সময়ও আছে। তাই একবার গুলির খোপটা খুলে দেখে সে। একটা ঘর খালি। এই বুলেটটাই তাহলে সুরেশ কাকাকে বিঁধিয়েছিল। তাই সে বলে— ‘নরেশ কাকা, সরে যাও।’ তারপর একটানে ল্যাসো ছাড়িয়ে, ক্ষুরটা পেছনে গুঁজে রিভলভারের ইশারায় শ্যামাদাসকে উঠে দাঁড়াতে বলে। বাধ্য ছেলের মতো উঠে দাঁড়ায় শ্যামাদাস।

একহাতে ল্যাসোটা পৈতের মতো করে শরীরে জড়াতে জড়াতে রজনী বলে— ‘এবার খেলা ঘুরে গেছে রে শয়তানের বাচ্চা। তোর জন্যেই মরতে হয়েছে পুলিনকে।’ দড়াম করে একটা পাঞ্চ পড়ে নাকে। ঝরঝর করে রক্ত পড়তে থাকে। পাঞ্জাবিতে লাগে রক্তের দাগ। সামনে ঝুঁকে পড়ে শ্যামাদাস।

তাকে টেনে তুলে দাঁড় করিয়ে বলে— ‘তোর জন্যেই মরেছে বিষ্টু।’ আবার একটা পাঞ্চ পড়ে ডান চোয়ালে।

—‘তোর জন্যেই লোপাট হয়েছে দিনেশ।’ এবার পাঞ্চ বাঁ-চোয়ালে।

তারপর আবার সপাটে পেটে পড়ে একটা ঘুঁষি। ককিয়ে উঠে শ্যামাদাস।

—‘আর তোর হাতেই মরতে হয়েছে আমার সুরেশ কাকাকে আর আমাকে হতে হয়েছে একজন সিরিয়াল কিলার। নাম হয়েছে নিশি।’ এবারে ছাতিতে একটা কিক খেয়ে মাটিতে পড়ে যায় শ্যামাদাস। তার চশমা ছিটকে পড়ে দূরে।

—‘তাই এবারে তোর পালা সেই নিশির হাতে মরার। নে যমকে স্মরণ কর।’

আর ঠিক সেই সময়েই তৃতীয় প্রহরের শিয়ালগুলো যেন হা হুতাশ করে ডেকে ওঠে। মানে রাত বারোটা। মাহেন্দ্রক্ষণ এসে গেছে যে।

হঠাৎই বাইরে থেকে ভেসে আসে একটা সম্মিলিত চিৎকার— ‘কী ইহ্যাপ।’ সেইসঙ্গে বোতলের কাঁচ ভাঙার শব্দ আর কেরোসিনের গন্ধ। পল্টু, পটাই আর নেলো ঠিক সময়েই সেরেছে তাদের কাজ। আগুন লেগে গেছে শ্যামাদাসের মশলাপাতি আর দানাদারে। পরক্ষণেই বাড়ির পেছনদিকে পরপর কয়েকটা বিস্ফোরণের শব্দ আর চোখ ঝলসানো আগুন। হুড়মুড় করে ভেঙে পড়তে থাকে বাড়ির পেছনের অংশটা।

খানিক্ষণের বিহ্বলতা। বারুদের ধোঁয়া, হাতবোমার বিস্ফোরণ আর ভেঙে পড়তে থাকা বাড়ির ধুলোয় ক্রমে ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে উঠোন। আগুনের শিখার আলোয় হঠাৎই রজনী খেয়াল করে যে শ্যামাদাস তার সাইকেলে চড়তে যাচ্ছে। তাই সে উঠোনে পড়ে থাকা মদনার চপারটা নিয়ে সামনে সটান ঝাঁপিয়ে পড়ে। তবে মেঝেতে পড়ার আগেই তার হাতের চপার ফালা করে দিয়েছে শ্যামাদাসের ডানপায়ের কাফ মাসল। কিন্তু শ্যামাদাস দুর্বার। আহত পা নিয়েই সে সাইকেলে উঠে পালায়। রজনীও চটপট তার বুমেরাংটা তুলে নিয়ে দৌড় লাগায় সদর দরজার দিকে। এখন এখান থেকে পালাতে হবে। নরেশ কাকাও তাইই করতে যায়। কিন্তু বিস্ফোরণে একটা বড়ো কার্নিশের টুকরো ভেঙে পড়ে তার মাথায়। ভারী কার্নিশের চাঙড়ের তলায় চাপা পড়ে যায় তার শরীর। পেছনে বাড়ির উঠোনে শুধু পড়ে থাকে মদনার অজ্ঞান দেহটা।

বাইরে বেরিয়ে আসতেই পরপর আরও বিস্ফোরণের বিকট শব্দে ভেঙে পড়তে থাকে সেনেদের বাড়ির এক একটা অংশ। এক মুহূর্ত থমকে যায় রজনী। শ্যামাদাসের রিভলভারে থাকা পাঁচটা গুলি বের করে নিয়ে কোমরের পাউচে রাখে। রিভলভারটা ছুঁড়ে দেয় বিস্ফোরণের আগুনে। আর তারপরে দেখে অনেক দূরে রাস্তার অন্ধকারে মিলিয়ে যাচ্ছে শ্যামাদাসের সাইকেল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *